Valobasar kobita dalan jahan

প্রণয়বতী

প্রকাশকালঃ ১৭.১০.২০২০

একটা ছায়ার ভেতরে খেলা করে
আরেকটা ছায়া
ভালোবেসে অনুবাদ করে বসে
প্রণয়বতী হাঁস

বৃক্ষের ডালে বসে আলতারাঙা মন
আবৃত্তি করে প্রতুল দুধের দীঘি
হাঁস ওরে হাঁস

সান্ধ্যার সাপ ডানায় নিয়ে তুই
কতো ঘাটে যাস ?
নিপুণ নকশীকাঁথা ফুটে উঠে
তীক্ষ্ণ তীরের মতো চোখ

হেমন্তের গান নিয়ে ঋতুমতী হয়
স্পর্শরত রজনীগন্ধার ঘ্রাণ
দূর থেকে ভেসে আসে মাংসের আচার
হাওয়ার হালুয়া জুড়ে বুকের আগুন

এখন তাকে আলিঙ্গন ছাড়া
উচ্চারণ করার মতো
একটি শব্দও অবশিষ্ট নেই।

প্রণয়শিখা

প্রকাশকালঃ ১৪.১০.২০২০

আমি দেসদিমোনা নই
প্রণয়শিখায় জ্বলতে জ্বলতে
হবো পৃথিবীর ছাই

আমি ভূৃমাধ্য তীরে পড়ে থাকা শকুন্তলা
আমি লজ্জার আড়ালে গুছিয়ে রাখি
উপবাসী সমুদ্রের উদ্ভুদ্ধ মুখ

আমাকে তুমি বেহায়াই বলতে পারো
আমি দুষ্মন্তের স্মৃতি জাগাতে
দিন-রাত চিৎকার করি

কিন্তু জলদুধে বিক্রি করি না ঘাটের পানি
তাই মিরন্দার মতো বলতেও পারি না
তুমি আমার তুমি আমার।

তুমি আসবে বলে

প্রকাশকালঃ ০৫.১০.২০২০

তুমি আসবে বলেই
মরা নদীর মতো খনন হয় বুক
তুমি আসবে বলেই
লিটার লিটার কান্নার দামে
বিক্রি করি সুখ।

তুমি আসবে বলেই
লাইলাক লাইলাক বলে চিৎকার করে
হেমন্তের সাদা চিল
তুমি আসবে বলেই শ্রাবণ আকাশ
হঠাৎ-হঠাৎ হয়ে যায় নীল।

তুমি আসবে বলেই
কুয়াশার কাগজে অঙ্কন করি
সর্বনাশে ওড়ে যাওয়া চুল
তুমি আসবে বলেই
আজও বেঁচে থাকি ঘাসের বুকে
তুমি আসবেই আসবে নেই কোন ভুল।

ভালোবাসার ঘাম

প্রকাশকালঃ ০৩.১০.২০২০

ভালোবাসার জন্য ঘর হলো না
সংসার হলো না কভু
ভালোবাসার অমন অতলে
আমায় ভাসিয়ে নিলো প্রভু।

দুচোখ ফিরে দেখা হলো না
সুরানার অবোধ অশ্রুধারা
তবুও তার কলঙ্ক রঙে
রঙিন হলো পাড়া।

এ কেমন ভালোবাসা আমার
বন্ধ্যাত্বের অভিশাপ সয় না
সকালে যে ভালোবাসা হয়
বিকেলে তা রয় না।

এক অনন্ত তৃষ্ণা নিয়ে
আজও আমি কান্নারত বেদনার নাম
ভালোবাসা হায়রে ভালোবাসা
আমার কাছে তোর হাজার রকম নাম!

পাথর ঘুমিয়ে থাকে সারারাত

যখন তাকে ভালোবাসতাম
শরৎ এর মেঘ থাকতো সারা বছর
তাকে ছায়া দিতে প্রজাপতিরা
আকাশে বিছিয়ে রাখতো ডানা
একটি বিকেলের মামলেট হয়ে
আঁচলে ঘুমাতো সাদা শুভ্র কাশফুলেরা।
যখন তাকে ভালোবাসতাম
পত্রিকার প্রথম পাতায় চিঠি আসতো
থিয়েটারে বসে থাকতো অতিথি পাখি
সাংকেতিক কথায় হেসে হেসে খুন হতো
পত্রবাহক ফেরিওয়ালা।
বিশ্বাসের ধর্ষণ শেষে একদিন
আমার ভালোবাসাও বীরাঙ্গনা হয়ে উঠে
এখনও সে আমায় ভালোবাসে
শুধু সাহসের অভাবে আমাকে খোঁজে না
একটা পাথর ঘুমিয়ে থাকে সারারাত
আদর আবেগ কিছু বোঝে না।

কাগজের পাতা ভরে মেঘ আসে

প্রকাশকালঃ ২৪.০৯.২০২০

সমুদ্র আমিষ নিয়ে জলের কান্না
উঠোন ডিঙিয়ে যায় ছাপাখানায়
অতীত থেকে হেঁটে আসা অচেনা পাখি
কাগজের পাতা ভরে মেঘ আসে
হৃদয়ের দাগ মুছে বিষন্ন মাছ
মাঝে মাঝে চোখ তুলে আকাশে।
বিষন্নতা ওহো বিষন্নতা আমার
তুই কলিজায় লেগে থাক
মেঘ আসুক বৃষ্টি আসুক
তুই সুখে থাক তুই সুখে থাক।

আমাকে তোমার কি মনে পড়ে না

প্রকাশকালঃ ২১.০৯.২০২০

সত্যি করে বলো
আমাকে তোমার কি মনে পড়ে না ?
যখন ভোরের আলো এসে
চুমো দিয়ে যায় জানালার ঘাসে
ছোট্ট একটা প্রজাপতি
এনজেলের মতো উড়তে উড়তে
আমাদের বসন্তের কথা কয়
হেমন্ত ভাঙা শিশিরের দরজায়
শিউলী ফুল ছড়ানো নির্জন পথের কথা কয়
বাদামের আত্মা ছিঁড়তে ছিঁড়তে
দেবতার মতো পাঁচটি আঙুল
অনাগত সন্তানের ভবিষ্যত নিয়ে
পৃথিবী নামক শিশুর কথা কয়
তোমার ভেতরে কি ভেতর নড়ে না
সত্যি করে বলো
আমাকে তোমার কি মনে পড়ে না।

ভালোবাসার অনির্বাণ শিখা

প্রকাশকালঃ ১৯.০৯.২০২০

পুরনো ডায়রির ভেতরে পেলাম
একটি শুকনো গোলাপ
পাপড়িগুলো শুকিয়ে গেছে
আমাদের ভালোবাসার মতো
অথচ গন্ধটা তার এখনও জীবন্ত।
চোখের সামনে দিয়ে পুরাতন গল্পটা
মার্চ করে গেলো ডিসেম্বরের সৈনিকের মতো
আমি পা মিলিয়ে পিছু পিছু গেলাম
বুকের ভেতরের দরজা খুলে
সে ঢুকে গেলো আমার হৃদয় অলিন্দে
যন্ত্রণার ঝনঝনানিতে কেঁপে উঠলো
অর্ফিউসের ছিন্ন মস্তিষ্ক
বেদনার মতো মারাত্মক মারণাস্ত্র হয়ে
যেখানে শাশ্বতকাল ধরে জ্বলছে
তোমার অনির্বাণ শিখা।

শরৎ মেঘের সাদা কুয়াশা

প্রকাশকালঃ ১৮.০৯.২০২০

শরৎ মেঘের সাদা কুয়াশায়
তুমি আমার নতুন শব্দ হও
শুভ্র শাড়ির নীল জমিনে
তুমি মাছরাঙা মন
হাজার কথায় জব্দ হও
তুমি এমনই এক আকাশ আমার

অরুণিমা নীরা

প্রকাশকালঃ ১৪.০৯.২০২০

আজও তার অপেক্ষায় থাকি
এমনই এক বিকেলে তার আসার কথা
অরুণিমা নীরা
বিশুদ্ধ বাতাসে উড়ার কথা
বন পাখির পালকের রঙ

উৎসবে-উৎসবে নাচার কথা আকাশের তারা
কবে তুমি আর কবে আসবে অরুণিমা নীরা।
তার আসার আগে চান্দের আলো
ঠোঁটে নিয়ে ফেরার কথা কলিমের বউ

খোলস পাল্টাতে গিয়ে মরার কথা জল-গোখরার
সুবাসিত স্নিগ্ধ বসনে পৃথিবীর পেখম থেকে
অরুণিমা নীরা
হেঁটে যায় অলিন্দ ছুঁয়ে

অপেক্ষা উৎপ্রেক্ষার চিত্র নিয়ে
বসে থাকে শহর হৃদয় ও পাড়া
তুমি কবে আর কবে আসবে অরুণিমা নীরা।

বিধবার প্রেম

প্রকাশকালঃ ১০.০৯.২০২০

তুমি চলে যাবার পর
আমার সকল রাস্তা ফুরিয়ে গেলো
আমি জলের আঁচলে লুকিয়ে ছিলাম
একশো বছর
তুমি চলে যাবার পর
ভাঙা সেতুটির মূর্তি হয়ে
আমি হাজার বছর দাঁড়িয়ে ছিলাম
কোথাও কোন কান্না ছাড়া
বাহানার মতো উপমা ছাড়া
আমি এক বিধবার প্রেমে পড়েছিলাম
অনেক বছর পর সে জিজ্ঞেস করেছিলো!
তোমার যন্ত্রণা ছাড়া
আমি আর কার কথা মনে রেখেছিলাম ?

আগামীকাল সে চলে যাবে

প্রকাশকালঃ ০৮.০৯.২০২০

আগামীকাল সে চলে যাবে
দশ বছরের সংসার জীবন শেষে
নিজে নিজেই চলে যাবে।
যাওয়ার আগে হাত বুলিয়ে দেখছে
টেবিলের ভাঙা পায়াটা
একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার দিকে
যার দিকে তাকিয়ে থাকে জীবন সূর্য।
আগামীকাল সে চলে যাবে
আজ তার কাফনের মতো মুখ
রঙহীন কান্নার ঝর্ণাধারা পড়ছে-নড়ছে
খোদার রহমতের মতো।

এক ঝাঁক দুঃখ পাখি

প্রকাশকালঃ ২৮.০৮.২০২০

তুমি বলতে ভুলে যাবে আমায় ?
আমি চেয়ে থাকতাম
তোমার মুখের দিকে
আমার চোখে ভেসে উঠতো

পিতামহের কবর
তুমি বলতে কতোটা ভালোবাসো আমায় ?
আমি নীরব হয়ে তাকিয়ে থাকতাম
নীল আকাশের দিকে

এখন কতো মানুষ কতো কিছু বলে
তুমি কিছু বলো না
আত্মার ভেতর থেকে মানুষ হয়ে দৌড় দেয়
এক ঝাঁক দুঃখ পাখি

দাউ দাউ জ্বলে ওঠে রিকশার হুড
তুমি বাঁকা চোখে তাকিয়ে থাকো
স্মৃতির জানালায়
আমার অশীতি দাদি দাঁত ভেঙে বলে
এমন বর্ষায় ভিজে কে শ্বশুর বাড়ি যায়!

Valobasar kobita dalan jahan

তোমার অনুগ্রহের অপেক্ষায় থাকি

প্রকাশকালঃ ২৭.০৮.২০২০

আমি তোমার জন্য কাঁদি
হে অনন্ত প্রেম আমার
যখনি মন চায় আমি ব্যালোল হয়ে কাঁদি
আমি পাগল আমি উন্মাদ-
আমি উন্মাদের মতো কাঁদি ।

যে কান্না কখনও তুমি দেখেও দেখোনা,
যে কান্না কখনও তুমি শুনেও শোন না,
যে কান্নায় ফোঁটে অবারিত বৃষ্টির ফুল,
আমার অশ্রুনদী বেদনায় কাঁপে থরথর,

কতটা ব্যাকুল হয়ে থাকি,
কতটা আকুল হয়ে তোমাকে চাই-
তোমাকে ডাকি,তুমি সব বুঝ,
কিন্তু আমাকে বুঝ না ।

প্রিয় পাপের নিঃশ্বাসে-
ডুবে গেছে জীবন আমার,
আমি কূলহীন, কিনারহীন-
দরিয়ায় মরা, এক বেদনার নাম

তবুও অপেক্ষায় থাকি-
তোমার অনুগ্রহের,
তবুও তাকিয়ে কাঁদি তোমার দয়ার আশায়
কিন্তু আমার কান্না-তুমি
দেখেও দেখো না শুনেও শোন না।

অন্তঃসত্ত্বা ভালোবাসা

প্রকাশকালঃ ২৫.০৮.২০২০

তোমাকে ভালোবাসিনি বটে
কিন্তু এক সাধু-সন্ধ্যায়
তুমি টেনে ধরে দেখিয়েছিলে
ড্রাগন লাল অন্ত্যমিল গুলো তোমার।

তোমাকে ভালোবাসিনি বটে
কিন্তু এক অনাবাসী বিকেল
অপহরণ করে তুমি বুঝিয়েছিলে
তোমার ঠোঁটের চেয়ে নরম
অথবা উত্তপ্ত কোন আগ্নেয়গিরি নেই।

তোমাকে ভালোবাসিনি বটে
কিন্তু তোমার বর্ষণ-ঘর্ষণ খেলায়
ভালোবাসা শব্দটি অন্তঃসত্ত্বা আজ
তোমাকে ভালোবাসিনি বটে
কিন্তু আমার সবুজ শিশু
তোমার বুকে বৃক্ষ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

তুমি আমার হও না

প্রকাশকালঃ ২৩.০৮.২০২০

বাড়ির সামনে দিয়ে বয়ে যায়
এক স্রোতস্বিনী নদী
আমি তার নাম দিয়েছি সীতা।

শীত গ্রীষ্ম বর্ষায় সে একি রকম থাকে
শুধু ফুলে ওঠে যখন পড়ে তার বুকে
পূর্ণিমার আলো
তখন সে বৃষ্টির মতো কান্না নিয়ে
হেঁটে আসে অতলে।

পাপের কপালে ছেপে সুখে ভরা টিপ
দুটি বিপরীত আত্মা মিলিয়ে যায় জলে।
সম্পর্কগুলো ঝুলিয়ে রেখে দেয়াল
তুমি শিশুর মতো বৃষ্টির কথা কও

জনশূন্য মাঠে রতির কথা কও
কখনো আমার কথা কও না
মসজিদ ভেঙে মন্দির হয়
তুমি ঘর ভেঙে আমার হও না।

একলা আকাশের মতো একা

একদিন আমারও একজন ছিল
দুঃখ মোছার মানুষ সকালে সন্ধ্যায় যে
আনমনা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকত দুঃখ তলায়।

বছরের সবকটা বিশেষ দিনে
সেই একমাত্র ক্যালেন্ডার ছিলো
তার হাতে ছিল আমার সময় ঘড়ি।
আমার ঠোঁটের কোণে
সেই প্রথম বসিয়ে ছিল পাললিক ভূমি
দুঃখের নদী শুষে এনেছিল নেপচুন হাসি।

কিন্তু দুঃখের সাথে স্বীকার করছি যে
একটি চুমো বিক্রির দায়ে
তাকে হত্যা করেছিলাম জ্বলন্ত চায়ের কাপে।
সেই থেকে আমি একা
একলা আকাশের মতো একা।

Valobasar kobita dalan jahan

কষ্টগুলোর কষ্ট ভীষণ

প্রকাশকালঃ ২১.০৮.২০২০

কষ্টগুলো ঢেউ খেলে যায়
আঁচড়ে পড়ে বুকের ভিতর
কষ্টগুলোর কষ্ট ভীষণ
কষ্টগুলো দারুণ ইতর।

কষ্টগুলো সাদা খামে
ছিটিয়ে যায় নতুন শুরু
কষ্টগুলো ক্ষুধায় মরে
কাঁপতে থাকে দুরুদুরু।

আয় নেমে আয় কষ্ট কপাল
কাগজ ভরে পাতা ভরে
আয় নেমে আয় কষ্ট কঠিন
সাত বাই পাঁচ রাস্তা ধরে।

পাখির কথা বলি

প্রকাশকালঃ ১৯.০৮.২০২০

আমি তোমার গল্প বলি
তুমি হয়ে যাও উপন্যাসের শেষ পৃষ্ঠা
আমি পৃষ্ঠা উল্টাতে যাই
তুমি হয়ে উঠো ফণা তোলা কালো অক্ষর।

আমি মেঘেদের কথা বলি
তুমি মাথায় ঢেলে যাও বৃষ্টির ধান
আমি হেঁটে যাই বৃষ্টির ভেতর
তুমি গেয়ে যাও কৃষ্ণের গান।

এখন আমি তোমার কথা বলি না
পাখির কথা বলি নদীর কথা বলি
আঁকি কিশোরী মেয়ের সূর্য-অভিধান
কেন তুমি হও রোদন-তুফান? ।

কাজল কালো চোখ

প্রকাশকালঃ ১৭.০৮.২০২০

কাজলে-ডোবা চোখের চেয়ে
সুন্দর কোন স্বর্গ নেই।
গ্রহণ লাগা কাজল যেন অমৃত বেলা
দৃষ্টিতে পোড়ে ছাই শিল্পনারী
নিথর মূর্তির মতো লড়ে না
অথচ কী ভাগ্য আমার
আমার জন্য কেউ কাজল পড়ে না।

Valobasar kobita dalan jahan

তুমি চাইলেই

প্রকাশকালঃ ১৪.০৮.২০২০

তুমি চাইলেই সংসার হতো
সমস্ত পৃথিবী হতো সুখী
তুমি চাইলেই মেঘগুলো হেঁটে আসতো
সৃজনশীল বারান্দার কোনে
এবং প্রার্থনা করতো সমগ্র মানুষের জন্য ।

তুমি চাইলেই দরিদ্রদের শিকল ভেঙে
ঘরে আসতো বেপরোয়া নোটের বাণ্ডেল
অনাহারী মুখগুলো সজীব হতো
ভালোবাসার ক্ষুধা কেটে
সৃষ্টি হতো অনন্ত প্রেম।

তুমি চাইলেই পবিত্র হতো
দুর্গন্ধময় বুড়িগাঙ্গা
জলের জাবর কেটে-
ভেসে উঠতো দুঃসাহসী ঢেউ
এবং টাকার দামে কেনা ভালোবাসারা
কালো থেকে হতো সাদা।

তোমার মতো কেউ হয় না

প্রকাশকালঃ ৩০-০৭-২০২০

তোমাকে দেখলেই মনে পড়ে
সেই রঙ মিস্ত্রির কথা
যে কি-না যাদুর রঙ দিয়ে
পুরাতন সবকিছু নতুন করে দিতো।

তোমাকে দেখলেই মনে পড়ে
সে-ই শিক্ষকের কথা
যে কি-না বছরের পর বছর ধরে
একখানা আগুনের দলা
বগলে বইয়ে স্কুলে নিয়ে যেতো
বছরের পরে বছর ধরে।

তোমাকে দেখলে
আরও অনেক কিছু মনে পড়ে
কিন্তু তোমার মতো কাউকে মনে পড়ে না
তোমার মতো কেউ হয় না।

তাকে ভালোবাসিনি

তাকে ভালোবাসিনি
সে কথা যেন কেউ না জানে
জানলে পরে জেনে যাবো আমি
ভালো না বাসার মানে।

কান্নার কতো রঙ বৃষ্টির কতো বেদনা
সে কথা বুঝে যদি সে
আমার কাছে আমি হবো অচেনা।

যে কথা কেউ জানে না
কেউ বুঝে না যে নদীর কালো ঢেউ
তার প্রতিমা কেবল আমার এ-ই মনে
তাকে ভালোবাসিনি
সে কথা যেন কেউ না জানে।

হৃদয় একটি সুসজ্জিত রাস্তা

হৃদয় একটি সুসজ্জিত রাস্তা
সেখানে হরেক রকম গাড়ি চলে
কেউ কেউ থুথু ফেলে
কেউ পরিত্যাগ করে উদগত খাবার
ফুল গুচ্ছ নিয়ে কেউ আবার দাঁড়িয়ে থাকে
রক্তে-রক্তে জানায় অভিবাদন
চলতে চলতে রাস্তাটি ক্ষয়ে ক্ষয়ে যায়।

মন একটি রিলিফের মাল
অদূরে তার দুঃখ শিবির
বেদনার খাদ্য নিয়ে
সে দাঁড়িয়ে থাকে চৌরঙ্গীর মোড়ে
যে কেউ তাকে ভেঙে-চুরে
নিয়ে যায় বাড়ির ভেতর
আবার ফেলে দেয় ডাস্টবিনে।

আত্মা একটি পবিত্র সত্তা
তার উপর সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত
সুতরাং যে কেউ ইচ্ছে করলে
আত্মায় আগুন ধরিয়ে দিতে পারে।

তুমি আমার আজন্ম অসুখ

ইদানীং ইলেক্ট্রিসিটি ভদ্র হয়েছে
এতো যাওয়া-আসা করে না
যতোবার তুমি এসো যাও।

চৌধুরী বাড়ির মাথায় দাঁড়িয়ে
রঙ করে যাও আকাশ আর চাঁদ
তুমি কী জানো গাধা কখনও রঙ বুঝে-না।

চুমুতে প্রেমের খাজনা মিটে না
হাওয়ার-হালুয়া ভাসে না জলে
প্রেম তো পরিত্যক্ত জলপাইয়ের মতো
পড়ে থাকে দুয়ারের-তলে।

কেউ শুধু দেখে যেতে চায়
পাইলেও যেন তারে পায় না
কিছু কিছু দুঃখ থাকে
যার কোন নাম দেওয়া যায় না।

তুমি না হয় বেনামি দুঃখ আমার
তুমি না হয় আজন্ম অসুখ।

Valobasar kobita dalan jahan

ভালোবাসার চেয়ে বড়ো কোন যুদ্ধ নেই

সবশেষে আমি
তোমার কাছেই ফিরে এসেছি
এ-ই দেখো অস্ত্রহীন হাত
এ-ই দেখো অবমুক্ত আকাশ
আকাশের জলে মুছে এনেছি
ফিরে এসো সুপর্ণ আমার
সবশেষে আমি তোমার কাছে ফিরে এসেছি।

একটি অনিবার্য যুদ্ধের দাবিতে
যে আমি বারবার মুছে দিয়েছি শ্রাবণ সিঁদুর
মেঘের গর্জনে চাপা দিয়েছি
হরিণকণ্ঠ কাঁঠালি হাসি
সেই আমি বলছি

ভালোবাসার চেয়ে বড়ো কোন যুদ্ধ নেই
প্রিয়তমার চোখের চেয়ে সুন্দর
কোন পৃথিবী নেই
কালের দহজলে ভেসে যাওয়া কাজল বৃক্ষ
তোমার শিল্প ভেবে তুলে এনেছি
ফিরে এসো সুপর্ণ আমার
সবশেষে আমি তোমার কাছে ফিরে এসেছি।

একটু ও কী কাঁদবেনা তুমি

একটু একটু করে মরে যাচ্ছি কাজল
আমার জন্য কী কাঁদবেনা তুমি
ফেলবে না একফোঁটাও জল
নিদারুণ এই মৃত্যু দিনে কে আর কষ্ট পায়
বেদনার পাথর মাথায় নিয়ে কে

অতিক্রম করে অশ্রু-সিন্ধু
মনে রাখে অতীত-বর্তমানের ছল
গাইয়ার নিঃশ্বাসে দৃশ্যমান দু’টি সাদা ইঁদুর
হস্তিনী নারীর মতো আগুন বাতাসে
করে কলকল
মরে যাচ্ছি! আমি মরে যাচ্ছি!
একটু একটু করে মরে যাচ্ছি কাজল।

অইযে দেখো আকাশে দেখো
পৃথিবীর চেয়ে প্রেমময়ী মেয়ে
মিশরীয় মমি নিয়ে বাতাসে কাঁদে
আজকে সবার বাঁধন খোলা
কে আবার কারে মায়ায় বাঁধে!

সাপের খোলস ভেঙে বেড়িয়ে আসছে
আমাদের প্রেম ভালোবাসা মনোবল
মরে যাচ্ছি আমি মরে যাচ্ছি
একটু একটু করে মরে যাচ্ছি কাজল
আমার জন্য কী কাঁদবেনা তুমি?
ফেলবে না একফোঁটাও জল!

আলিঙ্গন

একটি ইঁদুরকে ভালোবাসার জন্য
তোমার প্রেমে পড়েছিলাম
যে ইঁদুরটি এখনো ঘুমিয়ে থাকে
রায় কিশোরীর আঁচলের তলে।

মূলত ভালোবেসে ছিলাম
নরম হাতে পরম লাগা সাদা বিড়ালকে
যে আমার সকালের ঘুমে ঢেলে দিতো
আটলান্টিকের সব জল।

বস্তুত সেই আলিঙ্গন চাই
যেভাবে আলিঙ্গন করে মৃত ঘরবাড়ি
যে আলিঙ্গনের জন্য একদিন
কারও গর্ভে ঢুকে ছিলাম তুমি আমি
এবং মুঠো মুঠো ভালোবাসা নিয়ে
জন্মে ছিলাম
একে অপরের ঔরসে।

Valobasar kobita dalan jahan

বড়ো অবেলায় তোমাকে ডাকি

সুরানা,
জীবন ও আতঙ্কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে
খেলা করে পাপে পূর্ণ পৃথিবীর আকাশ
জ্বলজ্যান্ত মৃত্যুর প্রতিচ্ছবিতে বেঁধে
অতীতের সবটুকু অনাদ্র অন্ধকার
নিঃশ্বাসের নদী হয়ে ওড়ে যায় পাখি।

পরিপূর্ণ বেদনারা খোলস বদলে
হয়েছে চোখের আয়না
যাই ফিরে চলো প্রথম পৃথিবীর সংগীতে
যার জরায়ু থেকে এখনো নিঃসৃত হচ্ছে
জীবন ও মৃত্যুর মূর্ছনা।

শেষ গৃহবন্দী পৃথিবীর প্রান্তে বসে
হিসেব আর করো না আজ সুরানা
কতোটুকু পাওনা তোমার কতোটুকু বাকি
অবেলায় বড়ো অবহেলায় তোমাকে ডাকি।

আবেগের ছায়া

নদীতে স্নানে নামলেই
পুরোপুরি যৌবনা হয় নারী
তখন ভালোবাসা শব্দটায় লাফাতে থাকে
ভবিষ্যত শিশুর প্রকট ছায়া।

দুই পাহাড়ের মাঝ বরাবর।
চন্দ্রকোনার যে রূপালী বিচ্ছুরণ
প্রতিফলিত হয় নাগরিক থার্মোমিটারে
তা মূলত অনাহারী জাতির আদি অসুস্থতা।

কেবল ঠোঁটের উপর বসে থাকে
যতটুকু ক্লান্তি যতটুকু ঘাম
তা কেবলই লিখে যায়
সংগ্রামী এক সন্তানের নাম।

ভালোবেসে যার নাম দিয়েছি
আবেগের ছায়া।

ভালোবাসার অর্থ

যদি ভালোবাসো প্রশ্ন করো না
দুঃখে অথবা সুখে
যদি ভালোবাসো জল ফেলো না
জন্ম অথবা মৃত্যুতে
ভালোবাসার দুঃখ অথবা সুখ
আলাদা হয় না
ভালোবাসার আনন্দ অথবা মৃত্যু
আলাদা হয় না।

মূলত ভালোবাসার অর্থ হলো
এক ও অভিন্ন আত্মার ওজন।

Valobasar kobita dalan jahan

শত্রু-মিত্র

তোমার স্পর্শ পেলে
মাঝরাতেও সূর্য উদিত হয়
শীতল সমুদ্রে জ্বলে ওঠে বরফের আগুন।
তুমি এমনই এক বন্ধু আমার
বুঝিনি যা জন্মের আগে
তুমি এমনই এক শত্রু আমার
এখন মরতে গেলেও তোমাকে লাগে।

দুঃখ সইতে সইতে মরে যাবো
দালান জাহান

দুঃখ সইতে সইতে সরে যাবো
তবুও তোমায় জানতে দেবো না
মরতে মরতে মরে যাবো
তবুও তোমায় বলে যাবো না।

আমার সব কষ্ট কোথায়
মৃত নদীকে প্রশ্ন করো
কোথায় লুকিয়েছে রুপালি জল
পাহাড় সমুদ্রকে প্রশ্ন করো।

বুকের শিশুকে প্রশ্ন করো
অন্ধকারকে প্রশ্ন করো
সাড়া পাবে কোনদিন!
হয় তো পাবে না
দুঃখ সইতে সইতে মরে যাবো
তবুও তোমায় বলে যাবো না।

হৃদয়ের ফুল

বাড়ির সামনে যে শাসনের বাগান
তাতে কেবলই ফোটে
মালির হাতের পাঁচটি আঙুল
ফুল তো বনেও ফোটে মনেও ফোটে।

প্রকৃত ফুল ফুটাতে হয় হৃদয়ে
যে ফুল ফুটলে মানুষও হয়
বৃক্ষের মতো প্রণয়নত।

Valobasar kobita dalan jahan

সে আমার ব্যক্তিগত

সে আমার ব্যক্তিগত
সে জানে কিভাবে হৃদয়ে প্রবেশ করতে হয়
এবং কখন উপরে ফেলতে হয়
সে এটাও জানে কিভাবে ডেটল ছাড়াই
মুছতে হয় মৃত্যুর মতো গভীর ক্ষত
সে আমার আঙুল ধরে বয়ে যাওয়া
অনাথ শিশু পবিত্র সব নদীর মতো
সে আমার ব্যক্তিগত সে আমার ব্যক্তিগত।

সে আমার ব্যক্তিগত
হাজার জটলার মাঝেও সে পারে
হিম কঙ্কণে হিমেল করে দিতে
সে পারে ভাগ্যরেখায় লিখে দিতে
একশো একটি নারীর নাম
সান্ধ্যার ঝাঁঝ বাতি হয়ে
আবার সে দাঁড়িয়ে যেতে পারে
আদর্শের হিমালয়ের মতো
সে আমার ব্যক্তিগত সে আমার ব্যক্তিগত।

তুমি খুব প্রেমে পড়ছো

তুমি খুব প্রেমে পড়ছো
তুমি খুব প্রেমে পড়ছো বলে-ই
ফুরিয়ে যাচ্ছে ফুল-ফসফরাস
তালগাছ বেয়ে-বেয়ে থার্মোমিটার
রিডিং উঠে যাচ্ছে আকাশে-আকাশে
খুব বেশি তাপ
তাপে পুড়ে যাচ্ছে পৃথিবী আমার।

পৃথিবীটা লিখে দিতে ইচ্ছে করে

সবকিছুই তোমাকে-
দিয়ে দিতে ইচ্ছে করে,
শহরের সবকটি বাড়ি,
দোকানের সবকটি চূড়ি,
সবচেয়ে সুন্দর শাড়ি,
লাল কালো সাদা টিপে-
হৃদয়ের সব আদরে,
পৃথিবীটা তোমার নামে-
লিখে দিতে ইচ্ছে করে।

Valobasar kobita dalan jahan

ভালোবাসার জিদ

একদিন জাতীয় উদ্যানে
দেশের সবাইকে ডাকব আমি
কোন নিরাপত্তা লাগবে না আমার
আমি শুধু চাইব সবাই যেন নিঃসংকোচে
পৌঁছে যেতে পারেন
দুঃখ দিয়ে সাজানো সে মঞ্চের কাছে।

রাষ্ট্র প্রধান সরকারি আমলা
কৃষক- শ্রমিক কুলি-মুজুর
ব্যবসায়ী দালাল গৃহহীন গণিকা
সবার কাছে পাঠিয়ে দেব
সুসজ্জিত আমন্ত্রণ পত্র আমার
আপনারা যথাসময়ে পৌঁছে যাবেন উদ্যানে।

সমবেত মানুষের সামনে সেদিন
তোমাকে হাজির থাকতেই হবে
অন্যথায় পুলিশ যাবে র্যাব যাবে
আমি চাইব তুমি সম্মানের সাথে আসবে
মাথা উঁচু করে
এবং সবার সামনে বলে যাবে
হৃদয়-ভাঙার মতো স্বঘোষিত সন্ত্রাসের অধিকার তোমায় কে দিয়েছে?

প্রিয়তমা

প্রিয়তমা আমি চাই
চার রাস্তার মাথায় দাঁড়িয়ে
মেয়েটি ছেলেটিকে বলুক তার মনের কথা
তার হাতে তোলে দিক তার
হৃদয়ের মতো পারমাণবিক ডিম
এরচেয়ে বড়ো কোন স্বাধীনতা
আমি চাই না তোমার কাছে।

প্রিয়তমা আমি চাই রাত্রির চিবুক খোলে
জুবৃষ্টিমান কিশোরীরা জোছনার মতো রসগোল্লার ধরে নিয়ে যাক ঘরে
কোমড় নাচুক ঢাক বাজুক ঢুলুক বাজুক
তারা যেন নিরাপদে নাচতে পারে
তোমার চোখের মণিতে হেসে
কেউ যেন আঙুল উঁচিয়ে মেয়ে না বলে
অন্তত বলতে পারে মানুষ
এর চেয়ে বড়ো কোন স্বাধীনতা
আমি তোমার কাছে চাই না।

সে আমার হৃদয়ের মতো

রোজ রাতে বুক বেয়ে হেঁটে যায়
ত্রয়োদশী এক বদ্ধ উন্মাদ
আমি তাকে পথ দেখাই
পূর্বস্তরের ধ্বনিতত্ত্বে
অধিকারের ঝুঁকি নিয়ে
ইষ্টক হাতে সে দৌড়ে আসে আর্যভাষায়।

আমি তখন জ্বালিয়ে দেই রাস্তার প্রাণ
সে নেমে আসে উদ্বৃত্ত স্বরে
নূরের আগুনে ঝলসে ওঠে জল
পৃথিবীর সংযোগস্থলে যোগ হয়
আরেকটি টেকনোটিক প্লেট
আহা! কী মহা মায়ায়
আমার সর্বাঙ্গে মিশে যায় সে
আমার হৃদয়ের মতো।

Valobasar kobita dalan jahan

Facebook Comments