valobasar kobita 2021

তুমি নারী

মোঃ রায়হান কাজী

শুধু সৌন্দর্যের পূজারী নয় তুমি নারী,
বিদাতা গড়েছেন সৃষ্টি তুমি লজ্জাবতী।
উপমাসূত্রে বুনিয়া কাজল কলো নয়ন জোড়া,
অপলক দৃষ্টি দিয়ে মন হরণ করা নেশা।

বাসন্তীর শুভাগমন গায়ে মেখে পুষ্প উল্লাসে,
ভেতরেও বাহিরে কন্ঠকের ঘন্টা বেজে ওঠে।
ঠোঁটের নিচের তিলকখানী যেন মুগ্ধতার স্মারক,
সৌন্দর্য বর্ধক যেন রূপের নিটল চিত্রময়ী আভা।

লজ্জা দিয়ে সজ্জা হবে নূতন মহিমা দিয়ে,
মুক্ত আশা সিন্ধু হতে সঞ্চার হয় তোমার মুখ দেখে।
দুর্লভ কালো এলোমেলো চুল দেখে হাওয়ার সাথে,
হৃদয়ে লেগেছে দোলা পালের নিছক ছোঁয়ার তালে।

চরণ রাঙাতে তোমার রিনিঝিনি নূপুরের সাথে,
শব্দমহলে বাজে নতুন সুরের বীণা সক্রিয় হয়ে।
শিহরণ জেগেছে মনের অন্তরালে প্রদীপ্ত বাসনা,
কিছুটা মানষী হয়ে নারী বাকি অর্ধেক তুমিময় কল্পনা।

প্রেয়সী

জেইনাল আবেদীন চৌধুরী

তুমি সুন্দর, সৃষ্টির সেরা সুন্দর মানুষের মধ্যে তুমি প্রেয়সী;
তোমার হৃদয়ের বিশালতা আকাশের মতো বিশাল, গভীরতা সাগরের অতলোতায় বিস্তীর্ণ
কিন্তু তুমি আমায় চিনো না, আমার স্বপ্নে তুমি বার বার এসে হৃদয়ের গভীরে নোঙ্গর করেছো
আমি অদৃশ্যে কতবার তোমায় আলিঙ্গন করেছি!
আমার বাহুলগ্নে তুমি নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছো।

তোমার অধরে স্পর্শ করেছে আমার অধর
তোমার মেঘবরণ কেশরাশি আমি দুহাতে আদর করেছি,
আমার বিশাল বক্ষে মুখ লুকিয়ে ফিসফিস করে বলেছো, ভালবাসি.. ভালবাসি..
আমার হৃদয়ের গহিনে সুরের মুর্ছনায় আজো গুমরে
কেঁদে খোঁজে তোমার সেই মধুর শব্দ,”ভালবাসি”।

বহুপথ হেটে বহুদেশ ঘুরে পাইনি তোমার দেখা হে বঙ্গ নারী!
কত কবির কল্পনায় এসেছো কতরূপে,
কারো হৃদয়ে নার্গিস, কারো মৃনালিনী কারো আবার নাটোরের বনলতা সেন
আমার শুভোক্ষণে এসেছিলে তুমি হয়ে শোভা আক্তার;
মনে কি পড়ে তোমার ওষ্ঠে চুমেছি কতবার?

ওষ্ঠ ছূঁয়ে দেখো এখনো উষ্ণতা পাবে আমার ওষ্ঠের
বুকে হাত দিয়ে দেখো, সেখানেও পাবে আমার বুকের উষ্ণতা
তোমার অঙ্গের রন্ধ্রে রন্ধ্রে রয়েছে আমার মধুর স্পর্শ
শিখেছিলাম যে ভালবাসা তোমার হাত ধরে,

জীবনের শেষ ক্ষনেও থাকবে এই হৃদয় ভরে
না পাওয়ার বেদনায়, আমি নই ব্যথাতুর,
ভালোবেসেছি তোমায় এ কি কম পাওয়া মোর!
আজো সাগরের জলে আঁকি তোমার মুখছবি হে প্রেয়সী,
আকাশের নীলিমায় দেখি তোমার মায়াবী হাসি।

সকলে বলে কোনো এক রাক্ষুসী আমায় করেছে জাদু,
কি করে বলবো আমি ভালবাসায় কতো মধু!
শোভা আজো তোমার ভালবাসায় আমি পাই শান্তি,
তুমি পাবে না খোঁজে আমার ভালবাসায় এক পলকের ক্লান্তি।।

তুলনা না করে

বিদ্যুৎ ভৌমিক

শেষ ঘুম অরণ্য জেনে গেছে
স্বপ্ন ফের চালু হলে ; মহা প্রলয়ের মেঘ কথা মন খুলে
বৃষ্টি নামায় চোখের পাতায় !
এই ছবিটাই ক্যানভাসের ভেতর পাপ পাপ ব্যথায়
ভীষণ আরক্ত ও হীম
তবুও গুপ্ত লজ্জায় নির্ঘুম ছিলনা জ্যোৎস্নার আবেগ , —
এইখানে মন পাতে হৃদয়ের সমস্ত কথা
এইখানে আজন্মের ঋণ পুড়ে ছাই হয়
অথচ শেষ পর্যন্ত ঘুমন্ত ঘুমে সজাগ থাকে নিরীহ বয়স !

এই দিনটার নামে আমি সুতো বেঁধে রাখলাম
পরবর্তী জন্মের পর থেকেই এর দিন গোনা সুরু হবে ;
একথা আত্মার প্রত্যন্তে থাকা প্রাণী জেনে গেছে
এই দেখ শেষ পর্যন্ত আমি মৃত্যুর মত নীরব হয়ে গেছি —

এখানে নামহীন পৃথিবীর কত লোকজন
এখানে স্পষ্ট না হওয়া দৃশ্য গুলো আমার বিভিন্ন
মুহুর্তের ছবি এঁকে আমাকেই দেখাবে বলে উদগ্রীব !
মোহনার মাটি ভিজে না থাকলে
কবিতার হৃদয় গোলতো কিভাবে ?

valobasar kobita 2021

Facebook Comments