বীর মুক্তিযোদ্ধা আ.খ.ম মাহফুজুর রহমান

এপ্রিল ১৮, ২০২০
Poet Mahfuj Iinterview

Poet Mahfuj Iinterview

একান্ত সাক্ষাৎকার

Mahfujur Rahman
বীর মুক্তিযোদ্ধা আ.খ.ম মাহফুজুর রহমান
কবি, গবেষক ও কথাসাহিত্যিক।

কবিতায় জাগরণ:

আপনার নাম, পিতার নাম, মাতার নাম, জন্মসাল, জন্মস্থান সম্পর্কে কিছু বলুন।

আ খ ম মাহফুজুর রহমান:

আমার নাম আ.খ.ম মাহফুজুর রহমান, পিতা-মরহুম আলহাজ্ব আবু তালেব সওদাগর, মাতা-মরহুমা মরিয়ম বেগম, জন্ম- ১৯৪৮ ইংরেজির ১লা অক্টোবর, জন্মস্থান- প্রাচ্যের রাণী চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলায়।

কবিতায় জাগরণ:

আপনার শৈশব, কৈশোর ও কর্মজীবন সম্পর্কে কিছু বলুন।

আ খ ম মাহফুজুর রহমান:

আমার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে ছিকলবাহা খাল মাদ নগর গ্রামে। কৈশোর বয়সে বন্ধুবান্ধব নিয়ে বিকেল বেলা মাঠে চলে যেতাম তখনকার সময়ে শীতকালে ধানের চাষ হত না, কিছু জমি মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত হত। সেই মাঠে গিয়ে হা-ডু-ডু, ডাংগুলি খেলা এবং ফুটবল খেলতাম। শীতকালে চাঁদনী রাতে লেখাপড়া শেষ করে সবাই মিলে খেজুরের গাছ থেকে রস নামিয়ে সবাই পান করতাম। আমের দিনে বিকাল বেলা গাছ থেকে আম পেড়ে নিতাম। তখনকার দিনে নিজের গাছ ও পরের গাছ ভেদাভেদ ছিল না। তখন ছোটদের প্রতি বড়দের স্নেহ মায়া-মমতা, ভালোবাসা বেশি ছিল। বর্তমান যুগে আন্তরিকতা ও মায়া মমতা নেই বললেই চলে। কর্মজীবনে আমি বাবার ব্যবসা দেখাশুনা করতাম। বাবা মারা যাওয়ার পর বেশি। দিন ব্যবসা ধরে রাখতে পারিনি। আমাদের চাউলের আড়ৎ ছিল। সেই দোকানটা এখনো আছে, ভাড়া লাগিয়েছি। বর্তমানে আমি একটি লিমিটেড কোম্পানীতে ব্যবস্থাপক হিসেবে অনেক বৎসর ধরে কর্মরত আছি।

কবিতায় জাগরণ:

লেখালেখিতে এলেন কিভাবে? আপনার প্রকাশিত বই সম্পর্কে কিছু বলুন।

আ.খ.ম মাহফুজুর রহমান:

স্কুল জীবনে আমি বন্ধুদেরকে বানিয়ে বানিয়ে গল্প শোনাতাম। সেই গল্প শোনানোর অভ্যাসটা কলেজ জীবনেও কিছুদিন ছিল। কলেজ জীবনের এক বন্ধু আমার গল্পগুলো দৈনিক খবরের কাগজে পাঠানোর ব্যবস্থা করল। পত্রিকায় আমার গল্প ছাপানো হল। সেই থেকে আমার গল্প ও কবিতা লেখার শুরু। আমার প্রথম প্রকাশিত বই ‘যতটুকু জেনেছি’ -জীবনী ভিত্তিক গ্রন্থ, ২য় বই ‘তুমি আসবে বলে’ কাব্যগ্রন্থ। আমার এই পর্যন্ত ৭টি বই প্রকাশিত হয়েছে। তস্মধ্যে ‘অশ্রু হয়ে ঝড়ে ও মনের অজান্তে’ এই দুইটি বই পাঠকের সাড়া জাগিয়েছে।

লায়ন ক্লাব অব চিটাগাং ডায়মণ্ড সিটি কর্তৃক গুণীজন সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে কবিতায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য কবিকে ক্রেষ্ট প্রদান করছেন জেলা গভর্নর লায়ন শাহ আলম বাবুল সাথে। প্রাক্তন গভর্নর লায়ন আবদুল মালেক ও লায়ন কামরুন মালেক।

কবিতায় জাগরণ:

বর্তমানে কোন কোন বিষয় নিয়ে লিখ কোন বিষয়ের চাহিদা সব থেকে বেশি বলে আপনি মনে করছেন।
না লিখছেন এবং পাঠক মহলে

আ.খ.ম মাহফুজুর রহমান:

বর্তমানে আমি কবিতা ও গল্পের বিষয় নিয়ে লিখছি যেই কবিতা পড়ে মানুষ তার জীবনকে সুন্দরভাবে পরিচালনা করার প্রেরণা পাবে। যেই গল্প পড়ে মানুষ বাস্তবতাকে খুজে পাবে। আমি মনে করি, বর্তমানে পাঠক মহলে বেশি চাহিদার বিষয় হচ্ছে গল্প ও উপন্যাস।

ভারতে মুর্শিদিবাদ-এ রাহিলা সাহিত্য সংস্কৃতি সংঘের উদ্দ্যেগে সাহিত্য সম্মেলনে যােগদানের প্রেক্ষিতে কবিকে সম্মাননা প্রদান করছেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা কবি ও সাহিত্যিক আবদুল রফিক খান।

Poet Mahfuj Iinterview

কবিতায় জাগরণ:

বিশ্ব সাহিত্যের তুলনায় বাংলা সাহিত্যের মান এবং অবস্থান সম্পর্কে কিছু বলুন?

আ,খ,ম মাহফুজুর রহমান:

বিশ্বসাহিত্যের তুলনায় বাংলা সাহিত্যের মান কোন অংশেই কম নয়। পৃথিবীর প্রতিটি ভাষারই একটি নিজস্ব সাহিত্য জগৎ রয়েছে, যা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি থেকে ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে। প্রতিটি ভাষা ও সাহিত্য তাদের বৈশিষ্ট্য ও মহিমা দান করে বিশ্বসাহিত্যকে করেছে মহিমান্বিত ও পরিপষ্ট। সাহিত্য হচ্ছে সমাজের দর্পণ। সাহিত্য হচ্ছে মানব মনের প্রতিচ্ছবি। সাহিত্য হচ্ছে আলোর পৃথিবী, সেখানে যা আসে আলোকিত হয়ে আসে। বাংলা ভাষা আমাদের মাতৃভাষা। এ ভাষার গৌরবময় ঐতিহ্য হাজার বছরের প্রাচীন। যে ভাষায় বাংলা সাহিত্য রচিত, কেবল ভাষা হিসাবে তার গৌরবও কম নয়। বাংলা ভাষার সৃষ্ট সাহিত্য বিশ্বসাহিত্যের দরবারে যোগ্য আসন লাভে সমর্থ সাহিতের উৎকতা এবং ভাষার মান বিচারে বাংলা ভাষা বাংলা সাহিত্য বিশ্বে সপ্তম স্থান অধিকার করেছেন। প্রকৃত সাহিত্যে আমরা আমাদের কল্পনাকে,আমাদের সুখ-দুঃখকে চিরতনকালের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। কবি-সাহিত্যিকরাই সভ্যতার অগ্রদূত। তাদের সাহিত্য সৃষ্টির মধ্যেই আমরা ভবিষ্যতের একটি রূপরেখার পরিচয় পাই। সাহিত্যের কাছেই আমাদের জন্ম জন্মানতরের ঋণ ।সাহিত্যই মনের রুদ্ধ দুয়ার খুলে দেয়।

কবিতায় জাগরণ:

আপনি নিজেও একজন মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে করতে আপনার কি ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে? এ বিষয়ে কিছু বলুন?

আ হ ম মাহফুজুর রহমান:

১৯১৭ সালে সেই যাতাকল থেকে এ উপমহাদেশের মানুষ মুক্তিলাভ করলেও মুক্তি আসেনি বাঙালি জাতির। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানী শাসকদের শৃঙ্খলে আবার বন্দী হল বাঙালি জাতি। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন থেকে ধাপে ধাপে সংগ্রাম করে মুক্তির পথ খুঁজছিল বাঙালি জাতি। ২৫শে মার্চ রাতের অন্ধকারে পাক সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বাঙ্গালীর উপর ঝাপিয়ে পড়ে, অসংখ্য বাঙ্গালী সেনা সদস্য, পুলিশ বাহিনী, ছাত্র জনতা কেউ হানাদার বাহিনীর হামলা থেকে রেহাই পাননি। সেদিন ঢাকার রাজপথ রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী দেশের মধ্যে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। ই, পি, আর বাহিনী ও বাঙ্গালী সেনারা সেনাবাহিনী ত্যাগ করে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেয়। প্রায় ১ কোটি শরণার্থী ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। ভারতের বিভিন্ন জায়গায় মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করা ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ শুরু হয়। দেশের সর্বস্তরের মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নেয়। বাংলার দামাল ছেলেরা প্রত্যক্ষভাবে জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। হানাদারবাহিনী ক্রমেই মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল প্রতিরোধের মুখোমুখি হতে থাকে। সারা বিশ্বে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের পক্ষে প্রবল জনমত মুষ্টি হয়। মুক্তিবাহিনী ক্রমে শক্তি অর্জন করতে থাকে। তাদের দুঃসাহসিক লড়াইয়ে হানাদারবাহিনী দিশেহারা হয়ে পড়ে। তারা দেশের আলবদর, আলসামস ও রাজাকার বাহিনীর মাধ্যমে অসংখ্য ঘর বাড়ি জালিয়েছে, অসংখ্য মা-বোনের ইজ্জত হরণ করেছে। দীর্ঘ নয় মাস এর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে ৩০ লক্ষ শহীদের বিনিময়ে, ২ লক্ষ মা বোনের আত্মত্যাগের মাধ্যমে ও এক সাগর রক্তের বিনিময়ে ৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বিশ্বের মানচিত্রে স্থান লাভ করে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস, সঠিক ঘটনা পাঠ্য বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে মুক্তিযুদ্ধের উপর বেশি বেশি বই লিখতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সভা সেমিনারের মাধ্যমে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাসকে কেউ যেন বিকৃত না করে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। এই ব্যাপারে কবি ও সাহিত্যিকদেরকে এগিয়ে আসতে হবে তাঁরা যেন সঠিক তথ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের উপর বই লিখেন। এই সব পরিকল্পনার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা যাবে।।

কবিতায় জাগরণ:

আপনার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গ্রন্থের নাম বলুন?

আ,খ,ম মাহফুজুর রহমান:

আমার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হচ্ছে, অশ্রু হয়ে ঝরে, গল্পগ্রন্থ, মনের অজান্তে-উপন্যাস এবং এইতো জীবন -কাব্যগ্রন্থ।

কবিতায় জাগরণ:

আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কিছু বলুন?

আ.খ.ম মাহফুজুর রহমান:

আমি সমাজ হিতকর কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই সাথে সাথে লেখালেখিতে আমার জীবনকে অতিবাহিত করতে চাই। যেন লেখার মাধ্যমে সমাজকে সুন্দর ও শৃঙ্খলভাবে গড়ে তোলা যায়।

কবিতায় জাগরণ:

আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

Poet Mahfuj Iinterview

Poet Mahfuj Iinterview

You Might Also Like

No Comments

Please Let us know What you think!?

Translate »
%d bloggers like this: