Poet Karuna Acherjee

কবি করুণা আচার্যের পরিচিতিঃ

Rating: 4 out of 5.
Poet Karuna Acherjee

এই সময়ের জনপ্রিয় কবি করুণা আচার্য। জন্মঃ ১৯৬২ সালের ৪ আগস্ট। বাবা- স্বর্গীয় ডা. শান্তিপদ আচার্য এবং মা- অর্চনা বালা আচার্য । করুণা আচার্যের গ্রামের বাড়ী চট্রগ্রাম জেলার চাদগাঁও থানার মোহরা নামক গ্রামে। ছেলে, ছেলের বউ, এক নাতি ও এক নাতনি নিয়ে তার সুখের সংসার।

তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারী চাকুরিজীবী। লেখালেখিতে হাতে খড়ি ১৯৭৫ সালে, স্কুল জীবন থেকে। ছোটবেলা থেকে শাস্ত্রীয় সঙ্গীত চর্চা করতেন। তিনি মোহরা “সঙ্গীত ঘর”-এর প্রতিষ্ঠাতা । কবি করুণা আচার্য সাহিত্য ও সংস্কৃতির একনিষ্ঠ একজন কর্মী।

কবি লেখালেখির জগতে একাধারে ছড়া কবিতা গল্প প্রবন্ধ নিবন্ধন ও গান লিখে চলেছেন। তিনি লেখনি ও গঠনমূলক কর্ম কান্ডের মাধ্যমে নারী জাগরণে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন। তিনি সাধ্যমত সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখেন । তিনি জীবনের সব সাফল্যকে তার পিতা-মাতার চরণে উৎসর্গ করেছেন।

সংগঠনঃ

তিনি বর্তমানে কলম সাহিত্য সংসদ, লন্ডন’, ‘অক্ষরে অমরতা’, ‘দুই দুনিয়ার সংগঠন, আমরা করবো জয় চট্টগ্রাম। জেলা শাখার সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

পুরষ্কার ও সন্মাননাঃ

  • Poet Karuna Acherjee
  • Poet Karuna Acherjee
  • Poet Karuna Acherjee
  • Poet Karuna Acherjee
  • Poet Karuna Acherjee

Poet Karuna Acherjee

তিনি নারী উন্নয়ন ও সাহিত্যের অবদানের জন্য ‘সুপ্রভাত শীর্ষ নারী সম্মাননা” (সুপ্রভাত রাউজান ট্রাস্ট চট্টগ্রাম)

লেখক সম্মাননা (চট্টগ্রাম মঞ্চ )

গীতি কবিতা ও সাহিত্যের অবদানের জন্য ‘মেঘ বৃষ্টি সাহিত্য সম্মাননা (মেঘ বৃষ্টি সাহিত্য পরিষদ)

সাহিত্য পুরস্কার ২০১৮’ (কলম সাহিত্য সংসদ লন্ডন) এবং

রত্নগর্ভা মা সম্মাননা ২০১৯ (ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক ফোরাম) লাভ করেন।

লিটল ম্যাগাজিন কবিতায় জাগরণ প্রিমিয়াম সদস্য সন্মাননা ২০২০ ( কবিতায় জাগরন.কম)

করুণা আচার্যের গ্রন্থ সমুহঃ

১. কাজল চোখের পঙক্তিমালা (সম্পাদিত কবিতা),

২. নিষিদ্ধ সীমানা (কবিতা গ্রন্থ)

৩. নারী: সমকালীন ভাবনা (প্রবন্ধ)

৪. কাঠুরিয়া ও গাছবন্দী পরী (শিশুতোষ গল্পগ্রন্থ),

৫. পাখির বাসা রঙিন আশা (ছড়া গ্রন্থ),

৬. প্রত্যাশার ঢেউ (গল্প গ্রন্থ )

৭. চৈতালী হাওয়া কুপালী চাঁদ (ছয় কবির যুগলবন্দী কবিতা গ্রন্থ),

৮. এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন (ছোটদের নৈতিক ও মানবিক উন্নয়নমূলক গ্রন্থ)

৯. মায়ের স্মৃতি (বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষে সম্পাদিত বিশেষ প্রকাশনা)

কবি করুণা আচার্যের কবিতা ও প্রবন্ধ

খোকাকে নিয়ে গর্ব

প্রকাশকালঃ ১৯-১০-২০২০

খোকাকে নিয়ে কতো না গর্ব করেন পিতা মাতা
ভাবেন তারা বৃদ্ধকালে খোকাই তো হবে ছাতা।
বড় হয়ে খোকা ভাবে ওরা মূল্যহীন এক অক্ষম
অনেক পরে খোকার মা বাপ বুঝতে হন সক্ষম।

খোকার গায়ে জ্বর হলে মা বাপ বসেন কাঁদতে
তাদের গায়ে জ্বর হলে খোকা থাকেন হাসতে।
পিতা মাতার প্রাণ বায়ু খোকার মাঝে থাকতো
খোকাকে নিয়ে বুকের ভিতর কতো ছবিআঁকতো

সেই খোকাই হাটতে বসতে দুর দুর করে তাড়ায়
তাদের মনের স্বপ্ন আশা এক নিমিষেই হারায়।
বৃদ্ধ হলে অনেক মানুষ হয় আবর্জনার স্তূপ
এমনটাই ভেবে ভেবে বৃদ্ধরা হয়ে যান চুপ।

খোকার চোখে থাকে সদা ভাসা ভাসা ঘৃনা
বৃদ্ধ কালে পিতা মাতা বাঁচেন ভালোবাসা বিনা।
যে সংসার থাকতো সদা আনন্দেতে মসগুল
সে সংসারে থাকতে গেলে বাঁধে গন্ডগোল।

খোকার জীবন ধন্য করে, করেন যারা পূণ্য
বৃদ্ধকালে খোকার হাতে সব দিয়ে হন শূন্য।
জীবন খাতার হিসেব খুলে দেখেন অল্প অল্প
সবাই ভাবেন খোকার হাতেই জীবন শেষের গল্প।

বিশ্ব শান্তির সুখে

প্রকাশকালঃ ৩০-০৭-২০২০

অসময়ে যাচ্ছে যাঁরা এই দুনিয়া ছাড়ি,
আত্নাশান্তির শ্রদ্ধাঞ্জলি দিচ্ছি সারি সারি ।

মরেও রবে অমর তাঁরা এটিই ধ্রুব সত্যি,
এখন সবাই কালের গর্তে, মিথ্যে নয় এক রর্ত্তি।

বাঁচার আগে মরার পথে হাটছে সবাই ভুলে,
নিজের হাতে বাঁচা মরার ওষুধি নেয় তুলে।

এইকূল ঐকূল দুকূল সবার চোখে অন্ধকার,
বিশ্ব জুড়ে মৃত্যু মিছিল আর ক্ষুধার আহাকার।

নিত্য নিত্য শুনছি কতো আশা আলোর বাণী,
কবে আসবে রক্ষা কবচ ঐশ্বরিক ভূ-রানী?

আরো কতো ধ্বংস হলে আসবে শান্তির বিশ্ব,
কোন্ অনাদির মহাসূত্রে হচ্ছে মানুষ নিঃশ্ব?

তবুও বাসা বাঁধবো সবাই কল্পনাতে বুকে
আবার মিলন হবো সবাই বিশ্ব শান্তির সুখে?

আকাশ তোর কি হলো আজ

প্রকাশকালঃ ২৭-০৭-২০২০

আকাশ তোর কি হলো আজ?
মুখটা কালো চুপ!
রাগ থাকলে ঝেড়ে দে না
ঝুপ ঝুপা ঝুপ ঝুপ।

জানিস না তোর কালো মুখ
ভাল্লাগে না দেখতে!
নীল আকাশে সাদা মেঘ
বেশ তো মানায় সাজতে।

কালো মেঘের প্রলেপ গায়ে
রাগ দেখাইস না আমায়,
জানিস না তুই কারো রাগ
দিই না আমি থামায় !

বাক স্বাধীন চলিস ফিরিস
কেউ দেয় না বাঁধা,
তুই তো জানিস আমি কৃষ্ণ
খুঁজি প্রিয় রাধা।

বন্দী মানব জাতি, (৫)

প্রকাশকালঃ ১৬-০৭-২০২০

কোভিড করোনা করলো বন্দী সমগ্র মানব জাতি,
মুক্তি কবে কেউ জানে না, কেউ দেয় না প্রতিশ্রুতি।

করোনা ভাইরাস পৃথিবীর বাঁধন করলো সবার
ছিন্ন,
আজ মানব জাতির জীবন চলছে দিকদিশাহীন অভিন্ন।

আকাশ ছোঁয়া কান্নার রোল অসহায় মানুষের ঘরে ঘরে ,
কোন্ নিয়তীর করাল গ্রাসে পৃথিবীর মানুষ যাচ্ছে মরে ?

একি কালযুদ্ধ চলছে বিশ্বজুড়ে অবিশ্রান্ত দিনে রাতে? ,
বিষম ক্ষুধায়ও অন্ন পড়ছে না দরিদ্র মানুষের পাতে।

সরল সমাধান পয়নি আজো বিশ্বের কোথাও কোন রাজা,
কি করে বাঁচাবে বিশ্ব দরবারের লক্ষকোটি প্রজা?

বিশ্ব বিধাতা জানেন শুধু,এর কি হবে শেষ পরিণতি,
রক্ষা করো দয়াল প্রভু, রইল আকুল প্রার্থনা ও মিনতি।

প্রতিবাদ

প্রকাশকালঃ ১৫-০৭-২০২০

ভ্রষ্ট লোকের নষ্টামীতে
বাড়ছে খুণের বহর
প্রতিবাদে প্রতিবাদে
কাটছে বেলা প্রহর।

থামছে না তো খুনখারাবী
হচ্ছে না তো প্রতিকার
কেন এমন বিলিন হচ্ছে
জনগনের অধিকার?

বিচার হবে হচ্ছে বিচার
খুণি পড়ছে ধরা,
খুণের সময় আমরা সবাই
পলাতক এক মরা।

বুকের মানিক হারিয়ে যারা
খুঁজছে ফিরছে দিনরাত
অসহ্য এক যাতনায়
দুর্বল হয়ে করছি শুধু প্রতিবাদ।

খুনিরাতো মহানন্দে খুণ করে
হাসতে হাসতে বেঁচে যায়
কার ভরসাই বুকের মানিক
যাবে স্কুল -কলেজ-মাদ্রাসায়।

বাবা -মায়ের কষ্টে গড়া দুনিয়ায়
সন্তানেরা বড় হবে সেই আশায়
শিক্ষা নিতে পাঠায় তারা পাঠশালায়
দৈন্য দশা কেন যে এমন ভাবে চোখ পাকায়।

আরশ আসমান কাঁপছে দেখো
আবরার বাবা মায়ের কান্নায়
আমজনতা আমরাও যারা
ভাসছি শোকের বন্যায়।

এই দুনিয়ায় বিচার চেয়ে
করছি শুধু সময় পার
সবাই কাঁপে ভয়ে ভয়ে
জানের উপর ভরসা কার।

আশার আলো নিভিয়ে যারা
পার পেয়ে যায় সুখে
সৃষ্টিকর্তার বিচারের দিন
কাটবে তাদের দুখে।

নারীর শেষ জীবনের গল্প

প্রকাশকালঃ ১৪-০৭-২০২০

যাদের নিয়ে বাস করি আজ
ভাবি আপন ঘর,
তারাই এখন ডেকে বলে
নিজের রাস্তা ধর্।।

হাত -পা পুড়ে রান্না ঘরে
করলাম যে কাজ জনম ভর,
বেলা শেষে উনুনও বলে
তুই তো হলি যাযাবর।

হাসি হাসি হেঁশেল বলে
হাত-পা ভাঙ্গা খোঁড়া তুই,
কোথায় যাবি, যা চলে যা
আমি এবার একটু শুঁই।

ভেবেছিলাম এটাই আমার
সুখ -দুঃখের আপন ঘর,
যাদের আমি আপন বলি
তারাই আমায় করলো পর।

কবে তোরা মানুষ হবি

প্রকাশকালঃ ১৩-০৭-২০২০

যখন তোরা পশু ছিলি থাকতি বনে বনে
পশুর সাথে লুকোচুরি চলতো সংগোপনে।

পশুর মত চলন বলন পশুর মত খাওয়া,
পশুর মত ঘুমিয়ে পড়া পশুর মত নাওয়া।

এইতো ছিল তোদের জীবন যাযাবরের যুগে,
আস্তে আস্তে পাল্টে গেলি বুদ্ধি গেল খুলে।

পশু থেকে মানুষ হলি ছাড়লি বন -জঙ্গল
বুঝলি তোরা ভাল- মন্দ, মঙ্গল ও-অমঙ্গল

আজকে এটা কালকে ওটা বাড়লো চাহিদা,
দিনে দিনে মানুষ হলি, হলি যুগের অবিধা

এইতো সেই দিন মানুষ হয়ে বিশ্ব নিলি জিতে
এখন আর কিসের অভাব আর কি চাস নিতে?

এতো পেলি এতো খেলি এতো করলি ভোগ
তবু দেখি তোদের মাঝে চাহিদার এক রোগ।

আত্না তোদের অতৃপ্ত বুঝি মিটে না তো সাধ
তাই তো তোরা আধা কাঁচায় করিস যে আহ্লাদ।

এখন পশুর দলে ভিড়লি যারা, মান করলি ক্ষয়।
কবে আবার মানুষ হবি, করবি মনুষ্যত্ব জয়।

আজ যে তুমি ছবি

ওহে মন মাতানো কবি
হঠাৎ করেই হলে তুমি
দুঃখ জাগানীয়া ছবি।
কিসের এতো অভিমানে
হলে তুমি তেপান্তরি
কিসের এতো তাড়াছিলো
কিসের তড়িঘড়ি।

যদিও ছিলে দূরে তুমি
তবু থাকতে কাছে কাছে
কতো আবদার করতে যে
এই দিদির কাছে এসে।

মধুর সুরে দিদি বলে
কে ডাকবে আর,
এমণভাবে কেন হলে
অসময়ে কেয়াপার।

অনন্তকাল রইবে চেপে
তোমার ছবি বুকে,
যেই পাড়েতে গেছো ওহে
ঘুমাও চির সুখে।

বিধাতার দরবারে হোক
শান্তি সুখের ঠাঁই
তোমার থেকে বিদায় নিলাম
এই কামনায়।

মেলায় চলো

প্রকাশকালঃ ১২-০৭-২০২০

খোকা খুকু দল বেঁধে সব
চলরে তোরা চল
রং বে-রঙের বইয়ের মেলায়
নামলো বইয়ের ঢল।

শিশুর মেলায় শিশুর বই
থাকবে অনেক শুনি
দলে দলে তাইতো সবাই
যাচ্ছি দিন গুনি।

ঊনিশ, বিশ, একুশ সেপ্টেম্বর
শিল্পকলার মাঠ
বসবে নানান কবির মেলাও
শুনবো ছড়ার পাঠ।

দূর-দূরান্ত পাড়ি দিয়ে
আসবে ঝাঁকে ঝাঁকে
লেখক কবি ষত আছেন
দেশের বাঁকে বাঁকে।

গাইবো সবাই মিলেমিশে
শিশুর জয় গান
বাড়ুক এবার বাংলাদেশে
সব শিশুদের মান।

অন্ত্যমিলের রাজা

নীল আকাশের সূর্য যেমন
ভোরকে করে আলো,
অন্ত্যমিলের রাজা তেমন
অন্ত্যমিলে ভালো।

চাঁনখালী নদীর তীরে
রাজার জন্মভূমি
স্বদেশ প্রিয় সবার প্রিয়
সবার চেয়ে দামী।

সে যে বড় শান্তপ্রিয়
মিলে মিশে থাকেন,
সবার ভালোবাসা তাঁর
অন্তকোণে রাখেন।

ভাবেন সদা আপন মনে
কাঁদেন সবার দুখে,
ভাবছি এত অন্ত্যমিলে
কজন থাকেন সুখে।

অন্ত্যমিলের ছড়া সবার
থাকেন মুখে মুখে।
জন্ম রাজার ধন্য হলো
এই ধরণীর বুকে।

সাথী হারা সাথী

প্রকাশকালঃ ১১-০৭-২০২০

Karuna-Acherjee

দেখতে দেখতে চোখের সামনে
হলো সাথী বড়ো,
পাত্র এলে দেখতে তারে
থাকতো জড়োসড়ো।

বন্ধু খুঁজে বেড়াত সে
হন্যে হয়ে পাড়া,
একটা বন্ধু পেয়ে সে
হলো আত্ন হারা।।

অবশেষে সেই হলো
সাথীর পাশে সাথী
থাকতো দু’জন হাসি-খুশি
আনন্দেতে মাতি।।

সারা বেলা খাটাখাটি
ক্লান্ত দেহ মন,
স্বপ্ন নিয়ে বাড়ি ফিরে
থাকতো সুখে ক্ষণ।

পুত্র এলো যখন কোলে
জীবন হলো পুর্ণ,
হঠাৎ এসে কালো মেঘ
করলো জীবন শূন্য।

মিষ্টি মধুর হাসিটি তার
ম্লান মেঘের মতো,
ধরলো ঘিরে মনে আজ
দুঃখ শতো শতো।।

সেদিন দুজন পরম সুখে
ঘুমিয়ে ছিলো রাতি, ,
ঘুমের মাঝেই নিভে গেলো
জীবন সাথীর বাতি।
সাথী এখন আবার হলো
সাথী হারা সাথী।।

আর কি পাবো দেখা ?

প্রকাশকালঃ ১০-০৭-২০২০

এমন কবির আর কী পাবো দেখা?
যিনি সবার মনে রেখে গেলেন
সাহিত্য রসের রেখা।
হে মহান কবিবর, –
দেখবো না আর সাহিত্য আসরে
তোমার প্রিয় মুখ,
ছন্দ-ছড়ার মুগ্ধতায়
আর পাবো নাকো সুখ।।

তুমি ছিলে সবার মনে
ছন্দ- সুরের রাজা,
কথায় কথায় চরকা কেটে
টানতে কাছে প্রজা।।
তোমার গুনের গল্প নিয়ে
উঠলো পাড়া মেতে
তুমি গেছো তারা হয়ে
থেকো চাঁদের সাথে।।

একবার এক ছড়ার আসর
বসলো অফিস পাড়ায়,
ধাঁধায় ধাঁধায় বললে ছড়া
কে তোমাকে হারায়।।
আমি ছিলাম সে আসরে
মুগ্ধ মনে চেয়ে,
আজকে তোমার বিদায় ক্ষণে
জল ঝরে চোখ বেয়ে।

তোমার কতো আদর- স্নেহ
আছে আমার জমা,
নিঠুর এই মরণ কেনো
করলো না তোমায় ক্ষমা।
তোমার আত্নার শান্তি চেয়ে
প্রার্থনা যাই করে,
তুমি থেকো পরম সুখে
বিধাতার স্বর্গপুরে।

কেমন আছিস খুকী?

প্রকাশকালঃ ০৯-০৭-২০২০

কি রে খুকী! কেমন আছিস ?
তুই কি আমায় গেছিস এখন ভুলে ?
দেখতে দেখতে বছর যাচ্ছে চলি
তুইও কেমন যাচ্ছিস আমায় ভুলি।

রাগ করিস না বাপু!
আমিও এখন ব্যস্ত হয়ে গেছি।
তুইও যখন গেছিস আমায় ভুলে,
কার জন্য রাখবো সময় তুলে ?

তাই আপন মনে ঘুরি ফিরি
সময় করি পার,
তোকে ছাড়া মনটা আমার
ভাল্লাগে না আর।

এক থালাতে খাওয়া দাওয়া
এক বিছানায় শোয়া,
আদর সোহাগ মাখামাখি
চাইতি কতো মোয়া।

গল্প বলে ঘুম পাড়াতাম
ভয় পেলে ভুত তাড়াতাম
উড়না পড়ায় বউ সাজাতাম
ছোটাছুটি আর দুষ্টুমিতে
কাটিয়ে দিতি বেলা!

সব কি ভুলে গেলি?
তোর কথা মনে উঠলেই
খেই হারিয়ে ফেলি।

তোর যতো স্মৃতি বুকে
চুপি চুপি হাসে,
চেয়ে চেয়ে পথের পানে
চোখ দু’টো আজ ভাসে।

সময় পেলে করিস মনে
বসবি যখন পাতে,
তোর জন্য প্রার্থনা
থাকিস দুধে -ভাতে।

Poet Karuna Acherjee

লকডাউনের বাঁকে

প্রকাশকালঃ ০৮-০৭-২০২০

Karuna-Acherjee

ধুলো জমা মনটা নিয়ে আছি ঘরের কোণে
আপন দোলায় দুলছি আর ভাবছি মনে মনে।

বাইরে যাওয়া বারণ তাই জানলা খুলে রাখি,
পুরানো সব স্মৃতি নিয়ে রঙিন ছবি আঁকি।

পায়নি সময় নয়ন ভরে দেখতে আগে যারে
লকডাউনে বসে বসে বাসছি ভালো তারে।

মুছে গেলো দুঃখ- ব্যথা ভালোবাসায় তার
ঘর ছেড়ে যে বাইরে যেতে মনটা চাইনা আর।

প্রতীক্ষাতে ছিলো যেইজন রাখতে ধরে ঘরে
কাছে পেয়ে আজকে সেইজন দেখছে নয়ন ভরে।

মনটা এখন বসিয়ে নিলাম আর দেবো না ফাঁকি
স্বপ্নগুলো গুছিয়ে নেবো যা পুরণ হওয়া বাকি ।

আসুক যতো ঝড়ঝাপটা ভয় পাবো না তবু
সঙ্গে আছেন মহান দয়াল সৃষ্টি কর্তা প্রভু।

হয়তো জীবন ফুরিয়ে যাবে ভেসে যাবে ভেলা
সাঙ্গ হয়ে যাবে একদিন এই ভবের খেলা।

দুষ্টু খোকার কান্ড

প্রকাশকালঃ ০৬-০৭-২০২০

তাল পুকুরে ডুব দিয়ে যায় পাশের বেতের ঝাড়ে
কাকপক্ষি কেউ জানেনা মাছরাঙা চায় আড়ে।

চুপটি করে একলা বসে বেতের ঝাড়েই খেলে
ক্ষিদে পেলে বেতের গোটা টুক করে নেয় গেলে।

বন্ধুরা সব তাকে খোজে হন্যে হয়ে পাড়া
এপাড়া ওপাড়া ঘুরে পায় না কোনো সাড়া।

কেউ জানে না ছুটির দিনে কোথায় থাকে খোকা
ইচ্ছে মতো খেলে দুলে সাজে খেলার পোকা।

সন্ধ্যে হলেই পাতার বাঁশি বাজিয়ে ফিরে বাড়ি
তাকে দেখেই বন্ধুরা সব নীরবে দেয় আড়ি।

সে যে অতি দুষ্টু খোকা পাড়ার সবাই জানে
সাদাসিধে কিছু বন্ধু তাকেই বেশি মানে।

মা ডেকে কয় ওরে-দুষ্টু নাওয়া খাওয়া ভুলে
ছুটির দিনে এ কোন্ বুদ্ধি মাথায় নিলি তুলে?

আহা!লুকোচুরি খেলতে মাগো বড়ই ভালোবাসি
ছুটির দিনে মন খুলে তাই একলা মনে হাসি।

প্রকৃতি ও করোনা

পৃথিবীতে আজ যেই নির্দয় ভাবে মানুষ নিধন হচ্ছে তা প্রকৃতি আর বিশ্ববাসীর কাছে অজানা কিছু নয়।যা কাল চক্রে বার বার হয়ে থাকে। যেই প্রকৃতি পৃথিবীর সমস্ত জীববৈচিত্র্য, ও জৈববৈচিত্র্য বা,সমস্ত পার্থিব বস্তু সমূহকে নিয়ন্ত্রণে রাখে সেই প্রকৃতি আজ মানব জাতির দুর্দশায় একটুও বিচলিত নয়, বরং মানুষের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি লাভ করে অন্য জীব বৈচিত্র্য নিয়ে বেশ প্রফুল্ল ও প্রশান্তিতে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সৃষ্টির জন্মলগ্ন থেকেই “বিশ্বপ্রকৃতি” প্রাণী জগতের সহায়ক ও পরিপূরক, তবুও কেন জানি না মানবজাতি সর্বদা প্রকৃতির অন্য প্রাণীদের ঠকিয়ে পৃথিবীর সমস্ত কিছু নিজের আয়ত্তে নিয়ে আসতে দন্ডায়কের ভুমিকা পালন করে থাকেন।

তাই হয়ত প্রকৃতিও আজ নীরব বোবা দৃষ্টিতে চেয়ে আছে। তবে তার আবহাওয়া কিন্তু শোকে ও দুঃখ -তাপে খুবই ভারাক্রান্ত। কারণ প্রকৃতির রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছেয়ে যাচ্ছে ঐ করোনা ভাইরাস। যা আজ বৃহৎ সংক্রমণে রূপ নিয়েছে।

যেদিকেই থাকায় শুধু শুনি একটি শ্লোগান,
করোনা ভাইরাস এর আক্রমণে
নিঃশেষ হচ্ছে লক্ষ লক্ষ প্রাণ।
এ নিয়ে আলোচনা, সমালোচন,ও গবেষণা চলছে অবিরাম।

বর্তমানে কোভিড ১৯ করোনা ভাইরাস এর প্রকোপে বিশ্বের সকল মানব জাতি এখন এক স্নায়ুযুদ্ধেও আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। তাই এই অপশক্তি করোনা ভাইরাস এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য৷ বিশ্ব প্রতিনিধিরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে নিয়ে আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

কোন সুসময়ে সুসংবাদ জানার জন্য অধিক আশায় বুক বেঁধে অপেক্ষায় আছেন বিনিদ্র মানব জাতি। সবার অন্তকোণে আজ একটায় প্রার্থনা, বিশ্ব বিধাতা পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তা যেন পৃথিবীর মানব জাতিকে রক্ষা করার উপায় প্রদান করেন।

প্রসংঙ্গত কারণে এই করোনা ভাইরাস আজ মানব সভ্যতাকে এক কঠিন ক্রান্তিলগ্নে এনে মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।বিশ্বের চলমান গতিকে অযাচিত ভাবে পরাস্ত করার লক্ষে হয়ত দানবরূপী এই করোনা ভাইরাস এর উৎপত্তি ।

অন্যান্য মহামারির মত এই ভয়ংকর করোনা মহামারির প্রকোপও বিশ্বের প্রতিটি মানুষের ভীত দিনে দিনে শক্তিহীন করে দিচ্ছে। প্রকৃত অর্থে কায়িক যুদ্ধ থেকে স্নায়ুযুদ্ধ মানুষকে অতি তাড়াতাড়ি দুর্বল করে তুলে।

সুতরাং স্নায়ুর সাথে সাথে মানুষের মনোবলও চরম ভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের মনোবল টিকিয়ে রাখতে যে অর্থের প্রয়োজন তাও আস্তে আস্তে স্তিমিত হয়ে আসছে ।

রাজনৈতিকএবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও সংকটে নিমজ্জিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পৃথিবীর মানুষের উপর এই মহামারির প্রকোপ অতি প্রবল স্রোতে প্রভাবিত হওয়ায় মানুষ দিকদিশাহীন হয়ে উঠছেন। দিনে দিনে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার যেন বেড়েই চলেছে।এই মানব নিধন আর মহামারির যুদ্ধ কখন পরিসমাপ্তি ঘটাবে তা এখনো অজানায় রয়ে গেল।

আর এই দুর্দিনে মানুষকে আর্থিক বিপর্যয়ের হাত থেকে সুরক্ষা করার জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, দেশের বিত্তশালী দাতা সংস্থা , বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী মহল দলমত নির্বিশেষে যে ভাবে এগিয়ে এসেছেন, তা যদি আরো কিছু দিন অব্যহত রাখা না যায় তা হলে দেশে ক্ষুধাও দারিদ্র্যতা চরম আকার ধারণ করতে পারে।

Poet Karuna Acherjee

ক্ষুধা আর দারিদ্রতা এসে মানুষকে যখন গ্রাস করে তখন মানুষ এমন পরিস্থিতির স্বীকার হয় যে নিজের স্নায়ুর সাথে যুদ্ধ করারও সামর্থ্য হারিয়ে ফেলে।তখন কোন ভালো পরামর্শ এবং শান্তনার বাণী কাজে আসে না। কারণ পেটে খেলে পিটে সয় এই মূলবাক্যটি সর্বদায় সত্য প্রমাণিত। “

ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি”। এই অপ্রিয় সত্য কবিতাটি লিখেছিলেন বিখ্যাত কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য। আজকে সবাই এই কবিতার তাত্পর্যপূর্ণ ভূমিকা উপলব্ধি করতে পারছি। মনে হচ্ছে বুঝি সত্যি সত্যি পৃথিবীটা অরাজকতা ও ক্ষুধার রাজ্যে পরিণত হতে চলেছে।

যদিও ধনাঢ্যরা ক্ষুধার যন্ত্রণাটা উপলব্ধি করতে পারবে না, কিন্তু সাধারণ নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা দুর্যোগ কাকে বলে হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছেন । তার পরও ধনী গবীর সবাই এককাতারে দাঁড়িয়ে মৃত্যু ভয়ে আতংকিত ও তটস্থ হয়ে আছি।

যদিও এই মহাসংকট থেকে উত্তরণের জন্য সবাইকে গভীর মনোবল ধারণ করা আবশ্যক কিন্তু বাস্তবে তা কারো উপর চাপিয়ে দিলেও মেনে নিতে পারছে না।কারণ পাল ছেড়া নৌকা যেমন প্রবল ঝড়ে উল্টে যায়, তেমনি আজ দরীদ্র মানুষের জীবনতরীও উল্টে যাওয়ার উপক্রম ।

অনেকেই লোকলজ্জার ভয়ে মুখ লুকিয়ে হাহাকার করছেন, কিন্তু মান- সন্মান হারানোর ভয়ে নিজেকে আড়াল রেখেছেন। জীবন জীবিকার চিন্তা চেতনায় প্রচন্ড ক্ষত – বিক্ষত হয়ে আজ বিপন্ন মানব সমাজ। এই মহামারি প্রতিরোধে সরকার ও গণমাধ্যম যতই জনসচেতনতা বাড়ানোর জন্য তৎপর হোক না কেন অধিকাংশ মানুষ কিন্তু সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে সক্ষম নয়।

কারণ এক দিকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যতা, অন্যদিকে কর্মহীন বেকার জীবনের অস্থিরতা। আজ মানবিক চেতনায় প্রচন্ড আঘাত সইতে গিয়ে মানুষ কষ্ট -বেদনায় বড়ই ভারাক্রান্ত ও ভীতসন্ত্রস্ত।

মানুষের হাতে এখন করোনা মহামারিটি ধ্বংস করার মতো কোন অস্ত্র (প্রতিষেধক) নেই, অস্ত্রবিহীন যুদ্ধ চলছে এই করোনা ভাইরাস এর সাথে। তবে ০৬/০৫/২০২০ ইং সংবাদ মাধ্যকে জানতে পারলাম যুক্তরাষ্ট্রে করোনা মোকাবিলায় চলতি সপ্তাহে মার্কিন হাসপাতালে সরবরাহ করা হবে “রেমডিসিভির” নামক মহা ওষুধ।

তা আবার পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন আক্রান্ত দেশে পাঠানো হবে। এই প্রক্রিয়ার কার্যকারীতা সুফল বয়ে আনুক এটাই সকলের প্রত্যাশা। তবে ইতিহাস এটাই যে দূর্যোগ মোকাবিলয় মানুষ কিন্তু কোন ভাবেই হাল ছাড়ার পাত্র নয়। পৃথিবীতে যতো “অপশক্তি মহামারি প্রদাহের উৎপন্ন হয়েছে তা ধ্বংস করেছেন একমাত্র বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি।

আশা করি এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। মানুষের নিরলস শ্রম ও প্রচেষ্টা কখনোই ব্যর্থ যাই না। মহান সৃষ্টি কর্তার দয়া অবশ্যই মানুষের এই অস্থিরতাকে কমিয়ে শান্তি ফিরিয়ে দেবেন।

তবে এবার মানুষ বিশেষ যেই ব্যতিক্রমী ঘটনার সাথে মোকাবেলা করছেন তা হলো এই করোনা ভাইরাস সংক্রমণে যাঁরা আক্রান্ত হচ্ছেন এবং মৃত্যু বরণ করছেন তাদের যে করুণ পরিণতি তা বড়ই মর্মান্তিক। পৃথিবীর মায়ার বাঁধন যে এই ভাবে নির্বিচারে ছিন্নভিন্ন হবে তা কারো ধারনায় ছিল না। ভৌতিক পরিস্থিতিতে মানুষের কপালে এমন পরিণতি হতে পারে, যা আজ মেনে নিতে বড়ই কষ্ট হচ্ছে

সারা বিশ্বের মানুষের হৃদয় বিদারক কান্নার শব্দে পৃথিবীর ভারসাম্যও আজ ভারী হয়ে উঠেছে।
মৃত্যু কালে আপন জনের অনুপস্থিতি মনে হচ্ছে এই যেন তাদের সাথে ঘোর অন্যায় আচরণ করা। । কিন্তু আজ মানুষ এতোই নিরুপায় হয়ে পড়েছেন, যা আর কোন কালেভদ্রে হয়েছে বলে মনে হয় না।এটি ইতিহাসে আরো একটি কালো অধ্যায় যুক্ত হলো।

Poet Karuna Acherjee

পৃথিবীর ঘটনা প্রবাহে যা সৃষ্টি হয় তা কালের সাক্ষী হয়ে বিবর্তন ঘটায়। কিন্তু বিশ্বের সব মানব জাতিকে একযোগে এমন মৃত্যু যন্ত্রণা উপভোগ করতে হচ্ছে যা দেখে মনে হয়, পৃথিবীতে এটি আর একটি পদাঘাতের চিহ্ন। তবুও মানুষকে মনোবল টিকিয়ে রাখতে হবে, বাঁচার লড়াইয়ে জয়ী হতেই হবে। এইভাবে ধৈর্যের পরীক্ষায় মানব জাতি বার বার সাক্ষ্য রেখে গেছেন।


বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় এই প্রার্থনা আজ সবাইকে করতেই হবে যে,
“বিপদে মোরে রক্ষা করো এ নহে মোর প্রার্থনা,
বিপদে আমি না করি যেন ভয়।
দুঃখতাপে ব্যথিত চিতে নাই বা দিলে সান্ত্বনা,
দুঃখে যেন করিতে পারি জয়।
বিশ্ব প্রতিপালকের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস শত দুঃখেও অটুট রাখা মানব জাতির পরম ধর্ম ও কর্তব্য।


আর এই দুর্দিনে মানুষকে অনুশাসন করার পরিবর্তে সহানুভূতিশীল হয়ে মানবতা ও মানসিকতার দীপ জ্বালাতে হবে। আজ যারা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মৃত্যুকে উপেক্ষা করে নিরলস ভাবে করোনা ভাইরাস এর সাথে যুদ্ধ করে যাচ্ছেন তাদের প্রত্যেকের মনোজগতে এখন মানবতা আর মহানুভবতার বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে। তাই মানবিক দৃষ্টিতে তারা

বাবার স্মৃতি

(১৯৭২ সালের এই দিনে আমার প্রাণ প্রিয় বাবা আমাদের ছেড়ে স্বর্গ লোকে চলে যান।)

বাবা তুমি স্বপ্ন হয়ে আছো অনেক দূরে
তোমায় ভেবে দিনরাত্রি মনটা আমার উড়ে।

যখন দেখি বাবা নিয়ে করছে কেউ খেলা
অশ্রু ভরা দু’চোখ নিয়ে কাটায় সারা বেলা।

বাবা আমায় অনাথ করে কেন গেলে ফেলে?
আদর স্নেহ পাইনা আমি কারো কাছেই গেলে।

তোমার স্মৃতি নেই মনে নেই, নেই যে কোন ছবি
তোমার কাছেই জমা আছে খেলনা পুতুল সবি।

রাত্রি বেলা ঘুমিয়ে ছিলে আমায় নিয়ে পাশে
ঘুম ভাঙলে দেখতে পেলাম তোমায় তারার দেশে।

আজো খুঁজে পাইনি বাবা কেন এমন হলো
শিশু কালের স্বপ্ন আমার ভাঙলে কেন বলো?

বাবা তোমায় আর জনমে যদি কাছে পাই
লক্ষ বছর থাকবে কাছে এটাই শুধু চাই

Poet Karuna Acherjee

আজ সূর্য যাচ্ছে সমুদ্র স্নানে

বহু প্রতিক্ষার প্রহর শেষে
সূর্য ভাসবে আজ সমুদ্র স্রোতে,
মেঘ, তুমি একটু সরে দাঁড়াও
সূর্য ডুবুক প্রশান্তিতে।


রোগ মুক্ত ও কলঙ্ক মুক্ত হোক দেশও জাতি
এক সাগর রক্তের কালিমা মুছে যাক,
মৃত্যু মিছিল থেমে যাক, থেমে যাক।


শান্তির নিশানা উড়ুক বিশ্ব চরাচরে
প্রকৃতি আরো রঞ্জিত হোক শস্য শ্যামলে ,
এই কামনায় সূর্য ভাসবে সমুদ্র স্রোতে।

নয়ন মেলে দেখুক সমগ্র বিশ্ব জাতি
সূর্য স্নানের পূর্ণাঙ্গ গভীরতা ও প্রণতি
অশান্তির নিস্তব্ধতা ভেঙে জেগে উঠুক
প্রকৃতির নীলয় রূপরেখা।


ব্যর্থতার গ্লানি ধুয়ে মুছে উড়ে যাক
অসীম ব্রহ্মান্ডের অন্তকোণে,
উদীয়মান হোক মানবতার সোপান।


দুর্জয়ী লাখো শহীদের দীর্ঘশ্বাস মিশ্রিত
বাংলার বিজয়ী পতাকা উড়ুক সারাক্ষণ
অনন্ত সুখের প্রত্যাশা নিয়ে।


অব্যক্ত ঘুমের ঘোর কেটে যাক
প্রাণ চাঞ্চল্য পুনরায় ফিরে পাক,
শিথিল হয়ে যাক গণতন্ত্রের বিশ্বাস।


করোনা শূন্য হয়ে যাক পৃথিবী থেকে
জ্বলে উঠুক পূণ্যবান আলোকরশ্মি
সেই প্রত্যাশা পূরণে সূর্য যাচ্ছে সমুদ্র স্নানে।

রাঙিয়ে দেবো মন

মনে মনে খুঁজে বেড়ায় ,হারানো সেই দিন
পণ করেছি এই আঙ্গিনায় বাজবে আবার বীণ।
কোথায় গেছে কোন্ প্রাসাদে, কোন্ সেই কুড়ে ঘর
যেথাই থাকুক ভালোই থাকুক, আসবে ফিরে ঘর।

আসে যদি বদলিয়ে মন রাখবো বুকে ধরে
মুঠো মুঠো ভালোবাসা দেবো দুহাত ভরে।
মিটিয়ে দেবো সাধ আহ্লাদ গভীর ভালোবাসায়
রাশি রাশি সুখ ছড়াবো নতুন দিনের আশায়।

আলো ছায়ায় রবি শশী হাসবে মিটিমিটি
স্বপ্ন সুখে রাঙিয়ে দেবো জ্বলবে ঝিকিমিকি।
জমবে মেলা বটের ছায়ায় আনন্দ সোরগোল।
আসুক ফিরে পুরনো দিন উঠুক কলরোল।

Poet Karuna Acherjee

করিও ক্ষমা

(জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর ১২১ তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি।)

হে মহান,
তুমি যেদিন এলে এই ধরায়
চেয়ে চেয়ে দেখলো সবে
কেউ চিনেনি তোমায়।
না হয়,

ফুলের তোড়া, ফুলের মালা
সাজিয়ে দিতো তোমার গলায়,
রাঙিয়ে দিতো নেচে গেয়ে
মুক্তা মানিক আলপনায়।

সত্য ন্যয়ের ধারা নিয়ে
করলে জীবন শুরু,
তাই তোমাকে মানছে সবে
দিব্য জয়ের গুরু।

আজ তোমার জন্মদিনে
কাঁপছে চন্দ্র তারা,
শিশুকালে ভাগ্য দোষে
হলে পিতৃ মাতৃ হারা।

পৃথিবীটা তোমায় নিয়ে
করলো কত খেলা,
সাহস নিয়ে করলে তুমি
দুঃখের মোকাবেলা।

সাহিত্যের প্রবাদ পুরুষ
তুমি সত্য সু মহান
তোমার যত কৃতিগাথা
রইবে যে অম্লান।

স্বার্থক জনম তোমার
জন্মেছো এই বাংলায়,
জন্মদিনে ফুলের মালা
দিলাম সবে তোমার গলায়।

ক্ষমা করে দিও কবি
বুঝিও না ভুল
অনুতপ্ত হয়ে এলাম
হাতে নিয়ে ফুল

ঈদ যে এলো ঘরে

ঈদ যে এলো ঘরে ঘরে নিয়ে খুশির বীণ
কেমন হবে ঈদটা এবার মহামারির দিন?

ঈদের খুশি স্বপ্ন বুনে চেয়ে আকাশ পানে
আনন্দটা করব সবাই এবার গানে গানে।

বিশ্ব মাঝে চলছে যখন দূর্দিন আর দুর্যোগ
এমন দিনে ধরলে বায়না বাড়বে যে দুর্ভোগ।

মহামারির কবল থেকে বেঁচে থাকুক প্রাণ
আজকে প্রভু সবার করো সুস্থ জীবন দান।

এইবার না হয় বন্দী ঘরে কাটুক ঈদের খুশি
চাই না মাগো নতুন জামা মনকে নেবো পুষি।

বন্ধু বান্ধব সঙ্গী সাথী যে যেখানে আছো
সুখে থেকো ভালো থেকো সুস্থ ভাবে বাঁচো।

আনন্দটা ভাগ করে নাও যতই থাকো দূরে
আশা ভালোবাসা দিয়ে মনকে ভরাও সুরে।

অকারণে করবো না কেউ এমন মুখটা ভার
খুশি মনে ঈদটা এবার করবো সবে পাড়

Poet Karuna Acherjee

আমরা সবাই বেকার

চাচা আপন প্রাণ বাঁচা” এখন এমনটায় বিরাজ করছে পৃথিবী জুড়ে। তবুও দেখা যাচ্ছে কিছু কিছু মানুষের ঔদ্ধত্য আচরণ আর দাম্ভিকতার কোনো কমতি নেই এখনো । মৃত্যু দুয়ারে দাঁড়িয়েও কোন কোন মানুষের আচরণের কোন পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। সমাজের ও রাষ্ট্রের কিছু জোচ্চুর ধান্দাবাজ এই দুর্দিনেও নিজেদের চরিত্রকে সামলাতে পারছে না ।

যারা এত দিন পুকুর চুরি করে করে দেশের ভণ্ড নেতা বা ধার্মিকের খোলস পড়ে দেশকে রসাতলের দিকে নিয়ে যাচ্ছিল। তারাই আবার দেশের দূর্দিনে ফাঁক তালে দেশকে আরো রসাতলে নিয়ে যাওয়ার পায়তারায় লিপ্ত হচ্ছে।

দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দাকৃত সরকারি ত্রাণ সামগ্রী লুটপাট করে যত্রতত্র লুকিয়ে রাখছে। মৃত্যু কুন্ডলীতে দাঁড়িয়েও যারা আত্মসাৎ করার মনোবৃত্তি পোষণ করতে পারে তাদের গায়ে থুথু ছিটালেও তারা লজ্জিত হয় না।

এইবার কিন্তু ভরা মসলিসে বিশ্ব দরবারের সামনে জোচ্চুরদের মুখোশ খুলে পড়েছে। এখন তাদের পালাবার আর কোন জায়গা নেই। এই নর শয়তানদের মরণের পড়েও হয়ত চরিত্র বদলাবে না। এই ভয়াল মৃত্যু দৃশ্যের মাঠে দাঁড়িয়েও যারা মৃত্যুকে নিয়ে উপহাস করে যাচ্ছে, অসহায় মানুষের মুখের খাবার কেড়ে নিচ্ছে, তাদের উপযুক্ত শাস্তি সরকারকে দিতেই হবে।

কারণ এই রক্ত চোষা পিশাচ এর দল ভবিষ্যতে দেশের আরো বড় বিষফোড়া হয়ে বিস্তার লাভ করবে এতে কোন সন্দেহ নেই।
আজ যেই করোনা আক্রান্তে মানুষ মৃত্যু বরণ করছে তাদের কারো বিধি মোতাবেক কোন সৎকারও করা হচ্ছে না।

করার মত কোন পরিস্থিতি ও নেই বললেই চলে। ভাই, বন্ধু, আত্নীয়, স্বজন,আপন ছেলে মেয়ে স্ত্রী -স্বামী কেউ কারো দীর্ঘ দিনের মায়া মমতাও স্নেহের বন্ধন নিয়ে কাছে যেতে পারছে না। তার পরও মানুষ কেন যে এই মৃত্যুকে অবজ্ঞা করে আস্ফালন দেখিয়ে যাচ্ছে বোধগম্য হচ্ছে না।

অনেকে ঠাট্টা করে বলছে মৃত্যু এলে মরে যাব তাই বলে মৃত্যু ভয়ে পালিয়ে যাব নাকি। অনেকে আবার মৃত্যুকে উপেক্ষা করে লকডাউন ভেঙ্গে বাইরে বেরিয়ে সংকটকে আরো সংকটের মুখে দাঁড় করাছে। এই করোনা ভাইরাস যে আরো “কতো দূর পর্যন্ত যেতে পারে তা এখনো মানুষের ধারণার বাইরে।

Poet Karuna Acherjee

মৃত্যু সবার জীবনে অবধারিত, কিন্তু করোনার পদাঘাতে এমন নিঃসংশ মৃত্যু যন্ত্রণা কারো কাম্য হতে পারে না। এমন এক পরিস্থিতি পৃথিবীতে এই মূহুর্তে উপস্থিত হতে পারে তা কারো ধারনায় ছিল না। ।

ইতিহাস মতে ১৯১৮ সালেও নাকি এইরূপ এক মহা শক্তিশালী ফ্লু ভাইরাস প্রকট হয়েছিল। একশ বছর পর তা আবারো প্রকট হয়েছে। সেই সময়ও নাকি কোটি কোটি মানুষ নিধন হয়েছিল। আর বিশেষজ্ঞদের মতে এখন প্রযুক্তিগত কারণে সেই তুলনায় মৃত্যু হার এখন অনেক কম হচ্ছে। করোনার প্রভাবে সারা বিশ্ব পরিস্থিতি এখন এক জায়গায় এসে থমকে দাঁড়িয়ে আছে।

ধনী -গরীব উচু – নীচু, রাজা – মহারাজা, জাত –বেজাত সকল মানুষকে এখন মৃত্যু ভয়ে গৃহবন্দী হয়ে থাকতে হচ্ছে। দিনে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু পরোয়ানা জারি হচ্ছে। মৃত্যু ঝুঁকি নিয়েও কিছু মানুষের মানবতার মহানুভবতা প্রকাশ করা ছাড়া আর সব অচল হয়ে পড়েছে।
এই দুর্দিনে কেউ কারো নয় এমনি এক অসহায় অবস্থায় পড়ে গেছে ! সবাই তো আজ মৃত্যু দুয়ারে দাঁড়িয়ে আছে। তবুও যারা মৃত্যুকে হাতে নিয়ে মানবতার দাঁড়প্রন্তে দাঁড়িয়ে মানুষকে চিকিৎসা ও সুরক্ষা করে যাচ্ছেন আশা করি তারাই এই মরণ যুদ্ধের পর ইতিহাসের সবচেয়ে মৌক্ষম স্থানে অধিষ্ঠিত হবেন।

ক্ষুধা আর দারিদ্র ছাড়া মানুষের জীবন এখন চতুর্দিক থেকে থমকে আছে। । নেই যানজট, নেই কোলাহল, নেই পাখির কলতান, নেই মিটিং, নেই মিছিল, নেই কলকারখানার হৈচৈ, নেই কর্ম, নেই সামাজিক ডামাডোল, নেই কারো ক্ষমতার আস্ফালন । পৃথিবীর সর্বত্র এখন এক মরু প্রান্তর হয়ে খাঁ খাঁ করছে।আজ মনে হচ্ছে সবাইকে নিস্কর্ম বানিয়ে পৃথিবী মানুষকে কোন কর্মফলের সাজা দিচ্ছে। তাই আজ বলতে পারি আমরা সবাই বেকার।

বিশ্ব লড়াই

অশুভ এক শক্তির সাথে করছে লড়াই বিশ্ব
তাতেই হচ্ছে মানব জাতি মৃত্যু দানে নিঃস্ব।

করোনা ভাইরাস হলো এক দানব রূপে সৃষ্টি
লাফায় ধাফায় করছে ধ্বংস শুধু মানব গোষ্ঠী ।

সেই দানব করলো আবার মৃত্যুর সাথে সন্ধি,
বিশ্বস্বাস্থ্য খুঁজছে তারে প্রতিরোধের ফন্দি।

চঞ্চল এই পৃথিবী আজ থমকে আছে দাঁড়িয়ে,
এই বিশ্ব কাঁদছে এখন লক্ষ মানুষ হারিয়ে।।

একি তান্ডব বিশ্ব জুড়ে কেন চলছে নিধন
সৃষ্টির আজ ভারসাম্যও করছে বিলাপ রোদন ।

মানবে না হার মানবশক্তি অপশক্তির কাছে
দুষ্ট কীটের ধ্বংস কৌশল মানবেরই আছে। ।

পৃথিবীতে যতই ঘটুক অশুভ শক্তির খেলা
মহান সৃষ্টির শুভ শক্তি চালায় বিশ্ব লীলা।

আসবে আবার নতুন আলো বইবে বটের ছায়া
ফুটবে ভোরের নতুন কুড়ি ফিরবে স্নেহ মায়া।

Poet Karuna Acherjee

বাঁচাও মানুষ, ধ্বংস করো রিপু

ঈশ্বর তোমার কাছে আকুুল প্রার্থনা তুমি পৃথিবীর মানুষকে ধ্বংস করোনা।
মানুষকে বাঁচাও।শুধু মানুষের বদ রিপুগুলো ধ্বংস করে দাও ঈশ্বর।
তোমার সৃষ্টি তুমি শুদ্ধ করো বিশ্ব বিধাতা।


মানুষকে তার অবস্থান বুঝিয়ে দেওয়ার এখনি সময় এসেছে প্রভু।
তুমি সৃষ্টিকর্তা, তুমি পালনকর্তা, তুমি রক্ষাকর্তা,
তুমি কূলের কান্ডারী ,তুমি মহাকাল, সর্বশক্তিমান বিধাতা।

আজ সারা পৃথিবীর মানুষ জব্দ হয়ে আছে “করোনা ভাইরাস”
নামক প্রকৃতি সৃষ্ট এক দৈত্যের হাতে।
তার প্রকোপ থেকে তোমার সৃষ্টির সেরা মানব জাতিকে তুমি রক্ষা করো প্রভু।


এই মহা প্রলয়ের তান্ডব থেকে বাঁচার লড়াইয়ে পরাজিত ও দিশেহারা আজ মানবকূল।
একমাত্র তোমার করুণা ভিক্ষা চাই প্রভু।
বাঁচাও মানুষ, বাঁচাও পৃথিবী ।
মহাশক্তিতে প্রকট হয়ে কালের বিবর্তন এনে আগামীর প্রনোদনা দান করো প্রভু।

Poet Karuna Acherjee

বিশ্বায়ন কবিতার প্রেক্ষাপটে আজকের ভাবনা

আমি কেন জানি বিশ্ব ভাবনায় ২০০০ সালের শেষের দিকে একটা কবিতা লিখেছিলাম। নাম” বিশ্বায়ন ” সেটি ২০০৬ সাালে আমার” নিষিদ্ধ সীমানা” নামক কবিতা গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করি।

আজকের কোভিড ১৯ “করোনা ভাইরাস” এর বিশ্ব পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে কেন জানি না এই” বিশ্বায়ন” কবিতার চিন্তাটা সেই সময় আমাকে ভাবাছিল। এখন “করোনা ভাইরাস”এর তান্ডব দেখে আমি স্তম্ভিত । আজ মনে হচ্ছে কে যেন আমার কলমের টুটি চেপে ধরেছে। আমি আর রা শব্দটি করতেও ভয় পাচ্ছি।


এই “করোনা ভাইরাস” এর প্রলয়ংকরী মৃত্যু মিছিল দেখে আমার হৃদয় স্পন্দন প্রায় স্তব্ধ হয়ে আসছে। এই বুঝি আমারও ডাক পড়বে।
প্রকৃতির কত তান্ডবলীলা, মানুষ সৃষ্ট কত ভয়ংকর ভয়ংকর সন্ত্রাসী হামলা, বড় বড় গৃহ যুদ্ধ,বিশ্ব যুদ্ধ এবং কত শত মহামারি দেখেছি এবং ইতিহাসেও জেনেছি।তবে কোভিড ১৯ করোনা

ভাইরাস এর মত এমন অপ্রতিরোধ্য ও বিশ্বকম্পিত ভাইরাস” এর আগে দেখিনি। আর এমন বিভৎস ও পাষন্ড মৃত্যু বরণের জন্যেও কেউ আগে প্রস্তুত ছিলেন না। যদিও জন্মিলে মরিতে হবে সকলের জানা।।

কিন্তু মরনের ডাক যে এত ভয়ংকর মহামারি নিয়ে আসবে, প্রলয়ঙ্কারী রূপ ধারণ করবে,আপন জনের ধরা ছোঁয়ার অধিকার থেকে শেষ যাত্রায় মানুষকে বঞ্চিত হতে হবে, মৃত্যুর পর মানুষের লাশ উপহাস স্বরূপ সমাহিত হবে। মহাকালের মত “করোনা ভাইরাস ” মহা তান্ডবে মৃত্যু মিছিল নিয়ে নৃত্য চালাবে তা কখনো ভাবিনি। আজ আমারও ভাবতে কষ্ট হচ্ছে। ।কিসের ঈঙ্গিতে এমন একটা কবিতা সেদিন আমাকে দিয়ে রচিত হলো।

“বিশ্বায়ন”

মহাকালের দিকে পদার্পণ করছে বিশ্ব পরিস্থিতি,
অতীতের স্বাদ বিলুপ্ত প্রায়,
মহা মানবের পরিবর্তে নিত্য জন্ম নিচ্ছে মহাসন্ত্রাস।

ব্যাকআপ চিন্তাধারায় মগ্ন বিশ্ব দার্শনিক,
আপন প্রতিকৃতি নিয়ে ছুটে চলেছে মানব আর দানব।
সৃষ্টির পরিবর্তে সৃষ্ট হচ্ছে জঞ্জাল।

মতাদর্শে জ্ঞানাদর্শে বিতর্ক আর বিতর্ক
অনুশাসনের অনুকূলে চলে যাচ্ছে পৃথিবীর আবহাওয়া।
হয়তো ভয়ংকর কিছু ইঙ্গিত করছে আগামীর পৃথিবী।

বিকট উত্তপ্ত হয়ে যাচ্ছে ব্রহ্মাণ্ড
নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছে জনজীবন,
ভাবনার সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে বিশ্বায়ন।

নিজেকে টিকিয়ে রাখার পায়তারা চলছে, চলবে,
মানবাত্নার অনন্ত তৃষ্ণা সর্বগ্রাসী হয়ে মহাশক্তিতে মুহ্যমান হবে পৃথিবীর উর্বরতা।

বিঃদ্রঃ –এই প্রলয়ঙ্করী মহামারির হাত থেকে বিশ্ববিধাতাই যেন পৃথিবীর মানুষকে রক্ষা করে সেই প্রার্থনাই রইল। তবে খুব সতর্কতার সাথে এই মহামারির যুদ্ধ থেকে আমাদের জয় লাভ করতে হবে।

বিশ্ব দরদী মা

-১-

সুখে দুখে মায়ের বুকে
রাখলে মাথা প্রাণ জুড়ায়,
বিশ্ব দরদী মা জননী
ভুবন জয়ে হাত বাড়ায়।

-২-

পৃথিবীর পরে মায়ের আঁচল
মায়া মমতায় সুখ ছড়ায়,
সাগর নদী পাহাড় ভেঙ্গে
মা ও সন্তান বুকে জড়ায়।

কবিতা / স্মৃতির ক্রন্দন

সুদূর লন্ডন প্রবাসী শ্রদ্ধাভাজন রেহানা খানম রহমান আপার সিলেট বাসভবন (রুবাইয়াৎ ভিলা) স্মরণে

সুদূর প্রবাস জীবন যাপন থাকেন বার মাস
মাঝে মাঝে আসেন দেশে করতে মায়া চাষ।

বাংলা ভাষা ও মাতৃভূমি জড়িয়ে রাখেন প্রাণে
তাইতো তিনি আসেন ছুটে ভালোবাসার টানে।

সবুজ সবুজ গাছ গাছালি দাঁড়িয়ে সারি সারি
পাহারা দেয় সারা বছর রেহানা আপার বাড়ি।

স্বপ্ন তাদের জমিয়ে রাখে অনেক যতন করে
হাসি মুখে জড়িয়ে ধরে আসলে মালিক ঘরে।

মায়ার বাঁধন সারা বাড়ি জ্যোৎনা হয়ে ঝরে
আসবাবপত্রও বাসন কোষন আনন্দেতে নড়ে।

গাছের যতো ভালোবাসা বুঝানো যে ভার
মুখ লুকিয়ে কাঁদে তারা আদর পেতে তাঁর।

সাজানো গোছানো বাড়ি থাকে নিরব নিঝুম
পাখ পাখালি গল্প গানে কাটায় বেলা নির্ঘুম।

স্মৃতিরা সব পথের দিকে চেয়ে করে ক্রন্দন
মনটা হেতায় রেখে তিনি বসত করেন লন্ডন।

Poet Karuna Acherjee

Facebook Comments