ফরিদুজ্জামান

জুন ৮, ২০২০
Poet Fariduzzaman

Poet Fariduzzaman (ফরিদুজ্জামান) এর পরিচিতিঃ

Rating: 4 out of 5.
Poet Fariduzzaman
Foriduz-zaman

স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের লড়াকু সৈনিক, কবিতা, ছড়া, গল্প, এবং প্রবন্ধকার ফরিদুজ্জামান ০৬-ই সেপ্টেম্বর -১৯৬৫ সালে গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার নারায়ণপুর নামক গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন । তাঁর পিতার নামঃ মোঃ সাজাহান মৃধা, এবং মা- শাহেরা বেগম। ফরিদুজ্জামান এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক। তিনি সংস্কৃতি সাহিত্য বিনির্মাণে শুদ্ধতার চর্চার একজন সংগঠক।

শিক্ষা:

ফরিদুজ্জামান কালকিনি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, মাদারীপুর থেকে ১৯৮১ সালে এস.এস.সি এবং ঢাকা কলেজ, ঢাকা থেকে ১৯৮৩ সালে এইচ.এস.সি পাশ করেন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা থেকে ১৯৮৯ সালে বি.এস-সি ইন মেকানিক্যাল ইনঞ্জিনিয়ারিং পাশ করার পর পেট্রোবাংলার চাকুরীতে যোগদান।
পরবর্তীতে জে. আই. এস. কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং, কোলকাতা, ভারত থেকে ২০০৩ সালে ডিপ্লোমা ইন টেকনোকর্মাশিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা ডিগ্রী এবং ইউনিভারসিটি অব পেট্রোলিয়াম এন্ড এনার্জি স্টাডিজ, দেরাদুন, ভারত থেকে ২০১১ সালে ডিপ্লোমা ইন প্রজেক্ট প্লানিং এন্ড ম্যানেজমেন্ট ডিগ্রী লাভ করেন। এরপর ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান ডেভেলপম্যান্ট কর্পোরেশন, বোস্টন, ইউএসএ থেকে ২০১২ সালে ডিপ্লোমা ইন পেট্রোলিয়াম ম্যানেজমেন্ট
এবং মালয়েশিয়ান মেরিটাইম একাডেমি থেকে ২০১৩ সালে ডিপ্লোমা ইন এলএনজি ম্যানেজমেন্ট ডিগ্রী লাভ করেন। ২০১৫ সালে চীন থেকে, ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়া থেকে, ২০১৮ সালে কর্নাটক, ভারত থেকে এবং ২০১৯ সালে গ্রীস থেকে ইন সার্ভিস প্রফেশনাল কোর্স সম্পন্ন করেন।

Poet Fariduzzaman

কর্মজগৎ :

ফরিদুজ্জামান পেশায় পরিকল্পনাবিদ।

প্রিয় বিষয় : (–)

লেখালিখি :

গত শতাব্দির নব্বইয়ের দশকের আরম্ভকাল থেকে নানা ধরণের শিল্প ও সংস্কৃতি চর্চা করছেন।

প্রকাশিত বই :

তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ১০ টি তার মধ্যে একটি ছড়াগ্রন্থ ও জয় বাংলার হাট নামে একটি গল্পগ্রন্থ। অবশিষ্ট ৮টি কবিতাগ্রন্থ। এছাড়া তাঁর অপ্রকাশিত লেখার পরিমাণ প্রকাশিত লেখার কয়েক গুণ।

সম্পাদিত পত্রিকা :

তিনি উন্মেষ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক, ম্যাজিক লণ্ঠনের সম্পাদক এবং ‘সাহিত্য দিগন্ত’ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক।

প্রাপ্ত পুরস্কার ও সম্মাননা : ফরিদুজ্জামান ২০২০ সালের জুন মাসে প্রিমিয়াম সদস্য সন্মাননা পান লিটল ম্যাগাজিন কবিতায় জাগরণ থেকে।

Poet Fariduzzaman

কবি ফরিদুজ্জামানের কবিতা

জয়তু কবিতা

প্রকাশকালঃ ০৩.০৭.২০২০

কবিতা সত্যের সাধনায় আনন্দের রক্তবীজ।
কবিতা কঠিন গদ্যের ঘায়ে পাথরে ফোটায় কুসুম।
কবিতা খর-রোদ্র-তৃষ্ণায়আড়ষ্ট জিহ্বায়ও অসুন্দর হননে শান্তির বাণী করে উচ্চারণ।
কবিতা স্বস্তির ভিত্তিমূলে সুশোভিত করে জীবন উদ্যান।
কবিতা শান্তির আঁকরে ভরে দেয় দশদিক।
কবিতা নিষ্ক্রিয়তার ঘুম ভাঙিয়ে শান্তিমিশনে বিজয়ের মার্চপাস্ট করে।
কবিতা সুমতির প্রার্থণায় আলোড়িত হৃদে তোলে ফেনিল কল্লোল।
কবিতা বাঁধভাঙা উল্লাসে হিংস্র চোখের ভাষা মুছে ছড়িয়ে দেয় স্নিগ্ধ পেলবতা।
কবিতা যুদ্ধের দামামা নয়, সাদা পায়রা আর সাদা পতাকায় ভরে দেয় বোধের জমিন।
কবিতা স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে শৃঙ্খল মুক্তির গানে যৌবন জাগিয়ে তোলে।
কবিতা দানব যাতনা নাশ করে প্রেমের পাহাড়ে ফুটায় শান্তির ফুল।
জয়তু সত্য সুন্দর মহাজীবনের কবিতা।

ছড়া নিয়ে শ্লোক সপ্তক

প্রকাশকালঃ ০২.০৭.২০২০

১.
দুলকি চালে ছড়ার ছন্দ
আনন্দ বয় মৃদুমন্দ।
২.
অভিনব শব্দে যদি না হয় ছড়াছড়ি
ছড়া লিখে জব্দ হয়ে দেবে গড়াগড়ি।
৩.
ছড়ার ভেতর আর্ট আছে, আর্টিফিসিয়ালিটি নাই
অকষ্মাতের চমক শ্লেষ চাবুকের সাঁই সাঁই।
৪.
অপারগে এক সিলেবল মিলে যদি রাজী
ক্রিয়াপদে মিল যদি দাও করলে ফাঁকিবাজী।
৫.
ছড়া যেন মেঘ বদলের হাওয়া, বর্ণেরই উদ্বেগ
শিশু শস্যে জল ঢেলে দেয় প্রাণের অভিষেক।
৬.
ধ্বনিময়ী সুরময়ী ননসেন্স রাইম টিকে
অর্থময়ীর ঘাটটিতেও হয় না ওটা ফিকে।
৭.
কিশোর লেখা
গম্ভীর ভাব ধরায় ভীতি
চাইতো সহজ ভাষার রীতি
নিজকে যদি না ভাবো খুব সবার গুরুজন
তবেই লেখক সফলতায় কিশোরের স্বজন।
শৈশবেরই টুকিটাকি
বর্ণ রঙিন মনের পাখি
বর্ণনাতে প্রাণ যেন পায় গল্প ছড়া গান।
চোখের কোণে জল জমানো
মনে জমা ভার কমানো
এসব পড়তে সবারই মন করে যে আনচান।
ফুল পাখি আর প্রজাপতি
সুন্দর মন ছড়ায় জ্যোতি
দুষ্ট দমন শিষ্ট পালন নয়তো স্বীকার নতি।

বসন্ত রঙিলা বধু

‘এতোরাতে কেনো ডাক দিলে প্রাণ কোকিলা..’ আমায়
জীবন ইটের ভাটা পুড়ে পুড়ে ঠিকানা ঝামায়।
বনের কোকিল ডাকে কানে বাজে অন্তর্ভেদী সুর
অন্তরাটা না শুনিয়ে বৈষ্ণবী তো গিয়েছে সুদূর।
শামুক তো নেই কানে তবু শুনি সমুদ্র গর্জন
ঝিনুকে বালুকা মুক্তো জলে ফলে একাকী নির্জন।
হৃৎকলমে মধু জমে পঙক্তি নাচে ঝর্ণা মসী নিবে
সে খোঁজ কি পাবে তারা যারা আছে জড়ত্বে ও ক্লিবে?
বসন্ত বাতাসে আসে ভিন্নবাণী উজ্জয়িনী স্রোত
সৃষ্টি গানে বিন্দু মধ্যে সিন্ধু লেখে কবি ওৎপ্রোত।
অনন্দকে আবাহনে প্রেমিকেরা অলি হয়ে আসে
দুখের আগুন নেভে সুখস্রোতে ফাল্গুন উচ্ছ্বাসে।
পলাশ শিমুল বনে বিচ্ছুরণে রঙ ব্রজবুলি
বসন্ত রঙিলা বধু বিহঙ্গের আকুলি বিকুলি।

স্বাধীনতার অমর কাব্যের কবি

মুক্তির সংগ্রামে আদর্শের মৃত্যুপণ করেছো লড়াই
শেষ রক্ত বিন্দু ঢেলে মা মানুষ মৃত্তিকার ঋণ শোধের চড়াই উৎরাই।
সাড়ে সাত কোটি বাঙালীর ভালোবাসার কাঙাল ছিলে তাই বাঙালীর মঙ্গল সাধনা
জীবনের চেয়ে বড়ো তোমার তেজদীপ্ত ধ্যান আর সম্মাননা।
পৃথিবীর ইতিহাসে তোমার সমকক্ষ কোন্ বীর হলো মহীয়ান?
অন্যায়কে স্তব্ধ করতে শিরস্ত্রাণ দেওয়ার আগে প্রস্তুত ছিলে দিতে প্রাণ বলিদান।
ধনলোভে-রাজ্যলোভে ইতিহাস জুড়ে কতো লুণ্ঠন অধ্যায়
পালাক্রমে ফিরে আসে বাংলাদেশের বুকে ছুরির ফলায়।
শত্রুকে হটিয়ে দিয়ে ভাষারাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছিল প্রাণের শপথ
বীরের উত্তরসূরী ক্ষিপ্র পায়ে চলা তোমার একমাত্র পথ।
জনগণ বুঝেছিল দখলদারের মিছে জারিজুরি
কতো আর স্তব্ধ রাখে জনরোষে চালিয়ে সে চাবুকের তুড়ি।
মঙ্গা মন্বন্তরে অযুত জনতা মরে দুর্গের ভেতরে চলে রাশ উৎসব
বিভীষণ মননে তবু সম্রাটের দখলদারের ভক্তিবাদ শ্রদ্ধাভরে করে কলরব!
প্রাসাদ ষড়যন্ত্র দেখে মেকি জগদ্দল উল্টাতে দ্রোহ আসে মনে
তুমিই রাখাল রাজা লক্ষ মুজিব তেজ দিলে ভীম রণাঙ্গনে।
দখলদারের কথাই আইন এতো ঘৃণ্য স্বৈরাচার এ কোন বিচার?
কেনইবা মানবে তা বঞ্চিত জনতা এমন আচার!
দখলদার কেনো হবে জনতার প্রাণপ্রিয় বিধাতা পুরুষ?
শোণিত সমুদ্র তীরে কেনোইবা করবে তাকে জগৎ সুরুজ!
এইসব ভাবনায়- মা মানুষ মৃত্তিকার ঋণ মনে পড়ে যায়
তবু মনে হয়- রক্ত যা ঝরে তাতো ন্যায় যুদ্ধই ঝরায়।
রণক্ষেত্রে বীরযোদ্ধা ত্রাণকর্তা মহা-অধিপতি
তুচ্ছ করে মৃত্যুদণ্ড মুক্তির পতাকাবাহী দৌড়ে বাড়াও গতি।
প্রাসাদ ষড়যন্ত্রগুলো রক্তের বণ্যায় ভাসে ঠিক
তোমার মন্ত্রণা পেয়ে মৃত্যুপণ যোদ্ধা ছিলো রণক্ষেত্রে অভীক।
জগদ্দল সরালে তাই বুকে রেখে জ্বলজ্বল তোমার জীয়নকাঠির ছবি
বাংলাদেশে অভ্যুদয়ে বিপ্লবের পথে হেঁটে তুমি আমার স্বাধীনতার অমর কাব্যের কবি।

Poet Fariduzzaman

গণমনের সিংহাসনে

(উৎসর্গ: সমুদ্র গুপ্ত)

সমাজ ও সংসারে মৃত্যুপরে প্রশ্ন সবার মুখে
কবি কিছু রেখে গেছে কি না? বাড়ি গাড়ি সম্পদ সম্ভার?
কেউবা বলেন কবির জনম অভিশপ্ত ঝিনুক সময় ছিলো
দহণ ক্ষরণ পেরিয়ে তবে লিখে গেছেন অমিয় সব বাণী
মুষ্টিমেয় বাদে সবাই করে পক্ষাবলম্বন
টিকটিকিরই ছিন্ন লেজে করে আস্ফালন।
তার বইয়ের কাটতি তেমন নয়
ক্ষুণ্নিবৃত্তি নামায় তাকে পথে
জেল জুলুম আর অনাহারে কবি ছিলেন অটল শপথে।
অনুরাগের কাব্য ওষুধ সাথে
নিরাময়ের পণ্য ধরে হাতে
কখনও বা চাপান নিজ আঘাতসহা ঘাড়ে
কবি কি আর হারে!
লক্ষ্মীদেবী বর দিলো না তাকে
শত্রু বর্ধন প্রকল্প তার পদচিহ্ন আঁকে।
যে দেবতা যে ভোগেতে তুষ্ট থাকে বেশি
সে ভোগ তাকে না দিয়ে কবি জ্বলে ওঠেন তীব্র প্রতিরোধে।
ভোগীর গ্রাস কেঁড়ে জীর্ণ সমাজ ভাঙা এবং নতুন সমাজ
গড়ার তাগিদ লিখে।
রুষ্ট ছিলো রাষ্ট্র সমাজ লক্ষ্মী নামের ভোগী
আসন পেলেন বুভুুক্ষ আর মজদুরেরই কবি।
যখন দেখি আমজনতার দুঃখ নিংড়ে নিয়ে
পংক্তি স্রোতে কবি ছুঁলেন দুঃখ হ্রদের তল
উসকে দিয়ে জনমনে লুকিয়ে থাকা স্বপ্ন মনোবল।
বুঝছি তখন বীণাপাণির বর পেলো সে শিল্প স্রোতের স্নানে
দেবতার নয় সত্যিকারের বর পেলো সে তৃণমূলে ধুলোমাটির কাছে।
গণমনের সিংহাসনে কবি বসে আছে।

অহিংসেরসমাধি পাশে

দীর্ঘভ্রমণ শেষে উপনীত হই এসে রাজঘাটে শেষকৃত সমাধির পরে
রক্তেরহোলিখেলা চলে শুধু সারাবেলা দূরুদূরু কাঁপি অন্তরে।
অহিংসবলীদান এখানে ঘুমায় প্রাণ মন জুড়ে শান্তি প্রতীক
মানবধর্মে জয় অসুরের পরাজয় আনন্দে চোখ চিকচিক।

মহাকালপুস্তকে অবণত মস্তকে গান্ধীকে করে তুলি শীর্ষ মুকুট

ভাবিএ পৃথিবী করে শান্তি আধার হবে ভুলে গিয়ে সব কালকূট?
জালিকারাউঁকি দেয বর্ণবাদের
শোষণও বঞ্চনা ধর্ম ফাঁদের।
মানবেরেঅপমান বিভক্তি কলগান থেকে থেকে বাগ দেয় মোড়গের মত
গান্ধীরলং মার্চ বিরুদ্ধ জংবাজ রক্ত ঝরিয়ে করে হত আহত।

পৃথিবীরবুকে জাগা টু-নেশন ক্ষত
অনুবৃত্তিক্রমেধর্মান্ধের ভ্রমে চলমান স্রোত বয়ে আসে অবিরত।
গুজরাটপাঞ্জাব বাংলা ও কাশ্মীর কলোনীর প্রেতে করে ডিভাইড এন্ড রুল
দাগাবাজদুনিয়ায় কাঁদে মন মুনিয়ায় জড়ো হয় পুঞ্জিত ভুল।
উল্টোরথেরচাকা ঘুরে সুখ হয় ফাঁকা চাহনীর তীর বাঁকা হুলস্থুল।

আমি ওঅমর হব গান্ধীর মত
নিমিষেমিলিয়ে দিয়ে টু-ন্যাশন ক্ষত
ভেঙেদিয়ে ভুল হয়ে যাব ফুল।
ফুলহওয়ার প্রত্যয় বাজে সুর সত্ত্বায় তোলে মহাকাল
লক্ষসারিন্দা বাজে ওঠে নামে লক্ষ লক্ষ ছড়।

রক্তলেখা

অদ্ভুতে একআঁধার এখন গিলছে শুভ সভ্যতাকে
গ্লোব জুড়ে আজমৃত্যুপুরী হটাচ্ছে সব ভব্যতাকে।
চারিদিকে মঙ্গা কেবল লেলিহানে চিতারআগুন
বইছে শুধু বৈরী বাতাস মনের বনে বিরূপ ফাগুন।
সমাজ বিভেদ হচ্ছে প্রকট বাড়ছে শুধু ঘুন কাটা বাঁশ।
পঙ্কিলতা শতগুণে জাগিয়ে তোলে বিষ ভরা শ্বাস।
রাজায় রাজায় মরণ কামড় যুদ্ধ চলে দেশ বিদেশে।
জিঘাংসাতে শ্বেতকপোতের মুণ্ডু কাটে অট্টহেসে।
রক্ত নেশায় প্রতাপ সাহেব রক্ত স্নানে হচ্ছে শুচি
বিপন্নেরই অন্ন কেঁড়ে জগত্ত্রাতা খাচ্ছে লুচি।
সর্বনাশা উঁই ও ইঁদুর লাগছে ঘরের মাটির ভিতে
বিশ্ব মোড়ল ব্যস্ত থাকেন হীনস্বার্থের গরল গীতে।
বুদ্ধিজীবী ভাড়ায় খেটে জালেম হয়ে দিচ্ছে দেখা
নুন ঘামে খুন লিখছে কবি শান্তি জয়ের রক্তলেখা।

মারণাস্ত্রকে ঘৃণা

পৃথিবী নামের গ্রহ জুড়ে আজ যুদ্ধের বিভীষিকা
রক্ত ঝড়িয়ে ভাগ্য বিধাতা পেতে পায় জয়টিকা।
মহাযুদ্ধের কাড়ানাকাড়া বেজেছিল দুইবার
শ্রেষ্ঠত্বের অহমিকা তেজে খুনস্রোত উপহার।

যুদ্ধের ক্ষতচিহ্ন একেঁছে হিরোশিমা নাগাসাকি
পরম্পরায় অভিশাপ যেন জীবন্মৃতেরে ফাঁকি।
লিটল বয়ের তাণ্ডব শেষে ফ্যাট ম্যান দিলে হানা
লক্ষ লক্ষ মানুষের লাশে পৃথিবী দোজকখানা।

কতো হিরাকুশ বোমা বর্ষণে হারিয়েছে প্রিয়জন
তেজস্ক্রিয় সে মাটি ও বাতাসে দেহে জমে পয়জন।
দেহে ক্ষত নিয়ে যারা বেঁচে আছে তারা যেন গিনিপিগ
বিজয়ী দেশের ল্যাবরেটরীতে গবেষণা চলে ঠিক।

আরোগ্য শুধু হয় পরাজিত দানবের পদতলে
মারণাস্ত্রতে যুদ্ধবাজেরা দামামা বাজায় ছলে।
যুদ্ধ চাই না শান্তিকে চাই মারণাস্ত্রকে ঘৃণা
শান্তিকামীর জেগে উঠলেই যুদ্ধ মোড়ল তৃণা।

Poet Fariduzzaman

গণ মানবের মিতা

নিসর্গগান জমলে কাননে নিভৃতে কবি আকাশের দিকে চেয়ে
চিকচিক চোখে আনন্দ বাণ ডেকে যায় প্রাণে নতুন ছন্দ পেয়ে।
অমর কবিতা সৃষ্টি তত্ত্বে কবিতার দেহে সম্পাদকের কাঁচি
দেহ ও প্রাণের সম্মিলনেই চরণে চরণে রূপবাণী থাকে বাঁচি।

মন্দির হতে ফুল চুরি করে চির অধরার দেবীকে পূজিছি আমি
খুশি লজ্জায় যুগপত্ জেগে শিহরণ বিভা সাত রঙে রেঙে ঘামি।
তবু তুমি বল অগভীর ভাব বালখিল্যেরে না করেই মাফ ইতি
আকুতির সুর মননের রেণু স্পন্দনেই জমেছে অরূপ ভীতি।

কুহককেতকী ফুটে আছে বনে বর্ষা কদম ভেজে আনমনে ধুম
পঙতির রেশে বৃষ্টির শেষে রামধনু আঁকে আকাশের গায়ে চুম।
ক্ষণে ক্ষণে জাগে খুনসুটি রাগ প্রেম অভিমান ভীষণ উলম্ফন
পদ্ম পাতার টলমল জল নিমিষ মাত্র বাড়তি আয়ুতে জল করি সিঞ্চন।

এসব ধ্রুপদ শিল্পিত প্রাণ প্রকরণে আনে এ হৃদয়ের গ্রহীতা
জঞ্জাল ঠেলে প্রাঞ্জল হলে কবি হয়ে যান গণমানবের মিতা।

এইডস্ তার খেয়ে ফেলে শেকড় বাঁকড়

বন্ধুর অশেষ প্রেমে আমার কবিতা
সহপাঠী হরিহর জনমের মিতা।
বৈারাগ্যের মধ্যে মুক্তি সে যে তার নয়
ভোগবাদ দেয় তাকে বিপুল বিস্ময়।

লক্ষ্মীর চৌহদ্দি ভরা মানিক অপার
রত্নমণি অর্জণে নেই জুড়ি তার।
দুহাতে কামাই করা চার হাতে খরচ
বললেই বলতো সে করো না আফসোস।

পৃথিবী ভ্রমণ করা নেশা পেশা যার
ঈশ্বর আটকাতে পারে? আমিকোন ছাড়!
বধু সুন্দরী কাটায় প্রতীক্ষার কাল
যৌবনে মৌবনে তার অলিরা বেতাল।

বন্দরে বন্দরে ক্লেদ রমনের স্মৃতি
উন্মত্ত আসক্তি নেশা সবে ছিল প্রীতি।
দিগন্তেরপ্লাবী নীলে ঢেউ ভাঙে ফেণা
মনে জাগেজীবনের ভুল লেনা দেনা।
নারীমদিরার নীলে হীম কুচি গলে
ভারী হয়দু:খরাশি সুখ যায় জলে।

বৈভবেরসিঁড়ি ভেঙে নষ্ট ওমে রেঙে
নাবিকফিরেছে দেশে ঢেউ ভেঙে ভেঙে।
ঢেউয়েরফেণার গাদে জীবনের নুন
আদশ্যেরনীতি কথা সেই থেকে খুন।

শ্রীমানেরচাঁদহাটে সব হল শেষ
সভ্যতারঅভিশাপে সর্বস্বান্ত ভেশ।
এইডস্ তাঁর খেয়ে ফেলে শেকড় বাঁকড়
পৃথিবীরহীম ঘরে শোকের আকর।

Poet Fariduzzaman

ঈদের রোশনাই

হাটুরে বাবার সাথে যারপর নাই আনন্দে বাড়ি ফিরতাম।
ঈদের চাঁদের খোঁজে উঁকি দিত সহস্র চঞ্চল চোখ।
ভাজা সেমাই-কিসমিস-আখের মিঠাইয়ের যুথবদ্ধ ঘ্রাণে কোর্মার আয়োজনে আনা মোরগের সাথে আমরাও ধরতাম ঝিম
স্বর্গের আনন্দ স্রোতে ভাসতো ব্রহ্মাণ্ডের সরোদের নির্ঝর রিমঝিম।
সিয়ামের এতেকাফ অনিবার্য সন্ন্যাসের পর গৃহী পিরতো ঘরে
গার্হস্থ্য জীবনে বাবা আড়মোড়া ভাংতেন সমস্বরে।

নক্ষত্রের রাত জাগা মা আমার বিবিধ সুখ্যাতি ক্ষীরে সাজাতেন স্বীয় তস্তরী
ফুলের পাপড়ির মত আমরা অজস্র ভাইবোন বর্ষার সমেস্বরী যেন হুল্লোড়ে কলস্বরী।
বহুদিন পরে কৃষকের ঘরে টক দইয়ে.কোর্মায়.সেরকার স্বাদে.মোঘল ঘরানায় জাগতো ভোজন রসিক
স্বাদের কাবাব আর পোলাওর ঘ্রাণে আমীর ওমরাহ যেন ঈদের অভীক।
কোলাকুলি গলাগলি বাদশাহ-ফকিরের সৌহাদ্য সম্প্রীতি
আড়চোখে ভাবতাম- ওসব ঘোড়ার ডিম লোক দেখানো রীতিনীতি।

খানে খোদায়.. ঈদগাহে.. জিন্দাবাহারী গোরস্তানে জিয়ারতে রোশনাই কীর্তি
ভাবতাম মনে মনে রহস্যের চাদরে ঘেরা লৌকিকে ও অলৌকিকে বাঁধা এতো প্রীতি।
হাটুরে অন্ত্যজ জনে সুখ পাখি ধরা দিত মাটির ধরায়?
চাইনিতো স্বর্গসুখহুর পরী গিলবান অলীক চরায়।

সময়ের পদাবলি

উত্সর্গ: কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন

(১)

এই পৃথিবীতে শৈশবকৈশোর যৌবন হয়ে বার্ধক্য আসে জীবনে
যে সময় যায় সে তো আরফেরে না হায়
নদীর স্রোতের উপমায়।

কুরাইলা পাখি সারারাত জাগি প্রহরে প্রহরে ডেকেওঠে যে
বলে রাঙ্গায়ে আঁখিআছে কি বাকি
ক্ষণিকে কাজ শেষহয়নি যে।

গভীর রাতেও ঘড়িঠনঠনিয়ে বলে- কাজ কর তাড়াতাড়ি।
এক মুহূর্তও নাই ছাড়াছাড়ি।
চুল দাঁড়ি গোঁপ দিয়েপাঁকিয়ে মহাকাল স্রোত যায় বুঝায়ে
জীবন চলেছে শেষ পর্বে।

(২)

বয়স নয়তোভূঁইফোঁড়

শিশুকাল শেষে কৈশোর।
তারপরে আসে যৌবন
যৌবন ভরা মৌবন।

তেজদীপ্তির কাল শেষ
বার্ধক্যেরকায়ক্লেশ।
বার্ধক্য সেতো দেহেনয়
মনের ভেতরে বাস
সবুজকে বুকে ধরে
চির তারুণ্য চাষ।

Poet Fariduzzaman

মহামতির সমাধি পাশে

ঘুমাও হে আকবর,যেগোনা আমার পদধ্বনি শুনে আজ
তোমায় বুঝতে সিকান্দ্রায় আমি বাঙাল মুলুক থেকে।
বার ভূঁইয়ারউত্তরসূরী খুঁজতে তোমার যাদু
মিলনমন্ত্রে দীক্ষিতনব আমরা বাঙালি জাতি।

মানসিংহের ভাঙাতলোয়ারে নিয়াজির পিস্তলে
বীরত্ব গাঁথা জ্বলজ্বলে জাগে অন্তর অন্ত:স্থলে।
ঘুরে দিল্লির আকবররোড ক্ষমতাকেন্দ্র এক।
রথের রশিকে প্রতিদিনওরা ওখান থেকেই টানে।

অশোকের চাকা ছুটেচলে নিরবধি
লালকেল্লার ফটকেচলছে ভীম কুচকাওয়াজ।
ইন্ডিয়াগেট জ্বলজ্বলকরে মহাযুদ্ধের বীরে।
পরিজন ছেড়ে পরিব্রাজকেরবিস্ময় পথে ভাবি
কোন বন্ধনে এক হয়েআছে বহু ভাষাভাষি জাতি?

তেলেগু তামিল সিন্ধীবাঙালি মারাঠি বিহারী জ্ঞাতি
বিভেদের রেখা মানবতাগুণে মুছে দিয়ে গুজরাটি
উড়িয়া মালয় কাশ্মেরীপাঞ্জাবী
ধর্মবিভেদ ঘোচায়তোমায় আইন-ই-আকবরী।
নবরত্নের মন্ত্রণা গুণশুনি-

হিন্দু মুসলিমমিলনেই যেন আনন্দ ভৈরবী
জ্ঞান বিজ্ঞান শিল্পছড়ায় শেখর ছোঁয়ার দ্যূতি।
আমরা মৃত্যুপণ লড়েযাই অনুক্ষণ চতুরঙ্গের গুটি
রক্ত শপথ শিক্ষাশান্তি প্রগতিকে করে খুঁটি
নবরত্নের তেজে জ্বলেউঠে হবোই অরুণ্ধুতি।

Poet Fariduzzaman

করি না আক্ষেপ

নিভৃত পল্লীর টপানবনফুলে নিসর্গের গানে
সমৃদ্ধ কিশোরী তুমিবাতিজ্বলা অরণ্য জোনাকি।
বাঁশঝাড়ে শটিবনেখুঁজফেরো হারানো বৈভব
নক্ষত্র কলার কাঁদিলেপ্টে দাও আপন আকাশে।

স্নাতক অমরাবতীমৃত্যুঞ্জয় ঘ্রাণ শুঁকে ফেরো
ভোগের বাসনা কিংবাত্যাগ ধর্মে হও কলাবতী।
ননীর পুতুল নও নুনের স্ফটিক জমা দেহ
তোমায় ছিনিয়ে নিয়ে প্রেমধর্মশিখেছে কি কেহ?

সেও কি চাষারপুতরক্তমাংসে নোনাধরা তনু?
তোমাকেই দোষী করেখেয়ে গেছে বারোয়ারী ক্ষীর?
লুটেরার সূত্রে দেখিতুমিও কি লাবণ্য হারালে?
পলীমাটিভ্রুণতত্ত্বে মাটি ফড়েঁ দু’হাত বাড়াবে।
বুনোগন্ধ গায়ে মেখেঅস্বীকৃতির হোক অভিষেক
যার যাওয়ার সে চলেগেছে তাকে নিয়ে করি না আক্ষেপ।

কলোনীর ভূততাড়ুয়া জাতিস্মর তলোয়ার

দিল্লী বহু দূর তবু ভ্রমণের আশা
ইতিহাসে শিক্ষা নিতে বুকে বাধেঁ বাসা।
বাবরের পদ্ম আর অশোকের চাকা
আজও রথ ধেয়ে চলে পথ আঁকাবাঁকা।
রাজণ্যের কাহিনীতে আকুলি বিকুলি
ছায়ার পুতুল দিলাে বাঁধা চোখ খুলি।
লালকেল্লার ছড়ি ঘোরে আজও আশেপাশে
ঈসা খাঁর তলোয়ার হয় না ফ্যাকাসে।
তীতুমীর ক্ষুদিরাম সূর্য বীর লতা
মুক্তিকামী মানুষের বীর্য কথকতা।
বাঙালি মানে না পর শোষণ শাসন
মানে না পরাধীনতা কুটিল ত্রাসণ।
আধিপত্যবাদী সংস্কৃতি উপনিবেশ
এ স্বাধীন বাংলাদেশে কবে হবে শেষ?
ফের যদি কলোনীর ভূত চেপে বসে
পাকসাদ জমিন বীজে বঙ্গভূমি চষে।
বাঙালি অমর হবে আত্মবলিদানে
দেশমাতা মুক্তি পাবে স্বাধীনতা গানে।

Poet Fariduzzaman

দু:খের যৌথখামার

নদী বাধেঁ জল অবরোধ প্রাচীন প্রসঙ্গ
প্রাত্যহিক জীবনের ভাজেঁ ঘুরে ফিরে আসে
উজানের জল প্রত্যাহারে লবণাক্ত জলেরতাণ্ডব।
যাপিত জীবন বিধ্বস্ত হলে, মানুষ তা মেনে নেয়
প্রিয়জন হারানোর বেদনায়।সুরমারজাতিস্মর প্রেমিক
প্রকৃতির প্রতিশোধে প্রিয় নদী মরল বলে
আমি কি মানব তার ভিন্ন গ্রহণ?
প্রবোধের চাদরে বুনি বিষ্ণুর সাত কাহন।
ভ্রমাণ্ডের ভাস্কর তিনি।অথচ কীআশ্চর্য
পৃধিবীতে বিষ্ণুমন্দির নেই! মানুষেরধর্মই এই
সৃষ্টি কথা ভুলে স্রষ্টার হনন উত্সবে মাতে।
আইনস্টাইনের দু:খবোধ ভর করে মনে-
তারই বিশ্বস্ত কুকুর লাফ মেরে মোমবাতিফেলে দিলে
পুড়ে যায় দু’যুগের গবেষণালব্দ অভিসন্দর্ভের একমাত কপি
বিশ্বের বিজ্ঞানের কী কাষতি হল-কুকুর তাবুঝবেনা কোনোদিনও
সুরমার প্রেমিক শুধু দু:খের যৌথ খামারগড়ে আইনস্টাইনের সাথে।

কবি অথবা দেবশিশু

কাগুজে কলস ফুল দোলনায় বেঁধেছিল মায়
বর্ণিল রঙের টানে শিশু তাকে মুঠে পেতে চায়।
অতঙ্ক ছিল না কোনো সুন্দরের প্রতি ছিল সহজাত টান
সারল্যের সুখ তাকে করেছিল প্রশান্তি প্রদান।
গোখরো সাপের ফণা বাহারি নক্সার আলপনা
শিশুটির দুটো চোখে মুগ্ধতায় দেখি দস্যিপনা।
কবি নাকি দেবশিশু তাই চোখে পড়ে না পলক
দংশনের কাল বিষে সবে করে নীলকণ্ঠের শোক।
সারল্যের সৌন্দর্য অতি মনোলোভা জীবন সংহারী
বিরাগভাজন আনে রসদ বোজাই স্বপ্ন গাড়ি।
মাকড়সা মদু নয় ফুল থেকে নিয়ে সে বিষ
ফুলজাত বিষ থেকে প্রবাহিত হয় না আশীষ।
পতঙ্গের আলো প্রেম জীবন নাশের কলাবিদ
দীপের দহনে জ্বলে অঙ্গার হলেই জয়ী হৃদ।

অলৌকিক আয়না

নিরঞ্জনের ধন্যবাজার গণতন্ত্রের গণ
কূটচালে সব লুটহয়ে যায় দু:স্বপ্নরা ঘন।
কুলুপ আটা মুখেবিবেক ভঙ্গ যে দেয় রণ
কণ্ঠরোধের কণ্টকনাদ অস্ত্রেরা ঝনঝন।

আত্মপ্রতিবিম্বদেখে হায়েনা ধরে বায়না
সৌম্যকান্তিসুরত্ ফোটারআননা যাদুর আয়না।
দাঁতাল মুখের লোল জিহ্বা উহ্য রাখুক আর্শি
জনগণের নীতির রাজা দেখুক খুলে শার্সি।

অমঙ্গলের কণ্ঠে শোনাক মঙ্গল জয় ধ্বনি
দৈত্যকে সে বন্ধু দেখাক কল্যাণকে অশনি।
জগদ্দলের পাথর দেখাক আরোগ্যের এক বালিশ
জনগণের মুখ থেকে আজ উবে যাক সব নালিশ।
নিরঞ্জনের বঙ্গদেশে গণতন্ত্র মম
অলৌকিক এক আয়নাকে ভাই বলছি নম: নম:

Poet Fariduzzaman

বুনো ঘ্রাণ

বিজলী বিজলী খেলাধরিত্রীতে জমে মেলা নিষিদ্ধের ওম
অঙ্কুর ফুটিয়েদিয়ে প্রেমের মুকুল নেয় পদ্মলীন দম।
পিয়াল তরুর তলেকাঁপা কাঁপা ঠোঁট থেকে ঝরেছিল বাণী
ভালোবাসি ধ্বনিযেন ভিখিরের দশা থেকে করেছিল রাণী।

রমনী হওয়ার সুখে পৌরুষের বুনো ঘ্রানে বড় কাতরতা
না ভাঙাই ভালো তবুসম্মিলনী সুখে তবু ভাঙি নীরবতা।
পিতার জন্মেরদায়ে নির্লীপ্ততা ভেঙে বীর আমি অনাবিল
বাঁধভাঙাঝর্ণাজলে নৈশব্দের হন্তারক তুমি খিলখিল।

কামাক্ষ্যামন্দিরে তুমি জনম জনম ধরে ছিলে দেবদাসী
অবলার খোসা ভেঙে মুক্তকরে দেই আমি নির্ঝরের হাসি।
ঈভের আদম আমিকলঙ্কের দামে কিনি পৃথিরী উদ্যান
গালিবের অভিধানেপাপ পুণ্যি একাকার প্রণয়ের গান।
কলঙ্কের কালিদিয়ে কাজল মাখায় চোখে খাজুরাহা মঠ
যাবোনা যাবোনা আমিহাতে খঁড়ি দিতে একা হোক ধর্মঘট।

অনঙ্গবউ

বিলেরপুকুর পদ্মবনে আমার সময় এলেবেলে
নীরভোমরা সাপের সাথে বিষম তালে খেলে।
প্রকৃতিপাঠ চলতে থাকে মায়াময় অঙ্গনে
চোখেরপাতাপড়ে নাকো নিদারুন রঙ্গনে।

রূপকথাইসাপের সাথার নীলকাঞ্চন মনি
গজমতিরমানিকজ্বলা প্রহর কী অশনি!
নিসর্গনীল কাব্য খাতায় নীলজ্যোত্স্নার মেয়ে
বুকেরভেতর হাঁপড় কলা আসসে কি নাও বেয়ে?

হরিতকীবনের ঘুঘু ডাক দিয়ে যায় তাকে
ছিপফেলে সে পঙক্তি তোলে মরা নদীর বাঁকে।
দীপ্তশপথ তৃপ্ত কপোত সুর তুলেছে গানে
লালফড়িং আর প্রজাপতি ময়ূর নাচের তানে।
সুবোধচাতক জল চেয়ে কয় অনঙ্গ বউ রাণী
কবিইশুধু টানছে মড়ার প্রেম যমুনার ঘানি।

Poet Fariduzzaman

ইলিশ আদুরী

ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টি ঝরে পদ্মানদী বুকে
আকুলি বিকুলি প্রাণ নেচে ওঠে সুখে।
সোনালী আঁশের ধনে কিনেছি ইলিশ
কিষাণ বধূর চোখ তোলে সুখ শিস।

গভীর জলের মাছ সাগরেতে বাস
ডিম ছাড়তে ছুটে আসে নদী-অবকাশ।
রুপোলি গায়ের রং ঠিক যেন চাঁদ
বাঙালি রসনা মেটে রাজকীয় স্বাদ।

বঙ্গীয় ব-দ্বীপ জাত নেই তার জুড়ি
বাংলাদেশের জাতীয় মাছ সে আদুরী।
মত্ষ্য কন্যার সাথে মনেলোকে প্রেম
কবির কল্পনাতে তা নো প্রোব্লেম।
সূর্যের আলোকে তার অতি অল্প আয়ু
কবিই নামবে জলে বাড়বে পরমায়ু।

জ্যোত্স্নাযাপন দিন

সেদিনবসন্তদিনে কালোচুলে শনশন বাউরী বাতাস।
রাধাচূড়া শিমুলের গন্ধ মৌ বৌ কথা কওসুরে করে হাসফাঁস।
আদম ঈভের সেইগন্ধম উন্মন দিন। বাঁধভাঙা ঊচ্ছ্বাসে নাচে দীনহীণ।

মরাকাটালের গর্ভে তেজকাটাল বাঁচে প্লাবনে সঙ্গম রীতি।
মহুয়ামাতাল দিনে আনন্দ ঝর্ণার স্রোতে বাজেগীতি।
নিশিপাওয়া বসন্ত বাউরীর কাছে আমি এক তুচ্ছ প্রেমিক।
বনপাপিয়ারমত অতিশয় উক্তি যত দারুন অভীক।
শ্রীমানবনবালার গা থেকে ঝুরে পরে চন্দনের ঘ্রাণ।

লাবণ্যেরপ্রভা ঝরে দুধে আলতা পড়ে কী যে কলতান।
নাটাইয়ের দীলারাঁই সুতা কেটে সাঁইসাঁই জিতে যায় বিষম খেলায়।
নীলজ্যোত্স্নার মেয়ে চলে সুক সারী গেয়ে মজে যায় অশেষ মেলায়।
আমাকেইসঙ্গী করে ব্রজের রাখাল ধরে জ্যোত্স্না যাপনের রথ।
রাজারপোষাক পরে সাজার গাওন ধরে ধরিত্রীকে নাচায় আলবত্।

Poet Fariduzzaman

উড়েযায় দ্বিধার গন্ধম

চারিদিকরুক্ষ দাহনের অগ্নিস্রাব। মড়কের ভাগাড়ে শকুনের উড়াউড়ি।
ওলাওঠা দেবী চৈত্র নিশিথে বসন্তছড়িয়ে দিচ্ছে দুহাতে।
গুলশানে দীল-আফরোজ বড় বেশী কুহক রমনী।
ফুলের আস্তরণে মধুকরেরগুঞ্জরণ। সমস্বরে নিশীথিনী শূন্যে ওড়াচ্ছে নেকাব।
যেন সুভদ্রা ঊর্মিমালা দোলায়দুলছি। চৈত্র সংক্রান্তির আড়ংয়ের ছুরির ফলা
যেন রূপোলী জ্যোত্স্না ঢুকোচ্ছে বুকে। কুচিকুচিকরে কাটা আমের কাঁচা মিঠেল রাখালী বিকেল।
স্নায়ুর নিয়মেই প্রেমাষ্পদের ঝিভে জল। চঞ্চলমেঘের স্থিরতা নিয়ে ভেতরে বাইরে তার অশেষ বর্ষণ।
সেই বর্ষণের কূলঅ কিনারা পাওয়াভার। এক জনমের গর্জনের পূর্ণতা পাওয়া!
পুনর্জাগরনের সাধ অনিবার্য জাগে। কার নাজাগে সমৃদ্ধি বাসনা?
ফেলে আসা ঘেরাটোপে এপিটাপ কার আর ভাললাগে আজ?
আমার পায়ের নিচেঅশোকের চাকা। বাবরের পদ্মবনে হেয়ালীতে থাকা।
নতুন আলোর বিহ্বলতা ঝুরে ঝুরে পড়ে।রাশিরাশি ফ্যান্টাসি- স্বপ্ন সাজাই।
দ্রাবিড়ার রাখাল আমি রাজা হয়ে যাই। যাত্রার বিবেকতেলে জলে না মেশার তত্ত্ব শেখাতে নেয় দম।
বোশেখের শীত্কারে উড়ে যাক দ্বিধার গন্ধম।

সন্তের পঙক্তিমালা

কতো কথা কতো গান ওই শোন কলতান বাসন্তিকা এলো
স্মৃতির গুলগুলি রোদ চেতনার মর্মবোধ হল এলোমেলো।
অশেষ আনন্দ রাশি ফল্গুধারা হাসি হাসি হাজার দুয়ারী
স্বচ্ছ জলে তুলে ঢেউ জলকেলী করে কেউ অচিন জুয়ারী।
মায়া টান রঙ্গ জাদু আলিঙ্গনে সঙ্গ মাধু বর্ণালী বাহার
নানা রঙে সেজে সেজে নানাসুরে বেজে বেজে মানে না সে হার।
বেহুলা বাসর ঘরে লক্ষ্যাইগরলে মরে কানামাছি কাল
আমার বসন্ত বেলা এমনি করেছেখেলা মধুর সকাল।
দীলা রাঁই মারে ঘাই পদ্যলিখে ফলে ছাই আসে না নাগর
রুমালের গিট খুলে কুহকেরফিট ভুলে হয়েছে ডাগর।
কোয়েলিয়া ডাকে বনে ভ্রমরেরগুঞ্জরণে বসন্ত সঙ্গম
মনে নাচে দীপ্র চারুক্ষিপ্র ক্লেদে দিচ্ছে ঝাড়ু রস সমাগম।
অমৃতের কবিগণ পথ চলেমৃত্যুপণ লিখছে কবিতা
অমিত আনন্দ স্মৃতি বুকেবেঁধে শিল্প প্রীতি জ্বালাচ্ছে সবিতা।

Poet Fariduzzaman

ফুলদানী

বুকের ঝাঁপি ভরে ছিল ফুলদানীটার ফুলে
ঝড়ো হাওয়ায় উড়ে গেল মালার বাঁধন খুলে
লোকে বলে ফুলদানীটা পড়ে আছে শূন্য
কান্না ভেজা বিষাদ ছায়ায় সবাই মন ক্ষুণ্ন।

ফুলদানী কই? ফুলের সাঁজি ওযে কবির বুক
ল ফুলে গড়া প্রিয়ার মুখ ধরে টুকটুক।
লোকে বলে বুকের ভেতর লোকটা পোষে সাপ
ফুলদানী কই? সাপের ঝাঁপি বুকটা অসির খাপ।

কাব্য ক’রে লোকটা গড়ে সাতমহলা নীড়
সর্বস্বান্ত লোকটা তবু কালের মহাবীর।
লোকে বলে একার ঘোরে করলোনা সে বিয়ে
বুকের খাঁচায় ঘর বেঁধেছে পঙ্ক্তিরই বনটিয়ে।

মানিক

আমি তো ঠিক চাইনি কিছু তবু কেনো হলাম অপরাধী?
মেরেও জেতো কেঁদেও জেতো তুমি আমার নিদারুন বিবাদী!
বিষ গিলে হজম করেছি ভুলছি তোমার অস্ত্র চোখের জল
ফুলের কাঁটার দ্বৈরথ তাপ শুকিয়ে দিছে দুঃখ হ্রদের তল।
চোখ বাদলের ঝর্ণা নেমে ভাসিয়ে দিলে দুখপ্লাবীমন
অনেক হারের পরে জেতা তোমার প্রেমের সুরেলা কীর্তন।
স্বর্ণ ধিখর ছোঁয়ার রীতি মেলে নাতো অন্য কারো সাথে
দুঃখ পেয়ে ছুঁউ তোমাকে সমসত্ত্ব বেদনার উত্পাতে।
অভিমানের উত্গীরণে নীরব হলে নস্টালজিক উল্লাস
কাতর মোড়া পাথর ঘষে আলোক সজ্জা ছড়ায় খুব উচ্ছ্বাস।
বজ্রঝিলিক ম্লান করে দেয় সর্বগ্রাসী তোমার হাসির ছটা
তীঁরভেদা এক হৃদয় পাখির ক্ষরণ খোলে রোদন কলার জটা।
অমরত্বের স্বপ্নে বিভোর কবির কলম তোমায় ছোঁয়ার সুখে
কাব্য কলার মানিক গড়ে মন পেতে চায় অন্তঃশীলা দুখে।

Poet Fariduzzaman

সুমতির জন্য প্রার্থনা

মানবাত্মা কোথায় থাকে?
রূহের ঝরকায়? ক্ষমতা ভবনে নাকি জাতীয় পতাকায়?
জনতায় হৃদয়ে নাকি স্বর্গের উদরে?
মানব সম্পর্কের বুনটে ফাটল!
মুখোশে মানুষ ছাড়ে নলচে ওখোল।
ধর্মের বেসাতি বদগুণ মানবতাহয়ে যায় খুন।
উড়ে যায় প্রেম সংহতিআত্মীয়তা
আস্থার হীরামন পাখির কথকতা।
প্রাণ ভোমরার দেহে কতো ক্ষতএঁকে চলে পাপ?
অভয়নগরের ধ্বস্ত মন্দিরকাঁদে ভষ্ম চুপচাপ!
ধ্বংস স্তূপের নিচে রামুরবিগ্রহ পোড়া রসনার প্রতিমা
পঙ্কিলতা ছাড়ায় আজ শেষপরিসীমা।
কাঁটা ঘায়ে কে ছিটায় নুন?
সরবমতী এক্সপ্রেসের আগুন।
সংখ্যালঘুর ঘর পোড়া ছাই
নিন্ততর ক্ষতে ডুবে যাই।
সকল হৃদয়ে হৃদয়ে লিখি এসকলশোক
পৃথিবীর সব প্রাণী হোক সুখীহোক।
প্রাণ ভোমরা আজ ধ্বস্তডানায়
রক্তের স্রোত বয় কানায়কানায়।
পুড়ে যায় শান্তির রোম
আধুনিক নিরো লোফেধর্মান্ধের ওম।
গান্ধীর সুর শুধু চাই পরমসত্য সেই চেতনাই-
’ঈশ্বর আল্লাহ তেরে নাম সবকো সুমতি দে বুদ্ধ ভগবান’।

খাঁচা

বউদিমনির আঁচলে যে চাবির গোছা
তার ইতিহাস লিখে খেলাম বহুত খোঁচা।
চাতুরী আর কুটচালেতে ষোলকলা
সুখ্যাতিস্তূতি তুফান ছলাকলা।

সবাইকে সে ছলে বলে ঢোকায় খাঁচায়
ধড়িবাজের দড়ি ধরেই শুধুই শুধু নাচায়।
ধুরন্ধের ধন্ধে পরাণ ওষ্ঠাগত
মাইক্যা চিপায় ফেলে কাঁদায় শত শত।

ঘরসটি বেগমের কর্ম ঘাটে ঘাটে
কূটনা বুড়ির সাজন কোজন পরিপাটে!
মক্ষ্মীরাণীর বেশে তিনি সবার সেরা
কাউকে করে খোঁজা এবং কাউকে ভেড়া।

এমন করে রাজ্য চালান বউদি মনি
আজব সুখে দেশটা আমার সোনার খনি!
এখাঁচাটা ভাঙবো আমি কেমন করে
সবাই যদি বউদি মনির চামচাবনে।

Poet Fariduzzaman

নির্মলেন্দুরগুণ

কবিতা দেহেরভাঁজে লুকিয়ে থাকে কুহক রমনী।
তুমি তার কীগন্ধ পাও? ছাতিম ফুটলে যে ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ে সারাটা তল্লাটে?
দাগা দিয়ে চলে যাওয়াপ্রেমাংসুও নাকি হোমিওপ্যাথ শিশিতে করে সুঘ্রাণ
সাজিয়ে রাখে কবিতা শরীরে। তুমিতাকে বিষ জ্ঞাণে করুণার দৃষ্টি মেলো না।
মায়া হরিণের চোখকবিতায় আঁকবো বলে একদিন সুন্দর বনে বাঘের কবলে পড়ে বিপন্নতার ছবি হয়েছিলাম।
বিপন্নমাঠ জুড়ে কাব্য বৃষ্টি হলে দু:খ-তাপ শুষে নেয় জল।
ইন্দুরগুণধর পুত্র নাকি সে জলেই থাকে নির্মল।
জলের জোয়ার জুড়েতেজকিংবা মরা কাটালে নিরালায় খেলে যায় চাঁদ।
তারই ঢেউ লাগেনাকি রমনী শরীরে।
তাই নির্মলেন্দুর গুণে তোমাকেই করে তুলি কুহককবিতা।

বেদনা কলস

হিম হিম রাত একা একা থাকি ঘুম ভেঙে যায় তাপে
জানালায় জাগে মিটিমিটি তারা জোনাকির আলো কাঁপে
তেঁতুলের ডালে বাদুড়েরা ডানা ঝাপটানোর সুর তোলে
দুঃস্বপ্নের ভেতর মোমের অপ্সরী যায় গলে।
কেনো ছেড়ে গেল? কোন্ অভিমান?অবহেলা প্রেম কথা
আমিও করেচি তুমুল তর্ক ঘৃণারোষ কথকতা।
আলাদিন এসে চেরাগ জ্বালায়ভাঙা প্রেম লাগে জোড়া
ময়ূরনৃত্য পজাপতি নম বুকেতেবসায় ছোড়া
মত্ষ্য কন্যা হয়ে যায় বালা রূপ নগরের যাদু
ঘুমের ভেতর নাম ধরে ডাকিমাধবীকে মাধু মাধু
ডলফিন হয়ে জলকেলি করে ডেকেবলে আয় আয়
ব্যর্থ প্রেমিক না বাঁধাঘরের চাবি বুঝি খুঁজে পায়।
ঘুম ভাংতেই হীরামন যেনোধ্বস্ত ডানায় থামে
জীবনের সব না বলা বেদনাকবির কলমে নামে।

কলাবতী

রহস্য মেয়ে বর্ণিল সুতা সংগ্রহে আসেবিপণী বিতানে
রূমালে তুলেই প্রেমিকের মুখ নির্জনে রাখেআপন সিথানে।
খুশি-লজ্জার মাঝামাঝি আভা ফুটে ওঠে তারআধোরাঙা মুখে
অন্তরজুড়ে প্রেমের বৃষ্টি ঝরে ঝরঝরস্নাতক অসুখে।
কেউ বলে তাকে নিশি পাওয়া মেয়ে তাবিজ করায়হায়া-লাজহীনা
এদিকে পৃথিবী ওদিকে প্রেয়সী কবি বাচেঁ নাতো উর্বশী বিনা!
মরার কোকিল ঘুম ভেঙে দিলে কবি-প্রেয়সীর নিশি জাগরণ
কতো কথা মরে প্রেমের জন্ম টেলিপ্যাথি জানে কতো অনশন।
কতো রঙতুলি কতো ফাঁকাবুলি রঙিন ফানুস উড়ছে আকাশে
কতো ভুল বোঝা কতো অভিমান হৃদয় ক্ষরণে কবিতা আসে।
প্রেমদেবী আর কাব্য দেবীর বর না পেয়েই পথের কাঁটায়
রক্ত ঝরলে বুকের ভেতর মুক্তো জন্মে ঘাটা আঘাটায়!
রহস্য মেয়ে কিছু না করেই গোপনে ছড়ায় কবিতার জ্যোতি
কবির কলম রূপ রসে লিখে হৃদয়গ্রাহীকে করে কলাবতী।

Poet Fariduzzaman

পঙক্তির সুখ

মৃদঙ্গ বাজে নেচে গেয়ে উঠি সৃষ্টি মধুর তানে দুইজন
প্রাণভরপুর আনন্দধ্বনি বাঙ্ময় হয় অভিষেখ ক্ষণ।
চিত্রকল্প উপমা রূপক প্রতিব্যাকরণ ভাঙ্গে ছন্দ
বসন্ত বধূ নূপুর বাজায় ঘুচে যায় সব দ্বিধা ও দ্বন্দ্ব।
জলসা ঝালরে আবিষ্ট মন রঙধনু রঙে ঊর্বশী নাচে
কিশলয় সাজে তরু পল্লবেপঙক্তির সুখে কবিপ্রাণ বাঁচে।

প্রেম খুন

স্বপ্ন উঠোনে সৌধ বুননে পুরুষ প্রণয়ে আস্থা না রয়
উচাটন মন নটরাজ ধন ডুবে মনোহর করে অভিনয়।
চাতুর্য ছলে আশ্রয় খোলে হৃদরাঙা পরকিয়া অধিবাস
বিকৃত সুখ বেসাতি অসুখ লোফে জাগতিক র্কট অভিলাষ।
তুমি কেনো মেয়ে মৌন প্রণয়ে আগুন দহনে রূপে আনো নুন?
ক্ষোভের অনলে ভাসো নোনা জলে বিবেক অনলে প্রেম করে খুন।

কলা ও ফলা

নিমগ্ন প্রেমে কখনো বা যদি অমিত সুখের নীড় হয় নারি
বিশুদ্ধ এক আশ্রয় খুজিঁ যাদুকরী চোখে বর্ণ বাহারী।
বুকে ঝড় তুলে বন্দরে ভেড়ে ভালোলাগা ঘোর সুখ সাম্পান
মুগ্ধ আবেগ ঘুরে ফিরে আসে মোহন কলায় বোধ টানটান।
ডুবে যেতে যেতে ভেসে উঠি ফের উচাটন মন রূপের আগুনে
সঞ্জীবনের কৃষ্ণ ফলায় শিল্পমুগ্ধ উতলা ফাগুনে।

ফাগুন অরণ্যনী

ফাগুনে খুব উতলা মন কোকিল ডাকে বনে
পলাশ শিমুল পিয়াল ছোঁয়া অলির গুঞ্জরণে।
পিয়া পিয়া রক্তমুখে ডেকে যাচ্ছে পাখি
রাখালিয়া বাঁশির যাদু নিরাবেগের ফাঁকি।
নয়ন কাঁড়া শ্রীশ্রী প্রজাপতি নম:
নেশা লাগায় নেশা জাগায় ডোবা ভাসার সম।
কাঁপন ধরায় ভাষা জড়ায় বুকটা থরথর
ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে রাজা প্রেম করেছে বড়।

সোনার মুকুট নাইবা থাকুক পাতার মুকুট আছে
মণি কাঞ্চন পরাস্ত হয় প্রেমের ধূলির কাছে।
শ্বেতপাথরের তাজমহলটা প্রেম ছাড়া হয় বৃথা
প্রেমে গড়া ধূলির মহল হয়েছে আদৃতা।
প্রেমের ঘানি টানতে যে সুখ বুঝবে না সে রাণী
তাই কি প্রেমিক চাইছে শুধু ফাগুন অরণ্যনী?

Poet Fariduzzaman

কবিতা প্রহর

হলুদ নেমেছে মাঠে গুঁজিতিল রাই সরিষার।
আমার কৈশোর হাঁটে দিগন্ত অবধি খেসারির নীল ফুল মোহে।
ফিঙে আর নাটা পাখি বোমারু বিমানযেন ডিগবাজি দিয়ে শুধু ওড়ে।
সুন্দরধরব বলে আমি এক গোত্তা খাওয়া ঘুড়ি।
সীমের আকশি লতা স্প্রিংয়ের মত জড়ায় অবলম্বন।
গাইয়ের অবোধ বাছুর ছুটছে ঊর্দ্ধশ্বাসে পায় যদি মুক্ত জীবন।
নাকি কোনো দুষ্টছেলে তালের শুকনো পাতা বেঁধে দিছে লেজে।
বিলের অনতি জলে শিকারি পেতেছে বুঝি বক ধরা ফাঁদ।
বগা কি পড়েছে ফাঁদে আমার মতন।
শীতের পাখিরা এসে ক্ষণিকআবাসে বসে শিমুলের ডালে।
কেনো তারা ফিরে ফিরে আসে?
তারা কি আমার মত নাভীমূলে আঁকা
ছিন্নেরবেদনা দাগে খুঁজিতেছে রোদনের সুখ?
রাখালবালক মাঠে নাড়ার আগুনে পোড়া মটরের দানা খায় পরম আস্বাদে।
শিমুলের ঝরা ফুলে মালা গেঁথে উদাসী কিশোরী
এক যাপন করেছে তার ক্ষেপণের কাল।
আমার ক্ষেপণকালহয়না যাপন সুখেকবিতা প্রহর।
পঙক্তিধরার জাল পেতে রাত জাগি তবু হয় নাতো ভোর।

Poet Fariduzzaman

অনন্ত সানাই

পাহাড়ের পাশ ঘেঁসে রাজ্যির পাথুরে মিছিল
এমনই শীতের নদী জলশূন্য আলো ঝিলমিল।
শৈলের শহর ঘিরে বাড়ি-ঘরে স্বর্ণগলা আলো থরেথর
সেইপথ এঁকেবেঁকে চলে গেছে পাহাড় শিখর।
টিলার উপরে বাংলো-রূপকথা অস্থায়ী ডেরা
সহসাই টের পাই বিষণ্নতা দূর করে চোখ ভরে কেহ
উত্তরের গিরি থেকে হিমেল বাতাস এসে জুড়ালো এ দেহ।

কী এক সন্ন্যাস টান নীলিমার-সবুজমিলে রঙের মিনার?
অন্ত:স্রোতে বহমান আমার মনের রঙ হারালো কিনার!
রাশি রাশি ঝুম আলো ঢেকে আছে গিরিখাদ বাঁকা
মূল সড়কের পথে গতির প্রতিভূ হয়ে চলিতেছে অশোকের চাকা।
শৈলের নিবাস যেন আমাকে ডেকে বলে এতোদিন কেন আসো নাই?
বুকের মোচড় ভোলে হৃদয় ক্ষরণ ঝাড়ে সেই দীলা রাঁই!
আমি বলি ওগো মেয়ে এতোদিনে তাও বোঝো নাই?
কলমি লতার মতো তোমার গহনে আছি অনন্ত সানাই।

অনীতার স্মৃতি

আমাদের গাঁয়ের সবাই কি ভুলে গেছে অনীতার কথা?
মনে পড়েএকদিন সাপের খোলস ভরা শটি বনে পলাশের ফুল পড়েছিল।
মহুয়ামাতাল পাখি মধু খেয়েফেলেছিল তলে।
পলাশফুলের মালাগাঁথার নেশায় অনীতা কি শটিবনে পেয়েছিল ফুল?
কী খেয়ায়ে অকষ্ম্যাত্ সাপের খোলসখানামালার আদলে জড়ালো গলায়!
মনে এলো মালাবদলের শিহরণ ভুল! তোলপাড়ে বাঁধে হুলস্থুল?..
সবই মিছেমিছি মনে। ভয়ঙ্কর সুন্দরের পূজা।
অতলস্পর্শী ভাবাবেগ পেয়েছিল প্রশ্রয়জমিন।
চুলের বেণীতে সাপ জড়ানোর আশা নিয়ে বুকে সাপুড়েকে ডেকে ছিল কাছে।
সাপের ফণায়বসা কানাকুয়া আক্রোশে দস্যিরাণী যেন।
এসব অতীত স্মৃতি মনে হলে চোখে বন্যা বয়।
আজসেতো এক শান্ত সৌম্য গ্রাম্যবধূ দূর কোন গাঁয়ে।
আমার মনের বনে আজও দস্যিমেয়েখুনসুটি জমিয়ে চলে বিষাদকে ছেয়ে।
শুধু মনে অনীতার স্মৃতিরা রঙিন। কবিতায় ফুটে ওঠেঋণ।

চিরন্তন পথিক

নবাবী আমল বুকে ধরে বুড়ি গঙ্গাতীর
সুবে বাংলার রাজধানী ছিল এই জমিন।
বাংলা বিহার উড়িষ্যা নিয়ে হলে নবাব
মুর্শিদাবাদে রাজধানী হল স্থানান্তর।
সেই থেকে ঢাকা দুয়োরাণী ছিল অনেককাল
সোয়া দু’শ সাল গোলামীর সেই হৃত গরব।
স্বাধীনতা পেতে সিপাহীর গড়া বিদ্রোহের
ইতিহাস বলে প্রথম স্বাধীন সংগ্রামের।
উত্তরসূরী শোধ করে চলে রক্ত ঋণ
ঈসা খাঁ’র থেকে বঙ্গবন্ধু নূরহোসেন।
বীরত্বগাথা রচনা করিয়ে দেশমাতার
পরম্পরায় বঙ্গভঙ্গ নতুনদেশ।

উজ্জীবনের পংক্তি রচেছে কয়েকজন
অপরাজয়ের স্রোত বয়ে চলে চিরঞ্জীব।
মনের কোঠায় আসন গেঁড়েছে অবলীলায়
পুরানো ঢাকার মাহুতটুলীতে জন্ম যার।
পূর্ববাংলা স্বাধীন করতে যার কলম
বোধের ভেতর স্বাধীনতা বীজ করে রোপণ।
প্রতিরোধে আর প্রতিশোধে যার অটল মন
অমর কাব্যে গড়েছেন তিনি দেশমনন।
যার ভযে সদা তটস্থ থাকে ধুরন্ধর
দেশমাতৃকা কল্যাণে তিনি নিরন্তর।
কাব্য সাধনে নিয়োজিত থেকে মৃত্যুপণ
অমরবাণীতে পরিমার্জিত বাঙালি মন।

প্রত্যয় ছিল হটাতে সকল নিষ্পেষণ
ঢাকান্দিক মূল কাব্যের প্রবর্তক।
জঙ্গী ত্রাষণ যার রচনায় কম্পমান
প্রিয় শামসুর রাহমান তিনি কবি প্রধান।
স্বাধীনতারোধী দূর্গে ঘটালো তুলকালাম
রিজীবি কবি জানাই তোমায় লাল সালাম।
তোমার প্রয়াণে শোককে করছি শক্তিরূপ
তোমার পথের পথিক আমরা চিরন্তন।

বিচ্ছেদ পুরাণ

বাদুড়চোষাকাঠবাদাম পড়ে আছে পথ-বৃক্ষতলে।
সিঁদলেপড়া সিঁড়ি নেমেগেছে ক্ষীণতোয়া জলে।
শালপিয়ালের ফাঁকে সোনারোদ গুঁড়ো। মন মুবাকাবা ছোঁয় অসীমের চূড়ো।
মনে পড়ে- রোদরেণু..খুনসুটি বিষম টক্কর।
সেই থেকে শুরু হয় জীবন চক্কর।
বিনয়ের ফিরে এসো চাকা উপাখ্যান।
অশোক চাকার রেলে পেতে আছে কান।
আমাদের নিয়ে চলে বোধের আলোক। কারো জন্য নেই কোনোস্তবক ও শোক।
কুমার মড়ার নদ ক্ষতচিহ্ন একেঁ দেয় মনে।
কবিতারা মৃদুপায়ে আসেনির্জনে। বার্লিন প্রাচীর ভাঙে তবু ভাঙে নাকো কাচেঁর দেয়াল।
নগর যন্ত্রণা তারেবেজে ওঠে বিষম খেয়াল।
যা করার করে শুধু নভোথিয়েটার।
সম্রাট সন্যাসী কতো কবি কোনছাড়!
নীহারিকা পুঞ্জে বাজে মাউথ অর্গান।
মহাবিশ্বে বাজে শুধু বিচ্ছেদ পুরাণ।

Poet Fariduzzaman

স্বাধীনতারবীজমন্ত্র

দু:সময়েরনরক অনলে আমরা চলেছি হেঁটে
রক্তমজ্জাখাচ্ছে দানব মানবের খুলি চেটে।
সাম্যেরবাণী নিভৃতে কাঁদে দুর্বৃত্তের হাতে
বঞ্চনানীতি স্বাধীনতাফল ডুবায় ধূলিস্যাতে।
আমজনতার প্রাণ কেঁড়ে নেয় নরপিসাচের দল
তাতেযদি জোটেমাফিয়া মাদুর হেসে হয় খলখল।

ইতিহাসজুড়ে খলনায়কের আস্তাকুঁড়েতে ঠাঁই
তবুওদম্ভ আস্ফালনের চাবুকের সাঁইসাঁই।
অতলগর্তে নরকের কীট তর্জনে গর্জনে
জনগণমনবিষিয়ে দিয়েছে বিভীষণ দুর্জনে।
বিষধরসাপ সরিয়ে নিয়েছে পায়ের তলার মাটি
সুখেরঠিকানা শান্তি ফেরারি সোনার পাথর বাটি।
খাণ্ডবদাহেআমার স্বদেশে জঙ্গী গেঁড়েছে ঘাটি
স্বাধীনতাবীজ মন্ত্রে টুটাবো সকল বদের আঁটি।

(১)

অমিত স্বরগ্রাম

তোমার পদ্মপুকুরে কেনো স্বর্ণঈগল এসে শিকার করে নিয়ে যায় রূপালি মত্ষ্যকন্যা?
বাগানঘেরা দীঘির টলমল জলের তলে শিকারির চঞ্চু ও নখরে কী ভীষণ রক্তাক্ত হও তুমি!
ও মীন রাশির জাতিকা, তোমার বোবাকান্নার প্রস্রবন নামে আমার ঝর্ণা কলমে।
ও মনোলীন স্বরলিপির স্বর্ণ আকর, মত্ষ্যকন্যার বুকে কোন্ প্রাণ ভোমরা লুকিয়ে রেখেছো তুমি?
কোন্ জাতিস্মর যৌবনে স্বর্ণঈগলের সাথে তুমি বিনাশী সঙ্গমে মত্ত হয়েছিলে-
যে সে বারে বারে রক্তাক্ত করবে তোমায়?
কোন্ যাদুমন্ত্র বলে জলজ জীবনে তুমি উদ্বর্তনের তেজ চারিয়ে দিয়ে
নিজকে লুকিয়ে রেখেছিলে অথৈ জলে?
স্বর্ণঈগলের চির প্রতিদ্বন্দ্বী আমি অতন্ত্র প্রহরী হয়ে পাহারা দিচ্ছি উপদ্রুত উপকূল তোমার।
কমান্ডোর মারণাস্ত্র নয়,
প্রণয়ের জারকরসে আমিই দ্রবীভূত করে দেবো ঈগলের চঞ্চু ও নখর।
আর তোমাতেই ঢেউ তুলবে কাব্যস্বরলিপির অমিত স্বরগ্রাম।

(২)

আবিরাম বিচ্ছূরণ

শ্যাওলার সাথে ঘাটলার নাড়ির টান জেনে তোমার সাতমহলা নীড়ের পদ্মপুকুরে আমি বদ্ধমাতাল হয়ে গেছি।
তোমার ঘাটলায় রাজ্যির শ্যাওলা জন্মালো বলে আমার ভাগ্যে জুটলো-শুধুই আছাড়।
ছাড় জুটলো না কোনও। ব্যথা-জরা-কান্তিতে নূব্জ হয়ে আছি।
দীঘির জলে ফোটা রক্ত পদ্মে ওলির গুঞ্জরণ..
আর পদ্য লেখা হয় না। ভীরু মনের কলি আর ফোটে না। পদ্যও না।
তোমার দীঘির জলে পরিযায়ীর কলস্বরে আমার আর শব্দ শিকার হয় না।
দীঘিরপাড়ে বাহারী ব্যঞ্জনের আস্বাদন..
ঘৃতমধু-ষষ্টিমধুর বনে রসিক ভোমর। ও পিয়াল মাঁদারের মৌ..
অমৃত সুধা সিঞ্চনের রমণী, তুমি করুণার দৃষ্টি মেললেই আমি ভষ্ম হয়ে যাবো।
তুমি আর উচ্চারণ করোনা- ভষ্মাচ্ছাতি বহ্নিতে পুণ্যি মেলে।
দেখো চারিদিক ধন্যি ধন্যি পড়ে গেছে। আমি শিশিরের জল কুঁড়িয়ে মুক্তোদানার মুগ্ধতা বুনছি।
অলীক উলের কাঁটায় নত্রের কারুকার্যে তুমি প্রণয় চাদরে স্বরলিপি তোলো।
দেখো ওই স্বরলিপি থেকে অবিরাম বিচ্ছূরিত হচ্ছে অমিত আলোর কবিতা।

Poet Fariduzzaman

ঝুলে আছি বিধির রজ্জুতে

“জন্মভিটায় বাতিজ্বালাতে বংশধর প্রয়োজন” একথা মেনেই হয়ত
ঈশ্বর দশটিছেলে দিয়েছিল হারাধন মিত্রকে। জন্মভিটিতে বাতি
জ্বালাতে হারাধন মিত্রের দশটি ছেলের আজ আর কেউ অবশিষ্ট নেই।
পশ্চিমে চলে গেছে সব। “হারাধনের দশটিছেলে …”
বিয়োগেন নামতা পড়ে আজও মন ভারী হয়। নয় নম্বর ও দশ
নম্বর বিপদ সংকেতের মতবিদ্যুৎ ও প্রদীপেরস্মৃতি আজও মন
ভারাক্রান্ত করে। শুনেছি- জমজের জন্মরাতে বজ্র-বিদ্যুতের
ফিতায়আকাশের খোপা ঝলমলিয়ে উঠেছিল। সে দিন বিধাতাযেন
যুগল প্রদীপ জ্বেলেছিল ঘের। রেড়ের তেলেরপ্রদীপ নিভে যাচ্ছিল
বারবার। তাই উতলা হারাধনজমজ ছেলেদ্বয়ের নাম রেখেছিল
বিদ্যুৎ মিত্র আর প্রদীপ মিত্র। এদের জেষ্ঠভ্রাতৃ অষকের কথা
মরন নেই। তবে বিদ্যুৎ আর প্রদীপ আমার কৈশোরের বন্ধু। ওদের
ঘিরেই আমার শৈশব-কৈশোরের নস্ট্রালজিকস্মৃতি। কী যে হরিহর
আত্মা রূপে আমাদের বেড়ে ওঠা। তারাপর ভায়োলিনে বিচ্ছেদিয়া সুর।
মিত্র ভ্রাতৃদ্বয় শত্রু সম্পত্তি আইনেপ্রদীপের শিখা আর
বিদ্যুতের আলো হয়েও রাষ্ট্রের শত্রু বনে গেল! আমাদের হাত
পাবাঁধা শুধু রাষ্ট্রিক ঝড়ে মন ভেঙে খানখান। তারপর পাকিস্তানী
-ভারতীয়-বাঙালি-বাংলাদেশী কতো শত কুটিল বিভাজন।
শত্রু-মিত্র-অর্জিত-দেবোত্তরযত্তো সব জটিল গ্রন্থি।
সেই থেকে ঝুলেআছি বিধির রজ্জুতে।

ঝর্ণা কলমের রক্তিম শপথ

দুর্বৃত্তের জিহ্বা থেকে আরকতো লালা ঝরবে? ওই লালাইতো জীবন
বিনাশী। ওই লালাইতো দিনে দিনে চক্রবৃদ্ধি হারে নিরন্ন বাড়ায়।
অভুক্তের গায়ে বাড়ায় তবু বাড়িয়ে চলে-বাতাসে শ্রম
জবজবেঘামের গন্ধ। শিল্পসুষমা ক্ষুণ্ন হলে হবে, আমরা
মানুষের ঘামে নির্মিত প্রাসাদথেকে উপড়ে ফেলব শোষনের
মূলমন্ত্র। কল্পতরু হাবুডুবু থেকে উদ্ধার করব নন্দন।
আশার আবর্তে স্বপ্নভঙ্গের ছবি থেকেমুক্ত করে দেব সহজ মানুষ।
জনতার টকটকে লাল পতাকায় সূর্যসন্তানের শোণিত জমে জমে স্তূপ।
সাইরেন থেকে উপরে ফেলব কান্নার সুর।
স্বাধীনতার মূল্যবোধে বইয়ে দেব সাম্যের অমিয় স্রোত।
পতাকারভাঁজে লুকিয়ে থাকা ক্লেদ দূরে ঠেলেশুধু জীবনকে ভালবাসতে শেখাব।
সাপের মুখগহ্বরে পৃষ্ট ইঁদুরের মনেও বাঁচার তৃষ্ণা জাগিয়েতুলব।
প্রকৃতিপ্রেমে রোমান্টিক হয়ে নিসর্গের বুকে বাঁধব অরণ্যআবাস।
সহজিয়াকেভালবাসব সহজ মানুষ হয়ে।
আর্তেরকান্না ঝর্ণা কলমে ফুটিয়ে তুলব।
জাগবার ছন্দে গণমানুষের বীর গাঁথা গেয়েসকলের ধর্ম করব মানব ধর্ম। বন্ধু এসো

মহাগগনতলেরঅসীম মুক্তির পতাকাতলে গেয়ে উঠি –
সবার উপরে মানুষ সত্য তার উপরে নাই।
আমরা বুঝিয়ে দেব সত্যযুগে সর্বাধিক বিকশিত দাসপ্রথার
প্রথম উন্মেষ থেকেই শোষক ও শোষিতেরশুরু।
পরিণামে আদি সাম্যবাদী সমাজ ভেঙে সেখানে শ্রেণীবিভক্তসমাজের উদ্ভব।
শ্রেণীবিভক্ত সমাজ রক্ষার প্রয়োজনেরাষ্ট্রযন্ত্রের সৃষ্টি। আমরা জানিয়েদেব –
প্রাচীন যুগে রাষ্ট্র ছিলক্রীতদাসদমনের জন্য দাসমালিকদের রাষ্ট্র।
সামন্ততন্ত্রী রাষ্ট্র ছিল ভূমিদাস ও পরাশ্রিত কৃষকদের বশে
রাখার জন্যেঅভিজাতদের সংস্থা।
আর আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক রাষ্ট্র শ্রমের উপর
পুঁজির শোষণছাড়া ভিন্ন কিছু নয়।

Poet Fariduzzaman

You Might Also Like

No Comments

Please Let us know What you think!?

Translate »
%d bloggers like this: