বিদ্যুৎ ভৌমিক

জুন ২, ২০২০
poet Bidyut Bhowmick

poet Bidyut Bhowmick (বিদ্যুৎ ভৌমিক) এর পরিচিতিঃ

poet Bidyut Bhowmick
Bidyut-Bhowmick

Rating: 4 out of 5.

এই সময়ের দুই বাংলার জনপ্রিয় কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক । জন্ম ১৯৬৪ সন, ১৬ – ই জুন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে হুগলি জেলা তারই একটি ঐতিহাসিক শহর শ্রীরামপুরে ।পিতা ঈঁশ্বর পীযূষ কান্তি ভৌমিক । মাতা শ্রীমতি ছায়ারানী ভৌমিক । একমাত্র কবিতাকেই উপজীব্য করে ভারত ও বাংলাদেশের পাঠকবন্ধুদের কাছে তিনি আদর ও সন্মান পেয়ে চলেছেন । প্রায় ৩০ – ৩৫ বছর ধরে নিয়মিত ভাবে প্রথম শ্রেণীর বেশির ভাগ পত্র পত্রিকায় লিখে চলেছেন -কবিতা । কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক প্রসঙ্গ বলতে গিয়ে প্রখ্যাত কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় বলেছেন, — এ সময়কার তরুণ কবিদের মধ্যে কবি বিদ্যুৎ ভৌমিকের কবিতা পড়লে মনের গঠনমূলক সৃজনশীল ভাবনা চোখের সামনে এসে ধরা পরে “

poet Bidyut Bhowmick প্রায় দশ হাজারের অধিক কবিতা লিখেছেন এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ সমূহ হলোঃ

কাব্য গ্রন্থ্যের নামপ্রকাশনীর নাম
কথা না রাখার কথাআনন্দময়ী প্রকাশনী
গাছবৃষ্টি চোখের পাতা ভিজিয়ে ছিলোআনন্দময়ী
নির্বাচিত কবিতাপত্রাবলী প্রকাশনী
নীল কলম ও একান্নটা চুমুই-বুক কাব্যগ্রন্থ – প্রকাশন বাংলাদেশের (ছোটকবিতা. কম)
কবিতা সমগ্রপত্রাবলী প্রকাশনী
কবিকণ্ঠে কবিতা শীর্ষক একক অডিও এ্যালবামরেডিও করতোয়া বগুড়া থেকে প্রকাশিত

২০১৬ সালে কলকাতার দূরদর্শন টিভিতে কবি বিদ্যুৎ ভৌমিকের সাক্ষাৎকার ও কবিতা আবৃত্তি।

কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক -এর পুরস্কার ও সম্মাননা

পুরস্কার ও সম্মাননাসংস্থার নামপ্রাপ্তির সাল
WORLD MEDAL OF FREEDOMAmerican Biographical Institute (USA)২০০৬
MAN OF THE YEARAmerican Biographical Institute (USA)২০০০
শ্রেষ্ঠ কবির সন্মান ও পুরস্কারonline Mag ChhotoKabita.Com (বাংলাদেশ)২০১৬
কবিতার শ্রেষ্ঠত্বের জন্য স্বাধীনতা সংগ্রামী ঈশ্বর শিশির গাঙ্গুলী স্মৃতি পুরস্কার ও সম্বর্ধনা——২০১৩
বাংলা শ্রী পুরস্কার ও সম্মাননাসংবাদ এখন পত্রিকা২০১৫
বিশেষ সম্বর্ধনাRADIO KARATOA (বগুড়া)
সশ্রদ্ধ সংবর্ধনাসমতা পরিষদ২০১৪
সদ্-ভাবনা -পুরস্কারপশ্চিমবঙ্গ বাংলা
আকাদেমি ( কলকাতা )
২০০৯
প্রিমিয়াম সদস্য সন্মাননালিটল ম্যাগাজিন kobitayjagoron.com২০২০
সেবা উৎসব উপলক্ষে সম্বর্ধনাদক্ষিণ কলকাতা ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক পরিষদ১৯৯৭

কবিতা পাঠ ও পরিবেশনঃ

কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক বিভিন্ন প্রোফেশন্যাল মঞ্চে কবিতা পাঠ ও আবৃত্তি করে থাকেন এ ছাড়াও তিনি কলকাতা দূরদর্শন সহ বেশ কিছু বেসরকারি টিভি চ্যানেলের আমন্ত্রণে নিয়মিত ভাবে কবিতা পাঠ এবং কবিতানির্ভর সাক্ষাৎকার দিয়ে চলেছেন পাশাপাশি Rdio JU 90.8 FM এর অনুষ্ঠান পরিচালনা এবং নিয়মিত ভাবে কবিতা পাঠ ও সাক্ষাৎকারে অংশ গ্রহণ করে থাকেন। এছাড়াও on line RADIO KARATOA এর সাথে তিনি যুক্ত আছেন ।

কবির সাক্ষাত পেতে যোগাযোগঃ
ছায়ানীড় বিদ্যুৎ ভৌমিক ৬৫/১৭, ফিরিঙ্গী ডাঙা লেন ,মল্লিকপাড়া , সূচক ৭১২২০৩ শ্রীরামপুর , হুগলী , পশ্চিমবঙ্গ , ভারতবর্ষ ।

poet Bidyut Bhowmick

কবির লেখা কবিতা সমুহঃ

বিপরীত ও আরেকটা মেরুকরণ

প্রকাশকালঃ ০৫.০৭.২০২০

চলে যাবার ইচ্ছা
হ’লে কথা স্তব্ধ হয় অবেলার সব কিছু ***
এভাবে পিছিয়ে এলে মাটির কথা মরম ক্ষত হয়
একটানা অন্ততঃ স্বপ্নে অহর্নিশ !
যা কিছু আবেগ নিয়ে একটা পৃথিবীর তফাৎ চেওনা, —
এই-তো নিয়মের বিপরীত মেরু
নির্ঘুম রোমাঞ্চ না-হোক , তবুও কথাহীন ঠোঁটে
নীরব মন্ত্রে দীক্ষিত কর চুম্বন !
এসো ফিরে এসে দেখ জীবন-টা কী ভাবে আছে
সত্য যে হয় , চোখ তার সহজ কথা বলে
এই রেখাগুলো থেকে কবেকার অদ্ভুত প্রেত ধর্ম ভ্রষ্ট
হবার ইশারা করে গেছে সেই একাধিক জন্মের পরে !
সেজন্যই-তো মৃত্যুর প্রভূত কারণ গুলো ভাগ হয়-নি
একগুচ্ছ দুঃখের ভেতর **** এবার আর একবার
নিজের মত করে মৃত্যু নিয়ে বাঁচার ইচ্ছা আছে ;
বলে রাখলাম তোমায় প্রিয়তমা !

বৃষ্টিপাতের মধ্যে কাঙাল শ্রদ্ধা

ফুল না ফোটাতে যদি ঝড় ওঠে
ভালোবাসা ভুল হয়ে যায় বারে~বারে ! মন থেকে
সমস্ত মন উদাস হয়ে এলে আমি তখন ক্লাস নেব
কজন মৃত মানুষের * এবার আমিও স্বপ্ন দেখার
কথা ভুলে তোমার পায়ের কাছে আশ্রয় নেব কয়েক
জনম !
তুমি-তো সত্য নও , তবে কেন সব সত্যি আড়ালে
লুকিয়েছো ? প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি কতবার প্রণাম ,
আলোগুলো জ্বেলেছি কত-শত বার ****
মহা প্রলয়ে সব কিছু ছিন্নভিন্ন হবার পর একবার যদি
তুমি বলতে ভালবাসি ; তাহলে কি সরে যেতাম সেই
মহাপ্রস্থানের কথা মনে করে !

বাঙময় পাখি

স্বপ্নে দু’লেছে চোখ ; সম্ভ্রমে তাল~লয়~সুর
ভ্রষ্ট স্মৃতির ঘ্রাণে সন্ধান ধূ-ধূ আহত আলম্ব গৃহকোণ !
দেবার যতটা ইচ্ছা ; হাত পেতে নিঃছিদ্র
নিশা-রাত্রিকে পৌঢ়ত্বের ফ্যাকাশে পিপাসায়
স্বরচিত উদ্ভাসে ****
অঙ্ক পথে আমার আমৃত্যু চলা , কথা বলা ! চেয়ে
নেওয়াটুকু , — প্রথম লজ্জা ভাঙা নব্য দেহের
গোলমেলে ঘুম আর ঘুমন্ত ঘুম —
চোখের অর্দ্ধেক তৃষ্ণা সাবধানী তুরুপের তাস ,
কী এক হুতাশ প্রশ্বাসে মৃত মন রাতের মুমূর্ষু আকাশ !
দিন-রাত ঘেমে ওঠা নয়নের নির্লিপ্ত কামড়
একছত্র কবিতার লুকানো বয়স !!

অতল রাঙা প্রেম

প্রকাশকালঃ ০৪.০৭.২০২০

লেখনী সময় ১৯৯৫ , ১৬ জুন আমার জন্মদিনের লগ্নে ।

কোনো কিছুর জন্য ভুলতে পারি-কী তোমায়
মনে মনে শরীর চিনি, —
বুকের মধ্যে নীল জ্যোৎস্না কবিতার মতো প্রিয় প্রতিবেশী
এই অন্তরীক্ষ যেখানে প্রতারক স্মৃতিরা রাতের জন্য চোখ বুজে
অপেক্ষায় থাকে, এদের সবাই মানুষ সেজে থাকতে চায় ****
শেষ পর্যন্ত এদের কারণে আমার নিঃসঙ্গ গোটা রাত জাগা !
কোথাও ভাসমান ভাবনায় অতিরিক্ত অবিশ্বাস মেখে থাকে
মায়াময় শোক ;
এই চেয়া-রে ঐশ্বরিক কেউ বোসে না থাকলেও কেউ একজন
মৃত্যুর মত স্থির হয়ে ঘুমিয়ে থাকে স্মৃতি বি-ছা-না-য় *****
কোনো কিছুর জন্য ছাদের কার্নিসে ছিঁড়ে ফেলে দেই-নি
তোমার অজস্র অক্ষর মালা , — অথচ এরকম অনন্ত অসুখ
অবলা-নিরীহ ছিল সতেরো বছর !

সমস্ত ব্যর্থতা অসহবাসের চেয়ে কঠিন ধারালো
তবুও স্তব্ধ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি আমার ছায়াকে সতেরো বছর
সে-ও দুঃখে ও শোকে নির্ঘুম বিনীত চেহারা নিয়ে একা একা
কাটায় প্রহর !
এই জানলা দিয়ে নষ্ট চাঁদ এসে বিছানায় ঘুরে ঘুরে দেখেছে
আমাকে ! কাঙালের দীর্ঘশ্বাস তবু নিঝুম বিষণ্ণ
সমস্ত স্বপ্নগুলো প্রবল বৃষ্টিতে ধুয়ে~ধুয়ে যাবতীয় ইচ্ছার ভেতর
একেবারে মরে পচে গেছে !
শেষ একবার নিভৃতে চলে এলে অস্তিত্ব নিজের
হৃদয়ে পদাঘাত করে
শেষ একবার সহজ সত্য প্রতিপ্রশ্ন ছুঁড়ে দেই মৃত্যুঞ্জয়ী দর্পণে ;
আমি কী মরে যাব ? আমি কী পাখি হব, ফুল-ফল
অনেক-অনেক কিছু ! তুমি কি মেনে নেবে —–

কবি~বিদ্যুৎ ভৌমিক-এর একগুচ্ছ কবিতা
উৎসর্গ -একমাত্র ‘কবিতা জাগরণ’-এর সমস্ত পাঠক বন্ধুদের

ভুতুড়ে জলায় কাহিনী ডোবাব

এবার মাটির কাছে ব’সে শোনাব অক্ষরবৃত্তের গপ্পো, –
তারপর মরুদেশে একটানা কেঁদে
হৃদয় ঢালব অদৃশ্য যন্ত্রণা —
সসের শিশিতে মুগ্ধ রক্তের তাজা রক্ত দেখে
বনকলমির ঝোপে প্রতাঘ্নে ছুঁড়ে দেব অশরীরি অভিসন্ধি!
আবহাওয়া আগেই চিনেছে আমার ছেনালী
নির্বাক রাতেও দেখে যাযাবরী প্রেত
গহ্বরে কিম্বা ভুতুড়ে জলায় কাহিনী ডোবার অনচ্ছ মুঠোয় **
মাথায় জ্বলে ওঠা চাঁদ; দেখেনি আমাকে, —
শস্যক্ষেত বোঝেনি হিংস্রতা
নিপাট আকাশ সন্দেহ ঢালেনি ঝুমুর শব্দে গোটা মনে,
নিজেকে লুকিয়ে এনেছি ভিখারী ভোজনে!
এখানে একার গভীরে যদি ওড়ে ভ্যান গখ
ভয়ের ভিতর হিমসিম আড়ষ্ট শ্মশান, —
কালপ্যাঁচা অতল যামিনী নিয়ে নিথর স্তব্ধে আমাকে দেখে
তবু ছদ্মবেশে ভাঙব জটিল হাতকড়া!
রীতিনীতি এড়াই স্তোক বাক্যে
এভাবে আবডালে বাজবে কি মৃত্যুর ঘড়ি *
পিঠের গেঞ্জি তুলে প্রেমিকার আঘাত কামড় দেখাই
একমাত্র দর্পণ মনে —
এরপর সারারাত কবরের পাশে ব’সে একান্ত চেয়ে নেই
কুসুমিত ক্ষমা !!

ধ্রুপদী কবিতা

প্রকাশকালঃ ০৩.০৭.২০২০

তোমার জন্য ঠোঁট কেঁপে কেঁপে স্থির হোলো অবশেষে
বিশ্বাস কর; জীবনানন্দ জোগাড় করে জলার গভীরে
বেলকুঁড়ি ভাসিয়েছি নিঃশব্দে — শুধু তোমার জন্য
ওটাই আমার টেমস্ নদী, যাকে নিয়ে তুমি – আমি এক
ডুবেতে, —
এরপর ওপাড় আশ্চর্য সাঁতার কাটেছি !
কথা বলতে বলতে সরস্বতী প্রতিমার স্তন এবং
তোমার বুকের ওঠা – নামা ; প্রশ্বাসের স্পন্দন গুনে চলা —
পদ্মাবতী সতী ; তুমি যেন ছোটাও আমার হাজার মাইল
সংসার তুচ্ছ করে ! সামাল – সামাল, বেতের চেয়ারে বসে
উথাল – পাথাল হই *
হঠাৎ চোখে পড়ে সাতজন্মের প্রসিদ্ধ ঘসা কাঁচের দর্পণে
বহু জন্মের আমি ! পুড়ছি নিঃসঙ্গ নিঃশব্দে,
অথচ তুমি ; পরাণে ঢাকাই শাড়ি কপালে সিদুঁর !!

হৃদয়তান্ত্রিক উচ্চারণ

আলপটকা বৃষ্টি হ’তেই চোখ ভাসে অন্তর্ভুক্ত শোকে
স্বপ্নের সার্কাসে উপরোক্ত ব্রহ্মানন্দ ছন্দ অমিত্রাক্ষরে
পশ্চাদপদ তুলে দাঁড়িয়ে দ্যাখে ; বাস্তব ডুবেছে
শিক্ষাপদ্ধতির স্বতন্ত্র চরিত্রে !
একদিন এই মাটির অমোঘ উত্তাপ ছিল উৎসাহে বিভোর
মেরুদন্ড আন্দোলন করতে জানতো
অতলের তরুণ আনন্দ উঠতো নেচে নক্ষত্রের পশ্চিম আকাশে,
অথচ এদেশের আমিরা পরিচিত আমিদের কাছে
অহর্নিশ মিথ্যা কথা বলে !
একটা ছবিকে অপ্রাসঙ্গিকভাবে বৃষ্টির গোপন ব্যথা
বোঝাতে চাওয়া অহেতুক দাদাগিরি ****
সবাই যেভাবে রঙ মেলাতে চেয়েছে অনিশ্চিত যৌবনে
যেভাবেই নগ্ন জ্যোৎস্না নিয়ে চাঁদ ঈশ্বরীর লাবণ্য দেখেছে
নিঝুম নদীর জলে ।
এদের সকলের এক সাথে নিয়েছে অবৈধ ক্যানভাস !!

সৌরকুসুম এবং দীর্ঘটানা কাজল

প্রকাশকালঃ ০২.০৭.২০২০

Bidyut-Bhowmick

অপেক্ষায় থাকে না যুবতি যৌবনে আদ্যন্ত বিচ্ছুরক হ’তে
বিশ্বাস যেন মনের অসুখ ; নিবিড়তা ছড়ায় চোখের দীর্ঘটানা
কাজলে ! বিষফল ঠোঁটে তুলে নেয় বৃষ্টি পাখি হরীতকীর
জঙ্গলে লজ্জায় আহত পুরুষ প্রজাপতি,
ও যেন সাঁওতাল ছেলে
নাতিশীতোষ্ণ স্তনের প্রাচীর নীল সন্ধ্যায় নিটোল মাংসল
আকাশ খোঁজে শুক্লা তিথিতে ! এই নদীর বিষাদনত জলে
সময় অঙ্কের জটিল অন্ধকার প্রহর — তার কাছাকাছি শব
সাধনার তামসী পিঠ , এখানে আবলুস পাতার ফিসফিস কথা
হয় ভূত – প্রেত এবং ঈশ্বরীর সাথে !
কতদূর এই বিশ্বাস আছে ; আজন্ম ওষ্ঠের গভীরে নিঃশব্দ
বোবা হয়ে থাকে সৌরকুসুম

প্রত্যন্ত জলপাই বনে সারাদিন – সারারাত প্রসাধনহীন এক
নারী নিজের শরীর থেকে পোশাক খুলে চাঁদ আর সূর্যকে
মাংসভুক করে তোলে একাকী কায়দায় ! এই রাতে ঈষৎ
আনন্দ হলে শরৎকুসুমের গন্ধে শুভার্থী তারারা জেগে
ওঠে নির্জনে । অনেক দিন পর একটা কবিতার জন্মদিনে !
বৃষ্টিপাখির হৃদয়তান্ত্রিক উচ্চারণে !!

কলম কথা ও বৃষ্টির দুপুর

প্রকাশকালঃ ০২.০৭.২০২০

বিপরীতে আমার চলে যাবার রাস্তা ; ওখানে কিয়দংশ আচ্ছন্ন
হয়ে আছে ইচ্ছা – অনিচ্ছার প্রতিটা স্বপ্ন,
সবকটা বৃষ্টির দুপুর ****
আমার অন্তস্থল খুলে যতটা দেখা যায় ; সবটাই ঔদার্য —
লিখতে – লিখতে দ্রুতগামী ওই ট্রেনটাকে ছুঁই !
ভাবি ; মৃত্যুর ডাক এলো বলে — রক্তের ভেতর থেকে নড়ে
ওঠে তেইশ বছরের সেই মেয়েটা , নবনীতা ।
এসব ভেবে ভেবে আদ্যোপান্ত মরি
শ্রীরামপুর স্টেশনে এসে পকেট হাতড়ে ছবি খুঁজি, —
বৃষ্টি পড়ে *** আজ আপাদমস্তক ভিজব
অভিভাবকহীন সূর্যহীনা কবিতার নীল ডাইরিটা
অস্তিত্বের সীমাবদ্ধতা মানে না
সে জন্য প্রতি মূহুর্তে দারিদ্র
সরলবক্রনির্বিশেষে মন মাতাল !!

নষ্ট শরীর

প্রকাশকালঃ ০১.০৭.২০২০

এক ফোঁটা
বৃষ্টি পাতে আকাশ শূন্য হবে ; ভাবলে কী করে ?
প্রেম প্রহরে নষ্ট হয়ে-হয়ে ঘুম বিছানায় জ্যোৎস্না এনে ধরো—
বুকের ভেতর স্বপ্ন খনি থেকে হাজার হাজার সুখ আনবো
কিনে !
এইবেলা আমিও কিন্তু নগ্ন হব , নতুন নতুন
আবেগ নিয়ে গড়বো বসে হাজার নারী ; প্রেম প্রতিমার আগুন
টুকু নষ্ট দেহে পুড়িয়ে দেবো !
এই হাত থেকে রেহাই পেতে তুমিও তো বিপরীতে হাঁটছো !!

মন বিক্রি

প্রকাশকালঃ ০১.০৭.২০২০

শেষে এসে একবারেই ভুলে গেছি
আমিও-তো কথা বিক্রি করতে এসেছি পদ্যপাড়ায় !
ঘরের মধ্যে নির্ঘুম রাত, কবিতার পৃথিবী জুড়ে ভাসমান আমি—
অথচ এই ঘরে আটকে আছে মন খারাপের কিছু আসবাব !
চেনা রাস্তার পাশে অচেনা এক জন ; সে-ও বিক্রি করতে
কথা ফুল আর কিছু কিছু আরাম ও সুখ
তবুও অন্যের সাথে পথ চলে গেছে আঁকাবাঁকা ঢঙে *
সেই কারণেই আমি আমার নিজের ভেতর থেকে বেরিয়ে
আসতে পারছি না !
অথচ পাথরের ঢাকনা খুলে সূর্যদ্বয় দেখি একাএকা !!

একটি সহজ বোধ্য স্বাভাবিক স্তরের প্রেমের কবিতা

কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক- এর একগুচ্ছ কবিতা
উৎসর্গঃ একমাত্র ‘কবিতা জাগরণ’-এর সমস্ত পাঠক বন্ধুদের

ধ্রুম্রনীল এবং ঈশ্বর

প্রকাশকালঃ ৩০.০৬.২০২০

Poet-Bidyut-Bhowmick

বেশ বুঝতে পারছি ; এখানে ঈশ্বর লুকিয়ে আছেন
মন চাপা বেমালুম ভুলে
হৃদয় নিয়েছে ডেকে, — এটাও ঠিক অদেখা এক বিভ্রম !
শব্দের ভিতর শীতল স্রোত নেমে এলে কবিতার কাছে আমি
অচেনা হয়ে যাই ****
বেশ টের পাওয়া যাচ্ছে
আকাশ পাখিদের রাত পর্যন্ত উড়ে চলা নির্ঘুম অহর্নিশ —
শেষ পর্যন্ত এই পাতাটি তোমার জন্য তোলা থাক, যদি না তুমি
আমার কাছে হার মানতে নারাজ থাকো !!

নবনীতা এবং উনিশ বছর

প্রকাশকালঃ ৩০.০৬.২০২০

নবনীতা বললো ; এতদিন তোমার সাথে মিথ্যে-মিথ্যে খেলা
করেছি ! প্রেমের প্রলোভন এবং প্রতারণা দুঃখ প্রসবের জ্বালা
ধরায় ! দুহাতে বৃষ্টির দাগ নিয়ে শ্রাবণ সন্ধ্যায় তার কাছে ঘুরে
আসা এমনই নিয়মে ****
সেই থেকে উনিশ-টা বছর , নিঃসঙ্গ পথিক হয়ে ঘোরা—
সেই থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত নিজের কবর খুঁড়ে দেখে
নেওয়া ; আমি বেঁচে আছি — তো — ?
মন নষ্ট হয়ে গেছে কবে , ভ্রান্ত ভাস্কর্যের ভেতর এক-একটা
মৃত্যুর চিহ্ন ; চুম্বন এবং দুঃস্বপ্ন পৃথক পৃথক নতুন ছবি যেন,
তবুও আমি প্রহর গুনে চলি নিশাচর-নির্ঘুম হয়ে !
নবনীতা কী আসবে !!

হৃদয়তান্ত্রিক কবিতা

প্রকাশকালঃ ৩০.০৬.২০২০

এই আলোর বন্যায় ভাসমান আমি
যদি তুমি একবার আসো এই পথে ; আমি কী বাসবো ভালো
চিহ্নহীন সময় প্লাবন ?
কথা মুখ খুলতে গিয়ে দেখা হবে নতুন অক্ষর ****
সাতশো বছর ধরে এই আমি অতলে ভাসছি , — ভেতরের যত
কথা বলতে পারিনি একবারও ;
মন ভ্রমণের পথ ধরে হেঁটে হেঁটে হেঁটে ভা-লো-বা-সা ফুরিয়ে
গেছে কবে , সেটাতো মেলাই-নি একবারও !
হাত থেকে ফসকে গেছে পৃথিবীর সমস্ত প্রেম ;
কবিতাকে উপজীব্য করে আমি যেন অন্য চেহারা নিয়ে বাঁচি ! !

কাক ও কবিতা

প্রকাশকালঃ ৩০.০৬.২০২০

এক পাগল কাক প্রতিদিন শীতের রোদ্দুরে বাংলা আকাদেমি
চত্বরে তারস্বরে কবিতা বলে চলে —
তাই দেখে দৈনন্দিন ছড়াকাটা কিছু আঁতেল শালিক
পোশাকী ভব্যতায় ওই পাগল কাকের দুর্বার কবিত্ব নিয়ে
ইতিউতি পরস্পর মুখ চেপে হাসে*
তারপর উড়ে যাবার ইচ্ছা হয় ওই পাগল কাকটার ,
অথচ ওর ডানা ভারী হয়ে ওঠে ~~~~
সহজলভ্যতা একটা নিশ্চল শামুকের মতো শুঁড়ের ডগায়
দুটো চোখের শান্ত চাহুনি নিয়ে লিখিয়ে নেয়
অসীম আকাশের ইতিহাস !
পরক্ষণে পক্ষকালের সূর্য হারিয়ে ওই কাক অন্ধকারে আর একটা
কবিতা লেখার পৃথিবী তৈরি করার স্বপ্ন দেখে
মৃত চোখের স্থির বিজ্ঞাপনে !!

একটা সমমনা কবিতা

প্রকাশকালঃ ৩০.০৬.২০২০

দেখ পাথর প্রতীক্ষা ক’রে আছে ; কি শুনতে চাও ওর
স্মৃতিছুট কান্না ? চোখের মলাট খুলে খুঁজে নাও অবিনশ্বর
গম্ভীরতা !
দেখ নষ্ট চিন্তা রক্তে ভিজে কবিতাগুলো একে-একে
তিন টু-ক-রো হয়েছে ***
কেউ পূর্ণতায় ভাঙতে চাইছে
মাধ্যাকর্ষণের প্রোদ্ভিন্ন আদালত !
দেখ শ্রাবন্তীর বুকের কাঠামো বিবর্ণ খয়েরী, —
পাথর চেয়ে আছে ঘর মিছিলে ***
সরল ঠোঁটের মধ্যে ঝুলে আছে মৃত্যুর আইন ~
পথে পথে, রাস্তায় রাস্তায় স্বপ্নের সম্ভাষণ ছুঁয়ে দেয় ভ্রূণের
অন্তর্গত পরিবর্তন ***
দেখ সত্তার সংগ্রামে প্রতিবাদী হয়েছে ঈশ্বর !!

বুকের মধ্যে হাত রেখে দেখ

প্রকাশকালঃ ২৮.০৬.২০২০

দুহাতের রেখায় জোড়বদ্ধ করমর্দন ছাপ ;
বন্ধু, তুমি চলে যাবে — ?
অনেককালের জন্মঋণ ছিঁড়ে দেওয়ালের ক্যালেন্ডার
ভাসমান স্মৃতির ভেতর কোথাকার ৯-টা থেকে সন্ধ্যা
৬-টায় অতলান্ত দুঃখ বোধের বোঝা নিয়ে দুলে চলে !

হাতের কাছে সেই গ্লাস, সেই এ্যাস্ট্রে, টুকরো টুকরো
সিগারেট, পেপার ওয়েট, টেলিফোন রিসিভারে বাম -হাতের পাঁচ আঙুলের স্পর্শ ; এসব যেন তোমাকে
ভুলতেই দিচ্ছে না ! বন্ধু ****
এভাবে পেছনে যেতে – যেতে – যেতে প্রত্যন্তে ফুরিয়ে
যায় হাসি মুখের একান্নবর্তী বহুমুখী মানুষের শরীর
নীল ফুল, টক – ঝাল স্বপ্ন, ছদ্ম আদর্শ, কিম্বা
রূঢ় অস্বীকারে বিমুখ প্রেম, এসব নিয়ে কথা হয় কিম্বা
না হয় কবিতার !
তাই মনের ক্যানভাসে দাগ কাটি বহতা নিঃশব্দে ****

বন্ধু আমার বুকের মধ্যে হাত রেখে দেখো ; শুনতে
পাবে জল নূপুরের ধ্বনি ****
চলে যাবে তুমি, কিন্তু গল্প তো শেষ করে গেলেন !
এই যে শিমূল শাখার ভেতর ভেতর কত কান্নার ভেজা
পাতারা ওই আকাশটায় তোমার নামে উড়িয়ে দিয়েছে
বিদায় সংগীত ! তুমিকি আজও আমাদের পাশে চুপ
বসে আছো !!

মুখ ঢাকা পৃথিবীর মানুষদের

প্রকাশকালঃ ২২.০৬.২০২০

দুধ ঠোটে জন্ম জঠরে আয়ুহীন সময় ধুকছে।
ফুল পাখি তারাদের বুকের অতলে বাজে মৃত্যুর গান,
হাজার কঙ্কাল কাঁদে গোরস্থান দখল হবার আগাম স্বপ্নে!
এই রাস্তায় সংসার ফেলে হাঁটছে কতশত পরিযায়ী শ্রমিক ‘
নিঘুমে পুড়ছে রাস্তার এধার – ওধার ,—-
স্তনের দু’ফোটা দুধ সেও শুকিয়ে গেছে খাঁখাঁ রোদ্দুরে
একটা ঘাস শিশু জায়গা পায়না আকাশ দেখার।
পদপৃষ্ঠ হ’চ্ছে হাজার হাজার মানুষের অবুঝ চলনে!
কি এক বিশ্রী সময় ভাঙছে নিয়ম,
এখান দিয়েই ঘরে ফেরার অভুক্ত চোখগুলো হাটছে ।
ওরা হাটছে পৃথিবী পেরিয়ে বাবার স্বপ্ন বুকে বেধে দলে |
দলে বিশ্রামহীন মিথ্যা আশ্বাসে! ।
মৃদু কান্নার শব্দে কথাহীন চোখ গুলো সারারাত এভাবেই চলছে,
ওদের সঙ্গে চলছে চাঁদ।
অন্য এক পৃথিবীর সন্ধানে।
এখানে মৃত্যুর বিলাপ শুনছি অহরহ বিষ বাতাসে,
ঘুম আর নিঘুমে সময় বদলে দিয়েছে এ্যালবামের সাদা কালো ছবি,
মৃত লাশ গুলোর পাশে আমি যেন পৃথিবীহীন একা।
আমার থেকে আমার ছায়া সরে সরে যাচ্ছে ,
ইতিহাস কান পেতে শুনছে রাস্তায় অন্য এক সুস্থ শিশুর গর্ভ দরজা ঠেলে জন্ম নেবার কান্না!

আমি ও আমার বিছানার পাশে মৃত শরীর

একটা মৃত্যু ভোর রাত পর্যন্ত এ পংক্তি লেখাতে পারেনি
অতলান্তের স্মৃতির মায়াটান
ওই দিন একটা মৃত লোকের বিছানার পাশে আমার শুধু
স্তব্ধতা ছিল ! আমি ওর পাশে অনেক কালের ছায়া শরীর নিয়ে নীরবছিন্ন একক অবিনশ্বর
ঘুমন্ত থাকার মত নিশ্চুপ সময় মনখারাপের বসন জড়িয়ে
আমাকে আরও নীরব রেখেছে ,
সমস্ত কম্পাউন্ড ফিনাইলের গন্ধ আর আহা – উহু বিষণ্ণ
স্তব গানে — সকাল ছাড়িয়ে দুঃখ বোধে নির্বোধ হয়ে ছিল !

আমি অভ্যন্তরে গদ্য লিখতে চাইলাম
নদীর মত ঢেউ ভেঙে হৃদয় উৎসাহিত করেনি
তাই বলে শেষের কবিতা ছিঁড়ে ঝুড়ি কোদালের সঙ্গ
এবং কালেভদ্রে সরীসৃপ হবার স্বপ্ন ;
বড্ডো ন্যাকামী মনে হয় !
প্রত্যাখ্যান কিম্বা আলিঙ্গন, এসব আর কবিতার গভীরে রাখি না ,
শুধু শিশির মানবীর যুবতী দেহে মনোকষ্টের রঙ্ বোলাই !

সম্মতি না থাকা চোখে স্মৃতিভূক
পাথর মনে চরম নীরবতা ।
সেই আমি প্রপাত একলা নিছক স্বপ্নের সাথে
স্তব্ধ রাত্রিকে বাড়াই সাদাসিধে দু’হাত
সম্মতি থাকতো যদি দরজা খুলে বলতাম, — চলে এসো
অথচ গতানুগতিক বাতাসে আক্ষেপের বিষাদ গন্ধ ,
সেই শরীরীনী ; যাকে জামগাছের নিচে প্রথম দিয়েছি চুমু !
কে বলতে পারে সেদিন বসন্ত ছিল !!

poet Bidyut Bhowmick

আমি তোমার মধু নেব

Bidyut-Bhowmick

বৃষ্টি ভেজা সেই শ্রাবণের হিমেল হাওয়া
ওইটুকু স্বাদ অতল জুড়ে করছে ধাওয়া
কী কারণে চাইছো তুমি ওষ্ঠ ভরা উষ্ণতাকে , —
কলিংবেলের শব্দ ডোবায় আমার প্রিয় সখ্যতাকে মধ্যরাতে !

সেই যে দেখা জলার ধারে নীল দাঁড়কাক রক্তমাখা
গাছগাছালীর অন্ধকারে ভিন্ন স্বাদের তীব্র ধাঁধা —
এবং শুধু চাঁদ ডুবেছে ওই বুকেতে ,
ভূত ভৈরব দীর্ঘকালের নজর কাড়া সোনালী পাখা !

এরপরেতে স্বপ্নে আমার মনন জুড়ে সেই যে নারী
বাসর ঘরের দরজা ভেঙে উড়িয়ে দিল জংলা শাড়ি
সিদ্ধিপাতার রস মেখেছে দুই স্তনেতে
চড়া খিদের বান ডাকিয়ে প্রবেশ করবে সেই বনেতে মধুমাসে !

আমি তোমার মধু নেব বলতে – বলতে কোথায় এলাম
স্বপ্নে বোনা স্মৃতির প্রীতি এই কবিতায় খুঁজে পেলাম —
দু’চোখের এই ধারাস্নানে আমি ও আমি বড্ডো দুখী ,
সেই শ্রাবণের মেঘচ্ছায়ায় তোমার কবি ভীষণ সুখী !

নিষ্কৃতি

আমার নিষ্কৃতি নেই সোজা হ’য়ে দাঁড়াবার
দুহাতে অস্পষ্ট ঘাম ; শরীরে রক্তের রাস্তা আঁকা-বাঁকা
অচেনা রাগের তাপে নির্ঘুম অস্থির
বহুদিন , —
প্রতিদিন অবেলায় সড়ক পেরিয়ে এলোমেলো হাওয়ায়
মহিষ-মহিষ ধুলো চোখের ভেতর প্রাণ করে লুঠ !
প্রতিদিন উত্তর দিকে যেতে যেতে মনকে দেখাই
এক হাজার স্বপ্ন
মৃত্যুর মত সহজ নীরবতার ! আমার নিষ্কৃতি নেই ;
থাকলেও সম্পূর্ণ আবেগ নিয়ে নিজেকে ঠকাই দু’বেলা !
এই মধ্যরাতে পাশে এসে চুপ করে বসে থাকে আমার
এককালের অভাগা ছায়া , সেখানে পোশাক থাকে না
ঠিক-ঠাক ; অদ্ভুত নগ্ন নীরব — এইখানে কবিতার বিশ্রী
আইন আমাকে ঘিরে রাখে অনাত্মীয় অন্ধকারে !!

চোখ বন্ধ সত্য

হঠাৎ কিছু কিছু কথার মধ্যে যে-যে শব্দ
কবিতার রাত-দিন বদলে দিতে পারে ; আমি এদের
বক্ষ্মনাদ বলি কি-ভাবে ?
যখন তিনি চলেন ;
কাব্যি তখন
বলেনা
কথা !
যখন স্তব হবার কথা চলে ; ধারাভাষ্য দেবে ঈশ্বর
জটিল তত্ত্ব নিয়ে সাপ-লুডো খেলার জন্য আলাপ পাতা-
বিছানায় বসে বসে স্তব-গান করবে বিধায়ক বিধি, —
সেই থেকে শুরু মৃত্যুর পথে পথে ঘোরা—
আমি-তো প্রাণ দেব , মৃতের পরিবারের ভেতর দিয়ে
কবিতার রাত-দিন নষ্ট চাঁদের দিকে নজর দেব
যখন-তখন!সব শেষে বিষ হব ! !

বৃষ্টিপাতের গল্প

তুই কিন্তু যখন-তখন আসবিনা , তাহলে মনে হবে এটুকুই
ভালোবাসা ফিরিয়ে আনতে পিছিয়ে চলে যাবি
অদ্ভুত চাঁদ-প্রহরে নির্ঘুম হয়েছে আমার এককালের
স্বপ্ন ধুলো নগ্ন বৈভব !
যে চোখ দেখেছে আকাশ
সে চোখ বলেনি কোনো কথা, — পাথর স্তব্ধ আমি
অতলান্তে এই ঈঙ্গিত আমি-কি লুকিয়ে রাখেছি ?
বৃষ্টিপাতের মধ্যে তুই এতটাই ভিজেছিস
শরীরটা যেন নদী~নদী মনে হচ্ছে !
কাল থেকে শুরু করে অনেকটা সময় ধরে তোকে নিয়ে
ভেসেছি জ্যোৎস্নায় ; একবার চুম্বন দে ,
আমি মরি তোর খেয়ালে, ফিরিঙ্গি ডাঙা রোডের
অথৈ বর্ষণে !!

অমৃতলোক ও বন্যপ্রেম

শেষ পর্যন্ত কথাচোখ খুলে হাসুন, — দেখবেন নদীতে
জলচৌকি নিয়ে জলপরী স্নান করতে নেমেছে !
এই অমোঘ আকর্ষণ নীল আকাশের মালিক হবে বলে
তথাকথিত ভাবনার খোরাক খুঁজে চলে
আজ থেকে একশ বছর আগে এই দিনে আমি আমার
সমস্ত দোষের কথা বলে গেছি নতুন পৃষ্ঠায় ; হৃৎপিণ্ড
থেকে টুসটুসে আঁধার নির্বাক চলচ্চিত্রে অভিনয় করবে
বলে চিহ্নিত করেছে আমাকে !
মন খারাপের দিনে তুমি কি নগণ্য হতে পারবে ?
শেষ পর্যন্ত এই পাতাটির কাছে নিবেদিত হবে আমার
জন্মের ইতিহাস ! কবিতার সাথে দীর্ঘদিন সহবাস এবং
তার মধ্যে অন্যতম কিছু কিছু দোষ , যা দিয়ে রচিত হবে
যৌন রাতের গদ্য ! তুমি তাকিয়ে দেখবে মৃত্যুটা
এইভাবেই ফুরিয়ে গেছে কালবেলায় অমৃতলোকে !

ধ্রুপদী কবিতা

ব্যক্তিগত রাস্তায় অবেলায় সূর্য এলে টেলিফোন মিস্ত্রির
হাইড্রেন ভাসিয়ে পেচ্ছাপ করা আর বিড়ির ধোঁওয়ায়
অফুরন্ত বাতাসের কপোট সঙ্গ দেখি , —
রাস্তার মধ্যে চোখ দিয়ে প্রতিদিন ছুঁই দুপুরের
সহজ নীরবতা !
প্রতিদিন দুপুর সোয়া একটাতে ছায়াকে সঙ্গে নিয়ে হাঁটি
সেদিন পথ ভুলে গিয়ে তালা বন্ধ সদর হৃদয়ের কাছে
একান্তে দাঁড়িয়ে আমার আমির সবটুকু নগ্নতা
একসাথে হাহাকার করতে দেখলাম !
এই হাত দেখে মায়া হয় ; এই রেখাগুলো কবে থেকে
এই রেখাগুলো কবে থেকে এক জায়গায় স্থির !
সেজন্য অবুঝ পায়ের প্রতিটা চিহ্ন স্মৃতিমন খুলে
সারাদিন ধরে হাসুন !!

অবশেষের পথ

নিশিকন্যারা প্রতিরাতে ঈষৎ উষ্ণতায় লুকিয়ে গেলে
আমি তোমার মুখের কাছে নীরব নিঃশব্দে
ওষ্ঠে চুম্বন করি —
স্মরণযোগ্য অবতারণের পর
গলগ্রহ হয় ভরাট স্বপ্নের অন্ধকার
প্রেম যেন বসন্তে ~ বসন্তে পাগল করতে চায় আমাকে
স্মৃতির অতীত থেকে যন্ত্রণা দেখা দিলে
অর্ধেক মৃত্যু হয় সারাবেলাটার !
নতুন করে পাপ করতে চাওয়া একাকী নগ্নতার পর
মন ডুবে যায় আকাশ ভেলা নিয়ে, —
মাঝে মধ্যে চিঠি এলে লেটার বক্সের কঠিন শৃঙ্খল
জানতে পারে না তুমি রোদ্দুরে +অন্ধকারে আমার
চিন্তায় কতটা খেয়ালী !!

poet Bidyut Bhowmick

জলছোঁয়া রোগ এবং মৃত্যুঞ্জয়ী দর্পণ
বিদ্যুৎ ভৌমিক

Bidyut-Bhowmick

পাশের চেয়ার-এ ধ্যানব্রক্ষ্মে আরক্ত
কোথাও কী তপস্যা ভাঙার মন্ত্র হৃদয় ফুরিয়ে স্বপ্ন বদল করে
এই দু’হাত বুকের মধ্যে স্মৃতি ছুঁয়ে দেখে ; পাঁচ আঙুলের ছাপ
লাগে স্বর্গের অলিন্দে
প্রতিদিনের অসুখ চরিত্র পতনের শব্দ শুনতে-শুনতে চেনা রাস্তা
দিয়ে ফিরে আসে ! এই তাপ যেমন গভীর ; ঠিক সেরকম
অপ্রমেও উপমাহীন
তবুও কোথাও লুকিয়ে হারায় মন পোড়ানো কৌশল~
পাশের চেয়ার-এ অশরীর রেখেছে আমায়
এখানে স্মৃতি নষ্ট হ’তে-হ’তে দৃষ্টিও ভুলে যায়
কেউ একজন অন্ধকার সিঁড়ির একেবারে কাছে চিররীণির মতো
চেহারায় নিঃশব্দ-এ দাঁড়িয়ে আছে ! অথচ ভালোবাসা মৃত্যু
সইতে পারে-না ; এক বেলাও !

যদিও বৃষ্টির দিনে কিছু অসংলগ্ন ভুল
আমাকে সঙ্গে নিয়ে ভেসে গেছে মধ্যরাতে মায়া আকাশে
চিরজীবনের স্রোতে স্বভাবতই নদীর মত শব্দ ওঠে
কথা ছিল , এখানে নবনীতার সঙ্গে চোখ বন্ধ করে ডুবে যাব , —
ভেসে যাব সোহাগ নদীতে
তবুও তো ভেতরের সব ঢেউ দেবতার মত নিরাকার
এ-সববের মধ্যে বহুকালের রীণ দয়া চায় , ক্ষমা-ও চায়
ভ্রাম্যমাণ দুঃখের ভেতর —
পাশের চেয়ার-এ একাকীত্ব আঁধার পেতে বসে আছে
চিরকালীন স্বপ্নে সাক্ষী থাকা সহস্র ছায়ারা অঘমর্ষী
এই চেয়ারে থেকে অবিশ্বস্ত হুল্লোড় মনে-মনে শুনতে শুনতে
বাকি পথ মন্দ ভাগ্য নিয়ে ভ্রাম্যমাণ !

কোনো কিছুর জন্য ভুলতে পারি-কী তোমায়
মনে মনে শরীর চিনি, —
বুকের মধ্যে নীল জ্যোৎস্না কবিতার মতো প্রিয় প্রতিবেশী
এই অন্তরীক্ষ যেখানে প্রতারক স্মৃতিরা রাতের জন্য চোখ বুজে
অপেক্ষায় থাকে, এদের সবাই মানুষ সেজে থাকতে চায়
শেষ পর্যন্ত এদের কারণে আমার নিঃসঙ্গ গোটা রাত জাগা !
কোথাও ভাসমান ভাবনায় অতিরিক্ত অবিশ্বাস মেখে থাকে
মায়াময় শোক ;
এই চেয়া-রে ঐশ্বরিক কেউ বোসে না থাকলেও কেউ একজন
মৃত্যুর মত স্থির হয়ে ঘুমিয়ে থাকে স্মৃতি বি-ছা-না-য়
কোনো কিছুর জন্য ছাদের কার্নিসে ছিঁড়ে ফেলে দেই-নি
তোমার অজস্র অক্ষর মালা , — অথচ এরকম অনন্ত অসুখ
অবলা-নিরীহ ছিল সতেরো বছর !

সমস্ত ব্যর্থতা অসহবাসের চেয়ে কঠিন ধারালো
তবুও স্তব্ধ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি আমার ছায়াকে সতেরো বছর
সে-ও দুঃখে ও শোকে নির্ঘুম বিনীত চেহারা নিয়ে একা একা
কাটায় প্রহর !
এই জানলা দিয়ে নষ্ট চাঁদ এসে বিছানায় ঘুরে ঘুরে দেখেছে
আমাকে ! কাঙালের দীর্ঘশ্বাস তবু নিঝুম বিষণ্ণ
সমস্ত স্বপ্নগুলো প্রবল বৃষ্টিতে ধুয়ে~ধুয়ে যাবতীয় ইচ্ছার ভেতর
একেবারে মরে পচে গেছে !
শেষ একবার নিভৃতে চলে এলে অস্তিত্ব নিজের
হৃদয়ে পদাঘাত করে
শেষ একবার সহজ সত্য প্রতিপ্রশ্ন ছুঁড়ে দেই মৃত্যুঞ্জয়ী দর্পণে ;
আমি কী মরে যাব ? আমি কী পাখি হব, ফুল-ফল
অনেক-অনেক কিছু !

সবটাই অমোঘ দোষ ; অধরোষ্ঠহীন কান্নায় ভাসে জলছোঁয়া
রোগে ! এক-একটা দুঃখ ; আমি ওদের ভালোভাবে চিনি , —
এই আধোজাগা সময়-এ সেই চেয়ার এককালের
স্পর্শে অতল প্রেমহীন , —
চোখের কাছে অচেনা কিছু চোখ , আজব দর্শক
অন্ধকার রাতে মাথার কাছে ওরা কেউ কেউ শ্বাসকষ্টে কাঁপে
এখানেও ক্ষমা চাওয়া চোখ বুজে অনুসরণ
কবিতা পংক্তি ধরে
এখানেও মনের ভেতর জেগে ওঠে দীর্ঘকায় ছায়া —অর্ধেক
নিঃসঙ্গ এবং নিঃশব্দে এলোমেলো ! তাকে নিয়ে ভাবা বিশ্বভুবন ,
ও-কি মৃত্যু ; না-কি অন্তরীক্ষে স্মৃতিছবি মেলে ধরে
অনাদিকালের প্রোজেক্টারে ! এই চেয়া-রে পৃথিবীর সব দুঃখ
একাই পেতে পেতে সিংহাসন হয়ে আছে , —
অথচ আঙুলের কড় গুণে মৃত্যু দিন ভাগ হয়ে গেছে !!

poet Bidyut Bhowmick

অতলান্তের আমি

চোখের ভেতর সেই নদীটা লুকিয়ে ছিল
মনের মধ্যে না – বলা কথার ঝড় থেকেছে ,
হঠাৎ কেন স্বপ্নঘুমে সেই পাখিটা
ভিন্ন সুরে আকাশ দেখে গান গেয়়েছে !

কী লিখব , কি লিখেছি , থাক এখনি
ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো নানান কথা ,
ভাসছি আমি সেই নদীতে বহতা স্রোতে
বুকের মাঝে থাকছে না আর নীরবতা !!

সাঁকো ভাঙা নদী

তারপর সব বাকি রয়ে গেছে
গর্ভের ঘুম ওঠা কবেকার মেঘ স্তুপ
দুঃস্বপ্ন – দুঃস্বপ্ন করে দুয়ারে কেঁদেছে —
বলি বন্য নিবাস থেকে ফিরেছো কবে
ডাকবাক্স খুলে আজই পেলাম তোমার আঠাশটা চুম্বন
আরও কতো সুধাস্বর ভালোমন্দ কথা !

এই এক সাঁকো ভাঙা নদী , তবু চোখ দুটো
ছিল কী ছিলনা দেখার স্পর্শে, —
ওই একদিন দ্বিমুখী নজর এসে ঘুমিয়ে পড়েছিল প্রেমে – অপ্রেমে
তবু এক রোখা সত্যগুলো কাক ভোরে
ঘন্টি বাজিয়ে ছিল মর্মমূলে !

বিসর্জনের ঢাক

দুশো বছরের সারা দুপুর আমার বড় প্রিয় নীলাভ রোদ যেন ,
কাল রাত্রে নক্ষত্র গুণে পরিশ্রান্ত দীঘল ডোবাটা
দহনে জ্বলে উঠেছিল !
এখন হৃৎপিন্ডটা হাতড়ে শিশির ছায়ারা ভুলে গেছে মোহনার মিল
রক্তের যাদুকর বিশ্বমানবতায় বেঁচে আছে উচ্চাকার
আভূমি শরীর , —
তবুও সারা দুপুর স্বপ্নের প্রোদ্ভিন্ন সংগ্রাম — পূজনীয় সবার !
সুখী মার্গে ভেসে যায় আর্ত প্রার্থনায় সবাই —
কোথায় যেন উত্তাপে পুড়ে যায় পূর্ণিমার নগ্নতা
কবিতার মিছিলে বিসর্জনের ঢাক বেজে ওঠে !

poet Bidyut Bhowmick

নষ্ট নৈঃশব্দ্য ও অচেনা দর্পণ

এই শব্দ তোর জন্য তোলা থাক ; বরং এই বিছানায় নৈঃশব্দ্য শুয়ে থাক
এখানে স্বপ্ন ধ্যানে কথা চুপ হয়ে আছে মধ্য বয়সের চাঁদ ,
ক্ষীরোদ নদীতে মৃত চোখের পোশাকি নজর ডুবে গেলে
অতল কামনায় ভেঙে পড়ে প্রাচীন দর্পণ ।

এভাবে উঠে দাঁড়ালে চশমার ভেতরের কথা ফুরিয়ে যায় ভুলের ধুলোয় ,
এই মন কবিতার ভালোমন্দ বঝেনা ; মৃত্যু বঝেনা , কিন্তু জন্মান্তর বোঝে
কাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে একটানা ,

নষ্ট- নষ্ট গন্ধে ঝি-ঝি ডাকা রাত নীরব হয়ে আছে অহর্নিশ
কাল থেকে অবিকল সেতার বেজেছে সারা শরীর-ময়
তবু চোখে ভর রেখে স্বপ্ন দান ; অতল হেয়ালী ।
শেষ রাতে তুমি পুরোটাই আমার হয়ে ছিলে ,
অথচ চড়া খিদের বান ডেকেছে পীড়নের অন্ধকারে ।।

ম্যাকডেভিড মহাশূন্য এবং প্রতিটা জন্মের মৃত্যু
বিদ্যুৎ ভৌমিক

( ক)

এখন অদ্ভুত এক বাতাস বইছে । বাতাস নয় , অতীব পরিণতি
এই বিশ্রী সময়ে মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গম হয় জীবনের
মৃত্যু বাড়ে , বেড়েই চলে সর্বনাশের মতো আয়ু
এখানে প্রভূত কষ্টে অন্ধকার গর্ভের ভেতর একাই নিঃশব্দ ;
নির্জনতা !
অথচ শরীরহীন স্বপ্নগুলো প্রতিদিনের কানাকড়ি নিয়ে
বিস্মৃতির ভেতর ডুবে গেলে বুকের ড্রয়ার খুলে
কেউ একজন দেখে নিজের কঙ্কাল ! বেশ বিষজ্বালায় অনন্ত গভীর অতল , সেও মৃত অন্তহীন অবুঝ – নির্বোধ
পরের বাক্য কবিতার কাছাকাছি চোখ ভরা বহতী নীরবতা
সেটাও ইচ্ছা হলে ছুঁয়ে থেমে যায়

( খ )

নতুন স্মৃতিতে ছায়ারাও অবাক
শিকড়ের টানে শুরু হয় অলীক আক্রোশ
প্রতিটা জন্মের মৃত্যু মহাকাশ থেকে ম্যাকডেভিড মহাশূন্য
ছিমছাম অথচ সতত যন্ত্রণা ভোগে ! বেশ কিছু অভুক্ত চোখ
কবিতার ভেতর সময় কাটায় — এই হোলো জীবন ;
জরায়ুর মধ্যে খোঁজে কবেকার প্রাচীন খোলোস ।
যদি মরে যাই, — অথবা জ্বর “থুতু” শ্লেষ্মা , — এদেরকে ভিখারি
করে রেখে যাব !
পথ পৃথিবীময় , গোপনতা আরও ভেতরে অনন্ত বিস্মৃত !

( গ )

হয়তো সারারাত আত্মঘাতী স্মৃতিরা
নিজস্ব নিয়মে দিক চিহ্নহীন — ঘৃণা এবং অস্থিরতা
প্রতিদিন সিঁড়ির প্রতিটা ধাপে মধ্যরাতের চাঁদ চোখচুপ প্রণয়ে
বুকের মধ্যে রাখে বিশ্বাসী হাত ! অহর্নিশ এই দুর্দিনে এই আমিত্ব
ভরা নিঃশব্দ ; স্বভাবতই ক্যালেন্ডারে দোল খেতে খেতে
অন্ধ হয়ে গেছে….
শেষ রাতে অভিমানের তালা খুলে যায়
ব্যক্তিগত স্বপ্ন নিয়ে শুরু হয় মনে মনে কথা বলাবলি ,
এরপর কবিতা থেকে দু’চোখ তুলে নিয়ে নিজের কপালে মাখি
নষ্ট আকাশের সর্বনাশী জ্যোৎস্না —
( এটা অবশ্য সখ করে নয় ; আবার সান্ত্বনা পাব বলে নয় )
কিছু কিছু অপূর্ণতা ম্যাকডেভিড মহাশূন্য মনে হয়
সেজন্য দিকচিহ্ন মুছে অতীত স্মরণের পথে একা হেঁটে যাওয়া
পাগল বৃষ্টির দল অবুঝ শিকারী, সেখানে বিচ্ছেদ জ্বালায়
নির্জন হয়ে থাকে পূর্ব পরিচয় । ( নির্ঘুমের উপাখ্যান )

( ঘ )

বেঁচে থাকতে তোমার অতীব কাছে চোখ ছিল সততই ঈশ্বরীও
বুকের ভেতরে এক সমুদ্র ঢেউ ; নতুন আকাশ থেকে
নতুন তারাদের বিজ্ঞাপন অন্তর লজ্জায় ঘুমের মতন একদলা স্বপ্ন
গন্ধে বহতাময় ! কেমন সহজ সেই ছবি এঁকে ভাসমান সুখ দেখতে চেয়ে ওষধি স্মৃতির ভেতর চোখাচোখি ;
চোখের মধ্যে ছুটে আসা স্পষ্ট ছায়া চুম্বন মুছে—
তুমি এই মৃত্যুর আগেও শ্মশান যাত্রীদের নাম বাতাসে লিখেছো
সেই সারাদিনের বৃষ্টি স্পষ্ট কথাগুলোকে ইস্ত্রি করা পোশাক
পরিয়ে কবিতা করেছি !

( ঙ )

এই একবারই বৃষ্টি এনেছি চোখে ; তোমাকে দিয়েছি অরণ্য
উপহার ! এই একবারই নরকের পথ ঘুরে লক্ষ্যশিরা – উপশিরায়
জন্মঋণের রহস্য খুঁজেছি, অতলমন্ত্রে শূন্য নামে পায়ের নীচে
বৃষ্টির গোপন ধারায় এলোমেলো হয় আয়নার তেপান্তর —
তবুও এই একবারই শ্রাবণ এনেছি অন্তরীক্ষ ভেঙে !
বেশ কিছু মৃত্যু আমার চেনা হয়ে গেছে , —
আমার প্রতিজন্মের মৃত্যু আক্ষরিক এবং ভালোবাসাহীন
এই জন্যেই মুছে দিতে হয় প্রতিটা মাতৃগর্ভের স্মৃতি
মনের ভেতর থেকে যাবতীয় স্তব্ধতা ;
আদেশ দেয় তুমি পদবী ভুলে যাও !

( চ )

ফের দুঃস্বপ্ন, ফের ঘুনন্ত অস্তিত্ব শরীরময়
সমস্ত আকাঙ্ক্ষার ঘ্রাণ নিছক অবহেলায় মুছে দেয়
কত পথ, কত প্রেম, কতই যন্ত্রণার অবুঝ অস্থিরতা
এসব আমাকে বোঝায় — আমি প্রাণহীন জীবন নিয়ে
অতৃপ্তির জ্বালায় কত শত বছরের আকাশে ঘুরেছি…..
এই একা একা পোশারহীন পছন্দ – অপছন্দ অথবা ছদ্ম আদর্শ
আমাকে অহর্নিশ অনন্তকাল ঘোরায় – ফেরায় – ভাসিয়ে ছাড়ে !
কোথাও মৃত্যুর ছবি দর্পণে দেখা দিলে ফুল – চন্দনের গন্ধ
পাপমোচনে উৎসাহ পায় !
কী এক দেবতার কাছে আমার প্রতিটা মৃত্যু বিশ্লেষণ ;
অনেকটাই ভাসমান !

( ছ )

এরপর যতদিন মনে পড়া পাতা খসা বিকেলে
কে আমার কথা মনে করছে ? সে কি প্রতিটা জন্মের চেনা মুখ ,
চারপাশে অসুখের ভেতর চুপচাপ হয়ে থাকে হেমন্তের চাঁদ
ঘুম কাটেনা দুঃখে – অভিমানে ,
স্বপ্নের পোশাক খুলে স্নান করে অশরীর স্মৃতি…..
কেউ একজন নতমুখে ঘরে বসে থাকে , —
সেই কি প্রেত ? হতে পারে !
এর মধ্যে মন ভেঙে গেলে সমস্ত নির্জনতা হয় খেলার সঙ্গী
কতদিন এভাবে আসি আর যাই
কতদিন রাত ডোবা ভোরে ; মৃত্যুর এক ঘন্টা পরে আবার জন্মাই
তারপর নির্নিমেষ খুঁজি ফিরি পথ, যে পথে দিক চিহ্নহীন
দূরে আমার ঈশ্বর দাঁড়িয়ে আছে !!

poet Bidyut Bhowmick

অপরিণত দর্পণ এবং বিপরীতে আমি
বিদ্যুৎ ভৌমিক

শেষ বেলায় যজ্ঞে বসে সোজা রাস্তায় মুক্তিমূল্য পাইনি
বেমালুম নির্ঘুম ক্ষণকাল, বুক বেঁধে চলেছে ঈশ্বর —
এমনই ভাসমান ; তবু উচ্চারণে অনেক জ্বালা
কি হবে অন্য কোনো প্রার্থনা !
পায়ে – পায়ে ঘুরে আসা জমিন ~ আসমান
ছুঁয়েছি আদী সত্য স্পষ্টতর আঁকাবাঁকা সিঁড়ির উপমা **

তবুও মৃত্যু, ছুঁয়ে নাও শীর্ণ নদী একবার
এপার ওপার কৃতজ্ঞতা ফিরিয়ে দিয়েছি
দর্পণে তোমায় !
কাল যেন আদর করেছি ; তরঙ্গ তবু চিনতে পারিনি
এই চুপ নিঃশ্চুপ চোখে তুমিতো স্নান করেছো
জমিন ~ আসমান ছেড়ে *
কাল স্বপ্ন ছিল সঙ্ঘ হয়ে
ভেতর কেড়ে খায় চিন্তার জট —
ভাবে মৃত্যু কী শরীরহীন দূরে চলে যায়
মুক্তিফল পেকেছে জন্মদুয়ারে
কিছু চোখ অবিকল ভাসে অলৌকিক যের – যার
সমস্তক্ষণ প্রশ্বাস শব্দে ভ্রাম্যমাণ স্মৃতিরা
নদীকে প্রাচীন নামে ডাকেনি একবারও !

সুড়ঙ্গ ডোবে, সব কথা পোড়ানো তেষট্টিবার
একলা প্রদক্ষিণ করে নিজের শেষ দেহ ছাই হতে দেখি –
তবুও নিশ্চিত মরি, মরে যেতে – যেতে
নতুন জন্মের চিঠি গৃহস্থের ঘরে শঙ্খধ্বনি
তবুও বন্ধ ঘড়ির কাঁটা নড়ে — টিক – টিক – টিক
অসম একক !

সাতাশটা বছর শুধু যোগভ্রষ্ট একা নির্নিমেষ
তিন হাত মাটি ছুঁতেই স্মৃতি পলাতক
রাস্তার প্রবেশ পথে চৌখুপ্পি আমিও একজন
ঘুমহীন নির্ঘুমে অথই নির্জন ****
বেশ ভালো সঞ্জীবনী অস্ফুট আঁধার
সেখানে পুড়িয়ে ফিরি নিজের আঁকার
কোথাকার পায়ের ধুলো আশির্বাদ ফিরিয়েছে
ত্রিপাদ ভূমিতে, —
সমস্তক্ষণ নির্বাসনে মন ওড়ে বিড়ল আকাশে
ও কি মৃত্যু ? না কি স্বপ্নের প্রত্যন্ত শিহরণ
নবীন দর্পণে দোলে একুশ ভাগ সর্বনাশ এবং
যোগভ্রষ্ট বিনাশ !

কোথায় নিয়েছো ডেকে, চিনবো না অক্ষয় বিকেল —
মাটির প্রণাম আঁকা চোখ ঢাকা নিভৃত সময়
আজ কি সময় হবে অঞ্জলি দিতে
ঘুমোচ্ছে ভেতরের শত শত কবিতার লাইন । ঘুমোচ্ছি

poet Bidyut Bhowmick

You Might Also Like

No Comments

Please Let us know What you think!?

Translate »
%d bloggers like this: