poems by Junaid khan

স্রোতস্বিনী

প্রকাশকালঃ ৩০.০১.২০২১

মোঃ রায়হান কাজী

একাকী দাঁড়িয়ে আছি বৈঠা নিয়ে এপারে,
অপেক্ষায় গুনছি প্রহর দিবারাত্রি এক করে।
তুমিতো দাঁড়িয়ে আছ অবগুণ্ঠিত পথ চেয়ে,
স্রোত বহে ভাটির টানে নৌকার দাঁড় বেয়ে।

এসোনা আজি এক প্রাণে এক সুরে মিশে,
গানের পসরা সাজায় নিকুঞ্জের তরু দিয়ে।
বাতাস বহে মৃদুস্বরে আর বেঁধে রেখোনা তরী
চলে এসো স্রোত সঙ্গিনী হয়ে এপারে।

আনন্দ উল্লাসে রাতের চাঁদনিতে জ্বালিয়ে,
অশ্রুসিক্ত প্রাণে মৃদুতার দোলা লাগে গাঁয়ে।
তোমার সাথে সুরের ভেলায় ভেসে অস্তমিত হয়ে,
সূর্য উদয়ন কালে আর্যগণের শিহরণ জাগে।

বেদনার দ্রুত উঠছে ভেসে নয়ন জোড়ে,
কবে এসে বাজাবে বাঁশি তুমি আমায় আপন করে।
আনন্দময় নীর বর্তমান আছে ঝর্ণার প্রান্তরে।
নুপুরের তালে জলপ্রপাতের শব্দের ধারার সাথে,
ছন্দ মিছিলে হারাবো নীলাম্বরীর বুকে।

নিছক দুরত্বকে দূরে ঠেলে সকলের মাঝে,
গাইবো গান ছন্দ বিহ্বলিত স্বপনদুয়ারে।
এমনি করে স্রোতস্বিনী হয়ে বৈঠা নিয়ে দাঁড়ে বেয়ে,
আমার সুরগুলো পায় চরণ মাঝ নদীতে।

ব্যাকুল এই প্রান্তে

প্রকাশকালঃ ১৯.০১.২০২১

মোঃ রায়হান কাজী

ব্যাকুল এই প্রান্তের মাঝে,
স্মৃতি চিহ্ন উঠছে ভেসে।
অস্তমিত সূর্য উদয়ন কালে,
প্রেম-ভালোবাসা উদাসীন দ্বারে।
মন্দমধুর শোভাযাত্রা কালে
আনন্দ উল্লাসে মন ভরে,
জাগ্রত দ্বার আজি হেরী দিবালোকে।

তোমার অন্তরালে প্রেমনিবেদন করি,
ঘুম ভাঙা চিত্রে স্বপ্নে বিভোর হয়ে।
তীব্র আকাঙ্ক্ষা পোষণ করি সযত্নে,
আঘাত লাগে বুক পিঞ্জরের মাঝে।
তোমাতেই বিভোর হয়ে দুজনা,
আজ জাগ্রত হতে চাই একি পথে।
মঞ্চ যখন সাঁজে সংগীত সুরের সাথে,
প্রচন্ড মনোহর ছন্দ দিয়ে বরণ করে।

আত্মদান

প্রকাশকালঃ ১৪.০১.২০২১

মোঃ রায়হান কাজী

কোন সে বাঁধনে বাঁধা পরা আমার প্রাণ,
অঙ্গের সাধনে ধূমায়িত সুরে মিশ্রিত গান।
নিবিড়তাবর্ধন আকস্মিক চেতনার দান,
চঞ্চল বহির্ভূত সম্পর্কের চিরন্তন স্নান।

কোনো কথা বলতে গেলেই গুণগত মান?
সামনে দাঁড়িয়ে নয়ন দৃষ্টি হয়েছে আজ ম্লান।
যে কথা হয়েছে অতীত বন্দনার শেষে অঘ্রান,
এখনো রয়েছে রেশ তা যেন গোলাপে অম্লান।

অরণ্য-মর্মর সুদূর অগোচরে আছে বয়ান,
করুণ বিস্মৃতি আর উপভোক্তার আত্মদান।
সামনে দাঁড়িয়ে চোখাচোখি করাতেই বিশ্বায়ন,
এ বুঝি প্রকৃতির মাঝে গুঞ্জরিত জাল বুনন।

বিপুলা এই বসুন্ধরার মাঝে আশ্বাসেও দেন
দীর্ঘপথ রাত্রিকালেও ভালোমন্দর আশ্রয়স্থান।
দিগ্বলয়ের অদৃশ্য কল্পলোকের ইঙ্গিতলীন,
বেজে ওঠে রবির কিরণে ঝলমলিয়ে অশ্রুবীন।

আশাতীত

মোঃ রায়হান কাজী

নয়ন প্রাণে হৃদয় ছুটে শরীর জুড়ে,
এইটুকু প্রেমকাহিনী নয়কো মুটে।
শুক্লসন্ধ্যা ফুলের বাগান থেকে সৌরভ,
যাচ্ছে ভেসে হাওয়ার সাথে চারদিকে।

আমার বাঁশির সুরগুলো সব পিঙ্গি হয়ে,
লুটায় পুঁজি ভূমির সাথে মিশ্রিত হয়ে।
নিজের অন্তরালে আমি শুধু খুঁজি তারে,
তোমার আমার এই যে প্রণয় সোজাসুজি।

তোমার হাতের নিতান্তই ফুলের ঝুরি,
বসন্তরঙ আর পুষ্পের হার নয়তো বাড়াবাড়ি।
স্তুতিরূপ যূথীর মালা বক্ষপ্রাণে মিশে,
একটু হাসি একটু কাঁদি দুজনে দূরে বসে।

ভালোবাসা একটু দেওয়া হয় কি নেওয়া,
প্রকাশভঙ্গী বিচরনের অস্থিমজ্জায় আঘাত করা।
চক্ষু নেশায় মাতাল হওয়া উচিত হবে কী?
একটু রাখা,একটু ঢাকা শরমখানী লুকায়িত রাখা।

অসীম পথে সসীম হয়ে যায়না বাঁধা রক্ত ডিঙিয়ে,
আনবো হেঁয়ালির দূর আকাশের রক্তিম সূর্য মামা।
আশার মাঝে হারিয়ে গিয়ে হয়েছি আমি আশাতীত,
ভাষার সাগরে হারিয়ে গিয়ে হয়েছি আমি ভাষাতীত।

চায়ের ধোঁয়া

প্রকাশকালঃ ১০.০১.২০২১

মোঃ রায়হান কাজী

চা নিয়ে যদি ঘাঁটি ইতিহাসের পাতা,
কোনো প্রশ্ন ছাড়া ওঠবে সিলেটের কথা।
মনে আছে যত কল্প কথার আবির্ভাব,
চায়ের ধোঁয়ার সাথে জমে ওঠে বাষ্পবার্তা।

চায়ের বাগানের কোনে ছোট্ট দোকানখানা,
ঐতিহাসিক বাস্তবতা আছে নিরিখে লেখা।
প্রমিক যুগল থেকে সব লোকজনা বাঁধে আড্ডা,
কবিনেতা থেকে অভিনেতা প্রত্যেকের মুখে চায়ের কথা।

শ্রমিকের নাকের ঘাম মধ্যবিত্তের হাসির দাম,
সব যেন একি শিকলে বাঁধা চায়ের কাপ।
হয়তো চা খেতে খেতে কয়জনা দিয়েছে ডাক,
পথিক তুমি এঁকে যাও কিছু ইতিবৃত্ত রেখা।

আমার পুঞ্জীভূত ক্ষোভ মিশিয়ে চায়ের কাপে,
ওদের ওষ্ঠীভূত লোভ প্রকাশ্যে জেগে ওঠে।
হয়তো শিল্পির আঁকা দৃশ্য জলছবিতে তুলির আঁচড়ে,
সবি যেন মিশ্রিত হয়ে গলে গেছে চায়ের সাথে।

রাস্তার মোড়ে কেটলির নলে ধোঁয়ার সাথে,
কতো ঐতিহাসিক কথা জেগে ওঠে অতৃপ্ত হৃদয়ে।
হাজার বছরের আয়োজন তবে কী শেষ হবে না?
দ্ব্যর্থক হাসি হেসেই প্রকৃতিতে চায়ের নির্জাসের কথা।

কত কবি সাহিত্যেক ধূমায়িত চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে,
লিখে গেছেন কালজয়ী গল্প,উপন্যাস আর কত লেখা?
স্বপ্ন বুননকৌশল শেখার তীব্র আকাঙ্ক্ষা চায়ে সাথে,
সকলি যেন জেগে ওঠে এক কাপ চায়ের ধোঁয়ার সাথে।

নীল আকাশ

মোঃ রায়হান কাজী

মন আকাশে মেঘ জমেছে,
রৌদ্রছায়া আলোর দেশে।
যাচ্ছে কেঁটে দিন অভিসারে,
বৃষ্টি জমছে চোখের কোণে।

নীল আকাশে পরীর ভেসে,
কে ভাসালো সাদা ভেলা।
ভ্রমর ভোলে মধু খেতে,
উড়ে বেড়ায় ফুলের দেশে।

কিসের নেশায় গেছি খেপে,
নদীর তীরে বিন্দাবন কাশবনে।
কিসের তরে নদীর চরে,
ওরা যাবে আজ ঘরের বাইরে।

আজ আকাশ-পাতাল ভেঙে,
বাহিরে বসে নেব রে সব লুট করে।
বাতাসে আজ ওঠেছে ধ্বনি,
কিশোরীর মুখে হাসির রেখা দেখে।

নবীন বরণ

একদা নবীন রাতে যৌবন উথলিয়ে ওঠে,
বাহির দ্বার বন্ধ করে ভিতরটা আলোকিত করে।
স্বপ্ন থেকে তরঙ্গ সঞ্চার অবিরতি ভাবে,
কম্পমান হচ্ছে গায়ের লোমকেশ দিয়ে।

হাজারো তারারা খেলছিলো গগনচুম্বীতে,
চাঁদের বুড়ী হাতছানি দিচ্ছিল ধরনীর মাঝে।
হয়নি কখনো দেখা নিরখিয়া আকাশে,
শীর্ণ হয়ে শুকতারা এসেছে পূর্বতটে।

অন্ধকার কোণে বিকাশ জাগরণে,
এখনো ভাঙেনি ঘুম নিশিভোরে।
পশ্চাতের মুখে ছিলো দীর্ঘ রাজপথ,
এখন শুধু আছে ধ্বংসাবশেষ দাঁড়িয়ে।

আপন মনে বসে সরু রাস্তার কাছে ভাবিয়া দেখি,
অরুন-রাঙা চরণে উঠতেছে সূর্য মামা হেসে,
লাল রক্তিম আবছায়া পূর্ব দিগন্তের কাছে।

কোনো এক ধূসর গোধূলি বেলার সন্ধ্যায়,
ঘুমের মাঝেই বিরূপ যেন পূর্ণদ্বারে একাকার।
ঘুমের সান্দ্রতার সাথে নিস্তব্ধতা বিরাজ করে,
কোথাও খুঁজে পাওয়া মুশকিল জনপ্রাণ।

ছোট ভাই-বোন আর বাবা-মা সকলে একত্রে,
ঘুম নামক বস্তুটার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে।
বিলীন হয়ে যায় পেরেশানি আর মাথাব্যথা,
এসব নিয়েই তো চলছে আমাদের জগতটা।

ব্যাকুল নিরিখ নয়ন জোড়া মেলিয়া,
মুদিত পলক ফেলিয়া দৃশ্যমান সীমারেখা ,
মানেনা বাঁধা হৃদয়দল বহিঃ ভূত আখাক্ষা।
মৌসুমী গাছের ঝরাপাতা আছে বিছিয়ে,
হলদেতে আভাতে নীরিখ আঁখির ফাঁকের
দেখি চেয়ে কী আছে নিভৃত নিকেতনে?

উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রঙিন কলমে চিত্রখানা আঁকি,
কিছুটা লেখালেখি করি ডায়রির পাতার মাঝ।
তার সঙ্গে নিদ্রানিমগনা আপন নামধাম সঁপিলাম।
মুক্তা-মনির দেশে বাঁধিয়া অলংকরণ রাজবালা
পড়িয়ে দিবো তাকে সবুজের গালিচার মঝে।
নবীনকে করিবো বরণ হাসি-ঠাট্টা আর উল্লাসে।

অভাব থাকে বাষ্পে

কখনোই-বা যদি না আসো আর,
ফুটন্ত গোলাপের মতো নাই-বা ফুটো।
বাষ্পীভূত হয়ে উবে যাও দূরে,
বাতাসের মতো নাই-বা মিশো আকাশে।
সেও এক অন্য অভিজ্ঞতা ছায়ানটে।

কালো গোলাপের মতো করে,
খানিকটা অভাব মনে হয় হৃদয়ে।
তোমার অভাবটা থাকে সংগোপনে,
আমার অভাবটা থেকে যায় সূদুরে।

কে জানে হয়তো তোমার অভাব,
পোড়াবে আস্তাচলের শেষে?
গোধূলির সুর্দশের সাথে মিশে,
উড়াল দিবো নীলাভ অঞ্চলে।

অগণন পুষ্পসহিত প্রার্থনাতে
বিগলিত হাসি হেসেই প্রকৃতিতে,
আশ্চর্য দর্শন বহু আছে মৃদু ঘ্রানে।
পূর্ণিমার তিথিতে অস্ফুট লজ্জা,
ম্লান ক্ষীণ চন্দ্র ভাসে বাতাসে।
আত্মা ত্যাগের বিনিময়ে কীইবা থাকে,
এরূপ বহু দর্শন আছে মায়াবতীর কাছে।

আমায় কেন বসিয়ে রাখ

রৌদ্রস্নাত প্রকৃতির মাঝে গুঞ্জন ওঠে,
মেঘের পর মেঘ জমেছে হৃদয়ের স্পন্দন জুড়ে।
আঁধার কালো হয়ে বৃষ্টি ঝড়ে নয়ন জোড়া দিয়ে,
আমায় কেন বসিয়ে রাখ একাকী নির্জনে?

দূরন্ত বাতায়নে জাগ্রত হচ্ছে প্রাণসঞ্চার,
স্বপ্ন বুননকৌশল বিধস্ত হবে কী অবেলাতে?
সূদুর প্রান্তের কাছে নীহারিকাগুলো যাচ্ছে ভেসে,
আমায় কেন বসিয়ে রাখ তোমার আশ্বাসে?

ধূসর গোধূলি বেলায় মেলে আঁখি,
কেবলি চেয়ে থাকি সীমাহীন গগনবিহারীতে।
কখন ধরা দিবে তুমি আমার মনের জানালাতে,
আমায় কেন বসিয়ে রাখ জনসমুদ্রের ভিড়ে?

শতদলের পদ্মরাজে জ্যোতিসমুদ্র মধু পানে,
কথাগুলো সব থমকে আছে নিরন্তর পথচলাতে।
বার্তাগুলো সংগোপনে রাখবে কী তোমার কাছে?
আমায় কেন বসিয়ে রাখ আক্ষেপের অন্তরালে?

অকূল স্রোতে গাঁ বাসিয়ে এখনো বসে আছি,
স্রোতস্বিনী হয়ে ভাসবে কী তুমি আমার সাথে?
ভাবনাগুলো দিচ্ছে উঁকি ভরা-পালে গৃহায়ণে,
আমায় কেন বসিয়ে রাখ খেয়াঘাটের প্রাঙ্গণে?

বাজিয়ে আপন তূর্য

আমরা যাবো এগিয়ে সকল কিছুর উর্ধে গিয়ে,
সহস্র বাঁধা ডিঙিয়ে বিজয় চিনিয়ে আনতে।
এগিয়ে আমরা চলবোই অধীর উদ্দামে সুপথে,
থাকবো নাতো অন্ধকার কোণে কুণ্ঠিত হয়ে।

রইবে যারা পিছু কিছুর টানে ভ্রান্তির মাঝে,
কাঁদবে তারা কাঁদবে,পথ হারিয়ে শূন্য পথে।
মন আকাশে কালো মেঘ জমিয়ে অশ্রু যখন ঝড়বে,
কে তোমাকে জড়িয়ে ধরে আপন হৃদয়ে রাখবে?

রৌদ্রছায়া আলোর ফাঁকে গাছগাছালি নাচছে,
আপন গন্ডী ছাড়িয়ে গিয়ে কোনখানেতে থাকবে?
মধ্যদিনের সূর্য যখন মাথার উপর ডাকছে,
আলোর নেশায় গেছি খেপে ওরা ওতো ফুঁসছে?

ছিঁড়বো বাঁধা রক্ত হাতে সাহস সঞ্চার করে,
চলবো হেঁটে রৌদ্র স্রোতে আপন কাজে।
সাগর-গিরি করবোই জয় দুর্নিবার নির্জনে,
একলা পথে করিনিতো ভয়,না থাকলেও সঙ্গী।

নিজের ঘোরে আছি মেতে বাজিয়ে আপন তূর্য।
দাঁড়িয়ে আছে ওরা গন্ডী পেতে একলা পেয়ে,
সব ছাপিয়ে পিছন ফেলে ডানাঝাপটিয়ে মন আকাশে,
আনবো ছিনিয়ে বিজয় ধ্বনি,ওরা ওতো কাঁদবে।

সাঁজের বেলায়

সাঁজের বেলায় অকূল স্রোতে গাঁ ভাসিয়ে,
জীবন চলছে অনিশ্চিত গতিবিধির তালে পা মিলিয়ে।
অস্তাচলে গাছের ফাঁকে ভাসছে পাখি আকাশ প্রাণে,
সূর্যি মামা হাঁটছে যেন তারি সাথে দিন অভিসারে।
দেখছি আমি জগতটাকে খানিকটা ঘুরে ফিরে,
মনের মাঝে রং লাগে তাই প্রকৃতির বাহারি সাঁজ দেখে।

চিনবে কী আমায় অনেকের মাঝে একজনা?
একটি-দুটি যায় যে তরী ভাটির সাথে ঘরছাড়া,
হৃদয়ের অন্তরালে লাল-সবুজের চিত্র এঁকে,
দেখবো আমি নীরের বেলায় ঘরে ফেরা সূর্দশনকে।

চলেছি আমি একলা পথে দিগন্তের কোল ঘেঁষে,
বিকেলের ঐ রক্তমাখা সূর্য মামার হাত ধরে।
যাচ্ছি ভেসে উজান দেশে আলোছায়ার নগরিতে,
নামিয়ে মুখ চাহিয়া সুখ তৃষ্ণা আশা সুখের খোঁজে।

দিনের শেষে ঘুমের দেশে অন্তঃনিদ্রা পরম আবেশে,
ঘোমটা-পরা ঐ ছায়া,ভুলালো আমায় ক্লান্তদিন শেষবেলা।
স্বপ্নময়ী সোনার কূলে আঁধার মূলে কোন মায়া?
জানিনা আমি জানিনা অন্তরালের এই ছায়া।

প্রভাত ফেরী আর শেষবেলা গেছে যারা তরীর টানে,
যারা যাবার তারা তো গেছে অনেক আগে নীরে।
তীরেও না নীরেও না যে জন আছে দোটানা,
থাকবে কী তারা মাঝখানে একলা পথে দাঁড়িয়ে?
সময়ে সাথে দিনের আলো যাবে নিভে বুঝিনা,
চোখের কোণে অশ্রুকণা চেপে রাখতে হাসি পায়,
জীবন মাঝে সাঁজের পথে আলোর সাথে কেন চললে না?

নিছক অবজ্ঞা

ভাসিয়া জীবনতরী জপিছে নামখানি,
নিস্ফল হয়েছে নয়ন জোড়া অসৎ কাজকর্ম দেখে।
লোক সম্মুখে বহির্মুখে পারিনি তো চাইতে,
মিথ্যা রোষানলে অনেকে পুড়ে অপবাদের আগুনে।
তরঙ্গ সঞ্চার করি মনের আনাচকানাচে,
ছড়িয়ে দেয় নিছক অবজ্ঞা মানবের তরে।
অবহেলার ভেড়াজালে আটকিয়ে দিবো তাকে,
এই মনোভাব ব্যক্ত হচ্ছে দিকবিদিকশুন্য পথে।

প্রবাহমান এই সংসারে সূক্ষ্ম রেশমের জালে,
মগ্ন থাকি সকাল,দুপুর মধুর তিমির বাসরে।
সহস্র সংলাপ বহুপাক্ষিকতার পথ চেয়ে,
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচার কাজকর্ম চলে।
লক্ষ্মণের আগমন যেন না শুকায় মাঝ নদীতে,
কেনই বা লুকিয়ে থাকবে মনুষ্যত্ব আড়ালে।
প্রকান্ড জগতের মাঝে জীবনী স্মতিতে কর্ম,
মুদ্রিত পাতা কেন কাঁদছে অন্ধ আঁখি মেলে?

চিন্তিত কাননে বলে কত কী খরস্রোতা নদীতে?
রক্তছবি দিনান্তের ক্লান্ত রবি উঠলো যে গগনে।
কুমান্ডের অভিসারে দীর্ঘ পথ চলাতে বহুরূপী,
মনের গহীনে জমছে ধূলা নিরবে নিভৃতে আচারবিধি দেখে।

দুর্বল দুরাশা

হৃদয়ের এ কেমন দুর্বল দুরাশা,
অভিশপ্ত দেহে প্রেতাত্মার পিপাসা।
সাধের বস্তুর মাঝে ও রহিয়াছে উতলা,
চাই আরও চাই এই মনের কামনা-বাসনা।

সলিলসমাধি রয়েছে শুধু নেই দেহখানা,
নিষ্ফল হয়েছে ভাবাবেগ মত্তলোকের আশা।
চরণ দুখানা নির্বিত্তে ফুলের শৃঙ্খল সাজিয়ে,
বিশ্বদর্শনে চিত্রপট যেন তুলির আঁচড়ে আঁকা।

পথের কাছে বসে কেবলই দূরে তাকিয়ে থাকা,
সকলি হয়েছে নিস্ফল নিরাশা জীবন দুরাশা।
মানবজীবন নিয়ে একান্তভাবেই থাকে জড়তা,
কাটেনি তো তার কিছুই কাটেনি নিছক আবছায়া।

কোথায় রহিয়াছে জীবন সংসারের রহস্য?
অন্বেষণ ভূমি নিজের অস্তিমজ্জায় চিন্তাধারা।
মহত্ত্বের আশার মাঝে কাঁটে নিতো নিরাশা,
কোথায় দিবো ঝাঁপ কাটেনাতো জড়ত্ব নির্বুদ্ধিতা।

মণিকোঠা

চোখের মণিকোঠার কোণের দিকে দেখিয়ে,
তুমি হাস খিলখিল করিয়া না বুঝে!
দেখিয়াছি নিজের প্রাণ চাহিয়া উল্লাসে,
নিশি রাতদিন কাটে সাবধানে সর্বাঙ্গ জুড়িয়া।

আপনপর ভুলিয়া দক্ষিণপবনভরে পরিহাস,
আমি তাই লাজে যাই মরিয়া স্রোতশ্রীনি ধারাতে।
পুলকব্যাকুল হিয়া অঙ্গ জুড়ে ওঠে যে শিহরিয়া,
সতত রাখিতে আর পারিনা ধরিয়া রুদ্ধশ্বাসে।

আমার অন্তরদামী চেতনা জাগে অবেলাতে,
কেন যেন লেখা আসেনা ভিতর থেকে?
নাকি অসময়ের শব্দভেলা রয়েছে থমকিয়া?
আঁধারের আলোতে বদ্ধ ঘরে বসিয়া সংগোপনে
রদ্ধ হবে যখন শ্বাস অর্ধেক জানালা খুলিয়া,
অফুরন্ত জীবনীশক্তি নিবো আহরণ করিয়া।

সূর্য রশ্মির ছোঁয়াতে সমীকরণ গুলো যায় গুলিয়ে,
বসি গিয়ে বাতায়নে স্বপ্ন ডোর রোদ্দুরে ঝলমলে আলোতে।
ক্ষণতরে পুষ্প বাসর সাজিয়ে বক্ষ পিঞ্জরে,
অঙ্গখানি নবযৌবনকে ভালোবেসে হেনকালে।

পুষ্পের গন্ধ ভাসে খোলা-আকাশে স্বপ্ন বলে,
কিছুই আর থাকেনা তো স্মৃতির নীতিতে।
এমনি করে সকলবেলা ধরনীতে চঞ্চল খেলা,
নবীন শির যায় লুটিয়ে কোনো একদৃশ্যপটে।

হৃদয় প্রাণ সকল কিছু করিবো দান মুক্ত প্রাঙ্গনে,
শুধু রাখবো শরমখানি নিজহাতে সযত্নে মুড়িয়ে।
আঁখি জোড়া মেলে দেখেছ কী ধরনী অন্তরালে?
নাকি মণিকোঠা এখনো রেখেছ বন্ধ অন্ধকারে।

জাগ্রতচিত্ত রবির কিরণে

আজি এই রাঙা প্রভাত ফেরিতে,
জাগ্রতচিত্ত ফুটে ওঠে রবির কিরণে।
হৃদয়ের কিনারা জুড়ে মৃদু বাতাস বহে,
প্রাণে মোর সুখের আবেশ লাগে দমকা হাওয়াতে।
কী করে পশিল গুহার আঁধার আবছা মনে?
তা জানিনা ওগো অন্তরজামী নীর।

মনের বাসনা আবেগ রুধিয়া রাখিতে পারি না,
অম্লকাননে ফুটছে ফুল দ্বারে দ্বারে সকলের তরে।
আর কত দূর বহুপথ হেঁটে, যাবো পাথরের দেশে?
সেখানে কী ফুটবে ফুল বিনা অশ্রুপাতে?
নাকি ঢালিব করুণাধারা পাহাড় ডিঙিয়ে,
ভাঙিবে পাষাণভার জগৎ জুড়ে।

রৌদ্রের তীব্র তাপে থরথর করিয়া কাঁপছে পাথর,
রাশি রাশি অগ্নিফুল্কি করছে গ্রাস মস্তিষ্ক।
এখানে ওখানে উঠিলো ফুলিয়া ফেনিল সলিলে,
ঘুরিয়া ঘুরিয়া পাগল প্রায় মিথ্যা রোষানলে।
বিধাতা এতো পাষাণ কেন ভাঙেরে হৃদয় বাঁধন?
বাহির হতে চাই, দেখিতে নাহি পাই কোথায় আপন দ্বার।

আঘাতের পর আঘাত লাগে প্রাণ আমার মাতিয়া ওঠে,
উঠলো কেঁপে পরম বাসনা, ধরনীতে আর কিসের ভয়,
কিসের আঁধার আর কিসের সংশয় বলো আমায়?
মনের ডানা মেলিয়া, প্লাবিয়া বেড়াবো গাহিয়া।
চুল উড়াইয়া, ফুলের সুগন্ধে মন উজাড় করিয়া,
মেঘের শেষে রামধনু আঁকা চিত্র দেখিবো একান্ত নির্জনে।

সূর্য রশ্মির সাথে উঠবে হাসিয়া বুঝি প্রভাতপাখি,
কিচিরমিচির শব্দে কলরবে মুখরিত করবে মুহূর্তখানি।
এতো সুখসুধা কোথায় রাখি, প্রাণ হয়ে আছে ভোর।
কত কথা আছে মনে, স্বপ্ন আঁকা আছে যে বুকে?
কত সুরের তালে দেখনা আমার মন বেজে ওঠে?
এত সবের মাঝে রবির তালে মন ভাসে উজান স্রোতের টানে হৃদয় হাসে।

অধীর উদ্যমে

মনের জানালা আজ আলগোছে খোলে,
প্রভাতের আকাশে শিশির ঝলমলিয়ে ওঠে।
নদীর জলরাশিতে হচ্ছে প্রতিফলন,
সূর্য রশ্মি আলোক কর্ণার সহিত আলাপে।

রৌদ্রস্নাত প্রকৃতির মাঝে নিবিড় বন্ধনে,
এরা এসে দাঁড়ায় সবাই একসাথে।
হৃদয়খানি উঠছে দুলে ধরনীর মাঝে,
তৃনমূল আর পাখপাখালিদের সঙ্গে করে।

তাই তো আমি দেখি বিশ্বভুবনখানি,
দাঁড় বাইতে ভয় অকূল সাগরের জলরাশি।
ঋষির একতারাতে গানের পসরা সাঁজে,
সুরের সাথে প্রাণের স্পন্দন মিলিয়ে।

বিশ্ব পরিমন্ডলের মাঝে পর্দা ওঠে,
উড়ে যায় মন তোমার নাম ধরে ডাক দিয়ে।
আলোতে তাই সকল কর্ম ভুলে অনিমিখে,
তুলছে যেন তান ধরনীর বুক জড়িয়ে।

থাকি না আমি বেশিক্ষণ দূরে,
গানের সুরগুলোকে সঙ্গ করে তোমার চরণমূলে।
মনে হল এই গান, যেন আমারি প্রাণ।
নেব আমি শিখে চর্চা করে অধীর উদ্যমে।

poems by Junaid khan

অন্বেষণ করি সোনার তরী

আর কত দূর নিয়ে যাবে আমায় বলো হে পথিক,
বলো না কোথায় গেলে পাবো খুঁজে সোনার তরী।
কোন পারে ভিড়িবে ডিঙি বুঝিতে পাড়ি না,
কী জানি আছে ভাগ্যকূলে বৈঠা হাতে দ্বার টেনে?

যখনি বলি দূর দেশী ওগো সহযাত্রী বিদেশিনী,
তাকিয়ে দেখি হাসিমাখা মুখখানা মধুরহাসিনী।
বুঝিতে পারিনা কী আছে তোমার অন্তর জুড়ে?
তবুও অনুধাবন করি বৈচিত্র্যময় প্রকৃতি থেকে।

কোথায় চলেছি কিসের অন্বেষণে তাহা না খুঁজি?
কী আছে কোথায় নীরবে দেখী রুপ সুধায় অন্তর দামী?
প্রাতের বেলায় অকূল সিন্ধু উঠিতেছে জাগিয়া,
দূর গগনতলে ডুবিতেছে তপন পশ্চিমে গিয়া।

দিনের আলো শেষে সন্ধ্যা নামে গগনচুম্বী,
ঝলিতেছে চিতা অন্ধকারে সন্ধ্যার বর্ণিল রঙে।
আসিতেছে হাওয়া তরল অনল,
তীরে পড়িয়াছে মেঘচুম্বিত অম্বরতল।

অস্তগিরির চরণতলে গলিয়া পড়িয়াছে,
দিক অভিসারে দীর্ঘশ্বাস জলোচ্ছ্বাসে।
যেন ছলছল আঁখিজোড়া অশ্রুজলে ভাসে,
ঊর্মিমুখর সাগরের জলরাশি গর্জে ওঠে।

সংশয়ময় ঘন নীল নীর চেয়ে না থাকি তীরে,
দীর্ঘশ্বাস ফেলি বায়ুতে সতত অন্ধ আবেগে।
অসীম রোধন পৃথিবী জুড়ে প্লাবিত হয়ে দুলিতেছে যেন,
এরি মাঝে বসে নীরব হাসি, হাসিতেছো কেন?

কেন জানি বুঝিনা বিলাস কী জাগিয়াছে তোমার হর্ষে?
তোমার নয়নে নবীন প্রাতে কে যেন ডাকিয়াছে প্রভাতে?
সম্মুখ প্রসারিত করে অসীম প্রাণে চেয়ে,
চঞ্চল আলো আশার বানী চিরন্তনীতিতে।

তারপর কখন যেন উঠিয়াছে মেঘবরণ বৃষ্টি ছবি,
হাসিতেছে রবি ফলিয়াছে ফসল শান্ত জলরাশি।
বেলা গরিয়ে যায় কোথায় অন্বেষণ করি আমার সোনার তরী,
স্নিগ্ধ মরণ কোথায় খুঁজি, যেখানে আছে সর্বদা শান্তির বানী।

খোরাক চাই অন্তরে

অজানাকে করিলে আপন
অন্তরে দিলানা ঠাঁই সহৃদয়ে।
পুরনো স্মৃতি ছেড়ে যায় কভু,
নতুনত্বের খোরাক চাই অন্তরে।
দূরকে করিবে যদি নিকট বন্ধু,
পরকে তাহলে করবে কী?
ভেবে চিন্তে উপায় না পায় ।

নূতনত্বের স্বাদ পেতে গিয়ে,
পুরাতনের সে কথা যে ভুলে যাই।
কত অজানা চোখের সামনে,
তাহা দেখিতে নাহি পাই জগৎ জুড়ে।
চির জনমের পরিচিত তবে,
নিখিল ধরনীর অন্তরালের চারদেয়ালে।
তোমাকে না জানলো কেউ অতঃপর,
নাই কোনো বাঁধা, নাই কোনো ভয়।

সবাই একসাথে স্বার্থপরতা দেখিয়ে,
যখন যেখানে লবে তোমাকে চিনবে সবে।
সর্বদা তুমি জাগিতেছ যেন ভিন্ন সুরে অন্যথায়,
রুপান্তরের ছেঁড়া জালের বিস্তার ঘটিয়ে।
তবুও কেন এতো পরিধি ক্রমশ বাড়ছে?
অর্থহীনতার জয়ধ্বনী সরবে উঠছে।
তা জানা নেই, বাতাস বহে মৃদুস্বরে।
আমার সুরগুলো উঠছে ভেসে অর্ধপূণ হারে,
কেন আমি পারিনা সমীকরণ মিলাতে?

poems by Junaid khan

না আসে বঞ্চনা

আসে যতো বিপদ আর বঞ্চনা এ দেহে,
ভয় না করি সাহসিকতার সাথে পথচলি।
কেউ নাই বা দিল সান্ত্বনা তাতে কী?
খারাপ সময়কে যেন করিতে পারি জয়,
এই আমার একান্ত প্রার্থনা।

সহায় লোকজন না জুটে এইক্ষণে,
নিজের সংকল্প সঞ্চারিত করে লভিলে বঞ্চনা।
আত্মাবিশ্বাস যেন কখনো না টুটে,
নিজের দোষে নাহি হয় ক্ষয় সশরীরে।
নিজের মানে না যেন দেয় দাগ কালো অক্ষরে,
অন্যকে তুমি করিবে দান খোলা হাতে,
সর্বদা এই নয় আমার প্রার্থনা প্রভুর কাছে।

তরিতে যেন তবু বেঁচেরয় আশার বানী,
তুমি কখনো নাহি মেনে নেবে বঞ্চনা।
এই মননশীল চিন্তাদ্বারা নিয়ে করি ঘাটাঘাটি,
নাহি বা কখনো দিলে সান্ত্বনা এই প্রান্তরে।
বহে যেন নদী এমনি করে স্রোতস্বিনী,
নম্র কাননে নিখিল ধারায় সুখের দিনে।

হাসি উল্লাসের মাঝে লইবো চিনে,
বৈচিত্র্যময় প্রকৃতির অপরুপ মুখখানা।
কখনো যদি আবার আসে বঞ্চনা,
নাহি যেন আসে মনে কোনো সংশয়।
এই আমার একান্ত প্রার্থনা তোমার তরে।

তৃণসম দেহ মিথ্যার কাছে

ন্যায়ের দন্ড প্রত্যের কাছে পৌছানোর
যে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ অর্পণ করেছি নিজে।
নিয়েছি শাসনভার শিরোধার্য সবিনয়ে,
সে গুরুসম্মান কার্যে কখনো ভয় করিনা।

দুরূহ কাজকর্মের কারণে আদেশ দেওয়া,
ক্ষমা যেন রুদ্র জলধারার অববাহিকায়
ক্ষীণ দুর্বলতা অসুবিধার ফাঁকে সুকৌশলে।
যেন হতে পারি নির্দেশক এই পথে ঘুরেফিরে,
ক্লান্ত বরষণময় দিনে আগুনের দমকা ছুটে।

মিথ্যার যোগে রসনাময় কথাবার্তা গুলি শুনি,
তাল মিলাতে গিয়ে একটুও না ভেবে শুরু করি।
সত্যবাক্য বুঝি আড়াল খোঁজে মিথ্যার কাছে,
ন্যায়দন্ড কেন আজ পিছিয়ে আছে থমকে জনসমুদ্রে?
তবুও কুমন্ত্রণা দিতে হাজারো লোকজন মুখিয়ে থাকে,
ভালোজন খুঁজে পাওয়া ভার এ সময়ের ছেঁড়া জালের অন্তরালে।

সত্যবাক্য ফুটে ওঠে অনেকটা পথ পিছনে ফেলে,
যেখানে মিথ্যায় ছিলো একান্ত কাম্য সবার কাছে।
তবে সত্য উদঘাটনে বদ্ধপরিকর হয়ে যুগান্তরে,
কেউ না কেউ হাতরে বেড়ায় পথেঘাটে জনস্রোতে।
উত্তপ্ত পরিস্থিতির ঝার্ণাদ্বারার কিনারা ঘিরে,
মিথ্যার জালে অনেকে যায় জড়িয়ে অচেতনের বেশ ধরে।
ঘৃণা যেন তৃণসম দেহ অন্যায়ের কাছে যে সহে।

poems by Junaid khan

জীবনতরী ঘূর্ণির মাঝে

লোকমাঝে আঁখি তুলে খুঁজেছি তোমায় চারিধারে,
ভাসাইয়া জীবনতরী ঘূর্ণি ওঠা উতালপাতাল ঝড়ে।
তরঙ্গ সঞ্চার করে লঙ্ঘন করিতে পারছিনা যে তোমাকে,
এরি মধ্যেখানে তোমাকেই জলছবি আঁকি স্বপ্নলোকে।

সহস্র সংলাপ বহুপাক্ষিকতার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে,
উঁকিঝুকি মারি তোমার পাড়াতে রক্ষক হিসেবে।
তবুও তোমায় দেখা মেলা দুষ্কর বারান্দাতে,
একি পথে ঘুরেফিরে চলে যায় বহুদিন ধরে।

রাত্রি আধারে তোমাকে নিয়ে মগ্ন থাকি নিশাচরে ভেসে,
প্রকান্ড ঝড়ের অন্তরালে আমি শুধু খুঁজি জীবনের মানে।
কী খুঁজিতে চাই, তা জানিনা আবার ভুলে যাই?
তবুও তোমায় চাই মন থেকে খুব করে।

যারা করেছিলো ভিড় নীল আকাশের নীচে,
তুমি কী আমায় সঙ্গ দিবে তাদের মতো করে?
সুদূর নীহারিকায় যারা খুঁজেছিলো নীড়,
তুমি কী তাদের মতো করে সত্য হবে এই পথে?

মায়াবী রক্তপ্রবাহ

লেখনীতে দেখ উড়িতেছে ফুলকি দেশান্তরীর মাঝে,
গুণী কবির ভক্তজনদের কাছে খ্যাতি রটিয়াছে সমগ্র প্রান্তরে।
সিদ্ধপুরুষের কাছে এসে সবাই জানছে ভালো করে,
হাজারো নরনারী এসে ঘিরে দাঁড়াল যে ছদ্মবেশীর রুপে।

কেহকেহ বলে ছেলে একখানা লাখে পাবে কী খুঁজে,
বাবা-মার কাছে সন্তানের কৃতিত্ব অর্জন,
ছড়িয়ে পড়ছে যে লোকজনের মুখেমুখে।
এসবের কারণে কতলোকজন ছুটছে পিছেপিছে।

হিংসায় বহিঃ ভূত হয়ে কারলাগি করে কাঁদাকাটি?
জনসমাগের ভিড়েতে বন্ধ্যা রমনীগণের মতো করে।
কেওবা বলে দৈব ক্ষমতা আছে কী তার ভিতরে?
অনেকেই আবার বলে দেখাও তা প্রমাণ করে।

কীইবা আছে প্রমাণের ক্ষুদ্র জীবনের তরে,
লেখনীতেই আছে প্রমাণ বলার আর কী বাদ থাকে?
জন্ম যখন উচ্চ ঘরে রক্তপ্রবাহী বুঝি তারিমতো চলে,
মধ্যেবিত্ত ঘরে বেড়ে ওঠাতাও যেন কম দুঃসাহসিকতা নহে।

ভেবেছিলাম তুমি এসেছিলে আমার কাছে আপার কৃপায় ভরে,
চক্ষু দুটোর আড়ালে বুঝি এসব কথাই ভাসে।
একোন খেলা খেলছো কৌশলে মায়াবীনি হয়ে,
বুঝিয়ে দিলে আমার ফাঁকি বিশ্বদরবারে।

নবান্নের দেশে

কার্তিকের ঐ নবান্নের দেশে,
শুভারম্ভের সূচনা ঘটে শীতকে নিয়ে।
উত্তরের হাওয়া বইছে দেখ বিস্তীর্ণ সীমারেখা জুড়ে,
ঘাসের ডগায় শিশির জমেছে মুক্তামণি হয়ে।

সূর্যের আলো পড়লে গায়ে মৃদুতা কেঁটে যায় মন থেকে,
রশি কাস্তে হাতে করে কৃষকেরা সব ফসলের মাঠে দিকে ছুটে।
আমন ধানের গন্ধে ব্যাকুুল কৃষাণীরাও মুচকি হাসে,
কীযে দারুণ অনুভূতি হচ্ছে দেখ হৃদয়ে দোলা লাগে?

ঠান্ডা হাওয়া আকাশ জুড়ে নতুন সুরে দেশ ভাসে,
খেজুর রসের গন্ধে মাতোয়ারা হয়ে মৌমাছিরা সব ছুটে আসে।
সাত সকালে মায়েরা সব হুলুস্থুল করে চুলার কাছে ছুটে,
পিঠাপুলির আনন্দে বাঙালিরা সব খুশির আমেজে মাতে।

নবান্নের এই সময়টা আসলো যে আবার ফিরে,
তৈরি হবে সুস্বাদু আর কত রকমের বাহারি সব পিঠে?
হেমন্তের এই উল্লাসে মন চায় হারতে দূরের ধূসর প্রান্তে,
কুয়াশা মাখা শীতের চাদরে খুঁজে পাবে না কেউ আর আমাকে।

poems by Junaid khan

হৃদয় ভূমির খোঁজে

হৃদয় ভূমির খোঁজে অনেক লোকজনের ভিড়ে,
জাগিয়া আছে কী কোনো নীতি নির্ধারনী অচল স্মৃতি।
ধবল শৈলী কারুকার্জ নির্মিতব্য আছে কী হিমগিরি?
আমার দিবসে রজনী আসে যায় ফিরে প্রান্তের কিনারা ঘিরে।

যেখানে আমার চরণ দুখানা পড়েছে মর্ম গভীরতম,
উন্নত শির করিয়াছে সকল উচ্চ মম অবিরত।
রঙিন মেঘেদের মতো আছে কল্পনা শত,
হাসিতেছে কাঁদিতেছি স্নিগ্ধ মমতায় হচ্ছে নত।

শিখর গগননীল দর্গম জনহীন বাসনা বিহীন,
কাটছে যে রাত্রিদিন নিরক্ত অন্তরের প্রলাপে অনন্তকাল।
ফুলপল্লবভারে শ্যামল তরুলতাগুলি সাঁজে,
সবুজ লতাপাতা দিয়ে বাহুবেষ্টন জুড়ে জড়াইয়া অঙ্গখানি৷

চারদিকে হাজারো রকমের মানুষের আনাগোনা,
কত গীত কত কথা বলছে দেখনা নীতিমালা?
মাঝখানে দাঁড়িয়ে ধ্যানের মতো নিশ্চল নিরবতা।
চিত্তগগনে উঠছে ভেসে অস্তমিত নিত্যনীহারিকা৷

স্থান চাই

খোলা প্রান্তরে ঘাসের ডগায় শিশির জমে,
জাগ্রত দ্বারে বাতাস বহে পরম আবেশে।
হৃদয় আমার নৈব আনন্দে বিমোহিত করে,
আমার সাথে তুমি আছো কবে থেকে?
মিলন লাগি তাহার সাথে সকাল সাঁঝে,
চন্দ্র,সূর্য তোমায় কেমন করে রাখবো ঢেকে?

গোপন দূত এসেছে আমার গৃহে,
কতকাল ডেকেছে আমায় চরণধ্বনির তালে?
ওগো পথিক, সময়ে পরিক্রমা থেকে বলছি শোন
হৃদয় হর্ষ কেন জানি উঠছে আজি কেঁপে কেঁপে।
ফুলের ভুবন থেকে সৌগন্ধ আসছে ভেসে,
ফুরোলো কী কাজ তবে আমার জগৎ সংসারে?

পায়ে পায়ে এগোতে এগোতে জীবন সন্ধিক্ষণে,
আমিতো চেয়ে আছি সকলের সবা-প্রাণে৷
স্থান চাইছি মানবের মাঝে স্মৃতিচিহ্ন হয়ে বাঁচতে।
ধূলিকণা পূর্ণ ধরনীতে সবকিছু নিচে চাপাপড়ে,
যেখানে আসনের মূল্যায়ন দিতে না হয়।
যেখানে মানে আর অপমানের রেখা দিয়ে,
ভাগ করার মতো অবশিষ্ট কিছু না থাকে অন্তরে।
আমি থাকতে চাই সেথা সকলের মাঝে।

যেখানে মিথ্যার আসনে না বসে সুচিন্তিত হয়ে,
বাহিরের আবরণে না ঢেকে নিজের মনুষ্যত্বকে।
উলঙ্গ আপনার একমাত্র পরিচয় এই দ্বারে।
এর বেশি কী আসে বলার ভাবিয়া পাইনা শেষপ্রান্তে এসে।
যেখানে সত্য নিয়ে বাঁচবো আমরা সকলের তরে।
যেথায় মিথ্যা কখনো ঢাকবে না আপন হৃদয়খানি,
ভরিয়া লইব সততার পরম দানে জগৎ বানী।
সেথায় স্থান চাই আমি সকলের প্রাণে।

poems by Junaid khan

তোমার অন্তরালে

চাইছি নাকি আমি তোমায় কে যেন বলে ভাই?
এ কথাটি সদাই আমি শুনতে কেন পাই?
তুমি নাকি আমায় আকড়ে ধরতে চাও লালসা নিয়ে,
স্বার্থ অন্বেষিত হয়ে মিথ্যা রোষানলে পুড়াইতে চাও আমাকে।

আমি এখন আর এসবের কাছে নাই রক্ষা করো প্রভু আমাকে।
থাকতে চাই দূর বহুদূর এসবকে পিছনে ফেলে, হয়তো ভবিষ্যতের আড়ালে জাগরণী বার্তা নিয়ে।
সর্দা মানবের কল্যাণে করবো কাজ নিজেকে বিলিয়ে।

আমি থাকতে চাই নিজের সত্তায় মগ্ন হয়ে তোমাতে,
রক্তে মাংসে মিশে থাকা একান্ত প্রিয়জনের হাত চানিতে।
তুমি আমার অপেক্ষায় বসে থাকা বেঞ্চের কোণে আলোড়নে।
জাগ্রত দ্বারে তোমার ভালোবাসায় ডুবন্ত আমি অবেলাতে।

শুনেছো তুমি অনেজ কিছু তাও বলতে চাই,
মিথ্যা সবি অভিনয় কীভাবে বুঝায়?
রাত্রিতে যেমন ডুবে থাকে ঘোর অমানিশায়,
তাইতো প্রার্থনায় হাতরে বেড়ায় আলোর নিশানা।

নির্জনতায় গভীর মোহের মাঝে স্মৃতিকে লুকাই,
অশান্ত ঝড়ের অন্তরালে তোমাতে কেনই বা হারাই।
শান্তি তবু চাই সে প্রাণে, রৌদ্র ছায়ায় ফুল কুড়িতে।
মিষ্টি হেসে আলোর দেশে বাঁচব মোরা একসাথে।

মাতৃবন্দনা

নতুন দিগন্তে কল্যাণদায়িনীরূপে,
মাতৃবন্দনা জাগ্রত হয় শিশুপ্রাণে।
নব আনন্দে রসস্রোতে পূর্ণ করি
স্নেহময় তৃষ্ণা ভালোবাসা দিয়ে ।

কত তৃষ্ণা আশা আছে দেখনা প্রাণে,
কত রসে আকর্ষণ করছে দেখ সুখে দুখে?
হৃদয় ভূমির খোঁজে মায়াবন্ধন জুড়ে,
দুর্লভ জীবনে শূণ্যস্থানে ধূলোবালি জমে।

জনমে জনমে মাতৃ বন্ধন নষ্ট হয়,
ছিন্ন করিতে কেন চাস মুক্তিভ্রমে!
প্রাণে মনে রৌদ্র দীপ্ত কিরণে
নিয়ে যাবো নব আস্বাদে আশ্রমে।

হোকনা উল্লাস বর্ণগন্ধগীতময়
মাতৃস্নেহে সুখতৃষ্ণা সবার দ্বারপ্রান্তে।
শিশু তুমি বিপুল ভুবনের কর্ণদ্বার,
কেন রবে ঘুমিয়ে অন্ধকার কোণে?

হৃদয়ের উৎসমুখ

যে ধ্বনির তালে হৃদয়ের উৎসমুখ হতে ,
জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া যায় বিস্তৃত বাতায়নে।
মানব মানবের কাছ থেকে শিখবে
সংকোচন বোধ দূরে ঠেলে মুক্ত গগনতলে।

বিশালা বসুন্ধরার মাঝে রাখিনি তো ক্ষুদ্র করে,
চিত্র যেখানে ভরশুন্য, উন্নত মর্মশির কেন দূলর্ভ?
জ্ঞান যেখানে মুক্ত প্রাঙ্গণের মতো হাস্যে উজ্জ্বল,
মানুষ কেন গ্রহণ করেনা সহজলভ্যভাবে শিক্ষাকে।

অজস্র কর্মধারায় চরিতার্থতায় চিন্তিত বিস্তার,
তুচ্ছ আচারের বিচার কার্য কেন ক্ষীণ এই পথে।
কেনইবা সর্ব চিন্তাভাবনা উচ্ছ্বাসিয়া ওঠে প্রাণে,
নিজ হস্তে নির্দয় আঘাত স্বর্গ করো জাগরিত।

উৎসব মুখ হতে নির্বারিত স্রোতের টানে,
জাগ্রত দ্বারে কর্মধারায় ফুলের বাসর সাঁজে গৃহে।
পুরুষ যেখানে করেনি নিত্য স্রোতপ্রবাহকে অবজ্ঞা করে,
নারী কেন ভাসে উজান স্রোতের সঙ্গিনী হয়ে?

poems by Junaid khan

শীতের হিমানী

শীতল হাওয়ায় স্নিগ্ধ জোছনার মৃদু আলোতে,
রাতের চাঁদনি উঠছে হেন ঝলমলিয়ে যামিনী।
একলা বসে নদীর ঘাটে দোদুল্যমান ঘোলাটে জলে
অর্ধনিমীলিত নয়নে দেখী কে যেন আঁকড়ে ধরছে আমাকে?

ভূতুড়ে আভা ছড়িয়ে আছে মনে হয় পরিবেশে,
ধূসররঙের কুয়াশার মাঝে দেহে কাঁপুনি ওঠে।
একাকীত্বের ছায়া গ্রাস করে সর্বঅঙ্গ জুড়ে।
বির্বণ অবয়ব ভয়ঙ্করদর্শন জাগ্রত হয় বক্ষ দ্বারে,
তবু না হেরি মম বিষন্ন মানবরুপ বিদঘুটে অন্ধকারে।

উত্তরের ঠান্ডা বাতাসে ভাবুক মন ওঠছে শিহরিত হয়ে,
দেহের লোমগুলো কাঁটা দিয়ে ওঠে সশরীরে,
দূরের বাঁশ ঝারের পাতার ফাঁকে জোনাকিপোকা
বসেছে বুঝি ক্ষুদ্র পরিসরে আলোর নৃত্য মেলা।
শুভ্রকুহেলিরা ধীরে ধীরে জড়ো হচ্ছে ছায়ানটে,
আসমানী পরীর দল নেমে এসেছে মর্ত্যলোকে।

স্ফীত বক্ষের সুধাভরা স্তন দোদল, নৃত্য হেরিতেছে
ধবধবে সাদা নগ্ন দেহে হেম ডানা মেলে নিশাচরে।
কাঁচা হলুদের মতো রুপের আভাতে রাত্রি অভিসারে,
রুপো’র নুপুরের শব্দের সাথে সুরের সূচনা ঘটে,
শিখণ্ডীর নৃত্য পরিবেশনে নিতান্ত প্রাসঙ্গিক ভাবে।
নেশা ভরা আঁখি জোড়া মেলে পরীদের নৃত্য হেরী,
সরু মাজার আঁকানো বাঁকানো হরিণীচোখের চাহনিতে।

শীতের হিমানী মগ্ন মধুর আলাপে রাত্রি-দুপুর দিবসে,
শান্ত জলরাশির প্রাণে স্তব্ধতার সাথে স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে।
তরুবনের নিশাচর পতত্রীদের ঐশ্বরিক বীণা সুরে,
আকাশে-বাতাসে-পাহাড়-পর্বতে-স্রোতস্বিনী।
কবির কলমে কাব্যময়ী শীতের হিমানী ফুটে ওঠে,
বিবস্ত্র বাতায়নে জাগ্রত দ্বার আজি হেরী মস্তলোকে।
আনন্দধারা পূর্ণ করি শিশির জমা ঘাসের ডগার মুক্তা দিয়ে।
ঝর্ণাধারায় পাথরের বুকছিড়ে সুখপ্রবাহ নামে ধরনীর মাঝে।

মায়াবী ছলনা

চেনা-অচেনা ধরার মাঝে প্রকৃতির সজ্জা,
প্রতিনিয়ত লীলার ছলনা খেলে মানবরুপ।
বাহিরে থাকে হাসির রেখা ঠোঁটের প্রাঙ্গণে,
ভিতরে হৃদয় ভাঙ্গে অশ্রুপাত হয় মন নদীর তীরে।

এদিক ওদিক থেকে দিগন্তের কিনারা ঘিরে,
সহজে কিছুই জুটে না এ পথে চলতে গেলে।
যে পথে পথিক চলতে, চায় তা এতো সোজা না।
সে পথে তুমি পাবে খুঁজে মায়াবী কতশত ছলনা?

কত কথা আছে পিঞ্জরের মাঝো সীমাবদ্ধ,
বলতে গিয়েও হয়ে ওঠেনি কখনো বলা।
সবার মাঝে মিলতে গিয়ে সমাজে তুমি বিমুখ তাই,
বুঝে-ও তাই না-বুঝবার ভানধরি এসব সবি ছলনা৷

দশের মাঝে একক আকাঙ্খার দেখা মিলে,
প্রতিপত্তি বিস্তারের অধিকার চায় অনেকে নিতে।
বিরূপ তুুমি কিরূপ বলো ভিক্ষাঝুলিভাসিয়ে আজ,
ছলনার এই মায়াজলে নিজের সত্তাকে কেন বিকিয়ে নাও?

পূর্ণ হয়েও অপূর্ণ রয়ে গেছে তৃপ্তি আহার অন্তরের,
হেলার কালে খেলার ছলে ছলনা বুঝি ফুরালো না কাল।

poems by Junaid khan

Facebook Comments