Poems by Avilash Mahmud

নিদারুণ অসুখ!

অ- অন্ধকার নামলেই লাটিমের মতো ধরে যাই ঝিম,
ঘুম আসলেই চোখে বুকের ভিতর রাখি উট পাখির ডিম।

ভি- ভিড় দেখলেই খুব লাগে ভয় পাজিরা যে ঠাট্টা করে,
তখন যে যাই অচিন পথে পাগলের বেশ ধরে।

লা- লাটিমের মতো মাটির বুকে ঘুরতে থাকি যেই,
তখন যেনো এই আমিটা আমার ভিতর নেই।

ষ- ষড়যন্ত্র করে আমার সাথে ওরা টিকতে যে না পারে,
কেউ খেলতে চায়লে একটু সুযোগ দেই যে আমি তারে।

মা- মানুষ তো নয়- কিন্তু তারা মানুষের মতো করে ভান,
রাত্রি হলে সাধু সেজে গাজায় মারে টান।

হ- হতে পারিনি সংসারি হতে পারিনি যোগী,
বুঝাতে পারি না এই আমিটা কী নিদারুণ অসুখ ভোগী!

মু- মুদ্রা দোষে কষ্ট যে ভোগী বলবো আমি কাকে?
কা- কা করা কাকগুলো যে সুযোগের আশায় থাকে।

দ- দরদী বন্ধু আছে অনেক তারা পারে না করতে কিছু,
বেদরদী লোক দেখি যে অহেতুক লাফিয়ে বেড়ায় মিছু।

মুখচ্ছদ

অ- অকালে জন্মে অকালেই গেছি আমি পেকে,
অনেক দেখেছি, শিখেছি অপরের কাছে ঠেকে।

ভি- ভিড় দেখলেই মনের ঘরে ঢুকতো যেনো ভয়,
শুধু ভাবতাম ভয়ে কেঁপে কেঁপে কখন কী না জানি হয়।

লা- লাল রঙ হাতে নিলেই মনে হতো এই বুঝি পিছু নিলো ষাড়,
বারবার দেখতাম তাই পিছু ফিরিয়ে আপন ঘাড়।

ষ- ষণ্ড হয়েছি ঢের বহু আগে, পারিনি পাষণ্ড হতে,
লোক সমাগম দেখলেই পালিয়ে বেড়াতাম কোনো মতে।

মা- মানুষকে ভালোবাসি, আমার ঘৃণা শুধু অমানুষের প্রতি,
কিছু মানুষ বুঝেন না বা বুঝতে চান না কী আমার ব্রতি?

হ- হরতকি বা চিরতার জল ভাবে আমায় কেউ কেউ,
মানুষরূপী কিছু কুকুর আমাকে দেখলেই করে ঘেউ ঘেউ।

মু- “মুখচ্ছদ” এঁটে কখনো কখনো করি সিনেমা কিংবা নাটক,
কিছু লোকে দেখলেই তাই করতে চায় ধাওয়া, পুলিশে করতে চান আটক।

দ- দল করি না, ছল করি না আমি একাকী এক লোক,
আজকে যারা-ই করে হেলা, মরলে আমি তারা-ই করবে পালন শোক।

কাদা মাটির গান

অ- অনাস্থা অপ্রেমে আমার প্রেমে আস্থা খুব,
প্রেম যমুনায় নির্ভাবনসায় তাই দিতে পারি ডুব।

ভি- ভিড় ভাট্টাতে আড্ডা দিতে মন দেয় না সায়,
না চাইলে আমি দিতে ধরা কে আমাকে পায়?

লা- লাভ লোকসানের ধার ধারি না যা ভালো তা করি,
না যাই কাছে ধান্ধাবাজের আন্ধা লোকের হাত ধরি।

ষ- ষণ্ড সেজে ভণ্ডামি যাদের করতে দেখি রোজ,
নানন দেশে নানান বেশে করি তাদের খোঁজ।

মা- মাটির মতো শক্ত আমি কাদার মতোও নরম,
কখনো শীতল মেজাজি আমি কখনো খুব গরম।

হ- হই না শোকে শোকার্ত আমি যদিও চোখে আসে জল,
সবাই কি আর ভাবতে পারে দুর্বল দেহেও থাকে বল?

মু- মুখের উপর মুখোশ পরে করে বেড়াই অভিনয়,
কেউ আমাকে কবি বলে কেউ বলে আমি কবি নয়।

দ- দখলবাজের সকল কাজে দেই যে আমি বাধা,
যদিও দেখতে লাগে আমায় আমি হাদা গাধা।

অসীম পথে …

অ- অসীম পথে হেঁটে গেছি রূপকথার গল্পের ঝুলি নিয়ে কাঁধে,
আমাকে পথ চিনিয়েছিলো পঙ্খিরাজ, দেখেছি গাল্পিকা কতো কী রাঁধে!

ভি- ভিন দেশী রাজকন্যা আমাকে দেখে খুশিতে নেছে গেছিলো গান, পাহাড়ী ললনারা আমাকে বরণ করে খেতে দিয়েছিলো মিষ্টি পান,

লা- লাল পরী, নীল পরী স্ব দল বেঁধে এসে,
আমাকে নিয়ে যায় তারা আকাশে মেঘের দেশে।

ষ- ষড়যন্ত্রকারীরা নিপাত যায় আমি যাই জিতে,
আমার সফলতা তারা চায় না মেনে নিতে।

মা- মানুক না মানুক তারা আমার যায় আসে না কিছু,
আজকে যারা অগ্রে লাফায়, কালকে তারা-ই থাকবে পিছু।

হ- হয়েছিলাম সবার মাঝে তামাশার এক পাত্র,
সয়েছিলো অনেক দিন অজস্র যন্ত্রণা আমার সমস্ত গাত্র।

মু- মুখ পুড়া হনুমান সেজে পারি পুড়াতে আমি লঙ্কা,
নাচতে পারি তাক ধিনা ধিন বাজিয়ে বিজয় ডঙ্কা।

দ- দশের সাথে মিলে মিশে দেশকে ভালোবাসবো।
মিলে মিশে গাইবো গান আর খুশির হাওয়ায় ভাসবো।

মায়ার খোয়াবে …

অ- অস্থিরতা আমার ভিতর ছিলো না কখনো, এখনোও নাই,
দেহের রক্ত শীতল ভারী যে যা বলুক রাগ করি না তাই।

ভি- ভিষণ শান্ত মানুষ আমি, ভিষণ ভালো লোক,
প্রতিবাদ তখনই করি শুধু যখনই ওঠে ঝোক।

লা- লাপাত্তা হই মাঝে সাঝে কে দেয় পাত্তা দেখতে,
হয় যে তখন সহজ আমার ভালো মন্দ লেখতে।

ষ- ষড়যন্ত্র করে কে আমাকে চায় যে রুখে দিতে?
চাই না কখনো তার নামটা আমি আমর মুখে নিতে।

মা- মায়ার খোয়াবে কায়ার খারাবি আমি যাই যে করে রোজ,
আমার অসুখ- বিসুখ ভালো মন্দ দেখি কে কে করে খোঁজ?

হ- হয়েছি আমি কারো কারো দুচোখেরি বালি,
মারতে পারে না যারা আমায় দেয় যে তারা গালি।

মু- মুখে মুখে করি না তর্ক চাই না নিচে যেতে নেমে,
তাদের কাছে হার মেনে তখন যাই যে আমি থেমে।

দ- দরদ দেখায় কোন সে মরদ আমার জন্য খুব?
পড়বে সে যে বেশ বিপদে না বুঝে দিলে ডুব।

আবেগী স্মৃতি

অ- অন্ধকার দেখে যদি ভয়ে থমকে যেতাম না পেতাম আলোর দেখা,
ভুল করলে লজ্জা পাবো তা যদি ভাবতাম তবে হতো না আমার শেখা।

ভি- ভিন্ন কিছু ভাবতে না পারলে জানি থেকে যাবে সেই পুরোনো রূপ,
অন্যয়ের প্রতিবাদ করি ঠিকই যদিও থাকি আমি চুপ।

লা- লাল আগুন হাতে নিয়ে দেই পাহারা আমার প্রিয় মা- দেশ,
এই যে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ করতে পালন মায়েত সকল আদেশ।

ষ- ষড়যন্ত্রকারীর ষড়যন্ত্র সব আমরা দামাল দেবো ধ্বংস করে,
যেমন যুদ্ধ হয়েছিলো নয় মাস সেই উনিশ শত একাত্তরে।

মা- মায়ের প্রতি ভালোবাসা আর মাটির প্রতি টান,
আবেগ মাখা সেই স্মৃতি ভেবে লিখি কবিতা ছড়া গান।

হ- হয়েছিলো সেই সময়ে বোন- মাতৃকার আব্রু টানা টানি,
সেই আব্রু বাঁচালো মুক্তি বাহিনী সারা বিশ্বে হয়েছিলো জানা জানি।

মু- মুক্তি পাগল দামাল ছেলেরা করেছিলো দেশ স্বাধীন,
সেই খুশিতে তারা তখন উড়িয়ে পতাকা নাচলো ধিনাক না- ধিন।

দ- দখল এখনো করে আছে দেশ তাদের কিছু অংশ,
এসো হে দেশ প্রেমিক সকল করি তাদের ক্ষমতা ধ্বংস।

প্রেমের শরাব

নিরবতা আমার বড্ড ভালো লাগে,
এতোটা নিস্তব্ধতা নয় তবে।

তাই রাত্রির চরণে পরিয়ে দিয়েছি ঘুঙুর।

তারপর রাত্রি খুশিতে নাচতে থাকে নটরানি সেজে।

বাহিরে যদিও ঘুমোট আঁধার,
আলোকিত জলসা ঘর।

মাদুরে বসে বাজিয়ে বেহালা
আমি গাইতে থাকি উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত।

হৃদয় পেয়ালায় প্রেমের শরাব ঢেলে
আমার দিকে এগিয়ে আসে প্রণয়ী সাকী।

হাত বাড়িয়ে নিয়ে পান করে
আমি হয়ে যায় প্রেমাতাল নটরাজ।

Poems by Avilash Mahmud

Facebook Comments