শাড়ীর ভাঁজে

poem by mostafa hyder

কতোটা পথ পাড়ি দিলে পরে
তোমার শাড়ীর ভাঁজ ভাঙ্গবে,
যদিও বাহুর ছতরে হাসে প্রজাপতিঠোঁট,

একটু আড়াল হতে হতে
তুমি মেঘেদের বাগানে গিয়ে নিচ্ছো শ্বাস
চেয়ে দেখছো দুআঙ্গুলের ফাঁকগলা ইশারা;

তোমার গ্রামীন শাড়ীর পাড়ে বাতাসির চিৎকার
আসমানির ঠোঁটের কোণে বিষাদের উলম্বন
সব আজ শরতের কাশফুলের গায় দিচ্ছে আগুন!

এসো আবার শাড়ীর ভাঁজ ঠিক করি
গিটহীন মোড়ানোতে এঁকে দেই চুম্বনের বিষাদরুপ
তবু ভেঙ্গে যাক অবিশ্বাসের পেয়ালা।

ভদ্রতার খোলসে অভদ্রতার সিম্পনি

নদীর ঢেউ প্রবাহমান
জোয়ার-ভাটা দুটোতে দু রকম
ঢেউ এর উচাটন ইশ্বরের লীলাবতি;
নিপাতনে সিদ্ধ প্রকৃতি।

জলের ঘরে বসত করা প্রাণীজগৎ প্রায় দেখতাম
তাদের ফুলকা বেয়ে ভেসে উঠতো সম্পর্ক
আজ মানুষ বড়াই করে ভাঙা কেদারার হাতলে বসে
যে হাতলের ধাপে রয়েছে কত নোংরা চিত্রকল্প;
কেদারার সব পায়ার মূল্য না বুঝলে তুমি হাদারাম!

তাই বলে এতো হাদারাম!
চারটি পায়ার একটিও তোমার ঝুলিতে নেই
আছে কোষ্ঠকাঠিন্যে ভরা চরম কৌলিনতা ;
ভাষায় বুঝা যায় সে বাঙালি না কি কাঙালী?

দুটো শুদ্ধবাক্য বের হয় না ভদ্রলোকদের সামনে
অথচ মিথ্যা বুর্জোয়াগিরিতে চরম চাপাবাজিও
জলের প্রাণিরা আত্মস্থ করতে ভুল করে না!
কাউকে দোষ দেয়া ভাবতে গেলে
কারেন্ট জাল আবিস্কার নিয়ে ভাবতে বসা উচিত
জালের বেহায়া আকর্ষণ বহুত বেহায়াও বটে;
তবে জল আর প্রাণিদের অনুধাবনক্রিয়া অনেক স্বচ্ছ।

তুমি আমি তুলসি পাতা অথবা দেয়ালের ফাঁকগলে
বের হওয়া বনসাঁই এর চেয়ে জঘন্য!
এক ঘাটে জল খেতে যাওয়া সময়গুলো
এরশাদ এর কথা মনে করিয়ে দেয়;
একটা নতুন পৃথিবীর আভাসও দেয়
যে পৃথিবীতে লেজধরে টান দিতে বেশী দিন লাগে না!

শরতের এই মেঘাকাশে লুকোচুরিটা রাতকে হার মানায়
তুমি,আমি, আমাদের সেলুক্যাসি
বেহায়া সার্টিফিকেট ধরতে শেখায়
নিমপাতার মতো তিতা হতে শেখায়
বিশ্বাসের খাতায় পড়ে তোমরা একেকটা বড্ডবেইমানী!

তোমরা গুরু শিষ্য চিনতে ভুলতে বসেছো
পা চাটতে শিষ্যের কাছে ঢোঁড়াশাপের বিষ!
যে বিষের ক্রিয়ায় আঁটকে প্রমাণিত হবে
তোমরা এককটা মিথ্যাবাদি দুমুখো চেতনার ফসল!

সম্মুখে ভেঙে যাবে, তোমাদের মিথ্যা আস্ফালন
ভদ্রতার খোলসে বের হবে অভদ্রতার সিম্পনি!

poem by mostafa hyder

ঘুমোতে যাওয়ার প্রাক্কালে

ঘুমোতে যাবো
পথে চোখের ইশারায় কাবু ইচ্ছেশক্তি;
তোমার মোহনীয়তার কাছে
রাতের স্বপ্নরা দিবে উঁকি!

এই অন্ধকার সময়ে তোরা হত্যা করলি চারটি প্রাণ
একান্তই খেয়ালের মাতালে এসব আজ ঘটে
কারো ভোগের বতনে তিমির যাপন
আর কারো ইচ্ছের দুয়ারে কঠিন কুঠারাঘাত,রক্তপাত!

তারপরও ঘুমোতে যাবো
তোমার দুদন্ড বাতাসি স্বপ্নের শোকেসে
এতো রক্তের ঘ্রাণ কোনো ভাসছে!
তারও কোনো জবাব পাবো না নিশ্চিত!

ঘুমের কেদারায় চড়ে দেখি
নারী ও শিশুর আর্তনাদে কাঁপছে আরশে আজীম!
ক্ষমতায়নের সানকিতে বসে নারীই নির্যাতিত
মুখ তুলে বলে না সোনার পরী রা!

পরীর বাগানো কখনো কখনো ছেদ পড়ে, টান পড়ে
জালালি কইতরের মতো বাকুম বাকুম বাড়ে
তবে মুক্তি পায় না ভাদ্রের কুত্তির মতো!

ঘুমের চোখে চশমার ফ্রেম লাগানো
যদি ঘুম ভাঙ্গে তোমাকে দেখতে তো চশমা লাগাতেই হবে
সে ইচ্ছেই রাতের তারাদের কাছে বন্ধক দেই সবটুকু
যাতে বিছানায় রক্তের পরিবর্তে ফুলের ঘ্রাণ ভাসে!

চোখ তুমি ঘুমিয়ে পড়ো
অষ্টাদশী নারীর তেছড়া নয়নের আড়াল ভেদ করে
যে আড়াল থেকে থোকা থোকা সত্যরা মেতে ওঠে
জাগিয়ে দেয় বিশ্বাসের হারানো ঐতিহ্য!

ঘুমকে বলছি শোনো;
তুমি একটু কষ্ট করে আলনার ফাঁকে দাঁড়াও
আমি গেঁথে দেই পেরেকের পৃথিবী
আমি কসটেপ পরিয়ে দেই দাঁতালদের চোখেমুখে!

হুঁশিয়ার

সূঁচের ছিদ্রের মতো যদি ছিদ্র হতেই থাকো
সোনার দেশ
মাটি ও মানূষের বুক ছিঁড়লে ঠিক থাকবে না পরিবেশ!

রুপকের সূচকে তুমি মায়াবী ফুল

বোকাদের ধোঁকা দেয়া বড়ই সহজ
কবিরা করো না কারো সাথে বহস।
শব্দের মায়া জালে পৃথিবী নাচে
সুন্দর ভেসে ওঠে কেশের সাঁচে।

কবি তুমি প্রেম বুঝো শব্দ বুঝো না
বাক্যের আঁচলে জানি সুখ সহে না।
রুপকের সূচকে তুমি মায়াবী ফুল
শরতের ফুলে ভাসে ভুলের মাশুল।

ভুলের মায়ায় পড়ে ভাসাও কোন্ তরী
শরতের আকাশে দেখি কতো ফুলপরী
সাদা মেঘের ভেলায় ভাসে তোমার মুখ
জলহীনে ঢেউ এ খুঁজি বিষাদের বুক।

শরৎ তুমি এ বুকে এনে দাও প্রশান্তি
কাশফুলে ভেসে করবো মাস্তি মাস্তি!

poem by mostafa hyder

গরিব নাকি সবার দুষমন

আমার বড় ইচ্ছে করে নিরব হয়ে থাকতে
সত্য বলার চেয়ে এবার মিথ্যাগুলো গনতে
দুগ্রুপের মজার খেলায় বলির পাটা ভাইটি
গরীর নাকি সবার দুষমন, বুঝতো না সে হাই টি!

হাই হ্যালোতে ডেকে নিয়ে ধরিয়ে দিলে পুলিশে
ক্রেডিট নেয়া নেতারা আজ বাঁধছে বুক পালিশে!
আদর্শতা ধরে রাখার মাঝে তোমার পরিচয়!
বন্ধু সেজে শত্রুতা করার কেমন করে ইচ্ছে হয়!

আগে তুমি মানুষ হবে, পরে হবে সবার নেতা
বিশ্বাসে জন্ম নিবে নেতার পিঠে আসল নেতা।
আল্লাহ তুমি রহম করো, অনিষ্টতার হাত থেকে
মানুষ হবার জন্যে আজো চলছি ছেঁকে ছেঁকে!

রাতের কাছে দুঃখগুলো রেখে যাচ্ছি আমানত
বন্ধু তুমি ফিরতি পথে-হইয়ো না সময়ের খেয়ানত!

ভোগের জিহ্বায় আগুন ধরাও

ধর্ষণ আর ধর্ষক চিনিতে গিয়া পড়েছি বিপাকে
নিরবতার ভেতরই বারুদের ছুটাছুটি দিকে দিকে!
আইনের বিষক্রিয়ায় হচ্ছে না দাঁতালদের সঠিক বিচার
ঘটনার ছবি ভাইরাল হলেই মিডিয়াতে হয় শুধুই ফিচার!

বিচারের আড়ালে পড়ে আছে কত হিংস্র নখের দাগ
হিংস্রের আশ্রয়দাতাদের চিনে রাখো চোখ মুখ নাক!
নারীনেত্রীর দেশে কেনো যে হয় না এসবের সঠিক বিচার
তাদের ব্যর্থতার প্রতিশোধ নেয় ব্যবচ্ছেদ প্রকৃতির বিকার!

সে দিন দেখেছি জিহ্বা নিয়েছে কামড়ে নেতা আনিসের
নারী তুমি জেগে ওঠে প্রতিরোধ করো সব খবিসের!
পুরুষ তুমি থেমে যাও রেখে দাও দাঁতালি সব কর্ম যজ্ঞ
ভোগের জিহ্বায় আগুন ধরাও উন্নত করো আপন বক্ষ!

ভাসছে দেখো দাঁতাল আইন

রাতেই স্নানসেরে চাঁদের কাছে হাত পেতে
কোন্ সুদূরে বসে তুমি দেখছো লীলার মেলা!
ভোরের ঘাসে হাটতে গিয়ে পা করেছো লাল
শিশির তুমি কার ইশারায় ভিজিয়ে দিলে ভেলা!

ঘাসের ডগা কাঁদছে বসে লীলাবাজির দেখে খেলা
সূর্য তুমি কেমন করে পুড়ছো নিজের স্বাধীনতা!
বাতাস তুমি হাসছো দেখে, ভেসে সোনার কান্ডে
সবুজ জুড়ে ভাসছে দেখো ধর্ষণকারীর ভেলা!

আপন হাতে গড়ে তোলা সোনার মানিকগুলো
সোনার পিঠে ভাসিয়ে ভেলা ফসল নিচ্ছে তুলে!
ফসলগুলোর ঘ্রাণখানি আজ এতোই ধূসর যেনো
নাক ছিটকিয়ে লাভ হয় না, সোঁদামাটির সুর ভুলে ;

ভূবন তলে যৌবন হাসে, ভাসছে কান্না সোহাগির
সোহাগির রক্তে মিছিল ভারী ধর্ষকের হয় না সাজা!
ধর্ষকের দাঁতের ফাঁকে ভাসছে দেখো দাঁতাল আইন
সাঁকোর নিচে দাগ পড়েনি,বিচার চাইবে কোন্ শালা!

রক্তের চেয়ে লাল ছিল না,ধর্ষিতার সেই কর্ষণ রথি!
লালের গায়ে লাল হারিয়ে, ধর্ষিতারা পাচ্ছে না গতি!
বিচার চাইতে গিয়ে কাঁদছে দেখো আইনের ধারা
সাক্ষীহীনে বেঁচে যায় ধর্ষক, বিচারক থাকে খাড়া!

ধর্ষিতা তুমি ভূজগতে থেকে নিও না আর কারো খবর
স্রষ্টার আজাব বড়ই কঠিন,নিয়তির হবে যেদিন কবর।
মিথ্যা আশ্বাসে প্রশ্বাস না হারিয়ে, ডাকতে থাকো স্রষ্টাকে
স্রষ্টার বিচারে লাগে না সাক্ষী, সময় দৌঁড়বে না বিচারকে!

আপন পিঠে ভরসা রেখে, দু হাত তোলো আসমানে
ঘুরে দাঁড়াও আপন হাতে, সাহস নিয়ে দিন যাপনে।

ভোঁতা তলোয়ারের দাঁতাল শুয়োর

একটা মাদকতার ভারে কাঁদানো সময়ে
বিশ্বাসের পেয়ালায় দুঃখরা করে খেলা!
যাপনক্রিয়া আর কথন নন্দনের বেহায়াগুলো
হাঁতুড়িপেটা দোয়েল্যাদের আগলে রাখে!

পেঁচা আর ঈগলের ঠোকরা ঠুকরি দেখতে দেখতে
আজ সত্যই সাদাপোষাকদারীদের দেখেছি ভিন্নতায়
একটা গদীনশাহীর পায়ার নিচে থাকে অবিশ্বাস
যদিও বিশ্বাসের জন্ম হয় আস্থাহীনতা থেকে।

স্রোতের বিপরীতে সবসময় সত্যের জয় দেখেছি
ফাঁসির মঞ্চেও বাদ যায়নি দৃঢ়তার একফালি বাঁকা চাঁদের জ্বলক!
মোহমায়ার বেড়াজাল আর খুঁনসুটির দেয়াল টপকাতে হবে
ভাঙতে হবে ভোঁতা তলোয়ারের দাঁতাল শুয়োর!

বলাৎগিরি আর শিশুনির্যাতন কাঁদছে বসে আনমনে
বেহেস্ত- নরক ভাসছে দেখো ভার্চুয়ালের কান ধরে।

রাণী সেজে কাঁপায় দুঠোঁট

লেবুপাতার ঘ্রাণে ভাসে প্রকৃতির নব্য ছোঁয়া
যে প্রকৃতির কোলে বেড়ে ওঠা তুমি আমি সবার
ঘ্রাণের কাছে মানুষের ইন্দ্রীয়তা হার মানে
বিধ্বংসী লীলায় ভাসে মানবতার নিঃশ্বাস!

এক জনমের পিপাসায় কাতর উষ্ঠাগতপ্রাণ
বিবেকের চেহারায় হাসে করুণ বরুণ দৃশ্য;
ভোগের দরিয়ায় ভাসে নুনতাজলে আস্থাহীনতা
উচ্ছ্বাসের ফানুস কুসুমহীন ডিমের খোসায়।

জনমদুঃখী বিশ্বাসটুকু সত্যের মায়াবীবোন
মিথ্যাবাদি উচ্ছ্বাস – রাণী সেজে কাঁপায় দুঠোঁট
কেউ বুঝুক আর না বুঝুক ডাক সবাই বুঝে
বেঠিক বন্ধনে কসুরতা ঘ্রাস করে আপনকে।

তোমার আস্থা প্রকৃতি, আমার বিশ্বাস ঐশ্বরিক
জীবনের সব ধারাপাত এঁকেছো একই স্রোতে
গতিহীনতার করালঘ্রাসে হারিয়েছে প্রকৃতিও
বিশ্বাসে ভরা জোয়ার গর্জে উঠে আপন হাতে।

এক দৃশ্যে সারা বিশ্ব যদি আজ হতো নতজানু
পৃথিবীতে হেসে উঠতো মায়াবী দর্শন শস্য।

poem by mostafa hyder

Facebook Comments