Nasima Haque Mukta poems

মগ্ন মহাদেশ

বজ্রের গর্জন কানে লতি ছুঁয়ে
যতটুকু ধাক্কা লাগায় ইন্দ্রজালে
তখন দ্রুতগামী ইচ্ছা ভিসুভিয়াস থেকে
লাভার জিভ ট্রাকে বিদ্রোহ করে পথনারী কুলে
চোখের কোণে বস্তুর জল
প্রচণ্ড প্রতাপে অণ্ডহীন জীবন খোঁচায়
নগ্ন তাঁতের শাড়ি রূপ
শ্রী-বৃদ্ধি সেলাই প্রসাধনে যেন পশুদেবের নজর
আপাদমস্তক স্রষ্টার সৃষ্টি কে দেখে।

আদিম পাতালে লাল টোল উজ্জ্বল হয়ে
মহাজাগতিক ছিদ্রে মত্ত ঢালে
কোনো এক বেহায়া সঙ
তার নোংরা আবর্জনা ক্ষিপ্ত হয়ে
তলের ঝর্ণায় মগ্ন মহাদেশ ঘুরে…

শরতের বৃষ্টি পাল

কেবলই মন ছুটছে
শরতের সাদা মেঘের শাড়ি সাথে
চলতে চলতে বাঁধা পড়ে
টিপটিপ বিটপী বৃষ্টি পালে

সম্মুখে ফিরে যাচ্ছে পাখি ও মানুষ
প্রকৃতির অঞ্জলি পাপড়ি মেলে
অসময়ে দীর্ঘ রেখার টান
যা অল্পস্বল্প গল্প হয়ে
রাখালিয়া বাঁশি লজ্জা মুখে লুকায় জীবন থেকে
যা দুর্ভাগ্যের মোড়ে নদী এসে মিলে।

মায়া ও কায়া

আকাশে চাঁদ
জ্যোৎস্না ছড়িয়েছে বিছানায়
খোলা মাঠে দাঁড়িয়ে আছে দুটো বৃক্ষ
তারমধ্যে একটি অক্সিজেন
আরেকটি কার্বনডাই-অক্সাইড

ঘাস ভর্তি সবুজবীথি
দেখে কেউ ছাড়ছে, কেউ গিলছে
এভাবেই বহুদূর জীবন প্রসারিত হচ্ছে
নিয়ন আলো না জ্বললেও
দুটি বৃক্ষ বহুকাল বাঁচার সক্ষমতা রাখে।

মায়া ও কায়া মিলেই জীবন পরিপূর্ণতা পায়।

Nasima Haque Mukta poems

বিচিত্র জীবন

নদী এসে মিশে গেছে দীর্ঘ শ্বাসের ঋতুতে
উচ্ছিষ্টের জীবন ধরে পতিত হলো
মহা শোক প্লাবন
হাঁপাতে হাঁপাতে দেহ ঠুকরে হাঁ মুখ
কেবল একটিমাত্র জীবন মাগে
যেটি ছন্দ ও কবিতার বাসরে এক হয়ে
সন্ধির ভেতর চাষ করে বিন্নি আঠা

ভাজা মাছ উল্টেপাল্টে মাথা উচু করে
পাকস্থলীতে ছাল – বাকল গজায়
অলৌকিক এই খেলার ছলে
চিরকাল বারুদের গন্ধে সুখানুভূতি বমি
মৃত্যুকে ফাঁকি দিয়ে বাঁচে….

তারপর বহুবর্ণে
কিছু শব্দ আঁকে – বিচিত্র জীবন চাবির গোছা !

ফটোস্ট্যাট

নৈঃশব্দ্যের দর্পণে ডুবে
জীবন রহস্য ভেদ করার তাড়া
বারবার গর্দান ভেসে যায় দূর-দূরান্তে
অঞ্জনমাখা আঁখি পল্লবে
পায়তারা খায় – নীড়ের চালা

নিবিষ্ট চিত্তে স্বপ্ন দেখা পথের জ্যোতি
ধূসর-লাল ও শ্বেত শুভ্র ঝরা ফুলে ঢাকা
আকাঙ্খা দীপালি নিভে গেছে বহু আগে
এখন আকস্মিক বেঁচে থাকা

যাকে বলে – বিশ্বাসের মৃত্যু
যা মনের প্রবিষ্টে ফটোস্ট্যাট কপি বাঁধাই করে
হেথায়- গমের ক্ষেতে পাখি বিজন
আর সুদীর্ঘ তটে বসে স্রোতের উজান সুরে
ফেনার বুদবুদ শুনে পতনের ধ্বনি শুনে।

একজোড়া মানুষ

শোভাময় দীর্ঘতম বৃক্ষ,তার সাথে ছায়া
চিরকাল পরস্পর মৌলিক ধ্বনি
ঝরঝর বহে তার ধারা
শাঁখামূলে একটুকরো জমি ও চাষ
কপোত-কপোতী অতল জলেতে স্নান সারে
রেণুবনের অসীম গুলি সুতোর পাকে
জন্ম পর শতাব্দী অব্দি থেকে চলছে
এই মহা – উৎসব,এই মহা-ধূম

অলৌকিক জল কলে আলতা বোল
রেশমের মত কোমল আদরে
জীবন পদ্ম মুলে শুষ্ক ঠোঁট ঝরে পড়ে ভূখণ্ডে
ঝিলিকের লাল সোনা হেসে ওঠে
শ্যামল কার্ণিশে লুটিয়ে জিহ্বা হা করে
একজোড়া মানুষ পুষ্টি খায় ও বিলায়
সারাদিন চরে-ভরে ঘরে ফিরে আগামী আশায়।

Nasima Haque Mukta poems

নশ্বর খেলা

যতই তারুণ্য ছেড়ে যায়
ততই জীবনের প্রতি মায়া বাড়ে
কিছু ছেড়ে গেলে কিছু টেনেই
হাঁটতে হয় দুর- বহুদুর…

সাদা ও কালো ভেতর
শুধুই নশ্বর খেলা
দু,পায়ে চলা ঘড়ি অসহায় উন্মাদের মেলা

সৃষ্টি সুখের কুচকাওয়াজে বিন্দু বিন্দু কদম
শ্যামল মিত্র ঘাটে পৌঁছানোর সময় দেখে
ঢ্যাবঢ্যাব চোখের অনিশ্চিত এক পরিব্রাজ

ভূত-ভবিষ্যৎ

এই মোহনীয় ডাক
সবুজ পাতা মাচা ফোঁটায় নিখিল ফুল
স্নিগ্ধ উর্মি কান পেতে ঝিঙের গান শুনে
স্মিত হেসে পল্লী পতিতারা খোঁপায় গুঁজে সুখ
তাদের বিদ্রোহী বসন্ত শিফন শাড়ির ভাঁজে
ডিম পাড়ে -অনিশ্চিত ভূত-ভবিষ্যৎ

অধরা আকাশে বিবস্ত্র চাঁদের আলো
নাকের নথের ওপর লাল সুরমা এঁকে
প্রবঞ্চক পাখি অভিসার সেরে
ফিরে যায়- আপন গুহায়

” ছল করে জলে ধুয়ে
জীর্ণ বস্তি দিন গুণে চশমার খোলসে
কোনো এক উদ্যত দোলকের
পথে পথে রুয়ে রাখে দেহভরা ফাড়া টাওয়েল।

ট্যাবু

বৃক্ষ বড় হয়
ডালপালা বিছিয়ে গুষ্টিশুদ্ধ ফুলের মত
গৃহান্তরে সজীব থাকে
গাভিন গরুর মতো বছরে ছ- বার
পয়দা করে জীবন ট্যাবু
অনেক কঞ্চির গুঁতাই নাসায় ভাসে
দীর্ঘপথের বোঝাই মালে

তৃষ্ণার্ত নয়ন মেলে পাঁচমিশালি ক্ষয়
পিচ্ছিল ধমনীতে কৃষ্ণচূড়া পুড়ে পুড়ে
চরের বালিতে অমানুষের বুলবুলি
দারুণভাবে কানে বাজে
পর্দার ভেতর- বাইরে নারীর উদর
লুটাচ্ছে কিছু ঠাকুর
যাকে নারী আজীবন আগলেছে সঙ্গী ছায়ায়।

ক্রমশ জীবন নকশা পড়ে থাকে

এমন একটি আচমকা আভাস
প্রহর গুনছে সজীব দৃষ্টির ভেতর
দৃশ্যমান প্রতিটি অনুভূতি দীপ্তির বিস্মরণে
বিচ্ছিন্ন বৃক্ষ অমানবিকত্বে পুড়ে
অনন্তের উপস্থিতি – তুষারের মতো ভারী হলে
সুবোধ প্রেম – ছিটকে পড়ে নশ্বর নদীতে

অভিমন্যুর অন্তস্তলে নির্মম বিচ্ছেদ
ঘাসের ওপর গড়াগড়ি খায়
চৌকস হৃদয় চর্চা বন্ধক রাখে চাষের জমিনে
দুঃখ করে বলে – এ তো এক ভণ্ড শহর
যেখানে গৃহস্থালি সুখ ভাড়া যায়
গতিময় স্রোতে, সেখানে
ক্রমশ জীবন নকশা পড়ে থাকে স্মৃতির খোলসে

অবশেষে অভিমন্যু সশব্দে হেসে ওঠে বলে
দুঃখ করো না, চালিয়ে যাও
দৃষ্টির কুঠুরে – খোদাই করো, অমরত্বের স্বাদ।

Nasima Haque Mukta poems

Facebook Comments