মাসুদ আহমেদ রানা

জুন ১৮, ২০২০
Masud Ahmed Rana

Masud Ahmed Rana

কবি মাসুদ আহমেদ রানা এর পরিচিতিঃ

Masud Ahmed Rana
Masud-Rana

এই সময়ের জনপ্রিয় কবি মাসুদ আহমেদ রানা ১৯৬৪ সালের ১১ নভেম্বর জন্ম গ্রহন করেন । তাঁর পিতার নাম মৃত ফজলুল করিম এবং মাতা মৃত শরীফুন নেছা।

তিনি ১৯৮১ সালে এইস এস সি পাশ করন। বর্তমানে মাসুদ আহমেদ রানা নিজের একটি ব্যাবসায় প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছেন। শখের বসে লেখালেখি শুরু করলেও তাঁর অসাধারণ শব্দ চয়ন ও ছন্দের যাদু দিয়ে কবি মাসুদ আহমেদ রানা অতি সহজেই পাঠকের হৃদয় যায়গা করে নিয়েছেন। লেখা ও ব্যাবসার কাজের ফাঁকে যখনই একটু অবসর পান সেই সময়টুকু তিনি বই পড়তে, গান শোনতে এবং সৌখিন মাছ শিকার করতে পছন্দ করেন।

ঠিকানা:
গ্রাম ও পোষ্ট – ধীরাশ্রম,৩১ নম্বর ওয়ার্ড, সদরগাজীপুর

Masud Ahmed Rana

সন্মাননাঃ

কবি মাসুদ আহমেদ রানা ২০২০ সালে লিটল ম্যাগাজিন কবিতায় জাগরণ হতে প্রিমিয়াম সদস্য পদ অর্জন করেন।

কবি মাসুদ আহমেদ রানার কবিতা সমুহঃ

কিছু গল্প মাঝ পথেই হোচট খায়
মাসুদ রানা

প্রকাশকালঃ ১০-০৭-২০২০

কিছু গল্প মাঝ পথেই হোচট খায়,
আবার কিছু কিছু সম্পর্ক এভাবেই নিবিড় হয়!

কিছু চাওয়া অপূর্ণই থেকে যায়
আবার কিছু কিছু পাওয়া অনর্থই রয়ে যায়।

কিছু সুখ দুঃখের সাগরে ফেনা হয়েই ভেসে যায়,
আবার কিছু দুঃখ সুখের প্রলেপ হয়েই দেখা দেয়!

কিছু স্বপ্ন
স্বপ্ন হয়েই রয়ে যায়,
কিছু বাস্তবতা জীবনে পূর্ণতার ছাপ রেখে যায়!

কিছু মানুষ পেয়েও হতাশায় ভোগে
আবার কিছু মানুষ অনেক কিছু না পাওয়ার আদলে জীবনকে পরিপূর্ণ করার চেষ্টা অব্যাহত রাখে!

কিছু সার্থকতা কখনো কাউকে বিপথগামী করে,
আবার কিছু ব্যর্থতা কখনো কাউকে সঠিক পথের ইশারা করে!

এতো সবের মাঝেই জীবনকে বাস্তবতার আদলে গড়ে তোলার অভ্যাসী হতে হবে!!!

একটি চিঠি

প্রকাশকালঃ ০৬-০৭-২০২০

Masud Ahmed Rana
Poet-masu-rana

পত্রের শুরুতেই তোমাকে জানাই সদ্য ফোটা বকুলের শুভেচ্ছা।
আশা করি ভাল আছ।
আর তোমার সুস্থতাই আমার একান্ত কাম্য!
জানি না আমার এই চিঠি তোমার হাতে পৌছাবে কিনা বা তোমার দৃষ্টিগোচর হবে কিনা!
আজ অনেকগুলো দিন অতিবাহিত হয়ে গেল তোমার সাথে আমার দেখা নেই কথাও নেই !
বসন্ত পেড়িয়ে গ্রীষ্ম তারপর এখন চলছে বর্ষা !
চারিদিকে থৈ থৈ পানি!
প্রায় সারাটা দিনই আকাশের মন খারাপ থাকে!
কিছুক্ষণ পরপরই কেঁদে উঠে আকাশ ।
অঝোর ধারায় ঝরে জল!
ভেসে যায় সারা মাঠঘাট !

ঠিক তেমনি তুমিহীনা আমার মনের আকাশেও আজ বাদলের ঘনঘটা !
তুমিহীনা প্রতিটি ক্ষণ যেন উদাসী আর ব্যাকুলতায় ভরা!
মনে কি পড়ে তোমার কোন এক বৃষ্টিস্নাত দুপুরে তুমি আর আমি ভিজে হয়েছিলাম একাকার!
বৃষ্টিতে তুমি দুহাত মেলে আকাশপানে তাকিয়ে ছিলে!
জলের ফোটাগুলি তোমার চোখে মুখে তোমার দুটি ঠোঁটে এসে পড়ছিল!
তুমি আনন্দে মেতে উঠেছিলে!
তোমার লম্বা চুল বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ছিল।
তোমার গোলাপি শাড়ীটা ভিজে মিশে গিয়েছিল তোমার গায়ে!
তোমার মুখমন্ডলে ফোটাফোটা জল গুলো কি অপরূপই না লাগছিল।
তোমার কিন্তু সেইদিকে কোন খেয়ালই ছিল না!
তুমি মেতেছিলে বৃষ্টির সাথে খেলাতে।
আমি অপলক নয়নে শুধু তোমাকেই দেখছিলাম!
নয়ন ফিরাতে পারছিলাম না!

জান সেইদিন আমার খুব হিংসে হচ্ছিল সেই বৃষ্টির ফোটার সাথে।
কারন বারবার একএকটা ফোটা তোমাকে চুম্বন করেই যাচ্ছিল।
অথচ আমি তোমার সামনে দাঁড়ানো !
কোন ভ্রুক্ষেপ নেই তাতে!
আর তুমিও কিছুই বলছ না তাদের!
নির্লজ্জের মত তুমিও তাতেই সুখ অনুভব করছ।
আর আমি উদাসী হয়ে সেটাই দেখছি!
কতটা সময় এভাবে কেটেছে ঠিক মনে নেই!
একটা সময় থেমে গেল আকাশের কান্না!
সম্বিৎ ফিরে পেলে তুমি।

চোখ পড়ল তোমার আমার চোখে!
আমার চাহুনি দেখে তুমি তোমার নিজেকে অনুধাবন করলে।
তাকালে তোমার পানে তুমি!
লজ্জায় লাল হয়ে গেলে তুমি।
এতোক্ষনে বুঝতে পারলে তুমি
সারাটা সময় জুড়ে আমার দৃষ্টি ছিল তোমার পানে!
দৌড়ে ছুটে গেলে তুমি আমার সামনে থেকে!
আমিও তোমার চলে যাওয়ার পথেই অপলক তাকিয়ে আছি!
দুদিন তুমি আমার সামনে আসোনি।
হয়তো লজ্জায়!

আজ এতোগুলো বছর পর আমি দাঁড়িয়ে আছি বর্ষার কোন এক বৃষ্টিতে একাকী!
আজ তুমি নেই তাই বৃষ্টিটাও যে বেরসিক !
সেও যেন আমারই মত অনুভব করছে কিসের একটা অভাব!
সেই বৃষ্টির জলের সাথে গড়িয়ে পড়ল আমার চোখের গরম জল যা আকাশের কান্নার সাথে মিলে মিশে হয়ে গেছে একাকার!
বেশ কিছুটা সময় পর থেমে গেল আকাশের কান্না!
আমি ফিরে এলাম আমার আমিত্বে!

জানি আর কখনো পাব না তোমায় কোন বর্ষা বা বসন্তে!
পাব
না কোন উত্তরও এই চিঠির!
শুধু তোমার স্মৃতিটুকুই রয়ে যাবে আমার অন্তরে।
তুমি ভাল থেকো !

ইতি
তোমার আমি।

বর্ষা কাল

প্রকাশকালঃ ০৪-০৭-২০২০

আমাদের দেশ ছয় ঋতুর দেশ।
গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরত, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত!
এখন চলছে বর্ষাকাল!
চারিদিকে পানি থৈ থৈ করছে।
নদীনালা, খালবিল পরিপূর্ণ পানিতে!
এই সময়টাতে আমাদের দেশে দেশী মাছের খুব ছড়াছড়ি !
কৈ, টাকি, পুটি, খইলসা, ভেরা( মেনি মাছ বলে অনেকে), মলা,ঢেলা, সিং মাগুর সহ নানা পদের দেশী মাছে সয়লাব হয়ে যায় সকাল বিকালের মাছের বাজার!
এই সময়টাতে কিন্তু দেশী ফলেরও ছড়াছড়ি পড়ে যায় !
যদিও এখন প্রায় সব সিজনেই সব ধরনের ফল পাওয়া যায়!

এই সময়টাতে বিলের ধারে ও ছোট ছোট নৌকা নিয়ে অনেকেই যান বিলে বড়শী দিয়ে মাছ ধরতে!
বিলের মাঝে ফুটে থাকে শপলা ফুল, পদ্মফুল !
ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা বিলের ধারে ব্রীজের উপর থেকে লাফিয়ে পড়ে পানিতে!
সাঁতরে গিয়ে উঠিয়ে আনে শাপলা,
এই শাপলার সাথে থাকে সালু!
যেটা খুব মজা করে খায় অনেকেই।
শাপলার ডাটা চিংড়ী মাছ দিয়ে রান্না করলে কিন্তু খেতে বেশ লাগে!
যারা খেয়েছেন তারাই শুধু উপলব্ধি করতে পারবেন।

এই বর্ষাকালে ট্রলার ভাড়া করে অনেকেই যায় পিকনিক করতে !
বিলের মাঝ দিয়ে যখন ট্রলার চলে ফাটফাট শব্দ করে তখন পিকনিক দলের মানুষগুলো স্পিকার বক্স বাজিয়ে নেচে নেচে আনন্দ করে!
চলতে চলতে কোন এক চরে গিয়ে দুপুরের খাওয়া সেরে আবার ফিরতে শুরু করে গন্তব্যে।
সারাটা দিন কেটে যায় পানির সাথে সন্ধি করে।

এই সময়ে গাছে গাছে থাকে আম, কাঠাল ও জামের মৌমৌ গন্ধ।
গাছের দিকে তাকালেই চোখে পড়ে পাকা আম।
ঢিল ছোড়ে কেউ গাছে।
পাকা আম মাটিতে পড়ে।
সেই আম খাওয়ার মজাই আলাদা।
কেউ কেউ আবার গাছ থেকে কাঠাল পেড়ে দুইতিন জন গাছের নীচে বসেই সাবাড় করে দেয় আস্ত কাঠাল!

গ্রামে এই দিনে যখন ঝড় হয় তখন সবাই অপেক্ষায় থাকে কখন ঝড় থামবে।
ঝড় থামার সাথে সাথেই কার আগে কে যাবে আম কুড়াতে!
ঝড়ের দিনে আম কুড়াতে বেশ লাগে কিন্তু!

ক্ষেতে মাঠে ঘাটে ব্যাঙ এর একটানা শব্দে যেন পরিপূর্ণতা পায় বর্ষার রূপ!

বৃষ্টিতে বাচ্চাদের দৌড়াদৌড়ি,
ক্ষেতে হাল চাষের পর যখন মই দেয়া হয়
তখন সেই মইয়ের পিছনে পিছনে ঘুরে ঘুরে ধরা হয় বিভিন্ন রকমের দেশী মাছ।
সে এক অভূতপূর্ব আনন্দের বন্যা বয়ে যায়।

এই বর্ষার আবার কুফলও আছে।
যারা নদীর পাড়ে বাস করে তারা পড়ে নানা বিপাকে!
পাহাড়ি ঢল আর বৃষ্টির পানি একাকার হয়ে সৃষ্টি হয় বন্যার।
গ্রামকে গ্রাম ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
ক্ষতি হয় ফসলের।
আশ্রয়হীন হয় অনেকেই।
বন্যার পানিতে ভাসিয়ে নিয়ে যায় ঘরবাড়ী, গাছপালা, গরু ছাগল
এমনকি অনেকের স্বপ্নও তলিয়ে যায় এই বন্যার পানির সাথে সাথে!
কত গৃহহীন মানুষ আশ্রয় নেয় রাস্তায় খোলা আকাশের নীচে!
ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় তাদের আগামীর পথচলা।
ক্ষুধার্ত আর অসহায় মানুষগুলোর চেহারার দিকে তাকালে মনটা হুহু করে উঠে!
একমুঠো ভাত আর একটু আশ্রয়ের জন্য কতটা অসহায় বোধ করে তারা।
কতটা অসহায়ত্বের মাঝেই কাটে এই নদী পাড়ের মানুষ গুলোর জীবন !

এই বর্ষা আমাদের দেয় অনেক কিছু।
আবার নিয়েও যায় কম কিছু না!
এই দেয়া নেয়ার দোদোল দোলায় ভেসে চলে আমাদের জীবন।
কেউ পায় আনন্দ
আবার কেউ সব কিছু খুয়ে হয়ে যায় নিঃস!!!

না বলা কথাটা

প্রকাশকালঃ ৩০-০৬-২০২০

Masud Ahmed Rana
masud-rana-poem

কথাটা তাকে কী করে বলি ঠিক ভেবে পাচ্ছিলাম না!
কিন্তু না বলেও থাকতে পারছিলাম না!
মনের ভীতর একটা উথালপাতাল ঢেউ শুধু তোলপাড় করছিল।
ঢেউগুলো যেমন পাড়ে এসে আছড়ে পড়ে
ঠিক তেমনি আমার অপ্রকাশিত কথা গুলোও যেন মনের গভীরে বারবার আছড়ে পড়ছে !
প্রকাশের অপেক্ষায় যেন কথাগুলোও ডানা ভাংগা পাখীর মতই ছটফট করছিল।
কিন্তু কি করে বলব তাকে!
আর বললেইবা সে কী ভাবে নিবে !
নাকি আবার লজ্জিত বা অপমানিতই হতে হয়!
কিন্তু না বলতে পারলে যে আমি নিজেই নিজের কাছে হেরে যাচ্ছি।
নিজেই নিজের কাছে লজ্জিত হচ্ছি না বলতে পারায়।
এভাবেই নানা দ্বিধাদন্দ্বের মাঝে নিজেই নিজের কাছে দগ্ধ হচ্ছি!
যন্ত্রনায় ভস্মীভূত হচ্ছি!
যখনই তার সামনে আসি
আমি ভুলে যাই সবকিছু !
হারিয়ে ফেলি নিজেকে দূর অজানায়!
আবার যখন দূর থাকি
তখন মনে হয় এক্ষনই ছুটে গিয়ে তাকে বলে দেই মনের ভীতর জমা রাখা সেই ছোট্ট কথাটা!
এতো কথা বলি তার সাথে প্রতিদিন,
অথচ এই ছোট্ট একটা কথা কিছুতেই তাকে বলতে পারছি না!
ভয় নাকি সংশয় ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না!

এভাবেই কেটে গেছে অনেকগুলো দিন!
না আমি কিছুতেই তাকে সেই ছোট্ট কথাটা বলতে পারছি না!

তাই আজ মনকে শান্ত করলাম আজ তাকে বলবই!
সকাল থেকে নিজে নিজে বারবার রিহার্সাল দিচ্ছি কী করে বলব তাকে!
সকাল নয়টায় এসে বসে আছি সেখানে যেখানে আমরা বরাবরই বসে আড্ডা দেই!
সেও আসার সময় হয়ে গেছে!
এই বুঝি সে এলো !
চেয়ে আছি রাস্তাটার দিকে অপলক নয়নে!
কিন্তু সময়যে গড়িয়ে যায়!
দশটা প্রায় বেজে গেছে !
তার আসার নামটি পর্যন্ত নেই!
মনটা ছটফট করছে!
হৃদয় স্পন্দন বেড়ে গেছে।
সহ্যের সীমা অতিক্রান্ত হতে চলেছে!
এক অসহ্য যন্ত্রনায় মন ছটফট করছে।
তবে কি আজও বলা হবে না তাকে!

হঠাৎ পিছন থেকে কেউ যেন আমার নাম ধরে ডেকে উঠল।
সম্বিৎ ফিরে পেলাম।
পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখি লুনা আমায় ডাকতে ডাকতে এগিয়ে আসছে আমার দিকে।
লুনা এসে বলল
তোমাকে অনেক্ষন খুজছি।
তুমি এখানে বসে আছ!
আমি তার কথার উত্তর না দিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম সুমা কোথায় ?

সে বলল কেন বাসায়!
তুমি কিছু জানো না!
আমি বললাম নাতো!
লুনা বলল
আজতো সুমাকে আংটি পড়াতে আসবে ছেলের বাড়ী থেকে!
তাইতো সে কলেজে আসেনি।
তারতো বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।
খুব সম্ভবত সামনের মাসের প্রথম সপ্তাহেই তার বিয়ে।
কার্ড পাবে অবশ্যই!
কথাগুলো লুনা এক দমেই বলে ফেলল!
কিন্তু তার প্রতিটি কথা একএকটা ত্রিফলা হয়ে আমার বুকের গহীনে আজ অবধি বিধে আছে।

ইংরেজি ১৯৮১ সন।
টংগী কলেজের মাঠে বসে আমাকে হজম করতে হয়েছিল লুনার কথা গুলো !
আজ এতগুলো বছর পেরিয়ে গেল সেই না বলা কথগুলো বুকের গহীনেই চাপা পড়ে আছে নিরব নিথর ভাবে !
আজও হয় নি বলা তোমাকে সেই কাথাটা

তুমিহীনা

প্রকাশকালঃ ২৬-০৬-২০২০

প্রায় মধ্য রাত!
চারিদিক নিরব নিথর নিস্তব্ধ !
আকাশে ঝলমলে চাঁদ!
সাথে তারাগুলিও ঝলঝল করছে রীতিমত !
মাঝে মাঝে দু’একটা রাতজাগা পাখী উড়ে যাচ্ছে !
কখনো ভেসে আসছে ঐ দূর থেকে কোন শিয়ালের চিৎকার!
ঝিঝি পোকা গুলো ডেকে চলেছে একটানা!
কখনোবা উড়ে যাচ্ছে জ্বলতে জ্বলতে এক দুইটা জোনাকি মৃদু আলো ছড়িয়ে!
আবার কখনো কু-ঝিকঝিক শব্দ করে ছুটে চলেছে রাতের ট্রেনগুলো দূর কোন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে !
ট্রেনে বসে থাকা কোন যাত্রী হয়তো জানালার কাচ ভেদ করে দৃষ্টি মেলে অবলোকন করছে দূরে বা পাশের আলোগুলিকে!
হয়তো ভাবছে এইতো আর কিছুটা পথ!
তারপরই হয়তো মিলিত হব আপনজনদের সাথে!
আবার কেউ হয়তো সিটে হেলান দিয়ে ঘুমের রাজ্যে করছে বিচরণ !

আর আমি !!
চাঁদকে দেখছি খুব নিবিড় করে!
কখনো খোলা আকাশে
কখনো গাছের ফাঁকেফাঁকে লুকোচুরি খেলার মত করে!

অনেক দিন হয় চাঁদ দেখি না !
তবে দেখি না বললে ভুল হবে!
চাঁদ দেখি তবে সেই রকম করে এখন আর দেখি না!
দেখতে ইচ্ছেও জাগে না!
তুমিই বলো
একা একা কি চাঁদ দেখতে ভাল লাগে!
ও তুমিতো নেই আমার পাশে!
তোমাকে জিজ্ঞেস করেওতো লাভ নেই!
কোন উত্তরইতো পাব না!!

তবুও না হয় আজকের এই জ্যোৎস্না রাতটা তুমিহীনাই কাটিয়ে দিলাম,
নাহয় আমার জীবনে তুমিহীনা আরেকটা নির্ঘুম রাতের স্বাক্ষী হয়েই রইল এই ঝলমলে চাঁদটা!

ভাল থেকো তুমি ওপাড়ে!!

ঠিকানাহীন পথ
মাসুদ রানা

কতটা যন্ত্রনায় পোড়ালে প্রেমের মৃত্যু ঘটে,
অনেক দূরে হারিয়ে যেতে হয় !
আজ আমিও জড়াতে চাই সেই যন্ত্রনার জালে!
আমিও হারিয়ে যেতে চাই সেই যন্ত্রনার অরণ্যে!
যেখানে শুধুই শুন্যতা আর একাকীত্বের নির্ভরতা বিরাজ করছে !
শুন্যতাকে অনুধাবন করেই নিজেকে পোড়াতে চাই!
পুড়তে পুড়তে আমি অংগার হতে চাই!
জানি হতে পারব না তবুও খাঁটি!

জ্বলতে জ্বলতে একটা সময় আমি নিঃশেষ হয়ে যাব!
হয়তো একটা সময় আমিও ঠিকানা হারাব!
হয়তো খুঁজে পাব না পুরানো ঠিকানা আমার!
তারপর আমিও চলে যাব দূর বহুদূরে!
ঠিকানাহীন পথে এক অন্য কোন প্রান্তে !
যেখান থেকে ফিরে আসেনা কেউ!
আমিও আর ফিরব না কোন দিন আমার সেই পুরানো ঠিকানায়!!

ভয়াল ৭১
মাসুদ রানা

পাকসেনাদের হাতে জিম্মি বাংলাদেশ!
বাংলা থেকে করতে হবে ভাষা উর্দূ,
এই নিয়ে শুরু হল বিশাল যুদ্ধ!
নির্যাতিত হতে লাগল বাংলার মানুষ,
হারাতে থাকল ইজ্জত মা’বোনের!
বাংলার দামাল ছেলেরা হয়ে উঠল এক জুট,
বুকে সাহস নিয়ে তুলে নিল হাতে বন্দুক!
নামে মুক্তিসেনা দেখতে কৃষক আর মজুর,
কেউবা ফকির আবার কেউবা হুজুর!
এভাবেই চলে যুদ্ধু চলে লড়াই দেশের তরে,
কেউ ফিরেছে পতাকা হাতে
কেউবা নিয়েছে বিদায় চিরতরে!
লাখো বাইয়ের তাজা রক্তের ছোপ
আর লাখো মা’বোনের ইজ্জত,
বিনিময়ে পেয়েছি আমরা সোনার বাংলাদেশ!

ভালবাসতে গিয়ে
মাসুদ রানা

ভালবাসতে গিয়ে বার বার আঘাত পাই
কাছে আসতে গিয়ে বার বার হোচট খাই।
তোমাকে পেতে গিয়ে নিজেই হারিয়ে যাই
সুখ খুজতে গিয়ে দুখের সাগরে ভেসে যাই।
ঠিকানা খুজতে গিয়ে পথ ভুলে যাই,
আলো খুজতে গিয়ে আধারে হারাই।
জীবনের মানে খুজতে ভাবনায় হারাই,
তোমার সুখের তরে নিজেকে বিলাই।
তবুও আজ আমি ব্যর্থ এ চলার পথে,
রক্তক্ষরন তাই আজ আমার প্রতি ক্ষতে।
আসুক যত বাধা বিপত্তি আমার এ পথে
নাইবা হলে তুমি আমাতে,
আমিতো রব শুধুই তোমাতে।
ভালবাসা মোর রেখেছি যতনে শুধুই তোমার তরে
হবে না তা মলিন হবে না বৃথা,
যদিওবা চলে যাই চির তরে।

Masud Ahmed Rana

দুজন দুজনাতে
মাসুদ রানা

ধবধবে চাঁদ আলো ঝলমলে আকাশটা
নেই কোথাও কোন মেঘের ঘনঘটা ।
আকাশে বইছে মিটিমিটি তারার মেলা
এ যেন এক আলোর ঝলমলে খেলা ।
সেখানে নেই কোন আধার আর মেঘের ঘনঘটা,
নেই কোন কষ্ট আর বেদনার বিষণ্ণতা।
খোলা ছাদ, পাশা পাশি দুজন একে অন্যের
কথা হবে ভালবাসার শুধুই দুজন দুজনের।
সে আর কেউ নয় সেতো শুধু তুমি আর আমি
দিতে চাই উজাড় করে সবটুকু যদি নিতে চাও তুমি।
আমি তোমাতে তুমি আমাতে দুজন দুজনাতে
হয়ে যেতে চাই একাকার নিবিড় ভালবাসাতে ।
কথা দাও তুমি যাবে না ছেড়ে কোথাও কোন ছলে
আমরা দুজন একে অপরে মিশে রব এই সরোবরে।

ধুম্র চক্রের বেড়া জালে
মাসুদ রানা

আজ আমি বন্ধি,
নেই কোন অবকাশ ফিরে যাবার,
নেই কোন আধ্যায় ভুলে যাবার,
ক্ষত বিক্ষত হচ্ছি
বার বার আঘাতে আঘাতে,
রক্তাক্ত হচ্ছে হৃদয় প্রতিনিয়ত,
ঘুর্নিপাকে ঘুরছি অবিরত বিরামহীন, কোথায় হবে এর শেষ উদ্দেশ্য ঠিকানাহীন।

একাকী জীবন
মাসুদ রানা

একাকী আমার জীবনটা অনেক ভালো ছিল ,
যে জীবনে কোন স্বপ্ন ছিল
না , ছিল না কোন চাওয়া পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ,
ছিল না কোন প্রাপ্তি আর হারানোর বেদনা । হঠাৎ করে তোমার অল্প কিছু দিনের অবস্থান আমার
জীবন টা কে বদলে দিল । হ্যাঁ সত্যিই অনেক স্বপ্ন আর কিছু অন্য রকম
অনুভূতি জন্ম দিল আমার মাঝে । কিন্তু এক পসলা বৃষ্টির মত হঠাৎকরে
তোমার চলে যাওয়াটা অনেক বেশী বদলে ফেলেছে আমাকে , আবার একা করে ফেলেছে আমাকে ।
কিন্তু বিশ্বাস করো সেই একাকী জীবন
আর আজকের এই একাকীত্বতার মাঝে যে অনেক ব্যবধান সেটা আমি বুঝি । আমার সেই একাকী জীবন কোনদিনও দুঃখ দেয়নি আমাকে ,
কিন্তু আজকের এই একাকীত্বতার জীবন একটু সুখ দেয়নি আমাকে ,
শুধু দিয়েছে চোখের কোনে কিছু অশ্রু ফোঁটা আর কিছু নির্ঘুম রাত ।।

Masud Ahmed Rana

তোমাকে পাব বলে
মাসুদ রানা

Masud-Rana

তোমাকে পাব বলে আজও
আমি একাকী আধার পথে হাটি ,
তোমাকে আজও আমি খুজে ফিরি
আমার মনের দোর গোঁড়ায়,
তোমার রেখে যাওয়া ভালোবাসাটুকু
বুকের গহীনে পুষে রেখে পথ চলি নিভৃতে ,
আজও আমি একাকী শুধুই তোমার অপেক্ষাতে,
তৃষ্ণার্ত বুকটা শুধুই হাহাকারে পরিপূর্ণ
শুধুই তোমার এক ফোঁটা ভালবাসার নিমিত্তে,
আজও আমি পথ চলি ভয় হীন ঝড়ো পথে ,
শুধু একটি বার তোমাকে পাব বলে !

খোলা বাতায়ন
মাসুদ রানা

খোলা বাতায়ন, আকাশে মেঘের ঘনঘটা,
স্তব্ধ চারিধার, মাঝে মাঝেই বিদ্যুতের চমক।
তৃষ্ণার্ত ব্যাঙ্গের একটানা গর্জন বিরাম হীন
সাথে আকাশে ঘুর্নিয়মান মেঘের ঘর্ষণ।
চোখের সামনে ভেসে আছে পুরুনো স্মৃতির মেলা
মন আর আকাশের মেঘ মিলে করছে যেন খেলা ।
এভাবেই চলেছে কতটা সময় খোলা বাতায়নে
সাথে জমেছে কখন জানি জল দু চোখের কোনে।
ভিজেছে দু গাল ভিজেছে বুক ভিজেছে সারা গা
শুধুই কি মনের মেঘ, না কি সাথে ছিল মেঘের কান্না।

কোথাও কেউ নেই
মাসুদ রানা

কোথাও কেউ নেই,
সবাই ঘুমের রাজ্যে অচেতন,
শুধু জেগে আছি আমি, সাথে একরাশ অনুভুতির বিচরণ,
সোঁ সোঁ শব্ধ করে নিরলস ভাবে ঘুরে চলছে
বৈদ্যুতিক পাখাটা মাথার উপর,যেন নেই কোন অলসতা !
ভাবনা গুলু বার বার মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে মনের গহিনে,
মন ধেয়ে চলছে পিছন ফিরে পুরানো সব স্মৃতির আবিরে,
সন্মুখে আধারের ঘনঘটা, ভয়ার্ত শিয়ালের একটানা চিৎকার,
আকাশে মেঘের গর্জন, সাথে চমকানো বিদ্যুতের ঝলকানি,
বাতাসের শন শন ধ্বনি, হয়তো এখনই আসবে ঝড়,
তছনছ করে দিবে সব কিছু,
একাকার করে দিবে সাজানো বাগান,
ছিন্ন বিন্ন করে দিবে সকল মায়ার বাঁধন,
হয়তো থেমে যাবে কিছুটা সময় পর,
কিন্তু নিমিষেই হয়ে যাবে সব একাকার !
মুখ থুবড়ে পড়ে থাকব আমি,
সাথে আমার সকল ভাবনার হবে পরিসমাপ্তি !!

Masud Ahmed Rana

তোমার অপেক্ষাতে
মাসুদ রানা

তোমার অপেক্ষাতে প্রতি রাত আমি নির্ঘুম কাটিয়েছি।
প্রতিটি মুহূর্ত হয়েছে রক্তাক্ত আমার হৃদয়!
অপেক্ষার প্রহর গুনেছি ক্ষনে ক্ষনে!
যদি একটিবার দেখা পাই তোমার!
যদি এতোটুকুও মাতাল হতে পারি তোমার গায়ের গন্ধে! কিন্তু না,
আমি হেরে গেছি!
অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে কখন যে পূবাকাশ আলোকিত হয়ে গেছে বুঝতেই পারি নি!
সব অপেক্ষার পালা শেষ হয়ে যন্ত্রনার পোকা গুলো দিনের শুরুতে আবার আক্রমণ করছে আমার রন্ধ্রে রন্ধ্রে!
এখন আবার সেই আধারের অপেক্ষায় সহ্য করে যেতে হবে যন্ত্রনার লেলিহান শিখা!!

কেন আর ফিরলে না তুমি
মাসুদ রানা

কেন আর ফিরলে না তুমি,
কেনইবা ফিরাতে পারলাম না তোমায় আমি !
এতো অভিমান কেনইবা ছিল তোমার!
তা শুধুই কি ছিল ভুল আমার !
নাকি কিছু ভুল ছিল তোমার !
নাকি ছিল দুজনার !
হয়তো পারোনি বুঝতে তুমি আমায়!
পানিনি বুঝতে আমিও তোমায়!
না বুঝার জাঁতাকলে যখন পিষ্ট দুজন!
যন্ত্রনা বাসা বাধে মনের গভীরে আজীবন!
তুমিতো চলে গেলে তোমার পথ ধরে,
আমি যে একাকী অসহায় আমারই ঘরে!
তোমার রেখে যাওয়া সবটুকু ভালোবাসা,
দিশাহীন জীবনে আমার বেচে থাকার আশা !!!!!!!

তোমাকে নিয়ে
মাসুদ রানা

আজ অনেক দিন হয় তোমাকে নিয়ে কিছু লিখা হয় না ,
কিন্তু তাই বলে ভেব না আমি তোমাকে নিয়ে ভাবী না !
প্রতিটি ক্ষনে শুধু তোমারই ছবি আঁকি মনের গহীনে ,
ভাবি বার বার শুধু তোমারই কথা অতি সন্তর্পণে।
খুজেছি তোমায় বনে জঙ্গলে পাহাড় আর পর্বতে
হন্নে হয়ে ঘুরেছি আমি এ প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে !
পাই নি খুজে কোথাও তোমায় এ পৃথিবীর কোন প্রান্তে
তুমিতো ঠাই করে নিয়েছ হৃদয়ে আমার মনেরই অজান্তে!
একটা প্রশ্ন আমার শুধু তোমারই তরে
তোমারই মত আমিও কি আছি তোমারই মনের ঘরে ?
নাকি এভাবেই ঘুরব আমি তোমায় নিয়ে মনের গভীরে
এপ্রান্ত থেকে ও প্রান্তে শুধুই নিরাশা আর অবহেলার পাত্র হয়ে !!!!!!!!

Masud Ahmed Rana

অভিমান !!
মাসুদ রানা

কার সাথে করব অভিমান !
যার কোন অস্তিত্বই নেই।
কিন্তু তবুও আজও আমি
করছি অপেক্ষা শুধুই তোমার !
দিনের আলোয়,
প্রতিটি রাতের আধারে,
শত ঝড় ঝঞ্ঝা ,
তপ্ত রোদে,
আবার কখনো মুশলধারে
ধেয়ে আসা বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে।
শুধু এইটুকু আশা বুকে চেপে,
তুমি আসবে বলে।
আমরা হাতে হাত রেখে হাটব কতইনা পথ, হয়ে যাব একাকার মিলে মিশে সেই বনাঞ্চলে।
সত্যিই কি তুমি আসবে?
নাকি শুধুই অপেক্ষা প্রতিনিয়ত !!!

শুধুই অপেক্ষা
মাসুদ রানা

আমি মুগ্ধ হলাম,
দগ্ধ হলাম,
তার রূপের আলোয় চোখ
অন্ধ হলো।
আর সেই ক্ষত আজও আমি বয়ে বেড়াই
শুধু তারই অপেক্ষায় ,
আজও আমি প্রতিক্ষন
অপেক্ষার প্রহর গুনি তারই প্রতিক্ষার ,
যতই সময় গড়াচ্ছে ততই যেন
রক্তক্ষরন বাড়ছে সেই ক্ষত থেকে ,
আসবে কি সে!
শেষ হবে কি আমার অপেক্ষার প্রহর ??
তবুও শুধুই অপেক্ষা আমার !!!!

অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছি
মাসুদ রানা

রাতের গভীরতাটা আস্তে আস্তে ঘনিভুত হচ্ছে,
আকাশের মাঝা মাঝী অর্ধ খণ্ড চাঁদ
ঝলমল করছে সারাটা পৃথিবী;
সাথে কিছু কুয়াশা আবছা করে দিচ্ছে আলোর ঝলকানি!
মাঝে মাঝে বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে চোখের দৃষ্টি সেই কুয়াশার চাদরে
বালুচরের পাশ দিয়েই বয়ে চলেছে একটি ছোট্ট নদী,
মনে হচ্ছে যেন ফুটন্ত জলের এক রাশ ধোঁয়া
সারাটা নদীর জলকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে !
আমার হাটার পথে ধেয়ে আসা হিম শীতল বাতাসের একটা বাধা
মনে হচ্ছে যেন বুকের গভীরে হাতুড়ীর আঘাত !
তবুও থেমে নেই পথচলা যতই আসুক বাধা !
আমাকে যে যেতেই হবে আমার হারিয়ে যাওয়া ঠিকানায়
কোন বাধাইযে আজ আমার পথ রোধ করতে পারবে না !
বুকের গহিনে লুকিয়ে রাখা ভালবাসাটুকু তোমাকে
দিব বলেই যে আমার এই আঁধারে একাকী পথচলা!!

Masud Ahmed Rana

যেদিন এসেছিলাম
মাসুদ রানা

যেদিন এসেছিলাম সেদিন কিন্তু ভাবি নি এভাবে চলে যেতে হবে
অথছ আজ দুচুখের লোনা জলে সবাইকেই বিদায় জানাতে হবে ,
আসলে এটাই নিয়ম এটাই বাস্তবতা এটাকেই মেনে নিতে হয়
তবু কেন এটাকেই মেনে নিতে মনে জাগে অজানা এক সংশয় ,
অনেকটা সময় কাটিয়েছি তোমাদের এই মিলন মেলায়
আজ সময় হল যাবার বিদায় দাও তোমরা নগণ্য আমায় ,
করে থাকি যদিবা কোন ভুল ,কোন অন্যায় তোমাদের সাথে
করে দিও ক্ষমা সুযোগ দিও আমায় শুধরে নিতে আমাতে,
অনেক কথাই বলেছি তোমাদের অনেক কথার ছলে
ধুয়ে মুছে যাক তা আজ আমারই দুচুখের লোনা জলে ,
ভাল থেকো সুখে থেকো সবাই এই কামনা মোর
আজ আমি সবার কাছ অনেকটাই থেকে দূর বহু দূর

বেদনার নীল
মাসুদ রানা

আমি আমার আমিত্ব দিয়ে সজিব
করে তুলি অন্যের বাগান,
আমার ঝরা বৃস্টি দিয়ে
ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে দেই
সকলের কষ্ট আর যত গ্লানি,
আমি নাহয় বিলিয়ে দিলাম
আমার সকল স্বত্বা তোমাদের তরে,
বিনিময়ে তোমাদের হাসিটুকু দিয়েই না হয় ঢেকে রাখলাম আমার বেদনার নীল টুকু !!!!!

কাল রাতে খুব অন্ধকার ছিল
মাসুদ রানা

সত্যি কাল রাতে খুব অন্ধকার ছিল,
আমি ছিলাম সেই আধারের অপেক্ষারত এক অপেক্ষমান প্রেমিক,
আমার বাড়ানো হাতেই টের পেলাম কারো অনুভুতি,
তাকিয়ে দেখলাম আধারেও সুস্পষ্ট তোমার উপস্থিতি,
ভুল হয়নি একবিন্দুও তোমাকে চিনার,
তোমার গায়ের সুপরিচিত গন্ধটা সুবাসিত করেছে আমার নাসিকাদ্বয়,
অপলক দৃস্টি আমার তোমার প্রতি,
আজ কতগুলু বছর দেখি না তোমায়,
বলিনি ভালবাসি তোমায়,
করিনি চুম্বন তোমায়,জড়িয়ে রাখতে পারিনি শুন্য এ বুকে আমার,
আজ যেন সব কিছুর আনন্দ বুকটাকে ভরিয়ে দিয়েছে,
আমি উন্মাদ আমি পাগল প্রায় তোমার সান্নিদ্ধে।
কিন্তু আচমকা যেন সব কিছু তছনছ হয়ে গেল,
হাঠৎ বিদ্যুৎ চমকানো সাথে ভীষন বাঝ পড়ার শব্দ,
এরই সাথে সাথে একপশলা অপ্রত্যাশিত বৃস্টি,
সব কিছু ধুয়ে মুছে একাকার করে দিল,
সম্বিত ফিরে পেলাম,
দেখলাম আমি আমার সেই পুরানা জায়গায়!!

একাকী
মাসুদ রানা

একাকী আধারের চার দেয়ালে
বন্দী আমি এক নিষ্ঠুর কয়েদী,
অপেক্ষা শুধুই দণ্ডের !
জানি কোন দিন পাব না ছাড়া
হবে না খালাস এই দণ্ডিত হৃদয় ,
অপরাধ শুধুই আমার ভালবাসার,
মনের কোনে বার বার বেজে উঠে করুন আর্তনাদ,
বার বার প্রতিবার আঘাত করে হৃদয় নামক বস্তুটাকে,
সয়ে যাই প্রতিবার রয়ে যাই দণ্ডের অপেক্ষাতে !!!!!!!!!!!!!!

Masud Ahmed Rana

শুধুই অপেক্ষা
মাসুদ রানা

আধারের মৃত্যুদ্বীপের একাকী পথিক আমি,
নির্বিকার চলেছি নির্ভয়ে আমি আমার আমিত্বে,
থেমে নেই পথ চলা,
নির্বিকার এগিয়ে চলা,
বরণ করে নিয়েছে আমায় স্বাদরে,
আমিযে আজ বন্দি সেই মৃত্যু পিঞ্জিরায়,
এখন শুধুই অপেক্ষা সেই শেষ মুহুর্ত টুকুর !!!!!!

কিছু স্মৃতি
মাসুদ রানা

কিছু স্মৃতি বার বার কাদায়,
কিছু ভাবনা হৃদয়ে দোলা দেয়,
কিছু সময় খুব দ্রুত বয়ে যায়,
কিছু চেনা অচেনা হয়ে যায়,
কিছু দুরত্ব শুধু বেড়েই যায়,
কিছু সম্পর্ক ভালবাসায় রুপ নেয়,
কিছু না বলা কথা মনের গভীরে রয়ে যায়,
কিছু ভালবাসা বার বার পিছু ডাকে
কিছু আতিথেয়তা নিবিড় হয়ে থাকে,
কাউকে চাইলেও ভুলা যায় না
কারো সাথে চাইলেও ভালবাসা হয় না !!!

পাশাপাশি
মাসুদ রানা

পাশাপাশি হেঠেছি দুজন খুব অল্প সময়, পারি নি যেতে বহুদুর,
ইচ্ছে ছিল পথের শেষটুকু পর্যন্ত হাটব দুজন মিলে,
একে অপরের হাতে শক্ত বাধনে
আবদ্ধ থাকব আংগুলের খাছে খাছে,
কোন বাধাই পারবে না করতে ছিন্ন এ বাধন !
এইতো ছিল দুজনের শপথ।
তবে কেনইবা শুন্য এ হাত !
কেনইবা আজ আমি একাকী পথিক!
কেনইবা আজ সাথী আমার রাতের আধার !
কেনইবা পথ আমার নির্জন !
আজ কে দেবে উত্তর এই কেন’র?
তাহলে কি এভাবেই চলতে হবে একাকী বাকীটা পথ ????

কোন দিনও
মাসুদ রানা

কোন দিনও ভাবিনি তোমাকে ছাড়া
এভাবে জীবনের দিন গুলো কে
আমি একা একা পার করবো ,
ভাবিনি কোনদিনও আমার স্বপ্ন গুলো
এভাবে জীবনের মাঝ পথে
আসে লক্ষ্য হীন হয়ে যাবে
সত্যিই ভাবিনি কোনদিনও
আমার হৃদয় ফাঁকা হয়ে যাবে ,
ভাবিনি কাউ কে ভেবে
কোনদিন আমাকে নির্ঘুম
রাত কাঁটাতে হবে ।
আমি ভাবিনি কোনদিনও
তোমার হাত আমাকে ছেঁড়ে
দেবে । কিন্তু আজ বাস্তবতা যেন
আমাকে শিখিয়ে দিয়েছে
স্বার্থপর এই পৃথিবীতে
সবাই নিজের স্বার্থের কাছে
ভুলে যায় তার প্রতিশ্রতি ।
স্বার্থপর এই পৃথিবী ভুলিয়ে দেয় মানুষের অতীত কে ।
ঠিক তেমনই এই স্বার্থপর
পৃথিবী আমাকে বুঝিয়েছে
একা একা বাঁচতে।

ফুরিয়ে গেছে দিনের আলো
মাসুদ রানা

ফুরিয়ে গেছে দিনের আলো,
ঘনিয়ে এসেছে বিভীষিকার কালো আধার !
আকাশে মেঘের ঘনঘটা,
বিদ্যুতের ঝলকানি !
টিপটপ করে ঝরছে আকাশের অশ্রুকণা,
শব্দ হচ্ছে পাতায় পাতায়!
একটানা ব্যাঙ গুলো ডেকে যাচ্ছে অবিরত,
সাথে ঝিঝি পোকাদের আর্তনাদ !
নিভে গেছে বিদ্যুতের আলো,
চারিদিকে শুধুই আধার ঝমকালো!
কেমন যে একটা হালকা
স্পর্শ পেলাম বা কাধের উপর,
স্পর্শটা খুব পরিচিত মনে হল!
বুকের বা পাশটা কেমন যেন
মোচড় দিয়ে উঠল!
তবে কি !!!
অনেক পুরুনো স্মৃতির ভীড়ে হারিয়ে গেলাম,
নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করলাম!
হঠাৎ করেই মাথার উপর বৈদ্যুতিক
বাতিটা আলো ছড়িয়ে ঝলমলিয়ে উঠল,
নিমিষেই হারিয়ে গেল সেই চেনা
হাতের স্পর্শ !
ফিরে এলাম নিজের অস্তিত্বে,
কানে ভেসে এল সেই টিপটপ বৃষ্টির শব্দ,
সাথে আকাশের আর্তনাদ !!

Masud Ahmed Rana

খুজেছি তোমায়
মাসুদ রানা

খুজেছি তোমায় জনমানবের শহরে
খুজেছি তোমায় চেনা মানুষের ভীরে !
খুজেছি তোমায় পথে প্রান্তরে
খুঁজে ফিরেছি বার বার মিথ্যের অভিলাশে!
হেরেছি বারবার নিজের কাছে নিজে
ভুল পথে বাড়িয়েছি পা কখন জানি নিজেরই অজান্তে!
এভাবেই চলতে চলতে হারিয়েছি পথ জানি না কখন
আর তাইতো পথিক আমি সাথী আমার নির্জন এই পথ!

এখানে এলেই
মাসুদ রানা

এখানে এলেই আমাকে প্রণত হতে হয়!
নিরবতার অবসান হয়
হাহাকারের গর্জনে!
ঘুমিয়ে থাকা সত্বা হয়ে উঠে জাগ্রত
যন্ত্রনার কোলাহলে!
স্তব্ধ হয়ে থাকা প্রতিটি ক্ষন
উদ্বেলিত হয় উত্তাল সাগরের ঢেউয়ের তাণ্ডবে !
শুন্য হৃদয়টা হাহাকারে ভরে উঠে
পুঞ্জিভূত কষ্টের আবিরে!
তবুও বারবার ফিরতে চায় হৃদয়
সেই দাবানলে!

কতটা পথ
মাসুদ রানা

কতটা পথ হেটেছি জানি না তোমারই আশে,
আর কতটা পথ হাটলে তোমায় পাব পাশে !
কতটা সময় পার করেছি দেখিনি তাও তালাশ করে,
আর কতটা সময় পার করতে হবে এই নিরুদ্দেশের পথে!
একাকী নির্জনে বন্ধুর পথে সাথী হারা পথিক আমি
জানা নেই আমার পাব কি তোমায় দিবে কি সাড়া তুমি !
হারিয়ে যদি যাই গো আমি নির্জন এই বন্ধুর পথে
ছায়া হয়ে রবে ভালবাসাটুকু তোমার আমারই চলার পথে !
আমিতো আমার মত করেই বুঝতে চেয়েছিলাম তোমাকে
আর তুমিতো তোমার মত করেই বুঝে নিয়েছ আমাকে !
হলো ব্যবধান রয়ে গেল গরমিল দুজনার চাওয়া পাওয়ায়
তবুও যদি হয়ে যায় কোন ভুল তবে ক্ষমা করো আমায় !

প্রশ্ন
মাসুদ রানা

তুমি প্রশ করেছিলে—–
এতো ভালবাসি কেন তোমায়?
আমি দিতে পারিনি উত্তর তোমায় !
জানাটা কি খুবই জরুরী !!!!
থাক না নাই বা জানলে আর নাইবা
বললাম আমি তোমায় !
না হয় রয়েই গেল এ এক অজানা অধ্যায়!
ভালতো তোমায় আগেও বাসতাম আর
বাসি ভাল এখনো।
দুঃখ কষ্ট দাও না যতই বাসবো ভাল তখনো।
হয়তো তুমি ভেবে নিয়েছো এ শুধু মোর ছলনা !
নেই তুমি কাছে আছো বহু দূরে তাতে বা কি, তাই বলে তোমায় ভুলব না।
বেসে যাব ভাল এভাবেই তোমায় যতদিন শ্বাস রবে এ দেহে
বাড়বে শুধুই কমবে না কভু কোন ভুলের মোহে !!

Masud Ahmed Rana

আমিতো ভেসেই যাচ্ছিলাম
মাসুদ রানা

আমিতো ভেসেই যাচ্ছিলাম বানের স্রোতে
আমিতো তলিয়ে যাচ্ছিলাম সাগরের অতল গহব্বরে,
আমিতো হারিয়ে যাচ্ছিলাম আমার আমিত্ব থেকে,
আমিতো ছুটিই নিয়েছি আমার জীবন থেকে,
আমিতো ছিটকে পড়েছি আমার সব চাওয়া পাওয়া থেকে,
আমিতো ভুলতে চেয়েছি আমার সকল অতিতকে,
আর তাইতো করেছি আলিঙ্গন আগত মৃত্যুকে !
কিন্তু কে তুমি ???
আর কেনইবা বাড়ালে হাত আমার আমিত্বে?
কেনইবা দিচ্ছ হাতছানি বারংবার ঘুমিয়ে পড়া সত্বাতে!
কষ্ট আর যন্ত্রনার লেলিহান শীখা বহমান এই পথে,
ফিরে যাও তুমি, ভুল করেও বাড়িও না পা এই অজানাতে !
ভেসে যেতে দাও আমায়, ডুবে যেতে দাও আমায়,
দাও হারিয়ে যেতে,
ভালবাসা নয় শুভকামনা তোমায়।

আধারকে আলিঙ্গন
মাসুদ রানা

আধারকে আলিঙ্গন করে ছুড়ে ফেলে দিয়ে
আলোর ঝলকানি আস্তে আস্তে অস্ত যাচ্ছে
বিলিন হয়ে যাচ্ছে দিনময় আলোকিত করে রাখা সুর্যটা!
একটু পরেই নামবে আধার,
আর সেই আধারের সাথে সাথে যন্ত্রনার পোকাগুলু হয়ে উঠবে সক্রিয় !
কুড়ে কুড়ে খাবে হৃদয় নামক বস্তুটাকে !
স্বাক্ষী শুধুই আমারই মত রাত জাগা কিছু নিশাচর পাখী,
যা কিনা আধারের বুকে শুধুই ছটফট করে বেড়ায়।
কখনো বা আমারই সাথে সুরে সুর মিলিয়ে গেয়ে চলে বিরিহের কোন সুরের গান !
হয়তো এভাবেই চলবে তার সারাটা রাত ভোরের সুর্যদয়ের পুর্ব মুহুর্ত অবধি !!

একদা ছিল
মাসুদ রানা

একদা ছিল ভরা তোমার যৌবন,
ছিল উন্মাদনা, ছিল চঞ্চলা মন, বেবিচারে করেছ সদা বিচরন।
তলিয়ে দিয়েছ,নিষ্পেষিত করেছ কতই না কিছু ! ভাসিয়ে নিয়ে গেছ তোমার যৌবনের দাপটে কতইনা ভাসমান সুখের পাল তোলা নাওকে।করনি ভ্রুক্ষেপ হও নি নত, শুধুই দেখিয়েছ হিংস্রতা!
অথচ আজ নেই সেই দাপট তোমার যৌবনের, হয়েছ ক্লান্ত, হয়েছ শান্ত, নেই সেই হিংস্রতা,
তবুও আজও সুখের তরী বহে তোমার বুকে, না পারো তুমি তাকে বুকে টেনে নিতে!
দুমড়ে মুচড়ে একাকার আজ তুমি তোমারই অহংকারে ! হয়তো এভাবেই হয়ে যাবে নিঃষেশ জীবন থেকে চিরতরে !!!!

আমার যে শেষ ঠিকানা তুমি
মাসুদ রানা

আমার যে শেষ ঠিকানা তুমি,
তোমাকেই এত ভালো লেগেছে যে,
ঘৃণায় ভরা আমার জীবনের পাশের মানুষ গুলোকে তুচ্ছ করেছি,
নিজের কষ্ট নিজের বুকে নিয়ে ওদের জন্য আমি পথ হেঁটেছি,
আমার কথা কেউ ভাবেনি,
আমি তবু কষ্ট করে করে মাস শেষে পাওয়া টাকা গুলো দিয়ে জীবন কিনেছি তাঁদের জন্য

Masud Ahmed Rana

আমার জীবনে
মাসুদ রানা

আমার জীবনে দুঃখের অমানিশা!
তাতে বা কি!
আমিতো নিয়েইছি মেনে!
আমিতো অনেক আগেই হেরে গেছি তোমার সুখের কাছে!
আমিতো সেই কবেই নিয়েছি মেনে আমার পরাজয়!
আমিতো আজ অবধি অনুধাবন করছি শুধুই আমার ক্ষয়!
আমিতো চাইনি কখনোই তোমার পরাজয়!
আজ এতোগুলো বছর পর আমারই চোখের সামনে তোমার কষ্টের হাতসানি!
এ যে এক অপ্রত্যাশিত চাওয়া!
এতো নয় বা ছিল না আমার কল্পনাতেও!
তবু কেন আজ তা বাস্তবে!
তোমার প্রতি আমার নেই বা ছিল না কোন অভিযোগ!
ছিল না কোন অনুযোগ,
ছিল না এক ফোটা অভিশাপের ছোঁয়া !
যেটুকু ছিল তার সবটুকুই ছিল ভালোবাসা আর বিশ্বাস!
তবু কেন আজ হৃদয় ভারাক্রান্ত,
বিধ্বস্ত! আহত!পরাভূত!

শেষ হয়ে এসেছে
মাসুদ রানা

শেষ হয়ে এসেছে সেই যৌবনের দাপট,
নিস্তেজ হয়ে এসেছে আজ রক্তের গরম,
হয়তো সময় হয়ে এসেছে যাবার,
তাইতো বসে ভাবছি আজ কতনা কথা ,
হয়তো আমার জন্য অপেক্ষা করছে কোন এক
দোকানের সাদা দবদবে কাফন,
পেকে আছে হয়তো কোন এক বাঁশ ঝাড়ের কিছু বাঁশ ,
সাথে বানিয়ে রেখেছে কোন এক কারিগর
তার নিপুন হাতে বুনানো মুলির বেড়া ,
একটা সময় বন্ধ হয়ে যাবে দু চুখ, স্তব্ধ হয়ে যাবে হৃদপিণ্ড ,
নিভে যাবে জবন প্রদীপ ,
থেমে যাবে পথ চলা ,
হাড়িয়ে যাবে সব কিছু ,
একাকি নিঃসঙ্গ সাদা কাফনে শুয়ে থাকতে হবে
সেই চির চেনা মাটির ঘরে ,
আর তাইতো অপেক্ষা তোমার।

কুয়াশার চাদর
মাসুদ রানা

Masud Ahmed Rana
Md-Masud-Rana

কুয়াশার চাদর অল্প অল্প করে গ্রাস করছে সারাটা পৃথিবী,
আর কিছুটা সময় তারপরই আর থাকবে না
আলোর ঝলকানি,মুড়িয়ে নিবে সব আলো আর চোখের দৃস্টি,
একটা সময় আসবে যখন একজন মানুষ নামের নর পশু
যেমনি করে বন্ধ ঘরে আধারের ভীতর কোন এক সুন্দর রমণীকে
দলে মুচড়ে নিষ্পেষিত করে,
লাঞ্ছিত করে আর তার সারাটা দেহ
কুড়ে কুড়ে রক্তাক্ত করে দেয়,
ঠিক তেমনি সেই মোড়ানো কুয়াশার চাদরের অভ্যন্তরে
লুকিয়ে থাকা যন্ত্রনা নামক হিংস্র বস্তুটিও প্রস্তুত হচ্ছে
হৃদয় নামক পিন্ডটাকে নিষ্পেষিত করার জন্য
আর কুড়ে কুড়ে রক্তাক্ত করার জন্য!
হৃদয় নামক বস্তুটিও যেন অপেক্ষমান সেই কস্ট ভোগ করার নিমিত্তে,
কারন সে জানে এবভাবেই প্রতিনিয়ত হচ্ছে আর তাই হবে !
এটাই হওয়ার কথা !
তাইতো এখন সেই আধার আর রক্তাক্ত হওয়ার প্রয়াস নিয়েই
দিনের আলো ফুরিয়ে যাবার কোন ক্লেশ নেই,
আছে শুধুই অপেক্ষা !!

Masud Ahmed Rana

আর কতটা পথ
মাসুদ রানা

আর কতটা পথ পেরুলে তোমায় পাব,
আর কতটা দুরত্ব অতিক্রম করলে তোমায় ছুতে পারব,
আর কতটা আধার পেরুলে আলোর দেখা পাব,
আর কতটা যন্ত্রনার দহনে তোমায় সুখী দেখব,
আর কতটা বিশ্বাসে তোমার ভালবাসার দেখা পাব,
আর কতটা আগুনে পুড়লে খাটি হব,
আর কতটা নির্ঘুম রাত কাটালে সকালের দেখা পাব,
আর কতটা নিরবতা তোমার অভিমান ভাংগাতে পারব,
খুব জানতে ইচ্ছে করে !!!!

চলে গেছ তুমি
মাসুদ রানা

চলে গেছ তুমি
সেই কবে!
আজও স্মৃতির পাতায় অমলিন তুমি!
আমি প্রতিটি রাত কাটাই নির্ঘুম,
শুধুই তোমার ফিরে আসার অপেক্ষাতে!
এমনি সেই যে কবে ঠিক এভাবেই রাতের আধারেই
তুমি চলে গিয়েছিলে চুপিসারে আমার এ হৃদয়টা শুন্য করে!
আর ফিরে আসোনি একটি বারের জন্যও!
কিছু না বলেই চলে গেলে তুমি!
আমারতো কিছু ছিল বলার তোমায়!

আজও আমি প্রায় সময় দাঁড়িয়ে থাকি তোমার সমাধিপরে!
হয়তো দেইনি ফুল সমাধিতে তোমার!
শুধু দুচোখের নোনা জলে লিখে যাই তোমার স্মৃতিবিজড়িত সেই ক্ষন গুলোর কথা!
আজও আমি চাতক পাখীর মতই অপেক্ষার প্রহর গুনি তোমার ফিরে আসার!
যদিও তা হবে না জেনেও মিথ্যে সান্ত্বনায় নিজেকে করি প্রবঞ্চনা !
আমি যে আজও অনেক ভালোবাসি তোমায়।!

পড়ন্ত বিকাল
মাসুদ রানা

পড়ন্ত বিকাল,ফুরিয়ে যাচ্ছে দিনের আলো,
ধেয়ে আসছে আধার নামের বিভিষিকা,
আর কিছুটা সময় তারপরই কালো আধারে
ঢেকে যাবে সারাটা পৃথিবী,
ভয়ার্ত যন্ত্রনার থাবা গুলু আঘাত করার নিমিত্তে
শক্রিয়মান হচ্ছে গুটি গুটি করে,
হিংস্র শিয়ালের মতই কুড়ে কুড়ে খাবে
হৃদয় নামক বস্তুটাকে,
আমি শুধুই চেয়ে চেয়ে দেখব নির্বাক দুটি চোখে,
কিছুই ছিল না বলার আমার
এখনো নেই আর থাকবেও না কখনো !

কতবার চেয়েছি
মাসুদ রানা

কতবার চেয়েছি তোমাকে ভুলে যাব!
কতবার চেয়েছি আবার নতুন করে পথ চলব!
কতবার চেষ্টা করেছি আধার থেকে আলোতে ফিরে যেতে!
কতবার ভেবেছি আবার নতুন করে বাচতে শিখতে!
কিন্তু
বারবার প্রতিবার আমি হয়েছি ব্যর্থ !
তোমাকে ছাড়া আমি যে কত অসহায় !
তুমিহীনা আমি যে ব্যর্থ এ হৃদয় আমার!!!

Masud Ahmed Rana

খাচার ভীতর
মাসুদ রানা

খাচার ভীতর ছটফট করে মন,
পরাজয়ের খাতা বড্ড বেশী ভারী !
তারপরও আমরা খেলায় মেতে রই প্রতিনিয়ত জেনেও পরাজয়!
হয়তো এভাবেই কষ্টের প্রাচীর অল্প অল্প করে বেড়ে উঠবে,
আর আমি একটা সময় বন্দি হব চিরতরে সেই প্রাচীরের আড়ালে!
হয়তো ভেদ করবে না আর আমার আর্তনাদ সেই প্রাচীর!
কুড়েকুড়ে খাবে আমায় যন্ত্রনার পোকাগুলো!
একটা সময় আমি হব নিস্তেজ
জয় হবে কষ্টের!
শেষ হবে জীবনের সকল হিসাব কিতাব!!

একটি চিঠি
মাসুদ রানা

প্রিয়তমেষু,
কেমন আছো তুমি?
অনেক দিন হয় তোমার কোন খবর পাই না!
বার বার চিঠি দেয়ার পরও তোমার কোন উত্তর না পেয়ে আমি বড়ই চিন্তাযুক্ত আছি!
আজ বহুদিন হতে চলল তুমি আমার চিঠির কোন উত্তর দিচ্ছ না !
কেন বা কি কারনে দিচ্ছ না তা আমার বোধগম্য নয়!
ডাকপিয়ন যখন আসে তখন প্রতিদিন আমি ছুটে যাই তার কাছে!
এই বুঝি এলো তোমার চিঠি !
কিন্তু না !
ডাকপিয়ন হেসে বলে
আপনার কোন চিঠি নেই!!!
ভারাক্রান্ত মনে ফিরে আসি প্রতিদিন!
এভাবেই আজ অবধি কেটে গেছে
প্রায় তেরটি বছর!
শুধুই তোমার একটি চিঠির অপেক্ষায়!!!
জানি না কবে অবসান হবে এই অপেক্ষার!
তোমাকে দিব বলে কত যত্ন করে ফুটিয়েছি ফুল ছাদের সেই টবে!
একএক করে ঝরে পড়ে
আবার ফুটে !
ভালোবাসা গুলু জমিয়ে রেখেছি
মনের গহীনে খুব যত্ন করে তোমায় দিব বলে!
কিন্তু আমি যে আজ ক্লান্ত, অবসন্ন, ক্ষতবিক্ষত !!
তবুও আমি এভাবেই রব শুধু তোমারই অপেক্ষায়!

পরিশেষে শুধু এইটুকুই বলব
তুমি যেখানে যে অবস্থায় থাকোনা কেন,
ভাল থেকো, সুস্থ থেকো, সুন্দর থেকো !
তোমার চিঠির অপেক্ষায় !!!
ইতি
তোমার ভালোবাসা

আমি খুব একা
মাসুদ রানা

তুমি চলে যাবার পর আমি খুব একা হয়ে গেছি।
এখন শুধু আমার আমিত্বেই তোমাকে খুঁজে ফিরি মিথ্যার অভিলাষে!
আমি টের পাই আমার অস্তিত্বে শুধুই তোমাকে!
আজ আমি ভুলের বাগানে শুধুই মিথ্যার ফুলের চাষ করে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত!
তারপরও তোমাকে নিয়েই আমার সকল ভাবনা!

শুধুই মিথ্যের হাতসানি
মাসুদ রানা

পথটা অনেক নির্জন,
আধারটা প্রায় ঘনিভূত,
হৃদয়টা জর্জরিত,
ভালোবাসা প্রতারিত !
তবুও এগিয়ে চলা,
নির্ভয় শুধুই একেলা!
কষ্টরা সারিবাঁধা,
সুখেরা পথহারা !
ঐ দূরে আলোর ঝলকানি,
শুধুই মিথ্যের হাতসানি!

Masud Ahmed Rana

নির্জন প্রান্তে
মাসুদ রানা

দিন শেষে যেমনি করে
নেমে আসে রাতের আধার,
ঠিক তেমনি যেন সুখের সময় গুলু
দুঃখের আধারে হারিয়ে যেতে থাকে প্রতি নিয়ত।
সুখ গুলু হাতড়ে বেড়ায় দুঃখের অতল গহ্বরে।
কস্ট গুলু দানা বাধে শক্ত আবরনে।
সুখ গুলু বার বার হোচট খায়
সেই শক্ত প্রাচিরে,
আর বার বার ক্ষত বিক্ষত হয়।
ধুমড়ে মুচড়ে একাকার হয়ে যায়।
দুঃখের প্রাচির ভেদ করার নিমিত্তে
সুখ গুলু হয় পরাজিত।
তখনই হৃদয় গভীরে নেমে আসে
কালো মেঘের ঘনঘটা,
মুহুর্তেই নেমে আসে বৃস্টির মতই অশ্রুজল।
সিক্ত হয় চোখের পাতা।
বিদ্যুৎ চমকায় মন মন্দিরে।
বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সকল ভালবাসার বন্ধন।
আস্তে আস্তে একটা সময় আসে
সব কিছুই থেমে যায়,
স্তব্ধ হয়ে যায় সব কিছু।
নিথর পড়ে থাকে শুধু অসাড় দেহটা,
সেই চির চেনা পুরুনো কোন নির্জন প্রান্তে।

ভালোবাসা
মাসুদ রানা

ভালোবাসা কি নদীর মত ?
কখন সে পথ হারায় ?
কখন সে নতুন কোন পথ খুজে নেয় ?
সব নদী ই কি বেঁচে থাকে ?
কিছু নদী ত অনেক দুখে, অনেক কষ্টে ,
অনেক বিরহে মরে মরে শুকিয়ে যায় ….

তখন মধ্য রাত্রি!
মাসুদ রানা

নির্ঘুম চোখে স্বপ্নদের অবিচল বিচরণ !
হাহাকারে ধ্বনিত হৃদয়ের চারিধার !
যন্ত্রনাগুলো উচ্চস্বরে একত্রিত হয়ে আগমন!
আশাগুলো হতাশার চাদরে ঢাকা পড়ে যায় নিমিষেই!
ব্যর্থতায় পরাজিত চলমান জীবনের গতি!
তবুও আবার নতুন করে গড়ার স্বপ্নে বিভোর !
আশাহত হৃদয় বারবার ব্যাকুল নতুন করে বাচার!
সেই আশা বুকে নিয়েই এগিয়ে চলা কোন এক মধ্য রাতের পথিক!!!!

সেই কবে
মাসুদ রানা

ভুলেই গিয়েছিলাম ভালোবাসি তোমায় কথাটা!
মনের গভীরে একটা চাপা কষ্ট যন্ত্রনার আগুন হয়ে জ্বলছে অবিরত!
না পাওয়ার একটা গ্লানি
গ্রাস করছে আমায় প্রতিনিয়ত!
সূর্যগ্রহন অথবা চন্দ্রগ্রহণের সময় যেভাবে একটা আধার গ্রাস করে তাদের প্রতি মুহূর্তে!

ঠিক সেই সময় দেখা দিলে তুমি আমার সকল আধার ভেদ করে আমারই মনের ঘরে!
আলতো করে হাত রাখলে আমার কাধে খুব যত্ন করে!
ঘুরে দাঁড়ালে আমার মুখুমুখি!
রাখলে নয়নে নয়ন!
কিযেন বলতে চাইছে তোমার চাহুনি!
ভয় হল আমার,
আমি তোমার চোখ থেকে চোখ ফিরিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে চাইলাম।
কিন্তু পারলাম না তোমার আমাকে ধরে রাখা শক্ত হাতের বাধনকে ছিন্ন করতে!
তোমার চোখের ভাষা পড়তে চেষ্টা করলাম আমিও!
একটা সময় বুঝতে পারলাম তোমার চোখের ভাষা আর তোমার অতৃপ্ত হৃদয়ের না বলা কথাগুলো!
চোখের সামনে ভেসে উঠল এক রঙিন স্বপ্ন!
রুপ নিল তা ভালোবাসায়!
বুকে টেনে নিলাম তোমায়!
সে এক অন্যরকম প্রশান্তি !
সে এক অন্যরকম অনুভূতি !
সে এক অন্যরকম পাওয়া!
এই কি তাহলে ভালোবাসা !!!!

Masud Ahmed Rana

ঠিকানা
মাসুদ রানা

একাকী আধার রাতের পথিক আমি,
সাথী মোর রাতের গভীরতা।
সন সন শব্ধ বাতাসের।
ঘুর ঘুর ডাক আকাশের।
মাঝে মাঝে বিদ্যুতের চমক।
নির্জন মরু ভুমি।উড়ন্ত বালুর নির্মম আঘাত।
ধুমড়ে মুচড়ে ধেয়ে আসা ঝরো হাওয়া।
ব্যাঙের একটানা আর্তনাদ।
মাঝে মাঝে মাথার উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে
নীড় হারা কোন দূর থেকে উড়ে আসা ভয়ার্ত দু একটি পাখী
হয়তো কোন আশ্রয়ের ঠিকানায়।
আমারই মত হয়তো জানা নেই তাদের কোন গন্তব্য।
তবুও বাচার আপ্রান চেস্টা।
আধারটা যেন আরো ঘনিভুত হয়ে আসছে ক্ষনে ক্ষনে।
চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে টুকরু টুকরু বালুকনায়।
পথের দিশা নেই নেই কোন ঠিকানা।
আস্তে আস্তে পা দুটু যেন ভারী হয়ে আসছে।
টেনে তুলতে পারছি না কিছুতেই।
বুঝতে বাকী রইল না আমি আস্তে আস্তে ডুবে যাচ্ছি বালির ভীতর।
হাটু গেড়ে বসে পড়েছি আর ঠিক তখনই যেন
বাতাসের তোরে আমাকে ঢেকে দিচ্ছে বালুর স্তুপ।
শ্বাস নিতে কস্ট হচ্ছে।আমি ডুবে যাছি ঠিক বুঝতে পারছি বালুর ভীতর।
হয়তো আমার এই শেষ পথচলা।
হয়তো পেয়ে গেছি আমি তোমার ঠিকানা।
সবুর কর আর কিছুটা সময়।
আমি আসছি তোমার কাছে খুব শীগ্রই।
আর অপেক্ষা নয় তোমার নয় আমার।
হয়তো পেয়ে গেছি আমরা দুজন দুজনায়।

আমার ভালবাসা
মাসুদ রানা

ছুঁয়ে দেখতে চেয়াছিলাম শুধুই তোমাকে,
নিবিড় করে তোমাতে আমি আমাকে ।
ভালবাসতে চেয়েছিলাম মনের মত করে,
বাড়িয়েছিলাম হাত গোলাপে তালু ভরে।
ছিল না সেথা কোন কার্পনতা ছিল না অবহেলা,
অপেক্ষায় ছিলাম দিনের শুরু থেকে অবধি সাজবেলা।
দিন গড়িয়ে নেমে এল ধরণীতে রাতের প্রহর,
তুমি হীনা সাথী এখন শুধুই আধারের বহর ।
ছাড়িনি হাল হইনি ব্যাকুল এখনো গোলাপ হাতে,
বাড়িয়ে রেখেছি ছুঁয়ে দেখ আমার নিষ্পাপ ভালবাসাতে।
হয়তো নেই সেথা চাকচিক্য নেই কোন অহংকার,
রেখেছি শুধুই সেখানে আমার সুধা শুধু ভালবাসার।
এভাবেই রব বাড়িয়ে হাত ছুঁতে তোমার ভালবাসা,
হয়তো নিরাশার মাঝেই বেচে রবে আমার সকল আশা ।

মার্চ মাস,
১৯৭১ সন!

masud-rana-gazipur

বাংলাদেশের ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়!
পাকসেনারা আধিপত্য বিস্তার করল বাংলার পবিত্র ভূমিতে!
রাষ্ট্র ভাষা বাংলা নয় হতে হবে উর্দু !
সেই ভয়াল মার্চ,
বাংলার আকাশে ঘনঘটা,
রাতের আধারে বুকের তাজা রক্তে ভেসে গেল ঢাকার রাজপথ!
ভাষার জন্য তথা দেশের জন্য পেতে দিল বুক বাংলার দামাল ছেলেরা!
উত্তপ্ত হয়ে উঠল বাংলার মাটি,
মাথায় কাফন বেধে বাংলার দামাল ছেলেরা, নারী পুরুষ সর্বস্তরের মানুষ বাংলাকে রক্ষার্থে পেতে দিল বুক।
নেমে পড়ল বন্দুক হাতে ভাষা তথা দেশ রক্ষার তরে!
লাখো মা’বোন হারাতে লাগল তাদের ইজ্জত!
লাখো ভাই হয়ে গেল শহীদ!
আগুনে পুড়েছে কত বাড়ী কত ঘর!
হয়েছে ছারখার হয়েছে নিঃস্ব, হারিয়েছে কত মা তার সন্তান, হারিয়েছে কত সন্তান তার বাবা মাকে!
যন্ত্রনার আগুন বুকে নিয়ে দেশের তরে লড়েছে তারা!
বাংলার প্রতিটি মানুষ যেন একএকজন মুক্তি সেনা!
দেশ রক্ষার্থে দিয়েছে প্রান কত পুলিশ,সামরিক,বিমান ও নৌ সেনা!
এভাবেই চলেছে দীর্ঘ ন’টি মাস!
আমি দেখেছি সেই একাত্তুরের ভয়ালযুদ্ধ!
দেখেছি মুক্তিবাহিনীদের দৌড়াত্য!
দেখেছি পাক সেনাদের হিংস্রতা!
দেখেছি কত ইজ্জত হারানো মা বোনের নিরব কান্না!
দেখেছি কত লাশ,
নাষিকাতে পেয়েছি কত পচা লাশের গন্ধ,
অনুভব করেছি বারুদের গন্ধ,
ছুটেছি একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রন্তে,
করেছি লড়াই শুধুই বেচে থাকার!
দিয়েছি খাবার, মিটিয়েছি পিপাসা কত মুক্তিসেনার!
হয়তো পারিনি তুলে নিতে হাতে বন্দুক!
কতইবা বয়স ছিল তখন আমার!
মাত্র দশ বছরের এক বালক আমি!
এর থেকে বেশী আর কিবা করার ছিল আমার!
দীর্ঘ নয় মাস পর বাংলার আকাশে জয়ের পতাকা উঠল!
১৯৭১ সাল ১৬ই ডিসেম্বর!
মুক্তি সেনাদের দুর্দান্ত সাহসীকতা আর বাংলার সেনাদের অস্ত্রের মুখে কুপুকাত হল পাক সেনারা!
তাদের নিশ্চিত পরাজয় জেনে আত্নসমর্পন করল ইয়াহিয়া!
বাংলার আকাশে উদয় হল লাল সবুজের পতাকা।
লাখো পাক সেনা দলে দলে বাংলার বিভিন্ন জায়গা থেকে মিলিত হতে লাগল ঢাকায়!
আমরা হারালাম লাখো মা’বোনের ইজ্জত!
হারালাম বুক পেতে দেয়া লাখো শহিদ ভাইকে!
যাঁদের এতো ত্যাগের বিনিময়ে আজ আমাদের এই সোনার বাংলা!

ভালবাসি
মাসুদ রানা

হয়তো নীল আকাশের মত
বিশাল আমার মনটা নয়,
হয়ত ছোট্ট কোন ডেরা ঘরের মতই আমার
মনটা ছোট,
তবুও ভালবাসি
হয়তো বিশাল সমুদ্রের
মত,
আমি নই কোন উত্তাল নদীর মত,
হয়তো ছোট কোন পুকুরের মতই
সীমাবদ্ধ আমার বিস্তৃতি,
তবুও ভালবাসি—-
হয়তো তোমাকে আমার সবটুকু সত্বা দিয়ে,
হয়তো তোমার চোখে চোখ রেখে বলতে পারবনা ভালবাসি,
হয়ত আকাশে বাতাসে ধ্বনিত
হবে না ভালবাসি ভালবাসি,
তবুও বলছি তোমায়,
তোমাকে আমি
অনেকটাই ভালবাসি

Masud Ahmed Rana

সেই ঠিকানায়
মাসুদ রানা

হ্যা তোমার চোখের দিকে তাকিয়ে লিখে যেতে পারি শতসহস্র কবিতা!
কিন্তু আজ সে চোখযে বিলিন আমার কাছ থেকে!
সেতো আজ দূরে অনেক অনেক দূরে!
সেই ঠিকানাহীন পথে!
একদিন আমিও আসব সেই ঠিকানায়!

তবে হ্যা!
তোমার অনুভব নিয়ে
তোমার উপলব্ধি নিয়ে,
তোমার ফেলে যাওয়া স্মৃতি নিয়ে
নিজের অনুভূতির আবির্ভাব ঘটাতে পারব হয়তো!

জানিনা সেটা তোমার মনঃপুত হবে কিনা!
সংগতিপূর্ণ হবে কিনা তোমার অনভবের !
কারণ
একযুগের উপর হয়ে গেলতো
তোমার আমার না দেখার সময়টা!
আমিতো আমার সেই পুরুনো অনুভবের গন্ডিতেই পড়ে আছি এখনো !
তুমি কি এখনো আমার গন্ডিতেই আছো
নাকি পেড়িয়ে গেছ সবকিছু উপেক্ষা করে এই ১৬ বছরে !!!!
খুব খুব করে জানতে ইচ্ছে করে যে আজ !!!!!!

ঠিকানা
মাসুদ রানা

একাকী আধার রাতের পথিক আমি,
সাথী মোর রাতের গভীরতা।
সন সন শব্ধ বাতাসের।
ঘুর ঘুর ডাক আকাশের।
মাঝে মাঝে বিদ্যুতের চমক।
নির্জন মরু ভুমি।
উড়ন্ত বালুর নির্মম আঘাত।
ধুমড়ে মুচড়ে ধেয়ে আসা ঝড়ো হাওয়া।
ব্যাঙের একটানা আর্তনাদ।
মাঝে মাঝে মাথার উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে
নীড় হারা কোন দূর থেকে উড়ে আসা ভয়ার্ত দু একটি পাখী
হয়তো কোন আশ্রয়ের ঠিকানায়।
আমারই মত হয়তো জানা নেই তাদের কোন গন্তব্য।
তবুও বাচার আপ্রান চেস্টা।
আধারটা যেন আরো ঘনিভুত হয়ে আসছে ক্ষনে ক্ষনে।
চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে
টুকরু টুকরু বালুকনায়।
পথের দিশা নেই,
নেই কোন ঠিকানা।
আস্তে আস্তে পা দুটু যেন ভারী হয়ে আসছে।
টেনে তুলতে পারছি না কিছুতেই।
বুঝতে বাকী রইল না
আমি আস্তে আস্তে ডুবে যাচ্ছি বালির স্তুপে ।
হাটু গেড়ে বসে পড়েছি
আর ঠিক তখনই যেন
বাতাসের তোরে আমাকে ঢেকে দিচ্ছে বালুর স্তুপ।
শ্বাস নিতে কস্ট হচ্ছে।
আমি বুঝতে পারছি,
আমি যেন তলিয়ে যাচ্ছি বালির স্তুপের তলদেশে ।
হয়তো আমার এই শেষ পথচলা।
হয়তো পেয়ে গেছি আমি তোমার ঠিকানা।
সবুর কর আর কিছুটা সময়।
আমি আসছি তোমার কাছে খুব শীগ্রই।
আর অপেক্ষা নয় তোমার, নয় আমার।
হয়তো পেয়ে গেছি আমরা দুজন দুজনায়।

নিষিদ্ধ শহর
মাসুদ রানা

ভুল করেও কখনো এসো না আমার সেই নিষিদ্ধ শহরে!
এখানে নেই কোন জনমানবের চিহ্ন!
নেই কোন কোলাহল!
এখানে শুধুই নির্জনতা, শুধুই আধারে ঘেরা চারিধার !
এখানে নেই কোন মমতার চিহ্ন!
এই নিষিদ্ধ শহরে আজ আমি একাকী ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত এক পাষাণ হৃদয়হীন মানব!
তুমি ভয়ে কুঁকড়ে উঠবে আমার ক্ষতবিক্ষত হৃদয়টা দেখলে!
জানি তুমি সইতে পারবে না !
তুমি কেঁদে উঠবে!

তাইতো বারবার তোমায় বলছি
ভুল করেও কখনো এসো না আমার এই আধার ঘেরা নিষিদ্ধ শহরে!!

তুমি
মাসুদ রানা

তুমি মায়াময়ি, তুমি লজ্জাবতী,
তুমি প্রেয়সী, তুমি প্রেমবতী।
তুমি স্রোতস্বিনী, তুমি মহাপ্লাবন,
তুমি ঝড়, তুমি মহাপ্রলয়।
তোমাতে জীবন তোমাতে মরন,
তোমাতে সুখ তোমাতে দুঃখ বরণ।
তুমি হেলেন, তুমিইতো মায়াময়
তুমি ভরসা আবার তুমিই ভয়,
তুমি আশা তুমি ভালবাসা
তুমি নিরাশা তুমিই ধোয়াসা।
তোমাকে নিয়েই পথচলা
তোমার জন্যই হয়ে যাই পথভোলা!!!

Masud Ahmed Rana

তোমাকে ছাড়া
মাসুদ রানা

কোন দিনও ভাবিনি তোমাকে ছাড়া
এভাবে জীবনের দিন গুলো কে
আমি একা একা পার করবো ,
ভাবিনি কোনদিনও আমার স্বপ্ন গুলো
এভাবে জীবনের মাঝ পথে
আসে লক্ষ্য হীন হয়ে যাবে
সত্যিই ভাবিনি কোনদিনও
আমার হৃদয় ফাঁকা হয়ে যাবে ,
ভাবিনি কাউ কে ভেবে
কোনদিন আমাকে নির্ঘুম
রাত কাঁটাতে হবে ।
আমি ভাবিনি কোনদিনও
তোমার হাত আমাকে ছেঁড়ে
দেবে । কিন্তু আজ বাস্তবতা যেন
আমাকে শিখিয়ে দিয়েছে
স্বার্থপর এই পৃথিবীতে
সবাই নিজের স্বার্থের কাছে
ভুলে যায় তার প্রতিশ্রতি ।
স্বার্থপর এই পৃথিবী ভুলিয়ে দেয় মানুষের অতীত কে ।
ঠিক তেমনই এই স্বার্থপর
পৃথিবী আমাকে বুঝিয়েছে
একা একা বাঁচতে।

নক্ষত্রের আগমনে
মাসুদ রানা

রাতের শুরুটা ছিল সাদা ফুটফুটে আলো ঝলমলে চাঁদের হাসি
আর ঝল ঝল করা নক্ষত্রের আগমনে।
কিন্তু রাত যত গভীর হতে লাগল
আলোর ঝলকানি যেন কমে আসতে লাগল।
আস্তে আস্তে করে যেন বিলিন করে দিচ্ছে চাদের আলোটুকু।
ঝল ঝল করা তারাগুলিও যেন হারিয়ে যাচ্ছে আধারের ভীড়ে।
সারাটা আকাশ ছেয়ে গেছে ঘন কালো মেঘে ,
গ্রাস করে ফেলেছে যেন সবটুকু আলো !
যেন নিমিষেই কান্নায় রুপান্তরিত করেছে হাসির ঝল্কানিকে !
হয়তো এভাবেই রাতের গভীরতার সাথে সাথেই
দু চোখ বেয়ে আঝোর ধারায় বইবে অশ্রুর ফোয়ারা !
এভাবেই ফুরাবে রাত হবে ভোর,
ধ্বনিত হবে ফজরের আজান,
রক্তিম হবে পুবাকাশ,উদিত হবে সুর্য সেই মেঘের ফাকে,
চলবে লুকুচুরি খেলা আলো আধারের,শেষ হবে বেলা,
সাংগ হবে খেলা, অস্ত যাবে সুর্য পশ্চিমাকাশ,
নামবে আধার আবার সেই বিভিষিকার !!

অপেক্ষা
মাসুদ রানা

বলেছিলে তুমি বদলে গেছি আমি,
আসলেই কি তাই! না বদলাইনি আমি এতটুকুও,
আমিতো আছি অপেক্ষমান সেই আগেরই জায়গায়,
যেখানে রেখেছিলে তুমি আমারই হাতে হাত,
বলেছিলে যেখানে দাঁড়িয়ে তুমি প্রকাশ করেছিলে ভালবাসার বাক্যালাপ।
আজ এতোটা সময় পর এইকি বুঝলে তুমি
নাকি সময়ের বিবর্তনে ছিটকে গেলাম আমি !
ভালবাসা কি এতটাই ঠুনকো নাকি অবিশ্বাসের হাতসানি
যদি ভেবে থাকো তাই তবে সুখটুকু নিয়ে বিনিময়ে দিয়ে যেও যত দুঃখ গ্লানি,
এটাকেই না হয় সুখ ভেবে কাটিয়ে দিব সারাটা জীবন
যেটুকু পেয়েছিলাম ভালবাসা তোমার সেটুকুই রয়ে যাবে আমরণ।

খুজেছি তোমায়
মাসুদ রানা

খুজেছি তোমায় জনমানবের শহরে
খুজেছি তোমায় চেনা মানুষের ভীরে !
খুজেছি তোমায় পথে প্রান্তরে
খুঁজে ফিরেছি বার বার মিথ্যের অভিলাশে!
হেরেছি বারবার নিজের কাছে নিজে
ভুল পথে বাড়িয়েছি পা কখন জানি নিজেরই অজান্তে!
এভাবেই চলতে চলতে হারিয়েছি পথ জানি না কখন
আর তাইতো পথিক আমি সাথী আমার নির্জন এই পথ!

বিষময় স্বাদ
মাসুদ রানা

এখন আর লোভ হয়না আমার,
উষ্ণ শিহরণ ঠোটের তোমার,
ভাল লাগে প্রতিটি সিগারেটে
এক একটি চুম্বনের মুহুর্ত,
ভুলিয়ে দেয় তোমার চুম্বনের স্বাদ,
মাটি চাপা দিয়েছি তোমার ঠোটের স্বত্বাকে,
আর তাইতো বেছে নিয়েছি
বিষময় সাদা সিগারেটের
স্টিকের বিষময় স্বাদ !!!

Masud Ahmed Rana

দাবানল
মাসুদ রানা

এখানে এলেই আমাকে প্রণত হতে হয়!
নিরবতার অবসান হয়
হাহাকারের গর্জনে!
ঘুমিয়ে থাকা সত্বা হয়ে উঠে জাগ্রত
যন্ত্রনার কোলাহলে!
স্তব্ধ হয়ে থাকা প্রতিটি ক্ষন
উদ্বেলিত হয় উত্তাল সাগরের ঢেউয়ের তাণ্ডবে !
শুন্য হৃদয়টা হাহাকারে ভরে উঠে
পুঞ্জিভূত কষ্টের আবিরে!
তবুও বারবার ফিরতে চায় হৃদয়
সেই দাবানলে!
এই দহন যেন প্রলেপ এক যন্ত্রনার!
এই আশা যেন কাছে পাবার ব্যাকুলতার!
এই ব্যাকুলতা যেন এক নিবিড় ভালোবাসার!
এই ভালোবাসা যেন এক আশাহত হৃদয়ের নিস্তব্ধতা!
এই নিস্তব্ধতা যেন এক না পাওয়ার যাতনা!
এই যাতনা যেন বাঁধভাঙ্গা হৃদয়ের উত্তাল তরঙ্গ !

প্রশ্ন
মাসুদ রানা

তুমি প্রশ করেছিলে—–
এতো ভালবাসি কেন তোমায়?
আমি দিতে পারিনি উত্তর তোমায় !
জানাটা কি খুবই জরুরী !
থাক না নাই বা জানলে আর নাইবা
বললাম আমি তোমায় !
না হয় রয়েই গেল এ এক অজানা অধ্যায়!
ভালতো তোমায় আগেও বাসতাম আর
বাসি ভাল এখনো।
দুঃখ কষ্ট দাও না যতই বাসবো ভাল তখনো।
হয়তো তুমি ভেবে নিয়েছো এ শুধু মোর ছলনা !
নেই তুমি কাছে আছো বহু দূরে তাতে বা কি, তাই বলে তোমায় ভুলব না।
বেসে যাব ভাল এভাবেই তোমায় যতদিন শ্বাস রবে এ দেহে
বাড়বে শুধুই কমবে না কভু কোন ভুলের মোহে !!

শুভকামনা
মাসুদ রানা

আমিতো ভেসেই যাচ্ছিলাম বানের স্রোতে
আমিতো তলিয়ে যাচ্ছিলাম সাগরের অতল গহব্বরে,
আমিতো হারিয়ে যাচ্ছিলাম আমার আমিত্ব থেকে,
আমিতো ছুটিই নিয়েছি আমার জীবন থেকে,
আমিতো ছিটকে পড়েছি আমার সব চাওয়া পাওয়া থেকে,
আমিতো ভুলতে চেয়েছি আমার সকল অতিতকে,
আর তাইতো করেছি আলিঙ্গন আগত মৃত্যুকে !
কিন্তু কে তুমি ???
আর কেনইবা বাড়ালে হাত আমার আমিত্বে?
কেনইবা দিচ্ছ হাতছানি বারংবার ঘুমিয়ে পড়া সত্বাতে!
কষ্ট আর যন্ত্রনার লেলিহান শীখা বহমান এই পথে,
ফিরে যাও তুমি, ভুল করেও বাড়িও না পা এই অজানাতে !
ভেসে যেতে দাও আমায়, ডুবে যেতে দাও আমায়,
দাও হারিয়ে যেতে,
ভালবাসা নয় শুভকামনা তোমায়।

রাত দ্বিপ্রহর!
মাসুদ রানা

আধারের ছায়াতলে সবাই ঘুমে নিমগ্ন!
অনেকেই স্বপ্নে বিভোর!
শুধু নির্ঘুম আমি!
ভাবনার সাগরে নিমজ্জিত!
আমার খুব কাছে তুমি !
তবুও কতটাই দূরে !!
অতীতটা আমাকে ঘিরে!
শুধুই কাছে পাবার হাতসানি!
কিন্তু নিরুপায় আমি!!
বুকের ভীতর অজস্র ঢেউ
বার বার আছড়ে পড়ছে!
ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে!!
ঝরছে রক্ত
হচ্ছে প্লাবন !!
চাইলেও ছুতে পারছি না
বাধার প্রাচীর দণ্ডায়মান !!
আঘাতটুকু নাহয় আমারই থাক
ভালোবাসাটুকু তোমারই হয়ে যাক !!

আধারকে আলিঙ্গন
মাসুদ রানা

আধারকে আলিঙ্গন করে ছুড়ে ফেলে দিয়ে আলোর ঝলকানি আস্তে আস্তে অস্ত যাচ্ছে
বিলিন হয়ে যাচ্ছে দিনময় আলোকিত করে রাখা সুর্যটা!
একটু পরেই নামবে আধার,
আর সেই আধারের সাথে সাথে যন্ত্রনার পোকাগুলু হয়ে উঠবে সক্রিয় !
কুড়ে কুড়ে খাবে হৃদয় নামক বস্তুটাকে !
স্বাক্ষী শুধুই আমারই মত রাত জাগা কিছু নিশাচর পাখী,
যা কিনা আধারের বুকে শুধুই ছটফট করে বেড়ায়।
কখনো বা আমারই সাথে সুরে সুর মিলিয়ে গেয়ে চলে বিরিহের কোন সুরের গান !
হয়তো এভাবেই চলবে তার সারাটা রাত ভোরের সুর্যদয়ের পুর্ব মুহুর্ত অবধি !!

হৃদয়ের ফুলদানীতে অনেক যত্ন করে
রোপণ করেছো বীজ !
তিল তিল করে গজিয়েছে তা বহু দিন ধরে ,
গজিয়েছে পাতা গজিয়েছে শাখা
গজিয়েছে লতা পাতা !
দিয়েছ গুঁজে একটা বাঁশের খুঁটি
তাকে আঁকড়ে ধরেই আজ উঠে এসেছে
অনেকটাই, হয়েছে উর্ধগামী !
পাতার খাঁজে খাঁজে ফুটেছে বাহারি ফুল
তার সুবাসে মৌ মৌ আজ তোমারই অন্তর কুল!
জানি হবে বিলীন হয়ে যাবে মলিন
ফুরাবে তার সুবাস!
ছুঁড়ে ফেলে দিবে কি , যাবে কি ভুলে তুমি ,
হবে কি তা শুধুই দীর্ঘশ্বাস!

শুধুই তোমায়
মাসুদ রানা

আমিও একটি বার ছুঁয়ে দেখতে চাই তোমায়, শুধুই সমুদ্র দেখার ছলে !
আমিও হাটতে চাই হাত রেখে
তোমারই হাতে খোলা বাতাসে।
আমিও ভিজে বালির উপর
ভিজাতে চাই পা শুধু তোমারই সাথে, আমিও ঘ্রাণ নিতে চাই
তোমার খোলা চুলের,
আমিও হারিয়ে দিতে চাই
আমার আমিত্বকে শুধুই তোমাতে।
আমিও অনুভব করতে চাই তোমার উষ্ণ নিশ্বাসের শিহরন আমার খোলা বুকে,
জুড়াতে চাই আমার তপ্ত বুকের জ্বালা। আমিও চিৎকার করে বলতে চাই
ভালবাসি ভালবাসি শুধুই তোমায় !!

Masud Ahmed Rana

একটা ভুল !
মাসুদ রানা

একটা ভুল ! মিথ্যা করে হলেও একটা সত্যি !
অনেক সময় দুটি জীবনে অনেক বড় ব্যবধান
সৃষ্টি করে , নিঃশেষ করে দেয় সব কিছু ,তসনস
করে দেয় সাজানো সব স্মৃতির পাতা! উলট পালট
করে দেয় সাজানো বাগান , ভুল পথে চালিত হতে
পারে জীবন নামের গাড়ি , আর তখনই লাইনচুত
হয়ে পড়ে সব আশা ভরসা! নিমিষেই চুড়মাড়
হয়ে যায় মন নামক বস্তুটা ! মুখ থুবড়ে পড়ে থাকে
অচেনা অজানা কোন অতল গহ্বরে !!!!!!!!!!

হারালে তুমি
মাসুদ রানা

আমিতো সেই কবেই তলিয়ে গেছি
নীল সাগরের গভীর নোনা জলের অতল গহ্বরে ,
খুজেছি তোমায় নীল নিলান্তরে ,
কোথায় হারালে তুমি ,
আজও পাইনি খুঁজে ,
হয়তো এভাবেই খুজব তোমায়
নিলের অভ্যন্তরে !

লাভ ক্ষতি
মাসুদ রানা

কোথায় আদি কোথায় অন্ত আজও আমি জানি না
কিসে লাভ কিসে ক্ষতি কখনোই তা খুজি না !
কিবা পেলাম আর কিবা পাবো ভাবিনা তা কখনো
জীবন খাতার কষিনি হিসাব অগোছালো তা এখনো !
নিজের মতোই সহজ ভাবে কষি হিসাব সব কিছুতে
এটাই হল মস্ত ভুল বুঝতে পারি আঘাত পেলে !
তবুও আমি আছি সদা বিলাতে চাই নিজেকে
অপমান আর যন্রনা টুকু বুকের মাঝেই চাপা দিয়ে!
হয়তো একদিন যাব চলে রবে পড়ে হিসাব কিতাব
সে দিন না হয় বুঝে নিও কিসে ক্ষতি আর কিসেবা লাভ !!

তোমার বিদাই
মাসুদ রানা

এতগুলু বছর ধরে বুকের গহীনে যে যন্ত্রণার
আগুন নিভু নিভু জ্বলছে ,তা কেনইবা আজ
তোমার অনাকাঙ্ক্ষিত আগমনে ধেয়ে আসা
এক ঝাঁপটা বাতাসে জ্বলে উঠল এক রাশ
শিখা হয়ে !আমারতো ছিল না কোন অভিযোগ
আর অনুযোগ তোমার চলে যাওয়ায় ,আর নেই
এখনো !এইতো ক’টা দিন ছিলে আমারই দৃষ্টির সীমানায়,
তোমাকে দেখেছি নয়ন ভরে , বলেছি কথাও
তোমার সাথে ,কিন্তু সেখানে কি ছিল আগেরই
মত কোন ভালবাসার বা চাওয়া পাওয়ার অনুভুতি !
না এখন তা আমি কিছুতেই চাইতে পারি না ,আর
চাইবও না কোন দিন , তুমিতো আর এখন
আমার নও,তুমি যে এখন অন্যের!ভাবতেই বুকের
ভেতরটা কেমন যেন মোচড় দিয়ে উঠে !
এই মাত্র বিদায় নিলে তুমি আমারই কাছ থেকে
আমি তাকাতে পারি নি তোমার চোখের পানে,
তুমি চলে যাবার পর তাকিয়ে ছিলাম তোমার
হেঁটে যাওয়া পথের দিকে ,তুমি চলতে চলতে
যতটাই দুরত্ব হচ্ছিল তোমার আর আমার মাঝে
ঠিক যেনে সেই গতিতেই বুকের ভীতর কষ্ট গুলু
দানা বাঁধছে !প্রতি নিয়ত রক্তক্ষরণ হচ্ছে মনের
গভীরে !সবার সামনে তোমাকে বিদায় জানাতে
পারিনি ,কিন্তু আমি মন থেকে তোমাকে দোয়া
করছি তুমি সুখি হও তোমার ভবিষ্যৎ জীবনে ,
আমার কষ্ট আর যন্ত্রনা গুলু না হয় হাসির আড়ালে
লুকিয়ে তোমার সুখ কামনায় নিজেকে উৎসর্গ করলাম !

নিষ্ঠুর ঢেউ
মাসুদ রানা

উত্তাল সাগর, একের পর এক ঢেউ গুলি আছড়ে পড়ছে তীরে
পাড় ভাঙার শব্দগুলু নীরবতা ভেঙে একাকার করে দিচ্ছে সবকিছু,
দৃষ্টির ওপাড়ে শুধুই সাদা ফেনার মত ভাসছে দূর দূরান্তে
সাথে ভেসে আসছে একরাশ সাদা ধোঁয়াটে আবরন !
একটি মুহুর্তের জন্যও যেন নেই কোন ক্লান্তি তাদের
কিসের যেন এক দুর্নিবার প্রতিহিংসার আগুন জ্বলছে ।
আঘাতের পর আঘাত করছে ভাঙ্গা তীরগুলিতে
আস্তে আস্তে নিঃশেষ হচ্ছে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকা বালির স্তুপ !
নেই কোন প্রতিবাদ নেই কোন বাধা নেই কোন মলিনতা
পেতে দিয়েছে বুক শুধুই তার আজ ভাঙার পালা !
শুধু ভেঙ্গেই যাচ্ছে আর ভেঙ্গেই যাবে করবে না কোন প্রতিবাদ
যত দিন থাকবে সাগর জুড়ে নিষ্ঠুর এই ঢেউয়ের আঘাত !

Masud Ahmed Rana

কষ্ট গুলু
মাসুদ রানা

তোমার চলে যাওয়াকে আমি
বিদায় জানিয়েছিলাম হাসতে হাসতে ঠিকই,
বুঝতে দেইনি তোমাকে আমার
বুকের গভীরের যন্ত্রনা !
আর রক্তক্ষরণের ধারাকে,
যে আগুনের লেলিহান শীখা
জ্বালিয়ে পুড়িয়ে অংগার করে দিচ্ছিল আমার হৃদয়টাকে,
তাকে হাসির আড়ালে লুকিয়ে রেখে
শুধু নির্বাক তাকিয়েছিলাম !
তোমার চলে যাবার পথের দিকে
যা কিনা শুধুই ছিল অন্ধকাচ্ছন্ন ! আসলেইতো আমিতো দিতে পারিনি কোন অভিশাপ তোমায়,
দেইনি কোন অনুযোগ !
দেখাইনি কোন অজুহাত !
আমার কষ্ট গুলু নাহয় আমারই রইল, নাইবা হল তোমার পথে কাটা !

আমি সাগরের গভীরে
মাসুদ রানা

আমি সাগরের গভীরে
শয্যা রচনা করতে এসেছিলাম।
মন ভরে দেখতে চেয়েছিলাম
তোমার টোল পড়া গালের সেই সুমধুর হাসির ফোয়ারা,
আমিতো ভুলেই গিয়েছিলাম আমার আমিত্বকে,
খুজে পেতে চেয়েছিলাম আমাকে
তোমার চোখের কালো মনিতে,
আবিষ্কার করতে চেয়েছিলাম
আমার আমিত্বকে শুধুই তোমাতে !
অথচ দেখো কি দুর্ভাজ্ঞ আমার!
আজ তা শুধুই এক প্রতিচ্ছবি!!!!!!।

অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছি
মাসুদ রানা

অনেকটা পথ পেরিয়ে এসেছি
রাতের গভীরতাটা আস্তে আস্তে ঘনিভুত হচ্ছে,
আকাশের মাঝা মাঝী অর্ধ খণ্ড চাঁদ
ঝলমল করছে সারাটা পৃথিবী;
সাথে কিছু কুয়াশা আবছা করে দিচ্ছে আলোর ঝলকানি!
মাঝে মাঝে বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে চোখের দৃষ্টি সেই কুয়াশার চাদরে
বালুচরের পাশ দিয়েই বয়ে চলেছে একটি ছোট্ট নদী,
মনে হচ্ছে যেন ফুটন্ত জলের এক রাশ ধোঁয়া
সারাটা নদীর জলকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে !
আমার হাটার পথে ধেয়ে আসা হিম শীতল বাতাসের একটা বাধা
মনে হচ্ছে যেন বুকের গভীরে হাতুড়ীর আঘাত !
তবুও থেমে নেই পথচলা যতই আসুক বাধা !
আমাকে যে যেতেই হবে আমার হারিয়ে যাওয়া ঠিকানায়
কোন বাধাইযে আজ আমার পথ রোধ করতে পারবে না !
বুকের গহিনে লুকিয়ে রাখা ভালবাসাটুকু তোমাকে
দিব বলেই যে আমার এই আঁধারে একাকী পথচলা!!

আমার প্রতিটি রক্ত কনায় তুমি
মাসুদ রানা

আমার প্রতিটি রক্ত কনায় তুমি, আমার প্রতিটি যন্ত্রনার লেলিহান শিখার স্ফুলিঙ্গ
তুমি,আমার প্রতিটি পদক্ষেপের পায়ের তলার রক্ত ঝড়ানোর এক একটি ধারালো পাথর কনা
তুমি,আমার প্রতিটি অশ্রু জলের প্রথম ফোটা তুমি,
আমার বুকের ভীতর থেকে বেড়িয়ে আসা প্রতিটি নিঃশ্বাষ তুমি,
আমার জীবনের প্রথম ভালবাসা ছিলে তুমি,
বুকের গহিনে আজও যতনে যেটুকু বাচার প্রেরনা লুকিয়ে রেখেছি তার সবটুকুই তুমি,
আর তাইতো এতো ভালবাসি তোমায় আমি!
আর আমি যে রয়েছি অপেক্ষাতে কবে যাব সেই ঠিকানায় যে ঠিকানাতে রয়েছো তুমি !

Masud Ahmed Rana

You Might Also Like

No Comments

Please Let us know What you think!?

Translate »
%d bloggers like this: