কবিতায় জাগরণ (অক্টো-ডিসে)২০১৫

নভেম্বর ২৭, ২০১৯
little magazine in Bangladesh

little magazine Bangladesh

সম্পাদকীয়ঃ

Shahida-Rahman-Munney

দেশে তথা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যে অস্থিরতা চলছে,
তা কোন এক যাদুকরী স্পর্শে চিরতরে দূর হোক,
মানুষ স্বস্তিতে ফেলুক নিঃশ্বাস, ফিরে আসুক স্বাভাবিক
জীবনে। কবিতায় জাগরণ পরিবার সেই সোনালী
সময়ের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। সকলের প্রতি অশেষ
কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি। সন্নিকটে বিজয়ী মাস,
অসহনীয় ত্যাগ-তিতিক্ষা আর আত্মদানের বিনিময়ে
আমরা আমাদের মানচিত্র অর্জন করেছি। কোন স্বার্থ
ক্রোধ, কিংবা দলীয় রেষারেষির রেশ ধরে কোনভাবেই
এই দেশ, মা, মানচিত্রের বুকে কালি লেপন করা
যাবেনা, এটা একেবারে প্রানের তাগিদেই অতন্ত্র প্রহরী
হয়ে সজাক থাকতে হবে সকলের সর্বস্তরের মানুষের।
সকলকে লাল সবুজের বিজয়ী সালাম। যে যেখানেই
থাকুন ভালো থাকুন, ভালোবাসায় থাকুন, “উম্মুক্ত
হোক ছন্দের সীমানা”,“কথা দিবেন কথা
রাখার জন্য, ভাঙ্গার জন্য নয়”
জয় হোক মানবতার জয় হোক কবিতার।

little magazine in Bangladesh

book baner shahida rahman munney

এই সংখ্যায় যারা কবিতা লিখেছেনঃ

১.অভিজিৎ দাশ
২.অভিলাষ মাহমুদ
৩.আবু ইউসুফ সুমন
৪.আমিনুল ইসলাম
৫.কান আরিফ মঈনুদ্দিন
৬.ইফতেখার আহমেদ
৭.করুনা আচাৰ্য
৮.কোহিনুর শাকি
৯.জাহাঙ্গির আজাদ
১০.নুরুন্নাহার পান্না
১১.বিপ্রতীপ অপু
১২.বিশ্বজিৎ সেন
১৩.মোরশেদ হাবীব
১৪.মিলন বনিক
১৫.মিতা চক্রবর্তি
১৬.মনির আহমেদ শ্রাবন
১৭.এম মঞ্জুর হোসেন চৌধুরী মানিক
১৮.সৈয়দ আহসান কবির তুষার
১৯.সাইদুল আরেফিন
২০.সৈয়দ রনো
২১.সৈয়দ আহমদ আলি আজিজ
২২.সাহিদা রহমান মুন্নি
২৩.রোকেয়া ইসলাম
২৪.লুৎফুন নাহার হাসি
২৫.শাহান রশিদ শানু
২৬.শাহী সবুর
২৭.হোসনে আরা
২৮.হাবীবা খাতুন
২৯.অনুবাদ কবিতাঃ পি.বি শ্যালি

download button free kobitay jagoron

little magazine Bangladesh

মুক্তি যুদ্ধের পরে
শ্রী অভিজিৎ দাস

আমি ভারতবর্ষের মানুষ,
আমি ভারতবাসি ।
এ দেশেই জন্ম আমার
হয়তো এ দেশে হতনা কিংবা হতইনা
যদি ঐ এক কোটি মানুষের মধ্যে থাকতেন আমার –
ঠাকুরদা ঠাকুরমাও ।
কিংবা ওঁরাও যদি নামতেন যুদ্ধে…
ইতিহাস গেছে, আমি মুক্তিযুদ্ধ কবে হয়েছিল সোনার বাংলায় –
বলতেও হয়তো পারবনা ।
আমি ১৫ আগস্টে তিরঙ্গাকে সেলাম জানাই,
ত্রিপুরার অভ্যন্তরে বসে,
কিন্তু
আমি ভারতবাসি হলেও বাংলাদেশি
আমি আসলে ভারতীও ও বাংলাদেশি
আমি ভারতে থাকি বলে ভালবাসি ভারতকে
বাংলা দেশকে ভালোবাসি কারন
আমি আদৌ বাংলাদেশি ।

আর তাই আমি
শ্যামল ত্রিপুরাতেই গড়েছি আমার সিলেট, নোয়াখালী
কারন আমি মুক্তিযুদ্ধের মারগেশনি বাঙালি,
আমি আসলে ভালোবাসার বাঙালি, যে
পাহাড়েও গড়ে তুলে বাংলাদেশ, নিজের
বাঙালি ভালবাসায় ।।

খাচাঁর পাখি মুক্ত হলো
অভিলাষ মাহমুদ

Avilas-Mahmud

লাল সবুজের নিশান হাতে
তানিশা তানু নাচে,
আজকে তানুর খুশির কারণ
আমার জানা আছে।

বলছে তানু শুনছো নানু
বিজয়ের দিন আজ,
তাইতো সবাই সাজলো দেখো
লাল সবুজের সাজ।

নাচছে তানু হাসছে নানু
বিজয় কেতন নেড়ে,
খাচাঁর পাখি মুক্ত হলো
সকল বাঁধন ছেড়ে।

বিজয় মানে স্বাধীনতা
আবু ইউসুফ সুমন

Abu-Yousuf-Sumon

বিজয় মানে স্বাধীনতা
বাঙালিদের মুক্ত কথা
বিজয় আসে বাংলা গানে
শিশু হাসে মুক্ত প্রাণে।
বিজয় মানে মুক্ত ভাষা
মাঠে ফলায় ফসল চাষা।
থাকবে গাছে পাখির বাসা
এটাই পাখির মুক্ত আশা।
একাত্তরের যুদ্ধে গিয়ে
শহীদদেরই রক্ত দিয়ে
বিজয় নিশান হাতে নিয়ে
তাধিন নাচে শালিক টিয়ে।
নির্যাতন আর শাসন শেষে
বিজয় আসে মিষ্টি হেসে।
থাকবো সবাই স্বাধীন দেশে
পরস্পরকে ভালোবেসে।

little magazine Bangladesh

লাল পলাশের গায়
আমিনুল ইসলাম মামুন

Aminul-Islam-Mamun

বল্ না মাগো একত্তরে
কেমন করে যুদ্ধ হলো
বল্ না মাগো কোন কারণে
এদেশবাসী ক্ষুব্ধ হলো।

বল্ না মাগো এদেশবাসী
কেমন করে মুক্ত হলো
অন্য দেশের মানুষগুলো
ক্যামনে তাতে যুক্ত হলো।

সকল জবাব লেখা আছে
লাল পলাশের গায়
পলাশ থেকে ছোট্ট খোকা
জবাব খুঁজে পায়।

বিসর্জন
আরিফ মঈনুদ্দীন

বিসর্জন-তৃষ্ণায় আমিও কাতর, কাতর
তুমিও। জীবন একটাই, দামের-নামের-যশের এবং
মাহাত্ম্যে বিলীন হওয়ার আর তো কোনো
উপাদান নেই, অনুষঙ্গ নেই। কী দিয়ে কীসের
স্পর্শে, অর্জনের পুরো কলস উপুড় করে
থামিয়ে দিবে বোধের বুকফাটা আর্তনাদ

বাতি জ্বলতে জ্বলতে মনোহর দৃশ্যের দাপটে
পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের পাঁচ দরোজায়
কী কঠিন বিসর্জন উৎসবের আয়োজন-
যশ-খ্যাতি-নামের বিষয় বিবেচনায় না রেখে
মাহাত্ম্যের নেশায় মহামহিম দাতার ত্রাতার
আদর্শের বৈজয়ন্তি হাতে এখানে-কিনারে এসে দাঁড়িয়েছি।
আমার কাছে উদ্বৃত্ত তো আর কিছুই নেই–
এ জীবনটা ছাড়া

এক হাতে পতাকা উড্ডীন রেখে
আর এক হাতে তুলে নেব হেমলকের পেয়ালা
তুমি যদি আসো
খুঁজে নেব আরও একটি গ্লাস,
কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে
কণ্ঠে কণ্ঠ ঢেলে মহাত্মা সক্রেটিসের মতোন
উচ্চারণ করব-
বিদায়ের সময় সমাগত-
আমরা যাচ্ছি মরতে
তোমরা যাচ্ছ বাঁচতে,
কোনটি উত্তম
একমাত্র তিনিই জানেন

বিজয় দিবস
ইফতেখার আহমেদ

Iftekhar-Ahmed

১৬ই ডিসেম্বর-আমাদের মহান বিজয় দিবস,
এদিনে বাঙালীর মনে জাগে উৎসাহ-সাহস।
লাখ লাখ বাঙালীর রক্ত করে ক্ষয়,
র্অজতি হয় এদনি বাঙলার জয় ।

বাঙালী জাতীর একাগ্রতা দেখেছি সেদিন ’৭১ সালে,
মুক্তিযুদ্ধে ঝাফিয়ে পড়ে লক্ষ মানুষ দলে দলে।
২৬শে মার্চ থেকে যুদ্ধ চলে দীর্ঘ ৯ মাস,
পাকহানাদার বাহিনী করে সর্বত্রই সন্ত্রাস।

৩০ লক্ষ মানুষের হয় যখন জীবন বিসর্জন,
পাকহানাদার বাহিনী করে তখন আত্মসমর্পণ।
যাদের তাজা রক্তের বিনিময় এলো বাঙলার স্বাধীনতা,
ভূলবোনা কভূ সেই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কথা।

এদেশ পরাধীন থেকে স্বাধীন হয়েছে হয়তো,
জীবনের স্বাধীনতা তবে অর্জিত হয়নি আজও।
আজও দিতে হচ্ছে মানুষকে তাদের মূল্যবান জীবন,
যে জীবন হারানোর পেছনে নেই কোন কারন।

বেড়েই চলছে কেবল নির্মমতা,অসভ্যতা,বর্বরতা,
মিছে আজ তাই আমাদের অর্জিত সেই স্বাধীনতা।
আমরা হচ্ছি আজ লাঞ্চিত,অপমানিত কলংকিত,
বিজয় দিবস এলেই কেবল হই কিছুটা জাগ্রত।

little magazine Bangladesh

আমি একাত্তরের শিশু
করুণা আচার্য

Koruna-acharji

চোখের সামনে ঘটে গেলো অনেক কিছু
আমি কিছু বুঝিনি তখন আমি ছিলাম শিশু
ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে দেখেছি সব কিছু
ঘটনার নীরব সাক্ষী বলা চলে আমায়।
চোখের সামনে খুলে নিলো মায়ের গায়ের অলংকার
বুটের আঘাতে ঝাঁঝরা করলো বাবার শরীর,
বৃদ্ধ দাদুর বুকে চালালো পর পর কয়েক রাউন্ড গুলি
কুকুর বিড়ালের মত টেনে নিয়ে গেল ফুটফুটে যুবতি বোনটা
দাদুর আজন্ম লালিত সোনার সংসার নিমিষে ধূলিসাৎ করে
হা হা হাসতে হাসতে এক ঝাক পাক সেনা উড়াল দিলো
অন্য শিকারের সন্ধানে।
ছোট্ট কোলের ভাইটি খুঁজতে গিয়ে মা কান্নায় ভেঙে পড়ল
কখন ভাইটিকে মা’র কোল থেকে কেড়ে নিয়ে
আগুনে নিক্ষেপ করল কেউ টের পায়নি।
ক্ষত বিক্ষত বাকরুদ্ধ মাকে সেদিন কোন শান্তনা দিতে পারিনি
পাহাড় সমান দায়িত্ব নিয়ে দেশ বাঁচাতে মেঝ ভাই গিয়েছিল যুদ্ধে
এখনো ফিরেনি, বড় ভাই ছিলো প্রতিবন্ধী
বাধ্য হয়ে তাকে ফেলে আসতে হয়েছিল বাড়িতে
না জানি তার ভাগ্যে কি ঘটেছিলো
বাড়ির গেইটের লোহার শিকলটি ছাড়া
ফিরে গিয়ে আর কিছু খুঁজে পায়নি
মা এখনো বসে বসে কাঁদে আর আশায় বুক বেঁধে বলে
আমার খোকারা ফিরে আসবেই।
অন্ধ মায়ের এই আকুতি দেখেও আমি কিছু করতে পারিনি।
কবে পারবো তাও জানিনা,
কারণ আমি এখনও একাত্তরের নীরব সাক্ষী এক শিশু।

ইতিহাসের পাতা থেকে
কোহিনুর শাকি

Kohinur Shaki poem mayer kache chithi
Kohinur-Shaki

লক্ষ লক্ষ মানুষের
রক্ত ও জীবনদানের
করুণতম গাঁথা
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের
ইতিহাসের পাতা ।

বিদ্রোহের লেলিহান অগ্নিমন্ত্রে
দুর্যোগের সেই কালো রাত্রিতে
শত্রু নিশ্চিহ্নের মাহেন্দ্রক্ষণে
সজোরে গর্জে উঠেছিল
গ্রেনেড, কামান, রকেট, মর্টার, গোলা ।

মাতৃভূমির শৃঙ্খল মুক্তির
স্বাধিকার আন্দোলনে
শত শহীদের কাফনের দামে অবশেষে
বাংলার মাটিতে উড়ল বিজয়ের পতাকা
থেমে গেলো হানাদারের বর্বরতার চাকা
স্বাধীন সার্বভৌম জাতিসত্তা
আজ বাঙালীর অহংকার
এখানে রয়েছে গৌরবদীপ্ত ইতিহাস
আর সমৃদ্ধ উত্তরাধিকার ।

প্রজন্ম
জাহাঙ্গীর আজাদ

প্রাচীন সিন্দুকে বন্দী শিরস্ত্রাণ
ও তার শতাব্দী-প্রাচীন ঘ্রাণ
নিঃশেষে ত্যাগ করে এসো স্মৃতিচিহ্নহীন ;
সেই সাথে ছেড়ে এসো
সকল কৌলিণ্য আর
নীল রক্তের অর্থহীন শ্লাঘা—
তুমি ক্ষয়ে যাওয়া রাজবংশের শেষ প্রতিনিধি ।

আজ তুমি আপাত নির্ভার এক ভিন্ন পরিচয়ে
নুতন একটি পথের শূন্য বিন্দুতে
এসে দাড়াবে ঋজু মনস্থির,
তুমি আর ফিরবে না
ওই ছাইরঙা প্রাসাদের জীর্ণ আলোয় ।

প্রপিতামহীর নির্বিষ উত্তরাধিকার আর
আটপৌরে আঁচলে বাঁধা
চাবির গোছায়,
সে নারীর নকশীকাঁথার মতো নিভৃত সংসারও
তুমি নীলকন্ঠ আসবে পেরিয়ে ।

সিদ্ধার্থের সামনে ছিলো
চরাচর ভেসে যাওয়া
কোজাগরী জোছনা কুহক
নির্বাণ অমরতা বোধিবৃক্ষের সানুদেশ,
অথচ অভ্যস্ত জোছনাকে আড়াল করে
তুমি ফুটতে দেবে নুতন এক চন্দ্রজাত ফুল ।

উত্তরপুরুষের দৃষ্টি থেকে
তুমি সযত্নে সরিয়ে নাও উত্তরাধিকারের আয়না,
তোরঙ্গের সকল তমসুক
পুরাতন চন্দ্রকলা সূর্যগ্রহণ ;
পূর্বজজন্মের স্মৃতিভার-মুক্ত
এক নুতন সভ্যতার স্রষ্টা তোমার অনাগত
প্রথম সন্তান এ পথেই
আগামীর যে কোন অনির্দিষ্ট দিনে জন্ম নিতে পারে ।
তাই তুমি ফিরবে না পূনর্বার
ওই ছাইরঙা প্রাসাদের জীর্ণ আলোয় ।

little magazine Bangladesh

প্রানদিয়ে গড়া বাংলাদেশ
নুরুন্নাহার পান্না–

আজ আমি তাদের কথা বলবো,
কিন্তু ! কিভাবে যে বলবো-
আমার হাত-পা শিহরে জায় কেপে,
তোমাদের ঋন শোধ হবেনা তোলা কেজি মেপে।
কি শাহসিকতা তোমরা দেশকে দেখালে,
তোমাদের প্রিয় পরিবার কে নিঃস্ব রেখে গেলে।
আজ আমি তাদের কথা বলবো,
কিন্তু ! কিভাবে যে বলবো-
আমার সারাগা কাটায় কাটায় বিধে ওঠে,
একাত্তর এর মুক্তিযুদ্ধের কথা শুনি যখনি ,
আমার হৃদয় আতংকে যায় ফেটে তখনি।
সালাম,বরকত,রফিক, জব্বার-
তোমরা হয়েছো শহিদ দেশের জন্য,
তোমাদের মত সুদরসননায়ক পেয়ে জাতি হলো ধন্য।
হ্যা — আজ আমি তোমাদের কথা বলবো,
তোমাদের কথা ভেবে ভেবে আমরা দেশকে সাজাবো,
বাংলার রুপ মাধুর্য শস্য শ্যামল প্রান ভরে দেখবো।
তোমরা আমাদের দিয়েছো এই সাধিন দেশ,
এখানে আমরা সাজাবো তোমাদের নাম করে সান্তির রেশ।

হায় স্বাধীনতা!”
-বিপ্রতীপ অপু

Amar ma ke poem by kobitay jagoron little magazine
Biprotip-Opu

ছোপ ছোপ রক্ত আজও লেগে আছে রাজপথে।
প্রতিটি গাছের পাতা-
প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরের সাক্ষী।
এই যে পাহাড় নির্বাক আকাশ ধুলো ওড়া প্রান্তর,
বীর বাঙালীর রক্তের প্রতিটি ফোঁটার সাক্ষী ওরা।
সুনসান পিচঢালা পথে কান পেতে শোনো-
শুনতে কি পাও?
ইয়াজিদের ঘোড়ার খুড়ের টগবগ ধ্বনির মতো-
পাক হানাদারের বুটের খটখট খটখট?
রাতের আঁধার চিরে হায়েনাদের রক্তোৎসবের
কুইক মার্চ,
ধমনির রক্ত প্রবাহ থমকে দেয়া ভয়াল শব্দ।
পতাকার শামিয়ানায় আজও ধর্ষিত হয় নারী।
স্মৃতিসৌধের চূড়ায় ঝিলিক দিয়ে ওঠে
চকচকে বেয়নেট।
তাদের পায়ে পায়ে চলা হিংস্র হায়েনার দল
আজও কুরে কুরে খাচ্ছে মানচিত্র।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ
বিশ্বজিৎ সেন

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ
দেয় যে ভীষণ কষ্ট
ডিসেম্বরের ১১ তো
চোখে আজো ’পষ্ট!

বাবা কাকা দুই মামাকে
সাম্পান থেকে তুলে
নিয়ে গেল পাকিস আর্মি
মিলেটারী পুলে।

সাতটি ট্রাকে চড়ে আর্মি
যাচ্ছিল পটিয়া
বাবা কাকা মামাদেরকেও
নেয় তুলে পিটিয়া।

সেই দেখাটাই শেষ দেখা যে
পাইনি হদিশ আর
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ
বাড়ায় শোকের ভার!

বঙ্গবন্ধুর ভীষণ ভক্ত
ছিলেন আমার বাবা
৭ই মার্চের ভাষণ শুনে
মারতেন থাইএ থাবা।

শাকপুরার মিলেটারী পুল
আজো আমায় ডাকে
বাবার স্বপ্ন পথ হারালো
মুজিব হত্যার নাঁকে!

শেখ হাসিনা মুজিব হত্যার
বিচার করলেন তাই
জাগছে আশা বাবার স্বপ্ন
পূরণ হবে ভাই।

little magazine Bangladesh

বীর বাঙালি
মোর্শেদ হাবীব সোহেল

Amar bangladesh poem by kobitay jagoron little magazine
Morshed-Habib-sohel

বীর বাঙালির ছেলে আমি
বিজয় আমার নিত্য সাথী ,
বীরের বেশে বেড়াই ঘুরি
জগৎ ডাকে মহাবলি ।
ভিষন মূর্তি ভয় দেখিয়ে
বিপদ কভু সামনে এলে ,
র্বগি বেশে শত্রু মাঝে
ঝাপিয়ে পরি হারে রে রে ।
বিজয় কেতন মাথায় বেঁধে
তাথৈ তাথৈ নৃত্যে নেচে ,
নটবরের ত্রিশুল দিয়ে
অসুর বধি অট্টহেসে ।

শোক সাগরের নোনাজল
মিলন বনিক

শোক সাগরে বইছে নোনা বাতাস
পদ্মা মেঘনা যমুনা গাইছে বিরহের গান।
বাউল তার একতারা থেকে হাত সরিয়ে বলছে,
আমার স্বপ্নের রাজকুমার কই?
এইতো সবে শান্তির পায়রাগুলোকে নিজ হাতে খাইয়ে,
ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছে পালক পিতা। বাংলার মানুষ ঘুমিয়েছে
সুন্দরের স্বপ্ন বুকে নিয়ে, সোনালি ভোরের আশায়।
সেই ভোর আর আসেনি।
গভীর রাতে বুলেটের গর্জন প্রতিধ্বনিত
হতে থাকে কোটি মানুষের অন্তরে। চারিদিকে হায় হায় রব!
মাঝি পাল ছেড়ে দেয়, নৌকা ছুটে চলে লক্ষ্যহীন, দিকভ্রান্ত।
কেবলই জিজ্ঞাসা, দেশটার এ কী হলো?
ঘুম ঘুম চোখে মা বিছানা হাতড়িয়ে বলে, আমার খোকা কই?
কৃষক হাল ছেড়ে দিয়ে বলে, হায় আল্লাহ!
তুমি আমারে নিলা না ক্যান? আমার জীবন নিয়া তুমি
আমার নেতারে ফিরাইয়া দাও!
বুক চাপড়ে কাঁদে নওয়াব বাড়ির কলিম শেখ,
সযতেœ তুলে রাখা বিন্নি ধানের খই আর কালি জিরা ধানের চিড়াটা
নেতার পায়ে উৎসর্গ করা হলো না। কলিম শেখ জানে,
বিন্নি ধানের খই আর কালি জিরা ধানের চিড়া নেতার খুব পছন্দ।
এখন কান্নার নোনাজলে কলিম শেখের বুক ফাটে।
শিল্পীর তুলি থেমে গেছে। সাগরের নোনাজলে, সমস্ত রং ধুয়ে মুছে
নিকষ কালো হয়ে থেমে আছে পৃথিবীটা।
নলিনী ঠাকুরের ভিটের বেল গাছটা ন্যাড়া হয়ে গেছে।
যে গাছ থেকে প্রতিদিন শিবের চরণে বিল্বপত্র নৈবদ্য দেওয়া হতো
জাতির পিতার নামে। সমস্ত বিল্বপত্রগুলো
একে একে ঝড়ে পড়েছে মুর্হুমুর্হু বুলেটের ঝলকানিতে।
তাইতো আকাশে কেবল পোড়া বারুদের গন্ধ।
আজো শোকের মাতম তুলে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা।
শ্রোতধারা হয়ে বয়ে চলে বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে,
শোকের সাগরে ভাসে কান্নার নোনাজল।

একটুকরো ছেড়া কাগজ
মিতা চক্রবর্তী

“আসছি আমি,দরজাটা বন্ধ করো”
রমিজ ভাইয়ের ডাকে
বিছানায় আমাকে একলা রেখে
সেই যে চলে গেলে…..
তেতালি­শটা বছর আমি প্রতীক্ষা করেছি তুমি আসবে বলে।
সেদিন পঁচিশ বৈশাখ।
আমাদের বিয়ের তৃতীয় দিন।
ভোর বেলা চায়ের সাথে রবী ঠাকুরের গানের কথা বলেছিলে
বাড়ি ভর্তি অথিতির অজুহাতে আমি পালিয়ে ছিলাম সারাদিন।
সন্ধ্যায় পুকুর ঘাটে বললে “রাতে এর শাস্তি হবে”!
আমি আবার পালালাম।
গভীর রাতে দরজা বন্ধ করতেই আমার শাস্তি শুরু।
পাঁচটি বছরের জমে থাকা আবেগের মেঘে
অনেক বৃষ্টি ঝরে আমাকে প্লাবিত করেছো কেবল,।
পরের সপ্তায় নিলুদা একটুকরো ছেড়া কাগজ দিয়ে গেল।
“ট্রেনিংএ গেলাম” দুটো শব্দ লেখা কাগজ টি আঁচলে বেঁধেছিলাম সযত্নে।
তোমার যুদ্ধে যাওয়ার অপরাধে বাবাকে ওরা ধরে নিয়ে গেল।
পরের সন্ধ্যায় আমি শত্রু ক্যাম্পে। কতদিন ছিলাম জানিনা।
প্রতিটা দিন প্রতিটা রাত একই রকম কাটত।
তাই উদয় অস্তের হিসাব রাখিনি কখনও।
আরো অনেকের সাথ ওরা যেদিন আমাকে রেখে পালাল…..
শুনি মুক্তিযোদ্ধারা দখলে নিয়েছে গ্রাম।
ভেবেছি,এবার বুঝি তুমি এলে…..!
মুক্তির আনন্দে ডানা মেলতেই টের পেলাম,
আমার ভিতর অন্য কেউ বাড়ছে।
আর সেই অপরাধে আমি গ্রামছাড়া…. বিজয়ের তেত্রিশ দিন পর।
আমি কাঁদিনি সেদিন।
শুধু ভেবেছি,দেশটাই স্বাধীন হলো, আমরা নই।

little magazine Bangladesh

সত্যিকারের স্বাধীনতা
মুনির আহমেদ শ্রাবণ

লক্ষপ্রাণেরবিনিময়ে
বাংলা স্বাধীনজনমে
ধন্য হবার কথাছিলো
এই বাংলায়জন্মে।
স্বাধীনহলো দেশ;
কিন্তু স্বাধীনতাআছেকার?
স্বস্তিতে নেই যে কেউ
চারিদিকে হাহাকার!

একাত্তরেবীরবাঙালি
হয়েছিলউদ্বুদ্ধ
পাকবাহিনীরবিরুদ্ধে তাই
করেছিলযুদ্ধ।
বাঙালিদেরকিছু লোক
রাজাকারেরধরলো বেশ
পাকহায়েনারকাছেতারা
তুলে দিলোনারীর কেশ।
লক্ষনারীর সম্ভ্রম লুটে
হলোতারারাজাকার
শাস্তিতাদেরদিতেহবে;
হবেআরসাজাকার?

তারাইনাকি জেগে উঠছে;
করছেতারাহামলা
পড়ছেধরারুখছেতারা
হাজারজটেরমামলা।
রাজাকাররাক্ষমতাধর
তাদের;পতাকাটাউড়ছে
তারাইনাকিসবার সাথে
নতুনকরেজুড়ছে।
রাজাকারদেরবিচারযদি

করতেপারেনির্ভুল
সত্যিকারে স্বাধীনহবো;
রাজাকারহবেনির্মূল।

হারানো বুকের মানিক
এম.মনজুর রহমান (মানিক)

হয়তোবা মতিঝিলের শাপলাটি হবে একেবারে প্রাণবন্ত গাঢ় সবুজাভ ভোমরা রজত তানপুরা তানে আঁকা। আর শাপলাটিরর মমতাঝরা অবুঝ পাপড়ি থেকে বেরিয়ে আসবে নূর হোসেন নামের এক সাহসী যুবক। তার পিঠে লেখা স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক অস্পষ্ট অক্ষরে রোমশ বক্ষে লেখা। নূর হোসেনের স্মৃতিচারণে মনে হয় আমি মরি নাই, মরবোনা। ঘাতক বুলেট আমার বক্ষ ঝাঁঝরা করেছে সত্যি আমার বিদেহী আত্মা এতটুকু দূরে সরে যাইনি। আমি মিশে আছি টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, কখনোবা রূপসা থেকে পাথুরিয়া। আমি আসি বারে বারে আসি পদ্মা মেঘনা যমুনা সুরমা ধলশ্বরী তিতাস কর্ণফুলী সাঙু মাতামুহুরি আর নাফ নদের প্রতি রাতের জোয়ারে জোয়ারে। আমি যুগে যুগে আসি বাঁশের কেল্লার সৈয়দ মীর নিসার আলী তিতুমীর হয়ে। কখনো বীর চট্রলার সূর্যসেন হয়ে। কখনো পাহাড়তলীর অগ্নিকন্যা প্রীতিলতা হয়ে কখনো সাগরপাড়ের সাহসী সন্তান রক্তে লেখা আরেক নাম বিপ¬বী দৌলত খান হয়ে। কখনো অগণিত সেলিম দেলোয়ার দিপালী শাহা তাজুল রাউফুন বসুনিয়া হয়ে। কখনো হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি ইতিহাসের রাখাল রাজা বাঙালী জাতিসত্বার জনক বঙবন্ধু মুজিব হয়ে। হে স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা হে দেশ মাটি মা আমার আমি আসবো আবার আসবো এই বাঙলার লাল সবুজের চত্বরে তোমার হারানো বুকের মানিক হয়ে।

little magazine Bangladesh

স্বপ্নরা রঙ ফিরে পাক
সৈয়দ আহসান কবীর

রেটিনায় দেখা পাবে সোনার জমিন
ভালোবাসা-ককপিটে স্নিগ্ধ আকাশ
আইরিশে আইরিশে স্মৃতির পাহাড়
আর্টারি ছুঁয়ে চলা মনের ফাগুন…

অথচ এগিয়ে দেখো দিনের আলোয়-
আলুথালু পড়ে আছে পিতার জমিন,
মায়ের সাজানো সেই শখের বাগান
এলোমেলো হয়ে আছে বোনের সিঁদুর!

স্বপ্নতে রঙ নেই, হয়ে আছে লাশ
পঁচে গলে গেছে ফুল, আতর-সুবাস
বেদনার নীল গেছে দিনকানা হয়ে
রক্তে জাগে না তাই দ্রোহের আগুন।

স্বপ্নের কোরিডোরে আলোর মিছিল
তুলি হয়ে আঁকে না আর পানামের পথ
পিয়ানোতে সুর নেই, লীন হয়ে গেছে
থেমে আছে ঝাপতাল-সংগ্রামী গান…

বেদনার নীল হোক স্ফুট লাল
জেগে উঠে হয়ে যাক মার্চের সাত
আবার রচিত হোক বিজয় মিছিল
পিতার জমিন হোক সুখের আবাস।

প্রণতি
সৈয়দ আহমদ আলী আজিজ

হে অদম্য সাহসী পিতা
প্রজ্জ্বোল বিভার বিচ্ছুরণ
তোমার দেশ প্রেম করেছিল
আবাল বৃদ্ধ বনিতার হৃদয় লুন্ঠন
হিলোলিয়া চঞ্চলিয়া জাতির হৃদয়ের
সমুদ্র সীমানা
জাগ্রত করেছিলে স্বাধীনতার
সূদীপ্ত কামনা
ছিলে তুমি সদা ঘুর্ণয়মান
যেন লাটিমের বল
সৃজন করেছিলে ঊলোল
প্রমত্ত বিদ্যূৎ কৌতুহল
জনতার হৃদয়ের রুদ্র রেখাকে
তোমার ক্রমশঃ চুম্বন
ঘোর অন্ধকার হটিয়ে করেছিল
চিরসত্যের উম্মোচন
চাওনি তুমি নক্ষত্রপুঞ্জ
কিম্বা রত্নের বিলাস
দেশ ও মানুষের কল্যাণই ছিল
তোমার প্রিয় অভিলাস
সৃষ্টি করেছিলে স্বাধীনতার
স্বর্গ সোপান
মুক্তিযোদ্ধা ও জনতার অসীম
আত্মবলিদান
আজ পৃথিবীর মানচিত্রে উড়ছেই
লাল সবুজের পতাকা
তুমিই তার মূল উৎস
উড্ডয়নের পাখা ।

little magazine Bangladesh

স্বাধীনতার মাটি
সাঈদুল আরেফীন

Saidul Arefin poem kobitay jagoron little magazine
Saidul-Arefin

রক্তস্রোত বয়ে যায় আজো বুকের ভেতর,পূর্ণিমার চাঁদ ম্রিয়মাণ
হয়ে যায় ,আলোর রেখা মিলিয়ে যায়
যেদিন তোমার বুক বিদীর্ণ হয়েছিলো, প্রকৃতি গুমড়ে কেঁদে
উঠেছিলো, স্বাধীনতা তোমার মরণ সেদিনই হয়েছিলো,
লজ্জায় অবনতচিত্তে তুমি মুখ লুকোবার চেষ্টা করেছিলে
অপমানে যন্ত্রণায় ক্ষোভে । তোমাকে পিছু ছাড়েনি প্রেতাত্মারা
তোমার নরম পবিত্র মাটিকে বারম্বার লুন্ঠিত করতে চেয়েছিলো
স্বপ্ন ভেঙ্গেচুড়ে গিয়েছিলো বাংলাদেশ তোমার
কান্নার শব্দ গুলো মূক হয়ে ফিরেছিলো, তুমি একটুও থামোনি
তোমার বুকে আজো ঘাপটি মেরে বসে আছে বিপন্নতা
হোঁচট খেতে খেতে। আর কতো ধকল সইবে তুমি ? এবার এগোও
প্রচন্ড উদ্যমে নদীর কলকল ধ্বণির সুরে
সেই ঝাঁঝরা বুকের ক্ষতবিক্ষত দেহের রক্তাক্ত স্রোতে। আজো শুনতে পাই
সেই অমর গান কবিতা হয়ে
হাজার কন্ঠে বেজে ওঠে মুজিব তোমার নাম। স্বাধীনতা মানে মুজিব
স্বাধীনতা মানে বাংলাদেশ স্রোতস্বিনী ধারায় বহমান
এক প্রগতিশীল রাষ্ট্রপিতা। স্বাধীনতা তোমার পবিত্র মাটি
বাঁধুক শক্ত ভিতের ঘর যেখানে বঙ্গপিতা নিঃশ্বাস নিক
চিরন্তন ফল্গুধারায় শতকের পর শতক ধরে।

বড় নির্দেশ
রোকেয়া ইসলাম

তোমার মতো দীর্ঘ হতে পারে
কে আর তর্জুনী দুলিতে
কাঁপাতে পারে অন্তরীক্ষ আমি
তোমার কথা বলছি পিতা

ফাঁসীর মঞ্চে গিয়েও যার কণ্ঠ অবিচল
আমি তোমাকেই উচ্চারণ করছি আজ
পাজরের গভীরে জমা কষ্ট নিয়ে
তোমাকেই নিয়েই আঁকছি আমার ভবিষ্যৎ

তুমি এসো আবার এসো ফিরে
তোমার বাংলায়-টুঙ্গি পাড়ায়
বত্রিশ নম্বরের রক্তাক্ত সিঁড়িতে
আমাদের ঋণ শোধের সুযোগটুকু দাও

অবিরাম শ্রদ্ধা জানাবার পিতা
তোমার তর্জুনীর চেয়ে
সত্যিই কি আছে কোন
বড় হিমালয় বড় নির্দেশ।

বিজয় এসেছে
লুৎফুন নাহার হাসি

পৌষের শিশির ভেজা ঘাসের বুকে
ভোরের সোনারোদ ছড়িয়ে
বাঙালির পরম কাঙ্খিত শুভদিন এল ফিরে।
একাত্তরের রক্তক্ষয়ী ইতিহাস আর চেতনা
বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ অতঃপর বিজয়ের পতাকা
বাঙলার বুকে সেদিন এনে দিয়েছিল
সে আনন্দ বার্তা
দীর্ঘ চল্লিশ বছর পেরিয়ে এসে
সে আনন্দ পেয়েছে কতটা পূর্ণতা ।
দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে বুকের রক্ত দিয়ে
যারা বাঙলার মাটিকে শত্রু মুক্ত করে
দেশকে শান্তির আবাস ভুমিতে পরিনত
করতে চেয়েছিল
তাদের পরিবার পরিজন আজ কতটা
কান্তি সুখের সন্ধান পেয়েছে
এ প্রশ্ন প্রতিটি বিবেকবান বাঙালির কাছে ।
এক সাগর রক্তের বিনিময়ে যে বিজয় অর্জিত হয়েছে
সে বিজয়ের মর্যাদা কি অক্ষুন্ন আছে ?
এতসব প্রশ্নের জবাব আজো অজানা
বাঙলার মানুশের কাছে ।
তবুও সান্ত্বনা স্বাধীন দেশে আমরা মেতে উঠেছি
বিজয়ের উৎসবে ।
পরাজয়ের গ্লানি আমাদের পথ রোধ করতে পারে নি ।
বাঙালি জানে পাথর কেটে পথ খুজে নিতে হয় কেমন করে ।

মুক্তিযোদ্ধা এবং কিছু কথা
শাহানা রশিদ

মাথার উপরে অশনি বজ্র, নয়নে ভোরের আলো নিঃস্ব ভিখারী তোমরা এ দেশকে বাসিয়াছা ভালো।
বিজয়ের এই দিনে আমি বলতে যেনো লজ্জা পাই সত্যি মিথ্যা বিবিধ কারণ—-
মহান বিজয়ে আমার অবদান নাই।
ভাষার স্বাধীনতায় বলার ইচ্ছে আমার মুক্তিযোদ্ধারাই শ্রেষ্ঠ সন্তান-স্বাধীন বাংলার ।
স্বাধীন উত্তর বাংলাদেশে স্বাধীন আমরা মনে রাখিনা ইতিহাসে লেখা নাম ক’জন ছাড়া,
নিজেদের কথাই ভাবি ব্যস্ত সবাই ভাগে বিলাসে জানি না শহীদ পরিবারে কে গিয়েছে কে বেঁচে আছে।
আবুল হোসেন রিক্সা চালক একাত্তরে টোকাই।
তবে টাকাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রণাঙ্গনে তথ্য সরবরাহ করত। আর ফুটপাতে শুয়ে স্বাধীন বাংলার স্বপ্ন দেখত আজ-চল্লিশ বছরেও ভাগ্যের চাকা তার ঘুরে নাই।
” তথ্য সরবরাহ করত।
পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা ভিক্ষুক হাসেম আলী রাস্তার কিনারে! আমাদেরই স্বজন বীরঙ্গনা’ যারা যথার্থ মর্যাদা নাই, যাদের ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীন দেশটি পাইকাদের অবহেলায় ছিন্নমূল এরা ভাসে নয়ন নীরে?
সেদিন দূরে নয় মুক্তিযোদ্ধারা থাকবেনা পৃথিবীতে জীবন্ত ইতিহাস আজো রয়েছে অজানা অন্ধকারে! আমাদের স্বার্থ ও সংকীর্ণতা কিঞ্চিৎ পরিহার করে আমরা কি পারি না জাতির এ কলঙ্ক ঘোচাতে…?

little magazine Bangladesh

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখমুজিবুর রহমান
শহী সবুর

টুঙ্গি পাড়ার দামাল ছেলে শেখ মুজিবুর রহমান,
বাঙ্গালীরা আমরা যারা ভুলবো না তাঁর অবদান।
পাকিস্তানের খান সেনারা দখল নিল আমার দেশ,
তাদের শাসন নিপিড়নে বাঙ্গালীরা হল শেষ।
বাংলা মায়ের দামাল ছেলে বঙ্গবন্ধু বুঝতে পারে,
বাঙ্গালীদের দাবি নিয়ে চলে গেলেন তাদের ধারে।
গায়ের জোরে খান সেনারা মানে না তাঁর কোনো কথা,
সরল মনে বঙ্গবন্ধু পেলেন তখন দারুণ ব্যথা।
বঙ্গবন্ধু ফিরে এসে করেছিলেন আলোচনা,
দাবির কথা বলেছিলাম কিন্তু তাতে ফল হল না।
সাতই মার্চের বিকালবেলা এক ভাষনে বলেন ডেকে,
বাঙ্গালীরা তৈরী থেকো জোট বাঁধো সব আজকে থেকে।
রক্ত যখন দান করেছি রক্ত আরো দিয়ে যাবো,
তার বিনিময়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ফিরে পাবো।
সেই ভাষনে আগুন জ্বলে বাঙ্গালীরা জেগে উঠে,
মার্চ মাসের পঁচিশ তারিখ জিতে গেলো বিপুল ভোটে।
গায়ের জোরে ক্ষমতা ধরে রেখে দিলো খান সেনারা,
হেরে গেলো ভোটে তবু এদেশ ছেড়ে যায়না তারা।
বীর বাঙ্গালী অস্ত্র ধরে মুক্তিসেনা গড়ে নিল,
মুখোমুখি যুদ্ধ করে খান সেনাদের হটিয়ে দিল।
নয় মাসে সেই রক্ত ক্ষয়ী দাঙ্গা যুদ্ধের হল শেষ,
পালিয়ে গেল খান সেনারা স্বাধীন হল বাংলাদেশ।
পশ্চিমাদের তাড়িয়ে দিয়ে বাঁচালেন যে জাতির মান,
তিনি বাংলার জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান।

little magazine Bangladesh

দেশ মাতৃকা
হাবিবা খাতুন

দেশ মাতাগো তোমায় পাওয়ার স্বপ্নছিল আমার
তোমার তরে ব্যায় করেছি সকল সম্ভার
মানতিমানত পালন করেছি কত
তোমাকে পাওয়ার আশায় দিন গুনেছি শত।
শেষে তোমায় পেয়ে জাপটে ধরেছি
চোখে চোখে রাখব বলে, শপথ করেছি।
তোমার মাঝে দেখতে পেয়ে সফল সম্ভাবনা
দূর করেছি সব মন্দের পাহাড়, করেছি সাধনা।
দিনে দিনে তোমার বয়স যখন হল
তোমার রকম সকম দেখে সবাই চমকাল
তুমি যেন অন্যরকম অন্য রূপের দেশ
সবার মনের আশার প্রতীক নও, হয়েছে বিশেষ।

তোমার প্রতি আর্জি এখন দাও গো ঢেলে দাও
সম্পদ সব দুঃখীর তরে সকলের কল্যানের বাও।
তোমার মাটি সোনায় মোড়া, তুমি নও বুদ্ধু
তোমার বুকে বুক মলিয়ে রাখব তোমায় শুদ্ধ।
তুমি মোদের আগলে রাখ, তোমায় নিয়ে হাসি
জগত জুড়ে তোমার কথা বলতে ভালবাসি
ভালবাসি মাগো তোমায় ভাল তোমার চাই
তুমি ছাড় এ জগতে নাই যে কোন ঠাঁই ।

স্বাধীনতা তুমি।
হোসনেয়ারা বেগম

স্বাধীনতা তুমি হাজার রক্ত গোলাপ
স্বাধীনতা তুমি ছেলেহারা মায়ের বিলাপ
স্বাধীনতা তুমি আমার নির্জাতিত বোনের গৌরব
স্বাধীনতা তুমি আমার প্রিয়তমার ভালবাসা সৌরভ।
স্বাধীনতা তুমি জন্ম জন্মান্তরের ইতিহাস।
স্বাধীনতা তুমি প্রজন্ম হতে প্রজন্মের স্বপ্ন সাধ।
স্বাধীনতা তুমি রক্তে আঁকা একটি মানচিত্রের নাম
স্বাধীনতা তুমি হাজার বছরের এক শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালীর কৃতিত্বে কীর্তিমান।

ওজিম্যন ডায়াস
পি.বি শ্যালি

কোন এক প্রাচীন নগরে
একদা ভ্রমিতেছিনু আপনার মনে
মিলিত হইনু এক পথিকের সনে ।
কহিল সে, মরুভূমি মাঝে
আছিল দাঁড়ায়ে এক বিশাল মূরতি
জীর্ণ অতি, দুর্দশায় ভগ্নপ্রায় গতি ।
অর্ধাংশ বালুকায়, ঈষৎ বঙ্কিম …
ওষ্ঠে গর্বোদ্ধত হাসি, আদেশ-ভঙ্গিম
অধরে প্রচ্ছন্ন যেন। অভিব্যক্তি
দয়ামায়ালেশহীন, বলিষ্ঠ কঠিন
সুচতুর শিল্পী যেন দিন-প্রতিদিন –
নিরখি চরিত্র তার অতি সযতনে
গড়িয়াছে তারে । যাহা অদ্যাপি আসীন
নির্মম সজীব সম, নির্জীব আননে
নিখুঁত তুলির টানে; হৃদয় তাহার
অধিষ্ঠিত সে চরিত্রে, সে রাজ-আসনে ।
আধারে খচিত যেন শব্দ কতিপয়-
‘ওজিম্যান্ডায়াস আমি, রাজরাজেশ্বর,
হের মোর কীর্তিরাশি, অতুল বৈভব
ঐ হের শ্ত্রু মোর লুটায় ধুলায় ।
কিছু না রহিল । কালচক্র আবর্তনে
ধ্বংস ঘূর্ন্যাবর্তে পড়ি বিশাল মূরতি
ক্ষুদ্র খন্ড খন্ড রূপে ভাঙিয়া পড়িল ।
যতদূর দৃষ্টি যায় দিগন্ত-প্রসারী
মরুবালি ভিন্ন আর কিছু না রহিল ।।

little magazine Bangladesh

You Might Also Like

No Comments

Please Let us know What you think!?

%d bloggers like this: