kobitay jagoron Thirteenth revelation

যারা লিখেছেন-

১. মোঃ আব্দুল মান্নান
২. এস এম জুনেদ জামান
৩. জুনায়েদ খান প্রান্ত
৪. ফরিদুজ্জামান
৫. আমিনুল ইসলাম মামুন
৬. মোহাম্মদ ইমাদ উদ্দীন
৭. নাসরিন আক্তার
৮. করুণা আচার্য
৯. দালান জাহান
১০. জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়
১১. অনিরুদ্ধ সুব্রত
১২. মোস্তফা হায়দার
১৩. অভিলাষ মাহমুদ
১৪. সাহিদা রহমান মুন্নী
১৫. জেইনাল আবেদীন চৌধুরী

সংখ্যাটি পড়ুন

download button kobitay jagoron

সোনার নোলক

Abdul-mannan

মোঃ আব্দুল মান্নান

খেলনা দামী শিশুর কাছে
নেতার কাছে দেশ ।
চাষার কাছে জমিন দামী
নারীর কাছে কেশ।

নৌকা দামী মাঝির কাছে
ছাত্রের কাছে বই।
রানীরা সব খুঁজে বেড়ায়
হীরে গেল কই?

খুলুর কাছে প্রিয় জিনিস
তেল চোষার ঘানি ।
সব মানুষের প্রিয় জিনিস
থলে ভরা মানি।

বেজায় খুশি কিশোর ছেলে
পেলে স্মার্ট ফোন ।
ঘুরে বেরায় কাঠের খোঁজে
কাঠুরে সারা বন।

গ্রামের মেয়ে বধু সাজে
সোনার নোলক দিয়া।
খুলে ফেলে ঐ নোলক ই
কত সাধের প্রিয়া!!

বিবেক বুদ্ধি নিরুদ্দেশ

এস এম জুনেদ জামান

ধিক্কার জানাতে ভুলে গেছি ভাষা
চারিদিকে চলছে কত রং তামাশা
ভয়ভীতি যতো স্মৃতি সবটুকু আশা
অভিনয়ে ভালোবাসা সবি নিরাশা

ভোরের নিস্তব্ধ বায়ু শ্বাসরুদ্ধে দূষণ
বাকরুদ্ধ নিরবতায় ভয়েতে ভীষণ
শোষণের ছোটাছুটি নেইতো শাসন
সবুজের সমারোহে আছে শুধু ভাষণ

দুপুরের খড়াতাপে নূপুরের শব্দ
অর্থহীন বাক্যে মিছে পড়ি গদ্য
মুষ্টিবদ্ধে ইতিহাস মানবতার পদ্য
দ্রুতগতি বাড়ছে আছে যা খাদ্য

প্রদীপের শিখাতে নিবুনিবু আলো
আঁধার শুনিয়ে পথটি নিঘোর কালো
পালানোর পথে কাঁটা কেমনে ফেলো
দূষিত বায়ুতে নীলাদ্রি নেই ভালো

চিত্তের বিত্তে প্রতিবাদী সমৃদ্ধ জাগরণ
তোলপাড় হৃদাকাশে ধিক্কার আলোড়ন
নির্বাক নয়নে মুড়ানো সাদা কাফন
ভুলে গেছি ভাষাটুকু করেছি দাফন

kobitay jagoron Thirteenth revelation

বিজয়ের নিশানা

Junaid-khan-pranto

জুনায়েদ খান প্রান্ত

ডাক এসেছে স্বাধীনতার কেমনে ঘরে রই?
বঙ্গবন্ধুর ভাষন থেকে তাইতো অনুপ্রেরণা লই।
আমরা মাগো তরুণ শির পিছপা কবু না হয়,
সাহস সঞ্চার করে বুক পিঞ্জরে বিনষ্ট করবো শত্রুপক্ষকে।

পিছন ফিরে তাকাবো না কোনো মতে এই সংকল্প লই,
এগিয়ে যাবোই নতুন উদ্দামে বীরের মতো করে।
দামাল ছেলেদের রণাঙ্গনে যদিও যায় প্রাণ,
রক্ত ঢেলে তপ্ত করবো এদেশের মানসম্মান।

অত্যাচার, ধর্ষণ আর পরাধীনতার গ্লানি মুছতে,
আমরা নেমেছি অস্ত্র হাতে বিজয় চিনিয়ে আনতে।
কতশত তাজা প্রাণ যাচ্ছে যে অকালে মরণ খেলা খেলে,
লড়বো বাঁচবো বাঁচাবো এই মনোভাব ব্যক্ত করে।

দীর্ঘ নয় মাস বাঙলার বুকে প্রাণপণে যুদ্ধ করে,
রক্ত গঙ্গার এই মিছিলে যাচ্ছে অনেকে শহীদ হয়ে।
সবগুটিয়ে যায় পালিয়ে পাক-হানাদার বাহিনীরা,
আত্মরক্ষাতে মাথানত করে দেশ ছাড়ে অবশেষে।

পৃথিবীর ইতিহাসে ভাষার জন্য যারা দিয়েছে প্রাণ,
শেষ হবেনা কবু সেসব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধাভক্তি সম্মান।
বাঙালি মায়েদের আত্মত্যাগে জয়ধ্বনি বাতাসে ভাসে,
বিজয় উল্লাসে নবীন প্রবীণ সকলে একসাথে।

লাল রক্ত আর চিরচেনা সবুজের সমারোহের মাঝে
দিচ্ছে উঁকি লাল-সবুজের নিশানা মুক্ত প্রাঙ্গণে।
বিজয়ের হাসি হেসেই আজ ফেলি স্বস্তির নিশ্বাস,
বাংলার বুকে উড়বেই তো তাই লাল-সবুজের পাল।

মানবসূর্যের কল্লোলিত ঝর্ণাধারা

ফরিদুজ্জামান
উৎসর্গ: বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস

একটি মুক্ত সকাল দেখবে বলে তোমার ডাকেইতো ত্রিশ লক্ষ মানুষ বিলিয়ে দিল জীবন। সম্ভ্রম হারাল আড়াই লক্ষ মা-বোন। তুমি ফিরে আসছো স্বাধীন বাংলাদেশে। জাতি রাষ্ট্রের সৃষ্টির পর অধীর আগ্রহে সবাই প্রতীক্ষ্যমান। বাংলাদেশের পতাকায় তোমার প্রতিচ্ছবি উড়ছে পত্পত। সাড়ে সাত কোটি দেশবাসীর ভালবাসার প্রতীক জ্বলজ্বল করছিল সুনীল আকাশে। এক সাগর রক্ত পেরিয়ে বাংলার ধ্বংসস্তূপে জন্মেছিল লক্ষ কোটি স্বপ্ন কোরক। প্রিয়হারা নর নারী তোমার উদার বুকে ঠাঁই পেতে উদগ্রীব হয়ে চোখে মুখে এঁকেছিল আকুলতার বলিরেখা। হাজার বছরের পরাধীনতার শিকল ভেঙ্গে মুক্তির আনন্দময় উচ্ছলতা ছড়াচ্ছিল জ্যোতি। বায়াত্তরের দশ জানুয়ারী তোমাকে নিয়ে বিশেষ বিমানটি যখন তেজগাঁও বিমানবন্দরে অবতরণ করল তখন আনন্দের ঝর্ণাধারায় সিক্ত হল বাংলার তৃষ্ণিত বুক। তুমি হাসিমুখে হাত নেড়ে সমবেত জনতাকে অভিবাদন জানালে l উল্লসিত সবাই করতালি আর জয় বাংলা ধ্বনিতে মুখরিত করে তুলল আকাশ বাতাস। সকলের চোখেই তখন আনন্দের অশ্রু। হে মানবসূর্য, বাংলাদেশের স্থপতি তোমার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পুনর্মিলন আজও বাঙালির আনন্দ আর আবেগের কল্লোলিত ঝর্ণাধারা।

kobitay jagoron Thirteenth revelation

মাতৃভাষা

আমিনুল ইসলাম মামুন

বাংলা আমার মাতৃভাষা
বাংলা আমার প্রাণ
এই ভাষারই জন্য যারা
করল জীবন দান-

স্মরণ করি আজকে তাদের
অনেক শ্রদ্ধা ভরে
সারা জীবন তাদের স্মরণ
করব এমনি করে।

স্বাধীনতা তুমি

মোহাম্মদ ইমাদ উদ্দীন

স্বাধীনতা তুমি অর্জিত হয়েছ,
লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে।
স্বাধীনতা তুমি অর্জিত হয়েছ,
লাখো মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে।

এখনো ভূলে নি ৭১’র ২৫ মার্চ
কালো রাতের স্মৃতি বাঙ্গালী জাতি।
হয়ত ভূলতে পারবে না আজীবন।।

নিরস্ত্র বাঙ্গালীর ওপর
জল্লাদ বাহিনীর বর্বরোচিত নগ্ন হামলা।

স্বাধীনতা তুমি অর্জিত হয়েছ,
রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে এই বাংলাদেশ।

স্বাধীন সর্বভৌমত্ব রাষ্ট্র হিসেবে,
স্থান পেয়েছ পৃথিবীর মানচিত্রে।

kobitay jagoron Thirteenth revelation

স্বধীনতা

নাসরিন আক্তার

সহস্র মৃত্যুর মিছিল ডিঙিয়ে
তোমার জন্ম হলো,
সদ্য কিশোরী মায়ের জঠর ছিঁড়ে
জন্ম নিলাম আমি,
শীর্ণ দু’বাহু বাড়িয়ে
তুমি বুকে তুলে নিলে।

তারৎস্বরে আমার কান্না শুনে
খুসিতে তোমার আটষট্টি হাজার বর্গমাইল শরীর জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছিলো
সোনালী আলোর ঝিলিক ।

তোমার জন্ম সহস্র মৃত্যু ডিঙিয়ে
আমার জন্ম তোমার রক্তস্নাত ভূমিতে।
প্রতিটি জন্ম নিয়ে আসে
একটি সংগ্রামের ইতিহাস।
আমার জন্ম, আমার কান্না ছিলো
অলিখিত স্বাধীনতার দলিল।

ভাষা ও শহীদ

Karuna-acharji

করুণা আচার্য

একুশ এলে কবির কণ্ঠে
ভাষার গল্প শুনি,
একুশ এলে বর্ণমালার
উঠে জয়ধ্বনি।

একুশ এলে ভাইয়ের রক্ত
ঝরলো কেন জানি,
একুশ এলে মায়ের মুখে
ভাইয়ের কথা শুনি।

একুশ এলে শহীদ মিনার
সাজে তাজা ফুলে
একুশ এলে রাজ পথে ঐ
নকশা পাখা মেলে।

একুশ এলে সবাই শুনে
রক্ত ঝরার গান,
ভাষা ও শহীদ একুশকে তাই
করেছে মহান।

kobitay jagoron Thirteenth revelation

বিস্ফোরণ

দালান জাহান

ভাষা আটকে গেলে
স্বর্গ থেকে নেমে আসে মিনার্ভা মেঘ
এবং ঝাঁপিয়ে পড়ে রক্ত খেকো পাখিদের উপর।

ভাষা আটকে গেলে বুকের পাঁজরগুলো
তীক্ষ্ণ তীরের মতো ছুটে যায়
আবহমান সমুদ্রের দিকে।

ভাষা আটকে গেলে আটকে যায়
নিঃশ্বাসের উপর দাঁড়িয়ে থাকা
সুউচ্চ টাওয়ারগুলো।

ভাষা আটকে গেলে
মানুষ বোবা হয় না বিস্ফোরণ হয়।

আজ একুশে

jayanta-chattopadhyay

জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

একুশ আমার বুকের উপর বাজের মতন ঘা
একুশ আমার মনের ভেতর মাকড়সাদের পা।
একুশ আমায় বিদ্ধ করে,একুশ আমায় বাঁধে
একুশ এলেই বাংলা মা যে পাগলি কাঁদন কাঁদে।

আজ একুশে ঝরাপাতায় ফাগুন দিনের বেলা
সূর্যটা কি রং মেখেছে? ছিল আবির খেলা!
ভোরের পাখি গেয়েছিল বিষাদ মাখা সুর
আজ কী জ্বালা ধরিয়ে দিল দুরন্ত রোদ্দুর।

একুশ এলে পথের পাশে লালফুলেদের মেলা
কোন শহরের পথের উপর রক্তঝরার খেলা।
একটা শহর রাখতে পারে আগলে কি সেই স্মৃতি
জগৎজুড়ে সব দেশেতেই সবাই জানে রীতি।

মায়ের ভাষা শ্রেষ্ঠ ভাষা তুলনা কি হয়?
ঘরের ছেলের জীবনদানে পেয়েছে নিশ্চয়।
বাংলা মা যে গরবিনি বুকের পাঁজর দিয়ে
তার ছেলেরা করলো প্রমাণ মাকে ছেড়ে গিয়ে।

ছাড়লো কি আর রাখলো ধরে মায়ের নামের টান
বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে আছে বাংলা মায়ের প্রাণ।
তার ছেলেরা এমন দিনে ভাষার পূজো করে
ভাষা তো নয় আশা – আশা – আশাতে প্রাণ ভরে।

কোটি মানুষ শপথবাণী জড়িয়ে রাখে বুকে
মায়ের ভাষাই শ্রেষ্ঠ ভাষা গর্বে বলি সুখে।
আজ একুশে গর্বে বাজে ভাষার মাদল মনে
একদিকে সুখ,অন্যে বেদন বিচিত্র ঢেউ গোনে।

kobitay jagoron Thirteenth revelation

প্রগতি পত্র

অনিরুদ্ধ সুব্রত

মানুষকে আমার বেশ কঠিনই লেগেছে,
বার বার একই বিষয়ে ফেল করে
একই ক্লাসে থেকে গেছি, নম্বর বাড়েনি
বিবেচনায় উত্তীর্ণ হওয়ার কিছু প্রসঙ্গ ছিল
আমার তবু বিষয়টিতে পাশ করা হলো না,

মানুষকে আমার বেশ কঠিনই লেগেছে
পরীক্ষায় চিরকালই একটা ঠকবাজি
সময়টা নিয়ে তাড়িয়ে ফেরা বাজ
আমার ভালো লাগে নি এই মিথ্যের ইস্কুল
অথবা ঘন্টা বাজিয়ে দেওয়ার নাটক,

মানুষকে আমার বেশ কঠিনই লেগেছে
মন দিয়ে গাড়ি ঘোড়া চড়তে তো চাওয়া নয়
কঠিন অঙ্কটা কী সহজ ভুলে তুচ্ছ হয়
গুণ চিহ্ন দিয়ে যা, বিয়োগ দিয়েও তাই
আমার বিদ্যে হচ্ছে না বলে আনন্দ হয়েছে
মানুষকে বরাবর আমার বেশ কঠিনই লেগেছে ।

সবুজের মায়াময় সরস সংসার

Mostofa-Hayder

মোস্তফা হায়দার

প্রভাতের ডাকসাইডে আজ মাছেদের লাফালাফি,
সূর্য দাঁড়ানো এক চিকন সুঁইয়ের গা ঘেঁষে
মর্মবেদনার রঙিন শোকেসে হাসে মায়াবতী ভাস্কর্য!

বেলার হাতে খেলার মহোৎসব
তীর্যহীন শশির রশ্মি ভোগের উল্লাস
বেদনার সব ক্রোকারীজ ঝন ঝন করে উননহীনতায়।

ব্যথার কুন্ডুলি চুকে দিয়ে সম্মুখের যাত্রায়
দিনের সব রঙিন রঙ কে করেছি আলিঙ্গন!
যাত্রার নিয়তি একেকটা সুরের বংশীবাদক
কে বলবে, শোনোগো আলগা করা ঠোঁটের রিমঝিম।

শোধরানো মহামায়ায়
ফুল আর কলিদের বুর্জোয়া পতনে
ঘুম ভাঙে না জমিনের উর্বর চরাচর।

এই প্রভাতের কোল বালিশে কোনো ঘাসের আর না হোক ডানা মটকানো, আর না হোক পাতাভাঙন।
হোক জীবনছন্দের রঙপালিশ,
হোক সবুজের মায়াময় সরস সংসার।

চালতা ফুলের হাসি

অভিলাষ মাহমুদ

চা- চালতা ফুলের হাসি দেখে
জুড়ায় আমার প্রান
ল- লজ্জা পেয়ে মুখ লুকিয়ে
ছড়িয়ে দিলো ঘ্রান।
তা- তার হাসিটা বাজছে কানে
হয়ে বিজয় গান।
ফু- ফুলেরা জানে এই বিজয়ে
কাদের অবদান।
লে- লেখবো কী আর বিজয় দিনের
নতুন কোনো ছড়া?
র-রক্ত দিয়েই আমার এ দেশ
হয়েছিলো গড়া।

হা- হাসি আমি আর গাই গান
নাচিও ধিনাক না ধিন,
সি- সিয়ান আমরা বীর বাঙালী
দেশ করেছি স্বাধীন।

নিয়ন আলোয়

সাহিদা রহমান মুন্নী

আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন দেখি,
কখনো আকাশ ছুঁতে চাইনি,
নিবিড় মমতায় নিজেকে
চূর্ণ বিচূর্ণ করে ভালোবাসতে চেয়েছি,
কখনো ভালোবাসা চাইনি,

নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাসে সমস্ত অস্তিত্ব জুড়ে
তোমাকে চাওয়ার সুন্দর অপরাধে
অভিযুক্ত হতে চেয়েছি বারংবা
কখনো অভিযোগ করতে চাইনি,

তোমার কাঁধে মাথা রেখে
অসময়ের সকল অযৌক্তিক চাওয়াকে
রঙিন করতে চেয়েছি
রংধনুর স্বপ্নীল আবেশে,

কখনো সময় চাইনি
তোমার ব্যস্ততার রাজত্বে,
অল্প কথায় গল্প থেকে
উপন্যাসের পরিধি বেড়েছে
তোমাকে জানার বোঝার,

বুঝতে চেয়েছি তোমায়
নিজের চেয়েও বেশি,
কখনো বোঝাতে চাইনি
অবুঝ মনের সবুজ আকুতি,

পায়ে পায়ে সাক্ষর রাখতে চেয়েছি
তোমার মরুহৃদয়ের উচ্ছিষ্ট বেলাভূমিতে,
কখনো সাক্ষরিত হতে চাইনি
উদিত জীবনের বাস্তবতায়,

নিয়ন আলোয় খুঁজে নিতে চেয়েছি
সুদীপ্ত সূর্যালোক অঙ্কুরিত
ভালোবাসার একান্ত দাবীতে,,
কখনো সূর্য চাইনি নিয়ন আলোয়,,,,

kobitay jagoron Thirteenth revelation

অপেক্ষা

জেইনাল আবেদীন চৌধুরী

তুমি আসবে বলে সবুজ শাড়ী পড়ে, তোমার আগমনের প্রতিক্ষায় প্রহর গুনছি।
কপালে যে লাল টিপটা পড়েছি, তাও তোমার ভাল লাগে বলেই।
লম্বা হাতার ব্লাউজ তোমার বেশি পছন্দ, তাইতো শাড়ীর রংয়ে ম্যাচ করে পড়েছি।
ব্লাউজটার বয়স অনেক হলো, সেই যে তুমি কাপর টা এনে বলেছিলে, শমরিতা এই রংটায় তোমাকে দারুন মানাবে।

যে কয়দিন তুমি ছিলে প্রায় প্রতিদিন আমি ব্লাউজটা পড়ার চেষ্টা করতাম।
আমার সমস্ত সৌন্দর্য্য স্বার্থক তোমাকে খুশী করতে পারলেই যে।
তোমার কি মনে পড়ে! শিতের শেষ বিকেলে ব্যালকনীত বসে তুমি যখন,”ভালোবাসায় এতো সুখ বুঝিনি আগে,এই গানটি শুনতে”, আমার তখন কি যে ভালো লাগতো—
কি অবাক ব্যাপার একটা পাখি তখন উদাস কন্ঠে পিও কাহা পিও কাহা বলতো।

আজ বুঝতে পারি তোমার প্রথতিক্ষায় আমার জীবনের প্রহর কাটবে বলেই পাখীটির অমন আর্তনাদ ছিলো।
আচ্ছা তোমার কি একটি বারও আমার কথা মনে পড়ে না!
তোমার বুকে মুখ লুকিয়ে তোমার বুকের সাথে যখন মিশে থাকতাম, তুমি লম্বা ক্যাশে হাত বুলিয়ে বলতে, আমার ক্যাশের ঘ্রান তোমাকে পাগল করে দেয়!
তোমরা পুরুষ জাতটাই বোধ হয় বেশি স্বার্থপর, শুধু প্রয়োজনের সময় আমাদের হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসাকে উপভোগ করে থাকো।

কিন্তু আমরা পারি না এই হৃদয়ে যার ছবি আকাঁ তা মুছে ফেলতে।
আমাদের সরলতাই তোমাদের প্রতারনার শক্তি যোগায়।
আমি তোমায় অভিশাপ দিব না প্রিয়তম, কারন আমার ভালোবাসা তুমি,তাই আমার ভালোবাসা অমর হয়ে থাক এই প্রত্যাশায় আমার প্রতিক্ষা অনন্তকাল অবধি থাকবে।
আমি ব্যার্থ নারী হয়ে না স্বার্থক নারী রুপে তোমার ভালোবাসাকে বুকের ভিতর লালন করবো আমার অন্তীম নিঃস্বাষ পর্যন্ত্য।।।

Facebook Comments