kobitay jagoron jan-march 2022

যাদের লেখনীতে অলঙ্কিত এই সংখ্যাঃ

✍️ অনিরুদ্ধ সুব্রত
✍️ মুস্তাফিজুর রহমান
✍️ রুদ্র সাহাদাৎ
✍️ দালান জাহান
✍️ বাদল মেহেদী
✍️ শ্রীস্বদেশ সাধক সরকার
✍️ গোলাম রব্বানী টুপুল
✍️ রুদ্র বারি
✍️ ফরিদুজ্জামান
✍️ লিয়াকত বখতিয়ার
✍️ মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী
✍️ আমিনুল ইসলাম মামুন
✍️ লিয়াকত জোয়ার্দার
✍️ মোস্তফা হায়দার
✍️ করুণা আচার্য
✍️ জেইনাল আবেদীন চৌধুরী
✍️ অভিলাষ মাহমুদ
✍️ অমিত বড়ুয়া
✍️ শাহাদাত হোসেন
✍️ নাছরিন আক্তার
✍️ বিদ্যুৎ ভৌমিক

উচ্চারণ

✍️ অনিরুদ্ধ সুব্রত

আমরা তো প্রাণ-যোগ চেয়ে
মৃত আলোর প্রান্ত ছুঁতে
তুলে ধরেছিলাম অর্ধনমিত হাত
আমরা তো সন্ধান করেছিলাম অশ্রু-রাত

হেলান দেওয়ার মতো কাঁধ
সিঞ্চিত রসে বেঁচে ওঠা গাছ, বুকের ভিতর
আমরা তো চিনে নিয়েছিলাম
স্রোত-স্তব্ধ নদীর উপর স্থির কোনো

পুরনো নৌকো, নষ্ট বৈঠার পোহানো প্রহর
ততবার প্রাণ-যোগ চেয়ে চেয়ে
আমরা তো শুনেছিলাম প্রাণবন্ত সংবাদ
আমাদের নিজস্ব মাতৃভাষায়
কী হলো তার…

………………………………………………………………………………….

শীতকাল এসে গেছে

Mustafizur-Rahman
✍️ মুস্তাফিজুর রহমান

আবার একটা শীতকাল এসে গেছে
আবার ঝরিয়ে দিতে হবে
শরীর জুড়ে সাজানো সকল পাতা
খসখসে চামড়ার ভাঁজে
উত্তরে বাতাসের কনকনে ছেঁকা
সংসারের টানাপোড়েন বুনট
উলএ উলএ গিট-পড়ে শীতের রোদ্দুরে

আবার একটা শীতকাল এসে গেছে
আবার ভিজতে হবে শিশিরে
কুয়াশার ঘেরাটোপে বন্দি হবে
সকল দৃষ্টিপাত
আবছায়া সারি সারি বাড়িঘর
ফুলের বাগানগুলো আবার সেজে উঠবে
গাঁদা ডালিয়া আর চন্দ্রমল্লিকার রঙে

সারা বছর ধরে জমিয়ে রাখা রস
আবার উজাড় করে দেবে খেজুরগাছের হাঁড়ি
আর নলেনগুড়ের গন্ধে ম-ম করবে চারপাশ

আবার হৈ-হুল্লোর ভরে উঠবে পিকনিক
মেতে উঠবে ক্যামফায়রের আগুন ঘিরে
গানে-গানে নাচে-নাচে
হাতে হাত রেখে, কাঁধে কাঁধ ঘেঁষে

আবার ফিরে আসবে পরিযায়ী পাখির দল
দেশ-দেশান্তরের খবর নিয়ে
ঝাঁকে ঝাঁকে সার বেঁধে
আবার একটা শীতকাল এসে গেছে
জানাল দরজা খোলা বারণ
রাত্রি আঁধার নিঝুমে
আমি লেপ-কম্বলের তাপে
আবার ডুবে যাব দীর্ঘ শীতঘুমে …

………………………………………………………………………………….

kobitay jagoron jan-march 2022

ব্যর্থতার বৃত্তে আটকে আছি

✍️ রুদ্র সাহাদাৎ

ব্যর্থতার বৃত্তে চোখ ঘুরপাক খায় পা
চমকে যায় কান,গন্ধহীন নাক
ঘুরছে মন ঘুরছে শরীর ঘুরছে জীবন।

বদলে যায় স্থান কাল পাত্র
আমিতো সারা বৎসর রয়ে গেলাম ছাত্র।

বুঝি না জ্যামিতি বুঝি না বীজগণিত, পাটিগণিত
বুঝিনা এতো এতো জটিল হিসেব
দেখি শীতের চাদরে কুয়াশার ভিতর
হেঁটে যায় মুক্ত জীবনানন্দ।

শুনা হয় না আর কলের গান
জলের গানে ব্যস্ত সময়
ব্যর্থতার বৃত্তে আটকে আছি
সেই কবে থেকে জানা নেই কিচ্ছু
হাসতে ভুলে গেছে মুখমন্ডল
দিক হারিয়ে ক্লান্ত অন্ধ পথিক
ঠিকানা জানা নেই -কোন পথে যাই….

………………………………………………………………………………….

হে আমার অশ্রুস্নিগ্ধ দেশ

✍️ দালান জাহান

লাল রক্তে রঞ্জিত সবুজে
স্পর্ধায় মাথা তোলা লাল সূর্য
আশা ও ভালোবাসা নিয়ে
ভাগ্য বিড়ম্বিত মানুষের দিকে এগিয়ে যাও
এবং তুমি মহান ঈশ্বরের মতো চিরস্থায়ী হও।
দু- আঙুলে ভর দিয়ে ছুটে চলা
দু’বছরের হামাগুড়ি শিশু
কানে কানে বলে যায় তার স্বাধীনতার কথা
তোমার দীপ্তিমান বীর্যের কথা
হে আমার প্রিয় জননী
হে আমার অশ্রুস্নিগ্ধ দেশ
তোমার ধবল ভালোবাসায় ফুরিয়ে যাক
শিমুল পলাশের দুঃখ কষ্ট
ঘৃনা ও বেদনার চিত্রলিপিতে আঁকা
রাক্ষস জাতীয় ক্ষুধার্তের-ক্ষুধা
এবং তুমি মহান ঈশ্বরের মতো চিরস্থায়ী হও।

………………………………………………………………………………….

শীতে পরিযায়ী পাখি বনাম করোনা সংকট

✍️ বাদল মেহেদী

প্রতিবছর শীত এলে যেসব পরিযায়ী পাখি
বাংলাদেশের আড়িয়াল বিলে আসে
এবার তারা আসেনি
আমেরিকার ওহিওতে বসবাসরত আমার ছোটবোন
সেলিনা রহমান প্রতিবছর শীতে বাংলাদেশে আসে
এবছর তারা আসতে পারবে না
মাইনাস ফাইভ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা নিয়ে
তারা ওহিওতেই থেকে যাবে।

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন থেকে মুনির খান জানিয়েছে
তারাও ফেব্রুয়ারির একুশের বইমেলায় প্রতিবছরের মতো
এবার ঢাকা আসতে পারবে না।
কী এমন ঘটেছে যার কারণে পৃথিবীর সবাই
যার যার অবস্থানে স্থির হয়ে আছে এবার শীত মৌসুমে?
উত্তর একটাই — করোনা সংকট।

শীতে দ্বিগুণ শক্তিতে করোনা তার প্রসার ঘটাচ্ছে
মানুষকে অসহায় করে তুলছে
লকডাউনে সবাই যার যার অবস্থানে আটকে আছে।

তাহলে পরিযায়ী পাখি!
সেগুলোও কী লকডাউনের কবলে পড়েছে?
না। সেরকম ভাবার কারণ নেই
তবে পাখি বিশারদরা বলছেন,
পরিবেশদূষণ এবং পাখিদের অভয়ারণ্য ধ্বংসকারী
লোভী মানুষদের জন্যে
বাংলাদেশে শীতের পরিযায়ী পাখিদের আগমন কমে যাচ্ছে।

………………………………………………………………………………….

পরিচয়

Sodesh-sarkar
✍️ শ্রীস্বদেশ সাধক সরকার

যে দিন ভূমিষ্ট হল নবজাতক
পরিচয় হয় নি নিশ্চয়
তারপর,কত পাতা পরে ঝরে
নিত্য নতুন ডালি সাজে
নব কলেবরে নতুন পাতা
পরিচয় পরিচিতি নিয়ে
চেয়ে চেয়ে দেখে তোমার
বিস্ময়!

কি অপুর্ব তব জ্যোতি
বাহারি সম্ভাষণ,আতসবাজি
সাহিত্য সংস্কৃতি সভা মিটিং
মিছিল সব নিয়ে সংসার
গাছে পাতা গজায় বসন্ত
আগমন,তোমার পাতা ও
নতুন হয় সংখ্যায়।

ও দিকে ভিতরের সেই ব্ল্যাকবোর্ডটা
কাঁদে অবিরাম,ওর গায়ে কা্টে না
আঁচড় ,ওর ডাক্তার ,ওর
রোগিরা আতঙ্কে জড়সড়,কি এমন
রোগ সারে না

পরিচয়-পরিচিতি,ঘরমুখো কালো
অন্ধকার ,তমসাময় নতুন বছর
দুই শূন্য বাইশ~শূন্যের দোহায়
প্রজন্ম , কালো বিভীষিকা স্বপ্নের
মলিন বিছানা~নবজাতক
আজও হামাগুড়ির পাঠশালা
খুঁজে বেড়ায় ।

………………………………………………………………………………….

জীবনের অলিগলি

✍️ গোলাম রব্বানী টুপুল

হাঁড়ভাঙা বেদনায় পড়ে আছে মন
চিলেকোঠায় তুলে রাখো সোনালী স্বপন
জীবনের অলিগলি আঁধারের দীপাবলি
সুখের পরশ খোঁজে আজো প্রতিজন।

কেউ পায় কেউ চায় কেউ আশা ছাড়ে
কেউ ছুটে দাঁড়িয়েছে জীবনের পাড়ে
হিসেবের খেরোখাতা কাটা-ছেঁড়া সাদামাটা
স্মৃতির ভালুক তারে কামড়ায় ঘাঁড়ে।

লোকে বলে চিরদিনই সুখী কোন’জন
সুখ নাই সুখ নাই কাঁটা ভরা বন
কবি ভাবে এলোকেশে এ ধরাকে ভালোবেসে
যে জন সহজ ভারে সুখী সেই’জন।

kobitay jagoron jan-march 2022

………………………………………………………………………………….

বেকারের চিঠি’

✍️ রুদ্র বারি

আমি ভীষণ ক্ষুধার্ত!
উদর পুড়ে যাচ্ছে আমার-
আমার মগজ পুড়ে যাচ্ছে।
দারুণ ক্ষুধার্ত আমি।
স্বদর্পে ঘোষণা করছি-
বাংলাদেশ,
আমি তোমাকে গ্রাস করবো!

গোগ্রাসে গিলে ফেলবো তোমায়,
এবং তোমার চেতনা।
আমার সর্বঙ্গে ক্ষুধা….
ক্ষুধা…ক্ষুধা…এবং শুধুই ক্ষুধা।
আমি ভীষণ ক্ষুধার্ত।

তোমাকে আমি ভক্ষণ করবো;
গিলে ফেলবো প্রিয় বাংলাদেশ-
প্রিয় জন্মভূমি।

বাঘ যেমন হরিণ কে ভক্ষণ করে,
হাঙর যেমন ছোট মাছ গুলো গিলে ফেলে।
পানি যেমন গিলে ফেলে ছোট নৌকা,
লঞ্চ, ইস্টিমার, এমন কি বিশাল টাইটানিক।
আমিও তোমাকে ভক্ষণ করবো,
গিলে ফেলবো-
আমি ভয়ংকর রকম ক্ষুধার্ত।

আমার পেটে ভাত নেই,
আমার পাতিলে চাল নেই।
উননে নেই আগুন!
মাথার উপর ছাদ নেই।
আমার ঘরে ঘর নেই…
আমার বুকে প্রেম নেই….
এমনকি চাকরি নেই।

বরংবার হুশিয়ার করছি
মহামান্য রাষ্ট্র,
আমি তোমাকে ভক্ষণ করবো!
গোগ্রাসে গিলে ফেলবো তোমায়
এবং তোমার সিংহাসন।
আজ আমি ভীষণ ক্ষুধার্ত –

………………………………………………………………………………….

বাংলা ভাষার জয়

✍️ ফরিদুজ্জামান

পদ্মা যমুনা মেঘনার কূলে বাংলা ভাষার জয়
বিদেশী শাসক ছলে বলে কলে যুগে যুগে করে ক্ষয়।
বাঙালি ভায়েরা বাঙালি বোনেরা বাঁচাতে ভাষার মান
এই ব্রত নিয়ে যুগে যুগে দেয় শত প্রাণ বলিদান।
মুখ সেলাইয়ে এফোঁড় ওফোঁড় গ্রহণ লাগার কাল
উর্দুর চাপে বাংলা ভাষার বধ্যভূমির হাল।
সবুজ আঁচলে মরুর রুক্ষ মরণ বিষের কণা
ফুল-বাগিচায় উপনিবেশের কাল নাগিনীর ফণা।
মায়ের বচন ধরায় পচন উর্দু ভাষার বিষে
বাংলা মাতাকে দাসী বানাবার পাকিস্তানী সে শিসে।
ছাত্র সমাজ গর্জে ওঠায় বুকেতে চালায় গুলি
এমন করেই নিমিষে উড়েছে হাজার মাথার খুলি।
রফিক শফিক জব্বারসহ শত শহীদের দান
বুকের রক্তে পতাকা এনেছে এ বিশ্বের সম্মান।

পদ্মা যমুনা মেঘনার কূলে বাংলা ভাষার জয়
বিদেশী শাসক ছলে বলে কলে যুগে যুগে করে ক্ষয়।
বাঙালি ভায়েরা বাঙালি বোনেরা বাঁচাতে ভাষার মান
এই ব্রত নিয়ে যুগে যুগে দেয় শত প্রাণ বলিদান।
মুখ সেলাইয়ে এফোড় ওফোড় গ্রহণ লাগার কাল
উর্দুর চাপে বাংলা ভাষার বধ্যভূমির হাল
সবুজ আঁচলে মরুর রুক্ষ মরণ বিষের কণা
ফুল-বাগিচায় উপনিবেশের কাল নাগিনীর ফণা
মায়ের বচন ধরায় পচন উর্দু ভাষার বিষে
বাংলা মাতাকে দাসী বানাবার পাকিস্তানী সে শিসে
ছাত্র সমাজ গর্জে ওঠায় বুকেতে চালায় গুলি
এমন করেই নিমিষে উড়েছে হাজার মাথার খুলি।
রফিক শফিক জব্বারসহ শত শহীদের দান
বুকের রক্তে পতাকা এনেছে এ বিশ্বের সম্মান।

মুখ সেলাইয়ে এফোড় ওফোড় গ্রহণ লাগার কাল
উর্দুর চাপে বাংলা ভাষার বধ্যভূমির হাল
সবুজ আঁচলে মরুর রুক্ষ মরণ বিষের কণা
ফুল-বাগিচায় উপনিবেশের কাল নাগিনীর ফণা
মায়ের বচন ধরায় পচন উর্দু ভাষার বিষে
বাংলা মাতাকে দাসী বানাবার পাকিস্তানী সে শিসে
ছাত্র সমাজ গর্জে ওঠায় বুকেতে চালায় গুলি
এমন করেই নিমিষে উড়েছে হাজার মাথার খুলি।
রফিক শফিক জব্বারসহ শত শহীদের দান
বুকের রক্তে পতাকা এনেছে এ বিশ্বের সম্মান।

বাংলা আমার মাতৃভাষা বাংলা আমার জন্মভূমি।
গঙ্গা পদ্মা যাচ্ছে ব’য়ে, যাহার চরণ চুমি।
ব্রহ্মপুত্র গেয়ে বেড়ায়, যাহার পূণ্য-গাথা!
সেই-সে আমার জন্মভূমি, সেই-সে আমার মাতা!

আমার মায়ের সবুজ আঁচল মাঠে খেলায় দুল!
আমার মায়ের ফুল-বাগানে, ফুটছে কতই ফুল!
শত শত কবি যাহার গেয়ে গেছে গাথা!
সেই-সে আমার জন্মভূমি, সেই-সে আমার মাতা! ..

………………………………………………………………………………….

দুরন্ত প্রেমের কাব্য

✍️ লিয়াকত বখতিয়ার

প্রমত্ত যৌবনে
নিঃসঙ্গ থাকে না কেউ
এখনও তোমার রূপ দেহ-সৌষ্ঠব এবং সৌন্দর্য
জ্যোতিতে ভাস্কর
বেদনার উপাখ্যান ছেড়ে চলে এসো
সামাজিক পঙ্কিলতা ভুলে যাও
বর্তুল মুখেই হোক দুরন্ত প্রেমের কাব্য
সুবর্ণ সময়ে সব কথা বলে যাবো
হাতে- হাত রাখ চলো যাই
কাজরি মহোৎসবে

আমরা তো চিরকাল
ভাবে-সাবে অভাবেই থাকি
সিভিলিয়ানদের জন্য তো কিছুই থাকে না
তাদের জীবনে শুধু দৈন্যতা
ধূসর আকাশ

kobitay jagoron jan-march 2022

………………………………………………………………………………….

অভিমানী জোছনা লুকায় ওমের আস্তরণে

✍️ মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী

সন্ধ্যার পরক্ষণে-
ভগ্নহৃদয়ের শীত ধেয়ে আসে
মধ্যরাতের অভিমানী জ্যোৎস্না বেয়ে

মিলিত স্বরের শিশির কণাগুলো
স্বপ্ন ভাঙে নবনীতার-
একমুঠো রোদ্দর ছড়ায় আহ্লাদী খোঁপা

অথচ-
আমি সারারাত নির্ঘুম কাঁথার আস্তরণে
স্বপ্নকে পাহারা দিয়েছিলাম
রাত পোহাবার আগেই ধূসর ওম
আঘ্রাণের হিমবাতাসে মিলেমিশে হয়েছিল একাকার!

শীতার্ত প্রত্যুষে বিস্তীর্ণ মাঠের সোনালি ধান
আর কুহেলি পুষ্পরাজি ঝলমলে রোদ ছুঁয়ে
কেবল সূর্যের সাথে মুচকি হেসেছিল।

………………………………………………………………………………….

স্বাধীনতার গান

Aminul-Islam-Mamun
✍️ আমিনুল ইসলাম মামুন

রক্ত দিয়ে এনেছিলাম
সোনার স্বাধীনতা
ভাঙ্গিনিতো, রেখেছিলাম
মা’কে দেয়া কথা-

বিজয় নিয়েই ফিরবো ঘরে
রাখবো দেশের মান
একই সাথে গাইবো সবাই
স্বাধীনতার গান।

………………………………………………………………………………….

নব্যযুগের_কৃষ্ণ

✍️ লিয়াকত জোয়ার্দার

নিজের বউয়ের খোঁজ রাখো না পরের বউয়ের কদর
নব্যযুগের কৃষ্ণ তুমি ছদরুদ্দিন ছদর।
বিরাণ করে নিজের বাগান
পরের বাগে মারো চাগান
ভাগ্য তোমার বেজায় ভালো কান্তিখানা নধর।

ফাও খেলে তোর ঘা হবেরে যাসনে কানাই ভুলে
পড়লে ধরা আমজনতা কাপড় নেবে খুলে।

পড়বে যেদিন গ্যাঁড়াকলে
শান্তি যাবে রসাতলে
অপমানের কষাঘাতে উঠবে বিবেক দুলে।

আয় ফিরে আয় কানাইরে তুই আয়রে নিজের ঘরে
শান্তি-সুখের জোছনা আহা নিত্য যেথায় ঝরে।

সত্যি যেদিন কাটবেরে ঘার
দেখবি পাশে নেই কেহ তোর
আপনহারার মর্মজ্বালায় যাবি সেদিন মরে।

kobitay jagoron jan-march 2022

………………………………………………………………………………….

গোত্তা খাচ্ছে মিথ্যা আশ্বাস

Mostofa-Hayder
✍️মোস্তফা হায়দার

ভাত খেতে খেতে হঠাৎ চোখ যায় স্ক্রীনে
ডাক পড়ে রঙিন আয়নায়
খাওয়া শেষ, ঘোর কাটে না
মিলনের সূতোয় ভাসে বিপরীত মেরুর সূত্র!

পিতামাতার কাছ থেকে ছেলের বিদায়
প্রাণের শোধে নিতে অধিকার
ধর্ম অধর্মের প্লেট চুকিয়ে হাত ধুয়েছে স্বাধীনতায়
উৎসবের উৎসে গেঁথে গেছে পরাজয়ের চিহ্ন!

নাকের ডগায় শিশিরের ভাঁজরেখা
স্বপ্নের শোকেসে জড়ো বিষাদের নীল ঢেউ
রাত আর দিন চোখে চোখে সমান
বিশ্বাসের প্রত্যয়ে গোত্তা খাচ্ছে নাদানের মিথ্যা আশ্বাস!

মোশায়ারা শেষ মোবাকাবার রেহেল ছুঁয়ে
ডাঙায় ভাসিয়ে রক্তগঙার স্রোত!
আস্থার ফানুসে মোলাকাত ইচ্ছে বাতুলতার
ঘোর হারা ঢেউ খেলছে অন্ধ বিবেক!

………………………………………………………………………………….

ঘুম কাতুরে শহর

Karuna-acharji
✍️ করুণা আচার্য

আমরা সকলে শুয়ে আছি নিরালায়
শীতের কম্বল মোড়ানো বিছানায়,
স্বপ্নীল সোনালী চাঁদের আলোয়,
যৌবনের চতুর্দশী মৌনতায়।

তুচ্ছ তাচ্ছিল্যে ময়লা দুর্গন্ধময়
আবর্জনার কোল ঘেসে,
খোলা আকাশের নীচে,
বাস্তুহারা, বস্ত্রহারা, সর্বহারা
ক্ষুধার্ত, শীতার্ত পথিকের ঘুমের দৃশ্য
প্রতিনিয়ত শহরে দেখা যায়।

যে স্থির থাকতে পারেনা,
সে নির্ঘুম রাত জেগে
একা একা ওদের পাহারা দেয়,
নিজের অজান্তে চোখ মুছে,
এই করুণ দৃশ্য দেখে দেখে
শহর বন্দরে ঘুরে বেড়ায়, সেই একজোড়া চোখ।
সূর্য গেলে পাটে অন্ধকারে নেমে আসে
ক্লান্ত দেহে, ঝাঁকে ঝাঁকে, ঘুম ঘুম চোখে
নির্জন শহরের কোল ঘেসে নিচিন্তে ঢলে পড়ে।

সব ঋতুতে ওদের যায় দিন যেমন তেমন
কিন্তু শীত ও বর্ষাতে বড়ই পীড়া দেয় ,
তাদের নিরাপত্তার ভার নগর কর্তার,কিন্তু
দায়িত্ব দিয়ে অন্যের হাতে কর্তারা
ঘুমায় নিচিন্তে রাতে।
তাই বড় মমত্ববোধে
নেমে আসে এক সাহসী যোদ্ধা
শীত গ্রীস্মে যার পথ চলা থামে না
যার হৃদয় জুড়ে হু হু নীরব কান্না।

সেই দলে তুমি আমি কেউ নেই
কিন্তু একখানা অব্যবহার্য
গরম চাদর বা গরম জামা
তাদের গায়ে দিয়ে
আমরা মানবিক দায়িত্ব
পালন করতে পারি।
এরা যতই অবহেলিত হউক
প্রশান্তিতে নিদ্রা যাওয়ার অধিকারটুকু
তাদেরও আছে।

………………………………………………………………………………….

জাগরণের ডাক

✍️ জেইনাল আবেদীন চৌধুরী

যা দিয়েছেন মোদের স্রষ্টা রাখিনি তা যতনে,
তাইতো প্রকৃতি নিচ্ছে তার প্রতিশোধ আনমনে।
বৃক্ষ নিধন, সমুদ্র ভরাট, পাহাড় কেঁটে করছি পূরন নিজ নিজ অভিলাষ;

কি করে সহিবে প্রকৃতি তাইতো তর্জন গর্জনের এই আভাষ।
নদী বাঁধ দিয়ে স্রোতের ধারাকে করেছি হাতের মুঠোয় বন্দী,
ভেবে চলেছি জয় করে নিয়েছি এসব আমাদের ফন্দি।
ঐ নির্মল আকাশ আজিকে করেছি কলোষিত,
যন্ত্র আর সভ‍্যতার বিলাসিতায়
মেতে।

ভুল পথে চলিতে,
হোচট তো হবে খেতে;
জ্বলে নামিলে কাপড় ভিজে না তাই কি কভু হয়?
মিথ‍্যে এ আস্ফালন স্রষ্টাকে ভুলিলে কি করে ভাবি এ বিশ্ব কে করিবো জয়!
প্রার্থনা ওগো দয়াময় প্রভু দেখাও মোদের সরল পথ,
পথহারা আজ ভুলেছি মোরা তোমার নির্দেশিত পথ।

ক্ষমা করো মোদের আমরা পাঁপী-তাপী তোমার সৃষ্ট জীব,
জ্বালিয়ে দাও মোদের নিভু নিভু এই তেলহীন প্রদ্বীপ।
ধর্মকে নিয়ে আজ খুলেছে ব‍্যবসা একদল বক ধার্মিক,
ধর্মের চেয়ে যে মনুষ‍্যত্বের প্রয়োজন অধিক।

মানুষের জন‍্য ধর্মের প্রয়োজন,
মানুষই যদি না হলাম তবে ধর্মের আর কি প্রয়োজন?
তাইতো বলি সবার উপর মানুষ সত‍্য তাহার উপরে নাই,
আগে মানুষ হই তবেই ধর্মের সত‍্যতা খুঁজি ভাই।

………………………………………………………………………………….

তাদের নামে

Amit-Barua
✍️ অমিত বড়ুয়া

দেশ মাটি মা’র দুঃখে যাদের
আগুন জ্বলে বুকে
তারাই নিজের জীবন দিয়ে
শত্রুকে দেয় রুখে।

একাত্তরে যখন দেশে
বর্গিরা দেয় হানা
পুড়ে মেরে শেষ করে সব
ঘরবাড়ি আস্তানা
তখন আমার ভাই গেয়েছে
যুদ্ধজয়ের গান
শাসন শোষণ নিপীড়নের
করতে অবসান।

অস্ত্র হাতে নিয়েছিল
তুচ্ছ করে ভয়
লড়াই করে এনেছিল
একটি বড় জয়
যুদ্ধজয়ের সেই কাহিনী
অমর ও অক্ষয়
এই লড়াইতো শ্রেষ্ঠ লড়াই
ভুলে যাবার নয়।

সেই লড়াইয়ে হারিয়ে গেছে
আমার অনেক ভাই
প্রাণত্যাগী সেই ভাইদের
তুলনা তো নাই।
তাদের নামে বিজয়গাথা
আজও লিখে যাই
শত্রু দেখে লড়ে যাবার
শক্তি সাহস পাই।

………………………………………………………………………………….

আকাশে জমাই অভিমান

Shahadat-Hossain
✍️ শাহাদাত হোসেন

আমি তার বেওয়ারিশ ভাষা
আমি তার বেদনার রং
আমি তার অবহেলা কিংবা-
একপাশে পড়ে থাকা জানালার জং !

আমি তার কাব্যের হারানো ভাষা
আমি তার তাড়িয়ে দেওয়া প্রেম
আমি তার অভিমান ঘেষা চোখে
নিভৃতে খুঁজেছি একরাশ প্রেম !

আমি তার অযত্নে গড়া দিনলিপি
আমি তার শিরোনামহীন খাতা
ভুল আমি ভুল নিয়মেই যেনো
তবু খোঁজে যাই তারে রোজ অযথা !

তবু বলি সে আমার গভীরতা
কিংবা বিশালতার নীল খাম
নিশ্চুপ রাতে তবু উড়িয়ে ফানুশ
আকাশে জমাই কিছু অভিমান !

………………………………………………………………………………….

kobitay jagoron jan-march 2022

অণুগল্প

অতঃপর তাহারা

✍️ নাছরিন আক্তার

চারিদিকে গাঢ় অন্ধকার। ঝিঁঝিঁ পোকার চিৎকার সেই অন্ধকারকে আরো গাঢ় করে তুলেছে। ওরা তিনজন আরো কিছুক্ষণ গাঁজা টানে। তারপর সুপারভাইজার মোবারক বললে পাঁচ হাজার ট্যাকা কিন্তু আমি নিমু।

রশিদ আর মকবুল এক সাথে চোখ গোল গোল করে মোবারকের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে । মকবুল কিছু বলার আগেই ড্রাইভার রশিদ বলে উঠে – ঠিক আছে নিয়েন। তয় মোবাইলডা আমিই নিমু।এইরহম একখান মোবাইল কিনুনের সখ অনেক দিনের।

কন্ডাক্টর মকবুল খরখরে গলায় বললে – ওস্তাদ মোবাইল আপনি নিবেন! মোবারক ভাই ট্যাকা, তাইলে আমি,,, ?

তুই আবার কী? তোর যা নিওনের তাতো নিছসই। তুই একলাই তিনবার ভোগ করছস মাইয়াডারে। আবার তারে গলা টিপা মাইরা ফেলাইছস। মনে নাই মাইয়াডা তোরে মোবাইল, ট্যাকা সবই দিবার চাইছিলো। তহন তুমি তারে
কী কইছিলি!

–“এইসবে আমার দরকার নাই। আমার দরকার তোমারে। তোমার মতো সুন্দরীরে হাতের কাছে পাইয়া ছাইড়া দেওনের পোলা মকবুল না। “

পুলিশ ধরলে কিন্তু আগে ফাঁসবি তুই । একজনেরও যদি ফাঁসি অয় তাইলে হেইডা অইলি তোর।

মোবারক ধমকে উঠে -আরে ধূর বাল হইবো! লাশ এমুন জায়গায় ফালাইছি আজ রাইতেই শিয়ালে খাইয়া ফেলাইবো, কোন চিহ্নই থাকবো না।।

………………………………………………………………………………….

স্মৃতি অশরীরী

✍️ বিদ্যুৎ ভৌমিক

এই এক দিনাবসানে বাতাসে’- ও স্মৃতিরা প্রত্যন্ত অভিমানে সুচারু নিঃশব্দে একা হয়ে থাকার অসুখ নিয়ে কত যুগ এভাবে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ায় এ’ঘরের জানলায় ! কতকালের ছায়াময় দুঃখ গুলো জটিল সর্বনাশে স্তব্ধ এ ‘ভাবেই ,—— পাশ থেকে মৃত্যুর নীল রাস্তা বহু দূর দরদা পেরিয়ে সময়শূন্য ; ভীষণ অঘুশি !

মনের ভেতর এভাবেই ছেলেবেলার স্বপ্নগুলো কাছে চলে আসে দয়াপ্রার্থীর মত অনির্দিষ্ট সময়ে ! ভেতর থেকে অন্ধকারে দ্বিতীয় জগত কথা বলে ! আমিও ক্রমে ক্রমে শীতল হতে হতে ওদের আবছা থেকে স্পষ্ট হতে দেখি ,—– গভীরে অতলান্তে ঝড় ওঠে নানাবিধ নিঃশব্দে ! কে তুমি ?

এভাবেই প্রশ্ন আভরণ খুলে দেখা দেয় ; মঝেমধ্যে ! চাঁদ ভাসে ওপাশের ঝিলে ….. ! শরীর থেকে কবিতার মনে রাখা পংক্তি গুলো ব্যক্তিগত আবেগে বহুকালের যন্ত্রণা নিয়ে বলে ওঠে ; কি – রে কৃষ্ণেন্দু তু-ই ? ছেলেবেলার শরীর নিয়ে আমার সম্মুখে বাষ্প ঘেরা ওর শরীর ! তুই কি কৃষ্ণেন্দু , না অন্য কেউ ?

বিপরীতে ওর উত্তরহীন চোখ , কান , মুখ এবং ছোটখাটো আদুরে শরীর ; জীবিত না মৃত সেটাও অনুমানহীন  ! আমার প্রশ্ন উচ্চারণে এতকালের  নানাবিধ নিঃশব্দে অসীম জিজ্ঞাসা নিয়ে বিচ্ছেদ জ্বালায় দাঁডিয়ে !

# তখন আশেপাশের সময় অন্তরীক্ষের মতই ভীষণ নির্জন ! রাস্তার মধ্যে ওর সাথে আরও কয়েকজন ; ওরা অস্পষ্ট ভাসমান অচেনা ! কৃষ্ণেন্দুকে পাহারা দিচ্ছে ….. কথা শেষ হলে আবার নিষ্ঠুর অতীতে নিয়ে যাবে !

ছ’-সাত দিনের প্যারাটাইফয়েড এর জ্বরে  ব্যর্থ হয়েছিল ওর  শ্বাস প্রশ্বাস ! আমার দ্বিতীয় বেঞ্চে পাশে বসা কৃষ্ণেন্দু ! একি স্বপ্ন ; নাকি দর্পণে ভাসমান নীরব গত জন্মের শরীর নিয়ে আমাকে আবার আগের মতই আকাশ ছিঁড়ে সশরীরে সে !

# বৃষ্টির ভেতর ল্যাম্প পোস্টের আলো ভিজছিল ; ওখানে গোপন ছিল যাবতীয় পার্থিব ইতিহাস ! কবেকার সেই সমৃতি অন্তরে কান্নায় ভিজে ওঠে ,—— হাত এগিয়ে দিতেই কৃষ্ণেন্দু আমার থেকে পিছিয়ে যায় আরও এক হাত !

kobitay jagoron jan-march 2022

ওর যারা প্রহরী ছিল ; তারাও দীর্ঘ কালো ছায়ার মধ্যে পোশাকহীন নির্ঘুম একক নির্বাক ! কি রে কথা বল , কেমন আছিস নিঃশব্দ হীম নির্জনতায় ? যারা ওর আশেপাশে ছিল ; ওদের থেকে কৃষ্ণেন্দু জ্যোৎস্নার মত স্পষ্ট ও উজ্জ্বল ! অদ্ভুত এক বাতাস মেশা স্বপ্নের মতই সে এতকালের অদেখা রাস্তায় চোখের সামনে নানাবিধ আড়াল থেকে অকস্মাৎ দেখা দিল ! কী এক কঠিন স্তব্ধতা সমৃতির মধ্যে ব্যক্তিগত শরীর মেলে ধরে …….  !

#কোথাও নামহীন দুঃস্বপ্ন থেকে স্মৃতি স্মরণের পথ দেখা দেয় ! ওখানে মন ভিজে ওঠে কান্নায় ; এতদিন কোথায় ছিলি ? উত্তরহীন নীরবতায় দর্পণে জ্বলে ওঠে শ্মশানের চিতা ৷ কোথাও মৃত্যুর ছবি বুক ভাঙা নিঃশ্বাসে অভিমানে এতকাল থেকেছে ওষধি স্মৃতির ভেতর !

যা কৃষ্ণেন্দু , এবার তোকে ছুটি দিলাম ; আর মনে করার স্বপ্ন দেখবো না ! অদূরে ভাসছে কতকালের স্মৃতি , ….. অন্ধকারের পথ ধরে ওরা কৃষ্ণেন্দু’- কে নিয়ে পিছিয়ে যায় অন্য এক ম্যাকডেভিড মহাশূন্যে !!

………………………………………………………………………………….

Facebook Comments