kobitay jagoron april-june 2021

সম্পাদকীয়

kobitay jagoron april-june 2021

থমকে যাচ্ছে পৃথিবী থমকে যাচ্ছে জীবন ভয়াল করোনার বিষাক্ত ছোবলে,,, কতো চেষ্টা কতো আবিষ্কার সবি হেরে যাচ্ছে প্রকৃতির শাষনে,,, জানি না জাতী কবে মুক্তি পাবে এই অভিশাপ থেকে,,,,

প্রিয়জনের লাশের মিছিলে বেঁচে থাকার ইচ্ছে গুলো ক্রমশই নির্বাক হয়ে যাচ্ছে,,, জীবন চলছে শুধুই জীবনের নিয়মে স্পন্দন নেই কিছুতেই,,
তবুও দেখতে হবে স্বপ্ন জয় করতে হবে এই প্রতিকূলতা,যতক্ষন নিশ্বাস চলে,,, রংহীন বৈশাখ রং পাবে কোনো একদিন এই আশাটুকু জিইয়ে থাকুক অন্তরে অন্তর নিরন্তর,,

বছর ঘুরে আবার এলো পবিত্র মাহে রমজান পরিশুদ্ধতার এই মাসের একটা ছোট মূহুর্ত যেন নষ্ট না হয় নেকি হাসিল থেকে,, পবিত্র মাহে রমজানের পবিত্রতা ছুঁয়ে থাকুক মুসল্লীর হৃদয় জুড়ে,,, “কবিতায় জাগরণ” পরিবারের পক্ষ থেকে পবিত্র মাহে রমজানের শুভেচ্ছা সবাইকে—

লেখা দিয়ে পাশে থাকার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা সকলের প্রতি,,,জয় হোক কবিতার,জয় হোক মানবতার,,
উন্মুক্ত হোক ছন্দের সীমানা,,,

“কথা দিবেন কথা রাখার জন্য ভাঙার জন্য নয়”——

সম্পাদক
সাহিদা রহমান মুন্নী

যারা লিখেছেন এই সংখ্যার জন্যে

১। রুদ্র বারি
২। শ্রীস্বদেশ সাধক সরকার
৩। জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়
৪। জহির খান
৫। জেইনাল আবেদীন চৌধুরী
৬।মোহাম্মদ সারোয়ার হোসেন
৭।অভিলাষ মাহমুদ
৮। মোঃমুসফিকুর রহমান
৯। শাহজাহান মোহাম্মদ
১০। আমিনুল ইসলাম মামুন
১১। লিয়াকত জোয়ার্দার
১২। মুস্তাফিজুর রহমান
১৩। কাজী আনিসুল হক
১৪। অনিরুদ্ধ সুব্রত
১৫। রাকিব উদ্দিন আহমেদ
১৬। আখতারুল ইসলাম
১৭। মোস্তফা হায়দার
১৮। জসীম উদ্দীন মুহম্মদ
১৯। শরীফ আহমেদ
২০। মোঃনজরুল ইসলাম
২১। মোঃ রায়হান কাজী
২২। মিজান মনির
২৩। শাহাদাত হোসেন
২৪। মহাজিস মণ্ডল
২৫। সাহিদা রহমান মুন্নী

kobitay jagoron april-june 2021

“মে দিবস”

kobitay jagoron april-june 2021

রুদ্র বারি

কালের স্রোতে ভেসে আসে কাল;
পৃথিবীর বুকে রঙের বদল!
বদল হচ্ছে নিয়ম কানুন,
কালের স্রোতে ভাসে মে দিবস।

ফিরে তো আসে না নাতাশা- পাভেল!
আসে না রীবিন,আসে না খখল
কিবা পেলাগেয়া।

করুণ বাঁশির সুর আজো বাজে
ঐ কারখানায়;
কি দম্ভ তার!

হুংকার ছেড়ে ডাক দিয়ে কয়,
আয়রে অভাগা ভুখা মুজদুর
তোদের রক্তে গড়ব আবার
আরেক রক্ত সমুদ্দুর-
রক্ত দিয়ে পিয়াস মেটায়
মানব নামের দানব শকুন।

মরে গেছে আজ ফিওদার,সাশা!
কালের স্রোতে ভেসে আসে শুধু
মে দিবস আর রক্ত পতাকা।
পথে পথে নামে শ্রমিক মিছিল
রাঙা পোস্টারে ছেয়ে যায় পথ
নেই শুধু আজ বিপ্লবী গান,
বিদ্রোহী সুর, প্রতিবাদী ঝড়।

রক্ত পতাকা নত হয়ে দোলে
দামামা বাজেনা বজ্রনিনাদে।
শ্রমিক সভায় সভাপতি হয়
রক্তপিপাসু আরেক শুকুর!
শ্রমিকের ক্ষুণে ভাসে মে দিবস
লাঞ্ছিত হয় ভুখা মুজদুর।

গতর

kobitay jagoron april-june 2021

শ্রীস্বদেশ সাধক সরকার

সেই অনেককাল হতেই
তোমার সাথেই ঝুঝতে
ঝুঝতে এখনো চলেছি
পথ,ঘাট,মাঠ,প্রান্তর পার
হয়ে কলে কারখানায়
আজ ও নত করিনি মাথা
তথ্য প্রযুক্তির কাছে-

অনেক আগে সাহিত্যে
একটা কথা মাঝে মাঝে
পড়ত চোখে-গতরখাকি
খালভরা শব্দ সমষ্টি অথবা
বস্তির ঝগড়াতে~কথাটা
শুনতে খারাপ লাগলেও
সেই গতরখাকি কে তখন
বোঝে নি অনেকেই-

আসলে মেহনতের লড়াই
মজদুরির লড়াই,শ্রমের
লড়াই তো গতরের লড়াই-
সে গতর শোষণের বিরুদ্ধে
গর্জে উঠে হে মার্কেট হতে
শত সহস্র মানুষ-জেহাদ
ঘোষণা করে,লড়াই

রক্তের বিনিময়ে হাড়কাঠা শ্রমের
বিরুদ্ধে, শোষণ,বঞ্চনার
বিরুদ্ধে মেহনতি মানুষের স্বার্থে
ঐক্য আজও দেশ হতে
দেশান্তরে চির ভাস্বর রচে ।

গ -যদি গতির সূচক
ত -বনে তাকত
র- বলে রক্তেই শপথ

নেয় বারবার,বন্ধ
কর পুঁজির ফাটকা
বাজার,দাও শ্রমের
অধিকার,খেটে খাওয়া
মানুষের বাঁচার অধিকার
আট ঘন্টা কাজ,আট ঘন্টা
বিনোদন,আট ঘন্টা বিশ্রাম,
মানবতার মূল্যবোধে এ
পৃথিবী কখনো নয় পুঁজির
ফাটকা বাজার আর বেকারের
হাহাকার,নারীকে পণ্যের স্বীকার
লোভের লালসার পর্যটন
ব্যবসার ।

বিভাজনী নীতি,ধর্মের মেকি
অনুশাসন যতই করুক
অহংকার,এ পৃথিবী চায়
খাদ্য, বাসস্হান,শিক্ষা
স্বাস্হ্যের স্বাধিকার-
সবার মর্যাদা ,সবার কথা
বলার সমানিধকার-হে মার্কেটের
সে ইস্তেহার,আজ ও আমার
তোমার সবার –

গতর খাটার এ লড়াই
পৃথিবী দেখবে আবার
হইবেক নয়া ইতিহাস
আনিবেক নতুন জোয়ার ।

kobitay jagoron april-june 2021

পুলকপবন পঁচিশ

jayanta-chattopadhyay

জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

পুলকপবনে ঢেউ লেগে গেছে তপন তরণি বাইছে
কৃষ্ণচূড়ার ঘোর লাল দেখে চাঁপাফুল ফিরে চাইছে।

ভোরের পাখিরা ভৈরবী সুরে বাজিয়েছে বাঁশি মুদারায়
প্রবীণ কপোত ঘুমঘোর ভেঙে সাড়া দেয় ধীর উদারায়।

শাঁখ বাজে ওই নূপুরের ধ্বনি কান পেতে শুনি আসছে
উৎসব সুখে খুশিমুখ যত কচিকাঁচাদল ভাসছে।

যে কবি মহান সব ছুঁয়ে যান প্রতিদিন প্রতি ভাবনায়
তাঁকে ছাড়া মন আলম্বহীন যত আলো সব নিভে যায়।

কথা গান সুর ছন্দ আবেগ যাঁর কাছে ধার করি রোজ
অমৃতের মতো অক্ষর গেঁথে ঋষিকবি তার দেন খোঁজ।

প্রতিদিন তাঁর কথা জপ করি মন্ত্র মহান পেয়ে যাই
হিমালয় তিনি সমুদ্র তিনি তুলনা কোথায় খুঁজে পাই?

মহাকাল জাগে মহাত্রাস নিয়ে মহামারি বিষ ছড়িয়ে
কবির বাণীতে প্রাণ জেগে ওঠে সাহসেতে বুক ভরিয়ে।

মরণ-বিজয়ী গুরুকবি তিনি ভয়জয়কারী মহাপ্রাণ
কথা আর সুরে আখরে গাঁথেন সঞ্জীবনীর মহাদান।

আজ বৈশাখে বেলফুল ডাকে সবুজ পাতারা গাইছে
সুগন্ধবাহী বাতাসের স্রোত ধীরে সবদিক ছাইছে।

ধূপের ধোঁয়ায় যে মুখ সাজায় মৌন উদার দর্শন
বুকে সেই মুখ বাঁধিয়ে রেখেছি ঠাকুরকবির স্পর্শন।

যতদিন যায় টান কমে নাতো বেড়ে যায় তাঁর মূল্য
ভাবনার ধন অতুলরতন পাইনিতো তাঁর তুল্য।

দিন মাস যায় বছর ফুরায় কত যুগ পার সব বিলীন
তবু তুমি কবি নবরূপে রবি উজ্জ্বল করো নতুন দিন।

মধুময় তুমি অপার সাগর প্রতি কোশ-কলা তন্ত্রময়
কত রহস্য তোমার জীবনে ভাবলেই জাগে কী বিস্ময়!

কতজনা কত আঘাত করেছে ভাঙতে চেয়েছে তোমার মিথ
শেষে পরাজয় বরণ করেই প্রাণখুলে গায় তোমার গীত।

তিথি আর দিন ফিরে ফিরে আসে কতটুকু জানি লজ্জা পাই
তোমাকে জানার প্রয়াস তবুও শেষ হয় না তো জানতে চাই।

সোশ্যাল ওয়ার্ক

kobitay jagoron april-june 2021

জহির খান

রাত আর কতোই মমতা দেয় জড়িয়ে নেয় ঘুম
তবুও খুব করে ভালোবাসি তোকে- ভালোবাসি

স্তনের কুঁড়ি ফুটি ফুটি একটা ঘোর চুষে খাই
মায়ায় তোর কোমল ঠোঁটের স্মিত হাসি দেখি
গায়ে জড়িয়ে নেই গোলাপের সুগন্ধি কোলাহল

তুমিও খুব দেখো শরীরের আড়মোড়া মাতলামি
বিছানার চাদর বালিশও বুঝে নেয় যুগল চাহিদা
আহত ব্লাউজ ফেটে পড়ে বেড়িয়ে আসে ভোর
ডাষ্টবিনে পা বাড়ায় সোস্যাল ডেমোক্র্যাট ট্রেড

এখন
উঠো সোনা অনেক সকাল হলো অফিসে যাও
ভালো থেকো চুমু আসো ধরো বাজারের লিস্ট

“একটি গোলাপের যন্ত্রণা”

জেইনাল আবেদীন চৌধুরী

আমি গোলাপ, সৌন্দয্য আর সুগন্ধ আমার প্রতিটি অঙ্গে,
তোমাদের নিষ্ঠুরতায় আমার ভীষণ কষ্ট হয়,
আমার বুকের সৌন্দর্য্য আর সুগন্ধি তোমাদের জন্যে/

নিজেকে উজার করে,
বিলিয়ে দেই তোমাদের তরে;
তোমরা স্বার্থবাদী মানুষ এতেও তৃপ্ত নয়/

লজ্জায় আর ঘৃণায় আমি কষ্ট পাই তখন-
আমাকে সাঁজিয়ে তার মাঝে ধংসাত্মক বম্ব রাখো যখন/

কি অদ্ভুত তোমাদের ভালবাসা!
আমাকে ব্যবহার করে তোমাদের পশুত্ত্ব চরিতার্থ করার জন্য মিথ্যে অভিনয় কর যখন কারো সাথে, আমি নির্বাক হয়ে শুধু কষ্ট পাই/

সরলা নারী যখন তোমার পশুত্বের কাছে লজ্জার আবরণ ধরে রাখতে পারে না, তখন আমার সৌন্দর্য্যে আমার ঘৃনা হয়/
আবার যখন দেখি আমাকে অবলম্বন করে একটি পরিবারের মুখে খাবার জুটছে, তখন গর্বিত বোধ করি/

যখন বাগানে ফুঁটে প্রকৃতির শুভা বর্ধন করি, সুন্দর কীট-পতঙ্গেরা আমার বুকের মধু পান করে আমার বংশ বিস্তারে সহয়তা করে- তখন স্বার্থক মনে হয় আমার জন্ম//
আমি জন্মে হয়েছি তোমাদের জন্য ধন্য//

kobitay jagoron april-june 2021

জীবনের হিসাব

kobitay jagoron april-june 2021

মোহাম্মদ সারোয়ার হোসেন

পাওয়া না পাওয়ার হিসাব সারাজীবন গেলে কষে,
হতাশা আর বিষন্নতায় হাতটা শুধু গেলে ঘষে।
তোমার চেয়ে যারা ভালো আছে তাদের কথা না ভেবে,
যারা ভালো নেই তোমার চেয়ে ,ভেবেছ কি তাদের কথা কবে?

ভালো-মন্দ রাখার মালিক গাফুরুর রাহিম,
খন্ডাতে পারবেনা তা দুনিয়ার কোন হাকিম।
রিযিকদাতার উপর রাখো তুমি বিশ্বাস,
যতক্ষণ তোমার দেহে আছে নিঃশ্বাস।

জীবনে যা পেয়েছো তাতেই থাকো তুষ্ট,
মরীচিকার পিছে ঘুরে পেয়োনা তুমি কষ্ট।
মায়ের বুকের দুধে তোমার মেরুদন্ড হল শক্ত,
জীবনচলার পথে কখনো হয়োনা পথ ভ্রষ্ট।

অন্যের মঙ্গলের কথা যে ভাবে সেই হয় প্রকৃত সুখী,
নিজের স্বার্থ সুখের কথা ভেবে হয়োনা চিরদুখী।
আত্মকেন্দ্রিকতা ও স্বার্থপরতা ত্যাগ করে হও তুমি উদার,
অন্যের ভালো ও কল্যাণে নিজেকে সপে দিয়ে হও তুমি সবার।

মনের উদারতায় তুমি হও আরও মহৎ,
তবেই না তোমায় মনে রাখবে এ জগত।
সুখ, সুখ করে যত বেশি তুমি ভাববে,
দুঃখ যন্ত্রণা হতাশায় ততবেশি তুমি কাঁদবে।

কুম্ভ কর্ণ বিশ্ব বিবেক!

অভিলাষ মাহমুদ

নষ্ট হয়ে গেছে পৃথিবীর সব সফেদ সুন্দর,
নেই অ্যাডাম- ইভের ভালোবাসা।

সুর্যের প্রখর তেজে জ্বলে তামাটে রঙ ধারণ করেছে আমার কোমল গোলাপী হৃদয়।
ছন্দ হারিয়ে উলোট পালোট হয়ে গেছে কবিতারা।

ইজরায়েলী বর্বর হামলায় মরেছে শিশু, যুবক, বৃদ্ধ, পুরুষ – নারী।
শ্মশান পাড়া পরিনত হয়েছিলো গাজা,

লাশের মিছিল থেকে ভেসে আসা অসহায় আর্তনাদও ফিরে যায়।
… কুম্ভ কর্ণ বিশ্ব বিবেক!

সহদরের খুন নিয়ে হলি খেলে সহদর।
অবলা হরিণী শাবকের উপর ঝাপড়ে পড়ে ক্ষুধার্ত শিকারী ব্যাঘ্র!

উলঙ্গ নৃত্যের আনন্দে মাতে শকুনী- হায়েনাগুলো।
পৃথীবিকে নগ্ন করে খেলছে বিবেকহীন ক্ষমতা।

kobitay jagoron april-june 2021

নববর্ষ

মোঃমুসফিকুর রহমান

আসিলো নতুন বছর
খোলে দাও দ্বার
পুরাতন দূঃখ বেদনা গ্লানি
ভুলে যাও এবার।

নব বর্ষের শুভেচ্ছা তোমার লাগি
ফোটালাম কেতকি কেয়া নিশীথ জাগি।

আবার নতুনের সাথে, নতুন এক হাতে
জ্বেলে দিই বারুদ, সত্যের আঘাতে।
আলোকিত ধরা, কেটে যাক জড়া-
নতুন করে দেখি প্রনয় সিক্ত প্রভাতে।

শিউলি মালা খানি, নাও এসে
অমীয় সূধা, ভেলা হয়ে ভাসে
কালের গঙ্গায় তব দেশে দেশে।
প্রতিটা দিন প্রতিটা রাত্রি
যেন অনন্ত পথের যাত্রি
সুন্দর সাবলিল হউক ধরিত্রি।

প্রতিটা ক্ষন যাপিত জীবন
সুখ ময় হোক এমন
ফুলের মত প্রস্ফুটিত, সুবাসিত হোক কানন।

আসিলো নতুন বছর, হাসিলো বসন্ত ঝড়
রোমাঞ্চিত সিন্ধু, এক বিন্দুর ঘর
চলে গেছে যারা, দিন তারিখের ধারা
দেখেনি সাজানো শহরএতো সুন্দর,

এ্যাভ্যুনোর মোরে, প্রেম কাকাতোয়া ঘুরে
শত শত বাঁশির সুর যায় উড়ে
দুরে যে রহিলো, সে চির দিনই রহিলো দুরে।
পারিলো না কভু কছে আসিবারে
অতীত মুক্তি দিলো নাকো তারে।

আমরাতো ছাই বছর বছর জন্ম লই

আতুর ঘরে দুচোঁখ মেলে, এক নব জাতক হই।
কাধে লয়ে ঘুরি উপরে উঠার মই
যার কাছে কহিবার নহে
তার কাছেই সব কথা কই।
সব ব্যথা বই একাকি বসে বসে নিশ্চয়ই।

অথবা গুলিয়ে ফেলি
অতীত ভবিষ্যৎ বর্তমানে
ফোলিয়ে তুলি, বেচে থাকার যতো শর্ত এনে।

ফোটে যায় বেলুন, অভাবের ঘুন
ছড়িয়ে পড়ে, চিৎকার দিয়ে বলি খুন হলো খুন।
দু চোখে তার অ-প্রাপ্তির আগুন
পান্তা ফোড়ালো যার আনিতে নুন,
সে ও উড়ালো কেতন নতুন করে –
কহিলো একটু ভালোবাসুন।

একটু কাছে আসুন
অকারনে না হয় আজ একটু
মানুষের মতো করে হাসুন।
নতুন বছর কতো কিছু দিবে তোমাদের তরে
দামী গাড়ি গহনার বাক্স বাগান বাড়ি দিবে পরে।

আমাদের দিবে ক্ষুধা দারিদ্য
কড়াতের মতো শীত ঠান্ডা দিবে হতাদরে।
দিবে লজ্জা, বস্রহীন মেঘ,
কামনা উড়ে যাবে ঝড়ে।

পথের ধোলা সম
কতগুলি তারিখের লাল দাগ
কে নিবে,ওরে কে নিবে
ছুটি হীন ব্যমুর কারখানায়
মৃত্যু হলেই তব অনন্ত ছুটি পাবে।

স্মৃতীর পটকা ফোটিয়ে,
নব বর্ষ পালন হবে চুটিয়ে
না পাওয়া মাতাল বসন্ত রবে হাত গুটিয়ে।

প্রহরের জ্বালা, কোন শহরের জ্বালা
মিলে হলো মিলন মুক্তার মালা
হাতে ধরাধরি, সাথে জড়াজড়ি, লতা পাতা
কাজের কথা কহিতে এসে
কহিলাম আজে বাজে কথা।

পথে মানুষ মরিছে,
মরুক, নাই কোন মাথা ব্যথা।
নব বর্ষ পালন হবে, হবেই যথা তথা।
কি তার অঙ্গিকার? সঙ্গি কার?
সব মিলে হলো একাকার।

পেলো না দেখা যার বাইনোকুলারে
সে কেমন আত্ম ভুলারে
কাড়িয়া খাইতে জানে না!

দোল দোল দোলনা দোলা রে
পাজামা, পাঞ্জাবি কোর্তা খোলা রে।
নব বর্ষ আসে, নব বর্ষ যায়
বারোটি মাসের ফাদে বাধিলো আমায়।

আমি চাহি তাহারে, সে আমারে নাহি চায়
তাতে কি আসে যায়, ভুল তার, সব আমার দায়।
আমি সহিতে পারি, আমি বহিতে পারি
আমি চালাতে পারি সময়ের গাড়ি।

আমার দেহ, দিন পঞ্জি ছেড়া ক্যালেন্ডার
কবরে পড়ে আছে, ছিন্ন নব বর্ষের হার।
শুক্র শনি রবির মেরুদন্ড খানা
সোজা দাড়াতে যতো মানা।
তবু আড়াল আবডালে
নববর্ষের ছায়া পড়ে
মায়া ঝড়ে,
কবেকার পুরুনো রৌদ্রেরা উল্লাস করে।

kobitay jagoron april-june 2021

একটি শিশু

kobitay jagoron april-june 2021

শাহজাহান মোহাম্মদ

আমি যখন স্কুলে যাই
বই খাতা হাতে
বন্ধু আমার ইট ভাঙে
দুখিনী মায়ের সাথে।

আমি যখন গাড়িতে ঘুরি
মা বাবাকে নিয়ে
বন্ধু আমার গাড়ি মোছে
গায়ের ঘাম দিয়ে।

আমি যখন খেলাধুলায়
খোলা মাঠে ঘাটে
বন্ধু আমার রেস্তোরাতে
ফাই-ফরমাশ খাটে।

আমি যখন শিশু পার্কে
ভাই বোনের মাঝে
বন্ধু আমার পথে পথে
ফুল বিক্রির কাজে।

আমি যখন খাবার টেবিলে
কোরমা পোলাও খাই
ডাল ভাত শুকনো রুটিও
বন্ধুর থালায় নাই।

বৈশাখী ঝড়

আমিনুল ইসলাম মামুন

বৈশাখী ঝড়
ধূলা-বালি খড়
সব উড়ে যায়
কাঁচা কুঁড়ে ঘর
কাঁপে থরথর
হায় হায় হায়!

বাতাস কি বেগবান
নেই কোন বাম-ডান
ঘূর্ণিপাকে
চারদিকে নেই আলো
আকাশটা ঘন কালো
গুম্গুম্ ডাকে।

গাছ পালা ভেঙ্গে চুরে
চেয়ে দেখ ঐ দূরে
পড়ে আছে কত!
এ পৃথিবী যার দান
গাও শুধু তার গান
মনে পড়ে যত।

বোশেখ এলে

kobitay jagoron april-june 2021

লিয়াকত জোয়ার্দার

আদু মামার কাণ্ড দেখে হরেকরকম ভাণ্ড দেখে
কেউবা হাসে কেউবা কাশে কেউবা বলে পাগল
বোশেখ এলেই জমায় মেলা তালবাহারি লাঠিখেলা
ঘোড়ার দৌঁড় আর ষাঁড়ের লড়াই শেষে জবাই ছাগল।

বিহানবেলা পান্তাভাতে ইলিশভাজা একই সাথে
কাঁচামরিচ পেঁয়াজ দিয়ে খাচ্ছে সবাই মিলে
মন কেড়ে নেয় বাউল গানে ছুটছে সবাই সুরের টানে
নেই ভেদাভেদ কারো সাথে শান্তিভরা দিলে।

মাঠের কোণে নাগর দোলা খুশির চোটে আত্মভোলা
কেউবা চড়ে কেউবা দেখে পাচ্ছে ভীষণ মজা
ধামাভরা মুড়কি মুড়ি নানা রঙের বেলুন চুড়ি
খেলনা পুতুল পুঁতির মালা নিচ্ছে কিনে গজা।

হালখাতাটা বসছে খুলে পাওনা টাকা নিচ্ছে তুলে
চোখ ধাঁধানো দোকানগুলোয় জ্বলছে আলোকমালা
হচ্ছে নাটক রাতের বেলা চলছে ফাঁকে যাদুর খেলা
বাশির সুর আর ঢোলের তালে কানটা ঝালাপালা।

কথা ছিল তুমি আসবে

Mustafizur-Rahman

মুস্তাফিজুর রহমান

কথা ছিল, দেখা হবে
কথা ছিল, তুমি ঠিক আসবে

তবে পৃথিবীর এই কঠিন অসুখে, ভাবিনি –
ভাবিনি এই মৃত্যুর মিছিলে দেখা হবে
ভাবিনি কর্মহীন জনতার ভিড়ে
এই লক্-ডাউন এ…

কোনো দিন ভাবিনি
এ খাদ্য সংকটে, অর্থনৈতিক মন্দায়
অভাবে, এ অসহায়
সম্পর্কের আনাচে-কানাচে
শুধুই ঘেরাটোপ

কোনো দিন ভাবিনি এ মহামারী
কোনো দিন ভাবিনি এই মারণ-ভাইরাস
উপেক্ষা করে তুমি আসবে

কথা ছিল, তুমি আসবে
কিন্তু, কোনো দিন ভাবিনি এ স্তব্ধতায়
এই ভাবে দূরত্ব বোজায় রেখে
মাক্সের নীচে গোলাপী ঠোঁটে
চেনা হাসি ঢেকে

তুমি আসবে …

kobitay jagoron april-june 2021

বসন্ত খবর

কাজী আনিসুল হক

ঘুম ভেঙেছে খুব সকালে
দিনটা যেন কেমন কেমন!
রোদ উঠেছে মিষ্টি বাতাসে
ভালোবাসা টা যেমন-তেমন।

ফুল ফুটেছে পথ ও মোড়ে
রঙ বে-রঙে সেজেছে নগর।
ফাগুন এলো গুনগুনিয়ে
প্রকৃতি পাঠে বসন্ত খবর।

খোঁপায় গাঁদা হাতে গোলাপ
জোড়ায় জোড়ায় নারী-পুরুষ।
নীল আকাশে উড়ছে পাখি
সুখের খোঁজে ঘুরছে মানুষ…

অনিরুদ্ধ সুব্রত এর তিনটি কবিতা

Oniruddo-subroto

সোনালী নদী

প্লাবিত করে নদী, বিপদসীমা অতিক্রান্ত জলে
তার মেঘ আছে, বৃষ্টি আছে, নিজস্ব স্রোতও
উপকূলের কী আছে ? ঘিঞ্জি ঘর দোর, মশা মাছি
নদীর মুখাপেক্ষি ঘন সেই মানুষ, দু’একটা উন্মাদও।

গজলের সুর

লাল না,আশ্চর্য মৃত লাল, ভিজে চপচপে আকাশের গা
উপুড় হয়ে শুয়ে তামা-পিঠ, কবেকার ঝলসানো চামড়া
সুন্দরের আঁচল ভরা কালি,ধীরে ধীরে জলসিঁড়িতে তার পা
না,বড় দগদগে,খণ্ড চরাচরে অখণ্ড সোনা, জ্বলজ্বলে যন্ত্রণা ।

মৃত্যুর মাটি

সারি সারি কবর,খাতার শরীর
চাপা চাপা শরীর,মৃত মৃত কবিতার
মদের ঘন নেশায় রাত্রি পাহারাদার
জেগে,পরবর্তী এন্তেকালের খবর…

অপেক্ষা

রাকিব উদ্দিন আহমেদ

চুপটি করে শতদলের মাঝে বসে আছে শতরুপা
চোখে মুখে আজ তার বিরক্তির চাহনি
প্রিয়তম আসবে বলে বসে আছে সে কবে হতে
সময়ের স্রোত তো পেরিয়েই চলেছে কিন্তু তার দেখা মেলে কই?
কত উত্থান-পতন পেরিয়ে আজ তাদের দেখা বহুকাল পরে,
সময়ের পরিক্রমা তাদের ব্যবধান দীর্ঘায়িত করলেও আত্মার মিলন ভাঙতে পেরেছে কী!
এত শত ভাবতে ভাবতে আক্ষেপের পালাই যে দীর্ঘায়িত হয় ভালবাসি বলতে পারেনি বলে!
সে কী এখনও আমার জন্য পথ আগলে দাঁড়িয়ে আছে?
নাকি সময়ের স্রোতে হয়ে গেছে অন্য কারও!
আসি আসি করে তার কী আর আসাই হবে না?

অচেনা দুজন

আখতারুল ইসলাম

আমি আঁধার আর তুমি আলো
অথবা তুমি আঁধার আমি আলো
পরষ্পর খোঁজে পেতাম চিনতাম।
এখন আমাদের ভেতরে বাহিরে
পুরোটাই অদ্ভুত এক অন্ধকার
চিনতে পারি না কেউ আর।

দুজনের চোখে একই আলো আঁধার
সৌন্দর্য ডুবে যেন আলো আঁধারের মাঝে
তুমি ও দেখো না আমি দেখি না।
এ ভাবেই হাঁটছি হাজার বছর
দুজনার দুটি মন পৌঁছায়নি হৃদয়
দুয়ারের স্বপ্নের চৌখাটে।

মাঝে মাঝে মনে হয়
এ যেন অচেনা অপরিচিত দুটি মন।
আলো আঁধারের দোলা চলে
তুমি আলো আমি আঁধার
আমি আলো তুমি আঁধার।

kobitay jagoron april-june 2021

বিষাক্ততার গিলাপে আঁকা আমার মুখ

মোস্তফা হায়দার

জোছনার কাছে নিরবে হাত পেতেছি বহুবার
কুয়াশার আস্তরে ঢাকা পড়েছে সে সৃষ্টি
দিনের সবটুকু ক্ষোভ জড়ো, বেহায়া রাতের
ভেঙে দিতে ইচ্ছে ফানুসের জমাট দৃষ্টি।

কবুতরের পাখায় বাজে মিহি বাতাসের সুর
নেড়িকুকুরের পাছা ভাঙছে দেখে হাসছে সবুজ
সাঁপে ব্যাঙ ধরা খেলার মতো মৃত্যুরা গায় গান
চলন্ত বাইকের নিচে শহীদ হয় মধ্যরাতের অবুঝ!

ভরা জোছনার পিঠে চড়ে ভাঙছি তোমার সুখ
বিষাক্ততার গিলাপে আঁকা পড়ছে আমার মুখ!
জলের ঢেউ এর মতো বাড়ছে উতাল পাতাল ঢেউ
অবুঝের কোলে বসে প্রশ্নরা করবে না ঘেউ ঘেউ!

বিবেকের সাদা কাপনে ইচ্ছেরা একেকটা জুয়াড়ি
দানবক্রিয়ার শোকেসে রাখা হবে সব পাতা আড়ি!

kobitay jagoron april-june 2021

আমি চৈত্র সংক্রান্তির কথা ভাবি না

kobitay jagoron april-june 2021

জসীম উদ্দীন মুহম্মদ

আমি চৈত্র সংক্রান্তির কথা ভাবি না, যে আলো অথবা অন্ধকার চৈত্রচিতে পাড়ি জমিয়েছে অনন্তর লোক,
সে যেভাবে ভালো আছে, সেভাবেই ভালো থাক;
আমি কেবল ভাবি আগামীকাল প্রাণের পহেলা বৈশাখ!

ইউশা-ঐশী, আরশির তিন জোড়া হাত আমার হাতে..
মঙ্গল কাব্যের প্রাণের উচ্ছ্বাস মাখিয়ে নেবো, নববর্ষের
খেতাব দিবো, বন্ধু-স্বজনদের কাছ থেকে খেতাব নেবো,
একটার পর একটা কবিতা আবৃত্তির জোয়ারে ভাসতে
থাকবো, ভাসতেই থাকবো, অথচ এখন এসব কী শুনি!

আমি বিশ্বাস করি, সংস্কৃতি একদিনে তৈরি হয় না;
যে কেউ ইচ্ছে করলেই তা করতে পারেন না; সাগরের
ফেনা জমে জমে যেমনিভাবে পাহাড় হয়, পর্বত হয় –
সংস্কৃতিও তেমনি; প্রাণের কল্লোল কেউ থামিয়ে রাখতে
পারে না, যেমন থামিয়ে রাখতে পারে না জলপ্রপাত!

রূপান্তরিত উৎসমুখের মতো আমিও এখন খেই হারা,
অনেক সাধ্য সাধনা করে যদিও অনেক সময় উপমার
সাহায্য নিয়ে কবিতার ভাব আড়াল করতে পারি;
তেমনি কি আড়াল করতে পারি জরায়ুর উৎসমুখ..,
আড়াল করতে কি পারি বাঙালির পহেলা বৈশাখ?

পালে হাওয়া লাগা নৌকার মতোন সেও ফিরে আসে
শেকড়ের টানে, অলৌকিক অমৃতের ছোঁয়া দিয়ে দোলা
দেয় আমাদের সকল প্রাণে..
আবারও বলি, আমি চৈত্র সংক্রান্তির কথা ভাবি না;
যে চলে গেছে; সে সুখে থাক; আমি কেবল ভাবি আমার
প্রাণের স্পন্দন পহেলা বৈশাখ!!

kobitay jagoron april-june 2021

উত্তপ্ত নিঃশ্বাস

শরীফ আহমেদ

আগুনের মতো নিসর্গ এখানে
আশ্চর্য তাপে পুড়ছে মন

বিষন্ন কুয়াশার মতো উড়ছে ধূলো
উত্তপ্ত নিঃশ্বাস
মনে পড়ে সেই বাবলাগাছের পথ ধরে নদীর শীতল জল
ঘোরলাগা বৈশাখের হাহাকারে…

অনেক জনমের পর
অনেক রাতের অগুণতি দুঃস্বপ্ন যখন কাছে আসে
পৃথিবীর বুকে নরক আসে নেমে,

বৈশাখের শুকনো নদীর মতো
বঞ্চনার আগুনে পোড়ে মন
যন্ত্রণার বিভীষিকায়
ধূলোর ঝড় উঠে…

“নববর্ষ”

মোঃনজরুল ইসলাম

নববর্ষ মানে
বাংলার কৃষ্টি কালচার,
স্বরণ করে বরণ করার আয়োজক
মুঘল সম্রাট আকবর।

ইলিশ ভাজি পান্তা
পেঁয়াজ কুচি লঙ্কা
বাংলা বর্ণ মাখানো শাড়ি
পুষ্পে মোড়ানো যুবতী নারী
রমনার বট মূলে ঢাক ঢোলে বাড়ি
জাত পাত ভুলে মোরা এক সারি।

ভুলে যেয়ে বিরহ যাতনা
করি সবে আলোচনা
নব রূপে নব ভাবনা

নববর্ষের শুভাগমন

Junaid-khan-pranto

মোঃ রায়হান কাজী

নববর্ষের শুভাগমনে মন আনন্দে ভরে,
এসোনা আলিঙ্গন করি তোমায় ছন্দ বন্ধনে।
ঘুড়ি কাটাকাটির আর মজার খেলা খেলে,
নতুন বছরকে বরণ করি লোকসংগীতের সাথে।

অপরূপা বসুন্ধরার সাজসজ্জা দেখে,
হৃদয়ে আমার সুখের শিহরণ জাগে।
জীর্ণতা দূরে ঠেলে মুক্ত প্রাঙ্গণে গিয়ে,
অরুণ আলোয় পুলকিত হয় নতুনত্বের সাথে।

বৈশাখে তুমি দিলে ধরা উৎসবের আমেজে,
আম কাঁঠালের গন্ধ ভাসে হাওয়ার সাথে।
বিত্তবানের চিত্র হয়ে নানা আয়োজন চোখে পড়ে,
পান্তা ইলিশ সিদল শুঁটকি ভর্তার বাহারি সাঁজে।

রঙবেরঙে শাড়ী আর পাঞ্জাবি পড়ে,
শিশু কিশোর যুবতীরা মেলার দিকে ছুটে।
সকল বিভেদ বিতন্ডা ভুলবো সবাই
আনন্দগণ এই মুহূর্তে এসে এক হয়ে।

অকুল নদীর স্রোতের টানে গাঁ ভাসিয়ে,
যাচ্ছে কেঁটে দিনগুলো আঙ্গুলের ফাঁকে।
হারিয়ে যাওয়া বৈশাখ আসবে না ফিরে,
মনের কোণে থাকবে কী স্মৃতি স্মারক হয়?

kobitay jagoron april-june 2021

মিজান মনির এর তিনটি কবিতা

Mizan-Monir

সংস্কৃতি

সময়ের স্রোত নিরবধি, নিরন্তর
কালের পরিক্রমায় যুগান্তর সময়ের আলো
বাঙালির ঐতিহ্য আপন সংস্কৃতি।

ধর্ম বর্ণ গোত্র উৎসবে একাকার-
ঘরে ঘরে, মনের সাথে মনের
প্রাণের সাথে প্রাণের, সৌহার্দ্যরে বন্ধন
অনন্ত আনন্দের স্রোতধারায়
ভরে উঠুক প্রাণের উচ্ছ্বাস উদ্দীপনায়।

মলিন, বিবর্ণ ঝরা পাতা বিদায়-
প্রথম আলো নয়াদিগন্তের আহ্বান।

হৃদয়ের টানে, আত্মার টানে, প্রাণের টানে
বাঙলার সংস্কৃতি চির বহমান যুগ-কাল-শতাব্দী।

বন্দনা

শুভ সূচনা প্রহর
জীর্ণ-ব্যর্থতা মুছে
যতো গ্লানি মেঘে ঢেকে
শুদ্ধতায় ভরে উঠুক বছর।

প্রথম ভোরের প্রথম বন্দনা
মসৃণ পথ বয়স যোগ পৃথিবীর সাথে!

আলো বাতাস মুখরিত কলতান-
প্রত্যহ সুখের বারতা,
পূর্ণতায় ঋদ্ধ হোক সমকালের প্রহর
শোকবিহীন জীবন

জোয়ার

অতীত দুঃখ-শোক ভুলে
প্রভাতে মন উৎফুল্ল
অপূর্ব, কি মায়া-ভালোবাসা
হৃদয়ে বাজে সুর ছন্দ-তালে
নতুন গান।

সাজ সাজ চারদিক নাগরদোলা,
ঝরে গেল পুরনো পাতা
কালের খেয়ায় বইছে সময়ের আলো
চৈত্রঘামে খাজনা দিবস নতুন জীবনের খাতা
বাইস্কোপ, জমেছে হৈ হুল্লোড়ে মুখরিত খেলা
বাঙালীর চির-ঐতিহ্য,
আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার হৃদয়ে জেগেছে
খুশির জোয়ার

kobitay jagoron april-june 2021

“বৈশাখের নতুনত্ব”

kobitay jagoron april-june 2021

শাহাদাত হোসেন

বসন্ত পেরিয়েই নতুনত্বের আগমনে
নতুন দিনের দেখা,
বৈশাখেতে গগন জুড়ে
গ্রীষ্ম রোদে খাঁখা!

নতুন দিনের আগমনে
নতুন ফসল ফলে,
নতুনত্বের স্বপ্ন ছূঁয়ে
শালিক কথা বলে!

ঘামে ভেজা কৃষক দেখ
ফসল বুকে হাসে,
নতুন ফসল আনবে ঘরে
সেই খুশিতেই ভাসে!

নতুন দিনের আগমনে
পুরোনো স্মৃতির দেয়াল,
থাকনা কিছু আদি কথা
রাখে কে সব খেয়াল!
হারিয়ে যাবে কতকিছু
সব কি আর যায় রাখা,
নতুন দিনের আগমনে
মেলবে নতুন শাখা !

নতুন কে আজ বরণ কর
নতুন দিনের সাঁজে,
মেঘের উপর কালো রেখায়
থাকুক কিছু বাজে!

কাল-বৈশাখী ঝড় এলেও
হাতটা উঁচু রেখ,
মানুষ তুমি সংগ্রামীতে
লড়াই করতে শিখো !
মানুষ তুমি দিতে পারো মেঘলা আকাশ ঢেকে-
নতুন দিনের আগমনে নতুনত্বে থেকে !

শপথ

মহাজিস মণ্ডল

আমি এখন রক্ত খুড়ে খুড়ে গান গাই
রক্ত যেন আমার দুইহাতে বসন্তের মতো
আমি আমার আমি দেখে আর্তনাদ করি

আমার পিঠ ঠেকে গেছে দেওয়ালে
আমায় আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রাখে এ সময়
আমার চারপাশে দেখি মৃত্যুর মহামিছিল

এ সময়ের মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে
তাই হাতে হাতে তুলে দিতে হবে ইস্তাহার
নতুনদিনের নতুন শপথের…

kobitay jagoron april-june 2021

Facebook Comments