সাহিদা রহমান মুন্নীর লেখা বই

জোনাকীর আলো

এপ্রিল ২২, ২০২০
jonakir alo kobitar boi

jonakir alo kobitar boi

১.জোনাকির আলো
২.টাকার জ্বালা
৩.রৌদ্র ছায়ার খেলা
৪.আমার বাবা
৫.তোমার ও হাতে
৬.অভিরাম
৭.সময় করে এসো
৮.হে নিয়তী
৯.একাকী রাত
১০.ডেকনা তুমি
১১.হয়ত আর…
১২.তুমি আর আমি
১৩.মোটা হলে
১৪.তোমার লাগি
১৫.বধু
১৬.বৈঠা ধর
১৭.বিক্ষত হৃদয়
১৮.আমার প্রতিক্ষণ
১৯.নেংটা ছেলে
২০.যদি তুমি
২১.পথিক আমি
২২.ভালবাসি
২৩.চাই
২৪.সাগরের হাত ধরে
২৫.আমি না থাকলে
২৬.মাউন মনি
২৭.মুগ্ধ চোখে
২৮.মাগো
২৯.বিশেষ অর্থে তুমি
৩০.মন মেনেছে
৩১.অনিশ্চিত যাত্রা
৩২.বদলে গেছে
৩৩.ছড়া
৩৪.সাগর আর সবুজ
৩৫.দুঃখে খুঁজি
৩৬.অতৃপ্ততা
৩৭.অশুভ বলে!
৩৮.অপ্রকাশ্য-প্রকাশ
৩৯.ছড়া
৪০.সহপাঠি
৪১.হারায়ে খুঁজি
৪২.তুমি যাবে বলে
৪৩.চড়ুই পাখি
৪৪.অবান্তর
৪৫.যাদু!
৪৬.হলেও তো হতে পারত
৪৭.কবি ও কবিতা

download button free kobitay jagoron

জোনাকির আলো

kobitar boi Jonakir Alo

তুমি আমার কি তুমি গো,
জানবে নাকো কভু-
হৃদয় মাঝে হৃদয় হয়ে,
রইবো যেন তবু।

সকল পথের শেষে তো আর,
পায়না সবাই দিশা-
তৃষার্ত এই বুকে আমার,
তুমি আ-জন্মের তৃষা!

জনতারই মাঝে তুমি,
হয়তো আমার নও-
নির্জনতায় তুমি আমার,
আমার মাঝেই রও।

বাস্তবেরই বাস্তবতায়,
পাই বা না পাই তোমায়-
কল্পনাতে আমার তুমি,
আরতো কারও নয়!

সূর্যের আলো চাইনাতো আর,
চাই জোনাকির আলো-
সুখ যে আমার এই তো পরম,
এই তো চরম ভালো!

টাকার জ্বালা

kobita bangla jonakir alo

জ্বালা জ্বালা কেবল জ্বালা
জীবন জ্বালা মরণ জ্বালা,
কেবলই জ্বালা ভাই–
টাকার জ্বালা সারাটাক্ষণ
করতে বিয়ে,দিতে যে মন
টাকা আগে চাই।
জীবন জ্বালা মরণ জ্বালা,
কেবলই জ্বালা ভাই-

টাকা ছাড়া বন্ধ সবই,
অন্ধ সকল আলো,
তাইতো সবাই টাকা টারে
বাসে এতো ভালো

টাকা পেলে খুলে তালা,
টাকা নিয়েই সকল জ্বালা
কেবল জ্বালা ভাই।
টাকার জ্বালা সারাটাক্ষণ
করতে বিয়ে,দিতে যে মন
টাকা আগে চাই।
জীবন জ্বালা মরণ জ্বালা,
কেবলই জ্বালা ভাই-

রৌদ্র ছায়ার খেলা

kobita bangla jonakir alo
roudro-chayar-khela-poem

আমার চোখের ক্যানভাসেতে,
তোমার আসা-যাওয়া
তোমার মাঝেই পূর্ণতা পায়,
আমার সকল চাওয়া।

স্বপ্ন হয়ে কখনো বা,
ভাসাও আমায় দূর ভেলায়-
কখনো বা সত্য হয়ে,
কাদাও হাসাও সব বেলায়।

আমার মাঝেই থাকো তুমি,
আমার ছায়া হয়ে-
নিত্য নতুন কথা বল
মন পবনে বয়ে।

ভেবে তোমায় গান কবিতা,
গল্প লিখে যাই-
স্বপ্ন লোকের কল্প থেকে
তোমায় পেতে চাই।

তোমায় নিয়ে বিভোর রই যে,
স্বপ্ন সুখের ভেলায়-
প্রহর আমার যায় চলে যায়,
রৌদ্র ছায়ার খেলায়।

kobitar boi Jonakir Alo

আমার বাবা

happy fathers day
Amar-baba-poem

আমার বাবা আমার প্রানের
এক অনবদ্ধ প্রতীমা-
সারা জগত খুঁজেও বাবার,
পেলাম না যে উপমা।

দুঃখ মনের যায় হারিয়ে,
বাবার ভালোবাসায়-
আমার সকল কাজেই বাবা,
প্রেরণা যে যোগায়।

আমার মুখের হাসি বাবা,
আমার দেহের প্রাণ-
বাবার জন্য করব আমি
আমার জান কুরবান।

বাবা,তুমি বন্ধু আমার
তোমার মত কে বা-
আমার হৃদয় জুড়ে তুমি,
শুধুই তুমি বাবা।

তোমার ও হাতে

kobitar boi Jonakir Alo
Tomar-o-hate-poem

তোমার ও হাতে অজান্তেই,
বন্দি হয়ে গেছে আমার নিয়তী,
তাই তুমি সব-যত্নে পদদলিত কর এই আমাকে,
হৃদয়ের সবটুকু মাধুর্য দিয়ে।
লুন্ঠন কর আমার সমস্ত চাওয়া কে……।

আমিও বন্দি খাচার পাখির মত,
ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে দেখি,
এক এক করে ক্ষয়ে যাওয়া,
আমার সমস্ত স্বপ্ন……

কখনো-কখনো উপহাস করেই,
খুলে রাখ খাঁচার দ্বার, পরিমাপ করতে চাও,
আমার বৃত্তের বিন্দু!
আর আমিও মুক্ত খাঁচার পাখির মত,
দ্বার খোলা পেয়ে,
সীমান্তহীন আকাশের বুকে সীমানা-
খুঁজতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে পড়ি।
আমার ডানাই তো, কেটে রেখেছ তুমি!!
তোমার ও হাতে, পদে পদে-
লুন্টিত হবার জন্যই বোধ হয়
এই আমার জন্ম…………

অভিরাম

kobitar boi Jonakir Alo
Oviram-bangla-femous-poem.

ব্যাস্ত তোমার জীবন পটে
কখনো কোন অবসরে,
এ মুখ কি আমার ভাসে-
ডাগর টমার আঁখি হতে,
কখনো জল কি গড়িয়ে পড়ে
আমি নাই যে পাশে!

তোমার পথের ও পথ হতে,
আজ যে বহুদূরে-
আমার এ পথ হারিয়েছে,
মন পবনের সুরে।

তানপুরাটার ভাঙ্গা তারে,
তবুও সুর সাধি-
পাবো তোমায় কখনো বা
আশাতে বুক বাঁধি।

এই যে তোমায় ভাবছি আমি,
দিন রাত্রি অবিরাম-
আমায় কিগো পড়েনা মনে
কখনো হে অভিরাম।

সময় করে এসাে

আঁকা-বাঁকা নদীর বুকে,
পাল তুলেছে নাও
শ্যাম বরণ-শীতল ছায়ার
আমার ছােট্ট গাঁও।

মেঠো পথে গরুর গাড়ি
আয় দক্ষিণা হাওয়া
নায়ের মাঝির গানের সুরে
ফুরায় মনের চাওয়া।

ধূলা-মাটির স্নিগ্ধ ছােয়ায়
মন কিযে পায় সুখ
বুঝবে সেজন কেমন করে
দেখলে গাঁয়ের মুখ।

হৃদয়েরই অব্যক্ত কথা,
রাখাল বলে বাঁশিতে
জোনাক বলে আঁধার রাতে,
কেবল ভালবাসিতে।

জীবনটাকে হাতের ছোঁয়ায়
ছুতে যদি চাও
একটু তুমি সময় করে।
এসাে আমার গাঁও।

jonakir alo kobitar boi

হে নিয়তী

নিয়তী তুমি নিষ্ঠুর কিগো
শুধুই আমার বেলায়
সকল স্বপ্ন দিতেছ বাসি
জীবন নামক খেলায়!

যখনি ভাবি এইতো জয়,
পূর্ণ আমার সবি
হাস্য করে বল তুমি,
হে কল্পের কবি!

যার কিছু নাই তারে কেন,
ফেলছ লীলা খেলায়
নিয়তী তুমি নিষ্ঠুর কিগো
কেবলই আমার বেলায়!

নিয়তী আমার শোন মিনতী,
যত পার ব্যথা দাও
এমন করে কাঁদিয়ে যদি,
কোন সুখ তুমি পাও।

নিষ্ঠুর তুমি নিয়তী ওগো
এই শুধু জেনেছি
চোখের কোণে জল লুকিয়ে,
তাই তোমায় মেনেছি।

একাকী রাত

খুব মনে পড়ছে,
ভীষণ মনে পড়ছে তোমাকে।
নির্জন-নিঝুম ঘুমন্ত এই পৃথিবীর বুকে
আমার ছোট্ট একটা পৃথিবীতে,
নিঃসঙ্ বিদ্রি রজনী অতিবাহিত করছি,
তোমার স্মৃতির এ্যালবামের এপিঠ-ওপিঠ নেড়ে।
আজ আকাশটাও, কারও প্রতিক্ষার আগুনে
জ্বলতে-জ্বলতে ছাই রঙ্গে রঞ্জিত হয়েছে।
যেমন করে, আমি উদ্যম নীল থেকে
ক্ষনিকের বিরহের আগুনে ছাই হয়েছি,
হয়ত একটু দমকা এলেই,
হারিয়ে যাব দূরে-বহুদূরে, শতলোক ছেড়ে
সীমাহীন কোন এক উর্ধ্বলোকে।
খুব মনে পড়ছে,
ভীষণ মনে পড়ছে তোমাকে
মাঝে মাঝে ভেসে আসছে, গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন,
কোন এক, ক্লান্ত জননীর পাশে, হেলিত শিশুর কান্না,
হয়ত কাঁদতে কাঁদতে, এক সময় সেও অর্পন করবে,
তার কোমল দেহ, ন্দ্রিা দেবীর গহীন কোলে।
শুধু অবসান নেই আমার, ভাবতে ভাললাগে।
খুব ভাললাগে শুধু তোমাকে
একাকী এই নির্জন রাতে,
খুব মনে পড়ছে,
ভীষণ মনে পড়ছে তোমাকে।
শেষ রাতের তারা যেমন, প্রভাতকে স্মরণ করে
অতিবাহিত করে পুরো রাত,
তেমনি আমিও তোমায় মনে করে,
কাটয়ে দেব আমার সমস্ত যৌবন…….

ডেকনা তুমি

ঘরের কপাট রইবো এঁটে
আর যাবনা বাহিরে
বুকের ব্যথা বুকেই চেপে
আঁধার মাঝেই চাহিরে।

আলো যেন চক্ষুণ্ডল,
তাই চাহিনা আলো
অন্ধরাতের মানুষ আমি,
অন্ধকারই ভাল।

স্বপ্নগুলো কবর দিল।
কালবৈশাখীর হাওয়া
ছাইয়ের মত তাই উড়ালাম,
মনের সকল চাওয়া।

নিজের কাছেই হেরে যাওয়া
এমন মানুষ আমি
ঘরের কপাট তাই এঁটেছি,
আর ডেকনা তুমি।

হয়ত আর…

হয়ত আর হবে না রাখা,
তোমার ও চোখে আমার চোখ
হারিয়ে যাচ্ছে স্বপ্ন, বুলেট, টিয়ার গ্যাস,
আর সাধারণ পাবলিকের ছোট-বড় ঢিলে,
হয়ত আর হবে না দেখা,
নিজের মত করে তোমাকে।

দৃষ্টি প্রদ্বীপ যেন, নিভে যাচ্ছে প্রতিক্ষার তীব্র
শাষণ আর শোষণের বাড়াবাড়িতে।
হয়ত আরা হবে না পাওয়া,
আমার জীবনে তোমাকে
তেতুলীয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত,
তোমার সন্ধানে আজ আমি শারীরিক নয়
মানষিক ক্লান্ত, বড্ড ক্লান্তিতে ভুগছি।
তুমি ও কি ওদের মত,
ঐ-যে ছালাম, জব্বার, রফিকের মত,
হারিয়েছ অকালে বাস্তব পৃষ্ঠ থেকে।
বোমা, গুলি আর বারুদের অসহনীয় গন্ধে
আর কত, আমার মত কেউ,
তোমার মত কাউকে না পেয়েই হারাবে…..

হয়ত আর চাইব না,
এ প্রশ্নের উত্তর
হারাতে-হারাতে, হারানোই যেন,
জীবনের মানে হয়ে গেছে।
আমার কাছে আমাদের কাছে
শাষণ আর শোষনের নিপীড়ন নির্যাতনে
বোমা, গুলি, গ্যাসের অহরহ গর্জনে
হয়ত আর হবে না রাখা,
তোমার ও চোখে আমার চোখ………

jonakir alo kobitar boi

তুমি আর আমি

একই পথ একই মত,
ছিল দু’জনার
একই কথা, একই ব্যথা
বুকে দু’জনার।

দুটি হৃদয়ের একই সুরে,
ছিল একই গান
দেহ-দুটি ভিন্ন হলেও,
একই ছিল প্রাণ।

কোথা আজ এলাম আমি,
কোথা তুমি হায়
জানি না সে পথ আজ,
হারালো কোথায়।

সেদিনের সে গান
কেন ভুলে গেলে
মাঝ পথে এনে কেন,
একা করে দিলে।

সেই আমি তোমার হয়ে,
আজো আছি হায়
তুমি আছ তবু কেন,
তুমি নেই হায়।

মোটা হলে

মোটা হলে যখন-তখন,
ছুটোছুটি করতে নেই
ইচ্ছে হরেও পেটটা ভরে
কোন খাবার খেতে নেই।

মোটা হলে ভুলেও কোন
ছোট দ্বারে ঢুকতে নেই
শত হাসির জোয়ার এলেও,
বেশী জোড়ে হাসতে নেই।

মোটা হলে প্রয়োজনেও,
গরম কোথাও থাকতে নেই
দাওয়াত পেলেও দূরের ভ্রমন।
মন চাইলেও করতে নেই।

মোটা হলে বেঁচেও মরণ
বাধা নিষেধ সবখানেই
মোটা হলে মরলেও দোষ,
মোটা হলে মরতে নেই।

তোমার লাগি

সারে তিন হাত মাটির তলে,
হয়গো যদি থাকতে
তোমার লাগি তাওগো আমি,
পিরবো হাসতে-হাসতে।

সূর্যটারে হারিয়ে যদি,
পাইগো চির আঁধার
তোমার লাগি সেই আঁধারেও
স্বর্গের আলো আমার।

সাগর সেঁচে আনব আমি,
যদি গো তুমি চাও
তোমার লাগি সব অসম্ভব।
সম্ভব জেনে নাও।

দুঃখের মালা পরতে যদি,
হয়গো আমার গলায়
তোমার লাগি পারব সবি,
জীবন নামক মেলায়।

সারে তিন হাত মাটির তলে,
হয়গো যদি থাকতে |
তোমার লাগি পারব সবি,
পারব হাসতে হাসতে।

kobita bangla jonakir alo

বধু

যোল বসন্ত পেরিয়ে এখন,
হলাম ঘরের বধু
শাষণ-বারণ কড়া কানুন,
বাধা নিষেধ শুধু।

একটু যদি হাসি এখন,
আনন্দ-উল্লাসে
বড় চোখে কয় শ্বাশুড়ী,
এত কি হাসতে আছে?

তাই বসে থাকি চুপটি করে
বসায় যে-যেখানে
ঠোট বাঁকিয়ে কয় ননদী
দেমাগী এক জাহানে!

পাড়াপড়শী দেখতে এলে
যদি বা কথা কই
আমি নাকি বেহায়া মেয়ে,
লাজ-শরম নেই!

যায় না বলা যায় না সওয়া,
চোখে নামে পানি
দেবড় এসে খোটা মারে,
কিগো সোহাগিনী।

জীবন হলো অতৃষ্ট হয়,
ফাসলাম একি জ্বালে
আমার মত হয় কি সবার,
ঘরের বধু হলে!

বৈঠা ধর

দেশের খবর গরম এখন,
ছুটছে গুলি, গ্যাস, বোমা
দিনে রাতে, জায়গায়-জায়গায়,
হচ্ছে কেবল হাঙ্গামা ।

উঠে গেছে শান্তি যেন,
এদেশ থেকে হায়রে হায়
রক্ত নিয়েছে আগেও অনেক,
এখনও এদেশ রক্ত চায়।

শুধু শহর নয়রে ভাই,
মরছে দেখ হাজার গ্রাম
সব খানেতেই চলছে কেবল,
জীবন-মরণ-সংগ্রাম।

আঁটকে আছে লক্ষ মানুষ,
এখানে কেউ ওখানে
কি হবে এই দেশের গতি,
কখন-কবে-কে জানে।

দুঃখে দু’চোখ কাঁদে আমার,
এই হলোরে হলো শেষ
ত্রিশ লক্ষ প্রাণের গড়া,
আমার প্রিয় বাংলাদেশে।

কি হবে এই সোনার দেশের,
কি হবে কে জানে
ওগো দয়াল বৈঠা ধর,
ডুবছে এদেশ বানে!!।

বিক্ষত হৃদয়

সুখী ভেবে মেলি যখন
নীল আকাশের ডানা
কালো মেঘের পাহাড় ঘেসে,
দুঃখ দেয় যে হানা।

চলার পথে কুড়ায় সবাই,
দুঃখ সুখের ফুল
আমার বেলায় দুঃখ সবি,
সুখ ভাবলেই ভুল!

নিজের সাথে যুদ্ধ যেন,
দিন-রাত্রী অবিরাম
চোখের কোণে জল লুকিয়ে,
মুখে হাসি সুখের নাম!

বাহ্যিকতার চাকচিক্যে
হয়ত সুখী মনে হয়
জীবন আমার মাকেল ফল,
এছাড়া আর কিছু নয়।

ব্যথার সাগর সঙ্গী আমার,
বিক্ষত এই হৃদয়
লোক দেখানো মুখের হাসি
তবুও দিতে হয়!

jonakir alo kobitar boi

আমার প্রতিক্ষণ

অন্ধ এ চোখ পায় যে আলো,
যখন তুমি আস
বোবা এ মুখ কয় যে কথা,
যখন ভালবাসা।

নিষ্প্রাণ এই জীবন আমার,
পায় ফিরে প্রাণ তখনি
একটু তুমি নিঃশ্বাসের ছোঁয়া,
দাওগো শুধু যখনি!

কি যে যাদু তোমার মাঝে,
পাই না খুঁজে দিশা
যত দেখি তত দেখার,
বারে মনে তৃষা!

একটু যখন হওগগা আড়াল, .
কেঁদে বলে এমন
মৃত্যুর মত যন্ত্রণার হয়,
আমার প্রতিক্ষণ!
.
আর কতকাল পরে বল,
তোমার দেখা দেবে।
আমার প্রতিক্ষণ যে কাটে
তোমায় ভেবে ভেবে।

নেংটা ছেলে

এটা ওটা কুঁড়িয়ে বেড়ায়,
সারাটা দিন ভর
আপন বলতে নাই কিছু তার,
নেইতো বাড়ি-ঘর।

পথেই হল জন্ম তার
পথই নিত্য সঙ্গী
বস্তা কাঁধে ঘুড়ে বেড়ায়,
ঢাকা-যশোর-টুঙ্গী।

নেংটা ছেলের মুখটা দেখে,
কেউবা মায়া করে
কেউবা আবার কানটা ধরে,
থাপ্পার দেয় জোরে।

নাম থাকতেও সবাই ওকে
টোকাই বলে ডাকে
মানুষ হয়ে জন্ম নিয়েও
পশুর মত থাকে।

যদি তুমি

আমার বুকে তীর বিধায়ে,
যদি পার তুমি হাসতে
কি এমন ক্ষতি তাতেও ভাল,
পারি যদি আমি বাসতে।

স্বপ্ন কোন যদি গো আমার,
ভাঙ্গ তুমি অনাদরে
হাসি মুখে তা মেনে লব যে,
যদি থাক সুখে ঘরে।

আমার চোখের দু’ফোটা জলে
যদি গো জ্বালা জুড়ায়
ক্ষতি নাই তাতে কেঁদেই যদি
জীবন বেলা ফুড়ায়।

নিত্য তোমায় হারাই যেন,
নিত্য তোমায় পাওয়া
কি এমন ক্ষতি মিটায়ে নিজেরে,
পুরাই তোমার চাওয়া।

আমার বুকে তীর বিধায়ে
যদি পার তুমি হাসতে
তবুও আমি তোমারেই চাই,
তোমারেই ভালবাসতে।

ভালবাসি

হৃদয়ের সব চাইতে গভীর যে বিন্দু,
সে বিন্দু দিয়ে, তোমাকে ভালবাসি।
যে কোন প্রাণী, তার দেহে প্রবাহমান নিঃশ্বাসকে
এক মুহূর্তের জন্য বিচ্ছেদ করতে চায় না,
অক্টোপাশের মত, জড়িয়ে রাখে-অর্থাৎ ভালবাসে,
আমিও, আমার দেহে প্রবাহমান।
নিঃশ্বাসের মত তোমাকে ভালবাসি।
তোমার চোখে প্রথম চোখ পড়তেই,
আমার হৃদয়ের ধু-ধু মরুভূমীতে
ভালবাসা নামক গ্রন্থিটি অঙ্কুরিত হয়েছে।
এখন দিন-রাত কেবল,
তোমার ভাবনায় বিভোর থাকি।
যেমন করে, মাটি আকাশের জন্য
ব্যাকুল চিত্তে বিভোর থাকে,
আমার এলোমেলো জীবনটা,
সম্পূর্ণ গুছিয়ে দিয়েছে,
সব শূন্যতাগুলো আজ পূর্ণতায়
রূপান্তরিত করেছে-তোমার ভালবাসা,
তাই তোমাকে ভালবাসি
জীবনের বিনিময়ে তোমার প্রতি
আমার এ ভালবাসা,
আমার সাজনো পরিপাটি জীবন,
কখনো ঝড় হয়ে কেড়ে নিও না!
তুমি আমার উর্বর হৃদয়টি,
বেদনার বালুচর করো না!
ভেঙ্গে দিও না আমার বিশ্বাস।
তুমি আমাকে করুণা করো,
কিন্তু অবহেলা কর না,
তাই মিথ্যে করে হলেও বলল,
করুণা করে হলেও বলো,
আমার মরণের আগে হলেও শুধু একবার বলো,
তোমাকে ভালবাসি……….

kobita bangla jonakir alo

চাই

আমি এমন একটা কবিতা লিখতে চাই,
যে কবিতায়, শুধু আমি আর তুমি নয়
বিশ্বের যা কিছু আছে, সবই থাকবে,
যে কবিতা, দেশ ও দশকে তুলে ধরবে
যে কবিতা, জীবনকে উপস্থাপন করবে জীবেনর সামনে…….

এমন একটা গান গেতে চাই,
যে গান, মৃত দেহকে জাগিয়ে তুলবে
যে গান, কণ্ঠ দিয়ে নয়,
আত্মা দিয়ে গাওয়া হবে,
যে গান জীবনকে করবে ছন্দময়,
চাওয়া-পাওয়াকে করবে গতিময়……

আমি এমন একটা প্রেম চাই,
যে প্রেমের বহিঃপ্রকাশ,
লতা-পাতায় নয়, কাগজে বা দেয়ালে নয়,
যে প্রেমের বহিঃপ্রকাশ হবে না,
তাকে আত্মা দিয়ে
উপলব্ধি করতে হবে,
যে প্রেমে কোন স্বার্থ থাকবে না,
যে প্রেম নদী বা সাগরের মত গভীর নয়
একটা হৃদয়ের মত গভীর হবে…..

আমি এমন একটা শক্তি চাই,
যে শক্তি দিয়ে,
কোন স্বপ্ন শুধু উপলব্ধি নয়,
বাস্তবে বাস্তবায়িত হবে,
যে শক্তি দিয়ে জীবনকে অনুভব নয়,
জীবনকে ছুঁয়ে দেখা যাবে,
আমি এমন এক শক্তি চাই,
যে শক্তি দিয়ে, আমি আমাকে চিনতে পারব……..

সাগরের হাত ধরে

আকাশ তুমি, তোমার কষ্ট মেঘকে দাও,
আর, মেঘ, তা সপে দেয় উদার বরষার কাছে…….

আমার তো কেউ নেই, আমি কাকে দেব,
আমার অন্তর নিহিত কষ্ট গুলো
আমি কোথায় জমা দেব,
আমার এ বিবর্ণ জীবনের নীল-নীল যন্ত্রণা…।

নদী ক্লান্তিগুলো দূর করতে,
ছুটে চলে সাগরের মোহনায়
আমি কোথায় পাব, আমার সেই সাগর!
যার সাথে একান্ত সান্নিধ্যে,
কষে নেব যোগ অংকটি!

রাত দিনের বুকে মুখ গুঁজে
অপেক্ষমান থাকে, তার করে
তাকে পাবার প্রতিক্ষায়……..

আমি, তো শুরু থেকে এ পর্যন্ত
শুধু পথই চেয়ে রইলাম!
কই, আমার করে পাইনি তো
আমার কাউকে!

আমি মেঘ চাই,
আমার কষ্ট বরষা হয়ে ঝড়াতে
আমি দিনের বুকে মুখ গুঁজতে চাই,
একটি সফল রাতের জন্য
আমি সাগর দেখতে চাই,
সাগরের হাত ধরে……..

jonakir alo

আমি না থাকলে

আমি না থাকলে, কি হবে বল,
কি হবে কিছু কার
ফুটবে ফুল গাইবে পাখি,
বাজবে বীণার তার।

সাজবে নতুন জীবন-বাসর,
মাতবে নতুন খেলাতে
ভুলবে তুমি আমায় জানি,
তোমার সুখের মেলাতে।

আমার জন্য রইবে নাতো,
জীবন ঘড়ি থেমে
পূর্ণ হবে শূন্য যে সব
আবার কারও প্রেমে!

কালের মাঝে আজ হয় বিলিন,
আমি ও যাব হারিয়ে
আমি না থাকলে ভুলবে আমায়,
নতুনে হাত বাড়িয়ে।

বিরতি আমার সাধবে না বাঁধ
কারও সুজন মালী
তোমার প্রেমের ফুল কাননে,
আসবে নতুন অলী!

আমি না থাকলে কি হবে বল,
থাকবে ঠিকই সবি
ভুলবে সবাই এই আমাকে
অস্ত যখন রবী!

এমন তো নয়, আমি না থাকলে,
সময় থেমে যাবে
চলছিল যা চলবেই তা,
কার কি আসে-যাবে!

ফুটবে ফুল গাইবে পাখি,
বাজবে বীণার তার
আমি না থাকলে, কি হবে বল,
কি হবে কিছু কার!!!

kobita bangla jonakir alo

মাউন মনি

আমার চোখের দুই তারাতে,
তুমি একটি এলা
হৃদয় জুড়ে একটি কথাই,
বাসি তোমায় ভাল।

তোমায় ভেবেই কাটে প্রহর
তীব্র ব্যথার জ্বালায়।
চোখের জলকে ফুল বানিয়ে,
গেঁথে রেখেছি মালায়।

তুমি ছাড়া শূন্য লাগে,
সকল লোকের মাঝে
একটি আশায় বুক বেঁধেছি,
তোমায় পাব কাছে।

মাউন-মাউন লক্ষ্মী মাউন
তুমিই দেহ-মন
তোমার ভাল থাকাই আমার,
চাওয়া সর্বক্ষণ।

মুগ্ধ চোখে

মুগ্ধ চোখে অবাক হয়ে,
দেখেছি তোমায় আজ
আপাদমস্তক হয়েছে যেন,
নতুনের কারুকাজ।

স্বর্গ হতে স্বর্গীয়রূপ,
এনেছ মাটির ধরাতে
শিউরে উঠি পেয়ে গো তোমায়,
আমার আধার বরাতে!

হাজার তারার ঝিলমিল যেন,
তোমার চোখের চাহনী
হাসি তোমার আঁধার রাতকেও
আঁধার করে রাখেনি!

নিস্পাপ ঐ মুখের কাছে,
চাঁদ মেনেছে হার
উপমা তোমার, শুধুই তুমি,
নেই কিছু উপমার!

যত দেখি ততই দেখার,
তৃষ্ণা শুধু হয়
সুন্দর তুমি, চির সুন্দর,
মুগ্ধ এ চোখ কয়।

মাগো

জোছনা ভরা রাত্রী তুমি,
তুমিই আলোর দিশারী
প্রহর আমার চায়না যেতে,
মাগো তোমায় ছাড়ি।

তোমায় নিয়ে লিখি মাগো,
গল্প-গান-ছড়া
আমার গায়ের রক্তে-মাংসে,
তোমার স্নেহ ভরা।

তোমার চুড়ির ঝংকারে মা,
খোদার আরজ হাসে
স্নেহ ভরা মুখটি তোমার,
দূর-গগনে ভাসে।

তুমি তোমার তুলনা মা
তোমার মত কো
চরণ তলে রেখ তোমার,
ঠাই দিও মাগো।

jonakir alo

বিশেষ অর্থে তুমি

ঝড়ের পরে যেমন করে,
পায় প্রশান্তির সুখ
পাই আমি তা তেমন করে,
দেখে তোমার মুখ ।

তুল্য তোমার কি আর দেব,
নেইকো দেয়ার মতন
তোমার মাঝে হারায়ে নিজেরে,
ফিরায়ে পেয়েছি জীবন।

চলার পথের দুঃখ ব্যথা।
নীরবে করেছ পান
শোনালে আমায় বড় অবেলায়,
স্বপ্ন জয়ের গান।।

দাতা তুমি দাতার মত
অঞ্জলি ভরে হায়
দিচ্ছ তুমি, নিচ্ছি আমি,
প্রকৃতির স্ব-ইচ্ছায়!

নিত্য নতুন রূপে তোমায়,
নিচ্ছি যেন চিনে
তোমার করে সবার হতে,
নিচ্ছ আমায় কিনে।

মাকর যেমন প্রান করে দান,
মরণ মেনে নিয়ে
এমনি করে বাঁচালে আমায়,
তোমারে আমায় দিয়ে।

ঝিনুক যেমন মুক্তা রাখে,
তুমি রাখ ব্যথা
চাহনী তোমার নীরব চোখের
বলছে বোবা কথা।

মন মেনেছে

কি যে মায়াময় মন্ত্রে তুমি,
ভরালে হৃদয় খানি
স্বর্গ এনে দিলে গো হাতে,
বানালে যে রাজরাণী।

ভরিয়ে দিলে আকাশ আমার,
হাজার তারায় তারায়
ভুলিয়ে দিলে বিরহ-ব্যথা,
কোমল কোমল ছোঁয়ায়!

হারিয়েছি কি বা কখন,
খুঁচালে তার সবি
অন্ধ আমার পৃথিবীতে
জ্বালালে সুখ-রবি।

সবার মনে ঠাই করেছ,
হয়েছ নায়ক রাজ
উপমা তোমার শুধুই তুমি,
মন মেনেছে আজ।

অনিশ্চিত যাত্রা

চলছি আমি চলছি শুধু,
জানি না কই চলছি
হৃদয় মাঝে সুপ্ত কথা,
যা ছিল সব বলছি।

ভিড়বে কিনা কূলায় তরী,
ভিড়বে;কিনা হায়
তবুও আমি নাও ভাসালাম,
এ জীবন মোহনায়।

ভাবছি যা হয়ত সবি,
দিনের ঘরের স্বপ্ন
চাওয়া আমার এমন চাওয়া,
শুধুই চাওয়ার জন্য।

অনিশ্চয়তার ঘোর আঁধারে,
শংকা শুধু এই
ঘুম ভাঙলেই এমন তো নয়,
দেখবো তুমি নেই!

ভিড়বে না কূলায় তরী
ভিড়বে কিনা হায়।
তবুও আমি নাও ভাসালাম,
তোমার মোহনায়!

বদলে গেছে

বদলে গেছে সব কিছু হায়,
নেই আগের মতন
সব হারিয়েও যায় না পাওয়া
মনের মত মন!
একই ছিল সেই পৃথিবী,
আজও একই আছে
তবুও কেন এত ফারাক
“এই”-“সেই” এর মাঝে!
মানুষ গুলো মানুষ আছে,
শুধু মনুষত্ব নাই
কোথায় পাব কত দূরে,
যেমন মানুষ চাই!
আগের মত নেইতো কিছু,
বদলে গেছে সবি
চেনা-চেনা মুখগুলো সব।
আজ যে শুধু ছবি।

ছড়া

রাজধানীতে থাকি মোরা,
হয়ত তাই রাজা
শাষণ কার্যে জনাব মশা,
আমরা তারি প্রজা।
উঠতে বসতে সারাটাক্ষণ,
খাচ্ছি মশার কামর
মানে না সে ঔষধ-কয়েল,
লেপ-মশারী চাদর।
জনাব মশার উৎপাতের শিকার,
উচ্চ-নিম্ন-মধ্য
বিনা নোটিশে দিচ্ছে কামর,
সারাটা দেশ শুদ্ধ!

kobita bangla jonakir alo

সাগর আর সবুজ

তোমার চোখে চোখ পড়তেই
দেখেছি একটি সাগর
তোমার কাছে সপে নিজেকে
পেয়েছি সবুজ শহর।

তুমি সুন্দর সদ্যজাত
নিস্পাপ এক মুখ
তোমার মাঝেই নিহিত আমার
আট বেহেস্তের সুখ।

অনিন্দ মুগ্ধতায়।
আজ যে তনু-মন
এমন করেই থেকো আমার
য-দিন এ জীবন।

সাগর আর সবুজ হয়ে
আমার তুমি এই তো
শেষ থেকে শুরু, গুরু থেকে শেষ,
তুমি ছাড়া কেউ নেই তো।

দুঃখে খুঁজি

কাঁটা জড়ানো ফুলগো তুমি,
জেনেই গেঁথেছি মালা
ভাল লাগে রক্ত ঝড়াতে,
লুকায়ে মনের জ্বালা।
কাঁচ বিছানো পথের শেষে
তোমার কাছে যাওয়া
তবুও ;জেন, তুমিই ;আমার
শেষ ও প্রথম চাওয়া।

বিন্দু কোন নাই নিশ্চয়তা,
তোমার যাওয়া আসায়
তোমার তীরেই তবুও আমি,
আমারে দিলাম ভাসায়।

কষ্ট গুলো কষ্ট হয়ে,
থাক না যেখানে থাকার
আমি তোমার হই বা না হই
তুমি তো শুধু আমার।

দুঃখ চাড়া কেবা কখন
জয় করেছে সুখ
তোমার মাঝেই সুখ খুঁজি তাই,
নিত্য ভেঙ্গে বুক।

অতৃপ্ততা

সোনার পালংক সোহাগে আমার
তার বুকে দেয় ঠাই
সুখ আর সুখ চৌদিকে তবু
সুখ খুঁজে না পাই।

অন্ন আমার আসে মুখে
সোনার চামচ থালায়
হাত-পা-ধরে করি মিনতি,
সুখ যে তবু পালায়।

আপনজনে রয়েছে ভরা,
চৌদিকেতে ভাই।
সবাই আছে তবুও কেন,
কে, যেন কি নাই।

চন্দ্র-তারার গয়না গায়ে
নিত্য নতুন সাজি
তবুও ব্যথায় মূৰ্ছা কেন,
যাচ্ছে হৃদয় আজি।

সব পেয়েছি যা দিয়েছ।
পাইনি তোমায় শুধু
রাজ্য জুড়ে সব দিয়েছ
দাওনি তোমায় কভু।

এইতো আমার অতৃপ্তির
অতৃপ্ততা হায়
তুমি ছাড়া বিরাণ আমার,
স্বর্গরাজ্য তায়।

অশুভ বলে!

অশুভ এক ছায়া আমি,
বুঝিনি তো আগে
এই আমারি পরশে যে,
আলোও আঁধার লাগে!
বন্ধ হয় সকল চলা,
বাতাস-সাগর-নদী
পূর্ণ সকল শূন্য যে হয়
আমিটা হই যদি!
নিয়তির এই নিমর্মতায়,
জ্বলছি ভীষণ জ্বালায়
ফুল গুলো সব যায় ঝড়ে যায়
হয় না গাঁথা মালায়!
মরণও যেন আমায় দেখে,
ফিরায়ে রেখেছে মুখ
অশুভ বলে হয়নি দেখা,
আদৌ স্বাধের সুখ।

অপ্রকাশ্য-প্রকাশ

কৈশরের চাওয়া তোমায়,
যৌবনেও তুমি
চেয়েই গেলাম হয়নি বলা
তোমারি যে আমি।
স্রোতের মতই বয়েছে সময়,
রয়নি কভু থেমে
সব বলেছি হয়নি বলা,
মরেছি তোমার প্রেমে।
ঝড়ের পরে নীরব হয়ে
যখন ভেবেছি বলি
শিউরে দেখি দু’জন হতে,
সময় গিয়েছে চলি।

jonakir alo

ছড়া

টুপুর-টাপুর-টুপুর-টাপুর,
আষাড়িয়া বৃষ্টি
হৈ-হৈ-রৈ-রৈ,
লাগে ভালো মিষ্টি।

চুপচাপ বসে থাক,
বাইরে যাওয়া বন্ধ
রিমঝিম রিমিঝিম
শোন বসে ছন্দ।

বুড়োবুড়ি ছুড়াছুড়ি,
বাতায়নে বসে রয়
বৃষ্টিও রিমঝিম।
অনায়াসে গান গায়।

সহপাঠি

নয়ন-স্বপন বন্ধু আমার,
কালাম সহপাঠি
হেসে-কেলে যেত সময়
পড়াশুনা মাটি।

পণ্ডিত মশাই কানটা ধরে,
জব্বর মলা দিয়েছে
সময়ের মূল্য অনেক বেশি,
বারে বারে বলেছে।

তাই নিয়মিত লেখি-পড়ি,
দেশের জন্য করি কাজ
ভদ্র সহপাঠি এখন
আর নই গো রংবাজ।

হারায়ে খুঁজি

দূরে তুমি বহুদূরে
তবু কেন হায়
তোমার স্মৃতি বারে বারে,
আমায় ডেকে যায়।
ছায়া হয়ে সারাটাক্ষণ,
কেন দোলা দাও
আমার হতে আমায় নিয়ে,
কোথায় চলে যাও?
ফেলে আসা সেসব কথা,
কি লাভ গেয়ে সুরে
আমার এ পথ তোমার হতে,
আজ যে বহু দূরে।
চলতি পতে বারেক সময়
কর আমায় ধাও
পিছন ফিরে চমকে দেখি।
নাই যে কেউ কোথাও!
জীবন পটে তোমায় নিয়ে,
আঁকতে ছবি পারি নাই
ব্যথায় ভরা ধূসর রাতে,
হারায়ে তোমায় খুঁজি তাই…….।
মন্টা আমার কাঁদে কেন,
বুঝি না তো হায়
সকল পাওয়ার মাঝেও ফাকা
সারা দুনিয়ায়।
হাজার হাজার মুখের ভিড়ে,
খুঁজিছে কোন সুখ
সুখের ঘরে বাসর তবু,
ব্যথায় ভরা বুক।
বিচিত্রতার কালী দিয়ে,
জীবন হল সূচনা
মন ভবনের তানপুরাতে,
কেবল ব্যথার মূর্ছনা।
কোথায় আমার কি যেন নাই,
কেন যেন ভাবি
এত পাওয়ার পরেও কেন,
শূন্য আমার সবি!

তুমি যাবে বলে

তুমি যাবে বলে,
বন্ধ হল, পাখির আকাশে উড়া
তুমি যাবে বলে,
বিবর্ণ তাই, রঙ্গীন কৃষ্ণচূড়া।

ছুটছে না আজ কোন নদী,
সাগরের মোহনায়
ফুল গুলো সব বারে বারে হায়
ব্যথায় মৃর্ধা যায় ।

তুমি যাবে বলে,
ছেড়ে দিল কবি, ছন্দের সাথে খেলা
তুমি যাবে বলে,
বন্ধ হল মনের মিলন মেলা।

সব জুড়ে তুমি, তুমি জুড়ে সব,
এই তো চরম সত্যি
তুমি ছাড়া আমি চিনি না নিজেরে,
বুঝি না এক রত্তি।

তুমি যাবে বলে,
বেঁচে থাকা আজ, মরনের বহিঃপ্রকাশ।
তুমি যাবে বলে,
চলার মাঝেও বন্ধ বুকের প্রশ্বাস।

jonakir alo

চড়ুই পাখি

চড় ই পাখি কিচির-মিচির
কর ডাকাডাকি
ইচ্ছে করে খাঁচাতে নয়
মনে তোমায় রাখি।

আমার সাথে রাগ করো না,
পড়তে যাদি যাই
পড়ার সময় পড়তে হবে,
বলেছে দাদু ভাই।

আমার মত তুমিও চল,
পাঠশালাতে যাবে
অ, আ, পড়বে তুমি,
কেমন মজা হবে।

অবান্তর

ছাইয়ের মত সব চাওয়াকেই,
উড়িয়ে দিলাম আজ
জীবন মানে তাই তো এখন,
অমানিশার সাজ।

স্বপ্নগুলো কবর দিলাম,
জীবন নদীর মোহনায়
আঁধার লাগে তাইত সবি,
তারা ভরা জোছনায়!

বেঁচে আছি মরে থেকে
জীবনে মানে এইতো
সবার মাঝেই আছি তবু,
আমার মাঝে নেইতো!

এ জীবনের রাত যে আমার,
হয় না যে আর ভোর
বেঁচে থাকার স্বপ্ন যে তাই
লাগছে অবান্তর!

যাদু!

জীবন ছিল নীথর-নীরব,
ছন্দ ছিল নাতো
শূন্য ছিল সকল চাওয়াই
দ্বন্দ ছিল কতো!

ঐ মায়াবী চোখে তোমার
কি যে আছে যাদু
এক পলকের একটু দেখায়,
পাই যে বিষে মধু!

রংধনুর ঐ সাতটি রঙ্গে
রাঙ্গালো জীবন আমার,
শূন্যতা সব পূর্ণতা পায়।
একটু চাওয়ায় তোমার।

লোহা যেমন চুমুকেরে।
কেবল কাছে টানে
তোমার চোখের যাদু আমায়
তোমার কাছে টানে।

হলেও তো হতে পারত

মৃত্যুর কথা অনেক শুনেছি, শুনেছি সে অনেক নিষ্ঠুর,
কিন্তু আমার পৃথিবীতে, আমি মৃত্যুকে জেনেছি
এক সাগর উদার, দাতা, মহান করে….
মৃত্যু যেন কোমলতার অপর ভাষা।

চোখের করিডোর মুহূর্তের মধ্যে ভরে গেল
অমানিশার অন্ধকারে, ঝড়ো হাওয়ার মত
নিঃশ্বাসগুলো ছুটতে লাগলো,
এদিক-সেদিক পথ হারিয়ে,
তনুখানি যেন বারবার,
নিজেকে অর্পন করতে চাইল অসার এই অবনী পরে!

হারিয়ে যেতে চাইছিল বারবার বাকশক্তি!
আমি জানতাম,
তুমি পাশে থাকলে মরুভূমি বা কন্টকাকীর্ন পথেও
শিউলী ফুলের স্পর্শ পাব-পাই,
আমি মানতাম,
শুধু তুমি থাকলে শত জনমের কষ্টের বোঝা,
খুব ছোট মুহূর্তে লাঘব করা যাবে-যায়!

আমার বিশ্বাস,
তুমি, শুধু তুমি থাকলে, পৃথিবীর যত অসুন্দর,
সব সবুজ সুন্দরে রূপান্তরিত হতে
মুহূর্তেরও অপেক্ষা করবে না-করে না!
শুধু তুমি থাকলে, এমন কোন অসম্ভব নাই,
যাকে সম্ভব স্বীকৃতি দেয়া যাবে না-যায় না!

শুধু তুমি ছিলে বলেই, সেদিন মৃত্যু ফিরিয়ে দিল আমায়,
আবার জীবনের কোলে! এ ফিরিয়ে দেয়ার
মাঝে মিশ্রিত ছিল, পৃথিবীর সমস্ত কোমলতা, মৃত্যু যেন উদার,
ভঙ্গিমায় সপে দিল আমায়, আবার তোমার বুকে…….
তুমি এখন কি মানো? আমি যা বলি, যা বলেছি তা
এক চুলও ভুল নয়! আমার কণ্ঠকে আরও দৃঢ়কর,
শুধু এ কথা মেনে, তুমি সত্য-তুমি সুন্দর
তুমি সব অসম্ভবের সম্ভব।

জানো,
তুমি ছিলে বলেই,
মৃত্যুও চিরকোমল হয়ে ধরা দিল, এই আমার কাছে।
শুধু তুমি ছিলে বলেই,
মৃত্যু কাছেও কৃপা পেলাম তোমার এই আমি!
মৃত্যু বৈরী হলেও তো হতে পারত………!!!

কবি ও কবিতা

কবি হচ্ছে, পৃথিবীর সমস্ত কষ্টের,
এক অফুরন্ত ভাণ্ডার
আর কবিতা তার কেন্দ্র বিন্দু!
কবি মেঘের মত, আড়াল করে রাখে
তার সমস্ত ব্যথা-লুকিয়ে রাখে
ঝিনুকের মত, তার চোখের নোনা জল!
আর কবিতা, সেতো ফাল্গুনের কোকিলের মত-
ভেবে, না বুঝেই খুলে দিতে চায়,
তার মনোমন্দির, উজার করে দেখাতে চায়,
তার অভ্যন্তরের কালীমা, কথার মত প্রকাশ
করতে চায়-সে তার সমস্ত বেদনা।

মাক্কেল ফলকে দেখলে যেমন বোঝা যায় না,
তার ভেতরের শূন্যতা, ঠিক তেমনি কবিও
কবিও অনেকটা মার্কেল ফলেরই মত,
যাকে দেখলে, কেউই অনুভব করতে
পারবে না-তার ব্যথার গভীরতা, যন্ত্রণার
প্রখরতা, আর কষ্টের তীব্রতা!
কবি আর কবিতা, যেন দুই মেরুর দুই বাসিন্দা…..

jonakir alo

Jonakir-alo-book

You Might Also Like

No Comments

Please Let us know What you think!?

Translate »
%d bloggers like this: