jonmo vumir kobita Aslam prodhan

কৃষক দম্পতি
আসলাম প্রধান

প্রকাশকালঃ ১৪.০৯.২০২০

তুমি ঝিমাচ্ছ
কী মজা পাচ্ছ
আমি হাল চাষি মাঠে
ভূমি কাটাকাটি
করি পরিপাটি
ফের যেতে হবে হাটে !

বধূ উঠে বলে
সকালে বিকালে
আমিও কি খাঁটি কম ?
বাসন মাজাতে
রান্না সাজাতে
বেরিয়ে আসে না দম?
চলে গেলে মাঠে
বাড়িতে কী ঘটে
রাখ তুমি তার খোঁজ ?
বাচ্চা তোমার
কী যে কারবার
ঘরে করে রোজ রোজ!

করে হাঁটাহাঁটি
ভাঙে থালাবাটি
ছিঁড়ে ফেলে যত বই
বলতো কেমনে
একা গৃহকোণে
এত এত জ্বালা সই ?
তার কথা শুনি
বলি, ও গিন্নি
এটাতেই এত জ্বালা ?
তুমিই বলতো
যন্ত্রণা কত
গরু ও ছাগল পালা ?

কোন্ পশুটায়
কই ছুটে যায়
কার ক্ষেতে খায় ধান
সারাক্ষণ দেখি
আমিই একাকি
হাঁপায় না এই প্রাণ?
কী করে যে থাকি
কাদাধুলো মাখি
মাঠেতে সকল কাজে
মরি রোদে পুড়ে
তুমি থাকো ঘরে
রূপসী রাণীর সাজে !

বধূ এটা শুনে
ক্ষেপে মনে মনে
জ্বলে যায়- বলে রাগে,
চুলোর গরমে
আমার মরমে
কত না আরাম লাগে !
পাতিল নামাই
ছ্যাঁক কত খাই
একটু হলেই ভুল
দেহ পুড়ে যায়
কালি লাগে গায়
পাই না কো দিশ-কূল !

কাল থেকে এসে
আমার আবেশে
তুমি নাও সব কাজ
আমি যাব হাটে
পথে ঘাটে মাঠে
পড়বো চাষার সাজ !

দুর্জনের দেশে
আসলাম প্রধান

প্রকাশকালঃ ২৮.০৮.২০২০

অচেনা অচেনা লাগে চিরচেনা পথঘাট
একাএকা হেঁটে যান অতীতের সম্রাট ।
চিনছেনা কেউ তাকে, যে দেশের সন্তান-
পরিচিত জনেরাও করে না-দেখার ভান ।
এড়িয়ে এড়িয়ে যায় পাশে থাকা লোকজন
যারা করেছিল তার ঝুটোএঁটো ভক্ষণ ।
স্বার্থের হেরফেরে ছুটে গেছে বন্ধন
শোনে শুধু সুখময় স্মৃতিদের ক্রন্দন।
যতদিন বাহুবল, আছে ধনভাণ্ডার-
সকলেই নিকটের বিশ্বাসী কান্ডার ।
যেই মাঝরাস্তায় ইঞ্জিনে তেল নেই
নিরুপায়-অসহায় পথিকের বেল নেই !
চারপাশ লোকালয়, জনগণ- গর্জন,
মিলবে না একজন মানুষের দর্শন ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব
আসলাম প্রধান

সেকালের হলুদ বা গৌরবর্ণের অট্টালিকাগুলো দেখেই আন্দাজ করা যায়,
এ সব রাজা-বাদশাদের সুখানুভবের প্রাসাদ
এগুলোতে সাধারণের প্রবেশ ছিল অসাধারণ ব্যাপার
আশেপাশের প্রশস্ত-পরিচ্ছন্ন রাস্তাঘাট তাদের একান্ত বলে জনগনের চলাচলে থাকত বিধিনিষেধ

আজ টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
জাফলং থেকে শ্যামনগর
কুয়াকাটা থেকে ভূরুঙ্গামারী
আখাউড়া থেকে মুজিবনগর- মুজিবের স্বর্ণালী পরশ,
হাজার কিলোমিটার সুপ্রশস্ত মজবুত নান্দনিক হাইওয়ে !

পদ্মা-যমুনার প্রবল জলস্রোত
অশান্ত টেউ ভেঙ্গে নির্মিত
অতীতকে হার মানানো দৈবাকৃতির ব্রিজ- পুরো জাতির মায়াবীবন্ধন !

অসংখ্য রাজকীয় সেতু-কালভার্ট রাস্তাঘাট, অলিগলি সাধারণ বাঙালির জন্য উন্মুক্ত
হলুদ-গৌরবর্ণ ছাড়িয়ে নানা রঙে রঙিন লক্ষ লক্ষ বহুতল সুরম্য অট্টালিকা এখন কেবলি বাঙালির নয়, বাংলাদেশের সকল মানুষের নিজস্ব সম্পত্তি ।
সম্রাটদের গরু-ঘোড়া-গাধার গাড়ি
কাঠের নৌকোগুলো এখন জাদুঘরে দর্শনীয়
কত হাজার বছরের পরিবর্তন-
মাত্র ক-বছরেই !
১৯৭১ থেকে কদিনেই !
পুরো বাঙালি জাতিই আজ গর্বিত নবাব-সম্রাট !
মাত্র একজন মানুষের জন্য-
শেখ মুজিবুর রহমান
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ।

জন্মভূমির সম্মান
আসলাম প্রধান

একটা কথা হ্নদয় দিয়ে শোনো-
এ পৃথিবীর যেখানে যাও
দেশের কায়া
মাটির মায়া
ভুলো না কক্ষনো !

স্বদেশ নিয়ে গল্প কোরো
বিরক্তবোধ অল্প কোরো !

প্রচার কোরো আপন দেশে
কোথায় কী কী আছে-
গর্ব করে জানান দিও
সব মানুষের কাছে !

বলবে যা যা- ভালগুলোই বোলো
মন্দ সবই গোপন কোরে চোলো,
বিদেশিদের সঙ্গে মিশে মিশে-
খুঁজে নিও নিজের কী কী দিশে !
খাঁটিভাবে
করেও যাবে
তাদের গুণগান-
সখ্যগড়ে জন্মভূমির
বাড়িও সম্মান !

jonmo vumir kobita Aslam prodhan

Facebook Comments