Islamic poem by Foriduzzaman

কুরবানী দে
ফরিদুজ্জামান

কুরবানী দে নফসকেরে তুই অহং এবং হিংসাটাকে
মনের ভেতর বসত করা পশুটাকে কুরবানী দে
লোভ লালসা রিপুর তাড়ণ ভ্রষ্ট আচার কুরবানী দে
কাম ক্রোধ আর হীনস্বার্থ জিঘাংসাকে কুরবানী দে
পশুত্বকে বধ করে তুই লোলুপদৃষ্টি কুরবানী দে
খোদার প্রেমে মন মজিয়ে ভোগের তিয়াস কুরবানী দে
মনের কালী কুরবানী দে ত্যাগের জীবন জয় করে নে
ভেদাভেদের শোষণ নীতি মন থেকে তুই কুরবানী দে
উঁচু নাকের গলদ রীতি অসাম্যবাদ কুরবানী দে
সকল মানুষ সমান জ্ঞানে মনিবজ্ঞানকে কুরবানী দে
ভুলে গিয়ে বংশ গরব জন্ম অহম কুরবানী দে
কর্মফলের গাছ লাগিয়ে বর্ণবাদকে কুরবানী দে
আশরাফ এবং অতরাফিবোধ ভেতর থেকে কুরবানী দে
ঈদুজ্জোহা ডাক দিয়ে যায় ক্লেদ পুড়িয়ে কররে সোনা
কুরবানীতে মুক্তি মেলে পুর্ণ্যি জমে শেষ হয় গোনা

ঈদের স্বরূপ
ফরিদুজ্জামান

অসাম্যেরই পথে ধরায় ঈদের খুশি হয় না
কৃষক শ্রমিক কষ্টে থাকলে ঈদের মর্ম রয় না
নিঃস্ব মানুষ বাড়তে থাকলে ঈদ লুকিয়ে থাকে
ধনী গরিব ফারাক বাড়লে ঈদ বন্দি হয় পাঁকে
পলিশ মুখের মেকী হাসি কুটিল হৃদয় বিষ
লুটেরা কি বুঝবে বল ঈদটা কেমন চিজ?
আস্ফালনের তুবড়িতে ঈদ মাটির তলায় যায়
লুম্পেনদের দৌরাত্ম্যে ঈদ করে যে হায় হায়!
ক্ষুধায় যারা বার মাসই থাকে অভুক্ত
তাদের কাছে ঈদের খুশি অধরাযুক্ত
সিন্ডিকেটের গাঁটকাটারা বাড়ায় দ্রব্যমূল্য
থুথু দেয় ঈদ ওদের মুখে নরপশু তুল্য
কিন্তু যারা সায় দিয়ে যায় শোষণ নিষ্পেষণ
জনরোষে ঈদ জ্বালিয়ে দিক ওদের আসন

Islamic poem by Foriduzzaman

সাম্যেরই কুরবানি
ফরিদুজ্জামান

গরীব পাড়ায় কুরবানী নেই
মনখারাপে শিশু।
ভুখা নাঙ্গার গেরাম জুড়ে
দুখের বিরাট ইস্যু।
এত্তো এত্তো জবাই কেনো?
রক্তচোখে সুশীল।
অস্থিচর্মসার শরীরে
অপুষ্টি সাঁইর কিল।
ডামাডোলে শহর জুড়ে
ধুমছে জবাই কর্ম।
ধনীর খাবার বলে নীরব
সুশীল গলদঘর্ম।
এঁটোকাঁটায় বোল পাল্টে যায়
কথা কিন্তু হাঁচা।
এমন তরো সভ্য দেশে
বাঁচতে মারি কাছা।
আমরা যারা গরীব প্রজা
চিকন পাতলা সরু।
ওপর তলার পাণ্ডারা খাক
ত্যাগের মোটা গরু।
এমন তরো নিয়ম নীতি
সুশীল মেহেরবাণী
কবে পাবো সমতা আর
সাম্যেরই কুরবানি?

উৎসবগুলো সব্বার
ফরিদুজ্জামান

পূজা পার্বণ ঈদ উৎসব
দূর হয়ে যাক নীদ খুঁৎ সব।
মনের পশুর কুরবাণী
বধে অসুর – (নূর-বাণী)।
নামাজ রোজা যাকাত হজ্ব
ত্যাগে মুক্তি- (খোদার ফর্জ)।
আপন জ্ঞানের জ্বালিয়ে দীপ
ললাটে পর নূরের টিপ।
ঈদে ঢাউশ ম্যাগাজিন
নিত্য শোধে অযুত ঋণ।
চর্চা স্বস্ব সংস্কৃতি
তাতেই জাতির নিষ্কৃতি।
হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান
মুসলিম মিলন অধিষ্ঠান।
ধর্ম কর্ম হোক যার যার
উৎসবগুলো সব্বার।

শারদীয় ঈদ
ফরিদুজ্জামান

সম্প্রীতি রীতিনীতি আমাদের দেশে
হৃদভরা ঈদ পূজা সুখে যাই ভেসে।
মসজিদে সাইরেন মন্দিরে ঘণ্টা
রোজা পূজা একাকার ভরে যায় মনটা।
ইফতার ফলাহার নাড়ু-চিড়া পিয়াজি
উৎসবে মাতে সবে বাবু আর মিয়াজি।
হামদ-নাত ঢাক-ঢোল ঘুঙুর ও ঘুনসি
হাতে হাত ধরে চলে রাম বাবু মুন্সি।
কোলাকুলি শেষ করে গলাগলি ধরছে
শারদীয় ঈদে দেখি সব বুক ভরছে।

ঈদের রোশনাই
ফরিদুজ্জামান

হাটুরে বাবার সাথে যারপর নাই আনন্দে বাড়ি ফিরতাম।
ঈদের চাঁদের খোঁজে উঁকি দিত সহস্র চঞ্চল চোখ।
ভাজা সেমাই-কিসমিস-আখের মিঠাইয়ের যুথবদ্ধ ঘ্রাণে কোর্মার আয়োজনে আনা মোরগের সাথে আমরাও ধরতাম ঝিম
স্বর্গের আনন্দ স্রোতে ভাসতো ব্রহ্মাণ্ডের সরোদের নির্ঝর রিমঝিম।
সিয়ামের এতেকাফ অনিবার্য সন্ন্যাসের পর গৃহী পিরতো ঘরে
গার্হস্থ্য জীবনে বাবা আড়মোড়া ভাংতেন সমস্বরে।
নক্ষত্রের রাত জাগা মা আমার বিবিধ সুখ্যাতি ক্ষীরে সাজাতেন স্বীয় তস্তরী
ফুলের পাপড়ির মত আমরা অজস্র ভাইবোন বর্ষার সমেস্বরী যেন হুল্লোড়ে কলস্বরী।
বহুদিন পরে কৃষকের ঘরে টক দইয়ে.কোর্মায়.সেরকার স্বাদে.মোঘল ঘরানায় জাগতো ভোজন রসিক
স্বাদের কাবাব আর পোলাওর ঘ্রাণে আমীর ওমরাহ যেন ঈদের অভীক।
কোলাকুলি গলাগলি বাদশাহ-ফকিরের সৌহাদ্য সম্প্রীতি
আড়চোখে ভাবতাম- ওসব ঘোড়ার ডিম লোক দেখানো রীতিনীতি।
খানে খোদায়.. ঈদগাহে.. জিন্দাবাহারী গোরস্তানে জিয়ারতে রোশনাই কীর্তি
ভাবতাম মনে মনে রহস্যের চাদরে ঘেরা লৌকিকে ও অলৌকিকে বাঁধা এতো প্রীতি।
হাটুরে অন্ত্যজ জনে সুখ পাখি ধরা দিত মাটির ধরায়?
চাইনিতো স্বর্গসুখহুর পরী গিলবান অলীক চরায়।

Islamic poem by Foriduzzaman

Facebook Comments