শাহাবুদ্দীন নাগরী

জানুয়ারি ১৫, ২০২০
interview of shahabuddin nagori

interview of shahabuddin nagori

শাহাবুদ্দীন নাগরী’র সংক্ষিপ্ত জীবন বৃত্তান্তঃ

শাহাবুদ্দীন নাগরী বাংলাদেশের একজন প্রথিতযশা বাঙালি কবি ও সাহিত্যিক। তিনি একজন আধুনিক রােমান্টিক কবি যিনি ১৯৭০ দশকের কবি হিসেবে চিহ্নিত। তিনি শিশুসাহিত্যিক হিসেবে সমধিক সমাদৃত। তাঁর রচিত ছড়া ১৯৭০ এর দশকের মধ্যভাগ থেকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। একই সঙ্গে তিনি ঔপন্যাসিক, ছােটগল্পকার, গীতিকার, সুরকার, গায়ক এবং নাট্যকার হিসেবে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন। ১৯৯০-এর দশকে পত্র-পত্রিকায় কলাম লিখে বৃহত্তর পাঠকগােষ্ঠীর কাছে সমাদর লাভ করেন। তিনি ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। জীবিকাসূত্রে তিনি সরকারি চাকুরীজীবি। ২০০৮ সালে কলকাতায় অনুষ্ঠিত চলচ্চিত্র উৎসবে তার এক খণ্ড জমি’ সিনেমাটি প্রদর্শিত হয়। দীর্ঘকাল শিশু সাহিত্যিক হিসাবে প্রখ্যাত হলেও একবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে তিনি প্রধানত কবি এবং গায়ক এই দুই পরিচয়ে খ্যাতিমান হয়ে ওঠেন।

জন্ম, পরিবার, শিক্ষাঃ

শাহাবুদ্দীন নাগরীর ১৯৫৫ সালের ৬ অক্টোবর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবনগরে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি পিতা মহম্মদ সাবিরউদ্দিন এবং মাতা সায়েমা খাতুনের জ্যেষ্ঠ সন্তান। তার জন্ম দেশের উত্তরাঞ্চলে হলেও তিনি দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম ছিলেন এবং বর্তমানে ঢাকার বাসিন্দা। নাজনীন হাই স্কুল, তেজগাঁও, ঢাকা থেকে ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে তিনি মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হন। তিনি উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হন ১৯৭৪ সালে
চট্টগ্রাম কলেজ থেকে এবং পরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণিবিদ্যায় ১৯৭৮ সালে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮০ সালে কীটতত্ত্ব বিষয়ে বিশেষ কৃতিত্বের সাথে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তাঁর স্ত্রী ডা. এ. এন. মাকসুদা। দুইপুত্র রেহান উদ্দীন নাগরী। ও ফারহান উদ্দীন নাগরী।

interview of shahabuddin nagori

জীবিকাঃ

১৯৮০ সালে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ১৯৮২ সালে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশে সিভিল সার্ভিসে যোগদান করেন। ২০০৮ সাল থেকে তিনি শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন।

লেখালেখিঃ

স্কুল জীবনেই লেখালেখির জগতে প্রবেশ করেন শাহাবুদ্দিন নাগরী। ১৯৭১-এ। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি দৈনিক ইত্তেফাক-এর কচিকাঁচার আসর, দৈনিক বাংলা। পত্রিকার সাত ভাই চম্পা’ প্রভৃতি জাতীয় দৈনিকের সাময়িকীতে ছড়া প্রকাশ শুরু করেন। ১৯৭৬ সালে সাপ্তাহিক কিশোর বাংলা প্রকাশ হলে তিনি এর নিয়মিত ছড়াকার হিসেবে অবদান রাখতে থাকেন। একই সঙ্গে তিনি ছোটগল্প লেখা শুরু করেন। সত্তর দশকের শেষভাগে তিনি কবিতা লেখা শুরু করেন এবং অচিরেই একজন রোমান্টিক কবি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৯০ দশকে তিনি গান লেখা শুরু করেন। এ সময় তিনি টেলিভিশনের জন্য নাটক রচনাও করেন।

গানঃ

বাংলাদেশের আধুনিক গানের জগতে শাহাবুদ্দিন নাগরী একটি সুপরিচিত নাম। তিনি একাধারে গীতিকার, সুরকার এবং গায়ক। এ পর্যন্ত তার ১২টি গানের অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে। গায়ক হিসেবে উদাত্ত কণ্ঠ এবং হৃদয়স্পর্শী তানের জন্য প্রসিদ্ধ।

প্রকাশনাঃ

২০০৯ অবধি তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থে সংখ্যা পঞ্চাশটির ওপর। এর মধ্যে রয়েছে। কবিতা উপন্যাস, ছোটগল্প সংকলন, শিশুতোষ ছড়া, পত্রিকায় প্রকাশিত কলাম, প্রবন্ধ ও সাহিত্য সমালােচনা, ভ্রমণকাহিনী ইত্যাদি। তার শতাধিক কবিতার ইংরেজি অনুবাদ ২০০৫ এ গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। এরমধ্যে ভালবাসা আমার ঠিকানা (১৯৯৩), ঘাতক তুমি সরে দাঁড়াও (১৯৯৩), এক মুহূর্তে দুঃখ আমার এক মুহূর্তে প্রেম (১৯৯৫), ও দেবী ও জলকন্যা (১৯৯৮), করতলে চুমু দেয় চাদ (২০০১), মধ্যরাতে পেয়ে দিলাম চুমু (২০০১), দরজায় দাঁড়িয়ে আছি (২০০৪), দোলে ওঠে রূপালী চাদর (২০০৬), মুছে যায় জলরঙ ছবি (১০৮) বষ্টি ও জোছনার কবিতা (২০০৯), জলের নিচে জলছায়া (২০১০), যেখানে খনন। করি সেখানেই মধু (২০১৪) উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ। ছড়ার ঘুড়ি উড়াউড়ি (১৯৭৭), নীল। পাহাড়ের ছড়া (১৯৭৮), প্রতিদিনের ছড়া (১৯৮৯), ছড়ার হাট (১৯৯০), নকশীকাটা ছড়া (৯৯৯), ছড়ার জন্য লড়তি (২০০২), ছড়ার পালকি (২০০২) প্রভৃতি ছড়াগ্রন্থ। এছাড়াও তার রচিত উপন্যাস, ছোটগল্প, প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ভ্রমণকাহিনীর বই প্রকাশিত হয়েছে।

সন্মাননাঃ

২০০৫ এ তিনি শ্রেষ্ঠ টিভি নাট্যকার হিসেবে কালচারাল জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েসন অব বাংলাদেশ কর্তৃক পুরস্কৃত হন। ২০১১ এ তিনি কবিতালাপ পুরস্কার লাভ করেন। ২০১২ এ তিনি কবিতাপুর বইয়ের জন্য সিটি-আনন্দ আলো সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।

কবিতাকে চিত্রকল্প, বাণী ও ভাষার এক মিশেল দিয়ে | নির্মাণ করতে চাই : শাহাবুদ্দীন নাগরী

(কবিতা জাগরণ-এর প্রতি সংখ্যায় একজন কবি পাঠকের মুখােমুখি হন। সে ধারাবাহিকতায় এবারকার কবি শাহাবুদ্দীন নাগরী। তার এই কথােপকথন থেকে জানা যায় কবিতার নানা গতি-প্রকৃতি, বর্তমান ও ভবিষ্যতের কবিতার এক মর্মকথা।)

কবিতায় জাগরণঃ

আপনার প্রথম লেখা প্রকাশের অভিজ্ঞতা যদি বলেন?

শাহাবুদ্দীন নাগরীঃ

সেটা ১৯৬৯ সালের কথা। আমরা তখন ঢাকায় থাকি। আমার মুদ্রিত প্রথম লেখা ‘আমি কবি’ প্রকাশিত হয়েছিলাে অধুনালুপ্ত দৈনিক আজাদের । মুকুলের মহফিলে’। ছােটদের জন্য লেখা। নিয়মিত লেখা পাঠাতে পাঠাতে যখন অস্থির হয়ে উঠেছিলাম তখন এই লেখাটি একদিন ছাপা হয়ে যায়। পত্রিকার পাতায় | নিজের মুদ্রিত নামটি দেখে কী যে খুশি হয়েছিলাম তা আজ বলে বােঝানাে যাবে না। | অনেকগুলাে কপি কিনে সংরক্ষণ করেছিলাম, স্কুলে বন্ধুদের এবং শিক্ষকদের দেখিয়েছিলাম। আব্বা-মা, ভাইবােনেরা খুউব খুশি হয়েছিলাে। তবে, আমার প্রথম লেখা প্রকাশিত হয়েছিলাে স্কুলের দেয়ালপত্রিকা ‘সবুজ পাতা’য়। এখন তাে দেয়ালপত্রিকা প্রকাশের রেওয়াজ উঠে গেছে। তখন আমরা রাত জেগে অনেক কষ্ট ‘রে দেয়ালপত্রিকা প্রকাশ করতাম। কেউ লেখার কাজটি করতাে, কেউ ছবি আঁকার। এক অন্যরকম অনুভূতি ছিলাে সেসব প্রকাশনায়।

কবিতায় জাগরণঃ

বর্তমান বাংলা কবিতার অবস্থা নিয়ে আপনার মতামত জানতে চাই?

শাহাবুদ্দীন নাগরীঃ

বাংলাদেশে বাংলা কবিতার অবস্থা মােটেও সুখকর নয়। গত ১৫/২০ বছরে বাংলা কবিতার পাঠক কমেছে অস্বাভাবিক হারে। স্বাধীনতা পরবঙ্গ সময়ে সাহিত্যের সব শাখার মধ্যে বাংলা কবিতার পাঠকের সংখ্যা ছিলাে সবচেয়ে বেশি। কারাে একটি কবিতার বই প্রকাশিত হলে তা মুড়ি-মুড়কির মতাে বিক্রি হয়ে যেতাে। একটি সশস্ত্র যুদ্ধের পর বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ায় তখন পরিবেশ ছিলাে একেবারে নতুন, নতুন দিগন্তপ্রসারী বাংলাদেশ কবিদের সামনে খুলে দিয়েছিলাে নতুন আত্মপ্রত্যয়। তাছাড়া, অনেকেই কোলকাতা ঘুরে আসায় সেখানকার কবিতা সম্পর্কেও একটা ধারণা পাওয়া গেছে। বিশ্বসাহিত্যের অনেক অজানা-অচেনা পথ খুলে গেছে কবিদের সামনে। গত শতাব্দীর পুরাে সত্তর দশক কবিতার জয়জয়কার ছিলাে। আশির দশকে রাজনৈতিক কারণে কবিতার আবির্ভাব ঘটে ভিন্নরূপে, ভিন্ন আঙ্গিকে। এ সময় অনেক নতুন কবির আগমন হয়। এরা কবিতাকে যতােটা কাব্যিক তার চেয়ে বেশি পরিমাণে নিয়ে আসে শক্র হননের হাতিয়ার হিসেবে। ১৯৯০ সালে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশের কবিতা আস্তে আস্তে হারাতে থাকে তার কাব্যগুণ। কবিতার বই প্রকাশ সহজ হয়ে যায় কম্পিউটার প্রযুক্তির বাংলাদেশে আগমন উপলক্ষে। যেটি এখনও অব্যাহত আছে। আমি অনেক সিনিয়র ও প্রয়াত কবিদের প্রথম বই প্রকাশের গল্প পড়েছি। সেসব থেকে জেনেছি সেসব বই প্রকাশে তাদের কতাে শ্রম ব্যয় করতে হয়েছে। কবিতা বাছাই, কম্পােজ করা, প্রচ্ছদ করা ইত্যাদি সব কাজই ছিলাে ম্যানুয়ালি। কাঠের ব্লকে প্রচ্ছদ করার কথা এখন তাে কেউ কল্পনাও করতে পারবেন না, কী পরিশ্রমের ব্যাপার ছিলাে সেটা। এতাে পরিশ্রমের কারণে কবিরা বই যেটি বের করতেন তাতে ভালাে ভালাে কবিতা সংকলন করতে চেষ্টা করতেন। আর্থিক ব্যাপারটাও গুনতে হতাে। সব মিলিয়ে তখন কবিতার বই হতাে অনেক প্রচেষ্টার ফল। তখন পত্রিকা কম ছিলাে বলে ভালাে কবিতা লেখার একটা প্রবণতা সবসময়ই থাকতাে। সম্পাদকরাও ছিলেন বয়সী এবং সেরা সাহিত্যিক। তাদের হাত দিয়ে ভালাে কবিতাই প্রকাশিত হতাে পত্রিকাগুলােতে। এখন কবিতা প্রকাশ করা মােটেও কষ্টসাধ্য কাজ নয়। পত্রিকা না ছাপালে নিজেরাই পত্রিকা/ম্যাগাজিন বের করে সেখানে কবিতা ছেপে দেয়া যায়। কেউ না ছাপালে সামাজিক যােগাযােগের মাধ্যমগুলােতে তাে আছেই। আসলে আমি বলতে চাচ্ছি, এখন অনেকে মনে করেন কবিতা লেখা কোনাে কষ্টসাধ্য কাজ নয়। মন যা চাইছে লিখে দাও, কবিতা হয়ে যাবে। এইসব কবিতা যখন প্রচ্ছদে শােভিত হয়ে মলাটবন্দি। হয় এবং বাজারে আসে, তখন পাঠক এসব পড়ে বীতশ্রদ্ধ হয় কবিতার প্রতি। এভাবেই পাঠক কমেছে। ভালাে কবিতার বই চিহ্নিত করার উদ্যোগও দেখি না কোথাও। দেশসেরা কবিদের নতুন কবিতার বই যদি ২৫০ কপি বিক্রি হয়, তখন বঝতেই হবে বাংলা কবিতার বড়াে দুর্দিন চলছে এখন।

কবিতায় জাগরণঃ

বাংলা সাহিত্যের দুর্দিন যাচ্ছে বলে অনেকে হৈ চৈ করেন, এর কারণ কী? শাহাবুদ্দীন নাগরী : এর মূল কারণটা আমি আগের প্রশ্নের উত্তরেই কিছুটা দিয়েছি। আসলে বলতে চাচ্ছি, যে জিনিস পেতে বা অর্জন করতে অনেক শ্রম ও মেধার প্রয়ােজন হয়, সে জিনিসের মূল্য কিন্তু অনেক বেশি। তার মানে এই নয় যে, | প্রযুক্তিকে আমরা অবজ্ঞা করবাে। তা নয়। অবশ্যই সাধুবাদ জানাবাে। আর একটি কথা, এত ডামাডােলের ভেতরও কি তরুণ কবিদের ভালাে ভালাে কবিতার বই বের হচ্ছে না? হচ্ছে। কিন্তু সেটা ভিড়ের মধ্যে অকবিতার ভেতর হারিয়ে যাচ্ছে। এসব তরুণ কবিদের ভালাে বইগুলাে তুলে এনে প্রচার ও প্রসারের ব্যবস্থা করতে হবে। ভালাে কবিতা নিয়ে প্রচুর গবেষণা হওয়া দরকার। সাধারণ পাঠকের কাছে ভালাে কবিতার বইগুলাে পৌছুনাের ব্যবস্থা করতে হবে। এতে অবশ্যই আমাদের সাহিত্যের দুর্দিন কেটে যাবে বলে আমার বিশ্বাস।

কবিতায় জাগরণঃ

এপার বাংলা-ওপার বাংলার সাহিত্য নিয়ে বিভাজন করেন অনেকে, এটা কেন হয়? শাহাবুদ্দীন নাগরী : সীমান্ত আছে বলেই এপার বাংলা-ওপার বাংলা’র বিভাজনটি এসেছে। কবিতা এদেশে লেখা হচ্ছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও হচ্ছে। উভয়েই বাংলা ভাষায় লিখছি। কিন্তু আমার মনে হয় বাংলাদেশের কবিতায় যতাে রিফর্ম করতে চেয়েছেন ভালাে কবিরা, ভারতে সেটা হয় নি। আসলে এটা হয়েছে কবির চারপাশের দৃষ্টিগ্রাহ্য পরিবেশের কারণে। বাংলাদেশের কবিরা যে চোখে চারপাশ দেখে পশ্চিমবঙ্গের কবিরা আমার মনে হয় সেভাবে দেখতে পারেন না। তাছাড়া, ওপারে হিন্দি ভাষার প্রতাপের কারণে বাংলা ভাষার নতুন বিন্যাস সম্ভব হয় না। আমাদের সাহিত্য, বিশেষ করে কবিতা, যার ভেতর চিত্রকল্প জমা হয়, সেই কবিতা বাংলাদেশ নামক ভূখণ্ডে যতােটা পরিশীলিত ও বিস্তারিত, পশ্চিমবঙ্গের কবিতাতে তা খুঁজে পাওয়া কষ্টকর হয়ে ওঠে। তাই বলে যে ওখানে ভালাে কবিতা বা কবি নেই তা নয়। তবে কেন জানি, পাঠক হয়ে যখন কবিতা পড়ি তখন বুঝতে পারি এপার বাংলাওপার বাংলার কবিতার চরিত্রগত পার্থক্য।

কবিতায় জাগরণঃ

কবিতা নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?

শাহাবুদ্দীন নাগরীঃ

ব্যক্তিবিশেষ কোনাে পরিকল্পনা নিয়ে কবিতা লিখলে হয় তার কবিতা খুব জনপ্রিয় হয়ে যায়, নয় তিনি জঞ্জালের মধ্যে নিক্ষিপ্ত হয়ে হারিয়ে যেতে পারেন। তাই আমার পরিকল্পনা নয়, কিছু কাজ আছে। আমাদের কবিতা থেকে, আগেই বলেছি, পাঠক মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। আমি নতুন এক ফরম্যাটে কবিতা লিখতে চাচ্ছি, ইতােমধ্যে কিছু লিখেছি, সেগুলাে প্রকাশিত হয়েছে। যারা আমার পাঠক তারা জানেন, আমি কবিতাকে মনে করি চিত্রকল্পের এক জমাট আধার। চিত্রকল্প যেখানে – নেই এবং সেই চিত্রকল্প যখন প্রতীক-উপমায় পঙক্তিতে উঠে না আসে তখন তা কবিতা হয়ে ওঠে না। আমি কবিতাকে চিত্রকল্প, বাণী ও ভাষার এক মিশেল দিয়ে নির্মাণ করতে চাই। জানি না আমার সহযাত্রী কেউ হবেন কি না।

কবিতায় জাগরণঃ

কবিতা প্রচার ও প্রকাশের গুরুতু ইদানিং এত প্রকট যে কবিতার ভালাে মন্দ বিচার করা কঠিন। এর থেকে মুক্তির পথ কেমন হতে পারে।

শাহাবুদ্দীন নাগরীঃ

যারা ব্যক্তি উদ্যোগে বইপত্র প্রকাশ করেন তাদের কথা আলাদা। টাকা-পয়সা থাকলে সাত দিনে একটি কবিতার বই প্রকাশ করে ফেলা সম্ভব। লিটল ম্যাগ যারা করেন তারাও ইচ্ছেমতাে কবিতা প্রকাশ করতে পারেন। সামাজিক যােগাযােগের মাধ্যমগুলােতেও বহু কবিতা প্রকাশিত হচ্ছে। ভালাে কবিতা মন্দ কবিতা এইসব মাধ্যমগুলাের সেন্সরশিপে থাকে না। কেউ কারাে কলম তাে আর আটকে রাখতে পারি না? তবে যারা বিভিন্ন পত্রিকায় চাকুরি করেন, সাহিত্যপাতা সম্পাদনা করেন, তারা একটি দায়িত্বপালন করতে পারেন। ভালাে কবিতা খুঁজে বের করে তা প্রকাশ করতে তাদের হাতিয়ারটা তারা ব্যবহার করতে পারেন। এ ধরনের সাহিত্যপাতা বা ম্যাগাজিন যে হচ্ছে না তা নয়, হচ্ছে এবং সেগুলাে আমরা যথেষ্ট মূল্য দিয়ে পড়ছি। সংগ্রহে রাখছি বার বার পড়ার জন্য। অকবিতা আসলে টেকে না, ধুয়ে-ভেসে যায়, কিন্তু সেটার জন্য দুঃখ ভােগ করতে হয় ভালাে কবিদের। তারাও ঐ ভেসে যাওয়ার ভেতর থাকেন কি না এই আশঙ্কায়।

কবিতায় জাগরণঃ

তরুণদের লেখালেখি সম্পর্কে আপনার মতামত।

শাহাবুদ্দীন নাগরীঃ

আমি তরুণদের ব্যাপারে ভীষণ আশাবাদী। অনেক তরুণ কবির কবিতা পড়ে আমি বিস্মিত হয়ে যাই। তাদের ভাব-ভাষা আমাকে মুগ্ধ করে রাখে। এই তরুণদের কাছে আমাদের সবার প্রত্যাশা অনেক। তারা মাঝে মাঝে নতুন। আঙ্গিকে লেখার চর্চা করছেন, এটা ভালাে। নতুন কবিতা যদি তাদের হাত দিয়ে। মামবা পাই তবে বাংলা কবিতার জন্য নিঃসন্দেহে তা একটি সুখকর বিষয় হবে। এইসব তরুণদের ফোকাস করা দরকার। পত্রপত্রিকায় এদের বই নিয়ে আলােচনা হলে পাঠকরাও তা জানতে পারবেন।

সমাপ্ত

You Might Also Like

No Comments

Please Let us know What you think!?

Translate »
%d bloggers like this: