ইদ্রিস রহমান

জুলাই ১৯, ২০২০
Idris Rahman poem

Idris Rahman poem

কবি ইদ্রিস রহমান এর পরিচিতিঃ

Rating: 4 out of 5.
Idris Rahman poem
Idris-Rahman

এই সময়ের জনপ্রিয় কবি ইদ্রিস রহমান জন্ম- ০৫ জুন ১৯৭৪ সালে গোপাল গঞ্জ এর টুংগিপাড়া জেলার গিমাডাঙ্গা(উত্তর পাড়া) গ্রামে। পিতা মৃত বাসির উদ্দি (বচন) মুন্সী এবং মাতা মৃত রুবিনা বেগম । ছবি আঁকা, লেখালেখি ও আড্ড দেওয়া তার ভীষণ পছন্দ।

পুরস্কার ও সন্মাননাঃ

কবি ইদ্রিস রহমান এর কবিতা সমুহঃ

ভিন্ন অভিষেক

প্রকাশকালঃ ০২-০৮-২০২০

জীবনের সুখসঙ্গ রুদ্ধ হলে সখ্যতৃষ্ণা মনের
অমীমাংসিত সৈকতে জেগে ওঠে
নীলিমার ক্যানভাসে জড়ো হয় এপিটাফ-পোর্ট্রেেটর
চোখের জল

আকাশ গ্যালারি জুড়ে এলিজির কম্পোজিশন,
শব্দ জলের ছবি, ঘাম-নুন, ফসিল সিম্ফনি
প্রশ্বাস বাতাসে বিষাদের রণপর্ব নাচে
রাজ-অম্লের সোনাগলা শূন্যতায়।

বুকের জমিন খুঁড়ে নিবিড় সখ্য হলে
স্ফটিক কেটে বন্ধুর ভাস্কর্য গড়ি
তার সাথে দেখা হয় না বহুদিন অথচ তার অনুসঙ্গগুলো
জেগে আছে।

জ্যোত্স্নাজলের টানে সাতরং, মিথশব্দের বৃষ্টি,
ভ্রমণ বৈঠায় জল পাঁকানোর ধ্বনি, দুর্দান্ত স্মৃতিঝড়ে
ভেসে ওঠে বন্ধুর মুখ।

আলোকিত আপন, মনের ভেতর বন্ধুসঙ্গ
ভারাক্রান্ত সময় কান্তি ঝেড়ে জমায় ভিন্ন অভিষেক।

অসহায় জনগণ
ইদ্রিস রহমান

প্রকাশকালঃ ২৯-০৭-২০২০

বাহিরে যেতে মানা
ভাইরাস করোনা
চারিদিকে বন্যার পানি
ধেয়ে আসে থৈ থৈ
অসহায় জনতা
বল তারা যাবে কই।

পড়ে বন্যার কবলে
ভবনটা ধসে জলে
পাহাড়টা ধসে পড়ে
কেড়ে নেয় কত প্রান
নদ-নদী পাড় ভেঙে
বসতি করে ম্লান।

অসহায় শিশুরা
ঘরেতো বন্দি তারা
ঘরকুনো না থেকে
যেতে চায় বাহিরে
আর কত এভাবে?
অন্তর কেঁদে মরে।

সরকারী চাকুরে
চলে কি’যে বাহারে
মাস শেষে বেতনটা
চলে আসে পকেটে
খেটে খাওয়া মজুরের
অনাহারে দিন কাটে।

মহামারি দুর্যোগে
ভাগ কষে ওরা আগে
সরকারী ত্রাণ আসে
কত শত টনে টন
লুটেপুটে খায় ওরা
পায়না তা জনগণ।

নতুন ভোরের আশায়
ইদ্রিস রহমান।

আর কতদিন কাটবে প্রভূ
এমন দুর্বিষহ দিন,
লক ডাউনে পড়ে এখন
বেকার, কাজ কর্মহীন।

ঘরের বাহির হলে ভয়ে
দুরু দুরু মন
না জানি কার সংস্পর্শে……
ভাবায় সারাক্ষণ।

দেশে কিংবা পরবাসে
শ্রমিক দিশেহারা,
নিশ্চয়তা নাইযে কোন
ধুঁকে ধুঁকে মরা।

থমকে গেছে ভাগ্যের চাকা
জীবন কাকে বলে
ঘরে অনাহারে অর্ধাহারে
স্ত্রী কন্যা ছেলে।

এনজিওরা রাত পোহালে
দেবে এসে হানা
খাবার তরে নাইযে ঘরে
এক মুষ্টি দানা।

এমন হাজার পরিবারে
চলছে হাহাকার
সুযোগ পেলেই খাচ্ছে মেরে
গরিবের অধিকার।

লক্ষ কোটি টাকা দিচ্ছে
কেবল শুনি মিডিয়ায়
নেতার কাছের মানুষ গুলোই
কেবল লুটেপুটে খায়।

মুখ চিনেও দিচ্ছে ত্রান
মেম্বার সাবের চেলায়
গরীবে না পাইলেও পায়
ছলিম উদ্দির পোলায়।

চায় না বাঁচতে কারো দয়ায়
যাদের মনে জোর
কাল রাত্রি বিদায় হয়ে
আসবেই নতুন ভোর।।

মাথা মোটা
ইদ্রিস রহমান

ওরে মগজ শূন্য মাথা মোটা
তুইও নাকি পুরুষ বেটা।
কাব্য রসে করে রঙ
ঘরের বউকে করিস ব্যাঙ্গ।
ঘরে বউ আর বাইরে পুলিশ
পরের কাছে করিস নালিশ।
পর নিন্দায় বেজায় পটু
ভাল থুইয়ে বলিস কটু।
কোয়ারেন্টাইনে থাকতে কষ্ট?
আসলে তোর মাথা নষ্ট।
নারী-ই হলো সর্ব শ্রেষ্ঠ
তুই আমি ফাটা কেস্ট।
সংসারে সুখ নারীর গুনে
তাকে ছোট করিস কেমনে।
নানান রকম অজুহাতে
ইচ্ছেযে তোর বাইরে যেতে।
দশের কথা নাইবা ভাবিস
পরিবারটা আগলে রাখিস।
পরিবার থাকলে সুরক্ষিত
থাকবি তুইও অক্ষত।
নিজের দিকে না তাকিয়ে
থাকিস অন্যের গীবত নিয়ে।
কয়েকটা দিন ধৈর্য্য ধরে
বসে একটু থাকনা ঘরে।
ছোট ছোট ছেলে মেয়ে
খুশি তোকে কাছে পেয়ে।

Idris Rahman poem

পেঁয়াজ রম্য
ইদ্রিস রহমান

গানে তো আর নেই রেওয়াজ
সবার রেওয়াজ নিয়ে পেঁয়াজ
ফেসবুকে সব দেখি,
আমার মনেও সাধ জেগেছে
একটু খানি লেখি।

পেঁয়াজ নিয়ে রম্য ছড়া
লাগাম ছাড়া ছুটছে ঘোড়া
চলছে হাহাকার,
মজুতদারে পকেট ভারি
এতে কি এসে যায় তার।

পেঁয়াজের দাম চড়া দেশে
আমি কিনলাম মাত্র বিশে
গিন্নির দুইশ ষাটে,
বাজার করতে গিয়ে গিন্নি
হাত দেয় ললাটে।

বলে ওগো বাবুর বাপ
পেয়াজ এখন অভিশাপ
বুদ্ধি একটা করি,
পেঁয়াজ ছাড়াই এখন থেকে
রাঁধবো তরকারী।

কেউবা পেঁয়াজ মালা করে
ব্যাঙ করে গলে পরে
আহা চমৎকার
প্যাকেট করে বিয়েতেও
দিচ্ছে উপহার।

এ কেমন নিঠুর খেলা
ইদ্রিস রহমান।

কারো মনে ঈদের খুশি
কারো চোখে জল
এ কেমন নিঠুর খেলা
বিধাতা তুই বল।

অল্পতে আজ মন ভরে না
দিচ্ছো ছুড়ে ফেলে
পুরান জামা, পুরান জুতা
তাতেও আমার চলে।

কোথায় আমার বুকের মানিক
কোথায় আপনজন
একলা ঘরে গুমড়ে কাঁদি
মানে না যে মন।

একটু খানি সুখের তরে
স্বপ্ন নিয়ে বুকে
কেউবা থাকে অনাহারে
কেউ বা মরে ধুকে।

সুখতো সে সোনার হরিন
ধরা নয়তো এতো সোজা
চোখ বুজলেই ভেসে ওঠে
মাথায় ঋনের বোঝা।

জীবন যৌবন নিঃশেষ হলো
তুচ্ছ করে জীবন
নিজেকে আজ বিলিয়ে দিয়ে
গড়ছি তাদের ভুবন।

কঠিন নেশা
ইদ্রিস রহমান

যত ছেড়ে যেতে চাই
ততই টেনে ধরে
ছেড়ে যাবো কিকরে
ফোবুর নেশায় ধরেছে
যত ছেড়ে যেতে চাই
ততই টেনে ধরে।
জানা ছিলনা আগে
ফেবুর এত যে নেশা
না দেখলে বন্ধু সবেরে
বেড়ে যায় মনের তৃষা
বল না থাকি কিকরে
ফেসবুক তোকে ছেড়ে
যত ছেড়ে যেতে চাই
ততই টেনে ধরে।

আনমনে ভাবনা
ইদ্রিস রহমান

পাহাড় তলে দাঁড়িয়ে আমি
আনমনে ভাবছি তোরে
পাথর চাঁপা কষ্ট আমার
তুই আছিস কোন সু-দুরে।

পাথর কে তাই বলছি আমি
তোর মত কি করবি মোরে
তোর বুকে জমা দুঃখ গুলো
বাহিয়ে দিস ঝর্না করে।

সাগরকেও বলি ওরে
তোর মত কি কর করবি মোরে
কষ্ট গুলো ঢেউয়ের তালে
ভাষিয়ে দিস লোনা জলে।

আমার দুঃখ দেখেও তোরা
চুপটি থাকিস কেমন করে
ভালবাসার ময়না পাখি
আজ আমার থেকে অনেক দুরে।

Idris Rahman poem

আমার স্বপ্ন
ইদ্রিস রহমান

তুই আমার সাত রাজার ধন
একটি মানিক রতন
তুই যে আমার রাজার কুমার
আমার চোখের স্বপন।

আমার পিঠে ঘোড়ায় চড়ে
ঘুরতিস ফ্লর জুড়ে
নামিয়ে দিলে কান্না করে
আবার বসতি চড়ে।

কাধে নিলে বলতিস বাবা
তুমি কত ভাল
তুই যে আমার জীবন প্রদীপ
তুই যে আশার আলো।

তোকে রেখে দুরে থাকি
মন থাকে না বশে
তোর কথা বাপ মনে হলে
দুচখ জলে ভাষে।

আজও ভুলিনি সেই স্মৃতি
ইদ্রিস রহমান

চলে গেলে চিরতরে অভিমান করে, একটি বারও ভাবলে না
তোমার আদরের খোকার কথা,
স্বার্থপরের মত নিযের কথাই কেবল ভাবলে,
তোমার স্মৃতি বুকে নিয়ে
অবহেলা আর অনাদরে বড় হয়েছে তোমার খোকা।
৩৭ বছর আগের সেই স্মৃতি মনে পড়লেই গুমড়ে কেঁদে ওঠে বুকে ভেতরটা,
কোন এক পড়ন্ত বেলায়
তুমি যাচ্ছিলে গায়ের মেঠপথ দিয়ে দক্ষিণ বড়ি,
হঠাৎ পথিকের পায়ের শব্দে
থমকে দাঁড়ালে আঁচল দিয়ে মুখ ঢেকে ছোট্ট খেজুর গাছের আড়ালে।
আমিও দাড়িয়ে ছিলাম
কোমল হাতে তোমার হাতটি ধরে,
আজও ভুলতে পারিনি সেই স্মৃতি।

পাল তোলা পানসী নায়ে
গায়ের বধুকে নাইওর যেতে দেখলেই মনেপড়ে সেই দিন গুলির কথা।
আমাদের কে সাথে নিয়ে
পানসী নায়ে তুমি নাইওর যেতে,
বিল ভরা শাপলা ফুল দেখে
আনন্দে নেচে উঠতাম,
শাপলা ফুলের মালা করে তুমি
আমার গলায় পরিয়ে দিতে
আজও ভুলতে পারিনি সেই স্মৃতি।

তোমার পাঁচ বছরের সেই ছোট্ট খোকা আজ অনেক বড় হয়েছে।
মা গো তুমি কি আমায় দেকতে পাও,
আমি আজও তোমায় দেখি
ঝিলে ফোটা শাপলা ফুলে,
রাতের দুর আকাশের নক্ষত্রের মাঝে।

পারিনি আমি
ইদ্রিস রহমান

পারিনি মনের মাধুরী মিশিয়ে তোমার মত করে কবিতা লিখতে,
পারিনা বাসতে ভালো তাদের মতকরে,
যারা ভালবেসে ইতিহাস গড়েছিল।
তোমায় ভালবেসেছি শুধু আমার মত করে।
পারিনি কিশোর, হেমন্ত কিম্বা সুবির নন্দীর মত করে গান শুনিয়ে তোমাকে মুগ্ধ করতে, পরিনি মোনালিসার মতকরে তোমার ছবি ক্যানভাসে আঁকতে,
তবে, পেরেছি আমার মত করে
মনের ক্যানভাসে স্বপনের রং তুরিতে তোমার ছবি আঁকতে।

Idris Rahman poem

You Might Also Like

No Comments

Please Let us know What you think!?

%d bloggers like this: