শ্রাবনের ধারা ছোট গল্প

অক্টোবর ৩১, ২০১৯
golpo sraboner dhara

golpo sraboner dhara (শ্রাবনের ধারা ছোট গল্প)

তাপস শূর (কোলকাতা)

কবিতায় জাগরণ ব্লগ

golpo sraboner dhara:

আজ শ্রাবন মাসের তিন তারিখ।সকাল থেকে আকাশ, নিজেকে একটা কালো চাঁদরে মুড়িয়ে নিয়েছে।গত রাতে কয়েক পশলা বৃষ্টি হলেও পূর্নিমার চাঁদ দেখা দিয়ে ছিল মাঝে মাঝে।তখন একটি বারের জন্য মনে হয়নি,আজ সকাল থেকে এমন ভাবে শ্রাবন, দখলে নেবে আকাশকে।

শিল্পী বাবা মা এর একমাত্র মেয়ে,তার জন্ম হয়েছিল বাংলাদেশে।কিন্তু তার সবকিছুই এদেশে,মাত্র পাঁচ বছর বয়সে,১৯৭০ সালের কোন এক দুর্যোগ পূর্ন শ্রাবনের রাতে ঘুটঘুটে অন্ধকার,কাল মেঘের বুক চিরে ঝম,ঝম করে অঝোরে বৃষ্টি ঝরছে।আকাশ ফাটার গুরুম গুরুম শব্দে কেঁপে উঠছে চারিদিক।শাঁ,শাঁ আওয়াজে ছুটে আসা ভেজা ঠান্ডা বাতাস তীরের মত শরীরে এসে বিধছে ।

ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক, ব্যঙের কান্না,-না জানি আর কত ভৌতিক আওয়াজ চেপে ধরেছিল রাতের গলা।সেই দুর্যোগ পূর্ন রাতে সমীর বাবু তার স্ত্রী কমলা ও একমাত্র মেয়ে শিল্পীকে বুকে চেপে বাংলাদেশের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করল,অপ্রকাশিত ভয়ে পালিয়ে এসে ছিল ভারতে। সঙ্গে এনেছিল শুধু টাকা,-বেশ কিছু টাকা-যা বহন করতে তার ঘিন্না হচ্ছিল।কারন ঐ টাকা গুল সে পেয়েছিল,নিজের পিতৃপুরুষের সোনার ফসল ফলা ভিটে-মাটি জলের দরে বিক্রি করে।যা তার কাছে ছিল “মা” কে বিক্রির সমান।সেই রাতেই চোরা পথে ঝাঁউডাঙা বর্ডার পেরিয়ে উপস্থিত হয়েছিল চাঁদপাড়ায় এক আত্মীয়র বাড়ী।

golpo sraboner dhara:

এর কিছুদিন পর সমীর বাবু ভারতে স্থায়ী ভাবে বসবাস করার জন্য আত্মীয়র সহযোগিতায় অশোক নগরে দু-কাটা জমি কিনে একটি দরমার বাড়ী তৈরী করেন।বাংলাদেশ থেকে আনা সমস্ত টাকাই তার শেষ হয়ে গেল বাড়ী তৈরী করতে গিয়ে।অবশেষে টিটাগড়ে জুটমিলে একটি কাজ যোগার করে,কোন মতে সংসার চালাতে লাগলেন সমীর বাবু।

মাঝে বার সাতেক ধর্মঘটের জন্য জুটমিল বন্ধ হলেও,সকালে টিটাগড় আর বেশী রাতে অশোক নগর, দেখতে দেখতে এ ভাবেই কেটে গেল চব্বিশটা বছর। হাড় ভাঁঙা পরিশ্রমের ফলে সমীর বাবু এখন আর সিঁধে হয়ে দাঁড়াতে পারেন না।তার মেয়ে শিল্পী ইতিমধ্যে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছে,কিন্তু পয়সার অভাবে তার আর পড়া সম্ভব হয়নি।পাঁচ বছরের শিল্পী এখন উনত্রিশ বছরের পূর্ন যুবতী।বাড়ীতে সুন্দরী বিবাহ উপযুক্ত মেয়ে এই চিন্তা অভাবী সমীর বাবুকে আর কাবু করে দিচ্ছে।অভাবের মেঘ সবসমায়ের জন্য

সমাচ্ছান্ন সমীর বাবুর সংসারে।তবু জুটমিলের কাজের সুবাদে দুবেলা দু-মুঠো জুটে যেত,কিন্তু গত এক বছর তিনি আর কাজে বেরোতে পারেন না।সুতরাং যত টুকু জোটে তা ঐ মেয়ের টিউসনির চার,পাঁচশো টাকায়। তাদের এই দুঃঅবস্তা দেখে রাস্তার হাড়গিলে কুকুর গুলও লজ্জা পেত কোন এঁঠো কাঁটা না পেয়ে।এই অবস্তার মধ্যে সমীর বাবুর স্ত্রী কমলা দেবী কবে মানুষিক রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন তা বুঝতে পারেনি বাবা ও মেয়ে।এখন প্রায় দিন কবলা দেবী কখন চালের ড্রাম ধরে কাঁদেন,বলে

“আমার চাল গুল সব নিয়ে গেল” কখন লক্ষী পূজোর জন্য রাখা ধানের শিশি থেকে ধান গুলো মাটিতে ছড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলেন “আমার বস্তা বস্তা ধান গুল ওরা নিয়ে চলে গেল” চৌকির কোনে লুকিয়ে বিড় বিড় করে বলতে থাকেন, “ঐ ওরা আসছে কেউ বলোনা, কেউ বলোনা, আমি শিল্পীকে লুকিয়ে রেখেছি,কেউ খুজে পাবে না”।

golpo sraboner dhara:

শিল্পী সারা দিন বাচ্চাদের পড়িয়ে যে কটা টাকা পায় তাদিয়ে কোন দিন খাওয়া জোটে কোন দিন জোটে না।শ্রাবনের কালো মেঘের ফাঁক গেলে হঠাৎ যখন এক চিলতে রোদ ঝলক দিয়ে বেড়িয়ে আসে,তখন রোদ প্রত্যাশী মানুষের চোখ তাকে গিলে খেতে চায়।তার পরশ পাওয়ার জন্য পাগল হয়ে ওঠে।শিল্পীর যৌবন যেন সেই ভরা শ্রাবনের এক ফালি রোদ।জীর্ন দর্মার ফাঁকদিয়ে অভাবিত বস্ত্রের শতছিদ্র গেলে, উজ্জ্বল হীরের মতন ঝলমল করতে থাকে।সেই ঝলকের পরশ পাওয়ার জন্য,আস্তাকুরে পড়ে থাকা খাওয়ার উপর মাছি যেমন ভন্ ভন্ করে,মানুষ রুপি মাছির দলও তেমনি বিভিন্ন প্রলোভনের পাখনা মেলে শিল্পীর যৌবনের চারপাসে ভনভন করতে লাগলো।

রোগ শজ্জায় শায়িত সমীর বাবুর চোখে এই সকল দৃশ্য এরিয়ে যায় না।তাই ভয়ে এক মহুর্ত চোখ বুজতে পারেন না সমীর বাবু।তার চোখের আলো ক্রমস ক্ষীন হয়ে আসতে থাকে,কেন যেন আজ বহু বছর পর তার চোখে আবার ভেসে উঠল,সেই পদ্মার পাড়,সবুজের বেড়া দিয়ে ঘেরা ছোট্ট গ্রাম,আঁকা বাঁকা মেঠো রাস্তা,ঘন নীল আকাশ ছবির মত তাদের বাড়ী।মাঠ ভর্তি সবুজ ধান,গোলা ভর্তি ধান গোয়ালে গরু,সামনে ঢেকী,আর কত শত মধুর দৃশ্য।হঠাৎ মেঘের গর্জন সংগীত ফিরে এল সমীর বাবুর।রাত বোধ করি ন-টা,দশ টা হবে,

golpo sraboner dhara:

“শিল্পী তো এখন বাড়ী ফেরে নি” সে বিছানা থেকে উঠতে চেষ্টা করে,হঠাৎ প্রচন্ড শব্দে একটি বাজ পড়লো সমীর বাবু পড়ে গেল,এবং বুঝতে পারলো এ জীবনে আর উঠে দাঁড়ান হবে না।এমন সময় শিল্পী দরজা খুলে বাড়ীতে ঢুকল,বাইরে তখন প্রচন্ড বৃষ্টি শুরু হয়েছে,দরজা বন্ধ করে হ্যারিকেনের আলো একটু জোরে করতেই কমলা চিৎকার করে উঠে,

“ঐ ওরা আসছে মশাল হাতে আমার দিকে ছুটে আসছে”।

শিল্পী একটু ধমকের শূরে বলে “মা চুপ করবে”-অন্য ঘর থেকে বাবা ক্ষীন স্বরে ডাকেন,“মা শিল্পী আমার কাছে একটু আসবি”?শিল্পী রান্না ঘরে গিয়ে সকালের রান্না করা ভাত, তরকারি তিন টি থালায় ভাগ করে নেয়।নিজের থালাটি ঢাকা দিয়ে,একটি মা কে দিয়ে আসে এবং অপরটি নিয়ে বাবার চৌকির উপর বসে, “বল কি বোলছিলে”? “আলো টা একটু জোরে করবি মা,তোর মুখ দেখতে পাচ্ছিনা”।কেরসিন কম,তবে একটু এগিয়ে আয়, “তোকে একটু ভাল করে দেখি”।নাও আগে খেয়ে নায়,তারপর কথা বলবে,বলে সে বাবাকে খাওয়াতে থাকে।এখন এই সব ছোট খাট দুঃখ আর শিল্পী কে কাঁদাতে পারেনা।বাবাকে খাইয়ে সে নিজেও খেয়ে নিল।মাকে,ঘুম পারিয়ে,বাবার কাছে এসে বোসলো।

“বল কি বলছিলে”,সমীর বাবু বহু কষ্টে তার হাত শিল্পীর মাথায় রাখে বলে, “মা তোর সমস্ত কষ্ট আমি বুঝি,কিন্তু কিছুই যে করতে….”-বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পরে।শিল্পী বলে, “অন্য কোন কথা থাকলে বলো” বাইরে তখন অ-ঝরে বৃষ্টি ঝরে যাচ্ছে।সমীর বাবু,মেয়ের হাত ধরে হারিয়ে গেল,তার দেশে, “সোনার বাংলা”। জানিস, “মা এরকম ভরা শ্রাবনে আমরা দারিয়ে থাকতাম পদ্মার পাড়ে, জেলেরা পদ্মার কোল থেকে তুলে আনত রুপালী জলপরী,

golpo sraboner dhara:

মানুষের হাত লাগায় কি তাদের ছটফটানি,সেই জ্যান্ত ইলিশ মাছের যেমন ছিল রুপ,তেমনি তার স্বাদ।আমরা পদ্মার পাড় থেকে কিনে আনতাম, বাইরে তখন অ-ঝরে বৃষ্টি আর ঘরে মা এর হাতের গরম খিচুরী,মুসুর ডালের বড়া,আর ইলিশ মাছ ভাজা,খেতে ওপারতাম,-পেটে যেমন ছিল জায়গা পকেট ও ছিল তেমন”-সমীর বাবুর গলা আবার ভারী হয়ে আসে।শিল্পী বলে “এবার একটু ঘুমাতে চেষ্টা কর,আমি আর পারছি না আমিও ঘুমাতে যাই”।

কিন্তু আজ কিছুতেই শিল্পীর ঘুম আসেনা,সে এই বিভিষিকা ময় অভাবের হাত থেকে মুক্তি পেতে চায়।একটু ভাল খেয়ে,পড়ে বাঁচতে চায়,বাবা মা এর মুখে হাঁসি দেখতে চায়।সে বিছানায় ছটফট করতে থাকে কিছুতেই দুটি চোখ এক করতে পারেনা।একটাই চিন্তা কখন সকাল হবে।অবশেষে সকাল হল তবে একটু দেরিতে,বোধহয় ভোর রাতে কখন একটু ঘুমিয়ে পড়েছিল।তারাতারি বিছানা থেকে উঠে তৈরি হয়ে নিল,আগেই বলেছি আজ শ্রাবন মাসের তিন তারিখ,সকাল থেকে আকাশ মেঘাচ্ছান্ন।

আজ শিল্পী পড়াতে গেল না।ট্রাংক থেকে মা এর একটি ভাল শাড়ী বের করে পড়ে নিল,দারুন সুন্দরী দেখাচ্ছিল শিল্পীকে,রানী কালারের শাড়ী,চোখে কাজল,কপালে লাল টিপ,ঠোটে গাঢ় লাল লিপস্টিক,পায়ের জুতোটা ঝেরেপুছে পরিস্কার করে নিয়েছে যেন নূতন বধু।সমস্ত অঙ্গ থেকে রুপ যৌবন যেন ফুটে বেরচ্ছে।

শিল্পী প্রথমে গিয়ে মাকে একটা প্রনাম করল।মা ওর দিকে তাকিয়ে কেমন যেন ভয়ে জড়সড় হয়ে পড়ল।তারপর তার দুটি গাল ধরে আদর করে বুকে জরিয়ে ধরল।শেষ কবে মা এভাবে আদর করেছে অনেক চেষ্টা করেও শিল্পী মনে করতে পারলো না।মায়ের দু চোখ দিয়ে টপ, টপ করে মুক্তের ফোটার মত জল পরতে লাগল মাটিতে,মা যেন ক্রমশ সাভাবিক হয়ে উঠছে।অন্য দিন হলে শিল্পী হয়তো নিজেকে সামলাতে পারতো না,কিন্তু আজ সে বদ্ধ পরিকর পৃথিবীর কোন বাঁধাই তার লক্ষ ভ্রষ্টো করতে পারবে না।তাই সে নিজেকে সামলে দ্রুত সরে এল মায়ের কাছ থেকে।

তার মনে হল, মা যেন পেছন থেকে তাকে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করছে।তাই সে ঘুরেও তাকালো না পেছন দিকে।বাবা কে একটা নমস্কার করে বললো আমার ফিরতে একটু রাত হবে,তুমি বিছানা থেকে উঠার চেষ্টা করো না কিন্তু।সমীর বাবু একবার মেয়ের মুখের দিকে তাকালো,তার পর শিল্পীর উদ্দেশ্যে বললো, “মা তোকে আজ ভারী সুন্দর লাগছে যেন লক্ষী প্রতিমা”।

বাবার কথার উত্তর না দিয়ে শিল্পী বেরিয়ে পরল। তারপর ট্রেন ধরে সিধে শিয়ালদহ,গতকাল রাতে সে এই কাজটি ঠিক করে ছিল। যে দিদি তাকে কাজটি দিয়েছিল তিনি দাড়িয়ে ছিল শিয়ালদহের একটি দোকানে। সেই দিদির সঙ্গে কোলকাতার বিভিন্ন গলিঘুরে উপস্থিত হয় একটি বিলাসবহুল বাড়ীতে। এখানেই কাজ।বাড়ীর সামনে দামি দামি গাড়ী,ভেতরে সুন্দর পোশাকের অনেক লোক,ঘরে দামি আসবাব সুন্দর বিছানা।কাজটা শিল্পীর জানা ছিল।প্রথম দিনের রোজগার নেহাত মন্দ নয়,-“পাঁচ হাজার টাকা” শুধু পাঁচ বার বিছানা পরিবর্তন হয়েছে।এই টাকা সে সারা মাস দশটা টিউসনি করে ও পেত না।

ঘড়িতে তখন সন্ধ্যে ছটা,সে আর কিছুতেই থাকতে পারবে না। বাবা,মা এর কথা তার বারবার মনে পোরছে, সে দিদিকে বলে বেরিয়ে পরলো।হাটতে একটু কষ্ট হচ্ছিল তলপেটটা ব্যাথা। তা কিছু না শিল্পীর মনে আজ এক অদ্ভুৎ আনন্দ। সে তারাতারি শিয়ালদহে এসে বাজার থেকে একটা বড় ইলিশ মাছ কিনল,মুশুর ডাল,ঘী,মার জন্য একটি লাল পার গরদের শাড়ী। আজ সে বাড়ী ফিরে বাবার মনের মত রান্না করে খাওয়াবে। আনন্দে সে ছটপট করতে লাগলো। সাতটা ত্রিশ মিনিটের বনগাঁ লোকাল ধরে নটার সমায় এসে পৌছাল অশোক নগর। এখন বাড়ী তে আসতে যেটুকু সময় বাকি। জেতার আনন্দে শিল্পীর মন আজ ভোরে আছে। আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখলো প্রচন্ড মেঘ করেছে,যে কোন সময় বৃষ্টি নাবতে পাড়ে,তাই সে তাড়াতাড়ি পা চালিয়ে হাটতে লাগলো।

golpo sraboner dhara:

বাড়ীতে এসে দেখল ঘর আন্ধকার, সে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে গিয়েছিল,তাই তারাতারি তালাটি খুলল। রান্না ঘরের যে খানে দেশলাইটা থাকে সেটা শিল্পীর জানা। কিন্তু ঘরের ভিতর এত আন্ধকার ছিল যে সে কিছুই বুঝতে পারছিল না। তবু অনুমানের ভিত্তিতে এগতে লাগলো,হঠাৎ ভারী একটা কি তার পায়ে বাঁধলো,সে পরে যাচ্ছিল এমন সমায় কাকে একটা ধরে দাড়িয়ে গেল।

তার ভীষন ভয় হতে লাগল,মন কে শক্ত করে সে দেশলাইটা দিয়ে কুপিটা জ্বালিয়েই চিৎকার দিয়ে কেঁদে উঠল। প্রচন্ড আওয়াজে একটা বিদ্যুৎ চমকে উঠল। কুপির আলোতে পরিস্কার দেখতে পেল,তার মা গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলছে ,আর বাবা তার পায়ের নিচে চিরনিদ্রায় ঘুমিয়ে আছে। মাটিতে একটি চিরকুট-তোমাকে রক্ষা করা আমাদের কাজ।ইতি-বাবা ও মা। আকাশ ও শিল্পীর চোখ দিয়ে ঝর,ঝর করে শ্রাবনের ধারা বইতে লাগল।।

golpo sraboner dhara:

সমাপ্ত

You Might Also Like

No Comments

Please Let us know What you think!?

%d bloggers like this: