সময়-অসময়

জুলাই ৪, ২০২০
Golam-Rabbani-Tupul-Short-Story

Golam Rabbani Tupul Short Story

লিখেছেন- গোলাম রব্বানী টুপুল

ঘটাং করে হাতের ঘটিবাটি ফেলে হঠাৎ দাঁড়িয়ে গেলো অনুপের বৌদি। রাগে ক্ষোভে গিড়গিড় করছে শরীর। প্রচন্ড রকমের এক মানসিক পীড়ন তাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে।

সন্ধ্যায় অনুপ বলেছে, এবাড়িতে বেকার বসে বসে অণ্ন গেলা চলবে না। এ বাড়ি অতিথিশালা নয়। মনে না চাইলে যেন বাড়িছেড়ে চলে যায়। কথাগুলো যে অনুপ তাকে উদ্দেশ্য করে বলেছে তা আর বুঝতে বাকী নেই অনুপের বৌদি পুষ্পারায়ের। স্বামী বিনোদ রায়ের মৃত্যুর পর খুবকরে আগলে রাখতে চেয়েছিল এই ভিটেমাটি। অথচ কী অবলীলায় তা ক্রমশ দূর থেকে দূরে সরেযাচ্ছে। যেন দূর আকাশের মেঘের মত উড়ে উড়ে মিলিয়ে যাচ্ছে অদেখার রাজ্যে।

সুখেরা আসলে এমনই। সারাজীবন তাকে খুঁজেই যাবেন অথচ সে যখন ধরা দিয়েছে ঠিক তখনই কর্পুরের মতন হাওয়ায় মিলিয়ে যায়।
জানো, আজ কী হয়েছে! তুমি গঞ্জে যাবে বলে যেই দেউড়ি পার হলে তখনই চেচিয়ে উঠলেন উনি। মহিলার কী গলা রে বাবা। বাড়িসুদ্ধ মানুষ জুটিয়ে ফেলল। আমি বাবা সাতপাঁচের মধ্যে নেই। কিন্তু বৌদি কী আর ছাড়লে? শেষে নাকি আমাকেই জড়িয়েই কথা! আমিও ছেড়ে কথা কইনি। কেন কবো না, আমি কী ওর খাই না পরি হ্যা? বলি অতোই যদি মন টাটায় তাহলে যাক না বাপের বাড়ি। এখানে পড়ে আছে কোন কথায়। বুঝি না ভাবছো, বেশ বুঝি। উলুৎফালুৎ দেহখানা নিয়ে উনি সাজিয়েছেন প্রদর্শনীর নৈবেদ্য। এই যে, তোমাকেও বলছি। ফের যদি বউদির ঘরমুখো হয়েছো না তবে তোমার একদিন কী আমার একদিন।

Golam Rabbani Tupul Short Story

এই এই বাজে বকবে না বলেদিচ্ছি। বৌ বৌয়ের মত থাকবা।

মানে কী? কী বুঝাতে চাইছো তুমি? জানি তো আজকাল আমাকে ভালোবাসতে তোমার মন চলে না। সব ওই বুড়িবেটির জন্য। বলেই ভ্যা ভ্যা করে কাঁদতে শুরু করল অনুপের বৌ রাধা।

রাগে গরগর করতে করতে ঘরথেকে বেড়িয়ে গেল অনুপ। বৌটা একটা ছিঁচকাঁদুনী। ওর দৌড় আর কদ্দুর। বড়জোর বিপিনের দোকান পর্যন্ত।
বাঁশের মাচানে বসে ক্লান্ত গলায় বলল, এককাপ চা দাওতো দেখি বিপিন দা। চা দিতে দিতে বিপিন বলল, আজকাল তোমাদের বাড়ির কী কী যেন শুনছি অনুপ। ঘটনা কী বলোতো।

ও আর কী বলবো বিপিন দা। ডাইনিটা ঘর ছাড়বে না। ওর বাপে কি সম্পত্তি রেখেগেছিল শুনি? পরের ভিটায় এভাবে পড়ে থাকার মানে কী?
ও কথা কেন বলছো অনুপ। তোমার দাদা তোমাদের কত কষ্ট করে মানুষ করেছেন সে কথা গাঁয়ের সবার জানা। উনার ছেলেপুলে নেই। তোমার মা মারাযাবার পর ওই বৌদিই তো কোলে পিঠে করে তোমাকে মানুষ করলেন। এখন হাত পা গজিয়ে যদি তোমার দাদার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে এমন করো তাহলে ভগবান নারাজ হবেন যে। তোমার দাদার লাশটাও তো শহর থেকে তোমরা আনলে না।

ও আর কী আনবো বিপিন দা। ও যে করোনায় মরা। গাঁয়ের সবার মঙ্গলের কথা ভেবেই তো আনলাম না। আবার উল্টে আমাকেই দোষাচ্ছো? এটা কিন্তু ঠিক হচ্ছে না বিপিন দা। এই হরিহর পুরের সবার বিষয়েই আমাকে ভাবতে হয়। বুঝলে বিপিন দা?

ও তাই বুঝি! শিক্ষিত মুর্খের চেয়ে গো-মাতা উত্তম ভেবে মুচকি হাসলো বিপিন।

……………..

Golam Rabbani Tupul Short Story

You Might Also Like

No Comments

Please Let us know What you think!?

%d bloggers like this: