গোলাম রব্বানী টুপুল

জুলাই ২৭, ২০২০
premium member Golam Rabbani tupul poem

premium member Golam Rabbani tupul poem

কবি গোলাম রব্বানী টুপুল এর পরিচিতিঃ

Rating: 4 out of 5.
premium member Golam Rabbani tupul poem

কবি গোলাম রব্বানী টুপুল এর গ্রামের বাড়ী জামাল্পুর জেলায় তাঁর জন্ম ১৯৮১ সালের ২৫ ডিসেম্বর । তিনি জগন্নাথ ইউনিভার্সিটি থেকে ভূগোল বিষয়ে বি.এস সি সন্মান এবং এম এস সি সম্পন্ন করেন। অবসর সময় তিনি লেখালেখি এবং ছবি আঁকা আকি করে কাটান।

গোলাম রব্বানী টুপুল এর লেখাগুলোপড়ুন

এই যে শহর
গোলাম রব্বানী টুপুল

প্রকাশকালঃ ৩০-০৭-২০২০

এই যে শহর সুখের কহর
চলছে ঘরে ঘরে
আপন কথা ছেড়ে সবাই
পর কে নিয়া মরে।

এই যে মাটি নরক ঘাটি
কোথায় পাবে সুখ
এই শহরে ঘাপটি মেরে
লুকিয়ে আছে দুখ।

এই যে মানুষ মুখোশ ফানুস
চলছে উড়ছে দলে
মস্ত ভিড়ে কে বা খাঁটি
কেই বা দেবে বলে।

নিজের একটা জগৎ আছে
গোলাম রব্বানী টুপুল

প্রকাশকালঃ ২৯-০৭-২০২০

মনের ভেতর, স্বপ্ন আঁকি
ভালোই থাকি
সত্যি বলছি
ভালোই থাকি।

সেই জগতে নেই প্রহরী
নেইকো রাজা-প্রজার বহর
জাগছে শহর
মনের মাঝে
জলের নহর।

একলা আসি রোজ বাগানে
ফুলের সাথে কথায় মাতি
মেলাই পাটি
ক্ষণেক পরে
আবার হাঁটি।

ভালোই থাকি, সত্যি বলছি
ভালোই থাকি।

আহ্বান
টুপুল রব্বানী

লাউয়ের ডগা হাত বাড়িয়ে
বলল ডেকে আয়
সবুজ সুতোয় রাখবো বেঁধে
আমার সোনারগাঁয়।
ফুলের মুকুট পরিয়ে দেবো
আসবি যদি ঘরে
আদর স্নেহে জড়িয়ে নেবো
উষ্ণ হৃদয় ভরে।
আসবি যদি আমার গাঁয়ে
বিছিয়ে শীতলপাটি
মুড়ি-মুড়কী এগিয়ে দেবো
সঙ্গে মধু খাঁটি।
গাঁয়ের সবুজ গাছগুলিতে
ধরে সোনার ফল
থামলি কেন, আয় ছুটে আয়
সঙ্গে মস্ত দল।
মাঠের ফসল ঘাটের গোসল
সব মিলিয়েই ছবি
আয়রে শিশু আয়রে কিশোর
আয়রে সকল কবি।
নাঙ্গা পায়ে আদুল গায়ে
চরণ দুর্বা ঘাসে
স্নিগ্ধ শিশির, শব্দ বাঁশির
ভোরের সূর্য হাসে।

premium member Golam Rabbani tupul poem

চোরের রাজা
গোলাম রব্বানী টুপুল

সাদা হাতি ধরবে বলে
হচ্ছে ওরা চোরের জাতি
রাজা মশায় নীরব থাকেন
জ্বালিয়ে নিজের জ্ঞানের বাতি

ভাবেন রাজা ও কিছুনা
নিজের আসন সচল আছে
বললে যদি তাও চলে যায়
ভিক্ষে ঝোলা হাতে পাছে

এর’চে বরং এই আছি ঢের
রাজ্য-জুড়ে যা কিছু হোক
আমার তাতে কী আসে যায়
খাচ্ছি বসে শত রাজভোগ

এক নিশীথে বেকুব রাজা
ঘুমিয়ে গেলেন নিজ আয়েশে
চোর এসে সব গুটিয়ে নিলে
মুখ ডুবালে রাজ পায়েশে

রাজা ভাবেন, কী আর করা
হলেম মশায় চোরের রাজা
কপালে কি জুটবে এবার
যশোর জেলার তিলের খাজা!

দম
গোলাম রব্বানী টুপুল

একটি ছবি দম নিয়ে আঁকতে হয়
একটি কবিতায়ও দম লাগে ঢের,
দম-লাগে একটি গানে কিম্বা দ্রোহে
অথচ এতো দম নিয়েও প্রেম মেলে না ছেলেটির!
ছেলেটি বুক-ভরা শ্বাস টেনে সামনে দাঁড়ালো
মেয়েটি মায়াবী চোখ তুলেও দাঁড়াতেপারলো না

প্রেম যেন দমের উচ্চারণ, বিবসে বিষণ্ন সময়
কোলাহল ছেড়ে গুটিয়ে গেল ছেলেটি নিজের ভেতর

মনভাঙা জোসনা দেখে শুধু
সাথে জোনাকিদের উল্লাস
আর দেখে যেপথে হারিয়েছিল মেয়েটি।

একটি জিওল গাছ
গোলাম রব্বানী টুপুল

জনমে কে কার তরে দায় নিয়ে বাঁচে
সব নেমকহারামেরা নিজের জাতকে অস্বীকার করে

এইতো সেদিন, হ্যা সেদিনই তো,
ওলাওঠায় চলেগেল রহিম শেখের বাপ জালাল শেখ
অন্ধকার রাত পেরিয়ে আলো ফুটলো বটে
যাপিত জীবনের খেরোখাতায় সমাপ্তি টেনে
ওপারেই দিলো পাড়ি
কত কান্না আহাজারি ঝরে পড়ল সেদিন

আজ গুনে গুনে বারো বছর পর
কবরের চিহ্ন হারিয়ে গেছে, বেঁচে আছে শুধু জিওল গাছটা
ওটাও কাটাপড়তো যদি না কাষ্ঠল হত
এবেলা ওর দামরদ হবে ভালো, গুনে দশ হাজার হবেই

আহা জালাল শেখ
তোমার শত বিঘা জমি থাকতেও
পুত্রের কাছে সারে-তিন হাত জমির কত মূল্য!
জিওল গাছটায় রোজ রোজ গরু বাঁধে তোমারই ছেলে।

পৃথিবীর কান্না
গোলাম রব্বানী টুপুল

মাগো পৃথিবী অনেক বুড়ো হল বুঝি
পৃথিবী কি কিছু হারানোর ভয়ে কাঁদে?
আমিতো রাতগহীনে শুনি বিষণ্ন কান্নার আওয়াজ
কে যেন হাঁটে অন্তরের কিনারায়
তুমি কী শুনতে পাও মা?

মাছের চোখ চেয়েথাকে ঘুমের ভেতর
অন্ধকার গিলেখায় অজগরের মুখের মতন
জোনাকজ্বলা মিটমিটে আলোয়
পৃথিবীর বুকে বিচরণ করি
দেখি মুক্ত আকাশ
দেখি যন্ত্রণার পাহাড়
দেখি টলমল সমুদ্র-ঢেউ
সব মনের কল্পলোকে

মা তুমি কি দেখো এসব?
বৃথা জন্মান্ধের আলোকস্বপ্ন আমার
পৃথিবীর সুন্দর রূপ আছে বলো
আমি শুধু কান্নাই শুনি, কান্না।

বন্যা এলো আবার
গোলাম রব্বানী টুপুল

জল বেড়েছে ঢল নেমেছে
বল বেড়েছে জলের
বন্যা এলো বন্যা এলো
মহা বিপদ খালের

দুকূল ছাপায় গ্রামটি কাঁপায়
কাঁপায় ফসল মাঠ
জলের তলে হারিয়ে গেল
খোলাবাড়ির হাট

অথৈ পানি সাগর গামী
দুচোখ যেদিক চলে
তিলক ফোটা নাইরে জাগর
ভাসিয়ে নিলো জলে

মানুষ ভাসে সর্বনেশে
ঢল নেমেছে আবার
বাংলাদেশের দুঃখ ভরা
নাইরে পেটে খাবার

premium member Golam Rabbani tupul poem

লোকালবাসের যাত্রীর_ডায়লগ
গোলাম রব্বানী টুপুল

যা ভাই যাসনা
মাইর যেন খাসনা

ওই শালা বাটপার
গাড়ি ছাড় গাড়ি ছাড়

অফিসটা শুরু হল
গাড়ি তবু বসের’লো

ওই ভাই ছাড়ো তো
পথে পাবা আরো তো

শালা বড় বজ্জাত
ভেঙেদেবো তোর হাত

এতো কেন ভাড়ারে
ডাকাততো খাড়া রে

সিট কই সিট নাই
উঠাইলি কেন ভাই

গোলাম রব্বানী টুপুল

দাদার ঘাড়ে শকুন চড়ে
বকুল গাছে শিং মাছ
রাস্তাঘাটে ঘরের ছাদে
রডের বদল দিন বাঁশ

শহর জুড়ে ট্যাঙ্ক নেমেছে
ব্যাংক নিলো সব লুটেরা
ঘরে ঘরে জুয়ার আসর
অর্থ খেলো ভূতেরা

পান্তাভাতে কাঁঠাল মজা
তা জানে না গাঞ্জুটি
চেয়ার ভরা চারপেয়ে সব
উঁচিয়ে রাখে কান দুটি

মাচা ভরা কাঁচা টাকা
গন্ধে পাগল বেসামাল
লাফদিয়ে আজ হয় কলাগাছ
উঠলে বাতাস দে সামাল।

গোলাম রব্বানী টুপুল

কোটে যদি দেশ খায় বুটে খেলে দোষ কী
হরিণেরা পথ পেলে হয়ে যায় মোষ কি?

দুষ্টুরা পুষ্টিতে মুষ্ঠিতে জোরদার
গোষ্ঠিতে মাপে না কোষ্টিতে ঘষে আর

কার পিঠে দেশ হাঁটে মাঠে কোন্ ঠিকাদার
রুগ্ন এ দেশমাতা নাই ভালো টিকাদার

মুখে যত মধু আছে অন্তরে ততো বিষ
এমন মানুষ গুলো হামেশাই করে কিস

ধুর শালা বেশামাল কাঁচামাল লুটেরা
কোট যদি পড়ে যায় মুড়ি খায় বুটেরা।

গোলাম রব্বানী টুপুল

লকডাউনে বাড়লো শরীর
বাড়লো গাড়ির ভাড়া
হাজার লোকের চাকরি গেল
বাটপারের দিন খাড়া

তরকারিতে আগুন যেন
ফাগুন হাওয়া খাদ্যে
ক’দিন হল মন লাগেনা
তাল কেটেছে বাদ্যে

ফি-বছরে ট্যাক্স বেড়ে যায়
ক্যাশ বাড়ে না হাতে
আসছে কু-দিন চক্ষু মুদেন
মরবো কী হাভাতে

premium member Golam Rabbani tupul poem

প্রিমিয়াম সদস্য ইদ্রিস রহমান

You Might Also Like

No Comments

Please Let us know What you think!?

%d bloggers like this: