Desher Chora liyakat jowardar

ছড়ায়ছড়ায় বঙ্গবন্ধুর কিছু স্মরণীয় উক্তি
লিয়াকত জোয়ার্দার

প্রকাশকালঃ ১৮.০৮.২০২০


বাংলার উর্বর এই মাটিতে
যেমন ফলে সোনা
রাজনীতিতেও পরগাছাদের
হচ্ছে আনাগোনা।
তাদের তরেই বাড়ছে দেশে
দুর্দশা আর অন্যায়
সম্প্রীতি আজ যাচ্ছে ভেসে
সাম্প্রদায়িক বন্যায়।

ভদ্রলোকের সাথে তুমি
খেলতে যদি চাও
খেলার আগে নিজে তুমি
ভদ্র হয়ে যাও।
বেজন্মা সে খেলতে এসে
তোমার কাছে হারবে
যখন তুমি বেজন্মাতে
অধিক হতে পারবে।

চাই যে আমি ভালোবাসুক
দেশের সকল বাঙালি
সব হারিয়েও তাদের আমি
ভালোবাসার কাঙালই।

এদেশবাসী যদি না পায়
বস্ত্র কিংবা অন্ন
ব্যর্থ হবে স্বাধীনতা
শুধু এরই জন্য।
চাকরি না পায় কোনো যুবক
কিংবা কোনো কাজ
পূর্ণ আমার স্বাধীনতা
হবে নাকো আজ।

সরকারি কর্মচারী
জনগণের সাথে
সেবক হয়ে মিশতে হবে
হাত রেখে যে হাতে।
৬…
কষ্ট করে বেঁচে আছে
এমন দুখী যারা
শিল্পী-কবি তুলে ধরো
তাদের জীবনধারা।

বাঙালিরা জাতীয়তা-
বাদের স্বপন আঁটবে
স্বাধীনতার বিপন্নতা
তখনই যে কাটবে

জীবন বড় ক্ষণস্থায়ী
আমরা সবাই মরবো
কবরবাসী হবার আগে
শুধুই কাফন পরবো।
তবু কেন শোষণ করো
করো অত্যাচার
নির্যাতনের তরে পাবে
শাস্তি যে আল্লাহর।

Desher Chora liyakat jowardar

বাল্যস্মৃতি
লিয়াকত জোয়ার্দার

গ্রামগুলো প্রায় ডুবু ডুবু
তখন বর্ষাকাল
পাকসেনাদের অত্যাচারে
সবাই নাজেহাল।

মায়ের সাথে মামার বাড়ি
হলো আমার ঠাঁই
সে-সব দিনের স্মৃতিগুলো
আজো ভুলি নাই।

মামার শালা মামা আমার
ছিল খেলার সাথী
ডাংগুলি আর লাটিম খেলায়
ছিলাম দুজন মাতি।

বাড়ির পাশেই ঝিনাই নদী
অথই জলে ভরা
প্রায়ই ভেসে যেত যে লাশ
গুলি খেয়ে মরা।

একদিন এক সকালকেলায়
দুজন বসে খাচ্ছি
মামার পাতে তালের পিঠা
গন্ধ নাকে পাচ্ছি।

একই সাথে খাবার বসে
একি অনাসৃষ্টি
গুনগুনিয়ে ধরি যে গান
কাড়তে মামির দৃষ্টি।

কিন্তু গানের মর্ম মামির
পশলো নাতো কানে
পিঠে খাওয়া হলো না তাই
লাগলো ব্যথা প্রাণে।

বাল্যকালের সেই ঘটনা
যখন মনে পড়ে
এই বয়সে এসেও আমার
ভীষণ হাসি ধরে।

প্রিয় এদেশ স্বাধীন হলো
আবার মায়ের সাথে
ফিরে এলাম নিজের বাড়ি
হাত রেখে যে হাতে।

১৯৭১ -এ মুক্তিযুদ্ধকালীন ছেলেবেলার কিছু বাস্তব ঘটনা প্রিয় পাঠকদের সাথে শেয়ার করতেই এ ছড়ার অবতারণা।

Desher Chora liyakat jowardar

Facebook Comments