Deser kobita Dalan jahan

শব্দতীর
দালান জাহান

প্রকাশকালঃ ২৮.০৮.২০২০

আজও বাতাসে বাজে সেই বীণা
আর্তের চিৎকার সমুদ্দুর
আজও আকাশে সেই সর্বগ্রাসী শকুন
করে ঘুরঘুর
আজও তাপিত মানুষ
যাপিত জীবন কান্নার-রোল
আজও দুর্বল মরে মরে বেঁচে যায়
দিয়ে যায় শুধু জীবনের ভুল।
আজও তপ্ত ধরনী পিঠ
সংলাপে-সংলাপে কালো অক্ষর
আজও শোষণ-শাসনে বিভক্ত পৃথিবী
লেহন করে সাম্য শান্তির ঘর
আর কি জন্ম হবে তোমার
হে মহা সংগ্রামী দৃপ্তি ধরিত্রীর
অধর্মের অকূলে ছাড়ো সেই শব্দতীর।
তুমি সর্বজয়া তুমি মহানের মহান
তুমি অন্ধের আলো তুমি বিস্ময় বীর।

আয়োজন
দালান জাহান

প্রকাশকালঃ ২৫.০৮.২০২০

বাড়ির সামনের ঘাসগুলো
নক্ষত্রের মতো চিকচিক করে
অবুঝ বুকে টিপ দিলেই পড়ে
বাদাম-বাদাম দুধ
আহা কি হাসিখুশি দামড়াগুলো
ভোরের মুখ হয়ে জেগে উঠে ভোরে
ভোজনের মতো রসের আনন্দে
মাইকগুলো ইতি-উতি করে।
ঘুঘু ডাকে কোকিল ডাকে
রাত্রির পেট থেকে লাফিয়ে পড়ে কালো বিড়াল
ঘেউ ঘেউ বন্যায় লেজ গুটিয়ে
পাহাড়ে বসে কাঁদে প্রভুভক্ত কুকুর
নির্জনে পড়ে থাকা গুপ্তধন কেউ দেখে না
এ কথা কে বোঝাবে তারে
সকালে যে ছেলেটি বিপ্লব নিয়ে মিছিলে যায়
বিকেলে সে দুর্নীতি করে।

Deser kobita Dalan jahan

মহাবীর
দালান জাহান

সমগ্র মহাকাশে তোমার নাম লিখে দিবো
প্রতিটি গ্রহ-উপগ্রহ
ব্লাস্টার সুপার ব্লাস্টার বর্ণিল করে দিবো
তোমার শোনিত রক্ত ধারায়
বিশ্ব পেরিয়ে ভিন গ্রহী মানুষের কাছে
পৌছে দিবো বাংলা, বাংলার বিপ্লবী চোখ
মাথা উঁচু তেজস্ক্রিয় কণ্ঠ স্রোত
ভালোবাসার কান্না থেকে ওঠে আসা
এক আশ্চর্য নাম।

ঘরে ঘরে জন্ম হোক
প্রশস্ত হোক দীর্ঘ হোক বুক তোমার মতো
যাতে তারা লড়তে জানে
দেশের জন্য মরতে জানে
প্রধানমন্ত্রীত্ব নয় বলতে জানে
বাংলাদেশকে ভালোবাসাতে জানে
সর্বকালের মহাবীর মহা সংগ্রামী পিতা
আমাদের দিকেই কী তাকিয়ে আছো তুমি ?
সমস্ত নক্ষত্রের চোখ হয়ে ।

মা ও মাটি
দালান জাহান

আমার মা
আমাকে ঘুম পাড়াতেন আকাশ তলে
আমার মা
আমাকে ডুবিয়ে রাখতেন কাজল জলে
আমার মা দাঁড়িয়ে থাকতেন
আমার ছোট্ট পায়ের উপর
আমার মা জগত দেখতেন
আমার চোখ দিয়ে
তার সমস্ত হাসি আনন্দ ও বেদনা নিয়ে
একদিন আমি বেড়াতে যাই এক নগরে
যে নগর আমাকে কিনে নেয় চিরতরে
তারপর মা অন্ধকার ছাড়া কিছু দেখে না।

এখন আমার চোখ দিয়ে বর্ণনা হয়
পাথরের পিতাদের নির্মম ইতিহাস
এখন আমার অনুভূতিতে দেওয়া হয়
শান্তনার মতো মিথ্যে শিল্পের প্রলেপ
কিন্তু এখনও পায়ের নিচে লবনাক্ত মাটি
তৃষ্ণায় হাহাকার করছে
শুধু রক্ত লাগবে বলে কতোকাল ধরে
আমিও আর মা’কে দেখি না।

তুমি এমন সুখের ছবি
দালান জাহান

দিন চলে না নাদিন আমার
করছি এমন দিনযাপন
একটুখানি জায়গা নাইযে
দেব তোমার বিজ্ঞাপন।

চারদিকে তো মুখ বেছে খায়
দারুণ কথার বুস্টারে
সূর্য মামা মুখ ঢেকেছে
হাজার হাজার পোষ্টারে।

কোথায় তোমার নাম লিখিব
আঁকব তোমার ছবি খান
তোমায় নিয়ে পদ্য লিখে
সকাল সন্ধ্যা কবি প্রাণ।

মুজিব এমন সুখের ছবি
মুজিব এমন পক্ষরে
না লিখিলেও মুজিব কথা
লিখেন মুজিব অক্ষরে।

Deser kobita Dalan jahan

একুশের রক্তমালা
দালান জাহান

একুশ তো এক রুদ্রবেলা
একুশ তো এক হাসি
একুশ তো এক একুশ নিয়ে
বুকের একুশ চাষি।

একুশ তো এক রক্তমালা
একুশ তো এক লাল
একুশ তো এক একুশ দিয়ে
রাঙিয়ে দেওয়া কাল।

একুশ তো এক শব্দখেলা
একুশ তো এক জল
একুশ তো এক স্তব্ধবেলা
চল মিছিলে চল।

একুশ তো এক ক্ষুদ্ধখাতা
একুশ তো এক জয়
একুশ তো এক যুদ্ধপাতা
সকল শহীদ কয়।

একুশ মানে নতো না
দালান জাহান

একুশ কি এই একটি দিনে
শহীদ মিনার যাত্রা
একুশ কি এই ফুলের তোড়ায়
ভাঙা খুশির মাত্রা।

একুশ মানে একুশ হাওয়া
কীর্তিমানের কৃষ্টি
একুশ মানে প্রত্যয়ী এক
রক্ত ঝরা বৃষ্টি।

একুশ মানে অগ্নি-বারুদ
একুশ মানে চেতনা
একুশ মানে মরতে রাজি
কিন্তু আমরা নতো না।

একুশ আমার শপথ-ভাস্কর
দালান জাহান

একুশ আমার কিশোরী মেয়ের
পলাশ পলাশ রঙ যেটুকু রঙ হলে
সে সাধানন্দে বাঁচতে পারে।

একুশ আমার বুকের মধ্যে ঘুমানো
প্রাচীন এক অগ্নিবীজ
যে একবার জ্বলে উঠলে
মরতে মরতে নাচতে পারে।

একুশ আমার সূর্য-সন্তান
যে খোলা রাস্তায় দাঁড়িয়ে
নিজের বর্ণমালায় বজ্র ধ্বনিতে চিৎকার করে।

একুশ আমার শপথ-ভাস্কর
যে বেদনার রঙে রঞ্জিত পতাকা
বাতাসে পতপত শীৎকার করে।

Deser kobita Dalan jahan

সূর্যফুল
দালান জাহান

একটি সূর্যফুল যার ভেতরে রক্ত আগুন
জন্ম থেকে ছুঁয়ে যায় আনারের ক্ষত
যাদের রক্ত-হাড়ে বেঁধে গেল গেল
স্বাধীনতার শক্তি-প্রাচীর
ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল জুড়ে
শুনতে পাই তাদের কণ্ঠধ্বনি ।

আজও রাতের বেদীতে বাজে
নারী শিশুর কান্না জড়িত
গৌরবময় বেদনার গান
আজও অকুণ্ঠ পান করে যাই
পঁচিশে মার্চ রাত্রির কালো-ইতিহাস ।

আয়নায় ঝলমল করে ওঠে
বীরাঙ্গনা নারী শিশুর ক্ষতবিক্ষত
রক্তলাল পলিমাটির ঘ্রাণ
যাদের এক-একটি মৃত্যু
আমাদের এক-একটি পৃথিবীর সমান

মার্চ
দালান জাহান

মার্চ এলে-ই আমাদের রক্ত ঝরে
মার্চ এলে-ই আমাদের মনে পড়ে
মার্চের কথা
মার্চ এলে-ই আমাদের অতুল অসুখ
মার্চ এলেই বেড়ে যায় আমাদের
হৃদয়ে ব্যথা ।

মার্চ এলেই আমাদের কণ্ঠে আগুন
মার্চ এলে-ই আমরা খুলে দেই
সেই কালো রাত্রির মুখ
মার্চ এলে-ই আমরা মৃত্যুঞ্জয়ী
আকাশের মতো বড় হয়
আমাদের ক্ষতবিক্ষত বুক ।

কালোরাত্রি
দালান জাহান

সেদিনের কালো রাতে
পশ্চিমের তীব্র ক্ষুধায় পূর্বে নামে অন্ধকার
বাতাসে ভেসে আসে রক্তের ঘ্রাণ
ঘুমন্ত মানুষের বুকে জ্বলে ওঠে ঘুমন্ত শহর
শিকারির চিৎকার ভয়ানক মৃত্যু শ্মশান ।

সেদিনের কালো রাতে দেহ থেকে
আলাদা হয় আমাদের আত্মা
এবং ভেসে যায় জঘন্যতম এক রক্ত নদী
সেই থেকে জ্বলে ওঠে দীর্ঘ বিশ্বাস
সেই থেকে আমাদের বাঁচার শুরু।

Deser kobita Dalan jahan

শোকাবাহ মার্চ
দালান জাহান

ডানায় বারুদের গন্ধ ঢেলে
মাথার উপরে কিলবিল করে ওড়ে যায়
একঝাঁক পাখি ।

মুহূর্তেই গুলির শব্দে ছত্রভঙ্গ হয়
মুক্তিকামী পাখির ডানা
জীবন বাঁচাতে তাদের কান্নায়
রক্ত কালো হয় আকাশের রঙ।

ট্রিগারে ট্রিগারে মৃত্যুর বাঁশি
এতো ভারী মানুষ-পাখির কান্না
নারী-শিশুর ভয়ার্ত চিক্কুর
এতো বিদগ্ধ অশ্রু-আহাজারী
নিরীহ লাশের বেওয়ারিশ স্থুপ
শোকাবাহ মার্চ ছাড়া আর কোথাও নেই ।

বিপ্লবীর মুখ
দালান জাহান

সমস্ত নীরবতার দায়ে
পিঠ উঁচু করে হেঁটে যায় কেরানির পিয়ন
মানবতার ডাল-দণ্ডে বহুদিন মিছিলে যায়নি
আটবার জেলখাটা সংগ্রামী শাদাত
নববধূর মেহেদি আঙুলে
আটকে গেছে তারে স্বাধীনতার সুখ।

শ্রাবণ সন্ধ্যায় মিছিলের দাবিতে
কাঁদছে দুটো বৃদ্ধ
তাদের চোখমুখে নেই বিস্তর সংশয়
তারা শুনেছেন সেই কণ্ঠধ্বনি
যে ধ্বনির আলো ঢুকে গেছে
তাদের রক্ত-জলে শিরায় শিরায়
তারা দেখেছেন আকাশের মত উঁচু
সেই মহান বিপ্লবীর মুখ
যার আলিফ আঙুল এঁকে দিয়েছে
স্বাধীনতার সংগ্রামী স্বাদ
এবং তারা হয়েছেন চিরতরে সংগ্রামী।

আগুনের কবিতা
দালান জাহান

বিস্ফারিত কলঙ্কের কালিতে
খামছে ধরি পাকের পাগড়ি
বহু দাগে বহু ক্ষতে জ্বলে উঠে
সেই তর্জনী সেই কণ্ঠের স্রোত।

পচা লাশে দূষিত হয় বুড়িগঙ্গা
বাপের বাড়ি দাদার বাড়ি
দাদার দাদার বাড়ি গরু বাছুর
প্রিয় শিশুকে হারিয়েও
কাঁটাতার ভেঙে বাঁচতে চলে মানুষেরা।
চরম ক্রোধে ঝলসে উঠে জন্ম জননীর মুখ
আকাশের মতো বড়ো হয় স্মৃতিসৌধ শহীদ মিনার ।

কোথায় জনক সুভাষ চন্দ্র বসু
মাষ্টারদা সূর্য সেন প্রিতীলতা ওয়েদ্দাদার
মাওলানা ভাসানী বঙ্গবন্ধু
মাটি ও মানুষের মুক্তির দাবিতে
আরেকবার ঢেলে দাও
তোমাদের সুর ও সঙ্গীতের আগুন কবিতা ।

Deser kobita Dalan jahan

Facebook Comments