choto golpo maflar লিখেছেন- সাকিব জামান

(বি.দ্রঃ সাতক্ষীরার আঞ্চলিক ভাষার সংমিশ্রণে রচিত)

“আজ সগ্গুলি বসিস, জরুলি কুতা রুয়ি। তুরা ইচ্ছা মতন যার যা মন চাতি তাই করতিছিস। এই ফট্টু! কালকি ষ্টাম নিজাসনি ক্যান? আজ সবকুডার খবর আছ। আগে বয় তারপর দ্যাক কি করি!” একবারে এতগুলো কথা বলে থামলো মাহিম।

ফাইভে পড়ে মাহিম। ৯/১০ বছর বয়স হলেও শরীর এবং মন দুটোই প্রশস্থ ও সমান্তরাল যেন তার। সমাপনী পরিক্ষা শেষ, তাই অনেকটা রিলাক্স মুডে আছে ও। খেলার মাঠে সমস্ত ম্যানেজমেন্ট নিজ থেকেই ওর দায়িত্ব। সূর্য পশ্চিম আকাশে হারিয়ে গেছে আর দেখা যাচ্ছে না। একটু পরে মাগরিবের আজান। সবাই মাঠের ডান পাশের ঘাস দলা করে গোল হয়ে বসলো।

মাহিমঃ ওই শিহাব! ওই রাতুল! আগে বল আজ হাপ প্যান পুরি আইছিস ক্যান?

রাতুলঃ তুই নিশিদ করিছিস তা জানতাম না। আর হাপ প্যান বাদে আমরা খেলবো কিম্মায় বল?

মাহিমঃ শোন আমরা বড় হুই যাতিছি। তাই সগ্গুলি মিলি ঠিক করিছি, যারা একসাথে ঘুরি তারা কেউ আর হাপ প্যান পরবো না। একন তোদের কোনো কুতা থাকলে ক।

শিহাবঃ আমরা কি সগ্গুলির বাইরি নাকি! আলদা কুর আবার শোনতি ক্যান? আম ও আর হাপ প্যান পরবো না।

মাহিমঃ ফট্টু! এবার বল, কাল ষ্টাম কার নিজানির কুতা ছেলো?

ফট্টুঃ আমার নিজানির কুতা, তা আমার মন ছেল না। আর ভুল হমনে।

মাহিমঃ আচ্ছা, সগ্গুলি ভালো করে শোন। রবুল, শরিফুলির মতন অনেক ছালিপিলির শিতির কোনো জামা কাপড় নি। একন কাল রাত্তির জাকিরির সাথ যুক্তি করিছি। আমরা সগ্গুলি মিলি উগা মাফলাট কিনি দ্যাবো। তোদের কি মত বল।
আশিকঃ তাতে তো অনেক টাকা দুরকার। এতোরা টাকা আমরা কনে পাবো?

রাব্বিঃ আমরা ছোটো মানুষ। এত বড় কাজ আমরা পারবো তো?

সাইদঃ নে কাজ শুরু করি। আল্লাহ যা করবে তাই হবে। তবে আমরা চিষ্টা করতি থাকি।

মাহিমঃ আজান শুরু হই গেছ। একন সগ্গুলি নামাজ পুড়ি আমরা বাড়ি যাবো। কাল সুকাল সুকাল আসরের নামাজ পুড়িপপার মাটে আসিস।

choto golpo maflar

মাহিমের দু’বছর বয়সে ওর বাবা সাপে কেটে মারা যান। সংসারে ওর মা আর ও। ওর মা বড়বাড়ি ঝি এর কাজ করে। তাতে নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মত সংসারেও মাহিমকে দেখে কোনো দুংখ আছে এমনটা কারো ভাবার উপায় নাই। খেলার মাঠে সবাই মাহিমের কথায় ওঠে বসে। সবাইকে আদর আর শাসনে আগলে রেখেছে ও। এইতো সেবার রাসেলদের টয়লেটের দেয়াল ভেঙ্গে গেলে সবাইকে নিয়ে তালপাতার বেড়া দিয়ে দেয় মাহিম। সব মিলে এলাকার সবার আদরের ছেলে ও। কারো বাড়ি পিঠা,নাড়ু বা ভালো কিছু তৈরি হলেই ওকে না ডাকলে যেন সব অপূর্ণ থেকে যায়। মাহিম ও ভক্তিভরে সবার ডাকে সাড়া দেয়। ওর এবারের চিন্তা শীতে দরিদ্র ছোট বাচ্চাদের শীত বস্ত্র কিনে দিয়ে সাহায্য করা।
পরদিন বিকেলে সবাই মাঠে চলে আসলো। আজ খেলার আগেই আলোচনা। মাহিমের কথায় একটা দেশাত্নবোধক গান দিয়ে শুরু করলো আসিফ।

মাহিমঃ কে কি চিন্তা করিছিস ক……….

ফট্টুঃ টাকা কনে পাবো সেটা আগে আলোচনা করা যাক।

জাকিরঃ আমার যত্দুর পারি এক সুপ্তা টাকা গুছাতে থাকি। তারপর দেখি কত্দুর কি হয়।

মাহিমঃ ভাল কুতা। তবে সর্বোচ্চ চিষ্টা আর টিফিনের টাকাও বাচানু যাত্ পারে। তাছাড়া যার যেকানে সুযুগ রুয়ি সেকান্ তে চ্যাতাবে। দুরকার হয় মিম্বার চাচারও বুলি টাকা ন্যাবো। আচ্ছা, এক কাজ করি নে। কামাল চাচা আর ইগবল চাচাকে কলি হয়তো খানিক টাকা দিত্ পারে।

আসরের নামাজ শেষ। যে মাহিম সবাইকে দ্রুত মাঠে আসতে বললো তার আজ খোজ নাই। কারন কি? সবাই বসে আছে। বলাবলি করছে মাহিমের না আসার কারন কি হতে পারে? ওদিকে মাহিমের মা ডাকছে। মাহিম! মাহিম!! ও মাহিম!!!

মায়ের ডাকে মাহিম বাম হাতের উল্টাপিঠে চোখ মুছতে মুছতে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো আছরের নামাজ দশ মিনিট আগেই শেষ!!!

সমাপ্ত

choto golpo maflar

Facebook Comments