লিয়াকত জোয়ার্দার

জুলাই ১৯, ২০২০
chorakar liakat joarder

chorakar liakat joarder

chorakar liakat joarder

এই সময়ের জনপ্রিয় ছড়াকার জনাব লিয়াকত জোয়ার্দার ১৯৬৬ সালের ১০ অক্টোবর টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার গৌরাঙ্গী গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে একটি সরকারি চাকুরি করছেন। তাঁর একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।

ছড়াকার লিয়াকত জোয়ার্দার এর ছড়া সমুহঃ

স্বপ্ন মনে পাকায়
লিয়াকত জোয়ার্দার

প্রকাশকালঃ ০২-০৮-২০২০

কালাচানতো কবি হবার
স্বপ্ন মনে পাকায়
নিত্যরাতে ছাদে বসে
চাঁদের পানে তাকায়।
মনের বনে ফুল ফোটে না
ভাবনদীতে ঢেউ ছোটে না
চাপট মেরে মাথাটাকে
ডানে-বামে ঝাঁকায়।

কাব্য পড়েই কালাচানে
সময় এখন কাটায়
বন্ধুরা কয় হঠাৎ তোরে
গুঁতালো কোন পাঁঠায়?
জোর করে হয় জায়গা দখল
পাশ করে কেউ টুকে নকল
কবি হবার ভূততাড়াবো
মুলিবাঁশের ঝাঁটায়।

কদিন আগে শুনতে পেলাম
লিখছে নাকি ছড়া
আবোলতাবোল পড়ে সেসব
মেজাজ কারো কড়া।
ছন্দ-তালের নেইকো বালাই
নিজকে নিজে করছে ঝালাই
কী এসে যায় পড়ের কথায়
হোক না আলুর বড়া।

লিখে লিখেই হাত পাকালো
সত্যি কালাচান
তার লেখাতে ভাবের দোলা
আছে অফুরান…

কে ভাঙ্গালো কান
লিয়াকত জোয়ার্দার

প্রকাশকালঃ ২৭-০৭-২০২০

গিন্নি ঘুমায় ঘরের ভেতর সেগুনকাঠের খাটে
বারান্দাতে শুয়ে আমার একলা যে রাত কাটে।
হঠাৎ করে হলো কীযে
খাবার এনে দেয় না নিজে
বাড়াবাড়ি করলে নাকি ভাঙ্গবে হাঁড়ি হাটে।

কে ভাঙ্গালো কান যে তাহার ঢুকলো মনে সন্দ
সুখসরোবর সংসারে আজ বাড়ছে কেবল দ্বন্দ্ব।
বর্ণচোরা আমি নাকি
নিত্য তারে দিচ্ছি ফাঁকি
কারে নিয়ে কাব্য করি কীসের এত নন্দ?

ফেসবুকে হায় আমার নাকি অনেক নারীদোস্ত
মাঝে মাঝে কার বাড়ি যাই খেতে রুটি-গোস্ত?
পাক ধরেছে চুল-দাড়িতে
যাইনি কারো কূল কাড়িতে
কে খাওয়াবে এই বয়সে রেঁধে আলুপোস্ত?

সন্দবাতিক দিলদরিয়ায় চলছে উতাল ঢেউ
তাই বোঝে না তার পেছনে কে লাগালো ফেউ।
সুরত দেখে হয় কি মনে
করবে যে প্রেম আমার সনে
এই ধরাতে এমন বুড়ি সত্যি আছে কেউ?

মশারিটা না খাটিয়েই ঘুমাই রাতের বেলা
গতরজুড়ে মশককুলের বসে যেন মেলা।
ম্যালেরিয়া ডেঙ্গুজ্বরে
ধরবে ধরুক, বাঁচার তরে
নেইকো যে সাধ, হোক অবসান এই জীবনের খেলা।

ছড়া লেখার ইচ্ছে
লিয়াকত জোয়ার্দার

প্রকাশকালঃ ২০-০৭-২০২০

আমার ছড়া পড়ে কারা?
গিন্নি, ছেলে-মেয়ে
তাতেই আমি মহাখুশি
এমন পাঠক পেয়ে।

অন্যজনে নাইবা পড়ুক
লাইক-কমেন্টস নাইবা করুক
ছড়া লেখার ইচ্ছে তবু
আসে মনে ধেয়ে।

সুকুমার রায় রফিকুল হক
রোকনুজ্জামান খান
তাঁদের মতোই লিখতে ছড়া
চায় যে আমার প্রাণ।

কোথায় তাঁরা কোথায় আমি
ভাবতে গেলেই যাই যে ঘামি
আকাশ কুসুম স্বপ্নগুলোর
হয় যে অবসান।

তবু আমি হাল ছাড়িনি
নিত্য করি চেষ্টা
ছড়া লেখা সত্যি কঠিন?
দেখব যে এর শেষটা।

হরেকরকম লিখব ছড়া
শিশুতোষ ও মিষ্টি-কড়া
ছড়ায় ছড়ায় ভরে যাবে
আমাদের এই দেশটা।

যদি পারো
লিয়াকত জোয়ার্দার

রামগরুড়ের ছানার মানে
হাত তোল ভাই কে কে জানে
সত্যিকারে এই কথাটা
বলতে বোঝায় কী?

যদি পারো দিতে জবাব
করব আমি পূরণ অভাব
ভরদুপুরে খেতে দেবো
পান্তাভাতে ঘি….

কী আচানক কুমড়োপটাশ
বাক্যবাণে যতই হঠাস
বদলাবে না কোনো কালেই
সত্যি যে তার স্বভাব।

আকাশ কুসুম স্বপ্ন বুনে
কাটায় সময় ঢেউ যে গুনে
প্রশ্ন তারে যতই করো
পাবে না তার জবাব…

শুনলে ভীষণ পায় যে হাসি
আছে নাকি খোদার খাসি
ভাবনাবিহীন হরহামেশাই
এই সমাজে বাস করে।

ফুলবাবু সে দেখতে যেন
ভাঙ্গে কলম লেখতে যেন
নিজকে নিজে ভাবতে নবাব
স্বপ্ন মনে চাষ করে…

হোঁদল রাজা
লিয়াকত জোয়ার্দার

ইদেলপুরের পাহাড়চূড়ায়
হোঁদল রাজা বাস করে
গাছের ডালে হাঁড়ি বেধে
টেংরামাছের চাষ করে।

অদ্ভুত কী খেয়াল রাজার
রাতদুপুরে বসায় বাজার
অকারণে নিজের গালে
চড় মারে সে ঠাস করে।

মাথায় ব্যামো আছে বলে
অকালে তায় টাক পড়ে
এ্যালোভেরায় মধু মেখে
ছুরিতে চাক চাক করে।
দুহাতভরে মাথায় ডলে
ঠায় দাঁড়িয়ে ঠাণ্ডা জলে
মুক্তাগাছার মণ্ডা সে খায়
মসলা দিয়ে পাক করে।

রাজার হঠাৎ জাগলো যে সাধ
যাবে এবার গয়া সে
অনাথজনে অর্থদানে
দেখায় ভীষণ দয়া সে।
কিন্তু প্রবল বৃষ্টি-ঝড়ে
পাহাড় ধসে ছিটকে পড়ে
সব হারিয়ে নিঃস্ব রাজা
পেল জীবন নয়া সে।

ইদেলপুরের পাহাড়জুড়ে রাজার অনেক স্মৃতি
ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে নিত্য বিলায় প্রীতি।

করোনার কষ্ট
লিয়াকত জোয়ার্দার

সাবধানতার সকল স্তরেই
ছিলাম অগ্রগণ্য
তাই করোনার নেইকো যে ভয়
ভেবেই আমি ধন্য।

কিন্তু হঠাৎ গলাব্যথা
হাঁচি কাশি জ্বর
শ্বাসটা ক্রমেই যাচ্ছে বেড়ে
লাগছে ভীষণ ডর।

তিন তিনে ফোন করে আমি
জানতে পেলাম সব
খবর শুনে ঘরের লোকের
বাড়লো কলরব।

আইসোলেশন, স্বাস্থ্যবিধি
চলছি আমি মেনে
বিরামহীন এই শ্বাস ও কাশি
যাচ্ছে আঘাত হেনে।

হায়রে কীযে কষ্ট আমার
ঠিক যে মরণতুল্য
মনটা আমার বেঁচে থাকার
আশাই যেন ভুললো।

বয়সেরই ভারে সবল
নয়কো মোটে দেহ
অ্যাজমা আছে আছে প্রেসার
সাথে মধুমেহ।

ওষুধ খাওয়ার তিনদিন পরে
শ্বাস ও কাঁশি কমলো
বাকি যত উপসর্গও
ধীরে ধীরে দমলো।

আল্লাহপাকের রহমত ও
অনেক লোকের আশীর্বান
মৃত্যুঝুঁকি থাকার পরেও
রয়ে গেল দেহে প্রাণ।

chorakar liakat joarder

ছড়ালেখা
লিয়াকত জোয়ার্দার

ছড়ালেখা বড়ই কঠিন
আমার দ্বারা হবে না
লিখব যা তা আবোলতাবোল
কেউ তা ছড়া কবে না।

মাথা থেকে ও-সব চিন্তা
তাই দিয়েছি বাদ
মনের মাঝে ছড়ালেখার
নেইকো কোনো সাধ।

কিন্তু ছড়া পড়তে আমি
সত্যি ভালোবাসি
ছড়ার মাঝেই পাই যে খুঁজে
অনাবিল সুখ-হাসি।

ছড়া পড়ুন ছড়া গড়ুন
ছড়ায় তাড়ান ক্লান্তি
ছড়ায় আছে হায় লুকিয়ে
মনের যত শান্তি…

সংকল্প
লিয়াকত জোয়ার্দার

থাকবো এবার বদ্ধ ঘরে
দেখবো নাকো জগৎটাকে
কেমন করে ডুবছে মানুষ
‘করোনা’রই ঘূর্ণিপাকে।

দেশ হতে দেশ দেশান্তরে
নেই ভ্রমণের আশা ওরে
নিত্য মানুষ মরছে আহা
পাখির মতো ঝাঁকে ঝাঁকে।

নেইকো আশা দেখা আমার
সময় এখন শুধুই থামার
আসছে ধেয়ে মহাবিপদ
ঝড় তুলিতে জীবনবাঁকে।

নিয়ম ভাঙ্গার বাতিক ভুলে
শিকল দোরে দেবই তুলে
অকারণে বাইরে যাবে
করবো মানা এবার তাকে।

থাকবো এবার বদ্ধ ঘরে
চাইবো ক্ষমা সবার তরে
মহান প্রভু হওগো সদয়
নাও তুলে এই ‘করোনা’কে।

সান্ত্বনা
লিয়াকত জোয়ার্দার

“থাকলে দ্যাশে ভোটটা পামু
চইলা গেলে জমি”…
কী কথা কয় দুর্মুখেরা
শুনলে আসে বমি!!
কে আর আছে আমার মতো
তোদের ভালোবাসে
দুঃখ কিবা সুখের দিনে
দাঁড়ায় তোদের পাশে?
জমি দখল, পুড়ছে বাড়ি
করছে এসব যারা
থাকতে আমি কোনোক্রমেই
পার পাবে না তারা।
‘বিশ্বদাদা’র কাছে নালিশ
করল ফিঙ্গেপাখি
দুঃখ-রাগে সত্যি আমার
উঠল ভিজে আঁখি।
তোদের ভালোবাসি বলেই
হয়নিকো তার বিচার
এসব নিয়ে টিকটিকিরা
লিখল কত ফিচার।
নদ-নদী আর ফুল-ফসলে
আমার এদেশ ঘেরা
সৌহার্দ্য আর সম্প্রীতিতে
সকল দেশের সেরা।
শান্তি-সুখের আবাসভূমি
এই আমাদের দেশটা
নতুন করে গড়তে তারে
যাচ্ছি করে চেষ্টা।

এডিস মশা
লিয়াকত জোয়ার্দার

চোখেরই ঘুম কেড়ে নিলো
ছোট্ট একটি মশা
তার ভয়ে আজ কাঁপছে যে দেশ
সবার বেহাল দশা।

হাসপাতালে হচ্ছে না ঠাঁই
ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে
এডিস মশা প্রতিদিনই
জীবন কারো কাড়ছে।

আল-হুজুরে কয় বয়ানে
আল্লাহ নারাজ হলে
এমনই সব বিপদ নেমে
আসে দলে দলে।

তওবা করো, নিজের ঘর ও
পাশের পরিবেশ
পরিচ্ছন্ন রাখলে সবাই
হবে মশা শেষ।

আল্লাহ তুমি রহম করো
নাও গো গজব তুলে
তোমার সকল মানবো হুকুম
আর না যাবো ভুলে।

chorakar liakat joarder

পড়িস যদি
লিয়াকত জোয়ার্দার

এই ছড়টা পড়িস যদি
ভূতে তোরে ধরবে না
গহীনবনে হাঁটবি একা
ভয় যে তবু করবে না।

ভূতের কথা ভূতের বাড়ি
চিন্তা ও-সব দিবি ছাড়ি
আদ্যিকালের ফালতু কথার
কল্প মনে নড়বে না।

গল্প-ছড়ায় ভূতের কথা
খুঁজলি পাবি যথা-তথা
এ-সব নিয়ে ভাবলে সদা
মন থেকে ভয় সরবে না।

জ্ঞান-বিজ্ঞানের পড়লে যে বই
কুসংস্কারের টুটবে যে খই
মনের ভেতর ভূতের আদল
কখনো যে গড়বে না।

যেই মেয়েটি
লিয়াকত জোয়ার্দার

যেই মেয়েটি পরাণখুলে
খলবলিয়ে হাসতে পারে
যেই মেয়েটির মিষ্টি কথা
দুঃখ মনের নাশতে পারে।

যেই মেয়েটির মনটা সরল
নিষ্পাপ ঐ শিশুর মতো
যেই মেয়েটি গুরুজনে
থাকে সদা অনুগত।

যেই মেয়েটি চন্দ্রমুখী
সাগরভরা ডাগর আঁখি
যেই মেয়েটি দেখতে লাগে
মায়াবী এক হলদে পাখি।

সেই মেয়েটি কপালগুণে
পেলাম আমি আপন করে
তার কারণে স্বর্গীয় সুখ
নেমে আসে আমার ঘরে।

জ্বালার ওপর জ্বালা
লিয়াকত জোয়ার্দার

জ্বালার ওপর জ্বালা যে তার
ঢুকল ঘরে সাপ
ভয়ের চোটে গিন্নি লাফায়
ডাকে তারে বাপ।

ছিঃ ছিঃ ছিঃ কী লজ্জা যে তার
উঠল কেঁপে মজ্জা যে তার
ঘুরছে মাথা ভোঁ-ভোঁ করে
বাড়ছে রক্তচাপ।
জ্বালার ওপর জ্বালা যে তার
ঢুকল ঘরে সাপ।।

স্বর্ণকারে সোনা চিনে
কাসা রূপা পিতল
মাছের মর্ম জেলে বোঝে
ইলিশ বোয়াল চিতল।

নিজের বাছুর চিনে যে গাই
কুকুর খোঁজে শুতে যে ছাই
মেঘের ডাকে কোলাব্যাঙও
মারে জোরে লাফ।
জ্বালার ওপর জ্বালা যে তার
ঢুকল ঘরে সাপ।।

রঙিন স্বপন (শিশুতোষ ছড়া)
লিয়াকত জোয়ার্দার

মেঘলা আকাশ একলা আমি
আজকে দুপুরবেলা
মেঘবালিকা আমার সাথে
খেলবি মজার খেলা?

আয় ছুটে আয় বৃষ্টি হয়ে
সবুজবনে মাতি
ইচ্ছেমতো ভিজবো আমি
সকাল-দুপুর-রাতি।

নদীর জলে কাটবো সাঁতার
ভাসবো স্রোতের টানে
মুগ্ধ হয়ে ভুলবো সবই
জলজ পাখির গানে।

মেঘবালিকা মিষ্টি হেসে
ছুটলো হাওয়ার টানে
রঙিন স্বপন বুনে গেল
ছোট্ট খুকির প্রাণে।

ভালোবাসার লিংক
লিয়াকত জোয়ার্দার

ভালোবাসার লিংক পেয়েছি
ডাউনলোডও করা যায়
হরেকরকম ভালোবাসা
ইচ্ছেমতো ধরা যায়।

এ্যাড্রেস বারে ঠিকানাটা
কপি করে পেস্ট করো
রঙবেরঙের ভালোবাসা
মনের মতো টেস্ট করো।

আমার কথা মিথ্যে হলে
এসো জাদুঘরে
সত্যিকারের ভালোবাসা
দেবো দুহাত ভরে।

chorakar liakat joarder

বউকে ছাড়া
লিয়াকত জোয়ার্দার

বউকে ছাড়া কাকে বলো
বাসবো ভালো প্রাণ দিয়ে?
বউটা আমার সকল কিছু
আগলে রাখে জান দিয়ে।

আমার বাগে ফুল হয়ে সে
নিত্য ছড়ায় গন্ধ যে
আমার সুখের মূল হয়ে সে
দুঃখ করে বন্ধ যে।

আমার কথা কাব্য সুরে
সৃষ্টি করে ছন্দ সে
হতাশ মনে আশার আলো
দূর করে যে দ্বন্দ্ব সে।

তাকে ছাড়া এই হৃদয়ে
ঠাঁই হবে না কারো যে
সুখপাখি এই বউকে আমার
বাসবো ভালো আরো যে।

রিমোট
লিয়াকত জোয়ার্দার

আমার প্রিয় বাংলা চ্যানেল
হিন্দি দেখে গিন্নি
কার্টুন দেখে ভীষণ মজা
পায় যে মেয়ে তিন্নী।

ছেলের প্রিয় ক্রিকেট খেলা
রিমোট রাখে আটক
দেখতে আমি পাই না যে তাই
খবর কিংবা নাটক।

শতেক চ্যানেল দেখবো কটা
এক টিভিতে সকলে
ছেলেমেয়ে অমন করে
রাখলে রিমোট দখলে।

জানা নেই
লিয়াকত জোয়ার্দার

আরামবাগেও ব্যারাম আছে
ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া
তাই বলে কে যায় পালিয়ে
এমন কথা শুনিয়া?

বাগানবিহীন হাজারীবাগ
ধানমণ্ডিতে ধান কোথা
বুড়িগঙ্গার স্বচ্ছজলের
হায় হারালো মান কোথা?

পরীবাগে পরী আছে
কিন্তু তাদের ডানা নেই
হাতিরপুলের হাতিগুলো
কোথায় গেলো জানা নেই।

মধুবাগের বধূর মুখে
মিষ্টিকথা ঝরে কি?
শাহবাগে যে বাগান ছিল
কারো মনে পড়ে কি?

ভয়
লিয়াকত জোয়ার্দার

ভালো করে না পড়িলে
যেমন আছে ফেলের ভয়
পড়লে ধরা চুরি করে
তেমনি আছে জেলের ভয়।

চললে বেভুল এই শহরে
গাড়ির তলে পড়ার ভয়
তেমনি সাঁতার না জানিলে
জলে ডুবে মরার ভয়।

স্বাস্থ্যবিধি না মানিলে
আছে নানা রোগের ভয়
গহীনবনে চলতে একা
জাগে বাঘ ও ঘোঘের ভয়।

অঙ্গভরা গয়না নিয়ে
যেমন আছে চলার ভয়
সত্যকথা সকল সময়
তেমনি আছে বলার ভয়।

দেখে-শুনে না চলিলে
গর্তে পড়ার আছে ভয়
অকুতোভয় মুক্তিসেনার
ঘেষতে পারে কাছে ভয়?

chorakar liakat joarder

গাধা
লিয়াকত জোয়ার্দার

দেখতে আমি ঘোড়ার মতো
লোকে বলে গাধা
আদ্যিকালে ঘোড়াই নাকি
ছিলো আমার দাদা।

ঘোড়ার নাতি কেমন করে
হলাম আমি গাধা?
সেই ইতিহাস জানতে গিয়ে
লাগছে ভীষণ ধাঁধা।

বিবর্তনের গ্যাঁড়াকলে
পড়েই যে এই দশা
কোন্ সে প্রাণির বিবর্তনে
জন্ম নিলো মশা?

ডারউইনের মতবাদে
বানর থেকে মানব
আদ্যিপুরুষ তার কে ছিলো
ভয়ংকর ঐ দানব?

কে ছড়ালো তথ্য এমন
সত্য নাকি মিথ্যে?
আমি গাধা মরছি ভেবে
দিচ্ছে দোলা চিত্তে।

ছড়াসঙ্গীত
লিয়াকত জোয়ার্দার

আয়রে ছড়া আয় চলে আয় আয়রে আমার ঘরে
খোকা-খুকির গান শুনে আজ মনটা যাবে ভরে ।
আয় ফাগুনের রঙ দেখে যা
ফুল-পাতাদের ঢঙ দেখে যা
আয় যতনে সোনার খাঁচায় রাখবো তোরে ধরে ।

ছড়ারে তুই কই পালাবি ধরবো তোরে ছাই দিয়া ।
তোর যা দাবি মানবো সবই টাকা আনা পাই দিয়া ।

হায়রে আমার লক্ষ্মীছড়া
তবু আমায় দেয় না ধরা
কোন্ সুদূরে যায় পালিয়ে আমায় নাকাল করে ।

সালাম
লিয়াকত জোয়ার্দার

দূর হতে সে হাত উচিয়ে
যেই করিল সালাম
বুঝলো যে ভুল ওসি সাহেব-
বাঁধালো তুলকালাম।

এত বড় বুকের পাটা
আমায় দেখাস চড়!
হাত-পা বেধে থানায় নিয়ে
করবো বিচার তোর।

বিনা দোষে হাজতবাসে
কাটে একটি রাত
সালাম দিলে আর কখনো
তুলবো নাকো হাত।

ছ্যাকা
লিয়াকত জোয়ার্দার

প্রেমটা ছিলো শৈশবী, তাই
খেতে হলো ছ্যাকা
এইতো সেদিন বইমেলাতে
হঠাৎ করেই দেখা।

কোলজুড়ে তার মিষ্টিমেয়ে
চললো আমার দৃষ্টি ধেয়ে
কাছে যেতেই যায় হারিয়ে
হঠাৎ লোকের ভিড়ে
ছ্যাকাকানাই আবার ছ্যাকা
খেয়ে এলাম ফিরে।

বইপ্রেমিকে ছিলো সেদিন
অলিগলি ঠাসা
তাকে দেখেই উথলে ওঠে
পুরান ভালোবাসা।

সর্বনাশা প্রেমরে আমার
ভাঙ্গে হৃদয়ফ্রেমরে আমার
বুকের ভেতর তুষের অনল
জ্বলে ধিকি ধিকি
তাই ছ্যাকাদের সংঘ গড়ে
ছ্যাকাকাব্য লিখি।

ভালোবাসা দিবসের

রঙ্গছড়া
লিয়াকত জোয়ার্দার

বছরজুড়ে মান-অভিমান
ঝগড়াবিবাদ শত
গিন্নি তোমার থামাও চাপা
আর চালাবে কত?

বাঘের মতো গর্জে উঠে
গিন্নি দাঁড়ায় রুখে
আগুনঝরা নয়নবাণে
হানলো আঘাত বুকে।

সুরত দেখে ভীত হয়ে
জড়িয়ে ধরি হাত
দোহাই লাগে গিন্নি আমার
ভেঙ্গো নাকো দাঁত।

ভালোবাসার এই দিবসে
বন্ধ করো ঝগড়া
নয়তো লোকে বলবে তোমায়
আস্ত যে এক মগড়া।

পকেট থেকে ফুলের তোড়া
সামনে মেলে ধরি
মিষ্টি হেসে গিন্নি বলে
ক্ষমা করো- সরি।

chorakar liakat joarder

ভেজাল
লিয়াকত জোয়ার্দার

ভেজাল নিয়ে লাগলো ক্যাঁচাল
গ্রাম-গঞ্জ আর শহরে
ভেজালস্রোতে যাচ্ছি ভেসে
কে জানে কোন্ নহরে।

খাদ্যে ভেজাল বাদ্যে ভেজাল
ভেজাল বলো নাই কীসে?
ভেজালপ্রেমে ছ্যাকা খেয়ে
আত্মহনন তাই বিষে।

ভেজাল দিয়ে গড়া দালান
ধসে পড়ে জীবনপাত
চলতে থাকে এমন যদি
বলবে লোকে ভেজালজাত।

প্রেমের তরে
লিয়াকত জোয়ার্দার

পাশের ফ্ল্যাটের ওই মেয়েটি
মিষ্টি করে হাসে
ইচ্ছে করে হাতটি ধরে
দাঁড়াই গিয়ে পাশে।

সাহস করে এক বিকেলে
একটি গোলাপফুলে
ভালোবাসার পরশ মেখে
দেই গুঁজে তার চুলে।

অনুরাগে সিক্ত হয়ে
তাকাই নয়নপানে
হঠাৎ জোরে লাগে যে টান
আমার দুটি কানে।

মেয়ের মা যে রায়বাঘিনী
ফেলে আমায় ধরে
প্রেমের তরে এমন ধোলাই
যাবোই বুঝি মরে!

শীত
লিয়াকত জোয়ার্দার

রাতের শুরু একটু গরম
শেষের দিকে ঠাণ্ডা
ঘুমের ঘোরে শীতের বুড়ি
মারে যেন ডাণ্ডা।

ঘুম ভেঙ্গে যায় অমনি আমার
জড়াই কাঁথা গায়ে
আহ কী আরাম! জমাই পাড়ি
ঘুমের দেশে, নায়ে।

বিহানবেলা দুধকুলি আর
চিতোই পিঠার ঘ্রাণে
শীতভুলে যাই পেটপুরে খাই
লাগে যে সুখ প্রাণে।

এদেশবাসী সবাই যেন
থাকে পরমসুখে
ভীষণশীতেও নেই যে তবু
কষ্ট কারো বুকে।

chorakar liakat joarder

গাধার কাণ্ড
লিয়াকত জোয়ার্দার

গাধার পিঠে বস্তা চেপে
দুঃখ যে তার উঠলো ছেপে
দুষ্টগাধা হঠাৎ যখন
দিলো জলে ডুব।

জলের ছোঁয়ায় চিনি গলে
কমছে ওজন পলে পলে
হাঁটছে গাধা হেলেদুলে
পাচ্ছে আরাম খুব।

গাধার এমন কাণ্ড দেখে
ক্রোধে মালিক বসলো বেঁকে
তুলা দিয়ে বস্তাভরে
গাধার পিঠে চাপায়।

এবার মজা বোঝে গাধা
দেখে চোখে গোলকধাঁধা
মাঝনদীতে এসে যখন
মনের সুখে ঝাঁপায়।

ভালোবেসে
লিয়াকত জোয়ার্দার

লম্বা হলেও সরু না
সবজি খেলেও গরু না
হৃদয় আমার মরু না
আছে যে প্রেম করুণা।

নাম মেয়েটির জরিনা
দেখতে কিন্তু পরী না
বাবার টাকার গরমে
মেজাজ থাকে চরমে।

তারে দিলাম আমি ফুল
সে যে ছিঁড়লো আমার চুল
তারে যে ভালোবাসা
ছিলো কি গো আমার ভুল?

কঠিন বিমার
লিয়াকত জোয়ার্দার

ছড়াদাদুর কঠিন বিমার
খাইলে ক্ষুধা লাগে না
দাদির এত বকাঝকা
কিন্তু তবু রাগে না।

বদ্যি এসে পথ্য দিলো
ভালো থাকার তথ্য দিলো
বাঘের মতো নাক ডাকে তার
সহজে সে জাগে না।

নাতি-নাতনি ডজনখানি
মাথায় ঢালে ঠাণ্ডাপানি
খাটে বসে কাঁদে দাদি
তবু যে ঘুম ভাগে না।

হায় আচানক একী বিমার
ধরলো ছড়াদাদুকে
ঝেড়ে দিতে আনরে ডেকে
আদিলউদ্দিন আদুকে।

চুপটি করে কাটায় যে দিন
খাইতে সে ঘি করে যে ঋণ
ঝর্ণাকলম ছাড়া আবার
বলপেনে সে লেখে না।

গোদের উপর বিষের ফোঁড়া
করছে ধাওয়া পাগলা ঘোড়া
রাতের বেলা ঘুমালে সে
চোখে নাকি দেখে না।

এই দাদুকে সুস্থ করে
তুলতে যেজন পারবে
তাকে খুশি করতে দাদি
লক্ষ টাকা ছাড়বে।

এক যে পাখি ময়না
লিয়াকত জোয়ার্দার

হৃদ্কাননে বাধলো বাসা
এক যে পাখি ময়না
হৃদয়জুড়ে বসত তবু
আমার কাছে রয় না।

ঠোঁটে ঝরে মুচকি হাসি
স্বভাবে সে স্বল্পভাষী
আগবাড়িয়ে কোনো কথাই
আমার সাথে কয় না।

কাব্যে তাহার পাই যে খুঁজে
হাজার ফুলের গন্ধ
নুড়ির ঘায়ে ঝর্ণাধারার
ছুটে চলার ছন্দ।

নিত্য দিনের কান্না-হাসি
তুলে ধরে পাশপাশি
ফুরফরে তার মেজাজখানা
দুঃখ কোনো বয় না।

অভিমানে গাল ফুলালে
লাগে ভারি মিষ্টি
চাঁদপনা তার মুখটি দেখে
ফেরে না তো দৃষ্টি।

সুখে থাকো ময়না আমার
কষ্ট তোমার সয় না আমার
খুলে দেবো হৃদয় দুয়ার
গড়ে দেবো গয়না।

chorakar liakat joarder

ছিপখান
লিয়াকত জোয়ার্দার

ছিপখান দাঁড়হীন
নেই কোনো মাল্লা
নদী-নালা জলহীন
হয় নাতো পাল্লা।

ঢোলকের তালে তালে
দাঁড়টানা বন্ধ
স্মৃতি হয়ে ফিরে আজ
জারিগান-ছন্দ।

কোন্ বিলে পড়েছিলো
কাঠফাটারৌদ্রে
জাদুঘরে নিয়ে আসে
কোনো একভদ্রে।

ছিপখান দিয়ে তাই
গড়ে উঠে গ্যালারি
দেখভাল করে তার
কেউ পায় স্যালারি।

এমন কেন স্বভাব
লিয়াকত জোয়ার্দার

কোকিলটারে যতই শুধাই
এমন কেন স্বভাব
নিজের বাসা গড়তে নিজে
আছে জ্ঞানের অভাব?

চুপিসারে কাকের বাসায়
ডিম পেড়ে যাস কীসের আশায়?
কুহুতানে মগ্ন কোকিল
দেয় না কোনো জবাব।

হৃদয়হরা সুর শুনে তার
ক্ষোভ যে মনে রইলো না আর
তবু আমার রইলো জেগে
মনের ভেতর দ্বন্দ্ব।

তার পাশে একফিঙে ছিলো
সেই আমারে জবাব দিলো
এবার আমার কাটলো মনে
জমে থাকা সন্দ।

পিকদেবতার বর পেয়ে সে
কাকপাখিটার ঘর পেয়ে সে
চুপটি করে পেড়ে যাবে
নিজের যত ডিম সে।

তাই বোনে না কোকিল বাসা
কেমন পাখি বুদ্ধিঠাসা
পরের ধনে পোদ্দারিতে
মাথায় রাখে থিম সে।।

chorakar liakat joarder

পান্তভূতের শান্তছেলে
লিয়াকত জোয়ার্দার

পান্তভূতের শান্তছেলে
ঘটালো কী কাণ্ডটা
চুরি করে ননী খেতে
ভাঙ্গলো শেষে ভাণ্ডটা।

হঠাৎ এমন শব্দ শুনে
রান্নাঘরে পা-বাড়াই
বাপরে সে কী বিশ্রীমুখো
দেখেই যেন জ্ঞান হারাই।

চোখ দুটো তার ভাটার মতো
মূলার মতো দাঁতগুলো
চুল কোথা ছাই কাকের বাসা
কাঠির মতো হাতগুলো।

খেকখেকিয়ে বললো হেসে
চাই কি খাওয়া ননী তোর?
রাত পোহালেই দেখতি পাবি
যাচ্ছে কেটে শনি তোর।

জান বাঁচাতে দৌঁড়ে এসে
অমনি এঁটে দিলাম দোর
ধুকধুকানি বাড়ছে বুকের
কাটছে নাতো ভয়ের ঘোর।

মশা
লিয়াকত জোয়ার্দার

কানের কাছে পুনপুনিয়ে
ঘুমটা কেন ভাঙ্গাস?
চুরি করে রক্ত খেয়ে
পেটটা কেমন রাঙ্গাস!
ভীষণ পাজি তুই যে মশা
করবোরে তোর বেহালদশা
সদলবলে নালিশ করিস
মশারি ক্যান টাঙ্গাস?
তোর কারণে আমরা ভোগী
ডেঙ্গু-কালাজ্বরের রোগী
পেটে যদি এতই ক্ষুধা
খারে বোয়াল-পাঙ্গাস।
স্প্রে-কয়লে হয় না মরণ
বদলে গেছে বাঁচার ধরন
কেমন করে লড়াই করে
জীবনটারে চাঙ্গাস?

টাক
লিয়াকত জোয়ার্দার

টাক দেখে যে কাকগুলো ক্যান্
হঠাৎ অমন কাজ করে?
চলার পথে টেকো মিয়ার
মাথায় যেন বাজ পড়ে।

গ্রীষ্মকালের কাঠফাটারোদ
মাথায় পড়ে ঘামায় বেশ
অকালটাকের সইতে ধকল
বিড়ম্বনার নেইকো শেষ।

শীতের দিনেও নেইকো আরাম
চান্দি কাঁপায় ঠাণ্ডা যে
সুযোগ পেয়ে হিমবুড়িটা
হঠাৎ মারে ডাণ্ডা যে।

প্রেমের কিংবা বিয়ের বাজার
সবখানে তার কম কদর
যোগ্যতা তার থাকনা যতই
কিংবা যতই হোক নধর।

জ্ঞানী-গুণী বুদ্ধিজীবী
যতই তাঁরা হোক টেকো
এই সমাজের আলোক তাঁরা
টিপ্পনীতে চুপ থেকো।

ছড়াকার লিয়াকত জোয়ার্দার

আলোর নিচেই অন্ধকার
লিয়াকত জোয়ার্দার

নীতির কথা নেতা বলে
কিন্তু নীতি নিজেই দলে
নীতির প্রতি প্রীতি নিয়ে
আছে মনে দ্বন্দ্ব তার।
বুঝলে ওহে খন্দকার?
আলোর নিচেই অন্ধকার!

ভাগ্যগোনে গনৎকারে
নেই জানা তার নিজের ঘাড়ে
কোন্ সে বিপদ কখন চেপে
কপাল করে মন্দ তার।
বুঝলে ওহে খন্দকার?
আলোর নিচেই অন্ধকার!

দুর্জন হলেও বিদ্যাধারী
দেয় না তারে যেজন আড়ি
সঙ্গদোষে অবশেষে
কাটবে মনের ছন্দ তার।
বুঝলে ওহে খন্দকার
আলোর নিচেই অন্ধকার!

গাছে কাঁঠাল গোফে যে তেল
লাভ কী কাকের পাকলে যে বেল
উপকারে কাকড়া বড়ি
আছে তাতে সন্দ কার?
বুঝলে ওহে খন্দকার
আলোর নিচেই অন্ধকার!

chorakar liakat joarder

ছড়া আমায়
লিয়াকত জোয়ার্দার

ছড়া আমায় বাঁচতে শেখায়
নাচতে শেখায় প্রাণখুলে
তেমনি ভালোবাসতে শেখায়
হাসতে শেখায় মানভুলে।

ছড়া আমায় বলতে শেখায়
চলতে শেখায় রাজপথে
আনতে বিজয় যুদ্ধে নামায়
আর না থামায় মাঝপথে।

ছড়া আমায় ভাবতে শেখায়
মাপতে শেখায় ছন্দ-তাল
ভাবছাড়া সব ভাষার গাঁথন
হয় যে মাতন মন্দ হাল।

ছড়া আমায় উড়তে শেখায়
ঘুরতে শেখায় বিশ্বময়
হৃদয়পটে আঁকা ছবি
করে তোলে দৃশ্যময়।

ছড়া আমায় স্বপনগুলো
বপন করায় নিত্য যে
হৃদ্কাননে ফুল ফুটিয়ে
দেয় ভরিয়ে চিত্ত যে।

খবির বুইড়া
লিয়াকত জোয়ার্দার

খবির বুইড়া নয়কো বুড়ু
কেউবা জানে ঐ নামে
কিন্তু কেন কারণটা কী
ঘটলো বা সে কোন্ কামে?

তাগড়া-জোয়ান বউটা ঘরে
না-বলা এক কষ্টে মরে
অক্ষমতার বেড়াজালে
আটকে খবির তাই ঘামে।

লজ্জা যে তার চিকিৎসাতে
হয়তো বা কেউ জানবে তাতে
মুখদেখানো দায় হবে তার
তাই থাকে সে চুপ করে।

শোনা কথায় দাওয়াই কিনে
খায় গোপনে রাত ও দিনে
নতুন আশায় বুক বেঁধে সে
স্বপ্ন দেখে খুব করে।

ধীরে ধীরে বিমার বাড়ে
বউ চলে যায় ফেলে তারে
চারদিকে তার ঘনায় বিপদ
আঁধার নামে দুইচোখে।

প্রতিকারে ভুক্তভোগী
যাও এগিয়ে সকল রোগী
লজ্জাভুলে নাওগো সেবা
ডাক্তার হতে সব লোকে।

chorakar liakat joarder

রগচটা
লিয়াকত জোয়ার্দার

লোকটা বড় রগচটা তাই
কথায় কথায় রাগ করে
রেখে যাওয়া বাপের জমি
নিজের মতো ভাগ করে।

বাড়ির কাছের জমিগুলো
ভাগ করে সে নেয় নিজে
দূরের জমি নিজের মতো
ভাইদের সে দেয় নিজে।

পুকুরভরা মাছগুলো সব
একা খাবার সাধ জাগে
নিজে সবার বড় বলে
বড়টা চাই তার ভাগে।

দখিনমুখী ঘরখানা সে
দখল করে বাস করে
উঠোনজুড়ে হরেকরকম
শাকসবজি সে চাষ করে।

এত কিছু থাকার পরেও
আশা যে তার মেটে না
তাগড়া জোয়ান বউখানা তার
বাচ্চা আসে পেটে না।

টিপ্পনীতে পাড়ার লোকে
নাচে তাধিন ধিনতা
কে খাবে সব মরার পরে
করে না সে চিন্তা।

হঠাৎ এমন
লিয়াকত জোয়ার্দার

ঘরের সবাই খায় যে খাসি
গরুর মাংস-মিষ্টি
কী আবেগে যায় ছুটে যায়
আমার লোলুপ দৃষ্টি।

আছে প্রেসার মধুমেহ
বাছবিচারে আমিষ-স্নেহ
যা খুশি তাই খেলে নাকি
ঘটবে অনাসৃষ্টি।

যৌবনে তো সব খেয়েছি
কেউ করেনি মানা
হঠাৎ এমন ঘটবে আমার
হায় ছিলো না জানা।

চলি যখন নিয়ম করে
দেহ-মনে ফূর্তি ঝরে
কষ্ট তখন যায় পালিয়ে
নামে সুখের বৃষ্টি।

মহাজোট
লিয়াকত জোয়ার্দার

জোটবেধে ঐ ফিঙেপাখি
করলো দখল চর
লড়তে একা ছিটকে পড়ে
পেঁচার আসে জ্বর।

মানতে ভীষণ কষ্ট যে তার
পরাজয়ের গ্লানি
প্রলাপ বকে দিবানিশি
চোখে আসে পানি।

তাই সে এবার দেয় ঘোষণা
গড়বে মহাজোট
দেখবে তাদের আগের চেয়ে
বাড়ে কিনা ভোট।

ডানে-বামে আগে-পিছে
আছে যত দল
ওরাই হবে শরীক আমার
ওরাই আমার বল।

হুতুম পেঁচার কথা শুনে
ফিঙেপাখি হাসে
ওরা কি সব পোষা তোমার
ধান ছিটালেই আসে?

টিপ্পনীতে গা জ্বলে তার
চোট লাগে যে মনে
হোক না অবাধ লড়াই দেখি
কে থাকে কার সনে?

chorakar liakat joarder

বুঝবি তখন
লিয়াকত জোয়ার্দার

আমি যখন ছোট্ট ছিলাম
ঠিক যে তোরই মতো
বাগান হতে ফুল তুলে মা
দিতো আমায় কত!

ফুলের ছোঁয়া নরম গালে
মা লাগাতো খুশির তালে
ফোকলা দাঁতের মিষ্টিহাসি
দেখতো নয়নভরে।

বাড়ির সকল ছেলেমেয়ে
ভীষণ খুশি আমায় পেয়ে
কটমটিয়ে ভয় দেখাতাম
সবাই যেত সরে।

হঠাৎ ব্যামো ধরলো আমায়
কান্না মায়ের কেবা থামায়
ভুলেই গেল নাওয়া-খাওয়া
গা পুড়ে যায় জ্বরে।

ওষুধ দিলো বৈদ্য ডেকে
মুছালো গা থেকে থেকে
ধীরে ধীরে ছাড়লো সে জ্বর
সপ্তাখানেক পরে।

তোর কিছু আজ হলে খোকা
অশ্রু আমার যায়না রোখা
তেমনি যে তোর আম্মু কাঁদে
আমার মায়ের মতো।

খোকা যেদিন বাবা হবি
এসব তখন বুঝবি সবই
ছেলেমেয়ের দুঃখ-ব্যথায়
কষ্ট লাগে কত!

দজ্জাল বিবি
লিয়াকত জোয়ার্দার

দুঃখের কথা বলবো কারে
বলতে গেলেই দুঃখ বাড়ে
কেউবা হাসে কেউবা কাশে
দজ্জাল বিবি হায় ঘরে।

আমি নাকি চিকন আলী
ঝাল মেটাতে দেয় যে গালি
চিত্ত আমার নিত্য জ্বলে
দু’চোখ জলে যায় ভরে।

ভোর না হতেই ডাকাডাকি
অকারণে হাকাহাকি
বাসন মাজা আরেক সাজা
কথায় কথায় হাত তোলে।

তিনবেলাতেই রান্না করি
গোসলখানায় কান্না করি
কাপড় কাচি পায় যে হাঁচি
দেয় যে বকা জাত তোলে।

বাপে পুলিশ দেমাগ ভারি
ভাঙ্গে মাথায় ভাতের হাঁড়ি
বউয়ের জ্বালায় শান্তি পালায়
ঘুম আসে না দুইচোখে।

মাঝেমাঝে ইচ্ছে করে
লাগাই দু’ঘা ঘাড়টা ধরে
মারি ধমক দেখাই চমক
দেই ফুটিয়ে সূইচোখে।

chorakar liakat joarder

বড়াই (শিশুতোষ ছড়া)
লিয়াকত জোয়ার্দার

মাঠের ’পরে বড়াই করে
বলছে ঘোড়া গাধাকে
বলতে পারিস তুইরে হাবা
রামছাগলের দাদা কে?

গাধায় হাসে ছিলো পাশে
এক যে কালো ছাগলে
এমন কথা বলতে পারে
শুধুই জানি পাগলে।

অমনি ঘোড়া চক্ষু জোড়া
ভীষণ রাগে পাকিয়ে
করলো তাড়া ছাগলটাকে
আকাশ পানে তাকিয়ে।

হুমড়ি খেয়ে পড়লো গিয়ে
পাশের এঁদো পুকুরে
তাইনা দেখে উঠলো হেসে
রাম বাবুদের কুকুরে।

ফ্রি সমাচার
লিয়াকত জোয়ার্দার

চাল কিনো ডাল ফ্রি
নুন কিনো তেল
যদি কিনো তরমুজ
সাথে ফ্রি বেল।

মাছ নিলে ছাই ফ্রি
ডাঁটা নিলে শাক
আদা জিরা নিয়ে ফ্রি
মাংসতে মাখ্ ।

মুরগীর সাথে ডিম
করো ফ্রি ভোগ
ভেজালের সাথে ফ্রি
আছে নানা রোগ।

‘ফ্রি রোগে’ ছেয়ে গেছে
আমাদের দেশ
ফ্রি ছাড়া বেচাকেনা
জমে নাতো বেশ।

এই ভাবে একদিন
শোনা যাবে খালি
বিয়ে করো পাবে ফ্রি
থাকে যদি শালী।

মেজদাদা
লিয়াকত জোয়ার্দার

মেজদাদা নামজাদা
ছিলো এক ডাক্তার
মুখভরা চাপদাড়ি
মাথাজুড়ে টাক তার।

দসাসই দেহ তার
নাই জুড়ি কেহ তার
শুনে পিলে চমকায়
হায়দরি হাঁক তার।

খেতে খেতে ভূড়ি তার
যেন ডোল জুড়ি তার
কত কী যে খেতো রোজ-
তবু চাই শাক তার।

প্রিয় তার ছিলো পান
ভাটিয়ালী জারি গান
প্রাণে সুখ অফুরান
ছিলো উঁচু নাক তার।

একদিন প্রাণপাখি
ওড়ে গেলো সব রাখি
শুধু নাম রেখে গেলো
সলোমান আকতার।

chorakar liakat joarder

বাবু থেকে
লিয়াকত জোয়ার্দার

আমি যখন ছোট্ট ছিলাম বলতো লোকে বাবু
মায়ের কোলে বসে খেতাম দুগ্ধ কিংবা সাবু।
একটু বড় হতেই লোকে ডাকে আমায় খোকা
অবুঝ বলে সুযোগ পেয়ে কেউবা দিত ধোঁকা।

দিন গড়ালো খোকা হতে হলাম আমি বালক
মন ছুটে যায় পাখির মতো গজাচ্ছে কি পালক?
এখন আমার সুঠাম দেহ দেখতে নজরকাড়া
আমায় পেতে মেয়ের বাবা রাখে যে কানখাড়া।

বিয়ের পরে শ্বশুরকূলে হলাম আমি জামাই
খোশমেজাজে যাচ্ছি খেয়ে শ্বশুর বেটার কামাই।
বছর যেতেই বাচ্চা হলো হলাম আমি বাবা
সুখপাখিটা বুকের ভেতর আস্তে মারে থাবা।
শ্বশুর হলাম ছেলে-মেয়ের যখন হলো বিয়ে
দাদা-নানা হয়ে মাতি সবাইকে আজ নিয়ে।

chorakar liakat joarder

আবোলতাবোল গল্প (শিশুতোষ ছড়া)
লিয়াকত জোয়ার্দার

একদেশে এক রাজা ছিলো
নাম কী ছিলো রাজার?
কথায় কথায় প্রশ্ন করিস
ভয় করে না সাজার?

ঘোড়াশালে ঘোড়া ছিলো
হাতিশালে হাতি
আবার খোকা বলিস কথা
তুই কি রাজার নাতি?

রাজার বড় প্রতাপ ছিলো
কাঁপতো ভয়ে প্রজা
মন্ত্রি-সেপাই এসব দেখে
পেতো ভীষণ মজা।

কথার মাঝে বাগড়া দিলে
গল্প বলা বন্ধ
তা হলে কি থেমে যাবে
রাজা-প্রজার দ্বন্দ্ব?

রাজা-প্রজার দ্বন্দ্ব বাড়ুক
তোর বা তাতে কী?
কে সেধেছে তোকে খেতে
পান্তাভাতে ঘি?

আবোলতাবোল গল্প তোমার
বন্ধ করো দাদি
চলো এবার ফিরবো বাড়ি
বোঁচকাগুলো বাঁধি।

চলতি বয়ান
লিয়াকত জোয়ার্দার

অন্ধপ্রেমে বন্দি যে জন
যায় যে ভুলে জাত-বেজাত
ক্ষুধার জ্বালায় অধীর হলে
ভীষণ মজাই পান্তাভাত।

ভাঙ্গা খাটে যায় কী আসে
ঘুমের নেশায় অচিনপুর
তেষ্টা পেলে ঘাট-অঘাটের
অমনি ফারাক হয় যে দূর।

ছড়াকার লিয়াকত জোয়ার্দার

জাদুঘরের ছড়া
লিয়াকত জোয়ার্দার

শাহবাগের ঐ মোড় পেরিয়ে
গাড়ির বহর ভিড় এড়িয়ে
টিকিট কেটে একটু হেঁটে
সামনে যদি আগান…
জাদুঘরের দেখতে জাদু
নারী-পুরুষ শিশু-দাদু
মনের ভেতর ইচ্ছেটা যে
হঠাৎ মারে চাগান।

হরেক রকম গাছগাছালি
হাওয়ার দোলায় দিচ্ছে তালি
সবুজ বনের অবুজ মায়ায়
চোখ দু’টোকে থামান।
গোলাগুলির নেই গোলযোগ
নেইকো সিপাই নেই দুর্ভোগ
ডাইনে-বামে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে
আদ্যিকালের কামান।

হপহপিয়ে ভেঙ্গে সিঁড়ি
যাও দোতলায়, স্বপ্নগিরি
বাংলাদেশের ম্যাপটা দেখে
চক্ষু হবে ডাগর।
তিনদিকে তার ভারত গা’টা
ধরে আছে, ধোয়ায় পা’টা
স্নেহের জলে, দক্ষিণে তার
বঙ্গ-উপ-সাগর।

মায়ের মতোই
লিয়াকত জোয়ার্দার

সবুজঘেরা আমার গাঁয়ের
পাশেই ঝিনাই নদী
জল টলমল বক্ষে যে তার
বইছে নিরবধি।

ফসলভরা মাঠজুড়ে তার
ধান-কাউনের হাসি
বটের ছায়ায় রাখাল বাজায়
মধুর সুরে বাঁশি।

একপাশে তার পাঠশালা আর
অন্যপাশে বিল
বনবিথীকায় পাখির কূজন
শূন্যে উড়ে চিল।

মিলেমিশে থাকি সবাই
একদেহ একপ্রাণ
কারো সাথেই নেই ভেদাভেদ
হিন্দু-মুসলমান।

নামটি গাঁয়ের গৌরাঙ্গী আর
সবার চেয়ে সেরা
মায়ের মতোই আপন সে যে
স্বপ্ন দিয়ে ঘেরা।

chorakar liakat joarder

রুচি বুঝে লুচি
লিয়াকত জোয়ার্দার

রুচি বুঝে লুচি দাও আর
দরগা বুঝে চেরাগ
যার যা চাওয়া পায় যদি সে
করতে পারে কে রাগ?

নোংরা-বাসী পাইলে খাবার
কাক-কুকুরে খুশি
গরু-ছাগল পাইলে যে খায়
ঘাস বিচালি ভুষি।

চর্মকারের মর্মে যে সুখ
পায় যদি সে জুতা
রটিয়ে সুখ পায় যে পেঁচা
পেলে কোনো ছুতা।

চাওয়া-পাওয়ার রকমফেরে
ভিন্ন সুখের মাত্রা
সুখপাখিটা ধরতে যে তাই
নিত্যনতুন যাত্রা।

স্বভাব বড়
লিয়াকত জোয়ার্দার

মন্ত্রি-রাজায় ধরলো বাজি
কার ধারণা ঠিক
খবরখানা একনিমিষে
রটলো চতুর্দিক।

রাজা বলে ট্রেনিং বড়
মন্ত্রি বলে স্বভাব
বসুন সবাই ধৈর্য ধরে
জানতে হলে জবাব।

মন্ত্রি-রাজা মঞ্চে বসা
হাজির প্রজাকূল
জিতবে কেবা এই বাজিতে
কার ধারণা ভুল?

জ্বলন্তমোম হাতে ধরে
ভর করে দুই পায়
প্রশিক্ষিত রাজার বেড়াল
মঞ্চপানে ধায়।

দৃশ্য দেখে রাজা খুশি
মহাখুশি প্রজা
হাততালিতে মুখর সবাই
পাচ্ছে ভীষণ মজা।

মন্ত্রি মশাই ছাড়লো ইঁদুর
ঘটনার একফাঁকে
অমনি বেড়াল স্বভাবমতো
ধরলো গিয়ে তাকে।

মন্ত্রি বেটার কাণ্ড দেখে
বাড়লো রাজার শোক
ট্রেনিংটা নয় স্বভাব বড়
বুঝলো সকল লোক।

ইচ্ছে করে
লিয়াকত জোয়ার্দার

এই গ্রুপে আর মনের ভুলেও
করবো না যে লেখা পোস্ট
যদিও খাওয়ায় দাওয়াত করে
দেশি মুরগীর আস্তরোস্ট।

কিংবা দেখায় টিকেট ছাড়া
বাংলাদেশের জাদুঘর
দুঃখভরা মনটা নিয়ে
ভাববো তাদের শুধুই পর।

এই বেটারা বড়ই আঁতেল
শুধু শুধু ভুলধরে
ইচ্ছে করে নামাই খালে
কানের পাশের চুলধরে।

কোন্ সে মাপের লেখক আমি
জানিস তোরা পাজির দল?
লিটল ম্যাগে আমার লেখা
হয় যে ছাপা অবিরল।

এইতো সেদিন প্রাইজ পেলাম
প্রচার হলো বেতারে
কত বড় খবর এটা!
কিন্তু বোঝায় কে তারে?

আমার সাথে এই ব্যবহার?
বুঝবি কী তার খেজালত
রঙবাহারী রঙের খেলা
বন্ধ হবে সকল পথ।

chorakar liakat joarder

ছড়াদেবী
লিয়াকত জোয়ার্দার

পেকে গেছে দাড়ি-চুল
বয়সের ভারে
তবু দেখি ছড়াদেবী
চেপে বসে ঘাড়ে।

চুপিসারে টোকা দেয়
কখনোবা ধোঁকা দেয়
বিগড়ালে মন তার
কষে চড় মারে।

নাচে-গায় ছড়াদেবী
রূপালী পর্দায়
গালভরে পান খায়
নূরানী জর্দায়।

ছড়াদেবী আছে বলে
ছন্দেরা দলে দলে
ধরাতলে অবিরাম
খেলে যায় ঢেউ।

কিছু তার মিঠে-কড়া
টক-ঝাল তেতোভরা
ছড়া পড়ে হেসে উঠে
ক্ষেপে যায় কেউ।

chorakar liakat joarder

কবি ও ছড়াকার আমিনুল ইসলাম মামুনের ছড়া পড়তে ক্লিক করুন

You Might Also Like

No Comments

Please Let us know What you think!?

%d bloggers like this: