Bunch of poems Dalan jahan

বাঁশ

দুঃখ বিলীন ক্লান্ত মাছের চোখ
ছলাৎছলাৎ জল করে ছলছল
এ কেমন আষাঢ় এ কেমন শোক।
একার চেয়ে একা নদী চনমন বুক
মন মরা মানুষের মুখে
অনাগত দুর্ভিক্ষের অসুখ।
পৃথিবীর সর্বত্র গণিত অঙ্কে কাঁচা হাঁস
শনিবারের সরোজ কাকা
মঙ্গলবারে ঠেলে দেয় বাঁশ।

সুখের সবজি

সুবিমল দেখে যা তোর সুখের সবজি
কী রকম….
কী রকমভাবে মরে যাচ্ছে মানুষ
অথবা জন্মাচ্ছে কেমন নতুন করে
কেমন নতুন করে গুঁড়িয়ে নিচ্ছে
নষ্ট দুধের টক মিষ্টি দই
এবং সত্য-সত্য বলে পকেটে তুলছে
কেমন মিথ্যার খই।

উত্তরে মোহগ্রস্ত দক্ষিণের বাসুদেব
যে কিছু বলার জন্য দাঁড়িয়ে ছিলে পশ্চিমে
পুবের শোকসভায় গতকাল
তার মাথা পিষে গেছে
আট-টনি আট ট্রাকের চাকা
কেমন ঝরে পড়ছে বৃষ্টির ছায়া
শীতল নদীর উপর
যেমন ঝরে পড়ে আদমের নগ্ন পোনা।

অন্ধের লাঠি ধরে ষাঁড়ের লড়াই
চরের মতো স্পষ্ট রক্ত-দুপুর
অন্ধকার কেমন অন্ধকারে…
মরে যাচ্ছে যৌবনা ঋতু ঘাস
মরে যাচ্ছে পৃষ্ঠা পূর্ণ সাদা ভবিষ্যত
সুতোয়-সুতোয় কেমন পূজো
গোপন-গোপন জাহাজ
আলুর ভেতরে কেমন জেগে থাকে
দেহাতির দুঃখ ভরা দোষ
সুবিমল দেখে যা তোর সুখের সবজি
কী রকম…..!!
কী রকমভাবে মরে যাচ্ছে মানুষ।…..

কাঁচি

একার চেয়ে একা হয়ে বসে আছি
ক্লান্তিহীন কষ্ট বিলীন …….
রাতের কলস থেকে খসে পড়ে
আলতা রাঙা দুপুর…..!!
বিমর্ষ চাঁদের ঘুমটা ধরে
কাঁদে মন মগ্ন আঁধারের ফুল….
কোথায় জল ছলাৎছলাৎ ছল
বুকের ফসল ফলে ঘরে উঠে মাঠ
গ্রীষ্মের ঘাম কোদাল কাঁচি
সুখ এতো সুখে
এতো সুখে কী করে বাঁচি।

সাবান

আকাশ বুঝিনি তাই
কখনও বুঝিনি জ্যামিতিক চুল
দীর্ঘ রাতের উপাসনায় বসে
উন্মোচন করি চর্বিহীন মাংসের আচার
সিন্ধু বুঝিনি তাই
একটি গাঁঢ় ভাঙা বিন্দুর ইতিহাসে ডুবে
কাটিয়ে দেই কোটি বছরের অম্ল আঁধার
রঙ বুঝিনি তাই
দৃষ্টি থেকে পিছলে যায়
মখমল শহরের সুগন্ধি সাবান
পথ বুঝিনি তাই
মাকড়সার জালে ঢেকে যায়
পথের প্রতিনিধি হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা
পোস্টারের মতো বড়ো বড়ো মুখ।
জীবন বুঝিনি তাই সমাধানহীন জোয়ার
ভুলের অঙ্ক কষতে-কষতে
পাখি হয়ে ওড়ে যায় অন্তহীন আয়ুর গঠন।

Bunch of poems Dalan jahan

আমি সেই অশ্রুসিক্ত নারী

আমি সেই অশ্রুসিক্ত নারী
আজ শহীদ মিনারের সামনে দাঁড়িয়েছি
আমার সহজ পা দুটো
অসম্ভব সাদা ও ধূলি মুক্ত
আমি গাঙ সমুদ্র আকাশ
রোদে ভেজা আমার ঠোঁট ও নিতম্ব
আমার হাত আদর সোহাগ
গোলাপের স্নিগ্ধ আভার মতো যুবতী
চির বসন্ত আমার বাতাসের খই
আমি বিশ্বাস করি না অই অসমর্থ শব্দ দুটো
যে শব্দের স্রোতে শুধু জল শুধুই হারিয়েছি
আমি সেই নারী

যার জন্য কেঁদে কেঁদে অন্ধ হয়েছে
শত-শত বালক মোরগ
আমি সেই শিল্পীত নদী যে জলে স্নান করে
বিশুদ্ধ হয়েছে প্রকৃতি ও মাটি
আমি সেই সুগন্ধি সবুজ
যে আতরের কলঙ্ক নিয়ে ছুটে চলে
শহরের পর শহর
অতঃপর আমি সেই দীর্ঘশ্বাসের জাহাজ
বিশ্বাস আর ভালোবাসার দায়ে
যে কীনা একদিন ঘর সংসার সাজিয়েছি।

তুমি তো সেই প্রেমিক আমার
আলুর দামে বিক্রি করো চিনি
তুমি তো সেই সবুজ আমার
মমতার বদলে ঢেলে দাও পানি
তুমি কেবলই পারো উন্মোচিত বক্ষ
লিখে দিতে উলঙ্গ কারাবাস
সভ্যতার সাদা খামে ফেনায়িত ফিরোজ চিঠি
আমার হাতে এসে পৌঁছেছে
খোল এবার বন্ধ দুয়ার যে দুয়ার খোলার খবর
জনম জনম ধরে কানে দিয়েছি।
আমি সেই অশ্রুসিক্ত নারী
আজ শহীদ মিনারের সামনে দাঁড়িয়েছি।

শিরোনামহীন

গণিতের স্যার সবসময়
ডোবে থাকতেন রসায়নে
ব্ল্যাকবোর্ডের নদী থেকে বের করতেন
ভাঁজ করা শাড়ির ন্যাপকিন গন্ধ
পাটিগণিতে ফলাফল হতো বৃহস্পতিবার
বসন্তের এলোচুলে ছুঁয়ে স্যার বলতেন
শাড়ি না পরলে মেয়েরা প্রকৃত রমণী হয় না
খাতায় টুকে রাখতাম সুতোর অঙ্ক
সেই থেকে শাড়ি ছিলো ভীষণ প্রিয়
কিন্তু আজও আমার রমণীরা মেঘ
সেলোয়ারের বেঁধে রাখে মন
শাড়ির ভেতরে কেবল অশ্রু-আগুন
বাসনারা পোড়ে নিঃসঙ্গ আগরের মতোন।

Bunch of poems Dalan jahan

ব্যর্থতার বয়স

এই শহরে তোমার নামে কোন স্মৃতিফলক নেই
অথচ তুমি হয়ে আছো সবচেয়ে বড়ো ভাস্কর্য
তোমার ত্রি-মাত্রিক দৈর্ঘ্য প্রস্থ গভীরতার মাপে
জ্যামিতি শাস্ত্র খোঁজে জ্যোতিবিদ্যার
প্রাচীন ইতিহাস।

সকাল থেকে সান্ধ্য, জীবন থেকে রাত পর্যন্ত
তোমার নামে ফ্ল্যাট কিনে খায় অটোমেটিক ঘোড়াগুলো
অথচ তুমি লক্ষ বছরের ক্ষুধার্তের মতো বলো
কতকাল তোমার কানে বাজেনা
ভুল করে ছেড়ে আসা ট্রেনের বুক ফাটা হুইসেল।

অনাশ্চার্য মন্দিরের পর সিঁদুর লাল শাড়ি পড়া
অক্ষরগুলো ভাঁজে-ভাঁজে ছেড়ে দেয় প্রেম
শতাব্দীর লোমশ চিত্রে দাঁড়িয়ে দেখি
ধুলোমাখা নাগরিক কোলাহলে
কীরকম রঙ ছাড়ে তোমার রতিক্লান্ত মুখ।

লাবণ্যময়ী ড্রয়ারের খাঁজে-খাঁজে
সাম্প্রদায়িক সৌন্দর্যকল গুঁজে
কেমন পাখি তুমি
প্রতিবারই জিতে যাও জিতে যাও চিরতরে।
আমি শুধু লিখে রাখি আমার ব্যর্থতার বয়স।

প্রাগৈতিহাসিক প্রণয়

একটা কাঠের বুকসেলফ ছাড়া
আর কোন সম্ভ্রান্ত নীরবতা
আমার জীবনে মূখ্য মেহমান হয়ে আসেনি।

বিধবা রাতের সাক্ষী
একমাত্র খুনী শূন্যতা ছাড়া
অভিজাত কোন শূন্যতার স্পর্শ
আমাকে নিয়ে যায়নি ময়ূর মোহনার আনন্দ জলে।
প্রান্তরনগ্ন কিশোরীর-

চাবুক গন্ধের চেয়ে তীক্ষ্ণ কোন শীত
আমার হৃদয় ছিদ্র করে শুনেনি
মাংসের উপোষে ভাঙা হাড়গুলোর নিস্প্রভ বিজয় সঙ্গীত
উত্তর পাড়ার জেলে সুধীন কাকুর মেয়ে
অজান্তার অশ্রু ভেজা পাপড়ি ছাড়া
আর কোন প্রত্যয় বা প্রগতি ভেজা পাপড়ি
কখনও ভেজাতে পারেনি পিপাসা-কাতর পাথরগুলোর পাষাণের মতো বুক।

কাজল-দুধের আইলানারে নীল পবিত্র নারী
পদ্মচোখের উজান উপকূল ছাড়া
আর কোন উন্মাদ উপকূল আমাকে বলেনি
সমুদ্রবালি ও সবুজ বনভূমির প্রাগৈতিহাসিক প্রণয়ের কথা।

জাল

নদীর নীরবতার ব্যাখ্যা জানেন দীপেন মাঝি
কিন্তু আমি অন্য কারণে
মোহন জেলের কাছে যাই।
জালের মতো ছিদ্র চাদর গায়ে জড়িয়ে
মোহন আমাকে দেখায় তার ছেঁড়া-ফাঁড়া জাল।

জলহীন মাছের জীবন সংসারে
ঠান্ডা বালিতে ঘুমায় জমাট অন্ধকার
গাঙের হাড়ভাঙা বাতাসে শুকায়
মোহন ভাবীর শীতল সীসার মতো শীত।

মোহন বলেন, বাফে মরার আগে কয়ছিলো
“শীত আর জাল সেলাই করাই জেলেদের ধর্ম”
কিন্তু আমার মোন চায়
কোদাল দিয়ে কুপিয়ে-কুপিয়ে
জালটাকে টুকরো টুকরো করে
হাঁটু জলে নেমে চিৎকার করে বলি
আমার কোন জাল নেই , আমার কোন শীত নেই।

Bunch of poems Dalan jahan

অপেক্ষা

আমি অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রইলাম
ল্যাম্পপোস্টের নিচে
জ্বলতে-জ্বলতে ল্যাম্পপোস্টটি
মিলিয়ে গেলো কুয়াশায়
অন্ধকার নিয়ে এলো শীতল হাওয়া
তারা আমার লোমকূপে ঢুকে
ভেতরের আরও অন্ধকারে হারিয়ে গেলো চিরতরে
কই তুমি এলে না তো।

প্রতীক্ষার সবুজ বাতি
বিষন্ন আর হাহাকারে কখন লাল হয়ে উঠলো
হৃদয়ের অতল থেকে কালো কুকুরগুলো নেমে
মানুষ হয়ে ডুবে গেলো কর্ণফুলীর জলে
তাদের দেখতে সবাই এলো,জনতার ভীড় ঠেলে
আত্মার সুগন্ধি ধরতে জলে নেমে গেলো
বিশ্ব বিখ্যাত ডুবুরিরা,কই তুমি এলে না তো!

এখনও এক বিন্দু অপেক্ষা
পুড়তে-পুড়তে সোনা হয়ে বসে আছে হাতে
তার ঘ্রাণে চুম্বন খেতে শত-কোটি মাইল পেরিয়ে
নেমে এলো কিশোরীর মতো দুগ্ধজাত আলো
কই তুমি এলে? তুমি এলে না তো!

আকাশ ফুঁড়ে ওড়ে যায় পাখি

ডানামাখা অন্ধকার নিয়ে
পাখিটি ওড়ে যাচ্ছে বনের উপর দিয়ে
পাখিটি ওড়ে যাচ্ছে লেজের পেছনে
নিয়ে ঝড়

জলায় দাঁড়িয়ে মুখ তোলে তাকায়
বিপন্ন পৃথিবীর নিঃসঙ্গ ভোঁদড়
দেশ-ছেড়ে অরণ্যে ছেড়ে কোথায় যাস পাখি
এই আকাশের তলে তোর নেই কী’রে মাটি
নেই নেই কী’রে ঘর ?

পাখিটির দৃষ্টি, দৃষ্টি ভরা ভয়
পাখিটির বাঁচা, না-বাঁচা নিছক ফাঁকি
পাখিটি ওড়ে যাচ্ছে উপরে
যেভাবে আকাশ ফুঁড়ে ওড়ে যায় পাখি।

হেমন্ত ছাড়া বড়ো কোন ক্ষতো নেই

হেমন্ত ছাড়া আমার কোন বড়ো ক্ষতো নেই
আমি তো হেঁটে যেতে চাই সে ধান কাটা মাঠ সন্ধ্যা
রাতভর আকাশের নীরব কান্না শান্ত শিশিরের জল
বঙ্গ-বধূর আঁচল ভরা ক্লান্তির অনল।

হেমন্ত ছাড়া আমার কোন ভালো স্মৃতি নেই
আমি তো খুঁজি বিজন মাঠে সে শালিকের রাণী
দীঘির মাংসে মিশে যায় কুয়াশার অন্ধ অসীম
আমি বহন করি হিম হেমন্তের শুধুই হিমে কাঁপা ডিম।

হেমন্ত ছাড়া আমার বড়ো কোন কষ্ট নেই
ঘাসফড়িংয়ের মাথায় শুয়ে সেই হেমন্ত রাত
রজনী ফুঁড়ে ঢেলে দিয়েছে পূর্ণিমা ধবল দুধ
আজও ভেতরে হেমন্ত নেয় প্রবল প্রতিশোধ।

Bunch of poems Dalan jahan

বেদনার বাঁশি

আমি এমনই সবার গুরুত্ব হারিয়ে
আমি আমার হয়ে উঠি
তাকে পাবো না জেনেও সারাটি জীবন
তার পিছু পিছু ছুটি

আমি এমনই এমন অদ্ভুত আমার দিন
বিশেষণ ভরা বিশ্বাস
নদীর এ পাড়ে থেকে রাত্রিহীন আমি
ও পাড়ে ছাড়ি নিঃশ্বাস।

কষ্টের কালো ছাই উজানে ছেড়ে আমি
ভাটিতে বসে হাসি
আমি এমনই এমন করেই বেজে উঠা
বেদনার বাঁশি।

আমাকে বোঝার কেউ ছিলো না

ভোরের বাতাসে উচ্ছন্ন হয়ে উঠে
আমার কষ্টের ডিম
আমার প্রিয়জনেরা একেক করে আসেন
সকালের ঠাণ্ডা আলোয় তাপ দিয়ে
তারা ডিমগুলো ফুটিয়ে যান।

জলের কান্নার সাথে এক হয়ে যায় মাছের কান্না
আমি নৌকা ভাসাই
অজানা অচেনা কঙ্কাল দ্বীপে
বিবেকের কণ্ঠে ওঠে হৃদয় ভাঙা গান

কতো মানুষ এলো গেলো
সঙ্গী করে কেউ নিলো না
আমি কী’রে এতোই অবুঝ
আমাকে বোঝার কী কেউ ছিলো না।

সত্য জানলে মানুষ শামুক হয়ে যায়

মিছিলের আগে যাওয়া
ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম
তোমার বুকে কিসের আগুন
ছেলেটি অন্ধের হাতি দেখার মতো
উত্তর দিয়েছিলো।

মানুষ-মানুষ বলে চিৎকার করা
এক মানবতাবাদীকে প্রশ্ন করেছিলাম
মানুষের প্রকৃত ধর্ম কী ?
সে আমাকে দেখিয়েছিলো
দুটো পত্রিকার লাল শিরোনাম।

বুদ্ধির পোলাও নিয়ে যারা বাজারে যায়
ইথারে-বিথারে বিলিয়ে যায় শতাব্দীর স্রোত
তাদেরকে বলেছিলাম সত্য লুকিয়ে রাখে কারা?

নিশ্চল শামুকের মতো নীরব হয়ে
গুটিয়ে নিয়োছিলো তাদের ক্ষীণ শরীর।
তবে কী সঠিক সত্য জানলে
মানুষ শামুক হয়ে যায়।

অপাঠ্য বিদ্যালয়

এখানে কেউ আসে কেউ চলে যায়
এক মহা শূন্যতা নিয়ে
আজন্ম কাল সে দাঁড়িয়ে থাকে
রোদ ঝড় বৃষ্টিতে
মৃত্যু-মহামারী অথবা নব সৃষ্টিতে
কখনও তার আস্ফালন শোনা যায় না

তার নীরবতা রাতের চেয়ে ও কালো
তার মহানুভবতা আলোর চেয়ে আলো
তার চোখে সাক্ষী হয়েছে হোমো স্যাপিয়েন্স
ক্যারোলাস লিনিয়াসের পর লাইলাক ফুলেরা।

তীব্র কুয়াশার ভেতরে
তার ডাকে নেমে আসে ঋতুকামী ব্লুবেল
শরৎ এর ভাসমান কামনার জল
হেমন্তে পরিপুষ্ট হয়ে বসন্তে ঝরে যায়
ভালোবাসার অমিয় বাণীতে

তার ঠোঁট ফেটে গড়িয়ে পড়ে রক্তের হাসি
গভীর রাতেও তার এলোভেরা মন
আশৈশব ভূমির মতো ফিরে ফিরে চায়।
সবার কাছে সে অপাঠ্য এক বিদ্যালয়
যার পাঠ না নিয়েই ভার্সিটিতে যায়।

সোনালি ভাত

আমি আমার কষ্টগুলো পড়ি
রৌদ্র ছায়ার ভেতরে
পুড়ে কালো হওয়া নিষ্পাপ শিশুর মতো

অতঃপর ভেঙে দেই ভিত্তি
লোহার শক্ত খুঁটিগুলি
যেভাবে ভেঙে দেওয়া যায়
সমুদ্র তীরে আঁকা বালিঘর।

আমি আমার দুঃখগুলো শিখি
পড়ন্ত বৃষ্টি ধরে মাটিতে গড়াগড়ি দেওয়া
অবাধ্য কিশোরের মতো এবং সেই গান গাই
যে গান না গাওয়ার জন্য
আমার সামনে থেকে কেড়ে নেওয়া হয়
সোনালি ভাতের থালা।।

লাল খবর / কালো খবর

এখন আমরা শুধু বাঁচার জন্যই বসে থাকি
এখন আমাদের প্রার্থনায় যোগ হয়েছে
কতগুলো রক্তে ভেজা হাত।

এখন আমাদের চিৎকারগুলো বধির
দিনশেষে শূন্যে দিয়ে কান্না শুরু
অযথা ব্যস্ত কুকুরের মতো হাঁপাতে থাকে
আমাদের সকালের দৌড়।

আমরা সময়কে সম্মান করি
জিউসের বজ্রের মতো
অপ্রতুল অপেক্ষা নিয়ে বসে থাকি বটতলায়
লাল খবরগুলো পেলে
আমরা কালো খবরগুলো ভুলে যাই।

Bunch of poems Dalan jahan

আজন্ম অন্ধ

আমি যার পথ প্রদর্শন করি
সকালে সে চোখ দু’টো খোলে
ঢুকিয়ে রাখেন রঙিন জলে
সন্ধ্যায় আকাশে ছুড়ে দেয়া চোখগুলোকে

তিনি বলেন আবহমান নক্ষত্র পতন
এবং রাতের চোখ বন্ধ করে তিনি
মানবজাতিকে দিয়ে যান
আজন্ম অন্ধের সংজ্ঞা।

প্রবল অন্ধত্বের পৃথিবীতে তিনি হেঁটে যান
প্রকৃত অন্ধের খোঁজে
এবং তার মানসপত্রে পত্রে লেখা থাকে
ইচ্ছে নামের অন্ধত্বের নাম।

ভ্রমগদ্য

একটি বিড়াল আর একটি ইঁদুর নিয়ে
বৃদ্ধের সংসার।

রোজ রাতে রাস্তায় ঘুমিয়ে থাকা
বৃদ্ধকে একদিন জিজ্ঞেস করেছিলাম
দুনিয়ায় এতো জায়গা থাকতে
এখানে ঘুমিয়ে আছো কেন?

অন্ধের মতো বিড়বিড় করে
বৃদ্ধ খুলেন ডান হাতের পাঁচটি আঙুল
অতঃপর পাড়াপাড়ের ঘাট দেখিয়ে বলেন

দেবতার নাম বৃক্ষ হয়
আকাশ ছোঁয়া বাড়ি জীবন্ত আগুন
তুমি যাতায়াতের পথে ঘর বেঁধেছো কেন?

তার আঁখি জুড়ে আনন্দ বাতাস
একটি পুরনো কবর দেখিয়ে বলেন

সমগ্র পৃথিবীই ভ্রমগদ্য পথ তুমি নিজেই
একদিন অন্ধকারকে প্রশ্ন করো
তুমি জন্মেছিলো কেন ?

নিঃসঙ্গতা একটি বিলুপ্ত মুখ

নিঃসঙ্গতার গভীর সঙ্গমের চেয়ে মুখর
পানির নিচে নিঃশব্দ মাছ ধরার মতো
প্রস্তুতিপূর্ণ তার অনুভূতির হাত।

একটি অসম্পূর্ণ শব্দের কারুকার্য করতে
পৃথিবীতে নিঃসঙ্গতা নেমে আসে
এবং বসে যায় হৃদয়ে।

নিঃসঙ্গতা একটি বিলুপ্ত মুখ
যে বার-বার দোলে বাতাসে লন্ড্রিতে
কেবলই অনুপস্থিতির সাক্ষর করতে
নিঃসঙ্গতা ওড়ে যায় নিঃসঙ্গ পাখি হয়ে।

সমুদ্রমুখী

একটি অসুস্থ পৃথিবী
অধীর হয়ে তাকিয়ে থাকে নক্ষত্র পানে
একটা নাটাই ছাড়া ঘুড়ি
সমস্ত কিশোরের ঘুম নিয়ে
আকাশে উড়তে-উড়তে হারিয়ে যায়।

একটা স্বপ্নহীন মানুষ পড়ে থাকে সৈকতে
একমাত্র সেই বুঝেছিলো
ভালোবাসাহীন মানুষের ভেতর
সমুদ্রমুখী শব্দ হয়।

শিরোনামহীন

তুমি চাইতে রোজ সকালে
কিছু কালো অক্ষর
আমি জেগে উঠতাম ভোরের বাতাস হয়ে।
তুমি চাইতে নিস্তব্ধ রাত্রির নেশা
আমি দাঁড়িয়ে থাকতাম বৃক্ষ হয়ে।

তুমি চাইতে হলুদের গন্ধ
নতুন ঘ্রাণে বিমোহিত সবুজ ছায়া
আমি জড়িয়ে থাকতাম চাদর হয়ে।
তুমি চাইতে শ্রাবন আকাশ
মেঘবৃষ্টির বিয়ে-বিয়ে খেলা
আমি সামনে দাঁড়াতাম আয়না হয়ে।

তুমি চাইতে তুমি ছাড়া
আমার সব ভালোবাসারা মরে যাক
আমি পথ চলতাম অন্ধ হয়ে।
আজ তুমি নেই
আমি যারে-ই ভালোবাসি
সে মরে যায় সন্ধ্যার আগেই।

সোনালি ভাত

আমি আমার কষ্টগুলো পড়ি
রৌদ্র ছায়ার ভেতরে
পুড়ে কালো হওয়া নিষ্পাপ শিশুর মতো
অতঃপর ভেঙে দেই ভিত্তি
লোহার শক্ত খুঁটিগুলি
যেভাবে ভেঙে দেওয়া যায়
সমুদ্র তীরে আঁকা বালিঘর।

আমি আমার দুঃখগুলো শিখি
পড়ন্ত বৃষ্টি ধরে মাটিতে গড়াগড়ি দেওয়া
অবাধ্য কিশোরের মতো এবং সেই গান গাই
যে গান না গাওয়ার জন্য
আমার সামনে থেকে কেড়ে নেওয়া হয়
সোনালি ভাতের থালা।।

দুঃখমুখী পা

যদি তুমি আসো
আমি আরেকবার কিশোর হবো
সময়ের সমুদ্র থেকে চুষে আনব
সমস্ত হারানো দিন

তুমি কাশফুল হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে
ফেলে আসা নয়াচরে
তোমার কাজল গন্ধ ছুঁয়ে
ব্রম্মপুত্রের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা
কালো কড়ই হবো

যদি তুমি আসো তাকে জানিয়ে দেব সব সত্য
ঋণগ্রস্ত হেমন্তের শিশিরে ভিজিয়ে দুঃখমুখী পা
বাকীটা জীবন ধরে হেঁটে যাবো
শুধু তোমার বাড়ির দিকে হেঁটে যাবো।

তোমাকে ভুলা যায় না

তোমাকে কবর দিয়েছি এক যুগেরও আগে
অথচ এখনও হাতে লেগে আছে মাটি
তোমার পথ ভুলে কবে ডুবে গেছি পথে
অথচ এখনও তোমার দিকে হাঁটি।

তবে তুমি কী এমন এক নাম
তবে তুমি কী এমন বিস্ময় আয়না
হাতে রেখে ভুলে যায় নিত্য-নোটিশ
তোমাকে ভুলা যায় না তোমাকে ভুলা যায় না।

আমাকে বোঝার কেউ ছিলো না

ভোরের বাতাসে উচ্ছন্ন হয়ে উঠে
আমার কষ্টের ডিম
আমার প্রিয়জনেরা একেক করে আসেন
সকালের ঠাণ্ডা আলোয় তাপ দিয়ে
তারা ডিমগুলো ফুটিয়ে যান।

জলের কান্নার সাথে এক হয়ে যায় মাছের কান্না
আমি নৌকা ভাসাই
অজানা অচেনা কঙ্কাল দ্বীপে
বিবেকের কণ্ঠে ওঠে হৃদয় ভাঙা গান
কতো মানুষ এলো গেলো

সঙ্গী করে কেউ নিলো না
আমি কী’রে এতোই অবুঝ
আমাকে বোঝার কী কেউ ছিলো না।

Bunch of poems Dalan jahan

Facebook Comments