Bunch of poems Dalan jahan

সত্য জানলে মানুষ শামুক হয়ে যায়

মিছিলের আগে যাওয়া
ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম
তোমার বুকে কিসের আগুন
ছেলেটি অন্ধের হাতি দেখার মতো
উত্তর দিয়েছিলো।

মানুষ-মানুষ বলে চিৎকার করা
এক মানবতাবাদীকে প্রশ্ন করেছিলাম
মানুষের প্রকৃত ধর্ম কী ?
সে আমাকে দেখিয়েছিলো
দুটো পত্রিকার লাল শিরোনাম।

বুদ্ধির পোলাও নিয়ে যারা বাজারে যায়
ইথারে-বিথারে বিলিয়ে যায় শতাব্দীর স্রোত
তাদেরকে বলেছিলাম সত্য লুকিয়ে রাখে কারা?

নিশ্চল শামুকের মতো নীরব হয়ে
গুটিয়ে নিয়োছিলো তাদের ক্ষীণ শরীর।
তবে কী সঠিক সত্য জানলে
মানুষ শামুক হয়ে যায়।

অপাঠ্য বিদ্যালয়

এখানে কেউ আসে কেউ চলে যায়
এক মহা শূন্যতা নিয়ে
আজন্ম কাল সে দাঁড়িয়ে থাকে
রোদ ঝড় বৃষ্টিতে
মৃত্যু-মহামারী অথবা নব সৃষ্টিতে
কখনও তার আস্ফালন শোনা যায় না

তার নীরবতা রাতের চেয়ে ও কালো
তার মহানুভবতা আলোর চেয়ে আলো
তার চোখে সাক্ষী হয়েছে হোমো স্যাপিয়েন্স
ক্যারোলাস লিনিয়াসের পর লাইলাক ফুলেরা।

তীব্র কুয়াশার ভেতরে
তার ডাকে নেমে আসে ঋতুকামী ব্লুবেল
শরৎ এর ভাসমান কামনার জল
হেমন্তে পরিপুষ্ট হয়ে বসন্তে ঝরে যায়
ভালোবাসার অমিয় বাণীতে

তার ঠোঁট ফেটে গড়িয়ে পড়ে রক্তের হাসি
গভীর রাতেও তার এলোভেরা মন
আশৈশব ভূমির মতো ফিরে ফিরে চায়।
সবার কাছে সে অপাঠ্য এক বিদ্যালয়
যার পাঠ না নিয়েই ভার্সিটিতে যায়।

সোনালি ভাত

আমি আমার কষ্টগুলো পড়ি
রৌদ্র ছায়ার ভেতরে
পুড়ে কালো হওয়া নিষ্পাপ শিশুর মতো

অতঃপর ভেঙে দেই ভিত্তি
লোহার শক্ত খুঁটিগুলি
যেভাবে ভেঙে দেওয়া যায়
সমুদ্র তীরে আঁকা বালিঘর।

আমি আমার দুঃখগুলো শিখি
পড়ন্ত বৃষ্টি ধরে মাটিতে গড়াগড়ি দেওয়া
অবাধ্য কিশোরের মতো এবং সেই গান গাই
যে গান না গাওয়ার জন্য
আমার সামনে থেকে কেড়ে নেওয়া হয়
সোনালি ভাতের থালা।।

লাল খবর / কালো খবর

এখন আমরা শুধু বাঁচার জন্যই বসে থাকি
এখন আমাদের প্রার্থনায় যোগ হয়েছে
কতগুলো রক্তে ভেজা হাত।

এখন আমাদের চিৎকারগুলো বধির
দিনশেষে শূন্যে দিয়ে কান্না শুরু
অযথা ব্যস্ত কুকুরের মতো হাঁপাতে থাকে
আমাদের সকালের দৌড়।

আমরা সময়কে সম্মান করি
জিউসের বজ্রের মতো
অপ্রতুল অপেক্ষা নিয়ে বসে থাকি বটতলায়
লাল খবরগুলো পেলে
আমরা কালো খবরগুলো ভুলে যাই।

Bunch of poems Dalan jahan

আজন্ম অন্ধ

আমি যার পথ প্রদর্শন করি
সকালে সে চোখ দু’টো খোলে
ঢুকিয়ে রাখেন রঙিন জলে
সন্ধ্যায় আকাশে ছুড়ে দেয়া চোখগুলোকে

তিনি বলেন আবহমান নক্ষত্র পতন
এবং রাতের চোখ বন্ধ করে তিনি
মানবজাতিকে দিয়ে যান
আজন্ম অন্ধের সংজ্ঞা।

প্রবল অন্ধত্বের পৃথিবীতে তিনি হেঁটে যান
প্রকৃত অন্ধের খোঁজে
এবং তার মানসপত্রে পত্রে লেখা থাকে
ইচ্ছে নামের অন্ধত্বের নাম।

ভ্রমগদ্য

একটি বিড়াল আর একটি ইঁদুর নিয়ে
বৃদ্ধের সংসার।

রোজ রাতে রাস্তায় ঘুমিয়ে থাকা
বৃদ্ধকে একদিন জিজ্ঞেস করেছিলাম
দুনিয়ায় এতো জায়গা থাকতে
এখানে ঘুমিয়ে আছো কেন?

অন্ধের মতো বিড়বিড় করে
বৃদ্ধ খুলেন ডান হাতের পাঁচটি আঙুল
অতঃপর পাড়াপাড়ের ঘাট দেখিয়ে বলেন

দেবতার নাম বৃক্ষ হয়
আকাশ ছোঁয়া বাড়ি জীবন্ত আগুন
তুমি যাতায়াতের পথে ঘর বেঁধেছো কেন?

তার আঁখি জুড়ে আনন্দ বাতাস
একটি পুরনো কবর দেখিয়ে বলেন

সমগ্র পৃথিবীই ভ্রমগদ্য পথ তুমি নিজেই
একদিন অন্ধকারকে প্রশ্ন করো
তুমি জন্মেছিলো কেন ?

নিঃসঙ্গতা একটি বিলুপ্ত মুখ

নিঃসঙ্গতার গভীর সঙ্গমের চেয়ে মুখর
পানির নিচে নিঃশব্দ মাছ ধরার মতো
প্রস্তুতিপূর্ণ তার অনুভূতির হাত।

একটি অসম্পূর্ণ শব্দের কারুকার্য করতে
পৃথিবীতে নিঃসঙ্গতা নেমে আসে
এবং বসে যায় হৃদয়ে।

নিঃসঙ্গতা একটি বিলুপ্ত মুখ
যে বার-বার দোলে বাতাসে লন্ড্রিতে
কেবলই অনুপস্থিতির সাক্ষর করতে
নিঃসঙ্গতা ওড়ে যায় নিঃসঙ্গ পাখি হয়ে।

সমুদ্রমুখী

একটি অসুস্থ পৃথিবী
অধীর হয়ে তাকিয়ে থাকে নক্ষত্র পানে
একটা নাটাই ছাড়া ঘুড়ি
সমস্ত কিশোরের ঘুম নিয়ে
আকাশে উড়তে-উড়তে হারিয়ে যায়।

একটা স্বপ্নহীন মানুষ পড়ে থাকে সৈকতে
একমাত্র সেই বুঝেছিলো
ভালোবাসাহীন মানুষের ভেতর
সমুদ্রমুখী শব্দ হয়।

শিরোনামহীন

তুমি চাইতে রোজ সকালে
কিছু কালো অক্ষর
আমি জেগে উঠতাম ভোরের বাতাস হয়ে।
তুমি চাইতে নিস্তব্ধ রাত্রির নেশা
আমি দাঁড়িয়ে থাকতাম বৃক্ষ হয়ে।

তুমি চাইতে হলুদের গন্ধ
নতুন ঘ্রাণে বিমোহিত সবুজ ছায়া
আমি জড়িয়ে থাকতাম চাদর হয়ে।
তুমি চাইতে শ্রাবন আকাশ
মেঘবৃষ্টির বিয়ে-বিয়ে খেলা
আমি সামনে দাঁড়াতাম আয়না হয়ে।

তুমি চাইতে তুমি ছাড়া
আমার সব ভালোবাসারা মরে যাক
আমি পথ চলতাম অন্ধ হয়ে।
আজ তুমি নেই
আমি যারে-ই ভালোবাসি
সে মরে যায় সন্ধ্যার আগেই।

সোনালি ভাত

আমি আমার কষ্টগুলো পড়ি
রৌদ্র ছায়ার ভেতরে
পুড়ে কালো হওয়া নিষ্পাপ শিশুর মতো
অতঃপর ভেঙে দেই ভিত্তি
লোহার শক্ত খুঁটিগুলি
যেভাবে ভেঙে দেওয়া যায়
সমুদ্র তীরে আঁকা বালিঘর।

আমি আমার দুঃখগুলো শিখি
পড়ন্ত বৃষ্টি ধরে মাটিতে গড়াগড়ি দেওয়া
অবাধ্য কিশোরের মতো এবং সেই গান গাই
যে গান না গাওয়ার জন্য
আমার সামনে থেকে কেড়ে নেওয়া হয়
সোনালি ভাতের থালা।।

দুঃখমুখী পা

যদি তুমি আসো
আমি আরেকবার কিশোর হবো
সময়ের সমুদ্র থেকে চুষে আনব
সমস্ত হারানো দিন

তুমি কাশফুল হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে
ফেলে আসা নয়াচরে
তোমার কাজল গন্ধ ছুঁয়ে
ব্রম্মপুত্রের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা
কালো কড়ই হবো

যদি তুমি আসো তাকে জানিয়ে দেব সব সত্য
ঋণগ্রস্ত হেমন্তের শিশিরে ভিজিয়ে দুঃখমুখী পা
বাকীটা জীবন ধরে হেঁটে যাবো
শুধু তোমার বাড়ির দিকে হেঁটে যাবো।

তোমাকে ভুলা যায় না

তোমাকে কবর দিয়েছি এক যুগেরও আগে
অথচ এখনও হাতে লেগে আছে মাটি
তোমার পথ ভুলে কবে ডুবে গেছি পথে
অথচ এখনও তোমার দিকে হাঁটি।

তবে তুমি কী এমন এক নাম
তবে তুমি কী এমন বিস্ময় আয়না
হাতে রেখে ভুলে যায় নিত্য-নোটিশ
তোমাকে ভুলা যায় না তোমাকে ভুলা যায় না।

আমাকে বোঝার কেউ ছিলো না

ভোরের বাতাসে উচ্ছন্ন হয়ে উঠে
আমার কষ্টের ডিম
আমার প্রিয়জনেরা একেক করে আসেন
সকালের ঠাণ্ডা আলোয় তাপ দিয়ে
তারা ডিমগুলো ফুটিয়ে যান।

জলের কান্নার সাথে এক হয়ে যায় মাছের কান্না
আমি নৌকা ভাসাই
অজানা অচেনা কঙ্কাল দ্বীপে
বিবেকের কণ্ঠে ওঠে হৃদয় ভাঙা গান
কতো মানুষ এলো গেলো

সঙ্গী করে কেউ নিলো না
আমি কী’রে এতোই অবুঝ
আমাকে বোঝার কী কেউ ছিলো না।

Bunch of poems Dalan jahan

Facebook Comments