Bitul deb poems

বাদল চাচার ভাতঘর

বাদল চাচা চৌরাস্তার মোড়ে বানাতেন ভাপাপিঠা।
কোনটা পাঁচ কোনটা সাত আবার কোনটা দশ টাকায় করতেন বিক্রি।
সাপের নাচন দেখার মতো ঘিরে ধরতো বাদল চাচার দোকান।
ধূমায়িত পিঠা থেকে শহরে ছড়িয়ে পড়ে ঘ্রাণ।

সবশ্রেণীর মানুষ জড়ো হয়ে নিতো স্বাদ।
কথা থেকে কথার পথ ধরে উঠে আসে প্রচারহীন টকশো।
কোন দেশ থেকে কোন দেশ, কতো বছর পিছিয়ে ?
কেউ কেউ সভ্যতাকে কচু আঙুল দেখিয়ে করে গালির ধারাপাত।
বেশ ভালো চলে ছিল- ভাপাপিঠার সকাল সন্ধ্যা দোকান।

হঠাৎ বাদল চাচার সামান্য দোকানেও পড়ে চাঁদাবাজের চোখ।
দাবি করে বসে দৈনিক পাঁচশো।
উচ্ছেদের হুমকিতে চাচার চোখে পানি।
ভাতঘরে লাথি মেরে তারা পায় শান্তি।

বন্ধুরা ভাইরাস

মাঝে-মাঝে আমার শত্রুদের স্বপ্নে দেখি
মাঝে-মাঝে আমার বন্ধুদের স্বপ্নে দেখি।

বন্ধুরা দেখি সেখানে শত্রুতার কাজ করে
শত্রুরা দেখি সেখানে বন্ধুত্বের কাজ করে।

অনেক বন্ধুরা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে
তাঁরা দেখি ইচ্ছাকৃত ভাবে আমার সাথে বুক মিলায়
হাত মিলায়
আবার অনেকে ঠোঁট মিলাতে চায়।

আমার বন্ধুদের ভাইরাসে আমাকে ধরেছে
আমার থেকে আমার ঘরসুন্দরীকে ধরছে
ঘরসুন্দরী থেকে আমার সন্তানকে ধরছে !

ঘুম থেকে উঠে দেখি সন্তানের মুখ
ঘুম থেকে উঠে দেখি বউয়ের মুখ
ঘুম থেকে উঠে দেখি বাংলার মুখ।
খবরে শুনি করোনা ভাইরাসে মৃত্যু
আরো দ্রুত পৃথিবী ছড়িয়ে যেতে পারে …

বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ
স্পর্শের বহু দূরে থাকি।
কারণ বাহিরে ভাইরাস…বন্ধুরাও ভাইরাস

খাবার টেবিলে আড্ডা

খাবার টেবিলে
প্রায় সময় গল্প হয়।
তবে, বৃহস্পতিবার রাতের গল্প অনেকটা লম্বা।
কেননা কালকের সূর্যটা
হলিডের সূর্য।

এলার্ম ঘড়ির বিরক্তিতে ভাঙতে হবে না ঘুম
তাড়াহুড়াতে করতে হবে ¯স্নান
ছুটতে হবে না অফিস।

আমরা দুই কপোত- কপোতি
আড্ডা দিই আর আড্ডা দিই।
আড্ডায় মূলত শৈশবের কথা
যৌবনের কথা
কবিতায় কথায়
ক্যান্ডারের তারিখটা পাল্টিয়ে দিই।

সাধ্যের মধ্যে সুখ

সামর্থ্যরে অভাব হলে
আমাদের নিকট হাত পাতো
কথা দিলাম- আমরা ভিক্ষা দেব।
তবু আমাদের মা-বোনকে
তোমাদের মা-বোন বলে একটু ভেবে নিও ।

ধর্ষণের যদি প্রবল ইচ্ছা হলে
পতিতালয়ে যাও –
কোন নিষেধাজ্ঞা নেই ;
ধর্ষিতা আত্মার অভিশাপে
জাহান্নামের আগুনে জ্বলার চেয়ে,
বরং গোপনে প্রবেশ করো পতিতালয়ে
কয়লা হয়ে দাগ দাও কয়লায়!

Bitul deb poems

বাবা নামক বৃক্ষ

কাঠঠোকরা হয়ে পুনর্জন্ম সন্তানের। শরীরের বাসা বাধতে
একান্ত বাসনা। ইচ্ছেপূরণে খুঁজে আপন আবাস। মেঘদূতের
দখলে যায় অবয়বের কালো উঠোন।

পছন্দ পাখির পাঁজর

প্রতি ঠোঁটের আঘাতে অনবরত রক্তক্ষরণ
তবু আনন্দ আয়োজনে কখনো দেয়নি বাঁধা।
স্থির সবুজ বন থেকে একা হয়ে যায়…
বাবা নামক বৃক্ষ।

ফুটবল

টেলিভিশনের পর্দায় স্থীর শীতল চোখ।
শাদা-কালো চঞ্চল বল, কেড়ে নিয়েছে পৃথিবীর নীল নজর।
আনন্দ আর বেদনা যমজ ভাইকে কাছে নিয়ে বসেছি আরাধনায়।
বিসর্জন দেব চাঁদনি রাতের ঘুম।

যদি একটা গোল হয়, গর্জে উঠে আনন্দে চুমতে কাটাব সারারাত।
জয়ধ্বনিতে মেতে উঠে করব উল্লাসের আয়োজন।
আবার প্রিয় দল যদি, বহন করে পরাজয়ের পতাকা।
দহনের জ্বালায় মেঘের অরণ্যে দেব টুপ করে ডুব।

এক জীবনের চিন্তা

সমাজকে ঠকিয়ে
কি ভাবে আঙুল ফুলে কলা গাছ হওয়া যায়
এমন চিন্তা অনেকের মাথায়।

এমন ঠকবাজরা
ভাইকে ঠকিয়ে খেলায় নামে।
বোকা ভাই থেকে জয়ী হওয়ার পর
বুকে প্রচন্ড বল বাড়ে।

এবার
প্রতিবেশীকে ঠকানোর কৌশল মাথায়।
এভাবে গ্রাম ঠকায়, দেশ ঠকায়
বিশ^টাকে ঠকানো তাদের নাকি
এক জীবনের চিন্তা!

অন্ধকার

সমাজের ভদ্র ব্যক্তিরা
বিভিন্ন জায়গায় হচ্ছে অপমান!
সেই অপমানের ভার বহন করতে না পেরে
অনেকে হারায় অকালে আয়ুষ্কাল!

সমাজের আগাছারা শুষে নিচ্ছে
ঔষুধি বৃক্ষের জীবনী।
অসহায় সমাজ পড়ে থাকে
আগাছার অন্ধকারে…

আনন্দ পোকা

গভীর রাতে ছারপোকা বলে
রক্তের যদি মায়া হয়
বিসর্জন দাও ব্যাচেলর জীবন।
নিজের ভেতর মনোযোগী হয়ে
কান পেতে শুনি
মন আর ছারপোকার কথা।

শীঘ্রই সুচারুভাবে
সাজিয়েছি সংসার জীবন।
তবে, প্রতিরাতে আনন্দপোকা
ছিনিয়ে নেয় শাদা রক্ত।

অকৃতজ্ঞ লাখপতি

দয়ার সাগরে ডুব দিয়ে ছিনিয়ে নেয় সহস্র মণিকাঞ্চন।
শ্রম আর শ্রমিকের করেছে দারুণ অমযর্দা।
নীরবে শ্রমের সম্পদ শুধু করেছে দান।
রোদ্দুরে পুড়ে চাষের ফসল দেয় লাখপতির পরিবারে।

বিনিময়ে চাষীর উপহার জলজ আগাছা আর জলপুত্রের প্রতীক।
ক্রোদের আগুন জ্বেলে কখনো উচ্চারণ করেনি অভিশাপের বাণী।
প্রতিবেশীর পরিবারে বাড়িয়েছে সাহায্যের হাত।
বেহুদা খেটে আপন করতে গিয়ে, হয়েছে বার-বার অপমান।

Bitul deb poems

Facebook Comments