bijoyer suborno joyonti kobita

বাংলাদেশ

bijoyer suborno joyonti kobita

 ✍️ আমিনুল ইসলাম মামুন

সূর্য্যি মামা রোজ সকালে
পুব আকাশে হাসে
হাসির ঝিলিক ছড়িয়ে পড়ে
সবুজ ফসল ঘাসে।

ফসল মাঠে যায় যে কিষাণ
নিড়ান দিতে ক্ষেতে
পথের ধারে ঘাসগুলো সব
ওঠে তখন মেতে।

কিষাণ পায়ে ঘাসগুলো সব
আলতো পরশ মাখে
সেই পরশে কিষাণ মনে
একটা ছবি আঁকে।

ফসল ভরা সবুজ শ্যামল
একটি মাঠের ছবি
যেই ছবিতে বিমোহিত
বাংলাদেশের কবি।

bijoyer suborno joyonti kobita

জলের খোঁপায় শত্রুর পতন

Mostofa-Hayder

 ✍️ মোস্তফা হায়দার

সুমুদ্রের কোল ঘেষে বধূয়ার যাপন
জলস্রোতের উত্তাল পবনে ভাসছে বধূয়ার লালশাড়ী
নোনাজলের খরস্রোতায় কাঁপছে বধূয়ার কেশরাশি
ভেঙে চলেছে কূল আর অনুকূল!

যুদ্ধের দামামা বেজেই চলেছে
কম্পনে কম্পনে হারিয়ে যাচ্ছে ভবিষ্যতের গতিপথ!
দূরের পথ চেয়ে নাবিকের চোখ পড়ে কোল ঘেষে
বধূয়া তীর ছুঁড়ে ঐ নাবিকের চোখে।

জলের খোঁপায় একটি শত্রুর পতন
ঢেউ এর চিরুনি তালে হারিয়ে যায় লাশ
বধূয়া খোঁজে পায় বিজয়ের চিহ্ন
ভেসে ওঠে রক্তাক্ত এক কারুকাজ।

ঢেউ এর উল্লাস বেয়ে গান ধরেছে নোনাজল
“একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি “

আলো

bijoyer suborno joyonti kobita

✍️ জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

অন্ধকার কতটা পোড়ায় বন্দিজীবন জানে
স্থলচর জানে ডুবে যাওয়া কেমন বন্ধনজ্বালা
আলোহীন দিনের হিসাব কত কূটকৌশলে
লেখে দাহনস্মৃতি

সে সব ধুয়ে দেয় ত্যাগের লোহিত স্রোত
একদিন প্রবল বিক্ষোভ জয় টেনে আনে
যে যন্ত্রণার ইতিহাস লেখে সময়ের পাতা
তার রক্তের ছাপ অযুত নক্ষত্রের মতো
আলো দেয় অবিরল সে এক গর্বের জ্যোতি

উৎসর্গের উত্তরাধিকার সুগন্ধি ফুলের স্রোত
মেখে নিয়ে তৃপ্তির অমিয় পুলকে ভাসে
দূর নক্ষত্রেরা অপলক অপত্যের খুশিমুখ
দ্যাখে ত্যাগের অমেয় গরিমায়

এমনই মাস দিন মুহূর্তের পুলক প্রকাশের সুখ
গর্বের উজ্জ্বল বিচ্ছুরণ প্রাণ ভরে দেখি আর
দেখি,শুধু দেখে যাই,মেখে যাই অমৃতসন্তান

মোরা ভুলবো না তাদের ঋণ


✍️ শাহাদাত হোসেন

বিজয় এসেছে মুক্তির গানে
কেঁড়ে নিয়েছে হয়তো বুকের এক-পাশ
ভাই-হারানো গানের মাঝেও
তবু করছি আজি বিজয় উল্লাস !

চোখের অশ্রুকে ধামাচাপা দিয়ে
সংগ্রামী পথে চলা
বুকের ভেতর আত্মত্যাগের বলী
তবু মুক্তির কথা বলা ।

স্বাধীন জাতি,স্বাধীন চিত্ত
স্বাধীন মোদের বাঁচা
দমিয়ে রাখতে চেয়েছে যারা
ভেঙেছি তাদের খাঁচা !

একাত্তরের যুদ্ধ শেষে আজি মুক্তিমাখা দিন
বীর শহিদের রক্তে কেনা বিজয়ের এইদিন
মোরা ভুলবো না তাদের ঋণ ।

সবই শেখ মুজিবের কথা

✍️ বাদল মেহেদী

আমি যখন কোন শোকাবহ ঘটনার কথা বলি
আমি পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্টের কথা বলি
যখন কোন শ্রেষ্ঠ বাঙালির কথা বলি
আমি শেখ মুজিবের কথা বলি।

আমি পদ্মা মেঘনা যমুনার কথা বলি
আমি রূপসী বাংলার রূপলাবণ্যের কথা বলি
আমি একাত্তরের যুদ্ধের কথা বলি
আমি মুক্তিপাগল বাঙালির কথা বলি
আমি সাতমার্চ শেখ মুজিবের ভাষণের কথা বলি
আমি অমর এক কবিতার কথা বলি।

আবার যখন কোন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কথা বলি
আমি পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্টের কথা বলি
সবই শেখ মুজিবের কথা
সবই আমার শাশ্বত বাংলার কথা।

bijoyer suborno joyonti kobita

পঞ্চাশ

Sodesh-sarkar

✍️ শ্রীস্বদেশ সাধক সরকার

তুমি কি একটি সংখ্যা
না জীবনে স্পন্দনে অনুরণনে
বাঙালি মনের অনুপ্রাস-

তোমাকে নিয়ে গর্ব মোদের
ভাষার মধ্যে উঠে জিগীষা
বাংলা মোর বাংলা ভাষা
পায়ে পায়ে পদ সঞ্চালনা
ভয় ,ভীতি,কালাকানুন,
নিয়ত লাঞ্ছনা –

সে দিন ও মুজিবর অকুতোমনা
বীর বিক্রম উদ্ধত ফণা
অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের লড়াই
বাঁচাতে ভাষা ঢাকার বটতলা
ছিনিয়ে নিয়েছিল ভাষার
মর্যাদা ।

অঙ্কুর হতে অঙ্কুরোদ্গম, নয়া প্রত্যাশা
আর নয়,অনেক হয়েছে
এবারের লড়াই,বাঁচার লড়াই
বাঁচাতে স্বাধীন সত্ত্বা,একটি কথা
শুনহ মুজিবের কথা-

আমরা তোমাদের ভাতে মারব
আমরা তোমাদের পেটে মারব
ইনসআল্লা-

এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম
তোমাদের যা কিছু আছে,তাই দিয়েই
আত্মবলিদানে প্রস্তুত হও~ঘরে ঘরে
দুর্গ করে তোল-
রমনার ময়দান মেজাজী রনাঙ্গন
আজ তার পঞ্চাশ স্মরণ-

হিংসা,দ্বেষ,হানাহানি , জাত বর্ণ
লিঙ্গ ,ধর্ম জেহাদ বারবার করে
ক্ষত বিক্ষত -জাতির ঐক্যে ধরাতে ফাটল
জাগ্রত বিভীষণ-

দুয়ারে করেছে
আঘাত,সময় হয়েছে আবার
ঘুরে দাঁড়াবার ,বাঙালি মননে
আত্মাধিকার চির শাশ্বত ,চির
দুর্বার ,তুমি আজ তার উত্তরাধিকার
জীবনের জয়গানে পঞ্চাশ নয়
একটি সংখ্যা মাত্র-

এ আমার মায়ের
রক্তে রাঙান একুশে ফেব্রুয়ারি আর
ষোলই ডিসেম্বর~জীবন,জীবিকা
স্বাধীনতার অনন্য বিজয় নিশান
সবুজের মাঝে লালের উত্থান
নব জীবনের পথ চলার গান
বাঙালির আশা বাঙালির প্রাণ-
পঞ্চাশ~সবার মনের শপথের জান ।

মুজিব মানে

bijoyer suborno joyonti kobita

✍️ মোহাম্মদ ইমাদ উদ্দীন

মুজিব মানে
মৃত্যুঞ্জয়ী এক বীরের নাম।

মুজিব মানে
সাহসী রাজনৈতিক পাখি।

মুজিব মানে
এক বিপ্লবী কন্ঠস্বর।

মুজিব মানে
আপোষহীন এক বীর পুরুষ।

মুজিব মানে
গরীব দুঃখীর বন্ধু।

মুজিব মানে
রক্ত লেখা এক মানচিত্র।

মুজিব মানে
বাঙালি জাতির ত্রাণকর্তা।

মুজিব মানে
বাঙালি জাতির অনুপ্রেরণা।

মুজিব মানে
হাজারো বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি।

স্বাধীন দেশের কথা


✍️ অনন্যা ভট্টা চারয্য

আজ স্বাধীন হল দেশ।
সবাই অনুভব করল বেশ।।

আমি পড়ি বইয়ের পাতায়।
কথাগুলো সব ঢোকাই মাথায়।।

কতকিছু আছে দেশের ক্তহায়।
মনে হয় যেন জড়িয়ে আছে অপূর্ব লতায়।।

কেউ যে আর করতে পারবেনা শেষ।
এই যে শুধু আমাদের প্রিয় দেশ।।

ভালো লাগল কত কিছু।
দেশের কথা আরো কিছু।।

এই দেশে অনেক আলো।
কেউ পারবেনা করতে কালো।।

সবাই যদি রাখে ভালো মন।
নষ্ট হবেনা দেশের ধন।।

শান্তি পাবে দেশ।
সবাই অনুভব করবে বেশ।।

সবেতেই দেশের সুখ।
নেইগো কোন কালো ছায়ার দুখ।।

দিন কাটবে ভালো।
ভালোবাসার ঔষধ ঢালো।।

স্বাধীনতার সংগ্রামীরা করেছে কত কষ্ট।
তাইতো দেশ আজ হয়নি নষ্ট।।

স্বাধীন হয়নি দেশ দিয়ে মন্তর।
স্বাধীন হয়েছে দেশ দিয়ে অন্তর।।

bijoyer suborno joyonti kobita

তুমি কবিতা হয়ে থেকো

✍️ লাবনী বসু

তুমি কবিতা হয়ে থেকো
আমার হিয়ার প্রতি স্পন্দনে।

তুমি কবিতা হয়ে থেকো আমার
জীবন তৃষ্ণার প্রতিক্ষনে।

তুমি কবিতা হয়ে ভাসাও আমায়
বনপলাশীর সমীরে।

তুমি কবিতা হয়ে রেখো আমায়
স্বপ্ন লোকের তিমিরে।

তুমি কবিতা হয়ে চেনাও
আমায় অস্তিত্বের অনুরণন।

তুমি কবিতা হয়ে সরাও
আমার ধূলিমাখা আবরণ।

তুমি কবিতা হয়ে সাঙ্গ করো
সাম্যবাদের অভিযান।

তুমি কবিতা হয়ে তুলে ধরো
মানবতার ঐকতান।

স্মরণযোগ্য মৃত্যু ও সময়শূন্য জীবন

✍️ বিদ্যুৎ ভৌমিক

শীত ছড়ানো রোদ্দুরে এ ফুলে ও ফুলে খেলছিল ; প্রজাপতি !
সারাবেলাটার ভিতর তখনো মহাঘুম নির্জন ,—– এখানে রাত পর্যন্ত একলা একক প্রতিদিনের জীবন ৷ এখানে বাতাস কিছুটা আগে বাঁশি ফুঁকে চলে গেছে উত্তরহীন নিরবতা নিয়ে ,—— কবিতার পাতায় পাতায় মহাকাশের তারাদের সূর্য ঝলসানো নির্ঘুম ! ওধারের চেনা চোখে চেনা কথার চুপ নিঃঝুম প্রেম ; অশ্রুপাতে বলতে চেয়েছে , মরলেও ভালোবাসি বলে তবেই মরবো !

সদ্য কেনা আকাশটায় মেঘ করলে ; চোখ ভিজে ওঠে মৃদু কান্নায় !
ওধারের পৃথিবীতে সারাবেলাটার স্বপ্ন গুলো ভাগ করে নিতে নিতে মৃত আত্মারা পালিয়েছে প্রমুখ আবেগে !
এই শীতে স্মৃতিগুলির অবতরণে অন্তর্হীন অবুঝ – নির্বোধ প্রাচীন দর্পণের তেপান্তর ; অথচ গোপন তরঙ্গে পোশাকহীন অতৃপ্তির জ্বালায় অন্ধ হয়ে গেছে স্বপ্নভ্রষ্ট চাঁদ !

ব্যক্তিগত ব্যথা গুলো যাবতীয় স্তদ্ধতায় সর্বনাশের মত আয়ু নিয়ে বেঁচে আছে ; এভাবেই !
এ’মন কাল সমস্ত দিন তোর চোখের ভেতর ঘুমিয়ে থেকেছে ৷
হীম নীরবে কথা গুলো এঁকে বেঁকে পাখি হয়ে উড়ে গেছে জ্যোৎস্না ফিরিয়ে আনতে ,—- অদূরেই জটিল সর্বনাশ গুলো আবেগ তাড়িত ; তবু একাই এই মনে ব্যথার দাগ গুলো মুছে দিতে দিতে বৃষ্টিবিন্দুগুলি হাত পেতে তুলে নেই মিথ্যা বিশ্বাসে !

অনিয়ন্ত্রিত জরুরি চোখেরা অতলান্তে তাকিয়ে দেখে স্বঘোষিত উপাচার গুলি ৷ আজ কেউ একজন অবিকল দু’হাত এগিয়ে দিয়ে আকাশ ছুঁয়ে ছিল ; ও পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পাগল !
অবশেষে এভাবেই শেষ কথা হয় ,
বিবেক চোখ খুলে পেল্লাই সমীহ নিল অন্তরপুরুষ ! নষ্ট নষ্ট স্বপ্ন থেকে পথহীন আদোল সম্বিত ফিরে পেলে আমিও নিছক হেঁসে উঠলাম ভেতরে গভীরে !

এই অন্য স্বপ্নের ভোর ; সততই আমারই আবেগ গোলাকার হয়ে ঘুরছে ফিরছে নতুন এক জন্মের ইচ্ছায় !!

জাগরণের ডাক

✍️ জেইনাল আবেদীন চৌধরী,

যা দিয়েছেন মোদের স্রষ্টা রাখিনি তা যতনে,
তাইতো প্রকৃতি নিচ্ছে তার প্রতিশোধ আনমনে।
বৃক্ষ নিধন, সমুদ্র ভরাট, পাহাড় কেঁটে করছি পূরন নিজ নিজ অভিলাষ;
কি করে সহিবে প্রকৃতি তাইতো তর্জন গর্জনের এই আভাষ।

নদী বাঁধ দিয়ে স্রোতের ধারাকে করেছি হাতের মুঠোয় বন্দী,
ভেবে চলেছি জয় করে নিয়েছি এসব আমাদের ফন্দি।
ঐ নির্মল আকাশ আজিকে করেছি কলোষিত,
যন্ত্র আর সভ‍্যতার বিলাসিতায়
মেতে।

ভুল পথে চলিতে,
হোচট তো হবে খেতে;
জ্বলে নামিলে কাপড় ভিজে না তাই কি কভু হয়?

মিথ‍্যে এ আস্ফালন স্রষ্টাকে ভুলিলে কি করে ভাবি এ বিশ্ব কে করিবো জয়!
প্রার্থনা ওগো দয়াময় প্রভু দেখাও মোদের সরল পথ,
পথহারা আজ ভুলেছি মোরা তোমার নির্দেশিত পথ।

ক্ষমা করো মোদের আমরা পাঁপী-তাপী তোমার সৃষ্ট জীব,
জ্বালিয়ে দাও মোদের নিভু নিভু এই তেলহীন প্রদ্বীপ।
ধর্মকে নিয়ে আজ খুলেছে ব‍্যবসা একদল বক ধার্মিক,
ধর্মের চেয়ে যে মনুষ‍্যত্বের প্রয়োজন অধিক।

মানুষের জন‍্য ধর্মের প্রয়োজন,
মানুষই যদি না হলাম তবে ধর্মের আর কি প্রয়োজন?
তাইতো বলি সবার উপর মানুষ সত‍্য তাহার উপরে নাই,
আগে মানুষ হই তবেই ধর্মের সত‍্যতা খুঁজি ভাই।

.

Facebook Comments