Bijoy diboser kobita 2020

স্বাধীনতার অমর কাব্যের কবি

ফরিদুজ্জামান

মুক্তির সংগ্রামে আদর্শের মৃত্যুপণ করেছো লড়াই
শেষ রক্ত বিন্দু ঢেলে মা মানুষ মৃত্তিকার ঋণ শোধের চড়াই উৎরাই।
সাড়ে সাত কোটি বাঙালীর ভালোবাসার কাঙাল ছিলে তাই বাঙালীর মঙ্গল সাধনা
জীবনের চেয়ে বড়ো তোমার তেজদীপ্ত ধ্যান আর সম্মাননা।
পৃথিবীর ইতিহাসে তোমার সমকক্ষ কোন্ বীর হলো মহীয়ান?
অন্যায়কে স্তব্ধ করতে শিরস্ত্রাণ দেওয়ার আগে প্রস্তুত ছিলে দিতে প্রাণ বলিদান।

ধনলোভে-রাজ্যলোভে ইতিহাস জুড়ে কতো লুণ্ঠন অধ্যায়
পালাক্রমে ফিরে আসে বাংলাদেশের বুকে ছুরির ফলায়।
শত্রুকে হটিয়ে দিয়ে ভাষারাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছিল প্রাণের শপথ
বীরের উত্তরসূরী ক্ষিপ্র পায়ে চলা তোমার একমাত্র পথ।
জনগণ বুঝেছিল দখলদারের মিছে জারিজুরি
কতো আর স্তব্ধ রাখে জনরোষে চালিয়ে সে চাবুকের তুড়ি।

মঙ্গা মন্বন্তরে অযুত জনতা মরে দুর্গের ভেতরে চলে রাশ উৎসব
বিভীষণ মননে তবু সম্রাটের দখলদারের ভক্তিবাদ শ্রদ্ধাভরে করে কলরব!
প্রাসাদ ষড়যন্ত্র দেখে মেকি জগদ্দল উল্টাতে দ্রোহ আসে মনে
তুমিই রাখাল রাজা লক্ষ মুজিব তেজ দিলে ভীম রণাঙ্গনে।
দখলদারের কথাই আইন এতো ঘৃণ্য স্বৈরাচার এ কোন বিচার?
কেনইবা মানবে তা বঞ্চিত জনতা এমন আচার!
দখলদার কেনো হবে জনতার প্রাণপ্রিয় বিধাতা পুরুষ?

শোণিত সমুদ্র তীরে কেনোইবা করবে তাকে জগৎ সুরুজ!
এইসব ভাবনায়- মা মানুষ মৃত্তিকার ঋণ মনে পড়ে যায়
তবু মনে হয়- রক্ত যা ঝরে তাতো ন্যায় যুদ্ধই ঝরায়।
রণক্ষেত্রে বীরযোদ্ধা ত্রাণকর্তা মহা-অধিপতি
তুচ্ছ করে মৃত্যুদণ্ড মুক্তির পতাকাবাহী দৌড়ে বাড়াও গতি।

প্রাসাদ ষড়যন্ত্রগুলো রক্তের বণ্যায় ভাসে ঠিক
তোমার মন্ত্রণা পেয়ে মৃত্যুপণ যোদ্ধা ছিলো রণক্ষেত্রে অভীক।
জগদ্দল সরালে তাই বুকে রেখে জ্বলজ্বল তোমার জীয়নকাঠির ছবি
বাংলাদেশে অভ্যুদয়ে বিপ্লবের পথে হেঁটে তুমি আমার স্বাধীনতার অমর কাব্যের কবি।

বিজয়নী বাংলা

মোহা: জেইনাল আবেদীন চৌধুরী

এক জনমে মা-গো সাধ মিটিবে না তোমার বুকে থেকে,
জনমে-জনমে রেখো মা-গো, তুমি আমায় লুকিয়ে;
তোমার পরনের সবুজ শাড়ী যতই দেখি চেয়ে,
অপলক নয়নে অন্তর জুড়ায়, তোমার রূপের মোহে।

কাঁচা সোনার রঙ্গে ভানুদেব যখন পুবাকাশে উদয় হয়,
আমি চেয়ে দেখি তোমার কপালের লাল টিপে ভেষে রয়।
কাকচক্ষু জলে তোমার ছবি দেখি মা-গো নয়ন মেলে,
বুকে আমার দারুন ব্যথা,এসেছি তোমায় দুরে ফেলে;
শয়নে-স্বপনে, ধ্যানে-জ্ঞানে আছ শুধু তুমি,
তোমার সুখে-দুখে, তোমাকে নিয়েই আমার যত পাগলামি।

আমার জ্ঞান ভান্ডারে নেই এমন ভাষা করি তোমার বর্ণনা,
বিবেকানন্দ, নজরুল, রবীন্দ্র তারাই কি যথেষ্ট না!
তবু’ও হৃদয়ের না-বলা কথাগুলো বলার আকুলতায়,
বৃথা চেষ্টা লিখিতে দু’কলম এর বেশি কিছু নয়।

হাত তালি পাব কেও গুনগান করবে এ আশা আমার নহে,
যাহা কিছু করি,সবটুকুই তার শুধুই তোমাকে ভালোবেসে;
ধন্য মা-গো জন্ম আমার, তোমার কোলে জন্মেছি বলি,
ভয় হয় মা-গো মনে-প্রাণে হতে পেরেছি কি বাঙালী!
এই দেশটাকে স্বাধীন করতে দিয়েছেন যাঁরা প্রান,
তাঁরা তোমার বুকে থাকবেন মাগো হয়ে চির অম্লান।

যতই শত্রুর দল করুক মাগো তোমাকে নিয় ষড়যন্ত্র,
বিজয়ের মাসে শপথ মাগো ধূলিসাৎ করবো ওদের যত কুমন্ত্র।
ওই পতাকার লাল টুকু মাগো শহীদের রক্তে রাঙ্গা,
কোন অপ শক্তির নেই কোন সাধ‍্য এই দেশটাকে আর ভাঙ্গা।

থতদিন থাকবে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা বহমান;
হবে নাকো একবিন্দু বিজয়ের আনন্দ অম্লান।
লাখো শহীদের রক্ত আর মা-বোনের ইজ্জতের এ বিজয়,
মাথা উচুঁ হয়ে থাকবে মাগো অক্ষয় হয়ে সাড়া বিশ্বময়।

Bijoy diboser kobita 2020

পরাজয় কালগ্রাসে, এসেছে বিজয়

আকিব শিকদার

পরাজয় উড়ে গেছে-
হালকা হাওয়ায় শুকনো হলুদ পাতার মতো।
হঠাৎ দমকা ঝড়ে বাবুই পাখির নীড়ের মতো
কায়ক্লেশে উড়ে গেছে পরাজয়-
সোনালি চিলের পরিত্যক্ত পালক যেমন।
নাটাইয়ের টানে ফেরা ঘুড়ির মতো
সমুদ্রের তীরে ফেরা তরীর মতো
বাংলার ঘরে ঘরে এসেছে বিজয়।

পরাজয় ফিরে গেছে-
ক্ষীণপদে পুকুর পাড়ের শামুকগুলোর মতো।
এক লাফে দেয়াল পেরিয়ে ধূর্ত শিয়ালের মতো
সন্তর্পণে ফিরে গেছে পরাজয়-
নাকে গন্ধ শুঁকে অভিষ্ট লক্ষ্যে কুকুরেরা যেমন।
বছরান্তে কাননে বাসন্তি ফুলের মতো
অমবস্যান্তে শুক্লাদ্বাদশি চাঁদের মতো
বাংলার ঘরে ঘরে এসেছে বিজয়।

পরাজয় মরে গেছে-
ভুল করে এক ফোটা হন্তারক বিষ পানের মতো।
গুলি খাওয়া পাখি, ডাঙায় তোলা মাছের মতো
কালগ্রাসে মরে গেছে পরাজয়-
গৃহিণীর চুলে সুগন্ধী তেলের গন্ধ যেমন।
মৃত্যুঞ্জয়ী চিরসঞ্জিবনী লতার মতো
পূনর্জন্মা প্রভাতের রাঙা সূর্যের মতো
বাংলার ঘরে ঘরে এসেছে বিজয়।

যুদ্ধজয়ের গল্প

অমিত বড়ুয়া

ঘুম পাড়ানির গান নয় আর
ঘুম পাড়ানির গান
শত্রুসেনার শক্ত ঘাঁটি
আজ করে খান খান
তাড়াও আঁধার ভয় ভাবনা
ছোটাও আলোর বান।

কিসের তোমার ভয়রে বাছা
কিসের তোমার ভয়
নিঃশেষে প্রাণ যে করবে দান
তারই হবে জয়
আলোর পাখি স্বাধীনতা
অমর ও অক্ষয়।

তোমার সকল কীর্তি গাথা
তোমার জীবন দান
দুঃসাহসের অমর কাব্য
যুদ্ধজয়ের গান
বাংলাদেশের বুকের মাঝে
থাকবেই অম্লান।

এবার তবে যাও এগিয়ে
মুক্ত করো দেশ
হায়েনাদের করো তুমি
এক্কেবারে শেষ
বিশ্বমাঝে মাথা তুলুক
স্বাধীন বাংলাদেশ।

Bijoy diboser kobita 2020

বঙ্গবন্ধু তোমার পথে

জুনায়েদ খান প্রান্ত

বঙ্গবন্ধু তুমি চলে গেছ অকালে।
তবে তোমার দেখানো পথ আজও রয়েগেছে।
তোমাতেই মগ্ন থাকি সারাটা বেলা।
তোমার ধ্বনি শোনে হয় শিহরিত।

তোমার চরণ দুখানা পরেছিল এ মাটিতে।
এ মাটি আজ ধণ্য, আত্নমর্যাদায় পরিপূর্ণ।
আমরা পেয়েছি এমন নেতা বিশ্ব বিস্মিত।
তাইতো চড়িয়া পুষ্পরথে করিতে চাই বরণ,
তোমার শততম জন্ম দিবসের কালে।

তরুণ প্রজন্ম আজ এগিয়ে চলে,
তেমার বানী উচ্চারন করে দারুন উদ্দামে।
তোমার দেখানো পথ অনুসরণ করে,
বিশ্ব দরবারে প্রতিষ্ঠিত আমরা দাঁড়িয়ে।

স্বাধীনতার জন্য তুমি দিয়েছিলে ডাক অভিসারে,
লাখ মানুষ ছুটে চলে এসেছিল রনক্ষেত্রে।
কুণ্ঠিত না হয়ে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে,
উজার করে দিয়েছিল নিজেদের মুক্তির আশাতে।
চিনিয়ে এনেছিল তোমার আমার স্বাধীনতা।

ঘাতকের আর্তগ্লানিতে জাতির পিতার স্বপ্ন।
ভুলবো না মোরা পনেরোই আগষ্ট কালো রাত্রি।
ভয়াবহ সেই বুলেটের শব্দ আর রক্ত স্রোতের নদী।
বিনিময়ে তুমি কী পেয়েছিলে তাই আজ বড় প্রশ্ন?

এদেশর মাটিতে এখনো তোমার নাম জপে,
সকাল,দপুর রাত্রিকালে প্রভাত ফেরীতে।
সবার হৃদয়ে তোমার নাম থাকবে ততদিন,
যতদিন প্রবাহমান এই জনস্রোত থাকবে।
যতদিন পূর্ব দিগন্ত লালরক্তিম সূর্য উদয় হবে,
লালসবুজের নিশানা দখিনা বাতাসের সহিত উড়বে।

১৬ ই ডিসেম্বর ২০২০

মোজাম্মেল হক (শেখ হাসিনার উদ্দেশে উৎসর্গ)

মা বঙ্গ জননী আমার
আমি তোমার সাত কোটি
সন্তানের বেঁচে থাকা সব
অভাগা সন্তানের একজন।

আমার জীবন প্রদীপের
বাতির ও আজ তার তেল
একেবারে নীচে নেমে এসে।

তার আলোর বাতি জ্বালিয়ে রাখতে
সামান্য বাতাসের সঙ্গে যুদ্ধে
কখন যে ধরাশায়ী হয়ে পড়বে
তার নাই কোন নিশ্চয়তা।

যোগের পর যোগ জীবনের
হিসাবের পঞ্চিকার পাতা মলিন
হয়ে ঝরে পড়ছে মাটিতে।

সেই স্বপ্নের স্বাধীনতা সেই
গভীর ঘুম থেকে জেগে উঠে
বিনা অস্ত্রে সুসজ্জিত সুপরিকল্পিত।

বিশ্বের অন্যতম মানুষ খেকো
পশুদের সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে
তোমার মুক্তি তোমার স্বপ্ন।

তোমার সোনার বাংলার হাজার
বছরের সর্ব শ্রেষ্ঠ সন্তান তাঁর ডাকে
তোমাকে শত্রু মুক্ত তোমার সন্তানকে
শত্রুর বন্দীশালার তালা ভেঙ্গে
স্বপ্নের দেশ সোনার বাংলা স্বাধীন

মুক্ত করে সোনার ফসল ফলাতে
খালি হাতে শত্রু মুক্ত মাটির চাবি
তুলে দিয়ে নিজেকে গর্বিত দায় মুক্ত
করে নিয়ে সাত কোটি অসহায় বীর

বাঙালির সুখ শান্তি মানবাধিকার
দিয়ে লাল সবুজের পতাকায় মুড়ে
বীর বাঙ্গালীর রক্তে ধৌত পবিত্র দেশ
বিশ্বের এক মহা বিশ্বয় করে তুলতে ?

আজ সেই তোমার বীর বাঙ্গালীর
আশার প্রদীপ তারা নিভিয়ে অন্ধকারে
কাল পর্দা টাঙ্গিয়ে রেখেছে ।

যে বীর বাঙ্গালীর প্রাণের আশার প্রদীপ
আজ আঠারো কোটি বঙ্গ সন্তান ।
বুকে ধারণ করে নিয়ে তার নির্দেশের
অপেক্ষায় বুক বেঁধে বিনিদ্র রজনী
পার করে চলেছে সে-ই হৃদয়ের মূর্তি
মুছে তারা পাথরের মূর্তিতে তাকে
বন্দী করার ফন্দি ফিকির করছে ?

আজ বিশ্ব যখন এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নে
বিভোর তখন তারা ধর্মকে হাতিয়ার
করে শাসন শুষনের মন্ত্র জাল বুনছে?

নৌকা তারা আজ পানিতে নয়
নৌকা মরুতে ভাসিয়ে মুক্তিযুদ্ধের
সকল সম্পদ বুঝাই করে মরুভূমির
বালুতে ছিটিয়ে সোনার বাংলা বঙ্গবন্ধুর সব স্বপ্ন সব ভালোবাসা ত্যাগ জীবন দান সবই মরুভূমির বালুর গভীরে তলিয়ে তারা বালুর নিচে সমাধিস্থকরে মুক্তি যুদ্ধের এবং স্বাধীনতার জ্বালার আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটাতে বদ্ধ পরিকর।

Bijoy diboser kobita 2020

মরণোত্তর পদকের নাটক

সজীম শাইন

ধ্যানের অন্বেষায় ভীরু দীর্ঘশ্বাস নিয়ে
সারারাত জেগে থাকে কবি।
সারাদিন ক্লান্ত মুসাফির খুঁজে ফিরে
পাহাড়ের চূড়ায় এক টুকরো ছায়া।

জেনেছি কিসের শূন্যতায় পাহাড় কাঁদে,
কিসের প্রেমে ধেয়ে আসে ঝর্ণাধারা।
পাহাড়ের চূড়ায় উঠে আসে কবি,
ক্লান্ত পদক্ষেপে, সৌন্দর্য অন্বেষণে।

সৌন্দর্য পিপাসু কবি ফিরে আসে
ধরিত্রীর বুকে, বিবেক কী নড়েন

রক্তের স্বরলিপি থেকে ভেসে আসা সুর

দালান জাহান

যখন আমি চলে যাবো
নিঃসঙ্গ পাখির মতো ওড়ে যাবো
কেবলই পড়ে থাকবে আমার নিষ্প্রাণ দেহ।

যখন আমার কণ্ঠের স্রোতে
বসে বসে জল খাবে আচানক হাতি
আমার লোমকূপ ঘাম হয়ে ঝরে পড়বে
আমার একটু একটু আমি।

যখন আমি মিশে যাবো মহাশূন্যতায়
মাঠ থেকে উঠে আসবে সমস্ত মাটি
জলের স্তরে স্তরে জমায়িত হবে পুরাতন রেকর্ড।
কানে হাত তোলে একটি কণ্ঠ
উচ্চারণ করবে আল্লাহ আকবার ধ্বনি।

ঠিক তারপরেই যেন শুনি
রক্তের স্বরলিপি থেকে ভেসে আসা সুর
“আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি।”

বঙ্গবিপ্লব

তাম্বুল রাতুল

ভাঙিল ভারত,ভাঙিল পাকিস্তান,
জাগিল আমার দেশ
কিসের প্রদেশ, কিসের উপনিবেশ,
স্বাধীন কর বাংলাদেশ।

কিসের দিল্লি, কিসের পিন্ডি,
কিসের কলকাতা?
ঢাকাই আমার কবিতার খাতা,
মাথার উপর ছাতা।

চাইনা লাহোর, চাইনা করাচি,
চাইনা বেলুচ সিন্ধু।
চাই শুধু আমি, মুক্তি দাও তুমি,
আমার বঙ্গবন্ধু।

কে তুই ভুট্টো, কে তুই নিয়াজি,
কে তুই উজবুক?
এই দেখ মুসাম্মত,দেখ তাঁর হিম্মত,
নামা তোর বন্দুক।

পাঞ্জাবিরা বেশ, পশতুরা খেশ,
না-লায়েক শুধু বাঙালি?
অন্তর ভরা জালি, মুখে মুখে গালি,
কেন দিলে?
পাকিস্তানের মুখে কালি।

হে রে কালী, চল না যুদ্ধে চলি,
খানরা হাঁকিছে হুঙ্কার
ওজস্বী রাগে, জেগেছে বাঙালি,
প্রলয়ে শত্রুর বাংকার

মহেন্দ্রগঞ্জ থেকে মেলাঘর,
হরিণা থেকে বাঁশতলা,
শত সালাউদ্দিনের গর্জন

হামারি পাকিস্তান,
আজ হামারি গোরস্থান,
কেন ভ্রাতৃত্ব বিসর্জন?

এ আমার নূতন সুজন,
স্বাধীন বাংলার বুকে
শত্রুর বুকে দুমড়ানো শিহরণ,
ইন্দ্রজাল,অংশুমাল চোখে
হে আমার নন্দিনী

দায়গ্রস্ত হস্তে, ন্যাস্ত করে গেলাম
তোমায়,একচুল
বাংলার কৃষাণ,বাংলার নিশান,
বাংলা মায়ের কোল।

দুঃস্বপ্নে ঘুম ভাঙে নাড়াবুনোদের গ্রাম

সাঈফ আলম (চট্টগ্রাম)

চিনি কল বন্ধের পাঁয়তারার করে রাজার সাঙ্গপাঙ্গরা
ডাক্তারী ফদ্দ পুতে দেয় বস্তির মোড়ে মোড়ে, আর
বাতাশের আঘাতে পত পত করে উড়তে থাকা লাল নিশানায় লিখে দেয়
সংবিধিব্ধ সতর্কীকরণঃ
“চিনি খাবি খা, মরে যাবি যা”।
তবে সকাল সন্ধ্যে
চিনি—গুড়—সেকারিনের মিষ্টি জবানের ঢোল বেজে চলে
পেটসার, হাড়সার, হাভাতের গোষ্ঠীর হাড়গোড় রক্তশুণ্য হয়, সে ঢোলের তালে তালে
তবু রাজার চিনি মুখের শর্করার ফোয়ারার ছুটি হয় না, কখনো।

চিনিকল রাষ্টয়াত্ত
চলবে কি বন্ধ হবে, সো তো একনায়কের অভিরুচি
জোন খাটারাও রাষ্টয়াত্ত পোড়োমালের অধিক কিছু তো নয়
তাদেরও আজীবন পথে বসিয়ে রাখা
ভিক্ষাজীবী করে রাখা
মধুমাখা অছিয়তনামার শ্রবণকারী, বিশ্বাসকারী জনতার টসটসে আম বানিয়ে রাখা
রাজার, রাজপুতের পরম্পরার এক সুস্বাদু ব্যবস্থা!

কল—বেকল শ্রমিকেরা সব একাট্টা হয়, ওমন একট্রা তারা কত যে হলো!
গলা ফাটায়— ঠাস ঠুস, ঢাস, ঢুস
দুনিয়ার মজদুর এক হও, লড়াই কর।
এক হয়, মিছিল হয়, শ্লোগান হয়, বক্তর্ৃতা য় বক্তৃতায় গলার রগ ফুলে ঢোল হয়,
লড়াই চলে
বড়ায় চলে, আর শেষমেষ
জানের ভয় আকাশ ধায় করে, তর্জন—গর্জনের গলা হয় নিম্নমুখী
কাটাপড়ার ভয়ে ঝড় তোলা হাতগুলো গুটিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে
ভিতু নিতম্বের ঢিবির উপর,
অগত্যা রাজার হস্তক্ষেপ কামনায় মোনাজাত ধরে বাড়ি ফেরে, সব
হাম্বিতাম্বির ফাঁপা খোলগুলো।

কিন্তু রাজার হস্ত নিস্পত্তির বর্ণমালা লেখেনা কোনদিন
তাঁর হস্ত শুধু ক্ষেপে হিংস্র বাঘ বনে যাওযার অনুশীলন করে আজীবন
তাঁর হস্ত সব সময় ইস পিস করে,গায়ে ওঠার জন্য
বলহীনের গালে, কান শিরেত চপেটাঘাতের হুড়–ম ফোটাবার জন্য,
তবু মুখ তার চিনির খই ভেজে চলে আমরণ।

চিনিকলে তালা পড়ার দুঃস্বপ্ন দেখে ধড়ফড়ায়ে ওঠে বসে
ভয় তরাশে কুশোর ক্ষেতের নাড়াবুনোরা,
আখের ছোবলা চিবিয়ে সাবাড় করে, ওলা ওঠা রস চুমুড় দিয়ে ওধাও করে
তাফালের গুড়—চিনি চেটে পুটে ছাপ করে দেয়
নৃপতির পোষা গাড়লেরা,
আখ চাষিরা আক্রান্ত হয় মাথায়—হাত’র ছোয়াছে রোগে
তবু রাজার জবানে চিনির ঘাইন ঘুরতে থাকে আল্লাহর তিরিশ দিন
তবু মুখে মধু, বুকে কাল নাগিনির বিষ বয়ে বয়ে চলে
দুমুখো সর্পরাজের চিনিমাখা শিরায়, উপশিরায়।

Bijoy diboser kobita 2020

যোগসূত্রের নিমন্ত্রণে

মোস্তফা হায়দার

দীর্ঘতার অচেনা সূত্রে
আঁকা, অবিশ্বাসের গ্রাফরেখা,
যোগসূত্রের নিমন্ত্রণে
হারিয়ে না যাক দেখা অদেখা।

একটা ভূগোলে বসবাস করা স্বপ্নেরা
নিমগ্নতায় ভুলে সব ব্যথা
দিনের শোকেসে উচাটন গৃহস্থালিরা
ঝিঙেমাচায় রাখে প্রিয়তা।

সব দেখা-সুত্রের গৃহে
এক তর্জনীর ইচ্ছে স্বপ্নের জয়োযাত্রা
বিকেল বিদায়ের মতো
ইতিহাস দাঁড়াতে খুঁজবে যতিচিহ্ণের মাত্রা।

ইতিহাস হেসে হেসে দীর্ঘতায় ঘরকুনো হয়
আগল ভেঙে সত্যমিথ্যার হয় জয়পরাজয়।

বাংলাদেশ

আমিনুল ইসলাম মামুন

সূর্য্যি মামা রোজ সকালে
পুব আকাশে হাসে
হাসির ঝিলিক ছড়িয়ে পড়ে
সবুজ ফসল ঘাসে।

ফসল মাঠে যায় যে কিষাণ
নিড়ান দিতে ক্ষেতে
পথের ধারে ঘাসগুলো সব
ওঠে তখন মেতে।

কিষাণ পায়ে ঘাসগুলো সব
আলতো পরশ মাখে
সেই পরশে কিষাণ মনে
একটা ছবি আঁকে।

ফসল ভরা সবুজ শ্যামল
একটি মাঠের ছবি
যেই ছবিতে বিমোহিত
বাংলাদেশের কবি।

পাষন্ড বাহিনী

করুণা আচার্য

লক্ষ লক্ষ প্রাণহানি ঘটাতে যাদের বুক একবিন্দু কাঁপেনি,,
তাদের থেকে দেশের ভালোবাসা আাশা করাই মূর্খামী।
পৃথিবী জুড়ে ইতিহাস হয়ে রবে সেই ৭১ এর ঘৃণ্য কাহিনী,
যুদ্ধাপরাধী দৈত্যরাই হলো এই রাজ্যের জুজু বাহিনী।

যারা নিজেদের স্বার্থে প্রচার প্রসারে থাকে সর্বদা মত্ত,
তাদের মনেই আছে যতোসব নোংরা বিশ্রী আসক্ত।
তারা স্তব্ধ হবে সেদিন যেদিন ভুগিবে সঙ্গহীনতায়,
বজ্রপানি রুদ্রাঘাতে হবে দু-চোখ অশ্রু ভরা অসহায়।

এদের মত পাষন্ডরা পারবেনা এই রাজ্য করতে অন্ধকার,
এইদেশ হবে একদিন আলোয় আলোয় একাকার।
ভালোবাসা জোৎস্না হয়ে থাকবে সদা বাংলার পাশে,
সময় কখনো যাবে না থেমে খুলবে দোয়ার নতুন আশে।

যারা এদেশের আপন নয়, তবু তারা আপন হয়ে রয়,
দেশের মাটিতে ছদ্রবেশে তর্জনে গর্জনে কথা কয়।
পবিত্র পৃথিবী রেখেছে আজো দেশের পবিত্রতা ধরে,
বুক ফুলিয়ে চলছে এদেশ আগামীর আলোরণ তুলে।

সদা তীর্থযাত্রী হৃদয় যাদের এই কয়দিনের প্রান্তশালায়,
যাবে সেই পথে যেই পথে রয় সদা তারা প্রার্থনায়।
আকুতি মিনতি শুনায় তারে যারে পাবে শেষ বেলায়,
ফুরাবে যখন বিধির বিধান নিয়তির সহস্র খেলায়।

Bijoy diboser kobita 2020

বিজয় পথে,,

সাহিদা রহমান মুন্নী

হাসতে শেখায়,
বাঁচতে শেখায়,
মন গহীনের দুঃখটাকে,
কোমল যত্নে ঢাকতে শেখায়!!

নিবিড় ভালোবাসতে শেখায়,
শিকড় ছিঁড়ে আসতে শেখায়,
মন গহীনের দুঃখটাকে,
কোমল যত্নে ঢাকতে শেখায়!!

ইচ্ছে মনের জাগতে শেখায়,
বিরুপ কথায় রাগতে শেখায়,
মন গহীনের দুঃখটাকে,
কোমল যত্নে ঢাকতে শেখায়!!

কোড়া কাগজ আঁকতে শেখায়,
আপন করে রাখতে শেখায়,
মন গহীনের দুঃখটাকে,
কোমল যত্নে ঢাকতে শেখায়!!

নিগুঢ় সত্য বলতে শেখায়,
বিজয় পথে চলতে শেখায়,
লাল সবুজের এই পতাকা,
উচ্চশিরে বাঁচতে শেখায়-
মন গহীনের দুঃখটাকে,
কোমল যত্নে ঢাকতে শেখায়!!

মুক্তির নেশা

ইদ্রিস রহমান

বঙ্গবন্ধু ডাক দিয়েছে
দেশকে বাঁচাতে হবে আজ
ছলিমুদ্দিন কলিমুদ্দিন
আয় তোরা ফেলে কাজ।

কোথায় মতিউর জাহাঙীর রুহুল
নুরকে খবর দাও
হামিদুরের বাড়ি একত্র হবো
আজ মিলে সারা গাঁও।

হানাদার বাহিনী ঢুকেছে দেশে
রাজাকারে দেখায় পথ
বুকের রক্ত দিয়ে হলেও
থামাবো ওদের রথ।

মুক্তির নেশায় ঝাঁপিয়ে পড়ল
আবাল বৃদ্ধ বনিতা
কামার কুমার জেলে চাষী
হয়ে সবে একতা।

শত মায়ের বুক খালি করে
নয় মাস যুদ্ধ শেষে
লাল সবুজের পতাকা উড়লো
সোনার বাংলাদেশে

পাকিস্তানের দাদালি করে
যারা দেশকে করে অপমান
ইচ্ছে করে থাপ্পড় মেরে
ধরি ওদের দুটি কান।

কবিতা- আঁধারে আলো খুঁজি”

শাহাদাত হোসেন

ভোর হতে বাকি কতো জানিনা-
আমরা তো আজো অন্ধকারে ডুবে রয়েছি
ভোর প্রভাতের আলোকে খোঁজ করেছি,
আমরা তো ভাই মুক্তি চেয়েছি
শোষণের কারাগার ভেঙে দিয়েছি!

মুক্তির দিন আসবে কবে অজানা রইলো
জ্বলে উঠবে কবে ভোর প্রভাতের রক্তিম আলো ।
আমরা তো আজো দিন গুনছি
মুক্তির সোগ্লানে ঝড় তুলেছি,
বিজয়ের লগনে হাঁটবো জানি
একদিন মুক্তিতে মুছবে গ্লানি ।

আমাদের হাত গর্জে উঠলে
ভেঙে যাবে কতো বাঁধ মুক্তিতে মিলে,
কতো রাত নিশিতে চেয়ে বসেছি
আমরা তো আজো ভাই আলো খুঁজেছি !

চালতা ফুলের হাসি

অভিলাষ মাহমুদ

চা- চালতা ফুলের হাসি দেখে
জুড়ায় আমার প্রান
ল- লজ্জা পেয়ে মুখ লুকিয়ে
ছড়িয়ে দিলো ঘ্রান।
তা- তার হাসিটা বাজছে কানে
হয়ে বিজয় গান।
ফু- ফুলেরা জানে এই বিজয়ে
কাদের অবদান।
লে- লেখবো কী আর বিজয় দিনের
নতুন কোনো ছড়া?
র-রক্ত দিয়েই আমার এ দেশ
হয়েছিলো গড়া।

হা- হাসি আমি আর গাই গান
নাচিও ধিনাক না ধিন,
সি- সিয়ান আমরা বীর বাঙালী
দেশ করেছি স্বাধীন।

তোমার কথা

শ্রীস্বদেশ সাধক সরকার

সে দিনের ভাষা আন্দোলনে শহীদ
জব্বর ,রফিক আর সালাম
ভাষার মমত্ববোধে জীবন সংগ্রাম
হয়ত পুব আকাশে রক্তরাঙা করবী
বলেছিল-সুরু হল আজ চলবে

গ্রাম-
সে দিন ছিল মুজিব ছাত্রদের সাথে
তারপর-
তারপর পদ্মা মেঘনা যমুনা
স্রোতের বহমান বন্যা
উদাত্ত আহ্বান-সোজা শিরদাঁড়া
নদী বাঁধ মানে না,অফুরন্ত গতি
আর অদম্য শক্তি দিল বার্তা-
আর নয় ন্যুব্জতা নয় অধীনতা

বশ্যতা-
দিল ডাক মুজিবর রহমান
রমনা ময়দান-এবারের সংগ্রাম
স্বাধীনতার সংগ্রাম,এবারের
সংগ্রাম জান মানের সংগ্রাম
যার যা কিছু ,তাই দিয়ে হবে

লড়াই-
ভাই সব,আমি যদি নাও থাকি
তোমরা লড়াই চালিয়ে যাবে
এ দৃপ্ত ঘোষণা,বাঙালী দেখল
এক নতুম নেতাকে,যে হারতে
জানে না,বাংলা ও বাঙালি

সত্ত্বাকে জানে –
লড়াইয়ের ময়দানে লাখো
লাখো বলিদান,হাজারো মায়ের
নিপীড়ন ,দমন,নির্যাতন
লড়াই আর সংগ্রাম -নতুন
বলে বলিয়ান।

আজ,১৬ ই ডিসেম্ব্যার ,জয়
বাংলার ৫০ বছর
জাতির পিতা -শেখ
মুজিবের শততমবার্ষিকীর
শুভ এ লগনে মনে পড়ে
সে দিনের লড়াইয়ে ছিল
পাশে ভারতবর্ষ,মুজিবের
সাথে -অত্যাচার আর
মানবতা বিরোধী সে ধ্বংস
লীলা আজও স্মৃতি করে

বেদনাবিদুর-
তারপর আরেক হত্যালীলা
তাজ্জু্দ্দিন,নজরুল ইসলাম
সহ মুজিব পরিবার ১৫ই
আগষ্ট ১৯৭৫-ঘাতকের
হাতে বলিদান,যেন এক

করুণ ইতিহাস ।
তারপর- আজ সে মহীয়ান
বলিয়ান বাংলা ও বাঙালির
প্রাণের স্বাভিমান,জয় বাংলা
তোমায় সালাম।

Bijoy diboser kobita 2020

Facebook Comments