bangla shiter kobita

শীতযাপন

জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়

যাপনের স্বপ্নে হিমরাত ম্যারাথন বয়
শীত রোদ বিদায়সৌজন্য জানে না
লন্ঠনের অপ্রাসঙ্গিক আলোটুকু নেই
আলুখেতে তিন ঘণ্টা জলের পর
অথবা শেষ ট্রেনের হতাশ রিক্সাওলা
ভোরের আগে তোমাকে জড়াতে চায়
সম্প্রতি পতির ঘোর মেনে নিচ্ছি গায়ে
তেলচিটে দুর্গন্ধ জাগুয়ার পারফিউম
মানে তার একমাসের ভাত-আলুর দাম
তাকে ছোঁবে না চতুর!

অস্পৃশ্যতা মহাপাপ এ কেবল
বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠের গান শীতরাতের গন্ধে
বুঁদ নেশার কুহক দুটি উপযুক্ত দেহের
সামনে ক্লান্তির প্রাচীর রাখার পাপ
সংবিধানের কোনো ধারাই মানে না।

সিন্ধুর বিন্দু

অনিরুদ্ধ সুব্রত

মানুষের ভিড়, অগণিত মানুষের ভিড় তোমার চারপাশে
সত্যি সে আনন্দ আমারও ভালো লাগে, জ্যোতির্ময়
সবচেয়ে বেশি সুখ হয় যখন দেখতে পাই
সেই ভিড়ের ভিতরে আমিও আছি, আমাকে স্পর্শ করে।

আগ্রহ কোনও ফড়িং ধরার খেলা নয়, তাৎপর্যময়
সাদামাটা,অপেক্ষাকৃত অগভীর জানা,
বৈঠার নাগালে নালা পথ ঠেলে আসা পুরনো সময়
কিন্তু খুঁজে খুঁজে এসে দাঁড়িয়েছি থরে থরে মুখের ভিড়ে ।

মহিমান্বিত এই স্রোত,তুমি পূর্ণাঙ্গ চাঁদ,অন্ধকারের ঈশ্বর
পুণ্যতোয়ার পারে সার ধরে পুণ্যার্থী কাতারে
তবু ভিড় ঠেলে এগোনোর বড়ো সাধ
সাঁতারে সাঁতারে আকাঙ্খা করে,এখনও শুধু প্রত্যয় ঘিরে ।

স্বপ্নের ভিড়,অগণিত দুঃস্বপ্নের মিছিলে হারানোর দিন
সত্যি এই নিঃশব্দতা তবু কিচ্ছু নয়, মহিমময়
তোমার আনন্দে সুখের বৃষ্টি যে হয় এই চরাচরে
ভিড়ের ভিতরে আমি এখনও, বিশাল তরঙ্গের অংশ হিসেবে ।

শীতের রাতের গান

অভিলাষ মাহমুদ

এই শীতের রাতে তোমাকে নিয়ে রচি গান;
তুমি এসে দাও জুড়িয়ে আমার কচি প্রাণ।
মা প্রকৃতির স্তন থেকে কুয়াশা দুগ্ধ ঝরে,
এসো আজ দু জনায় নিই হৃদয় ভরে।

মনের সাথে মন আর দেহের সাথে দেহ;
থাকবে মিশে সারারাত জানবে না কেহ।
এ পবিত্র ভালোবাসাকে ছোঁব না নষ্টামির হাতে;
যেন অপবিত্র না হয় এই শীতের রাতে।

দুজন দুজনাতে একাকার হয়ে থাকবো মিশে;
শীতের ভয়ে দুজন যেন না হারাই দিশে।
দুজনাতে আজ হোক পবিত্র ভালোবাসা বিনি ময়;
তিনি সাহসী প্রেমিক … শীতকে করেন না যিনি ভয়।

ভালোবাসার আগুন জ্বেলে আজ দুজনে শীত তাড়াবো
ভালোবাসার ভুবনে আজ দুজনে এসো হারাবো।

bangla shiter kobita

শীতের আগমন

মোহাম্মদ ইমাদ উদ্দীন

আসছে শীত কাপঁছে দেশ
পৌষ ও মাঘ দু’মাস মিলেই শীতকাল।
এই এক বাংলার অনন্য ঋতু।।

কুয়াশায় আচ্ছন্ন শীতের সকাল
ঘুম ভাঙ্গলেও বিছানা ছেড়ে উঠতে চায়না মন!
জানালার ফাঁকে ঢুকে থাকা রোদের গন্ধ
যেনো এক অন্য অনুভূতি।

মাঠেঘাটে তাকালেই চোখে পড়ে
খেজুরগাছের আগায় ঝুলছে রসের হাড়ি।
সারি বেঁধে উড়ে চলা অতিথি পাখির দল।

অসহায় মানুষদের হাসি ফুঠাতে
সমাজকর্মীরা ছু্ঁটে বেড়ায় শীতবস্ত্র নিয়ে।

পৌষমেলা

ফরিদুজ্জামান

পসার সাজায় পৌষমেলা পিঠা-পণ্যে কাটবে বেলা
খোকা খুকু আয়।

ডুলা কুলা মাটির খেলনা মণ্ডা মিঠাই সাজি বেলনা
বেলা বয়ে যায়।

হিম পরশে শীতের হাওয়া লাটাই সুতা মাঞ্জা খাওয়া
ঘুড়ি সোনার গাঁয়।

ঘরে ঘরে পিঠা পায়েস ভোজন রসিক করে আয়েশ
ফানুস ওড়ে বায়।

শিশির ওবে সোনা রোদে চড়ুইভাতির কাল আমোদে
শিল্পী গীতি গায়।

হাতে বোনা কাঁথার ফুলে সবার মনই ওঠে দুলে
সম্মিলনের নায়।

ঢোল মাদল আর গানা বাজনা নেচে নেচে হবে সাজনা
পুলক পৌষ মেলায়।

শীত কাহন

সাহিদা রহমান মুন্নী

কমছে না হীমশীত,
ওম ওম আদোরে-
শহরটা ঢেকে দিলো,
কুয়াশার চাদরে!!

যবুথবু লোকালয়,
থরথর কাঁপছে-
গরমের ছোঁয়া পেতে,
আগুনে গা তাপছে !!

ভাপাপুলি মিঠাকুলি,
রসভারী পায়েশে-
শীত মানে লেপ কাঁথা,
খুব ঘুম আয়েশে!!

সূর্যটা ভুলে গেছে,
তাপ নিয়ে ডাকতে-
শীত দেয় হুংকার,
ঘর জুড়ে থাকতে-
শীত ভালোবাসতে,,,,,,!!

Facebook Comments