কবিতায় জাগরণ (জুল-সেপ্টে) ২০১৫

এপ্রিল ১৫, ২০১৯
little magazine

bangla kobitar magazine kobitay jagoron 2015 (july-September)

সম্পাদকীয়

Shahida Rahman Munney poet

বহতা নদীর মতো বোয়ে চলেছে সময়-সময়ের হাত ধরে আমরাও চেষ্টা করি-করছি সমতালে ছুটে যেতে, এ ছুটে চলায় কখনো কখনো গরমিল হয়ে যায় পথের পিচ্ছিলতায় চলার গতি ! তবুও এগুতে হবে, কেননা সময় কারো জন্যে থেমে থাকবে না-থাকেনি ! মৌ মৌ সুগন্ধে মৌসুমী ফলে ভরে আছে বাংলাদেশ !

দুঃসহ গরমে মাঝে মাঝে বৃষ্টি খানিকটা স্বস্তি দিচ্ছে চলমান জীবনে ! কোথাও কোথাও আবার অল্পতেই শুরু হয় জলাবদ্ধতা ! ক্রিকেট জোয়ারে আনন্দে মাতোয়ারা ক্রিকেট প্রেমী।বিদেশী অতিথিদের আগমন কিংবা নানান চুক্তি সব নিয়েই রমরমা রাজনৈতিক পরিবেশ! সন্নিকটে পবিত্র মাহে রমজান।

মুসলিম বিশ্ববাসির জন্য এ এক অনন্য প্রাপ্তি । সহি তরিকায় পূর্ণ সিদ্ধতায় সকল মুসলিম জেনো সিয়াম সাধনা করতে পারে মহান আল্লাহর কাছে কায় মনে এ প্রার্থনা করি। নেপালের ভয়াবহ ভূকম্পনে হতাহতদের প্রতি জানাই আমাদের
সবটুকু সমবেদনা! রোজা শেষে ঈদ, আর ঈদের আনন্দে ঘুচে যাক সকলের সব কষ্ট, যন্ত্রনা ,অপ্রাপ্তি ।

কবিতায় জাগরনে” যারা কবিতা ও বিজ্ঞাপন দিয়ে সহযোগিতা করেছেন তাদের সকলের প্রতি হৃদয়ের অন্তস্হল হতে অশেষ কৃতজ্ঞতা। পথে নেমেছি হাটার জন্য পথ যতই কঠিন হোক আমি হেঁটে যাবো এ আমার দৃঢ় প্রত্যয় ।

“কথা দিবেন কথা রাখার জন্য,ভাঙ্গার জন্য নয়”।
“জয় হোক কবিতার জয় হোক মনোবতার ”

সম্পাদক
সাহিদা রহমান মুন্নী

এই সংখ্যায় যারা লিখেছেন-

bangla kobitar magazine

১. মানসুর মহসিন
২. লিনা রহমান
৩. হারুনর রশিদ
৪. আব্দুল বাকি বাদশা
৫. রফিক আহমেদ খান
৬. কোহিনুর শাকী
৭. সাইদুল আরেফীন
৮. রমজান আল মামুন
৯. ইফতেখার আহমেদ
১০. সৈয়দ মাকসুদ
১১. মীর্জা নূর নবী নুর
১২. মোর্শেদ হাবিব সোহেল
১৩. বিপ্রতীপ অপু
১৪. মোঃ রেজাউল হোসেন রেজা
১৫. আবু ইউছুফ সুমন
১৬. ইলিয়াস বাবর
১৭. সৈয়দ রনো
১৮. রায়হান তানজীম
১৯. মিজান মনির
২০. করুণা আচার্য
২১. আমিনুল ইসলাম মামুন
২২. সৈয়দ আহমেদ আলী আজিজ
২৩. সাক্ষাতকার

স্বাধীনতা
মানসুর মহসিন ( সম্পাদক-ছায়াপথ)

bangla kobitar magazine
Monsur-mohasin

দেশটা আমার দেশটা তোমার
দেশটা সবার তাই না?
রক্তে কেনা স্বাধীনতা
হারাতে আর চাই না।

নিজের চেয়ে দেশটা বড়
এই নীতিতে থাকবো
দেশকে নিয়ে ভাববো সবাই
স্বপ্ন-ছবি আঁকবো।

“কলমের আচঁড়ে”
লীনা রহমান ( চাকুরীজীবী)

bangla kobitar magazine
Kolomer-achore

কলমের আচঁড়ে আজ লেখা হউক বিপ্লবী উপাখ্যান
বিলুপ্ত হউক স্বৈরাচারী সম্রাজ্যবাদী নীল নক্সায়
আকাঁ কালো হাত, মৌলবাদী হামলারা
মীর জাফর পশ্চাতের দালাল, শোষনকারী বর্জূয়া
গুড়িয়ে চৌচির হউক ! হায়নাদের রক্ত চক্ষু
ও সকল উৎপীড়নের নাগ পাশ।

বিপ্লবী চেতনায় গণজাগরণে যারা সাড়া দিয়ে
বইয়ে দিয়েছে লাখ মানুষের রক্তের বন্যা
শিশুদের আর্তনাদ, মায়ের সম্ভ্রমহানী
গণহত্যার গুলি কামান কান্নার রোল ধ্বনিত হয়েছে
আকাশে বাতাসে, কেউ সব হারানোর জ্বালা নিয়ে
বিকলঙ্গ জীবনের ভীড় বয়ে বেড়িয়েছি।

নামে স্বাধীনতার পতাকা উড়েছে,
দালালরা গনতন্ত্রের কবর খুড়েছে
করছে দূর্নীতি, ছোঁয়াছে ব্যাধির ন্যায়
কলমের আচঁড়ে লেখা হউক মুখোশধারী
ভদ্রবেশী শয়তানের মূল উদ্যেক পরোয়ানা
বিপ্লবী বিক্ষুব্দ ক্ষুধাভরা চেতনার জনজাগরণ
গণ আন্দোলনে আজ বিস্ফুরিত জনতা।

অন্যায় অবিচারের গগনচুম্বী পাপত্ত
আজ উত্তেজিত জন সমুদ্রে উত্তপ্ত লাভা
অগ্নেয়গিরি অগ্ন্যুপাত হয়ে নিমিষে
স্কুলিঙ্গের মত পুড়িয়ে দিবে যেন
কালো টাকার পাহাড়।
মৃত্যুর অগ্নি শিখা হয়ে প্রজ্জলিত হবে
সবার বিবেকের অঙ্গিকার দারে
নিপীড়িত মানুষ ভাঙ্গা পাজরে এনেছিল
স্বাধীনতার পতাকা লাখ শহীদের দাফন দিয়ে
নূতম শপথ দিয়েছে তারা শহীদ ভাইয়ের নামে
কন্ঠে বিপ্লবী সংগীত ভাংবে হায়নাদের ভীতি
কলমের আঁচড়ে পোষ্টারে পোষ্টারে

জনতার ঝাপিয়ে পড়া ঝা-ঝালো মিছিলে
অপময় শ্রমজীবি মানুষের ভীড়ে
শ্রেনী বিন্যাসে, কল্যানের বিকাশে
পরিকল্পনা প্রনয়নে, অভিনা আঙ্গীকে
অসম্ভবকে বাস্তবায়নের নিবারন সাধনায়
উজ্জাবিত বাসনায়, পদ দলিত হউক,
শোষক গোষ্টির শোষন ব্যবিচার
নিপীড়ন এবং চিরচারিত কষ্টি নষ্টি।

bangla kobitar magazine

বাংলার গান গাই
মোঃ হারুন অর রশিদ (লেখক,কলামিস্ট,প্রাবন্ধিক)

bangla kobitar magazine
Harunor-Rashid

বাংলার আকাশে উড়ে যায় পাখি
গায় যে কোকিল গান
সবুজ শ্যামলী তরু ছায়া বায়ু
জুড়ায় যে মোদের প্রাণ
আকাশে বাতাসে সোনালী স্বপনে
সাম্যের গান গাই

সুজলা সুফলা শস্যের ক্ষেতে
প্রশান্তির ছোয়া পাই।
আমার দেশের কৃষান কৃষাণী
ক্ষেত খামারে খাটে
সুখের আঙিনায় বিছানা পেতে
নাও ভিরায় যে ঘাটে
বিশ্ব জোরা খ্যাতি নিয়ে
সামনে এগিয়ে যাই
গর্বের সাথে গেয়ে যাই গান
বিজয় নিশান উড়াই
বেদনা ক্লিস্ট জরাজীর্ণ হতবিহ্বল
গর্বিত এই জাতি
ধুয়ে মুছে সব গ্লানির ছোয়া
জ্বালাই সুখের বাতি।

গ্রামেরছবি
আবদুল বাকী বাদশা (চাকুরীজীবী)

bangla kobitar magazine
Gramer-chobi

ধোয়াধূসরনগরআমার
সবুজকোথায়পাই-
স্মৃতিরডানায়ভরটাদিয়ে
নিজেরগ্রামেযাই।

বৈশাখেরইতপ্তদুপুর
দুষ্টুছেলেরছুটোছুটি-
পুকুরজলেঝাপাঝাপি
যাচ্ছেসেথায়মনটাছুটি।

কেউবাআবারকারণছাড়া
হেসেইকুটিকুটি-
ভালবাসার স্পর্শ নিয়ে
করছেলুটোপুটি।

পাখীরবাসাখুজবোকোথায়
নিজেরতো নেই ঠাই
স্মৃতিকাতরউদাসমনে
সেথায়যেতেচাই।

যানজর্টেএইনগরজীবন
বন্দীশুধুথাকি-
স্বচ্ছশ্যামলমায়াবতী
গ্রামেরছবিআকি।

আমার দেশ,আমার গাঁ
রফিক আহমদ খান (চাকুরীজীবী)

bangla kobitar magazine
Rofiq-Ahmed-khan

বিশ্বে যে দেশ সবুজ শ্যামল
সে আমাদের বাংলাদেশ
ষড়ঋতু, যেখানে রূপ
বৈচিত্রের নেই তো শেষ।
এখনো যে, আছে গাঁয়ে
তাল গাছটা দাড়িয়ে
শৈশবের সে মায়া যায় না
এই হৃদয় ছাড়িয়ে।

ছায়া ঘেরা বড় পুকুর
মাছের লাফালাফি
স্কুল ফিরে তপ্ত দুপুর
সাঁতার কাটে রাফি।
খানবাড়ি’টির চারিপাশে
সবুজ ধান ক্ষেতে ভরা
মায়াবী প্রকৃতিটা
স্রষ্টার হাতে গড়া।
দূরে নয় কাছেই দাড়িয়ে
সবুজ পাহাড়
গাছে গাছে ফুলেফলে
রূপের বাহার।

You Read bangla kobitar magazine:

মায়ের কাছে চিঠি
কোহিনুর শাকি

bangla kobitar magazine
Kohinur-Shaki

মাগো তুমি কেমন আছো
জান্তে ইচ্ছে করে
তোমার কথা মনে হলে
অশ্রু শুধু ঝরে।

আদর করে কেউতো মাগো
নেয়না বুকে টেনে
একটুখানি ভুল হলে তা
নেয়না আর মেনে।

মাথার উপর হাতটা রেখে
কেউ করে না দোয়া
ইচ্ছে করে পেতে মাগো
তোমার হাতের ছোঁয়া।

তুমি ছিলে আমার কাছে
হাজার রাজার ধন
এই পৃথিবীর চির দুঃখী
মা হারিয়েছে যে জন।

মুক্তিসেনার ত্রিমাত্রিক যাত্রা এখনো ফুরোয়নি
সাঈদুল আরেফীন (উন্নয়ন সংগঠক )

kobitay jagoron little magazine
Saidul-Arefin

সেতারের তারগুলো ছিঁড়ে গেছে, নুূপূরের নিক্কণ থেমেছে
সুনসান নিরবতায়। দেয়াল গড়িয়ে পড়ছে ঘন লাল রক্তের
ধারা। একুট আগেও যেখানে সুরলহরী বেজে উঠেছিলো
চেনা মানুষগুলো জেগেছিলো। বত্রিশ নম্বর অবরুদ্ধ
ইতিহাসের মহানায়কের তর্জনীতে কেঁপে উঠছে
বাংলাদেশ । কাঁপছে রাজারবাগ পচিশ মার্চ বিভীষিকাময়
রাত্তিরে। পিলখানার জোয়ানরা তথন ও ঘুমায়নি
অতন্দ্র প্রহরীর মতো ধাবমান বিপ্লবী সেনারা,
সংকেত আসছে আর যাচ্ছে। ৭ই মার্চ এর ঐতিহাসিকতার দগদগে
কণ্ঠ সজীব হয়ে বাতাসে মাতম তুলছে ক্ষণে ক্ষণে
মৃত্যু ও জীবন নগরে গ্রাম একাকার করে লাশের
প্রতিধ্বণিতে ছুটছে মানুষ সীমান্তের ওপাড়ে।

এবারের সংগ্রাম,
স্বাধীনতার সংগ্রামের
ডাক আসছে বারবার নতুন স্বপ্ন নিয়ে
আগামীকালের ভূমিষ্ট হতে যাওয়া শিশুর কানে পৌঁছে যাবে
লাল সবুজের গান মায়ের জটরে। এভাবেই ঘুমহীন মানুষেরা
ছুটেছে এখানে ওখানে নদীর তীরে , খড়ের গাদায় লুকানো
বীরাঙ্গনারা নিরন্তর যুদ্ধযাত্রায় খালে বিলে নিরন্ন
মুক্তিসেনার ত্রিমাত্রিক যাত্রা এখনো ফুরোয়নি। আজো
নগরে বন্দরে পেট্রোল বোমাতংকে কাঁপে স্বাধীনতা
কাঁপে কান্নায় ক্ষোভে ক্রোধে নিরব নিথর
সাধারণ জনতার ভীড়ে।

অন্ধকারে
রমজান আলী মামুন (চাকুরী)

bangla kobitar magazine
Romjan-Ali-Mamun

ম্রিয়মাণ দুপুরটা কতো সহজেই হেলে পড়ে
চিলেকোঠায় ছায়া ফেলে স্মৃতিকাতরতায়
ডুবে যায় বড়ো নিঃসঙ্গ একাকি ।

বন্ধুরা ; যে যার গন্তব্যে ফিরে গেছে
ছায়াহীন- কায়াহীন আমিই শুধু রয়ে গেছি
অশীতিপর বৃদ্ধের মতো ।

বিকেলে ধুসর পাঠ চুকে সন্ধ্যে ঘনিয়ে এলো
অদূর কর্ণফুলির খেয়াঘাটে দাঁড়িয়ে
জলতরঙ্গের শব্দ শোনা যায়
নিশীথের কোল ঘেষে হিম কুয়াশার চাদর
ভেদ করে একফালি নি®প্রভ চাঁদ দেখা যায়

চারিদিকে অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে
পলকহীন চোখে লাগে শীতের তীব্রতা
হতাশার মাঝে দাঁড়িয়ে থেকে আশাবাদী
এই আমি
একফোটা আলোর জন্যে উন্মুখ হয়ে থাকি
দীর্ঘ রাত্রি।

“মা”
ইফতেখার আহমেদ (চাকুরী)

kobitay jagoron little magazine
Iftekhar-Ahmed

পৃথিবীতে সবচেয়ে মধুর যে নাম,
সেটি হল “মা”।
যাকে ছাড়া সংসার জীবন,
পূর্ণ কভূ হয়না,

লুকিয়ে আছে যাঁর বুকে,
স্নেহ-মমতা-ভালোবাসা,
তিনিই হলেন সেই মা।

সন্তানের দুঃখ স্পর্শ করে,
সবার আগে যার,
ধরণীতে অমুল্য সেই মা,
তুলনা নেই যে তাঁর।

মায়ের মধুর মিষ্টি হাসি
সবাই আমরা ভালোবাসি।
সে হাসিতে পড়লে চোখ,
মুছে যায় যে সকল দুঃখ।

বাবার পরে মা মোদের,
সাহস দিতো মনে।
ভালবাসায় জড়িয়ে নিতো
প্রতি ক্ষণে ক্ষণে।

জীবনে হয়তো বলিনি কেউ,
মা-তোমায় ভালোবাসি।
তবুও সবাই ভালোবাসি,
মাকে আমরা অনেক বেশী।

bangla kobitar magazine

যুদ্ধ নতুবা বাংলাদেশ
সৈয়দ মাকসুদ (লেখক)

kobitay jagoron little magazine
Soiyad-Maksud

স্বাধীনতা তোমাকে বড় পিশাচ মনে হয়;
যবে দেখি ভুলেনি মা আমার
সে বুটের আওয়াজ,
স্বাধীনতা তোমাকে বড় অসহ্য মনে হয়;
নিভৃতে বিসর্জিত চোখের জলগুলো যবে
হয় বৃষ্টি বিবেকের কার্নিশে,
স্বাধীনতা তোমাকে বড় উদ্বাস্তু মনে হয়;
ভোগ আর শোক তেঁড়েফুঁড়ে যবে
হারায় নিয়ত অধিকার,
স্বাধীনতা তোমাকে বড় নিষ্ঠুর মনে হয়;
আমার বোনের দগদগে ঘায়ে যবে
ঘুনপোকারা কিলবিল কওে,
স্বাধীনতা তোমাকে বড় অপ্রাসঙ্গিক মনে হয়;
যবে দেখি ইতিহাসের ঠুঁটি চেপে ধরে
সেই দালাল-দোসর,

স্বাধীনতা তোমাকে বড় অসূর মনে হয়;
বদর যুগের দানবেরা যবে
মুক্তির মানস সেজে হুংকার দেয়,
স্বাধীনতা তোমাকে বড় অন্ধ আর অসাড় মনে হয়;
বিচারের বাণী যবে
নিরভে নিভৃতে কাঁদে,
স্বাধীনতা তোমাকে বড় বেহায়া মনে হয়;
মুক্তির মসনদে দাঁড়িয়ে
নর্তকীরা যবে ল্যাংটো নাচে,
স্বাধীনতা তোমাকে বড় মরন মনে হয়;
যবে দেখি ধুঁকে ধুঁকে মরছে কেউ
এক সাগর রক্তের প্রহসন নিয়ে,
স্বাধীনতা তোমাকে বড়ই অচেনা মনে হয়;
ভুলে যেতে দেখি যবে
শহীদ মিনার একটি যুদ্ধ নতুবা বাংলাদেশ।

স্বাধীনতা তুমি
মির্জা মুহাম্মদ নূরূন্নবী নূর (শিশু সাহিত্যিক ও ছড়াকার )

bangla kobitar magazine
Mirza-nur-nobi

স্বাধীনতা তুমি আমার
মায়ের কালো কেশ,
স্বাধীনতা তুমি আমার
হীরে মতির দেশ।
স্বাধীনতা তুমি আমার
মা সুমাইয়ার হাসি,
স্বাধীনতা তুমি আমার
শাপলা রাশি রাশি।
স্বাধীনতা তুমি আমার
বোনের কানের দুল,
স্বাধীনতা তুমি আমার
কলমী লতার ফুল।
স্বাধীনতা তুমি আমার
হৃদয় কাড়া গান,
স্বাধীনতা তুমি আমার
লক্ষ শহীদের প্রাণ।

স্বাধীনতা তুমি আমার
সাগর নদীর জল,
স্বাধীনতা তুমি আমার
আম বাগানের ফল।
স্বাধীনতা তুমি আমার
সরষে ফুলের হাসি,
স্বাধীনতা তুমি আমার
শিল্পী সেনার বাঁশি।
স্বাধীনতা তুমি আমার
পুলিশ সেনা দল,
স্বাধীনতা তুমি আমার
শক্তি সাহস বল।
স্বাধীনতা তুমি আমার
বোনের কালো কেশ,
স্বাধীনতা তুমি আমার
সোনার বাংলাদেশ।

bangla kobitar magazine

আমার বাংলাদেশ
মোরশেদ হাবিব সোহেল ( ছাত্র )

kobitay jagoron little magazine
Morshed-Habib-sohel

বহুদিন পরে , বহুদূর ঘুরে ,
এসেছি যেদিন ফিরে
এই পদ্মা মেঘনার বাঁকা তীরে ।
দেখেছি শান্ত স্নিগ্ধ জল ,
সবুজে ছাওয়া মাঠ , উড়ন্ত বলাকার দল ,
কলসী কাঁখে গ্রাম্য মেয়ের
মেঠোপথে চলে যাওয়া ,
দিগন্তের কোল ঘেঁষা লাল সূর্যের
মিষ্টি কোমল রশ্মি ।
দেখেছি শুভ্র কাশফুল ,
মৃদু হাওয়ায় মাথা নুয়ে
আনন্দে আটখানা হয়ে এপাশ ওপাশ দুলতে ,
নীল আকাশের বুকে
সাদা মেঘের খেয়া পারাপার ।
দেখেছি মুগ্ধ হয়ে বেশ
দেখেছি আমার বাংলাদেশ ।

আমার মা’কে
বিপ্রতীপ অপু ( চাজুরি )

bangla kobitar magazine
Biprotip-Opu

আমি নিরন্তর খুঁজে চলেছি একটি ঠিকানা-
যেখানে ছিল কোন এককালে উঠোন ভরা ধান,
পানের পিকে রাঙা গৃহিনীর মুখে ছিল নির্মল হাসি,
মাঠে মাঠে ছিল ঘাসফড়িংয়ের অবাধ ছুটোছুটি।
আমি নিরন্তর খুঁজে চলেছি একটি পথের বাঁক-
যেখানে বৃক্ষমূলে রোদেলা দুপুরে রাখালের বাঁশিতে
ধ্বনিত হতো রাখালিয়া সুর,
ক্লান্ত পথিক ক্ষণিক থমকে জিরোতো ছায়াতলে।
আমি নিরন্তর খুঁজে চলেছি একটি সোনার ছবি-

যার পটভূমিতে ছিল অবারিত সবুজের অবাধ বিচরণ,
অবিরত নদী ধুইয়ে দিতো সে সবুজের আঁচল,
গাছে গাছে ছিল সারাদিনমান পাখিদের মাতামাতি।
আমি নিরন্তর খুঁজে চলেছি একটি মায়ের মুখ-
যে মায়ের ভয়ে দুপুর রোদে লুকিয়ে উড়োতাম ঘুড়ি,
দীঘির জলে শালুক তুলে খেয়েছি কতো বকুনি,
যে মুখে ছিল সব দুঃখ ভোলা শীতল পরশ সুখ।
জানো কি কেউ আমার সে ঠিকানা-
গিয়েছো কি কেউ পথ ভুলে সেই
হারিয়ে যাওয়া বাঁকে,
দেখেছো কি কেউ সে সোনার ছবি-
অথবা আমার মা’কে?

bangla kobitar magazine

আমি যা বুঝি
মোহাম্মদ রেজাউল হোসেন রেজা ( SEO এক্সপার্ট )

bangla kobitar magazine
Mohammad-Rezaul-hossain

বাংলা আমার মাতৃভূমি
বাংলা আমার মা,
বাংলা নামটি হৃদয় হতে
কভু মুছবেনা।

বাংলা আমার সর্ব কাজের
অগ্রিম প্রেরনা,
বাংলা কর ছারখার তবু
বাংলা মেরনা।

ক্লান্ত বুকে যখন আমার
শুন্য লাগে সবই,
বাংলা মায়ের রুপের গুনে
হই শিল্পি-কবি।
বাংলা আমার চিরকাল আমার
আর তো কারো নয়,
এই বাংলার বাগ-বাগানে
মরণ যেন হয়।

বিশ্বের বুকে আমি যা বুঝি
বাংলা হল রানি,
বাংলা আমার চিরকাল আমার
এইটুকু শুধু জানি।

bangla little magazine:

অনন্য মা
আবু ইউছুফ সুমন ( ছাত্র )

bangla kobitar magazine
Abu-yousuf-sumon

ঘুমের ঘরে উচ্চ স্বরে
হঠাৎ শুনি ডাক
চোখটা খুলে ঘাড়টা তুলে
হলাম যে অবাক।
মা রেগেছে ঘুম ভেঙেছে
এখন কেন শুয়ে
বলবো কি আর শুনছি প্রহার
মুখটা এলাম ধুয়ে।
প্রহার ভুলে বইটা খুলে
পড়তে থাকি যখন
আদর করে নামটি ধরে
মা যে ডাকে তখন।

মা যে ডাকে এই আমাকে নাস্তা করার জন্য
মাই শাসায় মাই হাসায়
তাইতো মা অনন্য।
ফুলের মত স্নেহ যত
মায়াময়ী মার
মা ছাড়া যে এই জীবনে
বড়ই অন্ধকার।
মা যে ফুলে আমার ভুলে
আমার ভালো চেয়ে
খুশি আমি এমন দামি
মায়ের ছায়া পেয়ে।

বিশ্বাসের পুজা
ইলিয়াস বাবর ( সম্পাদক )

bangla kobitar magazine
Elius-Babor-poem

প্রতারণার সমুদ্রে বিশ্বাস জমা রেখেছি বলে
ছুঁতে চাইনা কুরান-গীতা
অসময়ে মাতৃত্ব নেয়া এ বালিকার
আর কিইবা করার ছিল!

বালিকারা এখন ভুলে গেছে মাতৃমুখ-
বিবিধ পার্শ প্রতিক্রিয়ার জোরালো তাগিদ
ঘর ছাড়তে বাধ্য করে কালোরাত।

ও তো না বোঝা মেয়ে; এখন হৃদয়দীর্ণ
কোলাহলে রচিত হয়- ইতিহাস
আর বিশ্জাশ্বাসেরা সারে হন্তারকের!

bangla kobitar magazine

দেশটা পুড়ে ছাই
সৈয়দ রনো ( লেখক,কলামিস্ট,গীতিকার )

Deshta pure chai by saiyad rono
Saiyad rono

রাজায় প্রজায় ঝগড়া চলে
সুযোগ পেলেই কানটা মলে
বাঁচার উপায় নাই
রাস্তাঘাটে জ্বলছে আগুন
অঙ্গ জ্বালায় মরার ফাগুন
মানুষ পুড়ে ছাই।

বার্ন ইউনিটে বিবেক দহন
বিচার বিহীন মরছে অহন
কোথায় মাগো যাই
বোমার ভয়ে বুকটা কাঁপে
পুলিশ আমায় রাখছে চাপে
একটু শান্তি চাই।

সমঝোতার রাস্তা খোঁজ
আম জনতার মনটা বুঝ
উপোষ আছি ভাই
বকবকানি নিত্য শুনি
মরার জন্য প্রহর গুনি
দেশটা পুড়ে ছাই।

মানুষ নিয়ে মানুষ খেলে
মিথ্যে কথার বেলনা বেলে
দেশটা পুড়ে ছাই
জোর জুলুমে কাজ হবে না
মিথ্যে বলে পার পাবে না
সমঝোতা চাই।

স্বাধীনতা
রায়হান তানজীম (ছবি পাওয়া যায়নি)

চারপাশের লতাপাতা গুলো
কেমন নুইয়ে গেছে,
উঠানের ধারের আমগাছটাও
কেমন শুকিয়ে গেছে।

চারিধারের বাতাস কেমন
যেন ভারী হয়ে আসছে,
এ যেন কোন রাক্ষসের
আবাস ভূমি মনে হচ্ছে,
পচা মাংসের গন্ধে চারপাশে
কেমন মাছি উড়ছে।

আমি একাত্তরের কথা বলছি।
আমি একাত্তর দেখিনি,
আমি কেবল শুনেছি
আমি দেখতেও চাইনা,
শুধু সঠিক বর্ণনা টা জানতে চায়।

আজ একাত্তর এর মানুষ গুলো
যেন দুদলে বিভক্ত হয়ে গেছে,
তারা নিজের মত করে একাত্তরের গল্প বলে।

আমি এ যুগের নবীন ছেলে
আমি শুধু জানতে চাই,
স্বাধীনতার সঠিক বর্ণনা টা
কেউ কি বলবে তা………?

মা আমার নয়নের মণি
মিজান মনির (ছাত্র )

bangla kobitar magazine
Mijan-monir

মা যে আমার নয়ন মণি
মা যে আমার সুখের খনি
মা যে আমার জীবন প্রদীপ
জ্বাললো আমার ভূবনে।

মা যে আমার হাসি কান্না
মা যে আমার হীরে পান্না
মায়ের সাথে মায়ার বাঁধন
ছিঁড়বে না এই জীবনে।

মায়ের স্নেহের শীতল পাটি
সোনার চেয়েও অনেক খাঁটি
মা যে আমার আঁধার রাতে
আলোয় ভরা চাঁদ।

মা যে আমার পারের তরী
সৃষ্টি সুখে তাঁকেই স্মরি
জীবন স্রোতে মায়ের দোয়ায়
নেই তো কোন খাদ।

bangla kobitar magazine

মায়ের চুমু
করুণা আচার্য (লেখিকা )

bangla kobitar magazine
Karuna-Acherjee

জন্মের পর প্রথম চুমু
মা রাখলো মুখে
আদর সোহাগ ভালোবাসায়
ঠাই দিলো মা বুকে।

সেদিন থেকে মায়ের কোলে
আছি আমি ঝুলে
মা ডাকটা এক নিমিষেও
যাইনি আমি ভুলে।

মায়ের আঁচল মাথায় নিয়ে
স্বপ্ন জাগায় রাখি
মায়ের হাজার স্মৃতি ছবি
বুকের মাঝেই আঁকি।

মায়ের চরণ ছুয়ে আমি
কাটিয়ে দেব জীবন
মায়ের আশীষ সংগে নিয়ে
ঘুরবো বিশ্ব ভুবণ।

মা কখনো চাই না আমি
যাই হারিয়ে দূরে
তাইতো স্নেহ পেতে মায়ের
আসি ঘুরে ঘুরে।

মধুর সুরে ডাকে যখন
লক্ষ চুমু দিতে
খেই হারিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ি
মায়ের চুমু নিতে।

আমার মা
আমিনুল ইসলাম মামুন ( সম্পাদক তুষারধারা )

bangla kobitar magazine
Aminul-Islam-Mamun

আমার মায়ের হাসির কাছে
ফুলের হাসি তুচ্ছ
মনের মাঝে তাঁর আসনই
সবার চেয়ে উচ্চ।

তাঁরই আঁচল ছেড়ে আমি
কেথাও কখন গেলে
পথটা আমার চেয়ে তিনি
থাকেন দু’চোখ মেলে।

ফিরলে ঘরে মা যে আমার
স্বস্তি খুঁজে পায়
কপালেরই ঘামটি মুছি
মায়ের আঁচলটায়।

তখন মায়ের ঠোঁটের কোণে
মিষ্টি হাসি ফোটে
আমার মায়ের মত মা আর
কার কপালে জোটে?

বোধিবৃক্ষ
সৈয়দ আহমেদ আলী আজিজ

bangla kobitar magazine
Ahmed-ali aziz

দূর নীহারিকার মত তাকিয়ে আছে জাতি
কখন প্রজ্জ্বলিত হবে গণতন্ত্রের বাতি
সম্ভাবনার আকাশ কৃষ্ণ মেঘে ঢাকা
ঘর্ঘর শব্দে ঘুরচে গাড়ীর নষ্ট চাকা
সকলেই এপিঠ ওপিঠ, যেই সেই
বোধিবৃক্ষের নীচে কেউ নেই
কেউ ভাবছে না, সময়ের অনুমতি
জ্ঞানচক্ষু সেতো প্রায় অন্ধ অরুন্ধতি
দাবার রাজারাও ভালবন্দ বোঝে
ওরা শুধু আপণ সুবিধাটাই খোঁজে।

MD Maksudur Rahman Adnan Interview
MD-Maksudur-Rahman-Adnan

একান্ত সাক্ষাৎকারঃ মোঃ মাকসুদুর রহমান আদনান (অবঃ মেজর)

bangla kobitar magazine
tobuo dekhte hobe sopno

তবুও দেখতে হবে স্বপ্ন বই আলোচনাঃপড়তে ক্লিক করুন

bangla kobitar magazine

You Might Also Like

No Comments

Please Let us know What you think!?

Translate »
%d bloggers like this: