bangla kobita

সম্পাদকীয়

পৃথিবীর বুকে একমাত্র আমরা বাংলাদেশীরা নিজ মুখের ভাষার জন্য রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম করেছি এবং অর্জন করেছি ভাষার স্বাধীনতা! আজ জাতিসংঘ আমাদের এই মুখের ভাষাকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে যা ভাবতেই গর্বিত হই বাঙালি হিসেবে। আমরা আমাদের এ গৌরবকে বিশ্ব বুকে আরোও সুউচ্চ অবস্থানে নিয়ে যাবো আর এ লক্ষেই পৃথিবীর সকল বাংলাভাষীকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একাগ্র হয়ে এগিয়ে যেতে হবে ডিজিটাল বাংলার সুদক্ষ কারিগর হয়ে শুধু ভাষার মাস এলেই নয় বারোমাস অটুট থাকুক এ দৃঢ়তা । পথের হোঁচটের ভয়ে পথ না ছেড়ে কণ্টকাকীর্ণ পথেই নিজ দিশা ঠিক করতে হবে। কথা রাখতে পারলে কথা দিবেন, ভাঙ্গার জন্য নয়! পৃথিবীর সকল বাঙালিকে গৌরবময় বর্ণমালার গৌরবী সালাম!

লেখা ও বিজ্ঞাপন দিয়ে যারা আমাদের এই পথ চলাকে মসৃণ করেছেন তাদের
কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই সবটুকু শ্রদ্ধায়।

সাহিদা রহমান মুন্নী
সম্পাদক
কবিতায় জাগরণ

যারা লিখেছেন এই সংখ্যায়ঃ

১.আল মাহমুদ-
২.আবুবকর মুহাম্মদ সালেহ-
৩.আমিনুল ইসলাম মামুন-
৪.আবিদ মাহমুদ-
৫.ইয়ামিন চৌধুরী ইমন-
৬.এম আলমগীর হোসাইন শাহীন-
৭.ওয়াহিদ আল হাসান-
৮.জাকারিয়া আজাদ-
৯.নির্মলেন্দু পোদ্দার-
১০.নাছিব মাহদী-
১১.মাসুমা আলম-
১২.মোঃ মহসীন মিঞা-
১৩.মাহমুদুল হাসান নিজামী-
১৪.মাহীরাজ মোহাম্মদ-
১৫.মানসুর মুজাম্মিল-
১৬.রেজাউদ্দিন স্টালিন-
১৭.রিলু রিয়াজ-
১৮.লিয়াকত বখতিয়ার-
১৯.সাকিব জামান-
২০.সাহিদা রহমান মুন্নী-
২১.শক্তি প্রসাদ ঘোষ-
২২.হাই হাফিজ এবং হামিদ সরকার-
২৩.বিদেশি কবিতা:কবি পাবলো নেরুদা। অনুবাদ: সৈয়দ মাজহারুল পারভেজ,
২৪.সাক্ষাৎকারঃ বীর মুক্তিযোদ্ধা আ.খ.ম মাহফুজুর রহমান। কবি, গবেষক ও কথাসাহিত্যিক

এই সংখ্যার ই-বুক পড়ুন

download button free kobitay jagoron

bangla kobita

একুশের কবিতা
আল মাহমুদ

ফেব্রুয়ারির একুশ তারিখ।
দুপুর বেলার অক্ত
বৃষ্টি নামে, বৃষ্টি কোথায়?
বরকতের রক্ত।

হাজার যুগের সূর্যতাপে
জ্বলবে এমন লাল যে,
সেই লোহিতেই লাল হয়েছে।
কৃষ্ণচূড়ার ডাল যে!

প্রভাতফেরীর মিছিল যাবে
ছড়াও ফুলের বন্যা
বিষাদগীতি গাইছে পথে।
তিতুমীরের কন্যা।

চিনতে না কি সোনার ছেলে
ক্ষুদিরামকে চিনতে?
রুদ্ধশ্বাসে প্রাণ দিলো যে
মুক্ত বাতাস কিনতে?

পাহাড়তলীর মরণ চূড়ায়
ঝাঁপ দিল যে অগ্নি,
ফেব্রুয়ারির শোকের বসন।
পরলো তারই ভগ্নী।

প্রভাতফেরী, প্রভাতফেরী
আমায় নেবে সঙ্গে,
বাংলা আমার বচন,
আমি জন্মেছি এই বঙ্গে।

book baner shahida rahman munney

শহীদের রক্ত
আবুবকর মুহাম্মদ সালেহ

রূপ হারালো গুণ হারালো; হারালো সুর ছন্দ যে
কেউ রাখে না কোনো খবর মায়ের কপাল মন্দ যে ।
নেই দ্যোতনা আগের মতো এখন আছে খোলটা তার
কখন যেন পালটে গেছে আদি রূপের ভোলটা তার।

গুমরে মরে বুকের ব্যথা অশ্রু ঝরে চোখ বেয়ে
প্রভাতফেরীর সংগে কাঁদি তাইতো শোকের গান গেয়ে।
বুকের জ্বালা জমিয়ে রেখে নতুন করে হাসতে ফের
করুণ সুরে ডাকছে ভাষা আবার ভালোবাসতে ফের।

আর হাসে না রবির আলো মলিন যেন সলতে তাই
শহীদেরা রক্ত দিলো প্রতিরোধে জ্বলতে তাই।
সেই শহীদের রক্ত ডাকে আবার আলো হাসুক আজ
নতুন দিনের সিঁড়ি বেয়ে স্বপ্নগুলো আসুক আজ।

সব পাখিরই ডানায় লেখা
আমিনুল ইসলাম মামুন

bangla kobita
Aminul-Islam-Mamun

সব পাখিরই ডানায় লেখা
আমার বর্ণমালা
সে বর্ণতে ভরা আমার
মায়ের হাতের বালা।।

সে বর্ণটা মিশে আছে।
পাখির গানের সুরে
সেই সুরেলা কণ্ঠ পাবে
চিন ও অচিনপুরে।

যখন যেথায় যাবে তুমি
শুনবে পাখির গান।
মায়ের বালায় পাখির গানে
বাংলা ভাষার মান।

ভাষার মাস ফাগুন
আবিদ মাহমুদ

ফাগুন মানে প্রভাতফেরীর
অগ্নিঝরা ক্ষণ।
ফাগুন মানে শহীদদের ঐ
আত্মত্যাগী মন।

ফাগুন মানে ফুলে ফুলে
রক্ত মাখা অর্ঘ্য
ফাগুন মানে মায়ের মুখে।
মাতৃভাষায় স্বর্গ।

ফাগুন মানে মুক্ত পাখির
মুক্ত সুরের গান
ফাগুন মানে বীর বাঙালি
চেতনা অম্লান।

ফাগুন মানে এক ইতিহাস।
পাতায় লেখা স্বর্ণ
ফাগুন মানে অ আ ক খ।
বাংলা ভাষার বর্ণ।

ফাগুন মানে জাগুন সবে।
আগুন জ্বেলে বুকে।
নে স্বদেশ বাঁচান।

bangla kobita

একুশের ভাবনা
ইয়ামিন চৌধুরী ইমন।

একুশ আমার মায়ের ভাষা মনের অহংকার,
একুশ মানে কঠিন শপথ দৃপ্ত চেতনার ।
একুশ মানে ডালে ডালে পলাশ শিমুল ফোটা,
একুশ এলেই দলে দলে শহীদ মিনার ছোটা।

বছর ঘুরে ফিরে আসে প্রাণের ফেব্রুয়ারি,
এখন তো আর যায় না শোনা ব্যথার আহাজারি।
বেতার টিভি চ্যানেলগুলোয় হাজার অনুষ্ঠান,
কণ্ঠ ছেড়ে গাইতে হবে বাংলা ভাষায় গান।।

এমনি করে ফিরে আসে একুশ বারংবার,
কোথায় থাকে কঠিন শপথ দৃপ্ত চেতনার।
একুশ এলে শহীদ মিনার সাজে ফুলে ফুলে,
তারপরে ঠিক আগের মতো সবই তো যাই ভুলে।

একুশ মানে মুক্তির অহংকার
এম আলমগীর হোসাইন শাহীন

একুশ মানে মুক্ত স্বাধীন
চেতনায় বেঁচে থাকার।
একুশ মানে ভাইয়ের রক্তে
বুলেটের নির্মম প্রহার ।

একুশ মানে মায়ের ভাষায়
কথা বলার দ্বীপ্ত অঙ্গীকার।
একুশ মানে রক্তে ভেজার
সিক্ত ভূমির করুণ হাহাকার।

একুশ মানে ছেলে হারানো
মায়ের বিলাপ করা কান্নার।
একুশ মানে স্মৃতিপটের।
সে দিন প্রিয় বোন, সখিনার।

একুশ মানে ভাষা আন্দোলন।
শহীদ শফিউর, বরকত, জব্বার।।
একুশ মানে রক্ত কেনা বাংলার
একুশ মানে মুক্তির অহংকার।

রক্ত দিয়ে কেনা
ওয়াহিদ আল হাসান

শিমুল ফুলের রঙ ধরেছে
সালাম ভাইয়ের চামে।
অঝর ধারায় রঙ ঝরেছে।
রক্ত হয়ে ঘামে।

রফিক, জব্বার, বরকতেরা
ঘঁক দিয়েছে সজোরে
সবুজ চাদর লাল হয়েছে।
ঝরে লহু অঝরে।

কৃষ্ণচূড়ার ডাল ভেঙেছে।
লেগে ভাষার ঝড়ে
জীবন দিয়ে ভাষা সৈনিক।
তুলবে মিনার গড়ে।

রক্ত দিয়ে কেনা আমার
মায়ের ভাষা বাংলা
ভাষা অমর রাখতে লড়ি
ধনী-গরিব-কামলা।

একুশ হলো
জাকারিয়া আজাদ

bangla kobita
ZAKARIA-AZAD

একুশ হলো সবুজ দেশের লাল পতাকা
হাজার ভাইয়ের রক্ত দিয়ে স্মৃতি আঁকা
বিলিয়ে সব মায়ের সুখ
আপন করে সকল দুখ ।

একুশ হলো মহাসুখে বেঁচে থাকার।
স্বপ্ন আশা।
সাহস নিয়ে সামনে চলার দৃঢ় প্রত্যয়
ভালোবাসা।

একুশের প্রথম সকাল
নির্মলেন্দু পোদ্দার

bangla kobita
Nirmolendu-Poddar

পলাশ ফোঁটা একান্ত ইতিহাসে
একুশের প্রথম সকাল
দৃঢ় সংকল্পে আগামীর পথে
একে যাবে দীপ্ত পদচিহ্ন…

পবিত্র ঝর্ণা ধারা রক্ত গঙ্গায়
মিশে একাকার
ঋণের বোঝা কাঁধে আত্মজা
একবিংশ শতাব্দীতে…

ইতিহাস বদলে যায় পাতার ফাঁকে
বেহিসেবী সময়ের খাতায়
রাতের আঁধার ঘরে
নিঘুম ছাপাখানা গুমড়ে কাঁদে
আত্মজা ইতিহাস হয়
অনড় বিশ্বাসে, কাটে না বিস্ময়..

বৈদেশি ডিশ খসা
নাছিব মাহদী

মায়ের প্রিয় বাংলা আমার
উর্দু হতে দেইনি
রক্তে কেনা অমর একুশ
সস্তা দামে নেইনি।

আজকে দেশের মর্ডানিরা
চেঁচায় যখন বাং-লিশে।
বাংলা ভাষার দশা দেখে
তমদুনও যায় মিশে।

ছােট্ট শিশুর কথাও যখন
হিন্দি মিশে বা+ন্দি
প্রশ্ন জাগে, ডিশ ব্যপারীর
ঠিক কিভাবে চান্দি?

বাংলা শেখার অজস্র বই
সাজাও যতই তাকে
লাভ হবে না শিশু-ই যদি
হিন্দী ডিশে থাকে।

বাংলা মায়ের বাংলা এখন
হারাই হারাই দশা।
ঘরের বুলি রায় এবার
বৈদেশি ডিশ খসা।

মাতৃভাষা
মাসুমা আলম

জন্ম নিয়ে মাটির বুকে
কান্নাটাকে আঁকড়ে ধরি।
কান্না আমার ধ্বনির উপর
মায়ের ভাষা ফেব্রুয়ারি।

কান্না দিয়ে শুরু আমার
কষ্টের কথা বলে দেওয়া।
অ, আ দিয়ে ধ্বনির সাথে
মায়ের ভাষার শুরু হওয়া।

মায়ের ভাষার কথার ঝুড়ি
আনল বয়ে ফেব্রুয়ারি।
ভাষা শহীদের ত্যাগের কথা
প্রাণ ভরে স্মরণ করি।

bangla kobita

৮ই ফাল্গুন
মো: মহসীন মিয়া

ফি বছর ঘুরে আসে ফাগুন
জ্বলে হৃদে দাউ দাউ আগুন
আমার মুখের ভাষা নিতে চেয়েছিল কেঁড়ে
এসেছিল অস্ত্র-সম্ভার নিয়ে তেড়ে।

সালাম, বরকত, জব্বার দিল প্রাণ
রাখলো যারা মায়ের ভাষায় মান
তাদের স্মৃতি উঁকি দেয় সরোবর।

পাখির মতো সেখানো কথা
মাতৃভাষা বিনে জীবন, সবই বৃথা
উর্দু সেততা পরের কথা; ভিনদেশি ভাষা
ত্যাগি মায়ের বুলি মিটে কি তৃষা?

বাংলা আজি ভাষা বিশ্ব দরবারের।
স্বার্থক বাংলা মা; স্বার্থক এ জন্মের।

বাঁচাও আমার বর্ণমালা
মাহমুদুল হাসান নিজামী

যেই ভাষাতে ইচ্ছেগুলো
পূর্ণ করি মানের আশা
সেইতো আমার তোমার প্রিয়
মাতৃভাষা বাংলা ভাষা
বুঝিনাতো একুশ বাইশ
ভ্ৰামার ভাষা বাংলা
শিশুর মুখে হিন্দিচন
অন্য ভাষার হামলা
বাঁচাও আমার বর্ণমালা
বচাও আমার স্বদেশ
শোষণ করে উদীচিরা
প্রতীচিতে বিদ্বেষ?

Shahida Rahman Munney books
Shahida-Rahman-Munney-books

একুশের ফুলগুলো
মাহীরাজ মোহাম্মদ

ফেব্রুয়ারির অমর একুশ
আঁকি মনের তুলিতে
ফুলগুলো সব ঝরে গেল
পাক পুলিশের গুলিতে।

দেখছো কি কেউ এমন নজির
আকাশ পাতাল ঘুরিয়া?
আজো সে ফুল সুবাস ছড়ায়।
বিশ্বকানন জুড়িয়া।

ফেব্রুয়ারির সে ফুলগুলোই
প্রেরণার মূল নয় কি?
অন্ধকারে যে ফুলগুলো
ছড়ায় আলোর ফুলকি!
আপন করে বলতে কথা
ধরতে গানের সুরকে
সূর্যটাকে লাল করিয়া
আনল আগুন ভোৱকে ।

যাদের কাছে হার মেনেছে
হিমালয়ের শিৱ
তারাই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান
কালের মহাবীর।

bangla kobita

একটি ভাষা
মানসুর মুজাম্মিল

একটি ভাষা ভাষার মানিক
একটি ভাষাই লক্ষ্য
এক ভাষাতেই লড়াই হলো।
যেই ভাষাটিই দক্ষ।

একটি ভাষা জোয়ান জোয়ান
একটি ভাষা শক্ত।
এই ভাষাতেই উঠলো নেড়ে
স্বৈরাচারের তক্ত।

একটি ভাষা ভাষার তালুক
শান বাঁধানো ঘাট
একটি ভাষা জন্ম দিলো।
অনেক ভাষার হাট।

আমরা সবাই বসত করি
এই ভাষাটার সঙ্গে
এই ভাষাতে বলছি কথা
লিখছি নানা ঢঙে।

কবি ও সম্রাট
রেজাউদ্দিন স্টালিন।

bangla kobita
Rezauddin-Stalin

হতাশাগ্রস্থ সম্রাটকে শ্লোক শোনাতে।
সমবেত হলেন দেশের প্রখ্যাত কবিগণ
স্বর্ণবোতাম খচিত কেতাদুরস্ত কণ্ঠস্বর-
জাহাপনা আমি রচনা করেছি আপনার
পূর্বপুরুষের শৌর্যবীর্য গৌরবগাথা
আপনি ফিরে পাবেন হৃত মনোবল
আর দৃঢ়চিত্তে শাসন করবেন ভারতবর্ষ
বিপুল করতালি ও হর্ষধ্বনিতে ফেটে পড়লো রাজদরবার
সহস্র স্বর্ণ মুদ্রা প্রাপ্য হলো তার

এগিয়ে এলেন মখমলের টুপি আর
জরিদার পাঞ্জাবি শোভিত বাবরি দোলানো কবি
হে মহাত্মন পুঁজনীয় ভারতেশ্বর
আমি লিখেছি আশ্চর্য সব চরণ।
প্রতি পাঠে অনুভব করবেন আক্রোশ
হতাশাকে হত্যা করে জাগিয়ে তুলবে জিঘাংসা
করতালিতে কেঁপে উঠলো দরবার কক্ষ
দুই সহস্র স্বর্ণমুদ্রা এনাম মিললো তাঁর।

সিল্কের শেরোয়ানী আর মূল্যবান পাথর পরানো টুপি
চোখে সুরমা পায়ে হরিণচর্মের নাগরাই হাতে ঘণ্টি
হেলে দুলে এলেন কবি-
আলমপনা হে সূর্যাধিপতি।
আমি আপনার জন্যে পংক্তিবদ্ধ করেছি
এমন আশ্চর্য পদ যা আপনার যুদ্ধযাত্রার
দামামাকে করে তুলবে ক্লান্তিহীন ও উদ্দীপ্ত

আর আপনি থাকবেন আজীবন অপরাজিত
মুহুর্মুহু করতালি আর কানফাটা উল্লাসধ্বনি
তিন সহস্র স্বর্ণমুদ্রায় ডুবে গেলো কবির করতল

সবশেষে এলেন ধীর পায়ে বিনম্ন বসন সাদা পাগড়ি শোভিত
শুশ্রমণ্ডিত এক আয়াত চোখের কবি-
মহামান্য সম্রাট আমি রাতের পর রাত বিনিদ্র থেকেছি।
কিন্তু আপনার তুষ্টির জন্য কোনো শ্লোক রচনা করতে পারিনি।
বারবার ব্যর্থ হয়েছি আমি-ক্ষমা করবেন জাঁহাপনা
ভয়ঙ্কর নিরবতায় ভরে গেলো সভাকক্ষ
সম্রাট বাহাদুরও বাকরুদ্ধ হতবিহবল
বহুকাল পর লোকে জেনেছিলো
কবির নাম মীর্জা গালিব।

একুশ আসে বলেই
রিলু রিয়াজ

bangla kobita
Rilu-Riaz

বসন্ত বাতাস ফাগুন আসে
সঙ্গে তার বিষাদের ছায়া।
অনাগত জীবনের অভিশাপ মুছে
বায়ান্ন আসে আসে একুশ
শিরায় শিরায় অদ্ভুত শিহরণে
অবিনশ্বর সত্যের পদচারণা
যৌবনের কালবৈশাখী ধুলিঝড়ে
যে ভাই আমার হাৱালো প্রাণ
হারানোর ব্যথায় ব্যখিত আমি
অশ্রু ধারায় তাই চোখ টলমল।
ভালো লাগে আমার তবু ভালো লাগে
এই ভাঙ্গনের কোলাহল।

একুশ আসে বলেই পাতা ঝড়ে ফুল ফোটে
আবার পাতায় পাতায় ভরে যায় ডাল
একুশ আসে বলেই দুঃখ সুখের গাভাগি চিরকাল
একুশ আসে বলেই দেহে উত্তাপ আসে
স্বপ্নের অনুভূতিগুলো সবুজে পাখা মেলে
ছেলেটি এখনো বাবা বলে ডাকে।

চেতনার ভ্রণ
লিয়াকত বখতিয়ার

হাজার বছর কেটে গেল তবু চেতনাকে স্পর্শ
করতে পারিনি
হায়, নির্বোধ আমি
এই পিঙ্গল হাত, পা, মাথা, মগজ যদি
সভ্যতার নিপুণ মেশিনে
গুড়ো করে সমগ্র পৃথিবী
ছড়ানো যেত, রক্ত তরঙ্গে
পাহাড় ভেঙে দুরে-বহুদুৱে এগুনো যেত
বোধের আকাশ যদি রঙ তুলি দিয়ে
ইচ্ছে মতো সাজানো যেত তবে
হাতে-হাত, বুকে বুক রাখা হতো আমার
সংসারে যে ক’জন
দিগন্তে যে ক’জন
রক্ত দিতে দিতে সবুজ হলো
তাদের সাথে তুলনা কিসের?

এ রক্ত পদ্মা-মেঘনা বয়ে যায়
এ রক্ত শহর নগর বয়ে যায়
রফিক, জব্বার, সালাম, বরকত যেখানে
নিরন্তর শিকড় খোঁজে সেখানে
এই অথর্ব আমি মুঢ় অঙ্গীকার
অর্ধ শতাব্দী পরে অবিরাম ভাঙি
প্রিয় বর্ণমালা;
অঘোর অন্ধকারে অস্তিত্ব
বিসর্জন দিতে দিতে

নতুন মিলিনিয়ামে
পথ হারাই, এখানে
আমি আমার মাকে ভুলে যাই
ভাষা ভুলে যাই
দেশকে ভুলে যাই
অথচ অ-আ-ক-খ আমার মুক্তি
আমার চেতনা, আমার স্বাধীনতা
এই বিস্তৃর্ণ মাঠের রক্তনদী
টিয়ার গ্যাসের গন্ধ
বুটের আঘাত, ধবংস স্তুপ
বর্বরহানা, আমার হৃদয়ে
নির্মাণ হোক চেতনার ভ্রণ।

bangla kobita

ফাগুন এলে
সাকিব জামান

Shakib-Jaman

ছড়ার টানে স্বপ্ন ফোটে
সালাম তাহার উষ্ণতা,
পূর্ব দিকে সূর্য ওঠে
বাংলা ভাষার পুষ্পতা।

ফাগুন এলে ব্যস্ত রফিক
বাংলা নিয়ে আলপনা,
ছুটছে বুঝি বরকতে দিক
বাংলা পরিকল্পনা।

ফাগুন এলে রক্ত ঝরে
কৃষ্ণচূড়ার ডালী থেকে,
ছোট্ট সোনা অ-আ পড়ে
রক্ত জবার রঙ মেখে।

এসেছে ফেব্রুয়ারি
সাহিদা রহমান মুন্নী

bangla kobita
Shahida-Rahman-Munney

একুশ এলে একুশ নিয়ে,
হাজার কথা রোজ-
একুশ গেলে একুশ ভুলে,
কেউ রাখে না খোঁজ !

পেলাম ভাষা কত্তো আশা,
স্বাধীন হলো দেশ-
আজকে তবু উচিৎ কথায়,
প্রাণ হতে হয় শেষ !

পাচ্ছে যতো চাচ্ছে ততো,
চাওয়ার শেষতো হয় না
আনলো যারা মুক্ত নিশান,
তাদের কথা কয় না!

হাসির ভিড়ে কান্না হারায়,
এলেই ফেব্রুয়ারি
ভাইটি আমার ফেরেনি আর,
হৃদয় আহাজারি
এসেছে ফেব্রুয়ারি!!

মায়ের ভাষা
শক্তি প্রসাদ ঘোষ

bangla kobita
SAKTI-PRASAD-GHOSH

রাতের অন্ধকার মুক্তো ঝরানো
রূপকথা
অষ্টপ্রহর হরিনাম, ভক্তিমতী
ভাটিয়ালী, একতারা, আগমনী গান
সন্ধ্যায় পাঁচালী পাঠ
ঠাকুমার গলায় স্নেহ
আয় বাবা
হলুদ চিঠি লেখা
মায়ের ভাষা।

bangla kobita

আবার এসো একুশ
হাই হাফিজ

একুশ তুমি আবার এলে ফিরে –
ভাঙা ঘরে বসবে কোথায় ?
নাই মোড়া নাই পিঁড়ে।

বাংলা ভাষার মাদুর পেতে বসো
সুখ দুঃখের গল্প করি।
একটু কাছে এসো।

একুশ তুমি ফিরে এলে আবার ?
দু’দিন ধরে অনাহারি
কি দেই বল খাবার !

ঘরে আমার নেই যে কিছুই আজ ?
মুখে শুধু বাংলা ভাষা
বর্ণমালার সাজ।

তবে কি আজ খিদে নিয়েই এলে ?
বাংলা কথার মুড়কি ভাজি
যেও না তা ফেলে।

সালামকে তো পেলাম না ফিরে –
তাই তো আমি আজো কাঁদি
একাই ভাঙ্গা নীড়ে।

বছর বছর তোমার আগমনে
স্বাধীনতার প্রবল তুফান
দেয় নাড়া দেয় প্রাণে।।

একুশ তুমি আবার এসো, কেমন
ফুলে ফুলে করব বরণ
আজকে নিলাম যেমন।

Bangla magazine

একুশ মানে বাংলাদেশ
হামিদ সরকার

একুশ আমার মায়ের ভাষা
প্রাণের সেরা গান,
সালাম, রফিক জীবন দিয়ে।
রাখালো ভাষার মান।

একুশ তুমি বাংলাতে নয়
বিশ্বজোড়া নাম,
অর্ধশত বছর পরে
পেলাম তোমার দাম।

একুশ শুধু ভাষারই নয়।
স্বাধীনতার নাম,
সেই চেতনায় ‘৭১ এ
মুক্তির সংগ্রাম।

বায়ান্নতে যুদ্ধ শুরু
একাত্তরে শেষ,
লক্ষ মানুষ জীবন দিলো
পেলাম বাংলাদেশ ।

দীর্ঘ রোদেপোড়া তামাটে মেয়ে
গণমানুষের কবি পাবলো নেরুদ অনুবাদ: সৈয়দ মাজহারুল পারভেজ

চাকরিতে ইস্তফা দেন। লোরকা খুন বদলেনে অবস্থানকালে তাঁর গণমানুষের কবি হিসেবে পরিচিত পাবলো নেরুদার জন্ম ১৯০৪ সালে চিলির এক সাধারণ পরিবারে। ১৯২০ সালে তার প্রথম কবিতার বই প্রকাশিত হয়।১৯২৭ সালে পড়াশোনা শেষ করে নেরুদা যােগ দেন চিলির ফরেন সার্ভিসে। ১৯৩৮ সালে সর্বকালের সেরা কবিদের অন্যতম স্পেনে গর্সিয়া লোরকা খুন। হওয়ায় প্রতিবাদ করে ফরেন সার্ভিসের চাকরিতে ইস্তফা দেন নেরুদা। ১৯৪৩ সালে স্পেনে অবস্থানকালে তাঁর কবিতার ধরণ পাল্টে যায়। প্রেমের কবিতার বদলে লিখতে থাকেন দ্রোহের কবিতা। হয়ে যান দ্রোহের কবি, গণমানুষের কবি। ১৯৪৫ সালে কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন। ১৯৫৫ সালে ৫১ বছর বয়সে বিয়ে করেন মতিলদে উরুতিয়াকে। ১৯৭০ সালে কমিউনিস্ট পার্টি চিলির প্রেসিডেন্ট হিসেবে পাবলো নেরুদার নাম প্রস্তাব করলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। ১৯৭১ সালে নেরুদা সাহিত্যে নোবেল পান। এর দু’বছর পর ১৯৭৩ সালে দুরারোগ্য ক্যান্সারে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। নেরুদার কবিতা পৃথিবীর প্রায় সব দেশে সব ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

নিচে কবির একটি কবিতা তুলে ধরা হলো:

রোদে পড়া দীর্ঘ তামাটে মেয়ে, সূর্য যেভাবে
যে রকমভাবে ফল গড়ে বীজ পাকিয়ে
সমুদ্রকে করে তোলে ফেনিল,
আমার টনটনে রাধার চোখ
তোমার দেহবল্লরী ভরে দেয় আনন্দে!
তোমার মুখের সহজ হাসিটি ওই স্বচ্ছ জলের মতন।

তোমার কালো কেশরেও
কৃষ্ণডুবন্ত সূর্যের লাগাম পরানো, এবং
যখন তুমি তোমার বাহু বিস্তৃত করো
তুমি খেলা করো ঐ সূর্যের সাথে,
সূর্য যেন ছোট্ট একটি পদ্মপুকুর

তোমার দু’চোখের দুই কালো পুকুরে হারিয়ে যাই।
দীর্ঘ রোদেপোড়া তামাটে মেয়ে,
তোমার কোনো কিছুই আমাকে টানে না;
সবকিছু আমায় দূরে নিয়ে যায়
যেন তুমি দুপুর রোদ্দুর
তুমি মৌমাছির চঞ্চল মৌবন,
তুমি ঢেউয়ের মাতলামি,
আমার শান্ত হৃদয় তোমায় খোঁজে
আর আমি তোমার
আনন্দময় শরীরটাকে ভালোবাসি ।

ভালোবাসি,
কালো প্রজাপতি,
ওই গমতে, আর
তােমার সুমিষ্ট কন্ঠস্বর ।
সূর্যের মতন সুন্দর পপি ফুল
আর
স্বচ্ছ জলের মতন তোমার ভালোবাসা।

bangla kobita

Facebook Comments