রুবেল হাবিব

আগস্ট ২, ২০২০
Bangla chora by Rubel Habib

Bangla chora by Rubel Habib

Rating: 4 out of 5.
Bangla chora by Rubel Habib
Rubel-Habib-Premium-Member

ছড়াকার রুবেল হাবিব এর পরিচিতিঃ

এই সময়ের একজন উদীয়মান ছড়াকার রুবেল হাবিব এর জন্ম ১৯৬৯ সালের ১ নভেম্বর দিনাজপুর শহরে। কবির পৈত্রিক নিবাস মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর থানার কামারগাও গ্রামে। তাঁর পিতার নাম মরহুম মোস্লেম উদ্দিন এবং মাতার নাম লুৎফা বেগম। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.কম শেষ করে পদ্মা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। বর্তমানে কবি তাঁর মা, স্ত্রী জাকিয়া পারভিন এবং মেয়ে মাহিরা বিনতে ইসলাম কে নিয়ে সুখেই আছেন। ১৯৮৫ সালে মাসিক শিশু পত্রিকায় তাঁর প্রথম ছড়া ” গুলিস্থানের কামান ” প্রকাশিত হয়।
“কাগুজে বাঘ” নামে বিজয় প্রকাশন থেকে ২০১৬ সালে তাঁর প্রথম বই প্রকাশিত হয়। এরপর ২০১৭ সালে দাড়িকমা প্রকাশনী থেকে “ভানুমতির খেল” প্রকাশিত হয়। এছাড়াও তিনি জাতীয়
দৈনিকে নিয়মিত লিখে যাচ্ছেন। সম্পাদনা করছেন সাহিত্যের ছোট কাগজ সাহিত্যপত্র। লেখালেখির বাইরেও লেখক বিভিন্ন সমাজসেবামুলক কাজে নিয়োজিত আছেন।

ছড়াকার রুবেল হাবিব এর অন্যান্য বই সমুহঃ

১. মেঘ বৃষ্টির রুপকথা ( ২০১৮- সপ্তডিঙা থেকে প্রকাশিত )
২. টাইগারটিলা জয়ের গল্প ( ২০১৮- সপ্তডিঙা প্রকাশিত ভ্রমণ গ্রন্থ )
৩. তেলাপোকা (২০২০- সপ্তডিঙা থেকে প্রকাশিত)

প্রাপ্ত সন্মাননা ও সার্টিফিকেট সমুহঃ

Bangla chora by Rubel Habib

ছড়াকার রুবেল হাবিবের লেখা সমুহঃ

বড় কে
রুবেল হাবিব

পেরেছে কি করোনা?
সেতো খুনী বড় না
কে যে বড় কন চে?
বড় খুনী সে যে ভাই
ক্ষমতা যার লেজে ভাই
ব্যবসা যার লঞ্চে।

কবর তুমি কার
রুবেল হাবিব

কবরস্থান তুমি কার
যাও বলে একবার
মরণের আগে
নয়তো যে বারবার
হাত বদল কারবার
হবে ভাগে ভাগে।

বিশটি বছর আগে
রুবেল হাবিব

আজকে থেকে সেই ঠিকঠিক সেই
বিশটি বছর আগে
আঁধার ঘরে ফুলের নাচন
ফুটলো আলোর বাগে।

হাতের পরে হাতটি রেখে
অন্য রকম শুরু
আবছা লাগে ঝাপসা দেখি
মনতো দুরুদুরু।

হাঁটিহাঁটি পা দুপাটি
কান্না হাসির পথে
দু এক্কে এক হয়েতো
দুয়ের একই রথে।

বিশ্বাসের এক সূতোয় গাঁথা
ভাবের অনুরাগে
তুমিই রানী রাজ্য শুরু
বিশটি বছর আগে।

কষ্ট ছিল দুঃখ ছিল
ছিল সুখের ছোঁয়া
জনম জনম চলুক এমন
চাইতো সবার দোয়া।

বেগম পাড়া
রুবেল হাবিব

বেগম পাড়ায় বেদম প্যারা
থাকছে তারা আদম ছাড়া।
আদম বেদম রাতদুপুরে
ছুটলো যে সব বেগম পাড়া।

কেন ছুটেছে বলছি দাঁড়া
আছে তাদের অন্য তাড়া
টাকার পাহাড় করতে খাড়া
মরার আগে ছুটছে তারা।

Bangla chora by Rubel Habib

হিংস্র আশায়
রুবেল হাবিব

কুহু কুহু ডাকে যখন
উড়বে সাধের পখিটা
সাধ্য কী আর আছে কারো
বেঁধে রাখি রাখি তা।

উড়বে পাখি উড়বে জানি
সময় হলেই ঠিক ঠিক
কর্ম তোমার নর্ম তোমার
থাকবে পরে ততোধিক।

মাটির দেহ মাটির সাথে
রইবে পরে কবরে
আমলনামা সমেত পাখি
ভাসবে রায়ের খবরে।

কর্ম মতে ফল পাবে তার
যতই থাকুক ক্ষমতা
সেই বিচারের নাইতো প্রভাব
ধনী গরীব যমও তা।

আমরা বুঝি সবই বুঝি
ঠিক বুঝিনা তখন
লোভের নেশায় হিংস্র আশায়
মেতে থাকি যখন।

অন্ধ মোহে বন্ধ চোখে
হারিয়ে ফেলি হুশ
আহ! ক্ষমতা আহ! ক্ষমতা
হচ্ছে মানুষ বেহুশ।

স্বাস্থ্য বিধি
রুবেল হাবিব

বলতো দিদি
স্বাস্থ্য বিধি
কোথায় হবে কেমন?
রাজ্য যেমন
প্রজা যেমন
তার বিধিটাও তেমন।

হাটের বিধি
ধুধু বিধি
গায়ের সাথে গা
চলতে গেলে
যাচ্ছে ঠেলে
করছে বিধি হা।

মার্কেটে হায়
মাড়ায় দু’পায়
স্বাস্থ্যবিধির স্বাস্থ্য
উঠলে বাসে
দম কী আসে
রয় না বিধি আস্ত।

ফেরিঘাটে
নজর কাটে
মানুষ ঝাঁকে ঝাঁক
বলতো দেখি
কোথায় একি
আর বলিসনি থাক।

বলতে হবে
বলছি তবে
মসজিদে তা মানো
জামাত ছেড়ে
বাসায় ফেরে
আসছে বুঝি দানো।

কাতার কাতার
তিন ফুট ও তার
রাখতে হবে খালি
এইতো দিদি
মানছে বিধি
মার তালিয়া তালি।

Bangla chora by Rubel Habib

করোনার ঈদ
রুবেল হাবিব

দূরে থেকে ভালোবাসা
নাই মোলাকাত
মুখে মুখে যাই বলি
মিলাবো না হাত।

ঘরে থেকে ফোনে ফোনে
হ্যালো হ্যালো জনে জনে
ঈদ মোবারক
অনলাইনে বাড়ি বাড়ি
ঘুরে যেতে তাও পারি
গেট পুরা লক।

যত পারো খাবে খাও
মুখ পুরে পুরাটাও
নিজেদের রান্না
আশেপাশে যাবে নাতো
ঈদি নিতে হবে নাতো
সালামিটা আর না।

ঘরে ঘরে স্বরে স্বরে
মজা করো থরে থরে
করোনার ঈদ তাই
ভুগে যত রুগী সবে
দোয়া চেয়ে যেতে হবে
সুস্থতার ভিত চাই।

আসে যদি কোনদিন
সব ই হবে টুন ও টিন
পেলে পরিবেশ
মোলাকাতে মিলেমিশে
সুরে সুরে শুভাশীষে
ঈদ ও বেশ বেশ।

বুঝে নিও আমার প্রেতাত্মা
রুবেল হাবিবআআ

আমি তোকে প্রচণ্ড তাপদাহের মত
আলিঙ্গন করে রাখবো,
বেঁধে রাখবো শিশা গরম লৌহ তপ্ত
নিশ্বাসে বিশ্বাসে।
আগ্নেয়গিরির অগ্নি উত্তাপে তোমার শরীরে
ঘামের প্রতিটি কণায় কণায়
জমিয়ে রাখবো আমার ভালোবাসা।
আমি তোমাকে অতিষ্ঠ করে তুলবো
বেদনার নীল প্রলয়ের আলোয়
তুমি কাতরাতে থাকবে,
ছটফট ছটফট করে দাপাবে শুধু
সবে মাত্র জবেহ করা গৃহস্থের মুরগিটার মত।
আমি তোমাকে –
আগুনে পুড়িয়ে মারবো
খরায় ডিমভাজা করে ভাজবো
মৃত্যুর দ্বারপ্রান্ত থেকে টেনে এনে আবার
দেখাবো এই বিভীষিকাময় প্রান্তর।
যে প্রান্তর, যে নগর তৈরি
আজ তোমাদেরই নীল নকশায়
তোমাদের একটু সুখের জন্য ধ্বংস করেছ
একটি ফুলের বাগান
একটি জলাধার
একটি অরণ্য
বিরহ-সঙ্গীতের ধ্রুপদী জলসায়।
তুমি কাঁদো
তুমি চিৎকার করে বলে যাও
আর নয় এই ধ্বংস
আর নয় এই অসুখের খেলা
আর নয় এইরকম বেঁচে থাকা
আর নয়!
তুমি তোমরা যদি আবার ফিরিয়ে আনতে পারো
সেই সবুজকে
সেই সবুজের প্রান্তর কে
সেই সবুজ ঘেরা নীল জলধারকে
তবেই
হবে শান্তি, শ্রান্তি, শীতলতা।
আর না হলে
বুঝে নিও আমার প্রেতাত্মা।

Bangla chora by Rubel Habib

মায়ের জন্য দিবস কী
রুবেল হাবিব

মা দিবসে কত জনায়
কত রকম দিচ্ছে পোষ্ট
কেউ বা আবার মায়ের হাতে
খাচ্ছে পায়েস ফিন্নি রোস্ট।

কেউ বলে মা লক্ষী আমার
কেউ বলে যে জানের জান
কেউ বলে তো মা ছাড়া হায়
কেমন করে বাঁচবে প্রাণ।

ফেবুর পাতায় এই দিনেতে
ঘুরতে থাকে এমন সব
রাত পোহালেই যায় থেমে যায়
আহ্লাদেরই কলরব।

সারা বছর মা থাকেন যে
একা একা একাকী
নেয় কী খবর মায়ের কোন
দেয় কী তারা দেখা কি?

জনম জনম জনম ধরে
আগলে রাখেন মা যাদের
একটা দিনের সোহাগ বুঝি
ঋণ শোধাবে এমনি তাদের।

বলছি খোকা ওরে খুকি
মায়ের জন্য দিবস কী
যত আয়ু আছে তোদের
তত দিবস মায়ের ই।

চাইনা এ মরণ
রুবেল হাবিব

ক্ষণে ক্ষণে দিন গুনি
কড় ও গুনি রোজ
এলো বুঝি যমদূতে
নিয়ে গেলো খোঁজ।

উঁকিঝুঁকি দিলো বুঝি
দূরে থেকে থেকে
হুহু করে মন ও কাঁদে
রাখি চোখ ঢেকে।

কড়া নাড়ে, নাড়ে কে রে
খটাখট দ্বোরে
জোরেশোরে বলে দিও
নাই আমি ঘরে।

গোলগাল করোনার
খাঁড়া খাঁড়া শিং
এসে বুঝি গান গাবে
টিং টাং টিং।

গানে গানে তানে তানে
চলে গেলে দম
হবে কিরে, হবে কিরে
ভাবি হরদম।

মারা যেতে হবে ঠিক
যে কোনদিন ভাই
মারা গেলে করোনায়
মরে সুখও নাই।

ছেলে মেয়ে আর ভাইবোন
মামা চাচা খালা
লাশ হয়ে হবো তাদের
নিদারুণ জ্বালা।

একা একা কবরে তে
শুনশান তানে
ভীনদেশী দিবে মাটি
কোদালের টানে।

মাটি রবে যত তার
তারো বেশি পানি
এই যাওয়া শেষ যাওয়া
কিভাবে যে মানি।

করি করি মোনাজাত
দয়াময়ের কাছে
দিও নাতো এ মরণ
শত্রুরো পাছে।

Bangla chora by Rubel Habib

করোনা নামতা
রুবেল হাবিব

এক এককে এক
ও মর্দ ঘরে থাকো
রোগ আসছে দ্যাখ।

দুই এককে দুই
গার্মেন্টস খোলা
ফ্যক্টরি খোলা
ঘরে থাকি মুই।

তিন এককে তিন
চাল ডাল তেল
হচ্ছে যে খেল
চোরের প্রতিদিন।

চার এককে চার
হাটে মাঠে
বাজার ঘাটে
লোক ধরে না আর।

পাঁচ এককে পাঁচ
মসজিদ মন্দির
হচ্ছে বন্দী
করোনাতে ছাঁচ।

ছয় এককে ছয়
ইফাতারিরও
বাজার খোলা
লাগছে না আর ভয়।

সাত এককে সাত
লকডাউন আর
শোক টাউনে
নানান উৎপাত।

আট এককে আট
স্কুল কলেজ
বন্ধ নলেজ
অনলাইনে পাঠ।

নয় এককে নয়
কীট আর কিটের
রাজনীতিতে
বুঝায় অবক্ষয়।

দশ এককে দশ
দৃশ্যপটের
লুটপাটের
লেজেগোবরে যশ।

একমুঠো চাল
রুবেল হাবিব

একমুঠো চাল আয় উঠে আয়
লজ্জা জাগার আগে
পূর্নিমার চাঁদ ক্ষুধার জ্বালায়
রাত্র নিশি জাগে।

দুমুঠো তার কাঁকর থাকুক
তিন মুঠো থাক বালি
ওসব দেখার নাইতো সময়
জলদি পেটে ঢালি।

কাঁকর বালি দিয়ে তালি
পড়ুক পেটে চর
যা ক্ষুধা যা, যা চলে যা
যারে জনম ভর।

লকডাউনের বাস
রুবেল হাবিব

ক’তারিখ ভাই বলতে পারেন
বলেন দেখি কি বার?
কি লাভ বলো বার দেখে ভাই
নাই দরকার দেখি বার।

শনিবারে যেমন দশা
রবিবারেও তাই তো
সোম থেকে বুধ বৃহস্পতি
শুক্রে তফাত নাই তো।

ঘরের ভেতর শুরু সকাল
দুপুর বেলাও তাই যে
বিকেল বেলায় বারান্দাতে
সন্ধ্যায় দেই হাই যে।

সূর্য যখন অস্তমুখি
উর্ধ্বে তুলে হাতকে
নিদ্রা কুসুম তেলের ঘুমে
পার করে দেই রাতকে।

মাঠ ভুলেছি পথ ভুলেছি
আর ভুলেছি জনকে
ঘরের লোকেই ঘুরেফিরে
মানুষ চেনায় মনকে।

এমনি করে দিন চলে যায়
যাচ্ছে চলে মাস
দালান নামক ফ্লাটের গুহায়
লকডাউনের বাস।

চোর শালা
রুবেল হাবিব

ঐ দেখো ঐ আসে
ঐ আসে চোর
চাল খায় ডাল খায়
এর ওর তোর।

ধরা খায় চোর আর
বের হয় চাল
বলি ওরে ভাইরাস
ঐ দেহে ঢাল।

মথাটাকে টাক করে
ঘোল গুলে ঢাল
আর কিছু মল নিয়ে
পান করা ডাল।

নয় নয় এতে শেষ
ছিলো গা’র ছাল
চুরি করা ভুলে যাবে
শালা চিরকাল।

Bangla chora by Rubel Habib

শ্রমিক ঘোড়ারডিম
রুবেল হাবিব

হাট্টিমাটিম টিম
হাঁটবে শ্রমিক খাটবে শ্রমিক
পাড়বে সোনার ডিম।

ডিমে ডিমে কারখানাতে
টিম টিমাটিম টিম
চাবুক হাতে ঘুরবে মালিক
উষ্ণ শীতল হিম।

হাট্টিমাটিম টিম
রোদে পুড়ে রোগের তোড়ে
অঙ্গ জুড়ে ঝিম
ঝিমে ঝিমে ঝিম ঝিমানি
পাড়তে হবে ডিম।

হাট্টিমাটিম টিম
পাড়লো যত ডিম
ছোঁ মেরে নেয় মালিক সবই
শ্রমিক ঘোড়ারডিম।

স্রোতের রিনিঝিনি
রুবেল হাবিব

শতসহস্র স্রোতের ধারায়
শতসহস্র ফুলে
এলেন তিঁনি গেলেন তিঁনি
এলেন হেলেদুলে।

বলেন তিঁনি চলেন তিঁনি
রণ দামামার তালে
ডাকলো পাখি আঁকতে থাকি
রাঙা শিমুল ডালে।

এক তর্জনী সব অর্জন ই
এই বাংলার বুকে
স্বাধীনতা স্বাধীনতা
নিলাম দুহাত টুকে।

সেই সে তিঁনি সেই সে তিঁনি
শেখ মুজিবকে চিনি
শতবর্ষ জন্ম সনে
স্রোতের রিনিঝিনি।

আহাজারি
রুবেল হাবিব

একটু হাঁচি একটু কাশি
মৃত্যু যেন কাছাকাছি
পরান পাখির মুদছে আঁখি
কেমনে বাঁচি, কেমনে বাঁচি।

বাঁচতে যেয়ে উল্টো নাচা
লোহার শিকে চৌদ্দ খাঁচা
জপে জপে জপছি যে রোজ
আমায় বাঁচা আমায় বাঁচা।

নিজের বাঁচার মরণ ফাঁদে
জোছনা গুলো দাপায় ছাদে
রোশনা ছড়ায় নাইতো চাঁদে
কেবল কাঁদে কেবল কাঁদে।

কাঁদছে বসে রাজকুমারী
কাড়ছে দেখো ঘুম তাহার ই
স্বপ্নগুলো সর্প হয়ে
করছে তাদের আজ আহার ই।
আহাজারি! আহাজারি!

Bangla chora by Rubel Habib

ফাগুন ঝরা বৃষ্টি
রুবেল হাবিব

ফাগুন ঝরা আগুন মাসে
সাতসকালে বৃষ্টি আসে
ঝুম ঝুমা ঝুম ঝুম
বাতাস ফুঁড়ে আসছে পরি
ভালোবাসায় গড়াগড়ি
দিচ্ছি আরাম ঘুম।

ঘুমে ঘুমে স্বপ্ন আঁকি
আমার ঘরে ময়না পাখি
গাইছে সুখের গান
গানের সুরে নাচা নাচি
স্বর্গ থেকে কাছাকাছি
করছি সুধা পান।

জাতে তে মোসলমান
রুবেল হাবিব

আল্লাহে ভয়
অন্যে তে নয়
ইমানে বলীয়ান
ঝরাবে যত
জাগিবে তত
জাতেতে মোসলমান।

যতই পোড়াবে
যতই উড়াবে
জুলুমের নিশানা
ততই ধ্বংস
হবে নির্বংশ
পাবে না দিশা হা।

বাংলায় কথা ক
রুবেল হাবিব

বাংলা আমি স্বীকার করি
লিখতে পারি
কইতে পারি ‘অ’
তোরা যারা হিন্দি বলিস
উর্দু বলিস
ইংরেজিতে ‘ট’
বলছি তোদের
এসব ছেড়ে
বলছি ওরে
বাংলায় কথা ক।

গো খাদ্য
রুবেল হাবিব

নয় শুধু কল্পনা
করি পরিকল্পনা
গরু যদি খায় ঘাস
তরু পানা নির্যাস
খেতে হবে মানুষকে
জল্পনাও স্বল্প না।
গল্প না, গল্প না।

Bangla chora by Rubel Habib

নির্বাচনী গাড়ি
রুবেল হাবিব

ঝুক ঝুকা ঝুক চলছে গাড়ি
গাড়ি যাবে কাদের বাড়ি
খুলবে কাদের দোর
ভাবনাটা কী তোর

ভাবনা কী আর বলতে পারি
যন্ত্রণাতে আকাশ ভারী
ঝালাপালায় কান
নির্বাচনী গান।

শব্দ দূষণ বায়ু দূষণ
ভাবী নেতার এইতো ভূষণ
দিচ্ছে সালাম ভাই
সীল মারোরে তাই।

ঢাকা শহর আজ তো ঢাকা
পলিথিনে স্বপ্ন আঁকা
চাঁদ উঠেছে চাঁদ
পোস্টারে তার ফাঁদ।

আমরা করি নাচানাচি
জোয়ান বুড়া চাচা চাচি
চাইছি নেতার ভোট
একই সুরে ঠোট।

কেউ বলিনা ও ভাই থামো
গড়তে শহর পথে নামো
স্বপ্ন সুখের ঢাকা
সেই পথে ঠিক থাকা।

আর করোনা বাহাদুরি
তবেই যাবে তোমার বাড়ি
জয়ের গাড়ি ঠিক
টিক টিকা টিক টিক।

ভূত রাত
রুবেল হাবিব

ইশ
হাত করে নিশপিশ
ম্যাওধরা ম্যাও ফিশ
বুড়ো বুড়ি পিস পিস
সীল দিতে ব্যালটে
চোখে চোখ টিস টিস

শীশ
ফণা তোলা সাপ বিষ
মাতে সাথে ইবলিশ
বলে কানে ফিসফিস
ভূত ও ভূতু কাতুকুতু
ভূত রাতে ভোট দিস।

বিশের বিশ
রুবেল হাবিব

উড়ছে গুজব
চরম কুজব
বিশে নাকি আছে বিষ
উনিশ গেলে
আসবে ঠেলে
বিষের রানী অহর্নিশ।

সেই ভীতিতে
ভূত নীতিতে
ছেলে বুড়া কিশোর সবে
পথে পথে
উল্টো রথে
বাদ্য গানায় কলরবে।

আসলে ভাই
বলতে যে চাই
নাইরে সালে নাইরে বিষ
শীষে শীষে
শুভাশীষে
ভালোই কাটুক বিশের বিশ।

ডাইনী নাচন
রুবেল হাবিব

কার কারনে
যার কারণে
ফুটলো যে ফুল
তার বাগানে
সে যে এখন
ছন্নছাড়া
আবাস হারা
পাগলপারা।
ওহে মালি
সবই খালি
খেয়ে খেয়ে
ডাইনী নাচে
দিলি তালি,
দিলি তালি।

Bangla chora by Rubel Habib

ছিমছাম বাড়ি
রুবেল হাবিব

ছিমছাম বাড়ি
গাছ সারি সারি
ফুলে ফুলে মৌ ঘুরে
তার পাশ চারি।

গাছে গাছে ফল আর
ছায়া ঘেরা পথ
পাখি ডাকে সুর তুলে
হাওয়া পতপত।

খোলামেলা লন তার
ঘাসের চাদরে
ডেকে ডেকে বলে আয়
পরম আদরে।

মাঝখানে এক উনুন
এক চালা ঘর
ধোঁয়া তুলে রান্নায়
পদ ও থরথর।

ছিমছাম বাড়ি
মেহমান তারি
সুস্বাদু খাবারে
মাতামাতি সারি।

প্যাঁক প্যাঁক হাঁসেদের চলার ফাঁকে
চিঁও চিঁও মুরগির ছানারা ডাকে
ছিমছাম এ বাড়ি ছবির মতন
নিশ্বাসে নিশ্বাসে অমূল্য রতন।

এই বাড়ির রূপকার কারিগর যিনি
প্রকৃতি পাগল আর প্রেমিক তিনি।

আমগাছ বাঁশঝাড় গাছ সারি সারি
স্মৃতির কোঠায় আছে ছিমছাম বাড়ি।

সব শালায় খায় গু
রুবেল হাবিব

হেসে বলে ঢেউ টিন
দেখ আজ কার দিন
লাখ টাকা আমার যে দাম
একেই তো বলে বিধিবাম।

পর্দা কয় হায় হায়
মান বুঝি যায় যায়
কমে গেলো বুঝি ভাই দাম
বদনাম হলো বদনাম।

বইয়ে মরে লজ্জাতে
আছি দুখ সজ্জাতে
দাম হীন বস্তুতে আমি
হয় নাই বেশি ভালো কাম ই।

কেঁদে বলে বালিশে
জাতিসংঘে নালিশে
কেন শুধু দেয় ওরা থু
সব শালায় খায় দেখি গু।

বাবার ছায়া
রুবেল হাবিব

স্বর্গ থেকে সুখের বাতাস
লাগলো গায়ে সেদিন
বাবা হবার প্রথম খবর
পেলাম আমি যেদিন।

সেদিন ছিলো সুখ যে কেমন
যায়নারে আর ভাবা
আমার কোলে কন্যা আমার
আমি যে তার বাবা।

পিট পিটে চোখ গোলগালে মুখ
ঠোঁট বাঁকানো হাসি
সুরের খেলায় রাজ্য জুড়ে
বাজছে মোহন বাঁশি।

বাঁশির সুরে কল্পনাতে
মুখটা বাবার দেখি
আমি আছি বাবার কোলে
সুখতো তারই একই।

আনন্দেতেই বলেন বাবা
মারহাবা মারহাবা
আমি ছিলাম কোল জুড়ে তাঁর
তিনি ছিলেন বাবা।

এমনি করেই সন্তানেরা
যায় পেয়ে যায় মায়া
কান্না হাসির জীবন খেলায়
ছায়া বাবার ছায়া।

Bangla chora by Rubel Habib

সুর বাজুক প্রানে
রুবেল হাবিব

বৃষ্টি এলো মুষলধারে
দৃষ্টি সীমার চারিধারে
ঝুমুর ঝুমুর ঝুম
সাপের ফণায় আসছে তেড়ে
ভয়াল ফণীর শক্তি বেড়ে
ভয় কেড়ে নেয় ঘুম।

চাই পানা চাই খোদার কাছে
মাফ কর পাপ যা যা আছে
ওহে দয়াময়
পাপের চাপে নিজকে ঢাকি
ক্ষমা পাবার স্বপ্নে আঁকি
বন্ধ হবে লয়।

বৃষ্টি পড়ুক টাপুর টুপুর
যাক কেটে যাক মিষ্টি দুপুর
সুখের নহর বেয়ে
পাখপাখালির কলতানে
সুর উঠে যাক প্রানে প্রানে
প্রশান্তিতে ছেয়ে।

ঘুমের সওদাগর
রুবেল হাবিব

ঘুম লাগে কি ঘুম
ঘুম বিক্রির সওদা করি
ঘুমে ভরা রুম।

কেজি দরে ঘুম তো বেচি
কিংবা যে দর হালি
লাভ বা ক্ষতি যাই হোক না
ঘুমাই আমি খালি ।
মার তালিয়া তালি ।

ঘুম রাজ্যের রাজার রাজা
ঘুম সওদাগর আলী।

ঘূনের সমাজ
রুবেল হাবিব

ঘূন সমাজে ঘূনে ঘূনে
মরছে মানুষ নানান খুনে
দিচ্ছে জানান কিছু
সামনে পিছে মিছু।

এই সমাজে স্বার্থ জাগে
হন্যে হয়ে নিজের ভাগে
ভিন্ন মতে ঠুস
এটাই যেন হুস।

হুসের ঘরে বেহুস থাকে
ধরবে কাকে মারবে কাকে
নিত্য এ চাল চলে
কেউ কি কিছু বলে।

বলতে সাহস থাকতে হবে
সেই জাদুটা জাগবে কবে
পড়ছে চোখে ছানি
ঘূনের সমাজ টানি।

অষ্টাদশী চাঁদ
রুবেল হাবিব

অষ্টাদশী চাঁদ
প্রেমের জালে
জোয়ার কালে
ফাঁদ পেতেছে ফাঁদ।

নদীর বুকে
ধুকে ধুকে
গন্ধ যে তাই
নিচ্ছি শুঁকে
তলায় জীবন খাদ
অষ্টাদশী চাঁদ।

চাঁদনিরাতে
চাঁদের সাথে
চাঁদের আলোয়
অঙে মাতে
সব হলো বরবাদ
অষ্টাদশী চাঁদ।

ছলাৎছলাৎ জোৎস্না আসে
বাতাস নদীর সংগে ভাসে
ঘুম বিহীন এক রাত
অষ্টাদশী চাঁদ।

চান সওদাগর চাঁদের হাটে
কিনতে যে চাঁদ দোকানপাটে
শূন্যে তুলে হাত
অষ্টাদশী চাঁদ।

Bangla chora by Rubel Habib

You Might Also Like

No Comments

Please Let us know What you think!?

%d bloggers like this: