অভিলাষ মাহমুদ

জুন ৬, ২০২০
Auvilash Mahmud

Auvilash Mahmud কবির পরিচয়:

Avilash Mahmud
Avilas-Mahmud

Rating: 4 out of 5.

এই সময়ের জনপ্রিয় কবি অভিলাষ মাহমুদ । জন্ম ১৯৮৭ সালের, ৬- ই জানুয়ারি, চট্টগ্রাম শহরের পূর্ব বাকলিয়া ১৮ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত বলিরহাটে ।তিনি সংসারের বড় ছেলে মা- বাবা, ৩ ভাই ও ১ বোন নিয়ে তাঁর সংসার। পিতা জনাব মোহাম্মদ ইদ্রিস এবং মাতা জনাবা ছেনুয়ারা বেগম ।

লেখালেখির জন্য এমনই এক অন্তঃপ্রাণ ব্যক্তি কবি ও গল্পকার অভিলাষ মাহমুদ। আপাদমস্তক সাহিত্যকে ধারণ করে আছেন। তার পোশাকেও তিনি সাহিত্যের ছাপ রেখেছেন। স্বগতোক্তি নয়, শ্রদ্ধেয়জন কবিগণ বলেন)। নীতি গত বিষয়ে কবি বলেন বাবার উপদেশ,”কারো সাথে মিথ্যা না বলা ও কাউকে না ঠকানো”-এই দু’টি উপদেশ ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছি, ভালোর সাথে থাকতে চাই, ভালো কাজ করে যেতে চাই।

শিক্ষা: এসএসসি পরীক্ষার্থী ৪ সালের হলেও গ্যাপ দিয়ে আবারও এ্যাডমিশন নিই , তখনও আর এগুনো সম্ভব হয়নি।

কর্মজগৎ: ব্যাক্তি জীবনে অভিলাষ মাহমুদ একজন প্রুফ রীডার ও এডিটর। এ ছাড়াও তিনি ২০১৪ সালে News chittagong24.com এ ফটো সাংবাদিক এবং ২০১৫-১৬ সালে সহ-সম্পাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

প্রিয় বিষয়: বই পড়া ও ভ্রমণ করা এবং দাবা খেলা।

লেখালিখি: লেখা লেখির সূচনা ১৯৯৯ সালে হলেও ২০০৬ সালে প্রথম একটি স্থানীয় পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রকাশিত হয়।

প্রকাশিত বই: ২০১৭ সালে “তানুর চাঁদ নানু” নামে একটি ছড়ার বই প্রকাশিত হয় দাঁড়িকমা প্রকাশনী থেকে।

Tanur-chand-nanu-Auvilash-Mahmud

সম্পাদিত পত্রিকা: ২০১৩ সালে “অভিলাষ” নামে একটি ত্রৈমাসিক লিটল ম্যাগাজিন সম্পাদনা করতেন ।

প্রাপ্ত পুরস্কার ও সম্মাননা: প্রিমিয়াম সদস্য সন্মাননা পেয়েছেন ২০২০ সালে লিটল ম্যাগাজিন কবিতায় জাগরণ থেকে।

Auvilash Mahmud
Avilas-Mahmud
Auvilash Mahmud
Avilas-Mahmud

ঠিকানা: চট্টগ্রাম শহরের পূর্ব বাকলিয়া ১৮ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত বলিরহাট।

Auvilash Mahmud

কবি অভিলাষ মাহমুদ এর কবিতা

শিব গড়তে বাঁদর
অভিলাষ মাহমুদ

প্রকাশকালঃ ০৬-০৭-২০২০

মা বলে দোকান থেকে
আনতে কিনে চাল,
যেতে যেতে যাই ভুলে
নিয়েই আসি ডাল।

যদি বলে আনতে লবণ
আনতে যাই চিনি।
পিয়াজ আনতে বললে ফের
রসুন আমি কিনি।

হলুদ , মরিচ আনতে গিয়ে
কিনে আনি আদা,
এমন ভুল রোজ করি বলে
মা যে ডাকে গাধা।

তেল আনতে বলে যদি
যাই টানতে ঘানি,
কান টানতে বললে স্যার
দুই হাতে নাক টানি।

ছড়া লিখতে গল্প লিখি
গল্প লিখিতে ছড়া,
শিব গড়তে গিয়ে আমার
হয় বাঁদর গড়া।

দুষ্টু বাতাস মিষ্টি তানু
অভিলাষ মাহমুদ

আকাশজুড়ে মেঘের ভেলা
দেখলো যখন তানু,
খুঁজতে গেলো এদিক সেদিক
কোথায় তার নানু।
আসলে বৃষ্টি হঠাৎ জোরে
ভিজবে তানুর মাথা,
তাই তো তানু একটু ভেবে
খুললো সবুজ ছাতা।
দখিনা ঐ দুষ্ট বাতাস
করছে ভীষণ ধাওয়া,
একলা পথে দাড়িয়ে ভাবে
কোথায় এখন যাওয়া?

ভাবছে তানু বৃষ্টি এলেই
ভিজেই হবে কাবু,
তাকাই সে যে এদিক ওদিক
কোথায় আছে তাবু।
সামনে দু’চোখ তুলে দেখে
পাড়ার বাবু ভাই,
বলছে তারে- ভিজবো দুজন
কোথাও তাবু নাই।
তখন তাদের দুষ্টু বাতাস
খুব দেখালো ভয়,
মিষ্টি তানু ছাতা মাথায়
বাবুর কানে কয়-
দুষ্ট বাতাস ভয় করি না
আমি মিষ্টি তানু,
খুঁজে আমি করবো রে বার
কোথায় আমার নানু?

থেমে গেলো দুষ্ট বাতাস
তার কোনো বেগ নাই,
ফরসা হলো কালো আকাশ
সেখানেও মেঘ নাই।
মিষ্টি তানু সামনে আবার
যখনই চোখ তুলে,
দেখলো তার বুড়ো নানু
আসছে হেলে দুলে।
আসছে নানু হাসছে তানু
এবার যাবে ঘর,
বলছে তানু- ও দুষ্টু বাতাস
এবার তুই মর।

শিব গড়তে বাঁদর
অভিলাষ মাহমুদ

মা বলে দোকান থেকে
আনতে কিনে চাল,
যেতে যেতে যাই ভুলে
নিয়েই আসি ডাল।
যদি বলে আনতে লবণ
আনতে যাই চিনি।
পিয়াজ আনতে বললে ফের
রসুন আমি কিনি।
হলুদ , মরিচ আনতে গিয়ে
কিনে আনি আদা,
এমন ভুল রোজ করি বলে
মা যে ডাকে গাধা।
তেল আনতে বলে যদি
যাই টানতে ঘানি,
কান টানতে বললে স্যার
দুই হাতে নাক টানি।
ছড়া লিখতে গল্প লিখি
গল্প লিখিতে ছড়া,
শিব গড়তে গিয়ে আমার
হয় বাঁদর গড়া।

জোসনা স্নানে আত্মার প্রশান্তি
অভিলাষ মাহমুদ

একবিংশ শতাব্দির দ্বার প্রান্তে দাড়িয়ে দেখছি ,
প্রযুক্তি দানবের তাড়া খেয়ে –
পালিয়েছে মানুষের আবেগী পাগলা ঘোড়া।
ভোঁতা হয়ে গেছে অনুভুতি।
এই হৃদয় আঙ্গিনায় এখন আর খেলতে আসেনা শান্তির কপোত- কপোতিরা ।
যন্ত্রনাময় যান্ত্রিক এই রাজধানীর বুকে-
ঠাই নেওয়ার প্রতিযোগীতায় –
বড় বড় দৈত্যের মতো অগুণিত দালান।
মাঝ রাত্রে একা উঠি-
কংক্রিটের তৈরী উচু কোন এক দালানের ছাদে আকাশ ছুঁয়ার অভিপ্রায়ে।
কাব্যিক মন বুঝে –
জোসনা স্নানে আত্মার প্রশান্তি।

Auvilash Mahmud

প্রমাণ দে …
অভিলাষ মাহমুদ।

স্বা- স্বাধীনতা আনলো কে?
বজ্রাঘাত হানলো কে?

ধী- ধীরে ধীরে নাম বল,
বের হয় কি ঘাম জল?

ন- নষ্ট বুঝি হলো মাথা?
ভয়ে কি তুই বলবি না তা?

তা- তাহলে চুপ মেরে থাক,
যে যা খুশি ছেড়ে যাক।

র- রক্ত দিলো কারা ওরে?
কারা ছিলো কারা ঘরে?

জ- জনক কে এই স্বাধীনতার,
প্রমাণ দে সেই আদি কথার।

ন- নর পিচাষ ছিলো কারা?
দেশে আগুন দিলো যারা।

ক- করলো স্বাধীন এই দেশটা,
ভালো রাখার নেই চেষ্টা।

মু- মুখে তাদের বড়ো কথা,
কাজের বেলায় জড়ো লতা।

জি- জিতালো এই দেশ কে সে বল?
নয়লে অন্য দেশে চল।

ব- বঙ্গবন্ধুর সোনার দেশ
হেলায় ফেলায় করলো শেষ।

সেই ঠিকানা
অভিলাষ মাহমুদ

নামাজ পড়ো রোজা রাখো সুখী হবে তাতে,
এর সুফল পাবে তুমি দেখো আখিরাতে।

সময়ের কাজ সময়ে করো করো না তো হেলা,
আফসোস করে কী আর হবে ফুরিয়ে গেলে বেলা?

রিক্ত তুমি এই দুনিয়ায় হতাশ হয়ো নাকো,
সকল কাজে সফল মাঝে স্রষ্টারে তুমি ডাকো।

নষ্ট করো না সময় হেলা করো না কাজে,
হবে তুমি চিরো অমর তোমার কাজের মাঝে।

সোনা রূপা জড়ালে দেহে হয় না মানুষ সুখী,
থাকতে তুমি চাইলে সুখে হও কর্ম মুখী।

মানব সেবা করলে তবে স্রষ্টার সেবা হয় তার,
এ কথাটা চললে মেনে কে রুখবে জয় তার।

সুখ দেবতার খোঁজে বেড়াও জানো না তো কোথায় থাকে,
মানব মনে খোঁজে দেখো সেখান থেকে তোমায় ডাকে।

খেয়ে পরে জীবন তোমার ভাবছো সুখে কেটে যাবে।
কেমনে ভাবো অকূল সাগর বিনা কষ্টে হঁটে যাবে?

থাকতে সময় হে মুসাফির, ভাবো- তোমার কী প্রয়োজন?
কী কী তোমার নিতে হবে নাও তবে সব গুছিয়ে এখন।

কোথায়? কখন? কীভাবে যাবে জানো নাকি তাও?
সেই ঠিকানায় যেতে হবে দেখি কেমনে ফাঁকি দাও?

নতুন পৃথিবীর পথে…
অভিলাষ মাহমুদ

আমরা চাই নতুন করে লিখতে নতুন ইতিহাস,
ধ্বংস চাই তোমাদের করছো যারা নীতি নাশ।

মরে গেলেই এই আমাদের সবই শেষ জানি,
তার আগেই চলুন এ পৃথিবীর নব বেশ আনি।

রাখাল বালক মিথ্যুক ছিলো খেয়েছিলো তারে বাঘে,
তবুও আমরা ভাবি না কেনো মিথ্যা বলার আগে?

নক্ষত্ররা করছে খেলা ঐ রাতের আকাশ নীলে,
স্নেহ- প্রীতি বসত করুক সব মানুষের দীলে।

তুলে এনেই পথের ফুল যত্নে বড়ো করবো।
সেই ফুলেরি ইতিহাস বিশ্বে তুলে ধরবো।

নষ্ট কেনো করছো রে ভাই খোদার যতো দান?
আমর সাথে এসে গাও আমার মতো গান।

পৃথিবীর বুকে নির্যাতিত অসহায় যারা আছে,
আমি চাই সবে মিলে আসুক আমার কাছে।

থিতু হয়ে থেকো না আর এসে হও জড়ো,
আমার কথা শুনে রে ভাই একটু নড়ো চড়ো।

বীর বাঙালি একাত্তরে করলেন স্বাধীন দেশ,
এখনো আছে হায়েনা শকুন দেশটা করতে শেষ।

রক্ষক এখন ভক্ষক হলো ভাঙোরে তাদের দাঁত,
ভণ্ড চেলার গলা কেটে কমাও তাদের জাত।

পথের ধারেই পথকলিরা অনাহারে মরে,
মৌলিকাধিকারগুলো পাবে কেমন করে?

থেমে আছো এখন যারা শুরু করো আবার,
নতুন করে পাচ্ছো সুযোগ নতুন পথ পাবার।

Auvilash Mahmud

আমরা হলাম কলম সৈনিক
অভিলাষ মাহমুদ

আমরা হলাম কলম সৈনিক
কলম সবার অস্ত্র,
মধুর কথায় খুলাতে পারি
শিক্ষিত ভণ্ডের বস্ত্র।

রাখতে পারি দেশের জন্য
আপনা জীবন বাজি,
হঠাবো সব ষড়যন্ত্র
দূর হও সব পাজি।

লাখো মানুষ দিলো জীবন
দেশকে ভালোবেসে,
মরন তাদের যুদ্ধে হলো
আনতে আলো দেশে।

কবিতা আর ছড়া গানে
বাঁচিয়ে তাদের রাখি,
লক্ষ্য যাদের স্বাধীনতা
তাঁরাই স্বাধীন পাখি।

মরনের ভয় তুচ্ছ করে
দেশের জন্য লড়লেন।
সৈনিক তাঁরা বাঙলাদেশের
সোনার বাঙলা গড়লেন।

নিমক হারাম এখন যাঁরা
খাচ্ছে গিলে দেশ,
করতে হবে অতি সত্বর
স্বমূলে তাদের শেষ।

উচিৎ কথায় আমোদ বেজার
অভিলাষ মাহমুদ

লালটাকে “লাল” বলি
কালোটাকে কালো,
মন্দটাকে মন্দই বলি
ভালোটাকে ভালো।

সত্যকথা বললে জানি
না জুটে আর পেটে ভাত,
উচিৎ কথায় আমোদ বেজার
কেউ দিতে চায় কেটে হাত।

সত্যকথা বলতে যদি
সবাই ভয়ে চুপ থাকে,
কেমন করে পাবো খুঁজে
আসল বন্ধুর রূপটাকে?

মনে এক মুখে আরেক
সে তো ভণ্ড চুতিয়া,
ইচ্ছে করে তার মুখ ভরে
দিতে আমার মুতিয়া।

কে যে কতো ভালো-খারাপ
সে তো আমি জানি,
ওরা ভাবে গাধা আমি
খাই ঘোলা পানি।

আমার উচিৎ কথা যার
বেশী খারাপ লাগে,
আমার সঙ্গ ছেড়ে যেনো
অন্য কোথাও ভাগে।

আমায় খারাপ বললে বলো
আমার কী যায় আসে?
তোমাদের ভণ্ডামি দেখে
উপরওয়ালা হাসে।

Auvilash Mahmud

শৈল্পীকতায় কথাশিল্পী
অভিলাষ মাহমুদ

বললে কথা অনর্গল
কথাশিল্পী হয় না,
কিছু কথা কথার কথা
শিল্পমান রয় না।

রবির সব কবিতাতেও
পাইনি খুঁজে শিল্পমান,
ছড়া কবিতার চেয়ে শৈল্পীক
তার লেখা গান।

অতি কথায় যে কাটায় দিন
কথাশিল্পী নয় সে,
কম কথায় যার শিল্প আছে
কথাশিল্পী হয় সে।

অভিধান ঘেটে ক্লান্ত হয়ে
শিখে কঠিন শব্দ,
ধার করা জ্ঞান জাহির করে
করতে চাও জব্দ?

কৃষিক্ষেতে নাই ধান বরজ ক্ষেতে নাই পান
এখন অভাব সবি,
তাইতো সবাই ভাবো খুঁজে কোথায় পাবো
এখন স্বভাব কবি?

মাঠ হারালো, ঘাট হারালো
মরলো নদী বিল,
হারিয়ে গেলো দোয়েল শালিক
ময়না শ্যামা চিল।

শহর এখন ঘেঁষা দালান
যায় না দেখা আকাশনীল,
কেমন করে থাকবে সুখে
আজ স্বভাব কবির দীল।

খুব সহজে নিজ গরজে
স্বভাব কবি গেলো যে সব লিখে,
কপি পেস্ট যুগের কবি
মনে তার এই হবি নেবে সব শিখে।

এখন ছয়টি ঋতুর মাঝে
খুব তো যাই খুঁজে
পাই না আগের সেই মিল অন্ত-
নতুনত্ব কোথায় পাবে
তাই তো তারা ভাবে-
কীভাবে দেই মিল কন্তো?

শুনছো হে কি রব
অভিলাষ মাহমুদ

নুয়াই মাথা তোমার কাছে
শুনছো হে কি রব?
রুখে দিও সব চক্রান্ত
তুমিই জানো সব।
নরক থেকে বাঁচাও আমায়
দাও আরশের ছায়া,
নাই হে খোদা তোমার সম
কারো হৃদয়ে মায়া।
হাশরের দিন গোপন রেখো
আমার দোষগুলি,
রজনী গভীরে ডাকি তোমারে
নত হয়ে দুহাত তুলি।

ইহকাল তো হেলায় ফেলায়
কাটিয়ে দিলাম আমি,
তিনকাল তো গেলো আমার
হে বিচার দিনের স্বামী।

Auvilash Mahmud

প্রেমের নহর
অভিলাষ মাহমুদ

দেখতে তুমি পাচ্ছো আমার
শূন্য মনের শহর,
সেই শহরকে দাও বানিয়ে
তোমার প্রেমের নহর।

সেই প্রেমকে বিলিয়ে দেবো
মানুষেরই মাঝে,
তারাও তোমায় করবে স্মরণ
সকাল দুপুর সাঁঝে।

চাই না আর লোভ, হিংসা
এই বিশাল পৃথিবীতে
তোমার কথা বলে যাই
আমার কবিতা- গীতে।

বাসন্তি মোর প্রিয়া
অভিলাষ মাহমুদ

হে শ্যামলাঙ্গীনি তব কায়া,
হোক বসন্তে রঙিন।
বসন্ত না এলে তবে,
ধরণী হয় যে মলিন।

হে বসন্ত তব ছায়া
যবে মম হৃদে পড়ে,
পুলকে মোর হিয়া নাচে
বিষাদ সবি যায় দূরে।

দখিনা মলয়ে দোল দোলে
দোলে মম হিয়া,
পিক তাত গীতে কহে
বাসন্তি মোর প্রিয়া।

শিমুল,কৃষ্ণচূড়ার বনান্তরাল
রক্তিম হয় যে লাজে,
মধু, মালতি, মাধবী মঞ্জুরী
যেনো লোহিতে সাজে।

অজস্র পুষ্পিতের বাচালতায়
নিখিল গগন তলে,
গন্ধ, বর্ণের আশ্চার্য মাতামাতি
লাগে তুমুল কোলাহলে।

শব্দ কাঁদে কবিতা হয়ে
অভিলাষ মাহমুদ

গভীর রাতে যখন ধ্যান করতে যাই ;
তখন দেখি বর্ণ মালার প্রতিটি অক্ষর শব্দ হয়।
আবার শুনি…
শব্দগুলো কাঁদে কবিতা হয়ে।
চিৎকার করে বলে-
হে মা… নু… ষ !
তোমরা পথ ভ্রষ্ট হয়ো না,
হারাইয়ো না মানবতা।

ভুলে যাচ্ছো- তোমরাই সৃষ্টির সেরা জীব।
নিজেরাই নিজেদের নিয়ে যাচ্ছো অন্তিম ধ্বংসের পথে।

ভাইয়ে ভাইয়ে করছো সংঘাত।
কোমল শব্দগুলো আজ
নাগরীক যান্ত্রিকতার পদাঘাতে পিষ্ট।
জলবতী মেঘ।
সাগরের তরঙ্গ।
অদৃশ্য হাওয়া…
ভাঙ্গা তরীর ছিন্ন পাল।
কোমল মন।
ছোট্ট জীবন।

শব্দের বিদ্রোহ …
অভিলাষ মাহমুদ

বিভিন্ন শব্দেরা সারিবদ্ধ হয়…
আবেগের উত্তাল সমুদ্র আর আভিমানের ভয়ঙ্কর কৃষ্ণপর্বত!

মিশরের নীলনদে থাকা সেই ফেরাউনের অবিনাশী শরীর …
আছে ঘৃণার শক্ত বুলেট দ্রোহ-বিদ্রোহের ঝাপতাল …

বিষমাখা তীর আর সেতারার ঝঙ্কার…
ছোঁয়াবো আগুনের পরশ পাথর …
শুনাবো বিদ্রুপের উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত।

আমি তাদের দিবো শব্দের শুড়শুড়ি কিংবা আগুনের কাতুকুতু।
এভাবেই একেকটি শব্দ এসে কাতারবদ্ধ হয়ে বিদ্রোহ করে।

উপহাসের ঘোমটা নাচ …
বেইশ্যাদের উলঙ্গ নিত্য …
আর হিজড়ার জোড়াহস্তের তালিয়া।
দেখাবো হাওয়ার গাত্রে কীভাবে ধ্বংসের নৃত্য করে কোমল জলজ প্রজাপতি।

এভাবে পৃথিবীর নানান বিদ্রুপাত্মক শব্দেরা একের পর এক সারিবদ্ধ হলেই কবিগণ এর নাম দেন দ্রোহের কবিতা।

শিক্ষিত ভন্ডদের জন্য এমন একেকটি কবিতা একেকটি শক্তিশালি পরমাণু কিংবা একেকটি ক্ষেপাণাস্ত্র।

তাদের কুপোকাত করার জন্য এই অস্ত্রই যথেষ্ট।
শরীরের কোনো অংশ ক্ষতি হবে না, রক্তও ঝরবে না।

এতে এদের মৃত্যুও হবে না সহজে।বেঁচে বেঁচে মরণের স্বাদ গ্রহণ করবে,
প্রতিক্ষণে মৃত্যু যন্ত্রণা উপলব্ধি করবে।
যদিও শরীর দেখাবে অক্ষত।

কিন্তু তিলে তিলে অন্তর হবে দাহ্য।
এ যন্ত্রণা বইয়ে বেড়াবে দেহাবসানের পূর্বাব্দি।

Auvilash Mahmud

You Might Also Like

No Comments

Please Let us know What you think!?

Translate »
%d bloggers like this: