আসলাম প্রধান

জুন ২০, ২০২০
Aslam prodhan

Aslam prodhan

কবি আসলাম প্রধানের পরিচিতিঃ

Rating: 4 out of 5.
Aslam-Prodhan

এই সময়ের জনপ্রিয় কবি ও ছড়াকার আসলাম প্রধানের ১৯৬৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে জন্ম । তাঁর পৈতৃক নিবাস গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলাধীন বোনারপাড়া ইউনিয়নের কালপানি নামক গ্রামে । পিতা মরহুম জনাব আব্দুল গনি প্রধান এবং মাতা জনাবা নাজমা বেগম । কবি আসলাম প্রধান ১৯৯৩ সালে তাঁর বৈবাহিক জীবন শুরু করেন, স্ত্রী আম্বিয়া বেগম এবং ছেলে আবিদ উল আহাদ কে নিয়ে তার ছোট্ট সুখী পরিবার।

কবি আসলাম প্রধান এর শিক্ষাজীবন ছিল বৈচিত্র্যপূর্ণ । তিনি বি.এস.এস পাস করে বর্তমানে ঢাকা ওয়াসা তে কর্মরত আছেন। প্রকৃতি মাটি ও মানুষ তাকে ভীষণ আকৃষ্ট করে তাই দেশ-বিদেশ ভ্রমণ করা তাঁর প্রিয় একটি বিষয়। কবি আসলাম প্রধান মূলত ছোটবেলা থেকেই শখেরবশে ছড়া-কবিতা, গান, গল্প, প্রবন্ধ,পুঁথি ইত্যাদি বিষয়ে লিখতেন নিয়মিত। দেশের শীর্ষ দৈনিক, মাসিক, পাক্ষিক, সাপ্তাহিক পত্র-পত্রিকায় তাঁর অসাধারণ লেখনী পাঠকের হৃদয়ে অনন্য এক জায়গা দখল করে আছে। তিনি বিটিভি ও অন্যান্য নানা অনুষ্ঠানে কবিতা, গান পুঁথি পাঠ ও পরিবেশন করে থাকেন। তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের তালিকাভূক্ত গীতিকার এবং বাংলা একাডেমীর একজন সদস্য। ২০২০ সাল পর্যন্ত তাঁর মোট ১৪ (চৌদ্দ)টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়াও কবি আসলাম প্রধান এর “অট্টালিকার পাশে তোর বস্তিঘর” শিরোনামে একটি গানের অডিও অ্যালবাম রয়েছে।

কবি সাম্প্রতিক সময়োপযোগী “ বুড়োতোষ ছড়া” শিরোনামে গণমুখী ছড়া লিখছেন। তিনি নিজেকে “বুড়োতোষ ছড়ার” জনক দাবি করেন।

কবি আসলাম প্রধানের প্রকাশিত গ্রন্থসমূহঃ

১। ছড়ার ভেতর গল্প(ছড়া-কবিতা)
২। পদ্যবিলাপ(ছড়া-কবিতা)
৩। ছন্দপ্রলাপ(ছড়া-কবিতা)
৪। খামখেয়ালি (ছড়া-কবিতা)
৫। হাওয়াই মিঠাই (ছড়া-কবিতা)
৬। বাংলাদেশের বন্যা(ছড়া-কবিতা)
৭। হরেক রকম কাণ্ড (ছড়া-কবিতা)
৮। বর্তমান সমাজ (ছড়া-কবিতা)
৯। ঠোকর (ছড়া-কবিতা)
১০। গানের কথা (গান)
১১। আমি নির্দোষ নই (প্রবন্ধ গ্রন্থ)
১২। উল্টোপাল্টা বক্তব্য( প্রবন্ধ গ্রন্থ )
১৩। আজেবাজে গল্প(গল্পগ্রন্থ)
১৪। চিন্তার কথা (বাণীবিষয়ক গ্রন্থ)

Aslam prodhan

প্রাপ্ত পুরস্কার ও সম্মাননা :

কবিতায় জাগরণ প্রিমিয়াম সদস্য সন্মাননা ২০২০,
সূফী মোতাহার হোসেন সাহিত্য পুরস্কার ২০১২-১৩ এবং
ডা: আব্দুর রাজ্জাক শিশু নিকেতন সাহিত্য সম্মাননা ২০১২’ ইত্যাদি ।

আসলাম প্রধান এর ছড়া ও কবিতা

নদীভাঙা মানুষের দরখাস্ত
আসলাম প্রধান

প্রকাশকালঃ ০৯.০৭.২০২০

Aslam-Prodhan

খরস্রোতা এই যমুনা নদীটি
চিরকাল উদ্ভ্রান্ত
এর চলাচলে সহায় হারিয়ে
অনেকে সর্বশান্ত ।
ভেঙে বাড়িঘর গড়ে তোলে চর
অন্য-আরেক প্রান্তে
প্রতি বৎসর এই নদী রাখে
অশান্তি- বিভ্রান্তে !
কত পরিবার, কত মহল্লা
হয়েছে ছিন্নভিন্ন
স্বপ্ন-সুখের অবকাঠামোর
নেই আজ কোনো চিহ্ন !
সাঘাটা এবং ফুলছড়ি কূলে
যমুনা ভীষণ ক্রুদ্ধ
বর্ষা এলেই মাঠ-ঘাট গ্রাম
গিলে খায় সবশুদ্ধ !

পুরনো নিয়মে বাঁধ নির্মাণে
অপচয় হয় অর্থ
আষাঢ়ের ঢল ধাক্কা দিলেই
এখানে-সেখানে গর্ত ।
ভাঙন ঠেকাতে তাই প্রয়োজন
বিদেশের বিশেষজ্ঞ
আধুনিক বাঁধ তৈরিকল্পে
ব্যাপক কর্মযজ্ঞ ।
যমুনাসেতু ও পদ্মাসেতুর
অটল নয়াপ্রযুক্তি
নদীভাঙা থেকে দিতে পারে এই
এলাকাকে চিরমুক্তি।

আমার প্রিয় সাঘাটা উপজেলা
আসলাম প্রধান

প্রকাশকালঃ ০৭-০৭-২০২০

কেমন করে ভুলব বলো
বোনারপাড়ার ধুলো ?
যে ধুলোতে মিশে আছে
আমার স্মৃতিগুলো !
জুম্মারবাড়ি-উল্লাবাজার ,
ভরতখালি হাটে-
স্মৃতি আছে যমুনাতে
নৌকা-জাহাজঘাটে!
হায় ! কী-করে ভুলি?
দৃশ্যগুলো খুঁটে খুঁটে
ছড়ার মাঝে তুলি!

এই মাটি যে কবি-লেখক
সাহিত্যিকের মাটি,
দিনে-রাতে তাদের কলম
করছে হাঁটাহাঁটি !

একাত্তরে যুদ্ধে যারা
শহীদ এবং ক্ষত ,
এই সাঘাটায় তাদের কীর্তি
নয় যে ভোলার মত!

এই মাটিতে জন্ম নেয়া
গর্বিত সন্তান-
সারাদেশে আছে তাদের
অনেক অবদান!
জন্মেছিলেন এই মাটিতে
ফজলে রাব্বী মিয়া-
অহংকারে আনন্দিত
আমরা যাকে নিয়া !

এই খানেতে আছেন বহু
শিল্প-কোটিপতি,
তাদের জোরে যাচ্ছে সরে
দীনতা- দুর্গতি!
উপজেলায় লক্ষণীয়
সাক্ষরতার হারও,
উচ্চপদে অধিষ্ঠিত
হাজার অফিসার’ও !
দেশবিদেশে বহু মানুষ
নানা পেশায় রত,
তাদের ঘাম’ও এই মাটিকে
করেছে উন্নত।.
লোকসমাজে দূর হয়েছে
কর্মবিমুখতা,
কষ্টজয়ে কারোরি নেই
একটু অলসতা !

সবুজ-রঙিন বোরকাপড়া
গাঁয়ের মোড়ে মোড়ে,
পাখপাখালি মনের সুখে
গান শুনিয়ে ওড়ে !
পর্যটকের বিরতি নেই
ঘুরছি দেশেদেশে-
ক্লান্তদেহ শান্ত হবে
এই মাটিতেই এসে !

হাসির কথা
আসলাম প্রধান

হাসি নিয়ে রোজ শুনি কত ধারাভাষ্য
ভাষ্যের ভেতরেও পাই নানা হাস্য !
কবিতায় চাঁদ হাসে পূর্ণিমা রাত্রে
এই কথা শুনে হাসে গণিতের ছাত্রে !

চাবুকের চড় দিলে হাসে নাকি ঘোড়া’রা
জোয়ান আছাড় খেলে হাসে ছুঁড়ি ছোঁড়া’রা !
মানুষ না দানবের হাসি’টা বিরক্তি
হাসি দেখে থেমে যায় হাসবার শক্তি !

দমফাটা বমফাটা কাঠফাটা হার্টফাটা
মাঠফাটা হাসিতে
অনেকের হার্টবিট নিমিষেই বেড়ে যায়
একশত আশিতে !

নাটক বা সিনেমায় ভিলেনের হাসি তাই-
সোনামনিদের কাছে দাম নেই আশি পাই !
কিছু কিছু লোক আছে, অকারণে হাসি দেয়-
হাসি চেপে রাখতেই কেউ ছোট কাশি দেয় !

দাঁতপড়া বুড়োদের হাসি খুব মজাদার
গালভরা খুশিভাব, কী দারুণ রসাদার !
দাদা-দাদি নানা-নানি সে হাসির রূপকার
নাতিপুতিদের মনে শালশা’র উপকার !

হা-হা, হি-হি, হো-হো করে হাবাগোবা হেসে যায়
কৌশলী হাসিতেও কেউ কেউ ফেঁসে যায় !
গম্ভীর মিশ্রিত মৃদু হাসি জ্ঞানীদের
সে রকম হাসি দেখি ধার্মিক-ধ্যানীদের !

শিশুদের হাসিতেই ভেজালের লেশ নেই-
কী-মধুর নির্মল, যা-লেখার শেষ নেই !
সব চেয়ে দামি হাসি বাবা-মা’র মুখেতে
সেই হাসি সুখ আনে ছেলে-মে’র বুকেতে

হাসি দিয়ে এইবার দেই পরামর্শ
সময় বুঝেই করো আনন্দ-হর্ষ !

নানারকম বাঁশ
আসলাম প্রধান

Aslam-prodhan

প্রাণের চেয়ে প্রিয়-
সামনে এসে
ভালোবেসে
পেছনে বাঁশ দিও !

আমায় সালাম ক’রে –
মুখ ঘুরিয়ে
দূরে গিয়ে
বিদ্বেষে যাও ম’রে !

লেবাস পরো দামি-
গল্প করো,
কেটে পড়ো
বাগিয়ে সেলামি !

আপন ভেবে মিশি-
প্রেমের ছলে
মধু ব’লে
দাও ভেনমের শিসি !

বন্ধু, তোমায় পেয়ে
যা-শিখেছি
তা-বিকেছি
বিরহগান গেয়ে !

মিথ্যে কথা বলে-
বিপরীতে
ফায়দা নিতে
আঁধারে যাও চলে !

কত্ত অভিজ্ঞতা
এক এক ক’রে
বলব পরে-
জমানো সব কথা !

কারো কঠিন বাঁশে-
এই সমাজে
আজেবাজে
দুর্জনেরা হাসে !

দেখি, অনেক লোকে-
সব হারিয়ে
গঙ্গা গিয়ে
সাঁতার কাটে, শোকে !
কেউ ঘোরে বাজারে,
কেউ-বা আবার
পাগলাবাবার
মাজারে-মাজারে !
১০
বাদ রয়েছি আমি-
ব্যথা পেয়ে
ছ্যাঁকা খেয়ে
করি না পাগলামি!
১১
পারি না চামচামি
প্রতি বার-ই
খালি হার-ই,
চলতে গিয়ে থামি !
১২
শুধু বাঁশ-ই দিলে
মহাশয়া,
একটু দয়া
করো নি ফাইলে !
১৩
সরলতার দোষে-
খাইছি ধরা,
কী আর করা
আছি একা ব’সে !

দোয়া করি, বন্ধু সুখে থেকো-
সবসময়ই বাঁশ’টা কাছে রেখো ।

Aslam prodhan

বর্ষাকাল
আসলাম প্রধান

এসেই গেল বর্ষাকাল
মেঘের কালো-ফর্সাগাল !
চুলগুলো ঠিক এ্যশকালার
উড়ছে হাওয়ায় ভর সকাল !

মেঘ ভেসে যায় ধীরবেগে
বৃষ্টি পড়ে তীরবেগে
হাসনা নানি ঘরকোণে
খাচ্ছে মুড়ি- ক্ষীর মেখে !

মন্টুনানার ষাঁড় দুটো-
খায় না ওরা খড়-কুটো !
এদিক-সেদিক চোখ পাকায়
মশার জ্বালায় ছটফটায় !

আষাঢ়ে গল্প নয়
আসলাম প্রধান

পা দুটোকে ওপ্রে তুলে
হাত রেখে মাটিতে
এক্কেবারে উল্টো হয়ে
লাগল সে হাঁটিতে!

নয় আষাঢ়ে গল্প নানু,
দেখেছি নিজ চোখে-
আমার মতো দেখছিল তা
আরো অনেক লোকে !

সত্যি কিনা, শোনো তোমার
বাবা ও মা’র কাছে-
ভিন্নরকম হাঁটাচলা
সব আছে সার্কাসে!

গাঁয়ের ছেলে
আসলাম প্রধান

তোমরা যারা আছ ওপরতলায়
নেই এলাকার ভাষা ও সুর গলায় ।
বদলে গেছে জীবন চলার গতি
আকাশসমান হয়েছে উন্নতি ।

নিত্য নতুন লোকসমাজে মিশে
অতীত স্মৃতি যাচ্ছ পিষে পিষে !
অনেক দূরে এলে যাদের রেখে-
এড়িয়ে যাও আজকে তাদের দেখে !

তোমরা কী আর আগের মতো হবে
রাখাল ছেলের সঙ্গে কথা ক’বে ?
আবার গিয়ে সেই মাটিতে ফিরে
গাঁয়ের ধুলো মাখবে সশরীরে ?

উচ্ছেদ অভিযান
আসলাম প্রধান

পলিটিক্যাল সাপোর্ট আমার
আছে ষোলোআনাই
ভূমি দখল করতে গেলে
কোনো সমস্যা নাই !

অন্য লোকের জমিতে যে’
সাইনবোর্ড’টা টানাই
আস্তে আস্তে- স্বধীনভাবে
দালান-বাড়ি বানাই !

এই বাড়িটা আমার বাড়ি-
দেশবাসীকে জানাই
মনের সুখে কয়েক বছর
বাজিয়ে যাই শানাই !

তারপরে এক দুঃসময়ে
হয়ে গেলাম কানা-ই
মাথাও ভালো কাজ করে না,
করে ধানাইপানাই !

বুলডোজারটা ‘হঠাৎ’ এলে
মুখে আমার রা-নাই
থানা-পুলিশ দেখে- কাছে
চ্যালাচামুণ্ডা নাই !

ঘন্টাখানেক পরেই দেখি
সুখের ঠিকানা নাই-
ভেঙেচুরে গুঁড়িয়ে দেয়
পুরো বাড়িখানাই !

Aslam prodhan

বোনারপাড়ার স্মৃতি
আসলাম প্রধান

Aslam-prodhan-porm

বোনারপাড়া স্টেশনে,
লোকোশেডের চতুর্পাশে
আমার পায়ের ধুলোমাটি
মিশে আছে দুর্বাঘাসে!

রেলকলোনির অলিগলি
ইটপাথুরে দালানকোঠা
এই, আমাকে মনে মনে
দিচ্ছে তারা নানান খোঁটা!

লাইন ভাঙা শব্দ করে
ট্রেনের আওয়াজ কানে এলে
বাঁধনহারা ছুটে যেতাম
কী সকালে- কী বিকেলে !

রাত বিরাতে মঞ্চে-মাঠে
জারি-সারি যাত্রাপালা-
ডিস এন্টেনার আগ্রাসনে
ওসবে আজ ঝুলছে তালা!

ওভারব্রিজে, বুকস্টলে
চা”র দোকানে আড্ডা কত-
হারানো সে দিনের কথা
ভেবে ভেবে হই আহত!

অনেক বছর দূর শহরে
মমতাহীন এ তল্লাটে
যেমন থাকি, এ মন হাঁটে
বোনারপাড়ার রাস্তাঘাটে!

কোথায় কাজি আজহার আলী-
হাইস্কুল ও বাল্যবেলা
বন্ধু যারা হঠাৎ করে
সেই যে কবে ছাড়ল খেলা!
কতজনের নাম ভুলেছি,
মনেও তাদের গল্প নাই-
এমনি করে যাচ্ছি ভুলে
অতীত দিনের কল্পনাই !

ইয়া রাহমান
আসলাম প্রধান

জনমব্যাপী আমলনামায়
যে-সব গুনাহ জমা
তোমার সকল নামের গুণে
সব করে দাও ক্ষমা ।
এই জবানে যে-কালেমা
পড়ছি বারেবারে
সেই কালেমার অসিলাতে
মাফ করো আমারে ।
ছিটেফোঁটা এবাদতের
সকল ত্রুটি ক্ষমে
আঁধার গোরে আলো দিও
কষ্ট উপশমে ।
ইয়া রাহমান, কবুল করো
আমার এ-প্রার্থনা-
তুমি ছাড়া গুনাহ্গারে
করবে কে মার্জনা?

বস্তিবাসীর শোকর
আসলাম প্রধান

আমরা কিন্তু ভালোই আছি নানারকম জ্বালা নিয়ে
ভেজাল খাদ্য খাচ্ছি রোজ
টাটকা-বাসি’র নিই-না খোঁজ
যাচ্ছি না কেউ দিনভিখিরি অন্য দেশে থালা নিয়ে ।

আমরা কিন্তু ভালোই আছি ময়লা-ধুলোর গন্ধ সয়ে
দূষণভরা বাওবাতাস
এরই মাঝে নিচ্ছি শ্বাস
মরছি না কেউ অক্সিজেনের অভাবে দম বন্ধ হয়ে ।

আমরা কিন্তু ভালোই আছি নোংড়াখালে গুসুল করে
উল্টেপাল্টে দেই সাঁতার
রোগজীবাণু মানাই হার
বেঁচে আছি আল্লা’তা-লার নিয়ামতকে উসুল করে !

আমরা কিন্তু ভালোই আছি জীবনযুদ্ধে ল’ড়ে ল’ড়ে,
নেই আমাদের মৃত্যুভয়,
দুর্ঘটনা নিত্য হয়-
মরছে কতো কীটপতঙ্গ রাস্তাঘাটে প’ড়ে প’ড়ে !

লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্
আসলাম প্রধান

সাহসীরা ক্রমান্বয়ে
হচ্ছে নিরুদ্দেশ
দুর্বলেরা দেখছে চোখে
ভয়ের পরিবেশ !
রুগ্ন-ক্লান্ত পথিকেরা
না-পায় পথের খোঁজ
বাঁচার জন্য বুকে তাদের
বিনীত আরজ !
মাথার ওপর মৃত্যু ওড়ে-
ক্ষুধার্ত শকুন
স্বপ্ন কেটে গুঁড়ো করে
রোগজীবাণু-ঘুণ ।
গোরস্থানে মড়া খোঁজে
পোকামাকড়-পাল ।
মাতালবনে গভীর রাতে
লাশ খোঁজে শেয়াল ।
শ্মশান-গোরে জোনাকিরা
ঘুমিয়ে যায় কেউ
জমাট বাঁধা অন্ধকারে
একলা জাগে ফেউ ।
রাত্রি শেষে সূর্য ওঠে
ঝাপসা ঝাপসা, ম্লান
টেনশনে কেউ আলো দ্যাখে
আঁধারি, নিষ্প্রাণ- !
মুহূর্মুহু কানে আসে
মরণের আওয়াজ
হায় কী হলো ! হায় কী হবে-
অশান্ত সমাজ ।
অপক্ষেমান পর্যুদস্ত-
রোগীরা বলহীন
জানছে না-যে ফিরবে কবে
আশার আলো, দিন !
দু:সময়ে বিশ্বাসীদের
কণ্ঠে শুনি গান
‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’তে
মুস্কিলে আসান ।

Aslam prodhan

ভয়ঙ্কর যাত্রা
আসলাম প্রধান

সাহসহারা সাহসিদের ক্রমে ক্রমে প্রস্থান
বাড়িয়ে দিচ্ছে দুর্বলের হৃদস্পন্দন
যাবে কোথায় দিশেহারা রুগ্ন-ক্লান্ত পথিক
চারপাশ ঘিরে আছে ভয়ের পাহাড়
আকাশে ঘুরপাক খায় ক্ষুধার্ত শকুন
জঙ্গলে চুপিসারে হাঁটে লাশখেকো শেয়াল,
কবরস্থানে পোকা-মাকড়ের মিছিলপ্রস্তুতি-
ধীরে ধীরে চওড়া হচ্ছে নিরাশার সমুদ্র !

দূরের জোনাকিরা ঘুমিয়ে পড়ছে কেউ কেউ
জমাট বেঁধে যাচ্ছে অন্ধকারের কালো সিমেন্ট
ধুসর-ঝাঁপসা-ম্নান প্রতিদিনের সূর্যোদয়
মুহুর্মুহু কানে আসে শেষ নিশ্বাসের পূর্বাভাস
ঘুম কেড়ে নেয় শক্তিশালী উদ্যম-স্পধার নিদ্রা
আশায় অপেক্ষমান পৃথিবীর বলহীন যাত্রী !
একটিমাত্র বাক্য বিশ্বাসীদের মজবুত কাণ্ডারী-
পরম করুণাময়ের করুনা, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ।

বাংলাদেশ পুলিশ
আসলাম প্রধান

আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখতে তোমার বিরামহীন অমানবিক ছুটোছুটি ।
সর্বসাধারণের নিশ্চিন্ত নিদ্রা নিশ্চিতে ক্রিমিন্যাল দমনে নির্ঘুম রাত্রি জাগরণ ।
গরিব-অসহায়দের মানবিক সাহায্যে অকৃপণ হাতের স্বর্ণালী পরশ ।
দিশেহারা কৃষকের দরজায় বন্ধুসুলভ খোঁজখবর ।
রোগজীবাণু-থৈথৈ সাগরে তোমার নির্ভয়-অবাধ বিচরণ ।
নিজের জীবন বাজি রেখে সবাইকে ঘরে রাখার প্রানান্ত চেষ্টা-
মানুষ বাঁচানোর ভয়াবহ সংগ্রামে গৌরবময় শহীদি আত্নাহুতি ।
রাস্তায় ফেলে যাওয়া অসুস্থ- রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছানো ।
সন্তান-স্বজনের অনুপস্থিতিতে তোমার অ্যাম্বুলেন্সের ভূমিকা ।
বে-ওয়ারিশ লাশ সৎকারে ধর্মগুরুর সাহসী প্রক্সি ।
দু:সময়ের নির্ভীক কাণ্ডারী তুমি ।

অকৃতজ্ঞ পৃথিবী তোমাকে ভালোভাবে দ্যাখেনি কোনোদিন; দেখবেও না হয়ত ভবিষ্যতে ।
কিন্তু অবাক বিস্ময়ে বাংলাদেশ দেখছে,
আমার প্রিয় জন্মভূমি দেখছে ।

সেরা যোদ্ধা
আসলাম প্রধান

সৃষ্টি থেকে রাগান্বিত
মৃত্যু মহারাজ-
দুর্বলেরে মেরে মেরে
ভরায় জাহাজ
মানুষ কী তার মতো
সেরা যুদ্ধবাজ ?

অন্ধকার-অগোচরে
ফুরায় হায়াৎ
মরণ ঝড়ের বেগে
বাড়ায় স্ব-হাত
নিরাপদ স্বপ্নদুর্গ
ক্ষণিকে ভূপাত !

বন্ধ হয় পৃথিবীর
হাজারো হিসাব
ভেস্তে যায় স্বার্থচিন্তা
বিত্ত-লাভালাভ
জব্দ হয় অহমিকা
ক্ষমতা- প্রভাব ।

তার সমকক্ষ যোদ্ধা
প্রানীকূলে নাই
একবাক্যে সকলে-যে
তারে-ই ডরাই
পরাজয় জেনে করি
অসম লড়াই !

পাক্কা আড়তদার
আসলাম প্রধান

আমি তো ভাই পাক্কা আড়তদার
ছক্কা মারি বছরে বারবার
খাদ্যশস্য মজুদ রেখে
দেশের পরিস্থিতি দেখে
ঠিক সময়ে টেক্কা’তে দেই মার !

আমার কিন্তু হিসেবে নেই ভুল
জা’গামতো ফুটিয়ে দেই হুল
ব্যথা নিজেই তৈরি করি
পরে বেচি ব্যথার বড়ি
অসময়ে ব্যবসা করি, ফুল !

সিন্ডিকেটে লম্বা আমার হাত
করতে পারি বাজার কুপোকাত
একটিমাত্র টেলিফোনে
মুক্তা ফলাই উলুবনে
বছরে না, দিনেই বাজিমাত!

আছে আমার শক্তিশালী ভীত
ঝড়োহাওয়া হলে উপস্থিত-
দেয়াল দ্বারা ধাক্কা দিয়ে
ঝড় ব্যাটাকে দেই থামিয়ে,
ধমক মেরে পাঠাই বিপরীত ।

Aslam prodhan

যুদ্ধবাজের হাত
আসলাম প্রধান

যুদ্ধযুদ্ধ চিন্তা বুঝি এ-মুহূর্তে বাদ
গুটিয়েছে দেশেদেশে যত মৃত্যুফাঁদ !
আক্রমণে না-গিয়ে
যা-নিয়েছে বাগিয়ে
তা-নিয়ে কী ক্ষান্ত হবে পাপিষ্ট-উন্মাদ ?

অত্যাচারীহাতে আছে জীবাণু, স্ব-পাপ-
বারেবারে বন্ধঘরে করে সে ‘চেকাপ’ !
শঙ্কচিত্তে তাকিয়ে-
নানা যৌগ মাখিয়ে
উল্টেপাল্টে ধুয়ে ধুয়ে হস্ত করে সাফ !

ছড়িয়েছে হস্তদুটো- বিশ্বজুড়ে ত্রাস,
শান্তিপ্রিয় গোত্রেগোত্রে ভীতি-নাভিশ্বাস !
রাজ্যসীমা মাড়িয়ে
সন্নিকটে দাঁড়িয়ে
ক্রমে ক্রমে যাচ্ছে ক’রে মনুষ্য বিনাশ !

করোনাভাইরাস
আসলাম প্রধান

‘করোনা’ মানুষ সৃষ্টি করেছে গোপনে
সন্দেহ প্রকাশ করে বিশ্বে নানাজনে !
কে নির্মম, ছড়িয়েছে এ জীবাণু’টিকে ?
দিয়েছে আতঙ্ক পুরো মানবজাতিকে !
মুহূর্তে মূহূর্তে মৃত্যু- ভয় বিশ্বজুড়ে-
দিবারাত্র সুখশান্তি খাচ্ছে কুঁড়ে কুঁড়ে!!
যে-দেশ, যে-জাতিগোষ্ঠী, যার আবিষ্কার
এ ঘাতক জৈব; তার হবে কী বিচার ?

‘আল্লা’র গজব’ যদি বলো চিন্তাশীল-
কোথায় রয়েছে তবে বাঁচার পাঁচিল ?
পালাবো কি-ক’রে তার রাজ্যসীমা ছাড়ি?
এ মহাবিপদে দেবো কোন গ্রহে পাড়ি ?
শক্তিশালী, রক্ষাকারী তিনি ছাড়া কে-সে?
বিপদে আশ্রয় নেব যার পাদদেশে!

তোমার লোক
আসলাম প্রধান

এখনো তোমার লোক
হতে পারি নাই
হে বন্ধু, আজো আমি
আশা ছাড়ি নাই
তোমার বুকের মাঝে
সুখের ঠিকানা আছে
সেইখানে পেতে চাই
এতটুকু ঠাঁই ।

কানপড়া
আসলাম প্রধান

সহজ সরল সত্য
শোনে না যে-কান
সে-কানে প্রবেশ করে
সজোরে শোনান ।
যদি সেই কান করে
না-শোনার ভান?
‘কানপড়া’ দিতে পারে
তার সমাধান?

ভাষাসৈনিক তালিকা
আসলাম প্রধান

Aslam-prodhan

একুশ এলে, ফাগুন এলে
আমরা থাকি শোকে
বায়ান্নকে স্মরণ করি
বাংলাভাষী লোকে।

বিশ্ববাসী মাতৃভাষা-
দিবস পালন করে
ভাবাবেগে আপ্লুত হই
অন্তরে অন্তরে ।
প্রশ্ন সবার কাছে-
ঠিক কতজন শহীদ সেদিন
তালিকা তার আছে?

একুশ তারিখ, বাইশ তারিখ
কোথায়, কখন, কে কে
পঙ্গু হলো, জীবন দিল
জানবো কোথা থেকে?
সালাম, রফিক, বরকত, জব্বার,
শফিউলের নাম শুনি সব্বার-
মুখে মুখে, এ পাঁচজনের স্মৃতি-
চারণ করি, ধারণ করি তাঁহাদের উদ্ধৃতি !
আরো যারা ভাষার জন্য
লড়েন নানাভাবে
সবার কথা সবার কানে
কদ্দিনে পৌঁছাবে ?
আর কবে পৌঁছাবে ?

Aslam prodhan

কানাই পাঠক
আসলাম প্রধান

পকেট খালি- পয়সা নাই
বইমেলাতে যায় কানাই
হরেক রকম গ্রন্থ দেখে
কী আনন্দ পায় কানাই !

নবীন-প্রবীণ সব লেখকের
বই দ্যাখে আর নাম পড়ে
সুযোগ পেলে পৃষ্ঠা মেলে
কোন্টা কেমন দাম, পড়ে-!

পাঠক , লেখক-সমালোচক
মেলাতে ভিড় করছে রোজ
কেউবা কানাই- সমস্যা নাই
নামের পড়া পড়ছে রোজ !

ভূতের বই
আসলাম প্রধান

বই মেলাতে যাচ্ছে পাওয়া
ভূতের নামে বই-
এই খবরে ভূতসমাজে
পড়েছে হই চই !

ভূতকে নিয়ে ঠাট্টা করা !
গল্পছড়ায় আড্ডা করা !!
তেলবেগুনে জ্বলে ওঠে
রাজা ভূতংঘই-
খবর আছে যে লিখেছে
ভূতবিষয়ে বই !

ভূত কী কারো পাকা ধানে
মই দিয়েছে- মই ?
খেয়েছে কী লুটেপুটে
কারো হাঁড়ির দই ?
করেছে কী দুনম্বরী
কোনো ফাইল সই ?

তবে কেনো গল্পছড়ায়
অমন উপহাস ?
ভূতের রাজা বলে, তাদের-
দেবে এবার বাঁশ !

অন্যলোকের খোঁজে
আসলাম প্রধান

সাগরপারে
বনবাদাড়ে
পথিক- একা বেড়াই
ঝুটঝামেলা এড়াই!
(২)
সময় পেলে
সঙ্গী ফেলে
নির্জনে যে দাঁড়াই-
কল্পলোকে হারাই!
(৩)
মর্ম থেকে
ছেঁকে ছেঁকে
আবর্জনা সরাই
মুক্ত হাওয়া ভরাই !

Aslam prodhan

শীতের দাওয়াই
আসলাম প্রধান

শোনো খবর-
আজ অবসর ।
স্কুল ছুটি, বাসায় আছি
সকাল থেকে সর্দিকাশি
মাঝে মাঝে দিচ্ছি হাঁচি
খাচ্ছি আদা চা’য়ের সাথে
তিন বেলাতে ।

বলেন দাদা, শীতের সময়
অনেকেরই এমনটি হয় ।
খসখসে ভাব হাতে পায়ে
গালে ঠোঁটে- সারা গায়ে,
কারো পায়ের গোড়া ফাটে
কষ্টে হাঁটে ।

গরমজলে
যাও গোসলে ।

হাড়কাঁপা শীত লাগলে কারো
সূর্যালোকেও বসতে পারো ।
ঠান্ডা বাসি খেও না আর-
সবাই খেও টাটকা খাবার ।

এলার্জিভাব যে খাবারে
সেটা খেলেই এটা বাড়ে,
বেছে বেছে খাদ্য খাওয়াই
আসল দাওয়াই ।
ধুলোবালি ময়লা গন্ধ
সে-স্থানেও থাকা বন্ধ ।
বেশি বেশি রাত জাগরণ
ক্ষতির কারণ,
চিকিৎসক ও দাদার বারণ ।

সব ঋতুতে এ শরীরে
যত প্রকার অসুস্থতা-
মূলে নাকি তিনটি অভাব,
ওষুধ- পথ্য- সতর্কতা!

নববর্ষের প্রার্থনা
আসলাম প্রধান

এই বছরে হৃদয়ভরে
সবার জন্যে আশীর্বাদ
বিপর্যয়ের কবল থেকে
দেশবাসী নিক হাসির স্বাদ।

অসুস্হ যে- সুস্হ হয়ে
বাঁচার আলো দেখতে পাক-
নতুন সালে কষ্ট ভুলে
স্বপ্ন-সুখে দিন কাটাক ।

লোকসমাজে দ্বন্দ্ব-বিবাদ
অতিদ্রুত যাক মিটে
অশান্ত যে- সুশান্ত হোক
বাস্তহারা পাক ভিটে ।

মনবাগানে আসুক ফিরে
স্নেহ-মায়া শ্রদ্ধাবোধ
পরস্পরের ভালবাসায়
দূর হয়ে যাক সব বিরোধ ।

জীবন থেকে পালাক সকল
অবক্ষয়ের ক্লান্তিভয়
বিনয়বশে প্রার্থনা এই ,
জগতটা হোক শান্তিময় ।

রাগী মাস্টার
আসলাম প্রধান

টিফিন সময়ে তিনি
বাজে কাণ্ড ঘটাতেন
খেলাঘর ভেঙে দিয়ে
বাচ্চাদেরকে চটাতেন
ক্লাসে তিনি অবিরাম
বেত্রটাকে নাড়াতেন
শিশুদের প্রশ্ন শুনে
রেগেমেগে দাঁড়াতেন
কচিকাঁচা ছেলেমেকে
সামান্যতে পেটাতেন
চিল্লেচিল্লে শাসাতেন ও
মেরে তৃপ্তি মেটাতেন
ছোট্ট সোনামনিদের
বিরুদ্ধে যে দাঁড়ালেন
তাই কী মাস্টারি তিনি
শেষ পর্যন্ত হারালেন ?

Aslam prodhan

শীতের রাতে
আসলাম প্রধান

উত্তরেতে শীতের জ্বালা
ঢাকার জ্বালা ধুলো
দুই জ্বালাতে বিড়ম্বনায়
পড়ছে বুড়োগুলো !
মহাসড়ক নদীপথে
যান চলাচল কোনোমতে-
মাঝে মাঝে অদৃশ্য হয়
পথের দিশা, কূল’ও-
দৃষ্টিসীমায় জটলা করে
নানারকম ভুল’ও !

আমার সাঘাটা চিন্তা
আসলাম প্রধান

এই সাঘাটার জন্যে আমার
চিন্তা কি কি, শোনো-
মাদকদ্রব্য আমজনতা
চিনবেনা কক্ষনো ।
নেশার ঘোরে অন্ধকারে
যুব সমাজ যাতে-
ধ্বংসে না যায়, সর্বসময়
তাই আসে চিন্তাতে ।
এই সাঘাটা মুক্ত হবে
মস্তানী-সন্ত্রাসী-
ক্রাইম থেকে মুক্তি পেয়ে
ফুটবে সবার হাসি ।
মূর্খতা-পাপ বিদায় নেবে
ঘুঁচবে অন্ধকার
বেড়ে যাবে এক শতভাগ
সাক্ষরতার হার ।
নারী-শিশুর হক-অধিকার
সমুন্নত রেখে
অনধিকার চর্চা লোকে
তাড়াবে দেশ থেকে ।
রুগ্ন-বৃদ্ধ নর-নারী
সর্বশান্ত যারা
থাকবে না বঞ্চিত-দুখি
নিঃস্ব দিশেহারা ।
পূরণ হবে সংখ্যালঘুর
ন্যায্য চাওয়াগুলো
দেবে না সেই পাওনাতে কেউ
অবিচারের ধুলো !
উপজেলার মানুষ হবে
অতি পরিষ্কার
সকল প্রকার অবক্ষয়ের
বিরুদ্ধে সোচ্চার ।
জমি দখল বাড়ি দখল
শঠতা-দস্যূতা-
থাকবে নাকো এ অঞ্চলে
বৈরিতা শত্রুতা !
সব অনাচার মুক্ত- নতুন
সাঘাটাকে নিয়ে
গর্ব করে চলবো আমি
দূর শহরে গিয়ে !
স্বপ্নগুলো ছিলো আমার
নিভৃত এ প্রাণে-
এক এক করে পৌঁছে দিলাম
সবার কানে কানে ।

Aslam prodhan

বাবরি মসজিদ
আসলাম প্রধান

আজ থেকে সাড়ে চারশ’ বছর আগে
তুমি হয়েছিলে বাবরের অনুভূতি
প্রকাশ পেয়েছ আজানের ধ্বনি হয়ে
ভেসেছ ভারতে ডুবোজাহাজের মতো !
দ্বীনের দরদি যাত্রীদের বুকে তুলে
ছুটেছ অনেক বছরের পথ ধরে-
কত নদী, কত উপনদী পার হলে,
কত যে পাহাড়, কত বাঁধ ভেঙেচুরে!
তোমার মিনারে আজানের ধ্বনি দিয়ে
নানা অভাগার জুড়িয়ে দিয়েছ প্রান
কোটি কাঙালের ভুল পথ তুলে নিয়ে
সঠিক পথের দানিয়েছ সন্ধান!

পাপসমূদ্রে তুমি যে পুণ্যদ্বীপ
মুসলমানের বেহেশত, বালাখানা
আলোর দিশারী অম্লান ভাস্কর
বিক্ষতপাখির ওড়ার শক্ত ডানা!
যুগ যুগ ধরে নতুন বধুর সাজে
উন্নতশীরে অনুক্ষণ মায়াডোরে
এক এক করে তৌহিদী জনতাকে
কোলে তুলে নিতে হাজার লোকের ভীড়ে

আজ তুমি সাড়ে চারশ’ বছর পরে
কোন পাষাণের শাবলে প্রকম্পিত !
বাজাও বিষাণ কোন বিদায়ের ছলে
ভাঙার জন্য হয়েছিলে নির্মিত!

বড়দের মতো
আসলাম প্রধান

ছোটবাবু কাল থেকে
নাক ঝাড়ে টিসুতে
হামাগুড়ি দিয়ে যায়
টয়লেটি ইস্যুতে-
বড় মানুষের মতো
ভাব অনেক কিছুতে!

গালেহাত- শুয়ে থেকে
চোখ রাখে পেপারে
মনে হবে কাগজের
সব পড়া সে পারে
এ বয়সে এ রকম
ভঙ্গিমা কে পারে!.

হাইস্কুলের বন্ধু
আসলাম প্রধান

আমার “কাজী আজহার আলী
হাইস্কুলের ” বন্ধু যারা-
মুখ লুকিয়ে থাকিস না রে
জলদি করে দে ইশারা!
এই যে অামি বিদ্যালয়ের
পূর্বদিকে, আমতলাতে-
হারানো দিন আসবে কবে,
বসে আছি অপেক্ষাতে !

কাঁঠালচাঁপা, কামিনী ফুল
গাছ দুটোকে দেখি না আর !
কোথায় গেল জগ্রুদাদা-
নৈশকালীন পাহারাদার!

সেই অতীতের বন্ধু যারা-
কেউ হাঁটে না সামনে দিয়ে!
আসে না কেউ দুই-চার আনার
বাদাম-বুটের ঠোঙা নিয়ে!
কোন্ আঁধারে ? কই হারালাম ?
ছাত্রজীবন, বাল্যবেলা-
সঙ্গি-সাথী যে-যার মতো
কখন-কবে ছাড়লো খেলা!
অনেক সাথীর নাম ভুলে যে’
হাতরে বেড়াই স্মৃতির মাঝে-
রাস্তাঘাটের মোড়ে মোড়ে,
জীবনপাতার ভাঁজে ভাঁজে!

মিষ্টভাষী শিক্ষকেরা
কই যে গেছেন অভিমানে !
সকল গুরুর বিরহসুর
বেজে ওঠে কানে কানে!

আয় রে তোরা, খুঁজে দেখি,
কে, কি, কবে হারিয়েছি-
কতটা পথ পাড়ি দিয়ে
কোথায় এসে দাঁড়িয়েছি !

Aslam prodhan

রেলগাড়ি
আসলাম প্রধান

রেলগাড়ি রেলগাড়ি
যাও তুমি কার বাড়ি-
সে বাড়িটা কদ্দুর ?
অর্ণব ও অনীকের
নানাবাড়ি যদ্দুর-
যাবে নাকি তদ্দুর ?

রেলগাড়ি রেলগাড়ি
মেলগাড়ি মেলগাড়ি-
তুমি করো লাইনে
লক্কর ঝক্কর,
আমি পড়ি প্লে’তে
অক্ষর টক্ষর !
শনিবারে ইশকুল চলবে-
তুমি গিয়ে তাড়াতাড়ি
অর্ণব ও অনীককে বলবে !

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব
আসলাম প্রধান

সেকালের হলুদ বা গৌরবর্ণের অট্টালিকাগুলো দেখেই আন্দাজ করা যায়,
এ সব রাজা-বাদশাদের সুখানুভবের প্রাসাদ
এগুলোতে সাধারণের প্রবেশ ছিল অসাধারণ ব্যাপার
আশেপাশের প্রশস্ত-পরিচ্ছন্ন রাস্তাঘাট তাদের একান্ত বলে জনগনের চলাচলে থাকত বিধিনিষেধ

আজ টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া
জাফলং থেকে শ্যামনগর
কুয়াকাটা থেকে ভূরুঙ্গামারী
আখাউড়া থেকে মুজিবনগর- মুজিবের স্বর্ণালী পরশ,
হাজার কিলোমিটার সুপ্রশস্ত মজবুত নান্দনিক হাইওয়ে !

পদ্মা-যমুনার প্রবল জলস্রোত
অশান্ত টেউ ভেঙ্গে নির্মিত
অতীতকে হার মানানো দৈবাকৃতির ব্রিজ- পুরো জাতির মায়াবীবন্ধন !

অসংখ্য রাজকীয় সেতু-কালভার্ট রাস্তাঘাট, অলিগলি সাধারণ বাঙালির জন্য উন্মুক্ত
হলুদ-গৌরবর্ণ ছাড়িয়ে নানা রঙে রঙিন লক্ষ লক্ষ বহুতল সুরম্য অট্টালিকা এখন কেবলি বাঙালির নয়, বাংলাদেশের সকল মানুষের নিজস্ব সম্পত্তি ।
সম্রাটদের গরু-ঘোড়া-গাধার গাড়ি
কাঠের নৌকোগুলো এখন জাদুঘরে দর্শনীয়
কত হাজার বছরের পরিবর্তন-
মাত্র ক-বছরেই !
১৯৭১ থেকে কদিনেই !
পুরো বাঙালি জাতিই আজ গর্বিত নবাব-সম্রাট !
মাত্র একজন মানুষের জন্য-
শেখ মুজিবুর রহমান
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ।

Aslam prodhan

You Might Also Like

No Comments

Please Let us know What you think!?

Translate »
%d bloggers like this: