Ancholik Chora Aslam Prodhan

উত্তরবঙ্গ রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা জেলার আঞ্চলিক ভাষার ছড়া

যমুনাপাড়ের বাশশা
আসলাম প্রধান

প্রকাশকালঃ ১৭-০৮-২০২০

নদীভাঙা মানুষ বা মুই
সোগটি যায়া, শ্যাষে-
ভাসতে ভাসতে আলুম এনা
তোমারঘরে দ্যাশে ।
খোরেতমোরেত্ কেছো না-চাম
খালি এনা চাছিনু কাম,
প্যাটের দায়ে কবাটা দিন
হাত নাড়িয়া খাইম-
আশা আছে, চর জাগিলে
আপন দ্যাশে যাইম ।

কী কমো বা, কপাল এলাও পোড়া,
যমুনা মোর কচ্চে যে ঠ্যাং খোঁড়া-
পিত্তি বছর ভাঙে,
ছৈলপোয়াতি কোছাত্ নিয়া নিয়া
ঘোরোম গাঙে গাঙে !

ভাগিগুষ্ঠী একঠে আছিল্ যারা
কেডা কোনঠে আছে যে বা তারা !
কাঁয়োর সাথে কাঁয়োর দেখা নাই-
বাশশাগুলা ফকির হয়া একন
পরার দ্যাশোত্ কষ্ট করি খাই।

ভাবকাহিনী:

নদী ভেঙে সহায়-সম্বল হারিয়ে ভাসতে ভাসতে তোমাদের দেশে এলাম । আমি দান-খয়রাত চাইতে আসি নাই । আপাতত কিছু দিন তোমাদের দেশে কাজ করে খেতে চাই । নদীতে নতুন চর জেগে উঠলে আবার দেশে চলে যাব ।

যমুনা নদী প্রতি বছর ভেঙে ভেঙে আমার সবকিছু কেড়ে নিয়ে সর্বশান্ত করেছে । স্ত্রী-পুত্র-পরিবার নিয়ে এখন বিভিন্ন এলাকায় কাজের সন্ধানে ঘুরে বেড়াই । আমার নিকটতম আত্মীয়দের কারো সাথে কারো দেখা হয় না । যারা একসময় একসাথে, পাশাপাশি বাদশাহী জীবন-যাপন করেছি, এখন নদী ভেঙে সবাই ফকির । ছন্নছাড়া হয়ে যে-যার মতো দূর-দূরান্তে কষ্টকর জীবনযাপন করছি । ]

যাযাবরের ঠিকানা
আসলাম প্রধান

প্রকাশকালঃ ১৬-০৮-২০২০

ঘি-ডাঙা ওড দিয়া তুমি
কালপানি গাঁও যাবা
গাঁয়ের মোদে নয়াপাড়াত্
চৌ-মোহনা পাবা ।
দখিনমোকে যে-ঘাটা’টা-
সেই ঘাটাখান ধরি,
সাত-আট মিনিট হাঁটার পরে
দ্যাকপা নজর করি-
বায়েমুরাত্ ডিঘি আছে,
সমনে জুমার ঘর-
ডানে মুরার্ বাড়িওয়ালা
একন যাযাবর !
ওত্তি আছে যাযাবরের
ম্যালা পায়ের ছাপ,
খুলির গোরোত্ নিন্দোত্ আছে
তার হারানো বাপ ।
তোমার কাছে তার-ই হয়া
কম মিনতি করি
আইসো এনা সেই কবরোত্
দোয়া-দরুদ পড়ি ।

ভাবকাহিনী:

ঘি-ডাঙা রাস্তা দিয়ে তুমি কালপানি গ্রামে যেও । গ্রামের মধ্যে নয়াপাড়া নামক একটা স্থানে চাররাস্তার মোড় পাবে। দক্ষিণ দিকে যে-রাস্তাটি চলে গেছে, সেই রাস্তা ধরে সাত-আট মিনিট হাঁটার পর লক্ষ্য করবে, বামে একটি পুকুর, সামনে একটি মসজিদ । তার ডানপাশেই যার বাড়ি, সে এখন যাযাবর । ওখানে সেই যাযাবরের পায়ের অনেক চিহ্ন আছে এবং বাড়ির উঠোনেই কবরে ঘুমিয়ে আছেন তার হারিয়ে যাওয়া বাবা । তোমার কাছে যাযাবরের পক্ষ থেকে অনুরোধ, তার বাপের কবরে একটু দোয়া-দরুদ পড়ে এসো ।]


খাঁটি বান্দা
আসলাম প্রধান

প্রকাশকালঃ ১৫-০৮-২০২০

ঘুটু কর‍ি মামলা নাগে দিয়া
ঘরোত আছোম যুতকরি বসিয়া !
এংকরি মুই ট্যাকা কামাই করোম
নাই বাহে মোর চোকোত্ এনা শরম !

পল্লা-পাতর থুছোম এনা ফ্যারোত্
পোয়াখানেক কম দ্যাম এক স্যারোত্ !
বোজোম আগে কাস্টমারের ভাব
পরে করোম নাবের উপুর নাব ।

বাইছাবুইছা চলোম হালাল-হারাম
খালি এনা আইল কাইটা ভিন বারাম !
কোদাল মারোম আ’লের তলেতলে-
জমিন হামার এইংক্যা করি বলে !

মানুষট্যা মুই গাঁয়ের মোদে সোনার চায়া খাঁটি
জাল দলিলোত্ মারিয়া খাম অন্য মানষের মাটি !
সাদাসিদা নোকগুলাকে দিছোম ঠ্যালা-প্যালা
ভুয়া দলিল করি করি হছোম জমিনএলা ।

ভাবকাহিনী:

১। কৌশলে দু’পক্ষের মধ্যে মামলা লাগিয়ে দিয়ে আমি ঘরে চুপ করে বসে আছি । বস্তুত, আমি এ-ভাবেই টাকা কামাই করি । আমার চোখে কোনো লজ্জা নেই।
২। দাঁড়িপাল্লা ও বাটখারায় হেরফের রেখেছি । ওজনে একসেরে একপোয়া কম দেই । খরিদ্দারের চোখ-চাউনি বুঝে লাভের থেকেও বেশি লাভ করি ।
৩। আমি হালাল-হারাম বেছেবুছে চলি । শুধু জমির আইল কাটি, কোদালের মাধ্যমে জমি বাড়াই ।
৪। গ্রামের মধ্যে আমি সোনার চেয়ে খাঁটি মানুষ । জাল দলিলের মাধ্যমে আমি অন্যের জমি দখল করে ভোগ করছি । ভুয়া দলিল করে করে আমি জমিওয়ালাও হয়েছি। ]

ক্যাংকা করি যাম
আসলাম প্রধান

প্রকাশকালঃ ১৪-০৮-২০২০

কোষ্টা কাটোম কোষ্টা কাটোম
কোষ্টাক থোম পিলোত্
কোষ্টাগুলা পিল আইলে ফির
জাক দ্যাম তাক বিলোত্ ।
ভরটা দিনই হাতপাও নাড়োম-
কোন সোমে যে নিক্যাস ছাড়োম
শাওন মাসোত কামের উপর কাম
অনুষ্ঠানোত্ ক্যাংকা করি যাম বাহে মুই,
ক্যাংকা করি যাম?

কাইদনা হালাই কাইদনা হালাই
পানি স্যাচোম ভিঁয়োত্
সার-পানিতি সোগটি খরচ
যায়না এনা জিয়োত্ !
বেছোন তোলোম, গাড়োম ওয়া-
য়্যার মোদে ফির কোষ্টা ধোয়া !
শিনট্যা উব্যা ফোসকা পড়ে চাম-
অনুষ্ঠানোত ক্যাংকা করি যাম বাহে মুই,
ক্যাংকা করি যাম?

ভাবকাহিনী :

শাওন মাসে পাটকাটা , জাক দেয়া, পাট ধোয়া , পাটখড়ি বহন করে বাড়িতে আনা,তারপর কাদাজমি চাষ করে ফসল বোনাসহ নানা কাজের ব্যস্ততায় অনুষ্ঠানের দাওয়াতে যাওয়া কি করে সম্ভব? সেটাই বলা হচ্ছে! ]

চা-র টলের গিয়ানী
আসলাম প্রধান

প্রকাশকালঃ ১৩-০৮-২০২০

হাঁটুর সমান বয়সও নয়,
গপ্পে শিয়ান শিয়ান
চাও বা না-চাও, অরা তোমাক
উব্দেইশ্যা দ্যায় গিয়ান !
ক্যাও দ্যাখে নাই সাট্টিফিকিট,
হাইস্কুল ও কলেজ
আল্লাহ্ তা’লা অরোক দিছে
পশ্মে পশ্মে নলেজ !
চায়ের টলোত্ আড্ডা মারে,
এর-অর থেনে চা খায়–
তাউত্যা পাকায়, আলকুনি দ্যায়,
কার কতা কাক নাগায় !
অরের মোদে পাবা না বা
আল্লাহ্ খোদার ভীতি
সোগ কেছোতি অরা দ্যাকায়
পাকনামি-পণ্ডিতি।
হ্যাকাব্যাকা এগ্লা সাপ-ই
গাঁও সমাজের বোঝা
দুনাত্ অরা ব্যাকাই হাঁটে,
গোরোত্ গেলেই সোজা ।

ভাবকাহিনী:

বয়স ও যোগ্যতার তুলনায় ওরা চাপাবাজিতে পটু; পাক্কা সেয়ানা । তুমি চাও বা না-চাও, ওরা নিজে থেকেই তোমাকে জ্ঞান দিতে এগিয়ে আসে । ওরা কেউ হাইস্কুল বা কলেজ পাস করে নাই ! অথচ ওদের পশমে পশমে জ্ঞান ভর্তি। ওরা গ্রামের চায়ের দোকানে আড্ডা মারে । এর-ওর কাছে চা খায় এবং নানাবিষয়ে বুদ্ধির তাউত্যা ( তাউত্যা একপ্রকার চিকন রশি) পাকায় ! উস্কানিমূলক কথা বলে । অন্যের ব্যক্তিগত বিষয়ে নাকগলায় । ওরা আল্লাহ বা পরপারের ভয় করে না । গ্রামের প্রতিটি ব্যাপারেই পণ্ডিতি দেখায় । সারাজীবন এঁকে বেঁকে চলে, মৃত্যুর পর কবরে গিয়ে সোজা হয় ! ]

গাঁও ব্যাড়াবার সখ
আসলাম প্রধান

প্রকাশকালঃ ৩০-০৭-২০২০

ঢাকাত্ থেনে বাড়িত্ আলুম
গাঁও ব্যাড়ালুম,
সখ মেটেনি তাও-
ক্যাংকরি সখ মিটপে বাহে ?
ঘরোত্ যে-নাই মাও !
ইতিউতি চায়া দ্যাকোম,
সগলারি মাও আছে-
মোর মায়ে যে নিন্ পাড়ে ওই
নদীর বাতাত্,
বাঁশের থোপার কাছে !

দুক্কু নাগে, মায়ের আগে
বাপ-ই ভাগে !
ঘর কর‍্যা আন্দার-
আদ্দে ঘাটাত্ থুয়া হামাক
হোছে পাগার পার !
দোনোজন-ই দ্যাশান্তরি
ছাচ্ছে দুনার মায়া-
জানোম না বা কোনঠে তারা,
ক্যাংকা আছে,
মাটির তলে যায়া !

ভাবকাহিনী:

গ্রামের বাড়িতে এলাম । গ্রাম ঘুরে বেড়ালাম । তবুও সাধ পূরণ হলো না। কীভাবে সাধ মিটবে ? কারণ, আমার মা-যে ঘরে নেই !

এদিকসেদিক ঘুরে দেখি, সবার মা-ই বেঁচে আছেন। কিন্তু আমার মা আছেন নদীর তীরে, বাঁশবাগানে ঘুমিয়ে !
মায়ের আগে বাবা-ই বাড়ি অন্ধকার করে চলে গেছেন । আমাকে মাঝপথে রেখে তারা দুজনেই দুনিয়ার মায়া ছেড়ে অন্য জগতে চলে গেছেন। জানি না, তারা কোথায়, কেমন আছেন মাটির নিচে। ]

ঘটন-অঘটন
আসলাম প্রধান

প্রকাশকালঃ ২৭-০৭-২০২০

এত্তগুলা ডেমেন দিয়া
তোমার সাথে বচ্চি বিয়া।
কাম করিয়া খামো ক্যা?
বাপের বাড়িত্ যামো ক্যা?

বিয়ার কতা শুনা চ্যাংড়া
শরমে তাঁই তলাছে
কারো সাতে কতা না কই
বাড়িত্ থেনে পলাছে !

বাপে খাছে জমিন বেচি
হামি সেটি হাল নে-গেছি !
হামার আছে হাঁটুত্ বল
জমিন দিছি ব্যা-দখল !

ভাবকাহিনীঃ

১। এতগুলো টাকা যৌতুক দিয়ে তোমাকে বিয়ে করেছি । কাজ করে খাব কেনো? বাপের বাড়িতেই-বা যাব কেনো ?
২। বিয়ের কথা শুনে ছেলে শরমে একেবারে মুষড়ে পড়ে। উপায়ান্তর না দেখে কারো সাথে কথা না বলে বাড়ি থেকেই পালিয়ে যায়।
৩। বাপে জমি বিক্রি করেছে। আমি সেই জমিতে হাল নিয়ে গেছি। আমার হাঁটুতে বল আছে, তাই বাপের বিক্রি করা জমি বেদখল দিয়ে শক্তি দেখালাম । ]

পালা বিলাই
আসলাম প্রধান

প্রকাশকালঃ ২০-০৭-২০২০

কালক্যা আতোত্ একখোরা দুধ
মুট্টি খাছে বিলাই
মনে কয় অক্ ধর‍্যা এনা
ইচ্ছামোতে কিলাই ।

আন্দারেমুন্দারে বাহে
দুধকোনা সোগ খায়া,
সাধু হয়া শুত্যা আছে
চকির কানিত্ যায়া !

চুপেচাপে চোরের নাকান
হাপুসহুপুস খাছে
যাচ্ছে দ্যাকা, দুধের সর্ অর্
গালোত্ বাজ্যা আছে।

মোর বাসাতে সুখোত্ আছে,
চাট্যা খায়াদায়া-
মনে কোলে এন্দুর মারে
আরেক বাড়িত্ যায়া !
হামার ঘরের চিকা-ধার‍্যা
মাচ্চে বাহে ঠিক-ই-
এখন খালি উকট্যা বেড়ায়
ত্যাল্চাটা-টিকটিকি !

ভাবকাহিনী:

গতরাতে একবাটি দুধ পুরোটা বেড়াল খেয়ে ফেলেছে । অন্ধকারে সে চোরের মতো দুধ চুরি করে খেয়ে চকির এক কোণায় সাধুর মতো ঘুমিয়ে আছে। সেই যে এই চুরিটা করেছে, তার বড় প্রমাণ, তার গালে এখনো দুধের সর লেগে আছে !

আমার এখানে খেয়েদেয়ে সে মোটামুটি সুখেই আছে। মন চাইলে সে অন্য বাড়িতে গিয়েও ইঁদুর মেরে আসে । কারণ, আমার বাড়ির চিকা-ইঁদুর সব মেরে শেষ করেছে; এখন সে তেলাপোকা ও টিকটিকি খুঁজে বেড়ায়। ]

গাঞ্জা-বাবার দোকানদার
আসলাম প্রধান

প্রকাশকালঃ ১৯-০৭-২০২০

মোর কতা তুই শুনিস নাই
মোক হিসাবোত্ গুনিস নাই
এখন এলা
বোজেক ঠ্যালা !

গাঞ্জা-বাবা,
ডাইল খায়া মর্ ,
দ্যাশের নোকের
গাইল খায়া মর্ –
আগ্যাবে তোক ক্যাডা?
নাল দালানের ভাত খায়া তুই
মরেক শালার ব্যাটা
মরেক শালার ব্যাটা।

তুই হছিলু দোকানদার
বানাইছিলু কাস্টমার
যারা খাছে
সোগ পলাছে ।

তোর কারণে
গাঁওগুলা আইজ
ভালো ভালো
ছাওগুলা আইজ
নষ্ট হোছে পুরা
কোপে কোপে পুলিশে তোর
হাড্ডি করুক গুড়্যা
হাড্ডি করুক গুড়্যা ।

ভাবকাহিনী:

মাদক ব্যবসায়ী ছেলেকে পুলিশে ধরেছে । বাবা-মা তাকে অনেকবার এই ব্যবসা থেকে সরে আসতে বলেছিলেন । এ-ব্যবসার পরিণাম কী, তা তারা ছেলেকে নানাভাবে বুঝিয়েছেন । কিন্তু , ছেলে বাবা-মা’র কথা শোনেনি, তাদেরকে পাত্তাই দেয় নি । আজ সেই অবাধ্য ছেলেকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে । তাই, রাগে-দু:খে গারজিয়ান কড়াভাষায় বলছেন, তুই তো আমার কথা শুনিস নি, আমাকে তো হিসেবে গুণিস নি, এখন ঠেলা বোঝ ! গাঁজা-ইয়াবা-ডাইল খেয়ে মর ! দেশের লোকের অভিশাপে মর ! জেলের ভাত খেয়ে মর ! তুই হয়েছিলি মাদকের দোকানদার ! কত খদ্দের তৈরি করছিলি ! তারা এখন সব পালিয়েছে ! তোর কারণে সুন্দর গ্রামের ভালো ভালো ছেলেরা নষ্ট হয়ে গেছে। পুলিশ তোকে মেরে হাড়হাড্ডি ভেঙে গুড়ো করে দিক !
পাদটীকা: অনেক বাবা-মা-ই এমন কষ্ট-যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছেন। ]

পিছ্লা
আসলাম প্রধান

প্রকাশকালঃ ১৭-০৭-২০২০

হায় বাহে ! কী নাগলো কোপাকুপি,
মাইরের উপুর মাইর-
ঘরোত তুল্যা ভাঙ্গ্যা দিলো
ঠ্যাঙ, কমোরের পাইর ।
দুনার মানষে দেকলো চায়া-
তাও এনা অর হৈল্-ন্যা হায়া ?
নাটির কোপোত্ থামলো না দুপদুপি !

নোজ্যা-শরম শিক্যাত তুলা থুইয়া-
হ্যাং-হ্যাং করি হাসে-
এতোমোতে কিল খায়া, ঠিক-
হোলো না বদমাশে !
ফির বুজি অঁই খা’বে ঠ্যালা,
পলাবে অর চামচা-চ্যালা-
চোকাম পায়া, মান-মন্মান খুইয়া !

ভাবকাহিনী:

পিছ্লা- বদমাশকে ধরে মারের ওপর মার ! একেবারে নিজের সীমানায় নিয়ে মেরে ঠ্যাং ভেঙে দিল । দুনিয়ার মানুষ দেখল, তবু বেহায়ার হায়া হলো না ! কোপ খেয়ে তার দম্ভ থামল না ! লজ্জা-শরম শিকেয় তুলে নির্লজ্জের মতো আবার হি হি করে হাসেও ! এতো কিল খেয়েও যখন ঠিক হলো না সে, ধারণা করা হচ্ছে, হয়ত আবারও মার খাবে । এবার ওর চ্যালা-চামচা যারা পেছনে কলকাঠি নাড়ছে, তারাও ঠ্যালা খেয়ে, অপমান-অপদস্থ হয়ে পালাবে ।]

বানের পরে
আসলাম প্রধান

প্রকাশকালঃ ১৬-০৭-২০২০

বানের পানি আসিয়া মোর
ধান গেল মোট খায়া-
দ্যাখোম খালি চায়া !

হালের ট্যাকা, সারের ট্যাকা-
মুট্টি আছে বাকি
দেম এলা কোত্থাকি?

একেলা মুই চিন্তা করোম,
ঠেকাঠেকিত্ পোলে,
কী খাবে বৌ-ছোলে ?

আবাদসুবাদ সোগ্গি গেল,
ক্যামনে-বা কী খামো ?
কোনঠে ট্যাকা পামো ?

ভাদ্দর-আশিন-কাতি-আগন-
পুরাই যাবে বসা
কী হোবে মোর দষা?

ইলিপ চাবার চাম না বাহে
চিয়ারম্যানের কাছে-
নোজ্যা-শরম আছে !

ভাবকাহিনী:

বন্যা এসে মাঠের সব ধান খেয়ে ফেলল । আমি শুধু চেয়ে চেয়ে দেখছি । ধান লাগানোর সময় জমি চাষবাবদ হালের টাকা এবং সারের টাকা বাকি রেখেছি; সেই দেনা পরিশোধ করব কীভাবে ! একা একা চিন্তা করছি, অভাবে পড়লে পরিবার কী খাবে ! ফসল নষ্ট হওয়ায় বিকল্প কোন কাজে টাকা রোজগার করব ? ভাদ্র মাস থেকে অঘ্রাণ মাস পর্যন্ত পুরো সময় বেকার, এই সময়ে কী অবস্থা হবে ? এলাকার চেয়ারম্যানের কাছে লজ্জা-শরমে রিলিপও চাইতে পারব না।]

সাদাসিধে গাঁওলা
আসলাম প্রধান

প্রকাশকালঃ ১৫-০৭-২০২০

মুই তোর বড় নম, তুই বড় মোর-
মোর চায়া বেশি তোর জ্ঞানের বওর,
ন্যাকাপড়া কচ্চিস,
গাঁও থেনে সচ্চিস,
ঘুচ্চিস, দেকচিস নানান শহর।

চাষাভুষো নোক মুই, কাম করি খাম-
মোর প্যাঁচালের নাই চারানাও দাম,
আগাব্যালা হাল বম,
পাছাব্যালা জাল বম,
সাতদিনে দুই দিন বাজারোত্ যাম ।

আজনীতি-ফাজনীতি ? বোজোম-না তাক-
ইলিপটিলিপ নিয়া গলাম না নাক,
কোনমোকে যায় ক্যাডা,
কার ট্যাকা খায় ক্যাডা,
ক্যাংকরি কোম-বাহে, জানোম-না যাক ?

ভাবকাহিনী:

তোর চেয়ে আমি বড় না, তুই-ই বড় । তোর জ্ঞানের পরিধি বেশি । লেখাপড়া করেছিস, গ্রামের বাইরে গেছিস, নানাশহর ঘুরে বেড়িয়েছিস, দেখেছিস । আমি গ্রামের চাষাভুষো লোক। আমার ক্ষুদ্রজ্ঞানের চার আনাও দাম নেই। আমি সকালে হালচাষ করি, বিকেলে জাল বাই । সাত দিনে দুই দিন হাটবাজার করি । রাজনীতি-টাজনীতি বুঝি না । রিলিফের মাল নিয়ে মাথা ঘামাই না । কার পক্ষে কে গেল, কার টাকা কে খেলো, এ-সব বিষয়ে কীভাবে বলব ? আমি তো এ-সব খবর-ই রাখি না ।]

মুই তোর নোক
আসলাম প্রধান

প্রকাশকালঃ ১৪-০৭-২০২০

এবারকা মুই এনা কুরবানি ঈদ-
শাগাই-কুটুম নিয়া করিম বাড়িত্ ॥
চাকরির কাজকামে সময় না-পাম
ম্যালা দিন হৈল বাহে গাঁওত না-যাম ॥
ছোট্টকালের কাকো পাম না নাগাল
শহরোত মনমতো নোকের আকাল ॥
চ্যাংড়াবশোত্ পুরা দ্যাশ ব্যাড়াছোম
ভিটাঘাটা কতঠেনে নিছিলুম দোম ॥

সগলাকি থুয়া আজ আছোম বিদ্যাশ
ঈদোত্ বাড়িত্ যায়া ছাড়িম নিক্যাশ॥
ঘাটে ঘাটে উক্টেম আগ্গার দিন
যেঠে যেঠে হোইছোম পরিচয়হীন॥
কাউবাউ করি কোম হামার গাঁয়োক,
ভুলিস না কোনো দিন, মুই তোর নোক ॥

ভাবকাহিনী:

এবার আত্মীয়-স্বজনসহ গ্রামের বাড়িতে কোরবানি ঈদ করব । চাকরিবাকরি ও নানাকারণে অনেক বছর গ্রামে ঈদ করা হয় না । বাল্যবন্ধুদের সাক্ষাত মেলে না । এ-শহরে আজ সেইসব বন্ধুর খুব অভাববোধ হয় ।
ছেলেবেলার অনেক সময় পুরো গ্রাম ঘুরে বেড়িয়েছি, ভিটে-ঘাটায় কতো বিশ্রাম নিয়েছি । সবকিছু ত্যাগ করে আজ বিদেশ-বিভুঁয়ে বিরহযন্ত্রণায় আছি । ঈদে বাড়ি গিয়ে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলব । ঘাটে ঘাটে খুঁজে বেড়াব, শৈশব কৈশোরের ফেলে আসা দিন । যেখানে যেখানে আমার পরিচয় বিপন্ন, সেই সেই জায়গাতে হারানো দিনের কথা মনে করব । গ্রামকে অনুরোধ করে বলব, তুই আমাকে ভুলিস নে, আমি কিন্তু তোর-ই লোক। ]

বই মেলা শেষ- বুড়োতোষ ছড়া
আসলাম প্রধান

বইমেলা শেষ-বইমেলা শেষ
হিসেব মিলাও শিঘ্রি
কয়খানা বই গেছে অনুদান
কয়টা হয়েছে বিক্রি !
লাভ লোকসান কত পরিমান !
চিল নিয়ে গেছে কার কার কান !
বই ছেপে কার স্বপ্ন শ্মশান !
সাকসেস কার ফিকিরি !
এটাও মিলাও, কোন বই পেল
সেরা বিক্রির ডিগ্রি !

দুরাশা- বুড়োতোষ ছড়া
আসলাম প্রধান

ভেবেছিলাম, কবি আমি
অন্যতম সেরা-
লেখা পড়ে কমেন্ট করে
প্রিয় সুহৃদেরা ।
জ্ঞানীরা কেউ এড়িয়ে যান
লাইক মেরে বেড়িয়ে যান
আমার টাইম লাইন-
তদুপরি আশা করি
করব আমি শাইন !

বইমেলাতে ঘুরে বেড়াই
ব্যাগ ঝুলিয়ে কাঁধে
আটকে না কেউ আমার বইয়ের
ক্রেতাধরা ফাঁদে!
গান-কবিতা ছড়ার পাঠক ?
তারা তো প্রায় সবাই আটক
ফেসবুকে ফেসবুকে-
নেটের বদৌলতে ও-সব
সবার মুখে মুখে ।

প্রতিবছর স্বপ্ন দেখি
পদক বুঝি পেলাম
পাওয়ার আগেই গুরুজনের
চরণে দেই সেলাম !
কিন্তু না গো, বিধি যে বাম
তালিকাতে থাকে না নাম-
পদকটা যায় দূরে
হতাশ হয়ে পড়ে থাকি
চরকি ঘোরা ঘুরে !

বন্ধুরা কেউ সান্ত্বনা দেয়,
ধৈর্য হারাস না রে
পদক’টা নিক আপাতত
ওপরতলার স্যারে।
তারপরে তোর সম্মাননা
ছেলে-মেয়ে, আপনজনা
গ্রহণ করে, তোকে
দিয়ে দেবে গোরস্থানে-
শ্মশান , পরলোকে ।

টিকটিকির বিচার- বুড়োতোষ ছড়া
আসলাম প্রধান

যা শুনেছ, ঘটনা সব ঠিকই-
সিংহমামা মেরেছে টিকটিকি!
লালকালিতে করেছে হেডলাইন,
খবরপাড়ার যত্ত সাময়িকী !

রাজাসনে বীরত্বে সে সেরা,
বলছে এটা অবুঝ বালকেরা!
খেতাব দেয়া উচিত কিনা, ভেবে-
কেতাব খুলে বসেছে ভাগ্নেরা !

মাকড়সা ভয়ে দিশেহারা
ঘাড়ে এসে কখন পড়ে পারা!
বিপদ থেকে কী-যে আরাম পেল-
হতচ্ছাড়া, হিংসুটে মশারা !

দুর্বল- বুড়োতোষ ছড়া
আসলাম প্রধান

Aslam-prodhan

পয়সাকড়ি নাই বলে
বস্তিবাসী, তাই বলে
ডাকে না কেউ ভাই বলে
মনে মনে
আচরণে
করে কেবল ঘৃণা
ঠিক কিনা- ঠিক কিনা !

ক্ষমতাহীন, তাই বলে
সকলে দুরছাই বলে
ওপরে লোক নাই বলে
এ দুর্গতি,
পদোন্নতি,
চাকুরি পাচ্ছি না
ঠিক কিনা- ঠিক কিনা?

জোর- বাহুবল নাই বলে
শান্তিপ্রিয়, তাই বলে
সম্মানে ভয় পাই বলে-
দস্যু দ্বারা
ভূমিহারা !
মামলাতে পারি না
ঠিক কিনা- ঠিক কিনা?

নবীন লেখক- বুড়োতোষ ছড়া
আসলাম প্রধান

খুদ-নগণ্য
খ্যাতির জন্য-
বেজায় ‘ব্যস্ত’ হইলাম
লিখার লাইগা
রাত্রি জাইগা
মশার কামড় সইলাম !
কি স্বাদ পাইয়া
কাম ফালাইয়া
এ কোন লাইনে আইলাম ?
সব হারাইয়া
বই ছাপাইয়া
কেমন ধাক্কা খাইলাম !
বিক্রি হয় না
কেউ তা লয় না-
খবর-টবর লইলাম
বাধ্য হইয়া
কিন্না লইয়া
নিজেই পাঠক হইলাম (?)

মনের শান্তি
কাটছে ভ্রান্তি
কাব্যচর্চা কইরা –
হইব নি:স্ব
ভুলবে বিশ্ব
যখন যাইব মইরা !

মহারাজ – বুড়োতোষ ছড়া
আসলাম প্রধান

হাঁটছি গাধা-
সামনে মুলো!
কেউবা দেখি
ভাঙা পুলও!
হারাচ্ছি কেউ
দুটি কূলও!

দৃষ্টি কারো
করছে ভুলও,
দুটো কানে
তালা-তুলো-
দিচ্ছি তবু
পরকে ধুলো!

হচ্ছি কারো
চক্ষুশূলও !
নড়ছিনা তাও
কেউ একচুলও!
যে-যেখানে বসে আছি আজ-
সবাই ভাবি, আমিই মহারাজ!

নানাকাহিনী- বুড়োতোষ ছড়া
আসলাম প্রধান

ছেলে-মেয়ের দেইনি বিয়ে
এটা সবার জানা
তবুও সব দেখা পেলেই
ডাকে নানা নানা !

এই বিষয়ে কদিন থেকে
চিন্তিত একটানা
নিজে নিজে মনে মনে
হচ্ছি ফানা ফানা !

গিন্নিকে তাই চুপে চুপে
বললে ব্যাপারখানা-
ও বলে কী, তোমার এখন
চুলদাড়ি পাকা না ?

চোর তাড়ুয়া- বুড়োতোষ ছড়া
আসলাম প্রধান

গভীর রাতে হঠাৎ হঠাৎ
শব্দ শুনি খটাৎ খটাৎ !
কীসের আওয়াজ-কিসের আওয়াজ !
শয়ন থেকে উঠি-
আস্তে আস্তে বেড়ালপায়ে
বারান্দাতে ছুটি !

ঝাপসা ঝাপসা অন্ধকারে
মনের ভয় ও সন্ধ বাড়ে !
দেখতে পেলাম পাশের বাসায়
চোর এসেছে দুটো-
চলছে তাদের তালা ভাঙা
দরজা কাটাকুটো !

বুকে অনেক সাহস করে
ভীতগলায় জোরেশোরে
বলছি যখন, কে-রে তোরা-
কে-রে ? কে-রে? কে-রে?
অমনি দু’জন দৌড়ে পালায়
হাতুর-বাটাল ছেড়ে !

নাম সমাধান- বুড়োতোষ ছড়া
আসলাম প্রধান

Aslam-prodhan

নাতির কি নাম দেবেন নানা
চিন্তা করে না-পান
অভিধানেও নাম খোঁজেন, আর
মাঝে মাঝে চা খান!

যে-নাম হবে মিষ্টি-মধুর
লোক দেবে স্বীকৃতি
স্কুলে যে নামখানিতে
ঘটবে না বিকৃতি-
এমন একটা নাম পেতে চান তিনি
হবেও না যে নামটা বিকিকিনি!

যেমন ধরো, নামটা কারো ‘বুলেট’
দুষ্ট যারা, পাল্টে দিল ‘টু-লেট’ !
সমস্যা এইখানে-
নামের ভেতর অনাম ঢুকে
হারায় নামের মানে !

নাতির নামটা দেবেন না তাই ‘খোকা’ও-
মূর্খ যারা, ভাবতে পারে
বাচ্চা বোকাটোকাও ।

নানার এসব যুক্তি শুনে
নানি বলেন, থামো-
ছন্দমিলের দ্বন্দ্বে গেলে
পাবে না ঠিক নামও !

এই যে দ্যাখো
আমার নামটা ‘আঁখি’
আঁখির সাথে পাখি মেলে
‘রাখি’ মেলে
মেলেও ‘মাখামাখি ।
ছড়ায় ছড়ায় বলতে পারো
পাবদা পুঁটি-টাকি
ঝাঁকাঝাঁকি-ডাকাডাকি
কিংবা চাখাচাখি !

তোমার নামেও ছন্দ হবে-
আবুল বাকি- ফাঁকি
তাই বলে কি আমরা দুজন
নামছাড়া কেউ থাকি ?
আসল কথা নামেতে নয়-
মানুষ বড় গুণে
‘লোকটি ভালো ‘সবাই বলে
গুণের খবর শুনে ।
একটা ভালো অর্থ দেখে
নাম রেখে দাও নাতির
গুণ দিয়ে সে করবে সেবা
সমস্ত দেশ-জাতির ।

ছোট্ট দুকনা কতা- বুড়োতোষ ছড়া
আসলাম প্রধান

বিসমিল্লাহ বিসমিল্লাহ কয়া ন্যাকা কল্লেম শুরু
সালাম ও পেন্নাম কল্লেম- হামার যারা গুরু !

চ্যাংড়া প্যাংড়া ময়-মুরুব্বি, শোনেন সর্বজনা
ছোট্ট একনা পুঁথি বাহে কত্তিছি বর্ণনা !

তোমরা যারা বৈদ্যাশ খাটো দ্যাশের মায়া ছাড়ি
তোমাহেরে কতা কয়খান খুব বেশি দরকারি !

পত্তম নম্বর কতা হৈল, তোমরা যেঠেই যাও
সেঠি যায়া মাইনষের সাথে কৈও দ্যাশের আও !

তোমার জেলাত কোনঠে কোনঠে দ্যাকার কী কী আছে
গপ্পে গপ্পে কয়া দেইও অন্য মাইনষের কাছে!

জ্ঞানী গুণীর জ্ঞানের বাণী জানাইও সগলাকি
ভালো খবর প্রচার কৈরো, মন্দগুলা ঢাকি !

দ্বিতীয়ত: সবাকে মুঁই জানাচ্ছোম মিনতি
এমন চিন্তা করবা না, যা নিজ এলাকার ক্ষতি !

অল্পেএ্যানা ভুলের জইন্যে বেজায় ক্ষতি হয়
কতাকোনা দেলের মদ্যে থুইও মহাশয় !

দুনাত হামরা বাঁচি থাকমো ক্যাডা কয়টা দিন-ই
সগলেরে সগলাই যেনো বন্ধুর মতোন চিনি ।

উনিশ সালের বানোত্- বুড়োতোষ ছড়া
আসলাম প্রধান

ডুবলো বাহে আবাদশুবাদ
উনিশ সালের বানোত্
হাঁটুপানি ঝটকা দিয়া
উঠলো যে মোর -কানোত্ !
কাপড়াচোপরা সতোত্ ভাসি-
গাও হৈল মোর উদাম
ইলিপ দিবে ক্যাংকরি মোক ?
ডুবলো বুজি গুদাম!
গাইবান্ধাত্- ডিসি সাবের
ঘরের গোড়োত্ পানি-
দুকান-একান নাও গেলি সোগ
কচ্ছে টানাটানি!
কোনঠে কেডায় কি খাচ্চে, তার-
খবর কেড়ায় আখে-
কোলজ্যা কাঁপে ছৈলপোয়াতির
বানের পানির পাকে !

কাঁচা-পাকা সড়ক, বিরিজ-
চামছেলা-পাওভাঙা
মাইনসে এনা উকট্যা বেড়ায়
এললাইনের ডাঙা!
কতিছে ক্যাও,গজব বাহে!
আল্লাহ বেজার হোছে-
ক্যাও কতিছে, বান দিয়া তাঁই
জমিনগুলাক মোছে!
কেছো বছর চাষের পরে
দুব্বলা হয় মাটি
গোসল দিয়া, পলি দিয়া
মাটিক করে খাঁটি!
ম্যালা ম্যালা অত্যাচারোত্
ভিঁ-হয় অনুর্বরা-
বন্যা হলি, বিস্টি হলি
পাক হয়া যায় ধরা !

ফাঁকির বিয়া- বুড়োতোষ ছড়া
আসলাম প্রধান

পলের পালা বড় দেখি
বেটিক দিলা বিয়া
দেখলা না তো পাড়ার মোদে
এনা খবর নিয়া !
পলগুলা সোগ কেনা বাহে!
নক্ষট্যাকা দেনা বাহে!
আলস্যা ছ্যারা, বেটিছোলোক্
ভাত দিবে কী দিয়া !
চতুর্মুরা না-পুছা ক্যা
ছোলোক দিলা বিয়া?

ভরটা দিনই চ্যাংড়া খ্যালে তাস
জুয়া’তি তাঁই হোছে সব্বনাশ !

ভাবার্থ :

(চালাকি করে খড় কিনে এনে বড় পালা দিয়ে রেখেছে; যাতে কনের বাবা মনে করেন, ছেলের অনেক জমিজমা আছে ! কিন্তু জনৈক গ্রামবাসী ব্যাপারটা জানেন এবং মেয়ের বাবাকে বলে দেন; ছেলে বেকার, জমি নেই, উপরন্তু লক্ষ টাকা দেনা আছে! জুয়া খেলে সব শেষ করেছে! আশেপাশে জিজ্ঞেস না করে ওই অলস-অকর্মা ছেলের সাথে মেয়ের বিয়ে দেয়া ঠিক হয়নি।)

মোরগের ডিম- বুড়োতোষ ছড়া
আসলাম প্রধান

কে বলেছে, কার বাড়িতে-
মোরগ পাড়ে ডিম
সেই খবরে নানা’র গায়ে
রক্ত হলো হিম !

পুরুষ জাতি বাচ্চা দেবে
কী করে সম্ভব ?
এটা যারা রটিয়েছে-
ভন্ড , শালাসব !
খবরখানার আগাগোড়া
পুরোটা গুজব!

আইসো তুমি- বুড়োতোষ ছড়া
আসলাম প্রধান

Aslam-prodhan-porm

চ্যাংড়া তোমার কচ্চে হামার
গাইবান্ধাত্ বিয়া
শোকোরবারে আইসো বাড়িত্
বৌমা’কোনাক্ নিয়া !
ভাত খিলামো তেলেনবিলের
ট্যাংরা-পুঁটি দিয়া
সগলে হামরা ঘুরমো বিলোত্
নায়োতো চড়িয়া-
আইসো তুমি -আইসো তুমি
বৌমা’কোনাক্ নিয়া।

তোমার ব্যাটাক্ দ্যাখোম্ না মুই
ম্যালা বছর হোলো
কেও দ্যাখেনি তোমাহেরে
হামারো ছোলপোলও-
নাতি-পুতিক না দেখি, মোর
বাপ-মা’ও যে মোলো !
উদিংক্যা মোক তোমার ভাবী
এল্যা কতাই কোলো-
আইসো তুমি -আইসো তুমি
দেখপে হামার ছোলও ।

ভাবার্থঃ

(তোমার ছেলে আমার গাইবান্ধায় বিয়ে করেছে । বৌমাকে নিয়ে শুক্রবারে বেড়াতে এসো । তেলিয়ান বিলের তাজা ট্যাংরা পুঁটি মাছ খাওয়াব, বিলে নৌকায় চড়ে বৌমাসহ সবাই ঘুরে বেড়াব।
তোমার ছেলেকে বহু বছর হলো দেখিনি, তাছাড়া আমার ছেলেপেলেও তোমাদের কাউকে দেখেনি! নাতি-পুতি না দেখে আমার বাবা-মা’ও মারা গেছেন! পরশু দিন তোমার ভাবী দু:খ করে এসব কথা বলেছে! তুমি এলে আমার ছেলেপেলেও দেখবে এবং পরিচিত হবে !)

শরতের ফ্রি অফার- বুড়োতোষ ছড়া
আসলাম প্রধান

বোনারপাড়া স্টেশনের
খুব নিকটে, দখিন পাশে-
দেখতে পাবে গোটাকয়েক
কৃষ্ণচূড়া বৃক্ষ আছে !
ভাদ্রমাসের গরমেতে
কারো কপাল ঘামলে
একনিমিষে স্বস্তি পাবে
সেইখানেতে থামলে!
বাতাস পাবে ঠাণ্ডা, ঝিরঝিরি-
সব পথিকের জন্য সেটা ফ্রি!

হাইস্কুলের সামনে আছে
একটা বড় পুকুর
পুকুরপারেও দেখবে ফ্রি
শরৎকালের দুপুর!

রাঘবপুরের ভূত- বুড়োতোষ ছড়া
আসলাম প্রধান

বোনারপাড়া কলেজ থেকে
অল্প দূরে
রাঘবপুরে
ফকির পাড়ার বাঁশবাগানে
ভূত ছিল যে কতো-
গভীর রাতে তাদের নাকি
রঙ-তামাশা হতো!

সে-জঙ্গলেই বাড়ি করেন
আজহার আলী চাচা
কী দু:সাহস অন্ধকারে
ভূতের সাথে বাঁচা !

সেখান থেকে মাইল খানেক
পশ্চিমে উত্তরে
কোন সাহসী কবে কখন
মেরেছে ভূত ধরে-
জায়গাটাকে
সব বল “ভূতমারা”-
সে-স্থানেও এখন অনেক
লোক বসতি পাড়া !

বনবাগানে এক সমানে
হচ্ছে বসত ঘর
ভূতের সাথে বনের পশু-
পাখি দেশান্তর!

ট্রাফিক জ্যাম-বুড়োতোষ ছড়া
আসলাম প্রধান

ডানের গাড়ি বামে থামে
রাস্তা করে বন্ধ
বামের গাড়ি পেছন দিকে
হারায় গতি-ছন্দ !
যাত্রী থাকে আটকে-
এই কথাটা কানে কানে
বলব বড়লাটকে!

সিগন্যালে যে’ হোঁচট খেয়ে
সব থাকে গালফুলে-
সবুজ বাতি ক’বার জ্বলে
ট্রাফিকে যায় ভুলে!
যাত্রী করে কষ্ট-
একইসাথে এ কথাটাও
বলব আমি পষ্ট!

মুখের পাড়া
আসলাম প্রধান

প্রকাশকালঃ ১৩-০৭-২০২০

বেজায় শিয়ান ছ্যারা
এঠের ন্যাটা ওঠে দিয়া
ওঠের ন্যাটা এঠে নিয়া
বাজায় ন্যারাভ্যারা

এইংক্যা শিয়ান ছ্যারা-
ঘাড়ও বেজায় ত্যাড়া
ভালোমন্দ কেছো কোলে
আতোত্ ভাঙে ব্যাড়া!

ভেষণ খারাপ চোপা
আগ্যা যায়া তার মুখোতে
কাঁয় নাগাবে টোপা ?
নাই-যে জিবাত্ পাড়া-
সগলারি ভয়,
কাক যে কী-কয়-
এক্কে পুরা নারা ।

মানে না মাও-বাপোক
জর্ম দিয়া ঘরোত্ তারা
পোষে গোমাসাপোক ।

ভাবকাহিনী:

সমাজের এক দুর্দান্ত দুষ্টু-সেয়ানা ছেলের কথা বলা হচ্ছে , যে এখানকার কথা ওখানে, ওখানকার কথা এখানে বলে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে । সে এমন সেয়ানা ও ঘাড় ত্যাড়া যে, তাকে কেউ ভালোমন্দ কিছু বললে রাতে তার ঘরের ব্যাড়া ভেঙে দিয়ে আসে । সে এমন চাপাবাজ, কেউ এগিয়ে গিয়ে তার মুখে টোপা লাগাতে পারে না, কারণ, তার ঠোঁটে কোনো পাড়া ( বাঁশের তৈরি মাছধরা যন্ত্রের বিশেষ দরজা, যার ভেতর দিয়ে মাছ খাঁচায় প্রবেশের পর আর বেরোতে পারে না, এমন প্রবেশ পথ ) নেই, কখন কাকে কী ফায়সা-অশ্রাব্য গালি দিয়ে বসে, সেই ভয় সবার মনে কাজ করে । নারাদের (কথায় কথায় যারা অশ্লীল বাক্য বলে ) মতো মুখ । মা-বাবাকেও গ্রাহ্য করে করে না সে । এমন ছেলেকে জন্ম দিয়ে বাবা-মাও যেন ঘরে গোখরো সাপ-ই পুষছেন ।

বুড়োবুড়ির গপ্পো
আসলাম প্রধান

প্রকাশকালঃ ০৮-০৭-২০২০

Aslam-Prodhan

নকডাউনের খবর শুনি
পচ্চিনু ফাঁপরোত্
উদিনক্যা তাই ঘুরি আচ্চোম
বালাসি বন্দরোত্ ।
সেই সোমান্তে দিছি বাহে
বড়বেটির বিয়া
নাতিক নিয়া ঘুচ্চি হামরা
নদীর বাতা দিয়া ।

কাল গেছিলুম বারোকোনা
ছোটবেটির বাড়িত্
দুপ্রে খায়া ঘুন্নু যায়া
সাঘাটা কাচারিত্ ।
এটে-ওটে কত জাগা
ব্যাড়েয়া ব্যাড়েয়া
পরে আচ্চি অটোত্ চড়ি
হাওয়া খায়া খায়া ।

দোনো জাব্দে গপ্পেসপ্পে
টুকুর টুকুর হাঁটি
আজ এনা ব্যাড়াবার গেছি
বোনারপাড়া-বাটি ।
নকুশেডের কাছে যায়া ইতিউতি চাম-
কতো কি আছিলো বাহে, উটকিয়া না-পাম !
গায়েব হয়া গেইছি সোগি,
অ্যালকলোনী-বাবুপাড়ার ঠাট !
চতুর্মুরা দ্যাখোম খালি
মরামরা- ধুয়া ধুয়া মাঠ !

ভাবার্থ:

করোনায় লকডাউনখবরে এতদিন ঘরের মধ্যে বন্দি থেকে তারা খুব ফাঁপরে পড়েছিলেন। গত পরশুদিন তাই বালাসি নৌ-বন্দরে ঘুরতে গেছিলেন। সেখানে তাদের বড়মেয়ের শ্বশুর বাড়ি। নাতিকে নিয়ে যমুনা নদীর তীরে ঘুরে বেড়িয়েছেন । গতকাল গেছিলেন ছোটমেয়ের বাড়ি বারোকোনা গ্রামে। সেখানে দুপুরে খাবার খেয়ে সাঘাটা কাচারিসহ অনেক জায়গা ঘুরে দেখেছেন। আসার সময় তারা একটা অটো ভাড়া করে হাওয়া খেতে খেতে বাড়ি এসেছিলেন। আজ বুড়োবুড়ি টুকটুক করে হেঁটে গপ্পেসপ্পে বোনারপাড়া ও বাটি নামক এলাকা ভ্রমণ করেছেন । কিন্তু খুব কষ্ট পেয়েছেন, বোনারপাড়া রেলওয়ে-লোকোশেড , রেলকলোনী-বাবুপাড়ার আশপাশটা দেখে । সেখানে ভ্রমণপিপাসুদের দেখার মতো দর্শনীয় কত কী ছিল, আজ সেখানে আগেকার স্থাপনার কিছুই নেই ! পুরো এলাকা যেন মৃতপুরী, ধুধু মাঠ ! এ-দৃশ্য দেখে তারা খুব ব্যথা পেয়েছেন, হতাশ হয়েছেন ! ]

বজ্জাতের হাড্ডি
আসলাম প্রধান

প্রকাশকালঃ ০৭-০৭-২০২০

মানুষকোনার গিরাত্ গিরাত্
ব্যাহামি-বজ্জাতি
ক্ষতির তালোত্ বসি থাকে-
পিত্তিটা ঘাটাতি ।
উটক্যাপাটক্যা খালি বাজায় ন্যাটা
গাঁওলারা কয়, ‘সেই মারানির ব্যাটা’ !

অল্পেএনা ন্যাকাপড়া
থাকিল যদি অর-
ইউনিয়নের মানুষগুলার
আছিলো খবর !
মোকদ্দমা- ভ্যানক্যাসে ফ্যালেয়া !
হাড্ডিগুড্ডি খাইলহেনে চাবেয়া।

গাঁয়ের নোকোক্ পিতলাবে অঁই,
থুবে ভেষণ চাপে-
সে-জন্যে অক ন্যাকাপড়া
করায়-ও নাই বাপে !
বাপ ও মায়ে একনা ভালো কামে
শুতি আছে কবরোত্ আরামে!

ভাবার্থ:

সমাজের এক দুষ্টপ্রকৃতির অশিক্ষিত-মূর্খলোকের কথা বলা হচ্ছে । তার শরীরের প্রতিটি গিরায় গিরায় ব্যাহামি-বজ্জাতি লুকানো । সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রেই সে অন্যের ক্ষতির চিন্তা করে । এ-জন্যে সমাজের লোকেরা তাকে প্রচণ্ডরকম ঘৃণা করে, মনে মনে অশ্রাব্য ভাষায় গালিও দেয় । তার যদি সামান্যকিছু লেখাপড়া থাকত, তবে শুধু নিজের গ্রাম কেন, পুরো ইউনিয়নবাসীর খবর করে দিত সে ! এর-ওর সাথে উল্টোপাল্টা মামলা-মোকদ্দমা লাগিয়ে দিয়ে হাড়হাড্ডি চিবিয়ে খেত !
গ্রামের মানুষকে সে অত্যাচার করবে, অশান্তিতে রাখবে, এটা তার বাবা-মা বোধহয় আগেই বুঝতে পেরেছিলেন ! তাই কী তারা ছেলেকে লেখাপড়া না-শিখিয়ে ভালো কাজ করেছেন ! আর এই ভালো কাজটুকুর জন্যেই হয়ত তারা কবরেও শান্তিতে আছেন! ]

জামাইয়ের চাকরি
আসলাম প্রধান

প্রকাশকালঃ ০৬-০৭-২০২০

Ancholik Chora Aslam Prodhan
Aslam-prodhan

চাকরি পালো তোমার পিছে
তোমার পোস্টের অনেক নীচে
কপাল দ্যাখো তার-
হামার বেটিক বিয়া করি
কত কী কারবার!

ঢাকাত পাঁচটা বাড়ি কচ্চে
মাইক্রো-মটর গাড়ি কচ্চে
ভাড়াত্ দিছে তাক-
তোমার কী কী আছে বাহে
কও এনা হামাক?

ম্যালা ট্যাকা বেতন মাসে
তারচা বেশি উপ্রি আসে
গাঁও কিন্তিছে তাঁই-
তোমার ক্যামা কোনোঠেনে
শেংকা কেছো নাই ?

জামাই-বেটি ঘুরি ব্যাড়ায়
মাঝেসাজে বিদ্যাশও যায়
সেঠেও বাড়ি তার-
তুমি-ও তো চাকরি কল্যা
কী আছে তোমার?

ভাবকাহিনী:

তোমার পরে এবং তোমার নীচের পোস্টে আমার মেয়ের জামাই চাকরি পেলো। এরপর আমার মেয়েকে বিয়ে করে তার কপাল খুলে গেল। ঢাকায় পাঁচটা বাড়ি করল, গাড়ি করল, সেগুলো ভাড়া দিয়েছে। তোমার কী কী আছে বলোতো ?

অনেক টাকা তার বেতন, বেতনের চেয়ে উপরি-ই বেশি। সে পুরো গ্রাম কিনতেছে । কিন্তু, তোমার কোনো উন্নতি দেখি না কেনো ?

আমার মেয়ে-জামাই আনন্দভ্রমণ করে, মাঝে মাঝে বিদেশেও যায়, সেখানেও তার বাড়ি আছে। তুমিও তো চাকরি করছ, তোমার কী আছে?

পাদটীকা: জামাইয়ের অর্থবিত্তের বড়বড় গল্প করে তৃপ্তির ঢেকুর প্রচার করা গ্রামের কিছু কিছু শ্বশুর-শ্বাশুড়ির চিরায়ত অহংকার । এ-ছড়ায় সেই অবক্ষয়ের চিত্র অংকনের চেষ্টা করা হয়েছে ]

ছ্যাঁচড়া কাস্টমার (বুড়োতোষ ছড়া)
আসলাম প্রধান

প্রকাশ কালঃ ০৫.০৭.২০২০

মোর কাছে অঁই বাকি সদাই নিয়া
একন হাঁটে আরেক ঘাটা দিয়া
এক্কে পুরা ছ্যাঁচড়া-
দেওয়ার সোমে বোজোম নাই অঁই,
এইংক্যা হোবে ঘ্যাঁচড়া !

অল্পেএনা তবিল নিয়া
ব্যবসা করোম মুই-
কও তো বাহে, নগদ ট্যাকাত মাল কিনিয়া
ক্যামনে বাকি থুই?

ট্যাকা না দেক, করেও না তাঁই দ্যাকা
ক্যাংকা করি জানমো ওমার ঠ্যাকা?
মিছা না-গ, সত্যি-
কোটে কোটে ধান্দাতে অঁই
সদাই কেনে পত্তি !

কেডাবান অর মিটা কতাত
নিত্তি বাকি দ্যায়-
চাটিত্ পড়ি দিয়া দিয়া শ্যাষে পুরা
তবিল-ই খিল্যায় !

ভাবকাহিনী:

(ক্ষুদ্র দোকানি বলছে, তার এক খদ্দের বাকিতে সদাই নিয়ে এখন অন্যরাস্তা দিয়ে হাঁটে । বাকি দেয়ার সময় বুঝতে পারেনি, সে এমন ছ্যাঁচড়ামি করবে ! অল্পপুঁজির ব্যবসায়ী সে । নগদ টাকায় মাল কিনে বাকি দিয়ে দিনের পর দিন কীভাবে টাকা ফেলে রাখবে? কাস্টমার অন্তত দেখা করে তার সমস্যার কথা বলতে পারত ! কিন্তু তাও করে নি। অথচ, সে অন্য দোকান থেকে প্রায় দিন-ই বাজারসদাই করে। দোকানির সন্দেহ, হয়ত কেউ তার মতো মিষ্টিকথায় ভুলে বাকি দিয়ে দিয়ে ব্যবসার মূলধনই খোয়াচ্ছে !)

দেওর-ননন (বুড়োতোষ ছড়া)
আসলাম প্রধান

Aslam-prodhan-porm

তোমার বাড়িত্ বেটিকছোলোক
দ্যা-পাটামো আর ?
দেকি আচ্চে দেওর-নন্দের
ক্যাংকা ব্যবহার ।
নননকোনা ডেমনি, ও-মাঁই
আওকোনা কী ঝাল
নয়-কতাতি ভাবী’র সাথে
নিত্তি পারে ফাল ।
দ্যাওরাকোনার দ্যামাক চড়া-
পিত্তিকতাত্ ভুল
বিনিদোষে পত্তি ‘ছেঁড়ে’
পরার বেটির চুল!
তুমি থাকতে তোমার বউ’য়োক
ঝাঁটা দেখায় তাঁই
ওংকা ব্যাদোব চ্যাংড়া হামার
গুষ্টি দ্যাকে নাই।
ক্যাংকরি ছোল ওত্তি থাকে
চিন্তা করি কও ?
অত্যাচারের মোদে বেটিক
দ্যা-পাটাবার নঁও ।

ভাবকাহিনী:

কষ্টভারাক্রান্ত হৃদয়ে মেয়ের বাবা-মা জামাতাকে বলছেন, তোমার বাড়িতে মেয়েকে আর পাঠাব না ! সে দেখে এসেছে, তার দেবর-ননদের কী-রকম দুর্ব্যবহার ! দুষ্ট ননদের কথার কী ঝাঁজ, সামান্যতেই সে ভাবীর ওপর হামলে পড়ে ! দেবরের মেজাজ’ও রুক্ষ-চড়া, প্রতিটি কথাই তার আক্রামনাত্নক । বিনা অপরাধে সে দেবর হয়ে প্রতিদিন পরের মেয়ের চুল ‘ছেঁড়ে’ ! তোমার সামনেই সে মেয়েকে ঝাঁটা দেখায়, অপমান করে ! ও-রকম বেয়াদব ছেলে আমার বংশে কেউ দেখেনি। তুমি-ই বলো, কীভাবে আমি মেয়েকে ঐ জ্বালাযন্ত্রণা’র মধ্যে পাঠাই ? ওখানে আর মেয়েকে পাঠানো সম্ভব নয় ।

পাদটীকা:

কবিতায়, গাঁওগেরামের বউ’দের ওপর চিরায়ত অমানবিক-বেদনাদায়ক অত্যাচারের চিত্র অংকন করার চেষ্টা করা হয়েছে। ]

Ancholik Chora Aslam Prodhan

হাসির কথা (বুড়োতোষ ছড়া )
আসলাম প্রধান

প্রকাশ কালঃ ০৪.০৭.২০২০

হাসি নিয়ে রোজ শুনি কত ধারাভাষ্য
ভাষ্যের ভেতরেও পাই নানা হাস্য !
কবিতায় চাঁদ হাসে পূর্ণিমা রাত্রে
এই কথা শুনে হাসে গণিতের ছাত্রে !

চাবুকের চড় দিলে হাসে নাকি ঘোড়ারা
জোয়ান আছাড় খেলে হাসে ছুঁড়ি ছোঁড়ারা !
মানুষ না দানবের হাসিটা বিরক্তি
হাসি দেখে থেমে যায় হাসবার শক্তি !

দমফাটা বমফাটা কাঠফাটা হার্টফাটা
মাঠফাটা হাসিতে
অনেকের হার্টবিট নিমিষেই বেড়ে যায়
একশত আশিতে !

নাটক বা সিনেমায় ভিলেনের হাসি তাই
সোনামনিদের কাছে দাম নেই আশি পাই !
কিছু কিছু লোক আছে অকারণে হাসি দেয়
হাসি চেপে রাখতেই কেউ ছোট কাশি দেয় !

দাঁতপড়া বুড়োদের হাসি খুব মজাদার
গালভরা খুশিভাব কী দারুণ রসাদার !
দাদাদাদী নানানানী সে হাসির রূপকার
নাতিপুতিদের মনে শালশার উপকার !

হা-হা,হি-হি,হো-হো করে হাবাগোবা হেসে যায়
কৌশলী হাসিতেও কেউ কেউ ফেঁসে যায় !
গম্ভীর মিশ্রিত মৃদু হাসি জ্ঞানীদের
সে রকম হাসি দেখি ধার্মিক-ধ্যানীদের !

শিশুদের হাসিতেই ভেজালের লেশ নেই-
কী মধুর নির্মল যা লেখার শেষ নেই !
সব চেয়ে দামী হাসি বাবা-মা’র মুখেতে
সে হাসি সুখ আনে ছেলে-মে’র বুকেতে

হাসি দিয়ে এইবার দেই পরামর্শ
সময় বুঝেই করো আনন্দ-হর্ষ !

বাল্যবিবাহ ও যৌতুক বিরোধী গাইবান্ধার আঞ্চলিক

হাউসের বিয়া (বুড়োতোষ ছড়া )
আসলাম প্রধান

হাউস করি ব্যাটাক তুমি
এলাই দিলা বিয়া
ক্যাংকরি অঁই হাঁটপে বাহে
জোয়াল ঘাড়োত নিয়া?
একনি ছ্যারার কমোর ব্যাঁকা
কোমলাবাঁশের যেংকা ঢ্যাকা !
পাবে কী অঁই বউ চলাবার
কামলাকিষাণ দিয়া?
হাউস করি ব্যাটাক তুমি
এলাই দিলা বিয়া ?

নগদ কেছো ডেমেন পায়া
খুশি হোছো ম্যালা
বিয়াই-বিয়ান একঠে হয়া
হাসিতি গ্যালগ্যালা !
দুদিন বাদে ছোল-পোয়াতি-
তারোক মনে হোবে হাতি !
কী খিলাবা, কী পেন্দাবা ?
বুজবা তখন ঠ্যালা-
নগদ কেছো ডেমেন পায়া
খুশিতি গ্যালগ্যালা!

পরার ট্যাকার বাজারসদাই
কবাটা দিন খাবা
জিবকোনা যেই খালি হোবে-
সেই সোমে পস্তাবা !
এন্নেহেনে ভ্যাগোত পোলে
মাঙনা আসি ক্যাডায় তোলে !
ঠ্যাকাঠেকিত ন্যাম্পো দিয়া
উটক্যা কাকো পাবা ?
ব্যাটা-বৌ’য়ের খরচপাতি
ক্যাংকরি চলাবা ?

Ancholik Chora Aslam Prodhan

ঈদের হাটে (বুড়োতোষ ছড়া )
আসলাম প্রধান

প্রকাশ কালঃ ০৩.০৭.২০২০

নাতি রে- তোর যে-গরুটা বুড়ো
যতই খাওয়ায় তৃণ-ভুসি কুঁড়ো
লাভ হবে না, হবে শুধু ক্ষতি
দুধ দেবে না সামান্য একরতি !

টানবে নাকো একটুখানি হাল’ও-
তারচে ওটা বিক্রি করা ভালো!
ঈদের হাটে পয়সা দুটো পাবি
মরে গেলে পরে যে পস্তাবি !

হাল টানে না, দুধ আসে না
যাচ্ছে খাওয়াখরচ
এমন গরু ঠিক সময়ে
বিক্রি করা ফরজ-
এই কথাটা বোঝেনা যে সাথিরা
পাশেরবাড়ির অবুঝ সবুজ নাতিরা !

ছন্দপ্রলাপ ( বুড়োতোষ ছড়া )
আসলাম প্রধান

সেই ছেলে কই থাকে
কে তার খবর রাখে ?
ভালবেসে ছ্যাঁক খেলো
পথেঘাটে ঠ্যাক খেলো !
কত টকঝাল খেলো
কত জঞ্জাল পেলো !
কেউ বলে ‘চাষা’ সে
শেখে নাই ভাষা সে !
ফাঁক পেলে দোষ খোঁজে
‘গুণ’ দেখে চোখ বোজে !
কিছু লোক বলে, ভালো-
মনে তার জ্বলে আলো !

বিদ্রোহী কারো মতে
শত্রু যে- তারও মতে-
কারো কারো মতে এই,
আছে সোজা পথে সেই !
পাছে লোকে কে কী বলে
শুনে তার লাভ নেই
হ্নদয়ে বেদনা জমে
রাখার স্বভাব নেই !

”ছেলেটার লেখা ভালো”
অনেকেই বলে তাই
চাকুরির ফাঁকে ফাঁকে
কলমটা চলে তাই !
ছিটেফোঁটা জ্বালাতন
তাড়া করে সারাক্ষণ
তবু খুশি থাকে সে
মুখে হাসি রাখে সে !

মানুষের জন্য সে
সদা কর্মন্য সে-
কে তা মনে করে বলো ?
হিসেবে কে ধরে বলো ?
সেই ছেলে আমি এই-
যার কোনো দাম-ই নেই !

হুট্টিপ্যালা চ্যাংড়াপ্যাংড়ারা
আসলাম প্রধান

প্রকাশ কালঃ ০২.০৭.২০২০

Aslam-prodhan

তিনজনে খায় একনা বিড়ি
মজাক ক’রি ক’রি
এংকোরি যায় তামানবাড়ি
ওগ-জীবাণু ছ’ড়ি!
অরা বেজায় হুট্টিপ্যালে,
চোপা দিয়া সগ্গি ঠ্যালে
কারো কতাই শোনে-না বা-
চ্যাংড়া’রা স্বাধীন
কয়, হবা নয় হামাহেরে
কভিট নাইনটিন ।
অরহেরে যাঁই সজাগ হবার কয়
উল্টা আরো তাকি দ্যাকায় ভয় !

ভাবার্থ:

তিনজনে একটা বিড়ি শেয়ার করে খায় ! এভাবেই একজনের মুখের জীবাণু আরেকজনের শরীরে প্রবেশ করে ! ওরা গোঁয়ার্তুমি করে, চাপাবাজী করে; কারো কথাই আমলে নেয় না, স্বাধীন । ওরা বলে, ওদের নাকি কভিট-১৯ আক্রমণ করবে না !
ওই গোঁয়ার ছেলেপেলেদের যে সতর্ক করতে যায়, উল্টা তাকেই ওরা করোনার ভয় দেখায়!]

আষাইঢ়া দ্যাওয়া
আসলাম প্রধান

আষাঢ় মাসোত নাগছে দ্যাওয়া
এক্কে আইতোত বান আইলো
বিলের বাতাত্ নামাজমিন ফকফকা-
ট্যাপট্যাপা থোর ধান খাইলো!

মজিদ নানার পইত্যাতালোত্ ফুল আচ্চে
বানের পানি ব্যাবাক গাছের গোড়োত্
তড়পা টানে নানায় গোলের পোড়োত্
ক্যাংকরি অঁই তালের চিন্তাত্ কুলাচ্চে ?

মাচার ঘরোত্ ছ্যাঁচার ব্যাড়াত্ নাগছে উঁড়ি
চাপিলব্যাড়া কচ্চে খায়া জরজরা-
পোকার ঠ্যালাত্ নয়া পইও মড়মড়া,
উঁড়ির পিটোত্ মন্টু হাঁকায় নাত্তি-গুড়ি ।

এন্দুরগুলা আছিলো সোগ ভিঁয়োত্
পানির তোড়োত্ ব্যাকটি আচ্চে ঘরোত্
আইতোত বাহে পারব্যার দ্যায়না নিন’ও
ধানের মাচাত্ বেড়ায় সড়োত্ সড়োত্ !

অর্থ :

আষাঢ় মাসে একরাতের বৃষ্টিতে বিলের নীচুজমির থোর ধান ডুবে গেছ ! মজিদ নানার ফুল আসা মরিচক্ষেতে পানি ঢুকে গেছে, অথচ সে নিশ্চিন্তে গোয়াল ঘরে পোড়ের ধারে বসে তড়পা( তামাক দিয়ে নিজে বানানো বিড়িবিশেষ) টানছে ! মন্টুর ঘরে বাঁশের বেড়া ও খুঁটিতে উইপোকা আক্রমণ করে ঝাঁজরা করে ফেলেছে – তাই সে বেড়ায় লাথি মেরে মেরে পোকাকে শায়েস্তা করছে এবং বন্যার পানির তোড়ে মাঠের ইঁদুর ঘরে ঢুকে সড়োত্ সড়োত্ শব্দ করায় তার রাতের ঘুম নষ্ট হচ্ছে!

Ancholik Chora Aslam Prodhan

ছোট্ট দুকনা কতা
আসলাম প্রধান

প্রকাশ কালঃ ০১.০৭.২০২০

বিসমিল্লাহ বিসমিল্লাহ কয়া ন্যাকা কল্লেম শুরু
সালাম ও পেন্নাম কল্লেম- হামার যারা গুরু !

চ্যাংড়াপ্যাংড়া ময়-মুরুব্বি, শোনেন সর্বজনা
ছোট্ট একনা পুঁথি বাহে কত্তিছি বর্ণনা !

তোমরা যারা বৈদ্যাশ খাটো দ্যাশের মায়া ছাড়ি
তোমাহেরে কতা কয়খান খুব বেশি দরকারি !

পত্তম নম্বর কতা হৈল, তোমরা যেঠেই যাও
সেঠি যায়া মাইনষের সাথে কৈও দ্যাশের আও !

তোমার জেলাত কোনঠে কোনঠে দ্যাকার কী কী আছে
গপ্পে গপ্পে কয়া দেইও অন্য মাইনষের কাছে!

জ্ঞানীগুণীর জ্ঞানের বাণী জানাইও সগলাকি
ভালো খবর প্রচার কৈরো, মন্দগুলা ঢাকি !

দ্বিতীয়ত: সবাকে মুঁই জানাচ্ছোম মিনতি
এমন চিন্তা করবা না, যা নিজ এলাকার ক্ষতি !

অল্পেএ্যানা ভুলের জইন্যে বেজায় ক্ষতি হয়
কতাকোনা দেলের মদ্যে থুইও মহাশয় !

দুনাত হামরা বাঁচি থাকমো ক্যাডা কয়টা দিন-ই
সগলেরে সগলাই যেনো বন্ধুর মতোন চিনি ।

শব্দার্থঃ

ন্যাকা-লেখা, কল্লেম-করলাম, পেন্নাম -প্রণাম, হামার-আমার, চ্যাংড়াপ্যাংড়া-ছেলেপেল, একনা-একখানা, কত্তিছি-করছি, বৈদ্যাশ-বিদেশ, তোমাহেরে -তোমাদেরকে, কতা-কথা,পত্তম-প্রথম, হৈল- হলো,যেঠেই-যেখানেই, সেঠি-সেখানেই,কৈও-বলিও, আও-ভাষা,অল্পেএনা -অল্প একটু, মদ্যে-মধ্যে, দুনাত- দুনিয়াতে, থাকমো-থাকব, সগলাই -সবাই ।

কাতিমাইসা বান
আসলাম প্রধান

অসোমে অঁই মরার দ্যাওয়া কোনঠে থাকি আ’লো
নামাজমিন খায়াখুয়া ভিটার নাগাল পা’লো !
সোগ বেছনের কাছলা খায়া-
মুরি দিকি দেকলো চায়া!
কাতিমাসোত্ ডবগা দিয়া ঠাকরি কালাই খা’লো !

ভাবার্থঃ

কোত্থেকে অসময়ে টানা বর্ষণ এসে নীচুজমির ফসল ডুবিয়ে উঁচুজমিতে হানা দিল, সমস্ত বীজতলা নষ্ট করল ! অত:পর গরীব কৃষকের সামান্য জমিটুকুর মাসকলইয়ের ক্ষেতটুকুও ডুবিয়ে দিল !
কার্তিক মাসের অকাল বন্যায় আক্ষেপে সে-কথাই বলছেন গরীব কৃষক!

Ancholik Chora Aslam Prodhan

অল্পবইসা চোর
আসলাম প্রধান

প্রকাশ কালঃ ৩০.০৬.২০২০

কও কী বাহে
কও কী বাহে
এজ্জালা চ্যাংড়ায়
মদ-গাঁজা-ভাং খায় !
পইসা কোঠে পায় বাহে অঁই-
পইসা কোঠে পায়?
অর বাপে-যে গরিব মানুষ
দিন আনে দিন খায়-
ঠেকাঠেকির সংসারোত্ অঁই
পইসা কোঠে পায়?

চ্যাংড়াকোনা ছুট্টিএনা
তার ওঠে নাই মোছ
ভরটা দিন-ই দিয়া বেড়ায়
দেওয়ানগিরির পোছ !
আইত হোলে তাঁই নিন পারে না
বাপ ও মায়ের ধার ধারে না-
তামানবাড়ি ঘোরে,
ধাপ্পা মারে, পকেটে কাটে,
ঘরোতো শিং খোঁড়ে, বাহে-
ঘরোতো শিং খোঁড়ে !

ভাবার্থ:

গ্রামের এজ্জালা-ছোট্ট একটা ছেলে, অল্প বয়সেই সে মাদকসেবন করে ! তার বাবা খুব গরিব । অভাবের সংসারে কীভাবে মাদক কেনার পয়সা পায় ? গ্রামের জনৈক মুরুব্বি ভাতিজা সম্পর্কের এক ছেলেকে এ-বিষয়ে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলেন, ঐ ছেলের দাড়ি-মোছ না গজালেও, ও সারাদিন খুব ফুংফাং করে ঘুরে বেড়ায় এবং রাত হলে ধাঁন্দা করে ! পকেট মারে, মানুষের বাড়িতে সিঁধ কেটে চুরি করে । বাবা-মা-‘র অবাধ্য ছেলেটা এভাবেই মাদকদ্রব্য কেনার পয়সা জোগাড় করে থাকে !

আম-দুধ
আসলাম প্রধান

বেটি-জামাই আসপে বাড়িত্
খব্র্যা গেছে কয়া
বেলডুবি মুই হাটোত গেনু,
হাটবেলা পার হয়া !

আঁন্দারোতে আম কিনি যে
কী-ঠকা ঠকিছোম-
সোগ ক’টা আম পচা বাহে-
খালি ট্যাকাই দিছোম।

দুধ কোনা, তাঁই এক বলোকোত্
নৌটি গেইছে তামান,
এশারকালে আসি এলা
কী খাবে মোর দামান?

ভাবার্থ:

মেয়ে-জামাই বাড়িতে আসবে বলে জনৈক খবরি খবর দিয়ে গেছে। বেলা ডুবে গেলে, হাটবেলা শেষে শ্বশুর তাদের জন্য বাজারসদাই করতে গেলেন। অন্ধকারে আম কিনেছেন, তার সবটাই পচা। শুধু টাকা খরচ করছেন, লাভ হয়নি। এদিকে দুধ’ও জ্বাল করতে গিয়ে এক বলকেই সব নৌটে গেছে- নষ্ট হয়ে গেছে ! এশার নামাজের সময় মেয়ে জামাই এলে কী খাওয়াবেন, অস্থিরভাবে তাই বলছেন !]

জুয়া খেলার মাশুল
আসলাম প্রধান

সোগকোনা ট্যাকা অরা পুক করি নিয়া
শ্যাষকালে মোক অরা দশ ট্যাকা দিয়া-
কলো, গুয়াপান খাও,
খায়া বাড়িমোকে যাও-
কাল ফির আসো বাহে,
জমিন বেচিয়া।

তিন বিঘা ভিন মুই জুয়াত হারেয়া,
বোউ-ছোল সংসার সগ্গি ছাড়েয়া,
অ্যর-অর কাছে যাম,
দু-একনা ট্যাকা চাম-
এংকরি খাম, ঠ্যাং-
নাড়েয়া-নাড়েয়া।

ভাবার্থ:

জুয়ার আসরে সব টাকা খুইয়ে আসার সময় জুয়াড়িরা ওকে দশটা টাকা হাতে দিয়ে বলেছে, পানসুপারি খেয়ে বাড়ি চলে যাও। জমি বন্ধক রেখে টাকা নিয়ে আগামিকাল আবার খেলতে এসো ।
তিনবিঘা জমি বিক্রিকরা টাকা সে জুয়া খেলে শেষ করেছে। স্ত্রী-পুত্র, সংসার ত্যাগ করে এখন পথে পথে ঘোরে। হেঁটে হেঁটে এর-ওর কাছে দু’এক টাকা সাহায্য নিয়ে এখন দিনাতিপাত করে !]

Ancholik Chora Aslam Prodhan

নেংটি তোলা শানা
আসলাম প্রধান

তুমি বারোমাস
হামাকি দ্যাও বাঁশ !

পাকা ধানোত মই দিয়া যায়
উত্তুরপাড়ার অরা-
সেই সোমে ক্যা হাতপাও ছাড়ি
শুতি থাকো, মরা ?
ঘুষি-মুটকি খায়াও থাকো চুপ-
সেকনা তোমার গায়োত নাগে না-গো !
তুমি খালি ন্যাংটা হয়া হামার জা’গাত হাগো?

সে-জন্যে মুই কম,
তুমি ব্যা-শরম !

দুব্বলা যাঁই, উক্ট্যা-উক্ট্যা
তারি ধরো ঘাড়
পরার ভিঁয়োত জুলুম করি
ঘাটা বানাও, ফার-
দেওয়ানগিরি-শানাগিরি করো-
পানোত থেনে চুন খসিলে হামার উপুর আগো ?
অরোক দেকলে নেংটি থুয়া, মুত্তে মুত্তে ভাগো !

ভাবার্থঃ

তুমি সারা বছর আমাকেই বাঁশ দাও ! কিন্তু, উত্তরপাড়ার ওরা যখন তোমার পাকাধানে মই দিয়ে যায়, তখন তুমি হাত-পা ছেড়ে মরার মতো শুয়ে থাকো । কিল-ঘুষি মেরে গেলেও টু-শব্দটি করার সাহস পাও না । অথচ, আমার জায়গায় নির্লজ্জভাবে পায়খানা করে যাও ?
তুমি বে-শরম ! দুর্বলের ওপর ছড়ি ঘোরাও । অন্যের জমির ওপর নিজের স্বার্থে সোজা রাস্তা তৈরি করো ! পান থেকে চুন খসলে তুমি আমার ওপর রাগ দেখাও। কিন্তু , উত্তরপাড়ার ওদেরকে দেখলে লেজ গুটিয়ে, পেসাব করতে করতে পালাও ! ]

নাম বদল
আসলাম প্রধান

কেডা বাহে বদল কচ্চে
হামার ছোলের নাম’টা?
তোমার বাড়িত্ কামোত্ গেছে ছৈল’টা
নামের মোদে সমস্যা কী হৈল’টা ?
কওতো তুমি হুকসা এনা
ক্যাংকা হোছে কাম’টা ?

হাউস করি ছোলের হামি
নাম থুছিলাম সাইফুল-
ওই নামে তাক পায়-না ক্যাওয়াই উটক্যা,
পাল্টে দিছে কোন্ দ্যাওয়ানা, চুটক্যা?
আসল নামোত ক্যাও ডাকো না,
সগলে ডাকো আব্দুল !

ভাবার্থঃ

অভাব-অনটনের কারণে বাবা-মা তাদের আদরের ছোট্ট ছেলেকে অন্যের বাসায় কাজের জন্য পাঠিয়েছে । সেখানে ছেলের সাইফুল নাম’টা বাদ দিয়ে আব্দুল রাখা হয়েছে । বাবা-মা জানতে পেরেছে, সাইফুল নামে ওখানে তাকে কেউ ডাকে না, ডাকে আব্দুল বলে !
আক্ষেপে তাই মালিককে বলছে, কী সমস্যার কারণে, কে দেওয়ানগিরি-মাদবরি করে আমার ছেলের নাম এভাবে বিকৃত করেছে বা বদলে ফেলেছে? ]

Ancholik Chora Aslam Prodhan

মহামারির চিন্তা
আসলাম প্রধান

ক্যাংকা ব্যারাম আ’লো বাহে-
ক্যাংকা ব্যারাম আ’লো-
কয় দিনোতি এক্কে পুরা
দুনা-ই গিলা খা’লো,
কোনঠে-বা যাম, কী করি খাম
মাতা যে আউলালো !

ঘরোত থাকি বারালে মুই
চিন্তা করি মরোম-
কার-বা গায়ের ঘষা খায়া
কোন বিপদত পড়োম।

কাম না-করি ভাঙি খালুম
হাতোর ট্যাকাকোনা
চিন্তাত আছোম, কালক্যা কেডা
করবি দ্যাকাশোনা !
ছোলকোনা মোর ঢাকাত্ আছিল্
তাক্ দিছে খ্যাদেয়া
ফ্যাটকারি নাই, বাড়িত আসি
তাঁই আছে বসেয়া !

খবর শোনোম, মত্তিছে সোগ
মহামারিত পড়ি-
কোনঠে গেলি উকট্যা পামো
হামরা বাঁচার বড়ি ?

ভাবার্থ:

প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র অসহায় ব্যক্তি বলছে, কী রোগ এলো, কয়দিনের মধ্যেই পুরো দুনিয়া ম্যাসাকার করে ফলল ! এ-অবস্থায় তার মাথা কাজ করছে না, সে কোথায় যাবে, কী করবে! ঘরের বাইরে বের হলেই তার চিন্তা, কার শরীরের ঘষায় কখন বিপদে পড়ে !

হাতের জমানো টাকা এতদিন সে ভেঙে খেয়েছে; কাল থেকে তাকে কে দেখাশোনা করবে? ছেলেটা ঢাকায় কাজ করত। ফ্যাক্টরি উঠে গেছে । সে’ও বাড়িতে ফিরে বেকার বসে আছে ! খবর পাচ্ছে, মহামারিতে মানুষ মারা যাচ্ছে ! কিন্তু , সে কোথায় পাবে বেঁচে থাকার ওষুধ !]

নানা’র খবর
আসলাম প্রধান

তুই তো হামাক চিনবু-ন্যা বা
হয়া গেছিস কানা
তোর বাপে মোক আদর করি
ডাকত নানা নানা ।
পিত্তি বছর ঈদের সোমে
মোর-যে খবর নিছে
স্যামাই-চিনি, দুধের কাতি
তবন কিনি দিছে ।
এবারকা মোর ঠেকাঠেকিত
কেডা খবর নিবে?
তোর বাপও নাই, কোন নাতি মোক
কাপড়া কিনি দিবে?

ভাবার্থ:

(হতদরিদ্র বৃদ্ধ বলছেন, তুই তো আমাকে চিনতে পারবি না বাবা, তোর আব্বা আমাকে আদর করে নানা ডাকত । প্রতিবছর ঈদের সময় আমার খবর নিত । সেমাই-চিনি, দুধের কৌটা, লুঙ্গি কিনে দিত । এ-বছর আমার অভাব-অনটনে কে খবর নেবে! তোর বাবা’ও নেই, কোন নাতি আমাকে কাপড় কিনে দেবে ?)

Ancholik Chora Aslam Prodhan

Facebook Comments