Akib shikdarer onu golpo

ভিক্ষা মাগছো অরিন্দম হাতে

তুমি বাপু বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা, স্বজনহারা- তুমি আমাদের গর্ব, স্বাধীনতার প্রতীক। পরিজনদের মরতে দেখেছো চাক্ষুষ। হানাদারের দল ধরলো তোমার বোনকে, বারান্দাতেই কাপড় ছিঁড়ে করলো ধর্ষণ। পাশবিকতার চূড়ান্ততায় জ্ঞান হারালো সে। বোনের সে জ্ঞান ফিরলো না আর।

তোমার বাবা সে কি বোকা, পাগল হয়েই গিয়েছিলেন…! (মেয়ের আর্তচিৎকার) রুধতে গিয়ে পশুর ছোবল বুলেট বোমার ফাঁদে নিজেই দিলেন প্রাণটি। জন্মাবধি তোমার মা তো প্রবল স্বামীসেবক। রক্তস্নাত পতির ছিদ্র বুকে ঝাপ দিলেন তিনি। তিনটে তাজা বুলেট- সহমরণের নব নমুনা।

বউটি তোমার ধূর্ত বটে, এবং স্বার্থপর। জানতে পেলো সতীত্ব তার নষ্ট হবে নিশ্চিত, আগেভাগেই ঘরে ঢুকে দ্বারে দিলো ছিটকিনি। ভাঙলো যখন দুয়ারখানা হানাদারের পদাঘাতে- দেখলো তারা শিকার তাদের ঝুলে আছে ছাদে, গলায় দড়ি প্রাণ দিয়েছে মানটি তবু দেয়নি। তোমার যোগ্য ছেলে, সাহস আছে বলতে হবে। জুতো ছুঁড়ে মেরেছিলো পাকসেনাদের পিঠে, ফলাফলে মরতে হলো বেয়নেটের খোঁচায়।

তোমার একটা ভাই ছিলো না একটু হাবাগোবা …? হানাদারের খায়েশ, আয়েশ করে মারবে তাকে। গাড়ি চাপিয়ে ক্যাম্পে নিলো বাঁধতে বকুল ডালে। লাত্থি ঘুষি, লাঠিপেটা-মজাই অন্যরকম…!

যাবার বেলায় বাড়ির ভিটায় উসকে দিলো আগুন। সেই আগুনে ঘটলো একটা বিস্ময়কর কা-। তোমার খুকি মায়ের মতোই বেজায় রকম চালাক- ভীতির তোড়ে লুকিয়ে ছিলো আলমারিটার পাশে। আগুন তাকে দেখিয়ে দিলো চিরঅজানার পথ।

নিজের হাতে দেশকে করলে স্বাধীন, শত্রু মুক্ত। যদিও যুদ্ধকালে খুইলে একটা পা। বাহুর পেশি গুলির চিহ্ন বহন করছে আজও। বন্দুক চালানো আঙুলগুচ্ছ আকড়ে ধরলো লাঠি। ল্যাংড়া মানুষ, কে-ই বা দেবে কাজ, কে-ই বা দেবে খাদ্য-বাধ্য হয়েই ভিক্ষা মাগছো অরিন্দম হাতে। যে দেশ তুমি রক্ষা করলে সেই দেশেরই বাসিন্দাদের অট্টালিকার ফটক পাশে- অবজ্ঞা আর করুণা কুড়ানো, এই কি তুমি চেয়েছিলে …?

তুমি বাপু বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা, জেনেছো স্পষ্ট- তুমি আমাদের গর্ব, স্বাধীনতার প্রতীক।

Akib shikdarer onu golpo

Facebook Comments