এবং ও অতএব

মে ৪, ২০২০
adhunik bangla kobita

adhunik bangla kobita

download button free kobitay jagoron

কবিতা সমূহ

১.এবং ও অতএব
২.বন্ধু
৩.যখন তুমি
৪.গভীর রাতে
৫.তোমায় যখন মনে পড়ে
৬.ইচ্ছেগুলো
৭.ত্রিকূল
৮.যেও না দূরে
৯.কেমন বন্ধু
১০.তৃষা
১১.কেঁদেই গেল
১২.সিঙ্গাপুরের ভ্রমন পটে
১৩.খাঁচার পাখি
১৪.তরী
১৫.আমি যে একটি ফুল
১৬.আমার আছে
১৭.বাজার দর
১৮.নারী মুক্তি
১৯.বুকের মানিক
২০.মনপাখি
২১.নীল আকাশে লেগেছে আগুন
২২.পৃথিবী তোমায় চায়
২৩.বাতাস
২৪.চুষ কাগজ
২৫.এ শুভক্ষণে
২৬.তবুও তোমায়
২৭.ছাই ফেলতে ভাঙা কুলো
২৮.তুমি ছাড়া
২৯.ভ্রম
৩০.তোর পালা…
৩১.ছলনা কাম ভালোবাসা
৩২.মনের মতো
৩৩.তোমার যাওয়ার পথেই
৩৪.তুমি গেছ তাই
৩৫.কার জন্যে
৩৬.নারী
৩৭.তুমি যে কি!
৩৮.সর্প
৩৯.আমিও
৪০পাষাণ
৪১.চো.রাবালি
৪২.চোখ দেখলে ভয় পাই
৪৩.সুন্দরেই সূচনা
৪৪.জয়ের গান
৪৫.দুষ্টু মাউন
৪৬মাউনের জন্যে
৪৭.প্রত্যক্ষ পদধ্বনি
৪৮.কষ্ট

এবং ও অতএব

বুকের ঠিক গভীরে একটু উপরে
একটু ডানে একটু বামে কিংবা
একটু নিচে যে ভাবেই হৃদয়টা এক্সপেরিমেন্ট করিনা কেন তুমি শুধু
তোমাকে ঘিরেই সব কিছু আমার!

কীযে দুর্বার ঝরের মত সারাক্ষণ
নাড়া দিয়ে যাও দৃশ্যে-অদৃশ্যে
সবার মাঝে থেকেও ছোঁ মেরে নিয়ে যাও
দূরে বহুদূরে একান্ত তোমারি কাছে তোমারি করে!

তুমি কি জানো চুমকের চেয়েও
দুর্লভ আকর্ষণী ক্ষমতা আছে তোমার
দেখার পরও দেখা পাওয়ার পরও পাওয়া
এ শুধু তুমি শেখালে সযতনে সঙ্গোপনে
তোমায় চাওয়া তোমায় ভাবা

কিযে এক ব্যাস্ত ব্যস্ততা
কোন ভাষাই নেই ব্যাক্ত করার
তিন ভাগ জল এক ভাগ স্থলে নাকি এ পৃথিবী
আর আমার ছোট এ জীবনটার সবটুকুতেই শুধু তুমি
কীযে মায়ামন্ত্রে বিভোর করেছো আমায়
জাগরণে কিংবা স্বপ্নে
কারনে কিংবা অকারণে

শ্বাসে শ্বাসে
রক্তে রক্তে
মিশে আছো তুমি আমাতে
কেবলই আমাতে শুধু আমাতে
এবং আমাতে ও আমাতে

বন্ধু

true friendship poems bangla
Bondhu-poem

আমার দ্বারে রোদ আর
তোমার পাড়ে বৃষ্টি-
বন্ধু হলে তাইতো হলো,
দুর্লভ এ সৃষ্টি।

অর্ণবের ঐ সুধাক্ষণে,
চাইলে যে হাত যখন-
হাতের সাথেই অরপেছি যে,
বুক পাঁজরের এ মন।

এই পৃথিবীর সবই এখন,
স্নিগ্ধ মধুর লাগে
ভালোলাগার এইযে এ ক্ষণ,
আরছিলনা আগে।

আমার পাড়ে পড়লো যখন,
বন্ধু তোমার দৃষ্টি-
রোদ হারিয়ে আসলো দ্বারে,
অনিল সুখের বৃষ্টি।

সুখ আর দুঃখের কাঠগড়াতে,
চাইনা তুমি দাঁড়াও-
বন্ধু শুধু বন্ধু হয়ে,
হাতটা হাতে বাড়াও।

আমার মনের অন্তরীক্ষে,
সুখের অরুণ তুমি
বন্ধু শুধু চাই তোমাকে
চাইনা কিছু আমি।

যখন তুমি

যখন তুমি মনের ভুলে,
ভুলাবে পথ তোমার-
বিছায়ে রাখব তখনো পথে,
আঁচলখানি আমার।

হোঁচট খেতে খেতে যখন,
পারবেনা আর চলতে-
বক্ষ আমার রইবে জেনো,
পা দু’খানি ফেলতে।

চোখের পানি নদী হয়ে,
ভাঙবে যখন বাঁধ-
সেই ক্ষণেও তোমায় জেনো
দেখাবো সুখ চাঁদ।

যখন তুমি নিঃস্ব হতেও,
নিঃস্ব হয়ে যাবে-
এই আমাকে তখনো শুধু,
তোমার কাছে পাবে।

মরণক্ষণেও যদি তুমি,
বারেক ফিরে চাও-
বলবো তবু তোমার আমি,
হাত বাড়ায়ে নাও।

গভীর রাতে

night poem
night poem govir rate

নিঝুম রাতে সবাই যখন
ঘুমায় ঘুমের ঘরে,
দু’চোখ হতে ঘুম যে তখন
অশ্রু হয়ে ঝরে।

গভীর রাতের মতোই গভীর
এই না বুকের জ্বালা-
স্বপ্নগুলো সত্য সুতোয়
হয়না গাঁথা মালা।

ধুসর রাতের বুকে জাগে,
চাঁদ সকালের প্রতীক্ষায়-
দিনের আলোয় বিলীন হয়ে
রাতকে ভুলে অবজ্ঞায়।

তোমায় একটু চাওয়ার দোষে,
একলা ঘরে একলা রই-
গভীর রাতে সবাই ঘুমায়
আমার চোখে ঘুমতো নেই।

তোমায় যখন মনে পড়ে

valobasar kobita
tomay-jokhon-mone-pore-poem

তোমায় যখন মনে পড়ে
ভাল-লাগে না কিছু,
ছায়ার মত ধাওয়া করে
মরণ পিছু পিছু।

রঙগুলো বিবর্ণ হয়
থাকে না সুর-ছন্দ-
ইচ্ছেগুলো গুমরে কাঁদে
সুখ জানালা বন্ধ।

হাজার লোকের ভিড়েও আমার
তুমিই দমে দমে-
তোমায় চাওয়ার এযে সুখ
আর না যেন কমে।

তোমায় যখন মনে পড়ে
বড্ড একা লাগে-
পাখির মত উড়ে তোমায়
ছুতে সাধ জাগে।

কষ্ট

আমি হাসতে পারি বলে
এমনটি কেনো ভাবো?
কষ্ট আমার নেই!

এ বুকের একান্ত গভীরে
নিবৃতে পুষে চলেছি
মাল্টি কালারের কষ্ট।

যে কষ্টের ছুটো ছটা
মুহূর্তে ছারখার করে দিতে পাড়ে
সবুজ শ্যামলী নারীর
সুন্দর পৃথিবী।

তবু সে কষ্ট আমার
কষ্টের কাছেই লালিত হয়েছে।
আমার জীবন রস একটু একটু
করে শুষে শুষে।

প্রকাশ করিনা বলে কি
থাকতে পারেনা?
আমার কষ্ট!

সকাল থেকে রাতের কষ্ট
আর রাত থেকে সকালের কষ্ট।
কষ্টের সাগরে প্লাবিত হচ্ছি
শুধুই প্লাবিত হচ্ছি এই আমি।

সাগরের মতো কষ্ট
আকাশের মতো কষ্ট!
কিছুটা বাতাসের মতোও বটে…

কিযে কষ্ট জীবনের মতো কষ্ট
বয়ে চলেছি চলছি হয়তো
চলতেই থাকতে হবে…

আমি হাসতে পারি বলে
ভেবনা আমার কষ্ট নেই!
আমি যে কষ্টের গর্ভে দীর্ঘক্ষণ
বপন করা বীজ।
তাই কষ্ট আমার থাকতেই পারে!!

ইচ্ছেগুলো

bangla best wishes poems
Boishakher-kobita-icche-gulo

বৈশাখের এক শেষ সন্ধ্যায়
থাকবো তোমার সাথে,
ঘুরব দু’জন দিনের আলোয়
হাতটা রেখে হাতে।

ফুলের রঙে রঙিন করে
রাখব ধরে সময়টা-
গ্রাম্য কোন বাঁশির সুরে
রাখব ভরে হৃদয়টা।

বৈশাখের এই স্নিগ্ধ হাওয়ায়
দুলবে যুগল তনু মন
আমার হয়ে থাকবে তুমি
তোমার আমি সারাক্ষণ।

ইচ্ছেগুলো মন বাগানে
ফুল হয়ে আর ফুটলো না
তোমায় পাবার ইচ্ছে ছিল
আজও তাতো মিটলো না।

বৈশাখ আসে বৈশাখ মাসে
বৈশাখ চলে যায়
ইচ্ছেগুলো বারমাস থাকে
হৃদয়ের আঙ্গিনায়।

adhunik bangla kobita

ত্রিকূল

bangladeshi bangla kobita trikul
bangladeshi-bangla-kobita-trikul

সোনার হরিণ পায় যদি কেউ,
যায় না কিছু মোটে-
তোমার মাঝে চাই শুধু ঠাই,
নাইবা কিছু জোটে।

পাখির আছে মস্ত আকাশ,
নদীর আছে ঢেউ
তুমি ছাড়া ত্রিকূলে আর
নাই যে আপন কেউ।

তিন সত্যের এক সত্য
বন্ধু শোন তুমি-
জীবন ফাঁকা, ফাঁকা সবই
ধু-ধু-মরুভুমি।

পায় যদি কেউ পাক না স্বর্গ,
কিচ্ছু যায় না আসে-
আমি তারা চাই শুধু ঠাই
ঐ মনের আকাশে।

সবই ফাঁকা, ফাঁকা সবই
ধু-ধু-মরুভুমি
তোমায় ঘিরেই ত্রিকূল জেনো
ত্রিকূল আমার তুমি।

যেও না দূরে

bangladeshi-kobita-jeyona-dure
bangladeshi-kobita-jeyona-dure

আমায় ফেলে যখন তুমি
একটু দূরে যাও-
মানো কিগো আমার হতে
আমায় নিয়ে যাও।

সারাদিনের সব কাজটাই
ওলোট-পালোট হয়
তুমি দূরে তোমার ছায়া
আমার সাথে রয়।

কখনো বা নিশ্বাসটাও
বন্ধ-বন্ধ লাগে
তোমায় জুড়ে কল্প হাজার
মন্দ-মন্দ জাগে!

ঐ পবনের পাখার ভরে
কণ্ঠ তোমার শুনি-
কাব্য-গল্প-গীতি হাজার
তোমায় নিয়েই বুনি।

আর কখনো এমন করে
যেও না গো ছেড়ে
কি আর এমন লাভগো আমায়
মরার আগে মেরে!

জীবন আমার তোমায় ঘিরেই
মরণ তুমি বিনে-
আমায় ফেলে তাই যেও না
আজও কোন দিনে!

কেমন বন্ধু

bangla kobita kemon bondhu
Kemon-bondhu-poem

তুমি বন্ধু কেমন বন্ধু
শুধাতে না চাই-
কাছে কাছে থাক তবু
কাছেতে না পাই।

এই হৃদয়ের ক্যানভাসেতে,
তোমার ছবি আঁকা
তবুও এই হৃদয়টা হায়
সদাই থাকে ফাঁকা।

বন্ধ কিবা খোলা চোখে
শুধুই তোমার বিচরণ-
জানি না এ কোন সে মোহ
বুকে জাগায় শিহরণ।

বন্ধু তোমার ইন্দ্রজালে
জ্বলছে আজি হিয়া-
তুমি বন্ধু কেমন বন্ধু
নিভাচ্ছ সুখ দ্বীয়া।

তৃষা

bangla poem trisha
trisha-bangla-poem

হাজার বছর নিরবাসনেও
যে কষ্টটা হয় না-
এক পলকের একটু দুরেই
প্রাণটা প্রাণে রয় না।

চোখে তুমি মনে তুমি,
নিশ্বাসে রও সারাক্ষণ
জানি না আর কত কাছে
চাইছে তোমায় এ মন।

এই মনেরই ক্যানভাসেতে,
তুমি শুধু তুমি-
তবুও হৃদয় শূন্য যেন
ধু-ধু মরুভূমি।

এ জীবনের নীল আকাশে
একটাই যে বিধু-
সে যে আমার বন্ধু তুমি
সে যে তুমি শুধু।

কেঁদেই গেল

পুষে রাখা হৃদয়টা যে
দিলাম তোরি হাতে-
কুচলে তা করলি ক্ষত,
তোর দু’খানা পা’তে।

নিজেরে তুই মানিস সেরা,
বলিস হেসে হেসে-
বাঁচলি তুই মরণ আমার,
তোরে ভালোবেসে।

পিষ্ট আমার করিসরে তুই
সকল সাধের স্বপ্ন-
বুকটা ভেঙে তে-ভাগ আজি,
শুধুই যে তোর জন্য।

তোকেই চে’লাম চাইনি তো আর,
হিরা-পান্না-চুন্নী-
কেঁদেই গেল চেয়ে তোরে,
সাহিদা রমান মুন্নী।

adhunik bangla kobita

সিঙ্গাপুরের ভ্রমন পটে

Singapore travel
Singapore travel

নীল আকাশের গা ঘেঁসে
প্লেনে উড়ে উড়ে
হাজার হাজার পথ পেরিয়ে
সুদুর সিঙ্গাপুরে।

আকাশ সাগর সব পেরিয়ে,
ক্যাবল কারে ঘুরে-
সব সুন্দর এক নিমিষেই
পেয়েছি হৃদয় জুড়ে।

নাইট সাফারির চোখ ধাঁধানো
অবাক করা দৃশ্যে-
সানতোজা তাই সিঙ্গাপুরকে
চিনায় সারা বিশ্বে।

কি আছে গেছি ভুলে
কি নাই শুধু ভাবছি-
সিঙ্গাপুরের সুন্দরতায়
বিভোর শুধু থাকছি।

খাঁচার পাখি

Khachar Pakhi

আমার বড্ড ইচ্ছে করে,
দূর অজানায় যাই-
পাখির মতো নীল আকাশে
গান গেয়ে বেড়াই।

কখনো বা ইচ্ছে যে হয়,
পাহার সাগর ঘেঁসে-
যাক না এ মন হারিয়ে কোথাও
অচিন কোন দেশে।

ইচ্ছে করে হাওয়ার দেশে,
চিরিতরে হই হাওয়া-
ছুটে চলি আপন মনে
নেবে না যে কেউ ধাওয়া।

ইচ্ছেগুলো মনের খাঁচায়,
শুধুই পুষে রাখি-
কারন আমি অবলা নারী
বন্দী খাঁচার পাখি।

তরী

Bangla poem tori

খেলা আমার বেলার আগেই,
ক্ষান্ত হলো আজ-
রোদনা উঠেই উঠলো ভালে,
কালবৈশাখীর সাঁঝ।

নিয়তির এই নির্মমতায়,
জীবন বৈঠা বাইছি
চোখের জলে ভাসায়ে স্বপ্ন,
দুখ সাগরে নাইছি।

নিত্যনতুন যন্ত্রনাতে,
রাত্রি শেষে হছছে ভোর
মন যে থাকে বন্দনাতে,
খুলবে বুঝি কপাল দোর।

চাবি হাতে রইছে দায়াল,
দেখছে শুধু চেয়ে-
আশার ঘরে বুকটা বেঁধে,
যাচ্ছি তরী বেয়ে।

আমি যে একটি ফুল

bangla sad kobita ami je ekti ful

আমায় কেন একা করে
গেছ তুমি ফেলে-
গভীর রাতে কাঁদে মাগো,
তোমার কচি ছেলে!

মাগো শোনো আমার বড়
জানতে যে সাধ হয়-
মায়ের শাসন আদর বারণ,
আমার কেন নয়!

পাখির ছানাও সন্ধ্যা হলে,
মায়ের বুকে যায়-
এক আকাশের নিচে দু;জন,
তবুও দূরে হায়!

গভীর রাতে কাঁদে মাগো,
তোমার কচি ছেলে-
তোমার কোলের ফুল আমি মা,
আর থেকো না ফেলে।

আমার আছে

bangla kobita 16 December
Amar-ache

সবুজ লালের ঐ রঙটায়,
আমার অঙ্গিকার-
চির অম্লান রাখবো বিজয়,
১৬ ডিসেম্বর।

গর্ব আমার ঐ পতাকা,
গর্ব এদেশ মাটি-
ধানে মাছে পূর্ণ স্বদেশ
সুখ যে শীতল পাটি।

আমার ভাষায় বলছি কথা,
এইতো অহঙ্কার-
আমার আছে শ্রেষ্ঠ বিজয়
১৬ ডিসেম্বর।

বাজার দর

nitto diner kobita
Bazar-Dor

আগুন আগুন চরম আগুন
হাত-বাজারে ভাই
রক্ত পায়ের উঠে মাথায়
যে-ই বাজারে যাই।

উচ্চ নিম্ন মধ্য সবাই
ভুগছে দারুন জ্বালায়-
ব্যাবসায়ী আর সিন্ডিকেটে
শান্তি যে হায় পালায়।

স্বাধীন দেশের আমজনতা,
ভুগছে খাবার সংকটে-
বাজার দরের এইযে চড়াও
রাজনীতিরও রঙ বটে।

আগুন আগুন বাজার দরের
বিষম আগুন আজ-
হর্তা কর্তা দেশের মাথা,
আনছে বয়ে সাঁঝ।

adhunik bangla kobita

নারী মুক্তি

মিটিং মিছিল স্লোগানে
দৈনিক সব পত্রিকাতে
শুনতে যা পাই-
ঘরে বাইরে পুরুষের পাশে
জীবন নামক মল্লিকাতে
নারী মুক্তি চাই।

এ সব শুধু কথার কথা
চাওয়ার চাওয়া ভাই
আজও নারী চার দেয়ালে
মরছে ঘুটে তাই।

শোষক হয়ে আজও নারী
জ্বলছে নানান জ্বালায়
স্বপ্নগুলো নিত্য ঝরে
হয় না গাঁথা মালায়।

নারী মানে সব অপমান
গ্লানি সয়ে রওয়া-
নারী মুক্তি তাই তো আজও
শুধুই চাওয়ার চাওয়া।

তাই মিটিং মিছিল হেডলাইনে,
চাওয়ার জন্য চাওয়া নয়-
নারীমুক্তি চাই ঘরে ঘরে
যখন নারী যেথা রয়।

বুকের মানিক

bangla kobita buker manik
Buker-manik-Bangla-kobita

ফুটতেই ঝরেছে আমার
পাওয়া নামক ফুল
মন ভেঙে চৌচির এমন
যেমন নদীর কূল।

শুনেছিলাম লাল-নীল।
হাজার রকম কষ্ট
জানি না এ কোন বর্ণ
যা সব করেছে নষ্ট।

মৃত্যু আমায় করেছে কৃপা,
জীবন আমায় মেরেছে
বিন্দু কোন ছাড়েনি স্বপ্ন
সবই যতনে কেড়েছে।

নিজের ভিতর রাখলাম তবু
চোখে দেখিনি যে
আহারটা তার রইলো পরে
পানিও ভোগেনি সে।

বুকের মানিক একটুও বুকে
পাইনি আমি হায়
আমার মত মাকি এমন
আছে আর দুনিয়ায়।

মনপাখি

bangla kobita mon pakhi
mon-pakhi-bangla-kobita

মনপাখি তুই উড় উড়ে যা,
পারিস যেথা যেতে
পুষব না আর আটকে তোরে
লোহার পিঞ্জিরেতে।।

চার দেয়ালে মাথা কুটে,
আর হবে না মরতে
স্বপ্নলোকের সুখটা এবার,
যা না তুই ধরতে।

adhunik bangla kobita

নীল আকাশে লেগেছে আগুন

bangla kobita nil akashe legeche agun
Nil akashe legeche agun

দূর আকাশটা সেজেছে আজ,
কৃষ্ণচূড়ার লালে
উদাস হয়ে রয়েছে চেয়ে
কেউ আসবে কাছে তারই হয়ে
নিদ নাই যে ভালে।

সবুজ শ্যামল কিছুই যে তার
মন চাহে না আজ
নদীর বুকে উপচা স্রোতে
মন শুধু রয় তারই ব্রতে
ভুলিয়ে সকল লাজ।

প্রতীক্ষারই তীব্র জ্বালায়
আকাশে লেগেছে আগুন
সোনা খাটি হয় আগুনে জ্বলে
মেনেছে হার একথা বলে।
তাই ফিরায়ে দিয়েছে ফাগুন।
নীল আকাশে লেগেছে আগুন।

পৃথিবী তোমায় চায়

bangla kobita prithibi tomay chay
prithibi-tomay-chay-bangla-kobita

বাংলা মায়ের বাঙাল ছেলে
বাংলায় ঘুমালে তুমি
আকাশছোঁয়া কীর্তি তোমার
শ্রদ্ধায় তাই চুমি।

দ্বিগবিজয়ীর মতই তোমার
বিজয় কেতন উড়ে
তুমি ছিলে আছ তুমি
রবে হৃদয় জুড়ে।

পদ্মা-মেঘনা যদিন রবে,
বাংলায় বহমান।
চৌদ্দ কোটি হৃদয়ে কবি
শামসুর রাহমান।

পাওনা তোমার পাওয়ার খাতায়,
রয়েই গেল হায়
তোমার মূল্য তোমার করে
দিতে হবে তায়।

যায় না তোমায় যাবে না ভোলা
আজ ও কোনকালে হায়
কলম হাতে আবার আসো
এই পৃথিবী তোমায় চায়।

বাতাস

bangla kobita batash
batash-bangla-kobita

শন শন শব্দে বাতাস
দারুণ খেলা খেলে
দূরপাল্লার যানটি যখন
দ্রুত বেগে চলে।

জানালারই দ্বারপ্রান্তে
হেলিয়ে দিলেই মাথা
জাদুর মত মধুর মত
কয়যে বাতাস কথা।

হেলে দুলে গাড়ি চলে,
বাতাস নাচায় ছন্দে
শন শন্ বাতাসে মন
দোলায় যে আনন্দে।

চুষ কাগজ

bangla kobita chush kagoj
chush-kagoj-bangla-kobita

চুষ কাগজের মতোই তুমি
নিচ্ছ আমায় চুষে
আদর করে পালক ছিড়ে
রাখছ খাচায় পুষে।

সোহাগ ভরা অবহেলায়
ভাঙছো সকল স্বপ্ন
কষ্টগুলো বুকেই চেপে
হাসছি ঢাকার জন্য।

দেহ থেকে হৃদয় কেড়ে
করছো বাহাদুরি
ভালোবাসি বলে মুখে
ভাঙছো আশার তরী।

আদর করে পালক ছিড়ে
রাখছ খাচায় পুষে
চুষ কাগজের মতোই তুমি
নিচ্ছো আমায় চুষে।

adhunik bangla kobita

এ শুভক্ষণে

bangla kobita e shuvokhone
E-shuvo-khone-bangla-kobita

আজকের এ শুভক্ষণে,
এলেযে এ ধরাতে
সবুজ হতে কালীমা
দু’হাত দিয়ে সরাতে।

হাসলো ফুল সেইযে প্রথম
মেললো ডানা পাখি
ছুটলো নদী টগবগিয়ে
তোমারি নাম ডাকি।

পেয়ে তোমায় হলো শুরু
সকল পথের চলা
তোমার গুণের গুণকীর্তন
তাইতো আজি বলা।

জন্মদিনের শুভ ক্ষণে
তোমায় শত শুভেচ্ছা
ভালো থাক নিত্য তুমি
সবার আমার এ ইচ্ছা।

তবুও তোমায়

bangla kobita tobuo tomay
Tobuo-tomay-bangla-kobita

তোমায় যদি হারাই পাব
রক্তাক্ত চোখের জল
তবুও তোমায় হারায়ে বুকে
বাধব ব্যথার ঢল!

তোমার কাছে হাত বাড়ালে,
আসবে সুখের প্রশান্তি
তবুও আমি হাত গুটায়ে
জ্বালব জ্বালার অশান্তি!

তুমি মানেই তোমার কাছে,
অন্তিম আমার ঠিকানা
তবুও জেনো তুমি ছাড়াই
রচব জীবন সীমানা!

যায় না কেনা এমনই দাম
হায় তোমার ভালোবাসা
তবুও তোমায় ফিরায়ে বাঁচার
ছাড়ব শেষ আশা!

তুমি অনিন্দ্য চির সুন্দর,
সব সবুজ তোমাতেই
তবুও আমি চাই না তোমায়
আর চাই না কিছুতেই!

ছাই ফেলতে ভাঙা কুলো

chai felte vanga kulo
Chai-felte-vanga-kulo-bangla-kobita

আপন বলতে যখন তোমার,
কেউ যে থাকে নাকো
হাত বাড়ায়ে তখন আমায়,
সোহাগ করে ডাকো।

বোঝাও আমায় তুমি তোমার,
সবই আমার জন্যে
আমায় ঘিরে সুখ যে তোমার,
তুমি মহা ধন্যে।

যেই না তোমার পায়ের তলায়,
মাটি খুঁজে পাও
এক হোঁচটেই এই আমাকে,
পরযে করে দাও।

আপনজনে সঙ্গে নিয়ে,
হওযে দিশেহারা
রিক্ত হয়ে জীর্ণ ঘরে
দেই রজনী সারা।

ছাই ফেলতে ভাঙা কুলো,
যেমন সবাই জানে
ঠিক তেমনি তোমার কাছে,
এই আমারি মানে।

তুমি ছাড়া

bangla kobita tumi chara
Tumi-chara-bangla-kobita

তুমি আমার এমন তুমি,
যা নাইগো কারো যে
ঘোর আঁধার এই বরাতে,
আলোর প্রদীপ ধরো যে।

মরুর বুকে একটা ফোঁটা
জলের যেমন বীরত্ব
জীর্ণ আমার এই না মনে
তেমনি তোমার মাহাত্ম।

স্নিগ্ধ তোমার একটু ছোঁয়ায়,
ব্যথার পাহাড় যায় গলে
শত জনমের সুখ যে আমার
তোমার চরণ ঐ ধুলে।

তুমি আমার আরকি তুমি,
মাইরী জানিনা
তোমায় ছাড়া আমি আমার
আমায় মানি না।

সত্য যেমন এই পৃথিবী,
সত্য চন্দ্র তারা
তোমায় নিয়ে জীবন আমার
মরণ তুমি ছাড়া।

ভ্রম

bangla kobita vrom
Vrom-bangla-kobita

শিশির ভেজা প্রথম ভোরে,
সূর্য যেমন প্রাণ দোলায়
তেমনি তোমার ক্ষনিক আসা,
দুঃখ জ্বালা সব ভোলায়।

তুমি থাকো মহাসুখে
বিভোর জীবন পটে
নাইবা জানলে কখন যে কার,
কি অঘটন ঘটে।

তোমার সুখের সুখ নিলয়ে,
হয়তো আজি হয়েছি পর
তবুও আমি পুড়ায়ে নিজেরে,
জ্বালব বাতি তোমার ঘর ।

আমার মতো কেন তুমি,
বাসবে ভালো এই আমায়
ভ্রম যে আমার চাওয়া তুমি
জানি তবু চাই তোমায়।

ভ্রমের গাছে ফুল ফুটেছে,
ভ্রমের ডালে ডালে
তবুও আমার তোমাতেই সুখ
আজও চিরকালে।

adhunik bangla kobita

তোর পালা…

নখের ডগায় বিষ মিলিয়ে,
করলি এ’বুক ক্ষত–
দেখনা তবু দিব্যি আছি,
হাসছি আগের মতো!!

উপেক্ষা তুই কর করে’যা,
মিটিয়ে হাউস মনের–
তোয়াক্কা তবু করবো’না আর,
তোর মতো একজনের!!

জ্বালাবি তুই জ্বলবো আমি,
করিস না এ ভুল–
তোকে ছাড়াই রচবো বাগান,
ফুটাবো সুখ ফুল!

ভালো আছি থাকবো ভালো,
ভুলায়ে মনের জালা–
কেঁদেছি আমি কাঁদবি তুই,
তোর যে কাঁদার পালা!!!

ছলনা কাম ভালোবাসা

প্রিয় বন্ধনে প্রিয় বাহু ডোরে
কাটাও তোমার রজনী,
দেখলে আমায় দরদিয়া সূরে
কানে কানে ডাকো স্বজনী।

কাঁদিয়ে আমায় হাসো তুমি আর
হাসাও তোমার চারিপাশ,
সুধা খাও তুমি দিব্বি চুটিয়ে
বিলাও আমায় বিষে গ্লাস।

নাটক নাটক পংতিতে তব
ভেঙ্গেছি নিজেকে গড়েছি,
ফুল যতো সব তোমাতে লুটায়ে
নিজকে নিজেই মেরেছি।

অমৃত আর বিষের মিলন
ইতিহাসে কভু ঘটেনি,
একটা মাঝির একটাই কুল
দু’কুল কভু জুটেনি।

ছলে তোমার ঠকছো নিজে
নিভছে সুখের সুখ রবি,
জলের বুকে রইছে বলো
কখন আঁকা কার ছবি?

হৃদয় দিয়ে যোগ হয় হৃদয়
গুণ ভাগ তো হয়না,
একটা হৃদয় করলে দু’ভাগ
ছলনা কি তারে কয়না?

মনের মতো

bangla kobita moner moto
Moner-moto-bangla-kobita

অক্ষি আমার ভাসছে জলে,
অক্ষিতে নাই আলো
এই ক্ষিতি তাই দেখি না
তাই বুঝি না ভালো।

মিত্ররূপে সন্নিকটে,
বৈরী আমার কত
থাকলে ভাল হুলযে ফুটে,
মন্দে হাসি শত!

অন্তঃজ্বালার বহ্নিশিখায়,
জ্বলছে জীবন তায়
মন্দ ভালোর আলিঙ্গনে,
জছে নাটক হায়।

সবার মাঝে বিলায়ে নিজেরে,
খুঁজছি আমি যা
মনের মতো একটা যে মন,
চাচ্ছি শুধু তা।

তোমার যাওয়ার পথেই

kobita tomar jawar pothei
Tomar-jawar-pothei-bangla-kobita

দূর আকাশের তারা যখন
ঝিল মিল ঝিল করে
শোন বলি তোমায় তখন
বড় মনে পরে।

এখন আমার বড়ই বেহাল,
যা করি তা হয় গোলমাল
সব কাজেতেই বাধা
উঠতে বসতে যেখানে যাই,
সব খানেতে তোমাকে পাই,
যেন শুভঙ্করের ধাধা।

লোকের মাঝে কিংবা একায়
চোখের জল যে ঝরে
কেন আমার এত বেশি,
তোমায় মনে পড়ে।

গভীর রাতে ঘুমের ভাগে,
তুমি পাশে এমন লাগে,
শিউরে উঠি হায়
বিরহের এই ক্ষণিক জ্বালায়,
ফুল যে গাঁথা হয় না মালায়,
ঠেছে এমন দায়।

তোমার যাওয়ার পথেই আমার
শেষ হয়েছে সবি
তোমায় মনে করে আমার
নিভছে সুখের রবি।

adhunik bangla kobita

তুমি গেছ তাই

bangla kobita tumi gecho tai
Tumi-gecho-tai-bangla-kobita

তুমি গেছ তাই বন্ধু আমার
দ্রুত গতিতে চলা
কারণে কিংবা অকারণে তাই
বন্ধ কথা বলা।

মিত্ররূপের মুখগুলো হায়।
অচিন অজানা লাগে।
সবার মাঝে থেকেও এমন
নিঃস্ব হইনি আগে।

তুমি গেছ তাই দুয়ারের ফাগুন,
ফিরেছে বনবাসে
নিঃসঙ্গতার এ ক্ষণটুকু
আর না যেন আসে।

মুখের হাসি হয়েছে বিলীন,
দু’চোখ হারায়েছে ঘুম
কতকাল তুমি সোহাগে কপোলে,
দাওনি বলে চুম।

সবই আছে তবুও আমার,
কে যেন কি নাই
বিবর্ণ সব রঙিন আজি,
তুমি যে গেছ তাই।

কার জন্যে

bangla kobita kar jonne
Kar-jonne-bangla-kobita

দেশ নাকি মা হয়েছে স্বাধীন
পেয়েছি স্বাধীনতা
ফিকে লাগে তেঁতো লাগে সব।
আজ যে ওসব কথা ।

ধূম্রজালে আবছা যে সব,
জানো কি মা সবি
স্বাধীনাকাশে ওঠে না মাগো
ওঠেনা স্বাধীন রবি।

৫২-৭১ দেখিনি আমি,
দেখেছি শুধু তোমায়
দুঃখ তোমার চেপেই রইলো,
কোট প্যান্টের চিপায় ।

লাল-সবুজের ঐ পতাকা,
উড়ছে দারুণ কষ্টে
পরাধীন আজও অন্তরে হায়
স্বাধীন বলি ওষ্ঠে!

বলতে কথায় চাপতে ব্যথায়,
কিংবা কোন স্বপ্নে
কোথায় আমি বললা মা স্বাধীন,
স্বাধীনতা কার জন্যে?

নারী

পথের ধারে পরে থাকা
ধুলিরও দাম আছে
নারী বলে হেলিত আজ
সেই ধুলিরও কাছে।

স্বপ্ন চোখে থাকতে পারে
যাবে না তা দেখা!
বাঁচতে হবে সবার হয়ে
নিজেকে করে একা।

হাসতে হবে লুকিয়ে জ্বালা
কারন আমি নারী
কাফন রুপে জড়িয়ে গায়ে
তাই বার হাত শাড়ি।

মিটিং মিছিল স্লোগানে
শুধু সমতারই কথা
তবুও কেনো চার দেয়ালে
ঠেকছে নারীর মাথা।

নারী মানে তুচ্ছ কেনো
কেনো এতো অবিচার?
কেনো মানো না নারীও মানুষ
সৃস্টি যে বিধাতার।

adhunik bangla kobita

তুমি যে কি!

তোমাকে যখনি ভাবি
আমার হৃদয়ে এক অদ্ভুত ভালোলাগার ঢেউ
তোলপাড় করে সারাক্ষণ।
সে ভালোলাগার স্রোতে আমার শরীর মন।
শিরা-উপশিরা আনন্দে আত্মহারা হয়ে যায়।
তুমি যে কি!
তোমাকে দেখলেই আমার খুব ইচ্ছে হয় স্বপ্ন দেখতে
খুব ইচ্ছে করে পৃথিবীর চাইতেও দীর্ঘ আয়ু নিয়ে
বেঁচে থাকতে!
খুব-খুব-খুব ইচ্ছে হয়
পৃথিবীর সমস্ত ভালোবাসা দিয়ে ভালোবাসতে
যখনি তুমি আমার হাতে হাত রাখ
পৃথিবীর সমস্ত মন্দকে, অন্ধকারকে আলোতে রূপান্তরিত
করার জন্য আকাশের বুকে নয় আমার
অন্তরেই টক্টকে লাল সূর্য হেসে ওঠে!
তুমি যে কি! তুমি পাশে থাকলে আমার খুব ভালোলাগে
মনে হয় রাজ্যের সমস্ত সুখ আমার হৃদয় জুড়ে থাকে।
তোমাকে যত দেখি ততই রোমাঞ্চিত হই।
তোমার চোখে আমার চোখ পড়লেই তিমির
রাত্রিকে জোছনা ভাবতে কষ্ট হয় না, আমি
আমার মাঞ্জিলে পৌঁছে যাই এক মুহূর্তেই!
আমায় দেখে একবার হাসলেই আমার ধরে নিতে ভালোলাগে
আমার জীবনের ন্যায্য মূল্যায়ন হয়েছে এবং তুমিই করেছ!
তুমি যে কি! তোমাকে আমার অদ্ভুত ভালোলাগে অদ্ভুত!
যে ভালোলাগার অন্ত নেই, সীমা নেই, পরিমাণ নেই –
তোমাকে ভালোলাগে জীবনের মতো-তুমি যে কি!!!

সর্প

একাকিত্ব এ যেন আশির্বাদের মতই
অভিশাপ!!!
দংশন করে দহন করে
সময় যেন, গহিন গুহার ফনা তোলা।
সাপ!!!
চীরতার তিতার মতই
বিষাদময় প্রহরের পর প্রহর!
দুটো নদী, মুহূর্তেই সাগর!
সেকি প্রবল যন্ত্রণার এক ভয়ঙ্কর সাগর!
হৃদয়ের ক্যানভাসে তোলপাড়,
স্বপ্ন বিখাউজের মত পচে গলে যাচ্ছে!
একাকিত্বের সর্প অবিরাম অনায়াসে
খেয়ে যাচ্ছে কুড়ে খাচ্ছে…।

আমিও

আমি উড়তে জানি,
আমায় একটা খাোলা আকাশ দাও না,
তোমার দেয়া শৃঙ্খলভারে
বড় বেশি কষ্ট হয় এই ডানা দুটিতে!

বিনিদ্র রজনীর নিঃসঙ্গতায়
অক্ষির অশ্রুজলে ভিজতে ভিজতে
কাপুনি উঠে আমার সারা শরীরে
আমায় একটা সুন্দর রাত দাও না!

ঝিনুকের মত আমি আমার
এক জনমের যন্ত্রণা চেপে রইবো।
তুমি ফ্যাল ফ্যাল করে দেখবে,
কিন্তু কখনো বুঝবে না তোমার ঐ সুখের ক্ষিতিতে
প্রদীপের মত অঙ্গার হয়ে আলো দিয়ে যাচ্ছে
একজন অবলীলায়…।
আমায় একটা ঝিনুক দেবে কি!
তোমার দেয়া যন্ত্রণার ভারে, থেমে যাচ্ছে।
আমার জীবনের প্রবাহধারা, তাই একটা ঝিনুক
বড় বেশি প্রয়োজন!
মৌনতা তুষের মত ছাই করে দিচ্ছে।
বলা শত শত মিষ্টি বাক ধ্বনি
একাকিত্ব সর্পের মত, প্রতি মুহূর্তে দংশন
করে চলেছে এই আমাকে…
আমি অনেক বলতে পারি,
আমায় নিঃস্বার্থ একটা বন্ধু দাও না!
শুধু আমার বন্ধু, আমার যন্ত্রণার
একমাত্র উত্তরাধিকারী…

adhunik bangla kobita

পাষাণ

new bangla kobita-kobitayjagoron
new bangla kobita pashan

কিছু হয়নি কিছু হয় না,
হবেও না চোখের উত্তপ্ত
নোনা জলেরছটায়।

আরও একটা শীতল পদ্মা-মেঘনা
কিংবা যমুনার জন্ম হলেও হতে পারে
হবেনা শুধু তোমার ৩৬ ইঞ্চি ঐ
লোমার্তক বুকের অন্তঃস্থলে
উর্বর একটু ভালোবাসার জন্ম!

তোমার সুখ অর্ণবে তরঙ্গের সাথে
পাল্লা দিয়ে। গা ভাসাও দিব্যি
আর এই আমি কেবলই।
তোমায় চেয়ে চোখের জল
চোখ থেকে গড়িয়ে, চিবুক ছুঁয়ে যায়।

শুধু ছুঁতে পারেনি হাফ ইঞ্চি।
একটা লোমও তোমার!
সেকালের একালের এমনকি
আজকের আমার জানা ও দেখার
বিশ্বে তুমি একজনই পাষাণ…।

চোরাবালি

bangladeshi kobita chorabali-kobitayjagoron
bangladeshi kobita chorabali

প্রেম ভালোবাসা ভালোলাগা
সবই নাকি সৎ মায়ের তিন সন্তান
তবে আপন না! ফুলের মত ফোটে না
চাদের মত হাসে না নদীর মত বহে না।

তোমার প্রেম, সেতো চোরাবালি
কেবলই নিম্নধামী টেনে নিচ্ছে চুষে নিচ্ছে
কেবলই প্রতিনিয়ত…….
ভালোবাসা, বড় হাসি পায়।

কখনো এখানে কখনো ওখানে
কখনো বা বঙ্গবাজারের ফুটপাতের চেয়েও সস্তা
নামমাত্র মূল্যে বিকাও তোমার
ভালোবাসা ভালোলাগা!

এলাহি কাণ্ড বৈকি চুন-খর-জর্দার চর্বণে ।
যে পিক! তার চেয়েও ঘেন্নার উত্তেজক
তোমার হীন মনের হীন ভালোলাগা
সত্যি! তোমার প্রেম, ভালোলাগা-ভালোবাসা
সৎ মনের গর্ভে অংকুরিত হলেও এতটুকুও

উপচে উঠাতে পারেনি জীবনসাগরে
হাবুডুবু খাওয়া এই আমাকে মুহূর্তের জন্য!
জোকের মত চুষে চুষে অন্তঃসার
শূন্য করে কেবলই নিম্নধারায় নিম্ন ধামে
টেনেই চলেছে-টেনেই চলেছে।
চোরাবালির মত একটু! একটু! একটু!

চোখ দেখলে ভয় পাই

bangla famous kobita-kobitayjagoron
bangla famous kobita chokh dekhle voy pai

নিজের সাথেই নিজে যেন হেরে যাচ্ছি
বাক যুদ্ধে বাক বিতর্কে বারংবার।
আমার আমিত্ব একাত্ব কেড়ে নেয়ার
নামই কি পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্তি
যাকে বলে স্বাধীনতা!

বড় বেশি ঘেন্না হচ্ছে, কান্না পাচ্ছে!
যদি অসমীচিন না হয় তবে দুটো রঙের
সংমিশ্রণকেই তো। স্বাধীনতা বলে-
বলে না? আমার চারিপাশে আজ দেখছি।

হাজার রঙের-হাজার ভাষায় স্বাধীনতা
হনন করার নাম স্বাধীনতা, গোপন করার
নাম স্বাধীনতা বেহায়াপনার নাম স্বাধীনতা,
একটা একটা করে ডানা থেকে পালক
ছিড়ে নেয়ার নাম স্বাধীনতা

আসলে কি স্বাধীনতা, কেন স্বাধীনতা,
কোথায় স্বাধীনতা কতদূরে?!
আর কতটা বিনিদ্র রজনীর পর
দেখা পাব সত্যিকার স্বাধীনতা?
আর যে জেগে থাকতে পারছি না!

ক্লান্ত বড় বেশি ক্লান্ত! হায়েনার মতো
লোলুপ দৃষ্টিতে কে বা কারা যেন কেড়ে নিচ্ছে
আমার একান্ত আমি কে! প্রতি পদে পদে
কেড়ে নিচ্ছে আমার ঘুমের স্বাধীনতা,
চলার স্বাধীনতা, বলার স্বাধীনতা!

সেই চোখ থেকে চোখ, হাজার চোখ
এক হয়ে ধাওয়া করছে আমাকে,
শতলোক ছেড়ে সীমাহীন কোন এক
ঊর্ধ্বালোকে! প্রায় শ্বাসরুদ্ধ আমি!
এখন কিছুই ভয় লাগেনা-ভয় পাই না,
শুধু চোখ দেখলেই ভয় পাই….।।

adhunik bangla kobita

সুন্দরেই সূচনা

adhunik bangla kobita-kobitayjagoron
adhunik bangla kobita sundorei suchona

প্রকৃতি সুন্দর, তখনি সুন্দর
যখন উপলব্ধি করা যায়,
হৃদয় তখনি কিছু উপলব্ধি করে
যখন তার করিডোরে আনাগােনা
থাকে একটি মননশীল ছায়ার!

জোছনা তখনি ঝিলমিল হয়।
রাত যখন নির্মল হয়ে ধরা দেয়।।
সাগর হাত বাড়িয়ে ডাকে বলেই।
নদী তার সমস্ত সুন্দর নিয়ে মিশে যায়
সাগরের মোহনায়……

আমি তখনি আমাকে উপলব্ধি করি
যখন তুমি থাকো এই আমার পাশে
আমার এ থেমে যাওয়া জীবনটা পায়
চলার জীবন্ত ধারা…

আমার কাছে এ পৃথিবীর সব বিবর্ণ
সব অসুন্দর সুন্দর রঙিন হয়ে ওঠে।
যখন একান্ত করে তোমাকে পাই…
তুমি আমার সেই সুন্দর যা পরশ
পাথরের মত সব অসুন্দরকে
সুন্দর করে দেয় স্পর্শেই…

জয়ের গান

Bangla-kobita-Joyer-gan

উঠলো রবি নীল আকাশে,
গাইতে জয়ের গান
শক্ত হাতে বৈঠা ধরো,
দেশের নওজোয়ান।
লাল-সবুজের এই পতাকা,
উপচে আরও দাও তুলে
সবার এদেশ এদেশ সবার,
আমার-তোমার যাও ভুলে।

দুষ্টু মাউন

Bangla kobita dustu maun
Bangla-kobita-dustu-maun

মাউন হলো দুষ্টু মাউন,
নাকটা যে তার বেচা
সবাই বলে মাউন ভাল
আমি বলি পচা।
কথার চেয়ে কাজ করে কম
ভালর চেয়ে মন্দ
খুশিতে বেশ আত্মহারা,
পড়া হলেই বন্ধ।
একে মারে ওকে মারে,
সারাটা ক্ষণ হৈ-চৈ
ভয়ে সবাই শুধায় শুধু
কইরে মাউন কই।
একটা কথা একটা বারেই
যায়না যে ওর কানে
দুষ্ট মাউন কাটায় সময়
দুষ্টুমি আর গানে।

মাউনের জন্যে

Mouner-jonno

১.
এদিক নাচে ওদিক নাচে,
প্রজাপতি আহারে
আ-আ, ক-খ,
শেখায় কি বাহারে।
দোয়েল-কোকিল শ্যামা,
উড়ে উড়ে বলে যে।
সেই ভাল পড়া শেষে
ফাক পেলে খেলে যে।
দুষ্ট মাউন তাই
দুষ্টুমি ছেড়েছে
বই কাধে বাবু সেজে,
ইস্কুলে তেড়েছে।
২.
কাক ডাকে কাকা স্বরে,
মাউন বাবু কই
কেকা ডাকে পেখম খুলে
ধীন তাক তাক্ থই।
ভালুক ভায়া বাজায় ঢোলক
হুতুম পেঁচা খঞ্জনী
মাউন বাবু বেতাল হয়ে
সাধল গলা ধা-পা-নী।

adhunik bangla kobita

প্রত্যক্ষ পদধ্বনি

যন্ত্রণার যাতাকলে যখন শ্বাস প্রায় রুদ্ধ।
ঠিক তখনি পড়ন্ত অবেলায়
তুমি শোনালে স্বপ্ন জয়ের অমিয় বাণী…

বড্ড বেশি বৈচিত্র্যতায়, টইটম্বুর,
তোমার-আমার যোগসন্ধি
বগির দোদুল্যতায় এক হয়ে গেল
দুই প্রান্তের দূরত্ব!

বিস্ময়ে ভরিয়ে দিলে, আমার প্রতিটা ক্ষণ
একজীবনেই যেন, আর এক জন্মে
রূপান্তরিত করেছ, অকৃত্রিম তোমার বাচন ভঙ্গিতে!
আমার ধু-ধু হৃদয়ে।

তুমি যেন এক মুঠো আশারচ্ছটা বরষা করে ঝরালে!
তুমি এলে বড় বেশি সত্য-সুন্দর সজীব হয়ে
আমার এ হীন-ক্ষীণ ক্ষত জীবনে!
তোমার উপস্থিতির বৈচিত্র্যতা,
আমার আঁধার বরাতে আশির্বাদের প্রত্যক্ষ পদধ্বনি…

You Might Also Like

No Comments

Please Let us know What you think!?

%d bloggers like this: