কবিতায় জাগরণ জুলাই-সেপ্ট ২০২১

পুরো পৃথিবী আজ দিশেহারা হয়ে পড়েছে করোনা মহামারির বিষাক্ত ছোবলে, কোনো ভাবেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না করোনার প্রতিকার! হত্তা কত্তা দাতা দেশ গুলো’ও মুখ থুবড়ে পড়েছে প্রকৃতির শাসনের কাছে, জানি না এর শেষ কোথায়, কবে!? একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিরুপায় করে দিচ্ছে মানুষকে জীবন যুদ্ধে, যুদ্ধ একদিন শেষ হবে, করোনা মহামারিও বিদায় নিবে, পৃথিবী আবার হাসবে নতুন হাসিতে এ আশায় আলোর পথে চেয়ে প্রহর গুনছি সেই মাহেন্দ্রক্ষণের—

লেখা দিয়ে, যাঁরা বাড়িয়ে দিয়েছেন ভালোবাসার প্রখরতা, গভীর করেছেন বন্ধন, তাদের কাছে কৃতজ্ঞ “কবিতায় জাগরণ পরিবার” উন্মুক্ত হোক সাহিত্যের সীমানা, জয় হোক কবিতার, জয় হোক মানবতার!
সাথে থাকুন সবসময় পাশে আছি বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে—

✍️ সম্পাদক
সাহিদা রহমান মুন্নী

যারা লিখেছেন✍️

✍️ ১। শুভদীপ মজুমদার
✍️ ২। রফিকুল নাজিম
✍️ ৩। মোহাম্মদ সারোয়ার হোসেন
✍️ ৪। মোঃ রায়হান কাজী
✍️ ৫। জহির খান
✍️ ৬। লাবনী বসু
✍️৭। জেইনাল আবেদীন চৌধুরী
✍️ ৮। গোলাম রব্বানী টুপুল
✍️ ৯। রফিকুল নাজিম
✍️ ১০। শাহাদাত হোসেন
✍️ ১১। রুবি রায়
✍️ ১২। আঙ্কিতা কর্মকার
✍️ ১৩। শ্রীস্বদেশ সাধক সরকার
✍️ ১৪। মুস্তাফিজুর রহমান

প্রতীতি

✍️ শুভদীপ মজুমদার

যখন দেখা হবে পৃথিবী সারার পরে
সে বলেছিলো সমুদ্রস্নানে যাবে
আজ স্বপ্ন তা ঝাপসা অক্সিজেন মাস্কে
পৃথকীকরণ যে নূতন স্বাভাবিক এখন
রোগশয্যাও একাকী অচেনা ভাইরাসে।

চিকিৎসক বাবু মনের জোর দিলেন
ঈশ্বর নাকি সর্বদা চান সেরা
কাঁচের দেয়াল তবু কেন শুনি সাইরেন
বায়ুযন্ত্র ভীষণ চেষ্টা করে কিন্তু
ভিডিও বার্তায় তোমার গানেই বাঁচা।

পাশের শয্যার মাসিমা চুপ কেন
কেদারনাথের গল্প রয়েছে যে বাকি
নার্স দিদি দিলেন দুর্ভাগ্যের সে খবর
কাল সন্ধ্যেতে যখন জ্বরে কাবু
সদা আশাময় উনি নিলেন নীরবে বিদায়।

বুক চাপা ব্যাথা ঢাকা দি প্রত্যাশা এক দিয়ে
ফিরবোই বাড়ি, বহুদিন দেখিনি যে মাকে,
ঘরবন্দি সেরা প্রজাতি,জরুরি অবস্থা শহরে
ছুঁতে পারবোনা পক্ষকাল ভালো চাই যাদের
অপরিচিত করেছে সবাইকে এই অতিমারী।

এযাত্রা যদি সেরে উঠি কোনোদিন
সব সাফল্যের বিচার নতুন মাত্রা পাবে
অহংবোধে ভুলেছিলাম সৃষ্টির ভারসাম্য
কতো প্রাণের শ্বাসপ্রশ্বাস সহজ করতে পারি
শেষ পর্যন্ত তাই হবে অস্তিত্বের মাপকাঠি।

বেঁচে থাকার টোটকা দিলাম

✍️ রফিকুল নাজিম

বিড়ালের পা ধরলে পরে-চলে যাবে গলার কাটা,
আরো এমন টোটকা আছে- যন্ত্রণাকে মারবে ঝাঁটা!
গোপন কষ্টে কুঁকড়ে গেছো? অস্থির তুমি মনের ব্যথায়?
সেই মানুষের অবহেলা; ভীষণরকম তোমায় কাঁদায়?

আমার কাছে টোটকা আছে, নিবে যদি হাতটা বাড়াও
তোমার বুকে গুপ্ত হাসি, মুচকি হেসে দুঃখ তাড়াও।
অট্টহাসি দিয়েই দেখো- ধ্বংস হবে ব্যথার বাঙ্কার
দম ফাটানো হাসির শব্দে- কষ্টগুলো হবে ছারখার।

আরো কিছু টোটকা দিবো, সব বেদনা পুড়ে খাক
ব্যথার ঘরে আগুন হাসো, কষ্ট সব ছাই হয়ে যাক।
বন্ধু, তোমার ঠোঁটের পাশে ঝুল হাসিটা ধরে রেখো
রোজ নিশিতে কষ্ট এলে- হাসির কিছু সৈন্য ডেকো।

তাজা আরো টোটকা আছে- নিবে, বন্ধু? ধৈর্য্য ধরো,
দুঃখ কষ্টের সেই আসরে- দমের হাসির গপ্পো করো।
নিঃসঙ্গতার বিকেলগুলো বিষন্নতার চোরাবালি
মন খারাপের দৈত্য এলে- তার মুখে দাও হাসির কালি।

বিড়ালের পা ধরলে শেষে- উধাও হবে গলার কাঁটা
মাছের ঈশ্বর বলছে শোনো,’এবার সুখের জীবন কাটা।

কবিতায় জাগরণ জুলাই-সেপ্ট ২০২১

চাঁন মিয়ার কুরবানি

✍️ মোহাম্মদ সারোয়ার হোসেন

কুরবানিতে গরু কিনতে
চাঁন মিয়া যায় হাটে,
টিভি চ্যানেল আসবে বলে
স্টাইলে চুল কাটে।

মোটাতাজা গরু কিনে
ফেবুতে দেয় পোস্ট,
চাঁনমিয়া যেন হাটের এক
মন্ত্রী সম হোস্ট।

বেছে বেছে ধনী যারা
ফেবুতে তার দোস্ত,
কুরবানি করে পাঠায় শুধু
তাদের কাছেই গুস্ত।

প্রতিবেশী গরিব যারা
নেয় না তাদের খোঁজ,
গোস্ত বিলিয়ে দেয় ধনীদের
নিয়মে নাই হুঁশ।

মনের পশুটাকে তুমি
করো আগে জবাই,
কুরবানিতে তৃপ্ত হবে
খুশি হবে সবাই।

প্রকৃতিমার ছোঁয়াতে

✍️ মোঃ রায়হান কাজী

আজি জাগ্রত দ্বারে প্রভাতের বেলা রবির কিরণে,
তোমার ছায়ার ছোঁয়াখানি হাসিমুখে মেখে
রাখবো না কিছু আর স্ফটিক সে-তো নির্বিকার।
দূর নীলাম্বরী বুক চিরে পাখিদের নীড় হয়ে,
সে আসে আবার চলে যায় ছবির মতো করে।

একদিন মেঘ হয়ে আমায় ছায়া দিবে শেষে,
বৃষ্টি হয়ে ঝরবে অবকাশ উন্মুক্ত শ্রাবণ ধারাতে।
শুক্ল সন্ধ্যাবেলা গোধূলির আলোয় পরশ মেখে,
প্রেমের অমৃতস্নানে ভাসাবো ভেলা হাওয়ার তালে।
চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারার মাঝে রাখবো কোথায় ঢেকে?

তোমার চরণধ্বনির তালে অবুঝ মনখানা বাজে,
পুলকিত পুষ্প ধারায় নিদ্রা ভাঙ্গে সকাল সাঁজে।
অয়ি এলোকেশী পরানে তোমার চেয়ে বহুগুণে
সুর দিয়ে কেমন করে নিয়েছো মহিমা তার থেকে?
হারিয়েছি সীমা অজান্তেই তোমার খেয়ালে।

মর্তের স্বপ্ন ভুলে রজনীগন্ধা ফুলের সৌরভে,
হারিয়েছে মনপ্রাণ ধূসর প্রান্তের ছায়ানটে।
যদিবা দেখ তারে বহুকাল পরে পারিবে কী চিনতে?
ইচ্ছের সংকটময় মুহূর্তে প্রসারিত পথে ঘুরেফিরে,
পূর্ণ করিবো জীবন ভর প্রকৃতিমার ছোঁয়াতে।

কবিতায় জাগরণ জুলাই-সেপ্ট ২০২১

জঠর অনুরাগ

✍️ জহির খান

ওরে বাতাস ধমক চিরচেনা আহ্লাদিত সুখ
উড়ে এসে জুড়ে নেয় উত্তাল ছায়ামাঠ
ধরে রাখে একবুক নীরব ঘোর- উত্তরের

বসে থাক তুই তোর পূবের মায়া- পূরাণ
অচল মূদ্রার থলে হাতে চৌরাস্তায়

রাতবিরাতে দেখ হাতপাখা ঝড়- হাওয়া

সুনিদ্রায় যাক চৈত্রের ঘুম পরিপাটি বিছানায়
চলে যাক কান উড়িয়ে নেয়া এক অসুখ রাত

মাগী পশ্চিমে যাত্রা শুভ হোক কাল

এরপর দক্ষিণ দিকের হাওয়ায় বাড়ুক হাসুক
যত্রতত্র এক গভীর ঘুমে প্রিয়তুর জরায়ুর মুখ

স্বপ্ননীড়

✍️ লাবনী বসু

স্মৃতি মাখা বৃষ্টির জল ধুয়ে দেয়
অতীতের বহমান উচ্ছ্বাস ।
অবাধ্য প্রণয় মুছে দেয়
জীবনের গতিহীন বিশ্বাস।

মোহময় প্রেম ছলনায় ভরা
হিয়ায় বাঁধে বাসা ।
অস্থির মন শোনে না বারন
জমে ঘন কুয়াশা ।

পড়ন্ত বিকেল সারিসারি ঢেউ
ভিড় করে সৈকতে।
অজানা আবেশ রেখে যায় রেশ
হিমেল মধ্যরাতে ।

আলোকচিত্রী চিত্রিত করে
অনুরাগের জলছবি।
বালুকাবেলায় দিয়ে যায় ডাক
কোন নাম না জানা কবি।

নির্বিকার নিস্তব্ধ চাওয়া

✍️ জেইনাল আবেদীন চৌধুরী

জীবনের শিকল পরা কারাগারে বন্দী,
চারিদিকে শুধু বিষন্ন মানুষের মিছিল;
এক ফোঁটা শান্তির জন‍্য
আর কতকাল অপেক্ষা করবো?

কবে আসবে সুখ শেষ বিকেলের লাল সূর্য‍্যে তা জানে না।
অভাবে শ্রাবণের প্লাবন ভাসায় দুঃখ-নদী।
কাহারো এক ফোঁটা সময় নাই ভালোবাসার,
পৃথিবী বদলে গেছে আজ,
আমার ভালোবাসা পাথরের দেবতার পায়ে গুমরে কাঁদে।

শূন‍্যতায় দৃষ্টি হাহাকার করে।
দু’গন্ডে হৃদয়ের বিগলিত রক্তাক্ত অশ্রু।
ওগো জগত জননী আর কতকাল শৃঙ্খলে বন্দী রাখবে?
আমি একটু মুক্তির স্বাধীনতা দেখে মরতে চাই।
যার জন‍্য দিয়েছেন তিরিশ লক্ষ বাঙ্গালীর বুকের তাঁজা রক্ত।

কষ্টগুলো

✍️ গোলাম রব্বানী টুপুল

কষ্টগুলো একই রকম
একই ধাচের একই রং
একই আকাশ রাখে ঢেকে
হোক সাদা আর কালো সঙ

কষ্টগুলো একই রকম
একই রঙের দেখতে নীল
অন্য কিছুর ধার ধারে না
ক্ষীণ কিংবা দরাজ দিল্।

কষ্টগুলো মত বোঝে না
ধর্ম কিংবা জাতের বাধ
কষ্টরা সব একই রকম
একই ইচ্ছে একই সাধ।

পুষ্পাঞ্জলি

✍️ রফিকুল নাজিম

আমাদের শেষ দেখায়
যদি তোমার গলাটা খুব ধরে আসে
যদি বাদল নামে ঘোলাটে চোখে
তোমার হাতে ফুলের পাঁপড়িগুলো যদি কাঁপে
তবুও আমার বরফ কফিনে ফুল দিতে এসো না,
মৃত মানুষ কি আর ফুল ভালোবাসে?

বরং ফুলগুলো গাছেই থাকুক
অথবা ফুলগুলো প্রেমিকের বুক পকেটে থাকুক
কিম্বা প্রেমিকার খোঁপায় তারার মত ফুটুক
মায়ার সংসার সুবাসিত হোক ঘ্রাণে; ফুলশয্যায়।

বছর বছর আমার সমাধিতে তুমি ফুল দিতে এসো না
মৃত মানুষের কি ফুলের প্রয়োজন আছে?

কবিতায় জাগরণ জুলাই-সেপ্ট ২০২১

বিষন্ন সুন্দরী

✍️ শাহাদাত হোসেন

হে বিষন্ন সুন্দরী
কোন সে আগুনে জ্বলো নাকি জ্বালাচ্ছ ?
তোমায় দেখে পাওয়ার ইচ্ছে
হারানোর তীব্র হতাশা চোখে-মুখে ।
হে বিষন্ন সুন্দরী
তুমি কি দেখ তপ্ত হৃদয়ে তোমায় ছোঁয়ার অপূর্ণ বাসনা!

যতোটা দেখি ততোটা ছুঁয়েছি
মেঘডু্বিতে জল হয়েছি,
তোমায় পাওয়ার কথা ভেবে
বুক ভেজা এই হৃদয় আগুনে পুড়েছি!

হে অনন্য সুন্দরী
বিষন্নতার এই ক্লান্তিকালে
তোমার কপালে রাখতে চাই একটি জবা,
রাখতে চাই তোমার বুকে আমার কিছু রেশ
হে বিষন্ন সুন্দরী তোমায় ভেবে ভেতর জুড়ে আজকে আমার অভাব থাকে বেশ!

একদিন চুমু খাব ফেব্রুয়ারির ৩০ শে

✍️ রুবি রায়

নেত্রনালি থেকে বেরোনো অগোছালো ধ্বংসস্তূপ– তোমার ফিল্টার মাস্কারা আটকাতে পারেনি ।
সেই ধ্বংসস্তূপে গোলাপ চাষের গনতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে – সরব হয়েছি । খালি পায়ে ।

ঐ আঁচলের অনুসূরে যে অক্ষরেখা তৈরী করেছ তা জানার চেষ্টাতেই আমি এক যমুনা
পাঠক ।
মোহনা ভেঙে এগিয়ে যাব খিড়কি দরজায় । আপ্যায়িত জোনাকিরা রাতপোশাকের জিগজ্যাগ নকশায় এঁকে দেবে নতুন ধূমকেতুর গল্প ।

তখনও কী দেখবনা চোখের শলমা তারায় আশার নাইটিঙ্গেল !
ঐ কৃষ্ণাঙ্গ অতীতকে ভুলতে , পূরণবাচক সংজ্ঞাটিকে মেনে নিতে পারলেই কুচির ধাপে ধাপে গড়ে উঠবে-
উন্নত
নগরায়ণ
সভ্যতা ।

পরিচলন পদ্ধতিতর সাথে রামধনুর শেষ রাগে গেয়ে উঠবে তোমার ঝুমকার বাসস্থান।

আর আমিও স্বাবলম্বী ঠোট নিয়ে
একদিন চুমু খাব ফেব্রুয়ারির ৩০ শে ।

কবিতায় জাগরণ জুলাই-সেপ্ট ২০২১

মেঘলা

✍️ আঙ্কিতা কর্মকার

সেই মেঘলা,
বৃষ্টির আগে যাকে দেখা যেত ওই আলের ধারে, যার নূপুর উদ্বেল করত পুকুরের মাছ থেকে
ফুলের প্রজাপতি, ভ্রমর জাগাত সেই মেয়ের আধো বুলি।
বৃষ্টিতে ভিজে মায়ের রাঙা চোখ উপেক্ষা করে যার প্রাণোচ্ছল হাসি গলিয়ে দিত মায়ের মন,
সেই মেঘলা।

আজ তার আকাশটা মেঘলা –
যেন আজ রোদ উঠেও সূর্যটা ঘুমিয়েছে, খুব ক্লান্ত বোধহয়!
আজ সূর্যও হয়ত উঠবে না আজ যে তার মনেও মেঘ জমেছে।

আজ বাদে কাল মেঘলা চলে যাবে সেই দূরের শহরে
হয়ত সে নিজেও জানে না যে এই গ্রামের বাইরে ওই বড় পৃথিবীতে কোথাও তাকেও হয়ে উঠতে
হবে তার মা’র মত, পালন করতে হবে বিভিন্ন দায়বদ্ধতা ।
সেই রান্নাবাটি খেলার সরঞ্জামগুলোই হয়ে উঠবে তার নিত্যসঙ্গী।

কে যেন বলেছে, তার বর নাকি খুবই মেজাজি, সব কথা তাকে মানতে হবে, বলেছে মা।
সকাল থেকে সাজের ঘটায় আর উপোসের অত্যাচার মেঘলা জর্জরিত।
পুরনো সব অভ্যাসগুলো ছেড়ে সে যাবে নতুন অভ্যাস তৈরি করতে।
অজানা অচেনা ছেলেটি কি কখনওই জানতে চাইবে সে কি চায়, তার মন কোথায় ছুটে যায়
রোজ সকালে।

সবাই বলেছে, দৌড়ে বেড়ানোর ইতি এবার
নানা নিয়মের বেড়াজালে সে আজ শান্ত।
হয়ত বা আসন্ন ভবিষ্যতের প্রস্তুতি সে নিচ্ছে।

আজও হয়ত সে তার মা’র রাঙা চোখ দেখবে, শুধু বুঝবেনা চাপা কান্না লুকানোর ব্যর্থ
চেষ্টায় মা আজ সফল।

সব শেষে বিদায়বেলায় মেঘলার মন ও ডুকরে কেঁদে উঠে বলবে, ‘ মা, এতই কি তাড়া ছিল
পর করে দেওয়ার, আমায় বড় করলে কি শুধু আজকের দিনটার জন্যে? ’
অবশেষে মোটর গাড়ির গতির সাথে গতি নিল মেঘলার নতুন জীবন।

এরপর আর আলের ধার ভরে উঠবে না কোনও নুপুরের শব্দে,
হয়ত মা’র চোখ আর কখনও সাদা হবে না,
সবাই এসে তাকে সান্তনা দেবে , ‘মেয়েরা তো পরই হয়’,।

রুদ্বদ্বার

✍️ শ্রীস্বদেশ সাধক সরকার

শ্রাবণের ঘন মেঘ উড়ে চলে নীলাকাশে
হৃদয়ের আনন্দধ্বনি নীরব এখন,কৃষকের
জমিগুলো নতুন মেঘের মোলাকাতে
আগামীর বার্তা চেয়ে অপেক্ষায়
দিন গুণে সংকটের দিনে।

রুদ্ধদ্বার সমাজ দ্বিধা দ্বন্দ্ব মনে~চাষীর
সাথে চাষের ফারাক টানে,মূল্যবৃদ্ধির
কোপানলে হাড়পাঁজর তপ্ত অনলে
দেহ পুড়ে ছাই,রুদ্ধদ্বার রুদ্ধবাক কবি
কবিতা লেখে আরামকেদারায় বসে~
প্রেমের বন্যা ছুটে জীবন অলিন্দে
কলমের ভাষায়।

হায়রে,দিনে দিনে দাম বাড়ে ,আনাজ
ফসল চলে পাইকারী পথে,হাত
বদল দুনিয়া ফাটকা বাজার বানায়
গরীব চাষী মরে পেটের জ্বালায়,
বারে বারে নীলচাষ ফিরে ফিরে
আসে ।

জীবনের পাতাগুলো আপন মনে
উড়ে যায়,অনলাইন ব্যবসা ঘোড়ার
মত ছুটে ,রুদ্ধদ্বার মনে কথা ভাসে
নির্মম পরিহাসে, শ্রাবণের ঘন মেঘ
চাষীর ঘরে স্রোত হারায়।

সবুজের শ্যামলিমা শ্রাবণ বরিষণে
খেলে ঢেউ ,ঢেউয়ের ঊর্মিমালা বেলাতটে
মিশে ,কত কথা ,সংলাপ আপন খেয়ালে
সোনালি ধান আসে খামারে ,রুদ্ধদ্বারে
চাষী দামের আকালে আজও মরে –
সব চিন্তা শ্মশানের চিতায় ।

উপহার বানভাসি

✍️ মুস্তাফিজুর রহমান

অনেক যত্নে তোমার জন্য
ঘুম ভাঙানো পাখি
আর বুকের মাঝে জমিয়ে রেখেছিলাম,
শিশির ভেজা নরম রোদ –

তোমার জন্য এঁকেছিলাম
সকাল বেলার লাল সূর্য,

স্নিগ্ধ বাতাসের আদোর, ধূলোবালি উষ্ণতা-

তোমার জন্য দুচোখ ভরা নীল আকাশ
ছায়াঘণ শীতল অরণ্য
আগলে রেখেছিলাম শরীরময়
দুহাত ভরে চোল-চোল নদী

প্রজাতির ডানা ছোঁয়া রংধেনু নিয়ে
সুগন্ধী ফুল গেঁথে রেখেছিলাম
তোমার গলার-হার-

হঠাৎ বন্যায় ভেসে গেল সব
নিয়ে গেল বাড়ি-ঘর,
গ্রামের পর গ্রাম জল থৈ-থৈ

কি করে পাঠাব এসব –
তোমার জন্মদিনের প্রীতি উপহার …

কবিতায় জাগরণ জুলাই-সেপ্ট ২০২১

Facebook Comments